01-01-2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা এখানে নির্বাসনে আছো, ভালো ভালো পোশাক পরিধান করা, খাওয়া --- এই ধরনের শখ বাচ্চারা, তোমাদের হওয়া উচিত নয়, ঈশ্বরীয় পাঠ আর চরিত্রের উপর সম্পূর্ণ নজর দিতে হবে"

প্রশ্ন:-
জ্ঞান রত্নে সর্বদা ভরপুর থাকার সাধন কি ?

উত্তর:-
দান l যতো অন্যকে দান করবে, ততই নিজে ভরপুর থাকবে l বুদ্ধিমান সেই, যে নিজে শুনে ধারণ করবে তারপর অন্যদের দান করবে l বুদ্ধিরূপী ঝুলিতে যদি ছিদ্র থাকে তাহলে বের হয়ে যাবে, ধারণা হবে না, তাই নিয়ম করে এই পড়া পড়তে হবে l পাঁচ বিকার থেকে দূরে থাকতে হবে l রূপ বসন্ত হতে হবে l

 

ওম্ শান্তি ।
রুহানী বাবা রুহানী বাচ্চাদের বোঝান l রুহানী বাবাও কর্মেন্দ্রিয়র দ্বারা বলেন, আর রুহানী বাচ্চারাও কর্মেন্দ্রিয়ের দ্বারাই শোনে l এ হলো নতুন কথা l দুনিয়াতে কোনো মানুষই এমন কথা বলতে পারে না l তোমাদের মধ্যেও পুরুষার্থের নম্বর অনুসারেই তোমরা বুঝতে পারো, যেমন টিচার যখন পড়ায় তখন স্টুডেন্টদের রেজিস্টার দেখে l এই রেজিস্টার দেখেই স্টুডেন্টদের পড়া আর চালচলন সম্বন্ধে জানতে পারা যায় l আসল হলো পড়া আর চরিত্র, এ হলো ঈশ্বরীয় পড়া যা কেউই পড়াতে পারে না l রচয়িতা আর রচনার আদি - মধ্য - অন্ত, সৃষ্টিচক্রের জ্ঞান, সম্পূর্ণ দুনিয়ার কোনো মানুষই এ জানে না l ঋষি - মুনিরা, যাঁরা এতো পড়েছে, যাঁরা অথরিটি, সেই প্রাচীন ঋষি - মুনিরা নিজেরাই বলেন যে, আমরা রচয়িতা আর রচনাকে জানি না l বাবা এসেই সেই পরিচয় দিয়েছেন l এই কথাও আছে যে - এ হলো কাঁটার জঙ্গল l জঙ্গলে তো অবশ্যই আগুন লাগে l ফুলের বাগানে কখনোই আগুন লাগে না। জঙ্গল সম্পূর্ণ শুকিয়ে গেছে l বাগান হলো সবুজ l সবুজ বাগানে কখনো আগুন লাগে না l শুকনো জিনিসে চট্ করে আগুন লেগে যায় l এ হলো বেহদের জঙ্গল, এখানেও আগুন লেগেছিলো l বাগানও স্থাপন হয়েছিলো l তোমাদের বাগান এখন গুপ্তভাবে স্থাপন হচ্ছে l তোমরা জানো যে, আমরা এই বাগানে সুগন্ধিত ফুলের সমান দেবতা তৈরী হচ্ছি, তার নাম হলো স্বর্গ l এখন সেই স্বর্গ স্থাপন হচ্ছে l এ হলো আশ্চর্য, তোমরা যতই মানুষকে বোঝাও না কেন, কারও বুদ্ধিতেই বসে না, যারা এই ধর্মের হবে না, তাদের বুদ্ধিতে বসবেও না l তারা এক কান দিয়ে শুনবে আর অন্য কান দিয়ে বের করে দেবে l সত্যযুগ আর ত্রেতাযুগে ভারতবাসী কতো অল্প হবে l এরপর দ্বাপর আর কলিযুগে কতো বৃদ্ধি হয়ে যায় l ওখানে একটি বা দুটি সন্তান আর এখানে চার - পাঁচটি সন্তান বৃদ্ধি হয়ে যায় l ভারতবাসীদেরই এখন হিন্দু বলা হয় l বাস্তবে তারা দেবতা ধর্মের ছিলো, অন্য কোনো ধর্মের মানুষ নিজের ধর্মকে ভোলে না l এই ভারতবাসীরাই সব ভুলে গেছে l দেখো, এখন কতো মানুষ l এতো সবাই তো এসে জ্ঞান শুনবে না l প্রত্যেকেই তার নিজের জন্মকে বুঝতে পারে l যারা সম্পূর্ণ ৮৪ জন্মগ্রহণ করেছে, তাঁরা অবশ্যই পুরানো ভক্ত হবে l তোমরা বুঝতে পারো যে, আমরা কতো ভক্তি করেছি l অল্প ভক্তি করলে জ্ঞানও অল্প ধারণ করবে আর অল্পকেই বোঝাতে পারবে l অনেক ভক্তি করলে অনেক জ্ঞান ধারণ করতে পারবে আর অনেককেই বোঝাতে পারবে l জ্ঞান ধারণ করতে না পারলে বোঝাতে পারবে না তাই তার ফলও অল্পই পাবে l এ তো হিসেব তাই না l বাবাকে এক বাচ্চা হিসাব দিয়ে দিয়েছিলেন যে, ইসলামীদের এতো জন্ম আর বৌদ্ধদের এতো জন্ম হওয়া উচিত l বুদ্ধও হলেন ধর্মস্থাপক l তাঁর পূর্বে কেউই বৌদ্ধ ধর্মের ছিলো না l বুদ্ধের আত্মা প্রবেশ করেছিলেন l তিনিই বৌদ্ধ ধর্ম স্থাপন করছিলেন l এরপর একের পর এক বৃদ্ধি হতে থাকে l তিনিও এক প্রজাপিতা l একের থেকে কতো বৃদ্ধি হয় l তোমাদের তো নতুন দুনিয়াতে রাজা হতে হবে l এখানে তো তোমরা নির্বাসনে আছো l তোমাদের কোনো জিনিসেরই শখ থাকা উচিত নয় l আমরা ভালো জামাকাপড় ব্যবহার করবো - এও হলো দেহ - অভিমান l যা পাবো, তাই ভালো l এই দুনিয়ার আর খুব অল্প সময় বাকি আছে l এখানে ভালো কাপড় পরলে ওখানে কম হয়ে যাবে l এই শখও ছাড়তে হবে l এর পরের দিকে বাচ্চারা, তোমাদের নিজে থেকেই সাক্ষাত্কার হতে থাকবে l তোমরা নিজেরাই বলবে, এ তো খুব ভালো সার্ভিস করে, আশ্চর্যের l এ নিশ্চয় উচ্চ নম্বর নেবে l তারপর নিজের মতো বানাতে থাকবে l দিনে দিনে এই বাগান তো বড় হতে থাকবে l সত্যযুগের আর ত্রেতাযুগের যেসবের দেবী দেবতা আছে, তারা গুপ্তভাবে এখানেই বসে আছে, এরপর তাঁরাও প্রত্যক্ষ হয়ে যাবে l এখন তোমরা গুপ্ত পদ পাচ্ছো l তোমরা জানো যে - আমরা মৃত্যুলোকে পড়ছি, পদ পাবো অমরলোকে l এমন পড়া কোথাও দেখেছো ? এ হলো আশ্চর্যের l পড়তে হবে পুরানো দুনিয়ায় আর পদ পাবে নতুন দুনিয়ায় l পড়ানও তিনি, যিনি অমরলোকের স্থাপনা করে মৃত্যুলোকের বিনাশ করান l তোমাদের এই পুরুষোত্তম সঙ্গম যুগ অত্যন্ত ছোটো, এই সময়েই বাবা আসেন পড়ানোর জন্য l তিনি এলেই পড়া শুরু হয়ে যায় l তখন বাবা বলেন -- তোমরা ফর্ম ভর্তি করাও, তাহলেই বোঝা যাবে যে কিছু শিখেছে l বাকি এখানে এসে কি করবে l মানুষ যেমন সাধু - সন্ত - মহাত্মাদের কাছে যায়, এখানে তেমন কথা নেই l এনার রূপ তো তেমনই সাধারণ l পোশাকেও তেমন কোনো তফাৎ নেই তাই কেউই বুঝতে পারে না l মনে করে, ইনি তো জহুরি ছিলেন l ইনি প্রথমে ছিলেন বিনাশী রত্নের জহুরি l এখন হয়েছেন অবিনাশী রত্নের জহুরি l তোমরাও বেহদের বাবার থেকেই এই সমস্ত কিছু অর্জন করো l তিনি হলেন অনেক বড় সওদাগর, জাদুকর এবং রত্নাকর l তাই প্রত্যেকেই যেন নিজেকে মনে করে যে আমরা রূপ বসন্ত l আমাদের ভিতরে লাখ টাকার জ্ঞান রত্ন আছে l এই জ্ঞান রত্নের দ্বারা তোমরা পারস বুদ্ধির হয়ে যাও l এও বোঝার কথা l খুব ভালো বুদ্ধিমান বাচ্চাই এই কথাকে ধারণ করতে পারে l ধারণা যদি না হয় তাহলে সে কোনো কাজের নয় l মনে করবে তার ঝুলিতে ছিদ্র আছে, সবই বের হয়ে যাচ্ছে l বাবা বলেন যে, আমি তোমাদের অবিনাশী জ্ঞান রত্নের দান দিচ্ছি l তোমরাও যদি দান দিতে থাকো, তাহলে ভরপুর থাকবে l না হলে, কিছুই নয়, সব খালি l পড়ে না, নিয়ম মেনে চলে না l এখানে সাবজেক্ট খুবই ভালো l পাঁচ বিকার থেকে তোমাদের সম্পূর্ণ দূরে যেতে হবে l

বাবা বোঝান যে, এই যে রাখী বন্ধন পালন করা হয়, তাও এই সময়ের l মানুষ কিন্তু অর্থ জানে না যে, কেন রাখী বাঁধা হয় l ওরা তো অপবিত্র থাকে আবার রাখীও বাঁধে l আগে ব্রাহ্মণরা রাখী বাঁধতো l এখন বোনেরা ভাইদের রাখী বাঁধে উপহারের জন্য l এখানে কোনো পবিত্রতা থাকে না l এখন অনেক সুন্দর আধুনিক রাখী বানানো হয় l এই দীপাবলী (দিওয়ালি), দশহরা সবই সঙ্গমের উৎসব l বাবা যা অ্যাক্ট করেছেন, তাই ভক্তিমার্গে চলতে থাকে l বাবা তোমাদের প্রকৃত গীতা শুনিয়ে এমন লক্ষ্মী - নারায়ণ বানান l এখন তোমরা প্রথম বিভাগে যাচ্ছো l সত্যনারায়ণের কথা শুনে তোমরা নর থেকে নারায়ণ হও l বাচ্চারা, এখন তোমাদের সম্পূর্ণ দুনিয়াকে জাগাতে হবে l তাই কতো যোগের শক্তির প্রয়োজন l এই যোগের শক্তিতেই তোমরা কল্পে কল্পে স্বর্গের স্থাপনা করো l যোগবলের দ্বারা স্থাপনা হয় আর বাহুবলের দ্বারা হয় বিনাশ l অক্ষর কেবল দুটো - অল্ফ (আল্লাহ), আর বে (বাদশাহী) l যোগবলের দ্বারা তোমরা বিশ্বের মালিক হও l তোমাদের জ্ঞান হলো সম্পূর্ণ গুপ্ত l তোমরা যারা সতোপ্রধান ছিলে, তারাই এখন তমোপ্রধান হয়েছো l তোমাদের আবার সতোপ্রধান হতে হবে l প্রত্যেক বীজ অবশ্য করেই নতুন থেকে পুরানো হয় l নতুন দুনিয়াতে কি না হবে l পুরানো দুনিয়াতে তো কিছুই নেই যেন সব ফাঁকা l কোথায় ভারত একসময় স্বর্গ ছিলো, সেই ভারত এখন নরক হয়ে গেছে l রাত দিনের তফাৎ l মানুষ রাবণের ভূত বানিয়ে জ্বালায় কিন্তু কেউই অর্থ বোঝে না l তোমরা এখন বুঝতে পারছো, এরা কি কি করছে l তোমাদের মধ্যেও আগে অজ্ঞান ছিলো আজ জ্ঞান আছে l কাল তোমরা নরকে ছিলে আজ সত্য করে স্বর্গে যাচ্ছো l এমন নয় যে, দুনিয়ার মানুষ যেমন বলে - উনি স্বর্গবাসী হয়েছেন l তোমরা এখন স্বর্গে যাবে তখন আর নরক পাবে না l এ কতো বোঝার কথা l এ হলো এক সেকেন্ডের কথা l বাবাকে স্মরণ করলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে l তোমরা এইকথা সবাইকে বলতে থাকো l সবাইকে বলো, এই লক্ষ্মী - নারায়ণ যেমন ছিলেন, তাঁরাই আবার ৮৪ জন্ম নিয়ে এমন হয়েছেন l তোমরা সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হয়েছো, আবার তোমাদের সতোপ্রধান হতে হবে l আত্মার তো বিনাশ হয় না l বাকি তাদের তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতেই হয় l বাবা অনেকভাবে তোমাদের বোঝাতে থাকেন l তিনি বলেন, আমার ব্যাটারি কখনোই পুরানো হয় না l বাবা কেবল বলেন, নিজেকে বিন্দু আত্মা মনে করো l মানুষ বলে, এর আত্মা শরীর ছেড়ে চলে গেছে l আত্মা সংস্কার অনুসারে এক শরীর থেকে অন্য শরীর ধারণ করে l এখন এই আত্মাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে l এও হলো ড্রামা l এই সৃষ্টিচক্র রিপিট হতে থাকে l পরের দিকে হিসেব করে বলে, দুনিয়াতে এতো মানুষ l এমন কেন বলে না যে, দুনিয়াতে এতো আত্মা l বাবা বলেন যে, বচ্চারা আমাকে কিভাবে ভুলে গেছে l তবুও আমাদের সকলের কল্যাণ করতে হবে, তাই মানুষ বাবাকে ডাকতে থাকে l তোমরা বাবাকে ভুলে যাও কিন্তু বাবা তোমাদের ভোলেন না l বাবা আসেন পতিতদের পবিত্র বানাতে l এ হলো গোমুখ l বাকি ষাঁড় ইত্যাদির কোনো কথা নেই l ইনি হলেন ভাগ্যশালী রথ l বাচ্চারা, বাবা তোমাদের বলেন যে, শিববাবা তোমাদের শৃঙ্গার করেন এ কথা যেন তোমাদের খুব ভালোভাবে স্মরণে থাকে l শিববাবাকে স্মরণ করলে তোমাদের অনেক লাভ হবে l বাবা আমাদের ব্রহ্মার দ্বারা পড়ান, তাই তোমরা এনাকে স্মরণ করবে না l শিববাবাই হলেন একমাত্র সদ্গুরু, তাঁর কাছেই তোমাদের সমর্পণ (বলিহারি যেতে হবে) হতে হবে l ইনিও ওঁনার কাছেই সমর্পিত হয়েছেন l বাবা বলেন যে, একমাত্র আমাকে স্মরণ করো l বাচ্চারা সত্যযুগী ফুলের দুনিয়ায় যাচ্ছে তাহলে কাঁটার প্রতি তাদের এতো মোহ কেন থাকবে ? ৬৩ জন্ম তো তোমরা ভক্তিমার্গে শাস্ত্র পড়ে, পূজা করে এসেছো l তোমরা পূজাও প্রথমে শিববাবারই করেছিলে, তাই তো সোমনাথ মন্দির বানানো হয়েছিলো l মন্দির তো সমস্ত রাজাদের ঘরেই ছিলো, সেখানে কতো হীরে জহরত ছিলো l পরের দিকে কমতে শুরু করেছে l এক মন্দির থেকে কতো সোনা ইত্যাদি লুঠ করে নিয়ে গিয়েছিলো l তোমরা এমনই এক ধনবান বিশ্বের মালিক হও l ইনি ধনবান ছিলেন, এই বিশ্বের মালিক ছিলেন কিন্তু এনার রাজত্বের কতো সময় হয়েছে তা কেউই জানে না l বাবা বলেন যে, পাঁচ হাজার বছর হয়েছে l ২৫০০ বছর রাজত্ব করেছিলো আর বাকি ২৫০০ বছরে এতো মঠ, পথ ইত্যাদির বৃদ্ধি হয়েছে l

বাচ্চারা, তোমাদের অনেক খুশী হওয়া উচিত যে আমাদের বেহদের বাবা পড়াচ্ছেন l তোমরা অথৈ সম্পদ পাও l শাস্ত্রে দেখানো হয় যে, সাগর ঠেকে রত্নের থালা ভরে দেবতা বের হয়ে এসেছিলো l এখন তোমরা ভরপুর করে জ্ঞানরত্নের থালা পাও l বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর l কেউ ভালোভাবে ভরপুর করে, কারোর আবার বেরিয়ে যায় l যে ভালোভাবে পড়বে আর পড়াবে সে নিশ্চই খুব ভালো ধনবান হতে পারবে l এখন রাজধানী স্থাপন হচ্ছে l এই এই নাটকে লিপিবদ্ধ আছে l যে খুব ভালোভাবে পড়বে সেই স্কলারশিপ পাবে l এ হলো ঈশ্বরীয় অবিনাশী স্কলারশিপ l আর দুনিয়ার হলো বিনাশী l সিঁড়ি খুবই আশ্চর্যের l এ তো ৮৪ জন্মের কাহিনী তাই না l বাবা বলেন যে, সিঁড়িকে এতো বড় ট্রান্সলাইট বানাও যে দূর থেকে সব পরিষ্কার দেখা যায় l মানুষ দেখে আশ্চর্য হয়ে যাবে l এরপর তোমাদের নামও উজ্জ্বল হতে থাকবে l এখন যারা চক্র লাগিয়ে চলে যায় তারাই আবার পরের দিকে আসবে l দু' চারবার ঘোরার পর ভাগ্যে যদি থাকে তাহলেই আকৃষ্ট হবে l প্রিয়তম তো একজনই, কোথায় আর যাবে l বাচ্চাদের খুবই মিষ্টি স্বভাবের হতে হবে l মিষ্টি তখনই হবে যখন যোগে থাকতে পারবে l যোগের থেকেই প্রচেষ্টা হয় l যতক্ষণ মরচে না দূর হবে ততক্ষণ কারোরই এই চেষ্টা আসবে না l এই সিঁড়ির রহস্য সমস্ত আত্মাদেরই বলতে হবে l নম্বর অনুসারে ধীরে ধীরে সকলেই জানতে পারবে l এই হলো ড্রামা l এই পৃথিবীর হিস্ট্রি - জিওগ্রাফী রিপিট হতে থাকে l যিনি এইসব বুঝিয়েছেন তাঁকে তো অবশ্যই স্মরণ করা চাই, তাই না l বাবাকে ওমনি প্রেজেন্ট (সর্বত্র বিরাজমান) বলা হয় কিন্তু ওখানে তো ওমনি প্রেজেন্ট হলো মায়া, এখানে হলেন বাবা কেননা তিনি এক সেকেণ্ডে আসতে পারেন l তোমাদের বোঝাতে হবে যে, বাবা এনার মধ্যে বসে আছেন l তিনি তো করণ - করাবনহার, তাই না ! তিনি করেনও আবার করানও, তিনিই বাচ্চাদের নির্দেশ দেন l তিনি নিজেও করতে থাকেন l এই শরীরে বসে বাবা কি করতে পারেন আর কি করতে পারেন না, তার হিসাব করো l বাবা খান না তিনি সুগন্ধ নেন l আচ্ছা l

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণ - ভালোবাসা এবং সুপ্রভাত l রুহানী বাবার রুহানী বাচ্চাদের নমস্কার l 

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) রূপ - বসন্ত হয়ে নিজের বুদ্ধিরূপী ঝুলি সর্বদা অবিনাশী জ্ঞান রত্নে ভরপুর রাখতে হবে l এই বুদ্ধিরূপী ঝুলিতে যেন কোনো ছিদ্র না হয় l জ্ঞান রত্ন ধারণ করে অন্যকে তার দান করতে হবে l

২) স্কলারশিপ নেওয়ার জন্য খুব ভালোভাবে পড়া করতে হবে l সম্পূর্ণ নির্বাসনে থাকতে হবে l কোনো প্রকারের শখ রাখবে না l নিজে সুগন্ধিত ফুল হয়ে অন্যকেও বানাতে হবে l
 

বরদান:-
শুভচিন্তক স্থিতির দ্বারা সকলের সহযোগ প্রাপ্তকারী সর্ব স্নেহী ভব

শুভচিন্তক আত্মাদের প্রতি আত্মার জন্য মনে স্নেহ উৎপন্ন হয় আর এই স্নেহই তাদের সহযোগী বানিয়ে দেয় l যেখানে স্নেহ থাকে, সেখানে সময়, সম্পত্তি এবং সহযোগ সদা সমর্পণের জন্য তৈরী হয়ে যায় l তাই শুভ চিন্তক আর স্নেহী যদি করে তোলো তাহলে এই স্নেহ সর্বপ্রকার সহযোগের জন্য সমর্পণ করবে তাই সদা শুভ চিন্তনে সম্পন্ন থাকো আর শুভ চিন্তক হয়ে সকলকে স্নেহী আর সহযোগী বানাও l

স্লোগান:-
এই সময় যদি দাতা হও তাহলে তোমাদের রাজ্যে প্রতি জন্মে প্রতি আত্মা ভরপুর থাকবে l

 

সূচনা
এই অব্যক্ত মাস আমাদের সকল ব্রহ্মা বৎসদের জন্য বিশেষ বরদানী মাস, এই সময় আমরা অন্তর্মুখী হয়ে সাকার ব্রহ্মা বাবার সমান হওয়ার লক্ষ্য রেখে তীব্র পুরুষার্থ করি, এইজন্য এই জানুয়ারী মাসে রোজকার মুরলীর নীচে বিশেষ পুরুষার্থের একটি পয়েন্ট থাকবে, সেই অনুসারে আমরা অ্যাটেনশন দিয়ে সম্পূর্ণ দিন এর উপর মনন - চিন্তন করে অব্যক্ত বতনে ঘুরে বেড়াবো l

ব্রহ্মা বাবার সমান হওয়ার জন্য বিশেষ পুরুষার্থ

সময় অনুযায়ী তিনটি শব্দ সর্বদা স্মরণে রেখো -- অন্তর্মুখ, অব্যক্ত এবং অলৌকিক। এখনও পর্যন্ত কিছু লৌকিকতা মিশ্রিত আছে কিন্তু যখন সম্পূর্ণ অলৌকিক, অন্তর্মুখী হয়ে যাবে তখনই ফরিস্তার দৃষ্টি আসবে l রুহানী বা অলৌকিক স্থিতিতে থাকার জন্য অন্তর্মুখী হও l