01-01-2023 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 26-03-93 মধুবন


"অব্যক্ত বর্ষে লক্ষ্য এবং লক্ষণকে সমান বানাও"


আজ নিরাকারী এবং আকারী বাপদাদা সর্বশ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ আত্মাদের আকার রূপে এবং সাকার রূপে দেখছেন। সাকার রূপী তোমরা সব আত্মাও বাবার সমুখে আছ আর আকারী রূপধারী বাচ্চারাও সমুখে আছে। উভয়কে দেখে বাপদাদা উৎফুল্ল হচ্ছেন। সবার হৃদয়ে একই সঙ্কল্প থাকে, উৎসাহ থাকে - আমরা সবাই বাবা সমান সাকারী তথা আকারী এবং আকারী তথা নিরাকারী বাবা সমান হই। বাপদাদা সকলের এই লক্ষ্য আর লক্ষণ দেখছেন। কী দেখা গেছে? মেজরিটির লক্ষ্য খুব ভালো, দৃঢ় কিন্তু লক্ষণ কখনো দৃঢ়, কখনো সাধারণ থাকে। লক্ষ্য আর লক্ষণের মধ্যে সমতা আসা - এই নিদর্শন সমান হওয়ার। কিছু আছে যারা তাদের লক্ষ্যের শতকরা ৯৯ ভাগ ধারণ করেছে, বাকিরা নম্বরক্রমে। কিন্তু তোমরা কতটা পর্যন্ত তোমাদের ন্যাচারাল নেচারে সদা এবং সহজভাবে লক্ষণ ধারণ করেছ, তা'তে মাইনরিটি শতকরা ৯০ ভাগ পর্যন্ত রয়েছে, বাকি অন্যান্যরা নম্বরানুক্রমিক। তো লক্ষ্য আর লক্ষণে এবং সেই লক্ষণও তোমাদের ন্যাচারাল নেচার বানানোয় প্রভেদ কেন? সময়ানুসারে, সার্কমস্ট্যান্স অনুসারে, সমস্যা অনুসারে কিছু বাচ্চা তাদের পুরুষার্থ দ্বারা নিজের লক্ষ্য আর লক্ষণকে সমানও বানায়। কিন্তু সেটা ন্যাচারাল আর তোমাদের নেচার হয়ে যাবে, সেক্ষেত্রে আরও অ্যাটেনশন প্রয়োজন। এই বর্ষ অব্যক্ত ফরিস্তা স্থিতিতে স্থিত থাকার বর্ষ হিসেবে উদযাপন করছ। বাচ্চাদের ভালোবাসা আর পুরুষার্থ এই দু'টো দেখতে দেখতে বাপদাদা খুশি হন, তিনি গীতও গান, "বাঃ বাচ্চারা বাঃ।" সেইসঙ্গে তিনি এখন এবং ভবিষ্যতে সব বাচ্চার লক্ষ্য আর লক্ষণের মধ্যে সমতা দেখতে চান। তোমরা সবাই সেটাই দেখতে চাও তো না। বাবাও চান, তোমরাও চাও, তাহলে মাঝখানে বাকি কী আছে? সেটা তোমরা ভালোভাবেই জানো। নিজেদের মধ্যে ওয়ার্কশপ করো, করো তো না!

লক্ষ্য আর লক্ষণের মধ্যে প্রভেদ হওয়ার একটা বিষয়ই বাপদাদা দেখেছেন। তা' আকারী ফরিস্তা হোক বা নিরন্তর নিরাকারী, তার মূল আধার হলো ন্যাচারাল নেচার তৈরি করা এবং নিরহঙ্কারী হওয়া। অনেক রকম অহঙ্কার আছে। বলতে গেলে, সবচেয়ে বিশেষ যদিও একটা শব্দ 'দেহ-অভিমান, কিন্তু দেহ-অভিমানের বিস্তার অনেক। এক হয় স্থূলভাবে দেহ-অভিমান, যা অনেক বাচ্চার মধ্যে নেইও। হতে পারে তা' নিজের দেহ বা অন্যের দেহ, যদি অন্যদের দেহেরও আকর্ষণ থাকে, সেটাও দেহ-অভিমান। কিছু বাচ্চা এই স্থূল রূপে পাস হয়েছে, স্থূলভাবে দেহের আকারের প্রতি সম্বন্ধ কিংবা অভিমান নেই। তথাপি এর সাথে তাদের নিজেদের দেহ-সম্বন্ধের প্রতি নিজস্ব সংস্কার বিশেষ থাকে, বুদ্ধি বিশেষ, গুণ বিশেষ, কোনো প্রতিভা বিশেষ, কোনো শক্তি বিশেষ থাকে, এ'সবের অভিমান অর্থাৎ অহঙ্কার, নেশা, প্রতাপ - এ' হলো সূক্ষ্ম দেহ-অভিমান। এই সূক্ষ্ম অভিমানের কোনও অভিমান যদি থাকে তাহলে না আকারী ফরিস্তা ন্যাচারাল-নিরন্তর হতে পারে, না নিরাকারী হতে পারে। কারণ আকারী ফরিস্তাতেও দেহভাব থাকে না, তারা ডবল লাইট। দেহ-অহংকার নিরাকারী হতে দেবে না। সবাই এই বছর ভালো অ্যাটেনশন রেখেছে, উৎসাহ-উদ্দীপনাও আছে, আকাঙ্ক্ষাও খুব ভালো, তোমরা চাও তো বটেই, কিন্তু সামনের দিকে অ্যাটেনশন প্লিজ! চেক করো, "কোনো প্রকারের অভিমান কিংবা অহংকার ন্যাচারাল স্বরূপ থেকে পুরুষার্থী স্বরূপ বানিয়ে দেয় না তো? কোনো সূক্ষ্ম অভিমান অংশরূপেও থেকে যায়নি তো, যা সময় অনুসারে আর কোথাও সেবা অনুসারে ইমার্জ হয়ে যায়?" কারণ, অংশ মাত্রও সময়কালে বিভ্রান্ত করে দেয়, সেইজন্য বাপদাদা এটাই চান যে, এই বর্ষে সেবার যে লক্ষ্য রেখেছ, সেই লক্ষ্যে তোমাদের সম্পন্ন হতেই হবে।

চলতে চলতে, স্থূল রূপে কোনো দিন, কোনো সময় যদি বিশেষ কোনও ভুল না করো, তবুও কখনো কখনো এটা অনুভব করো তো না যে, "জানি না কী হয়েছে, যে খুশি থাকা উচিত ছিল আজ বা এখন সেরকম নেই, জানি না আজ একাকীত্ব, নিরাশা আর ব্যর্থ সঙ্কল্পের তুফান হঠাৎ কেন আসছে! অমৃতবেলাও করেছি, ক্লাসও করেছি, সেবাও, জবও (job) করেছি, তবুও এটা কেন হচ্ছে?" কারণ কী হয়, স্থূল রূপকে তো চেক করে নাও আর তা'তেই মনে করে নাও যে কোনো ভুল হয়নি। কিন্তু অভিমানের সূক্ষ্ম রূপের অংশ সূক্ষ্মভাবে প্রকট হয়ে যায়, সেইজন্য কোনও কাজে মন লাগবে না। বৈরাগ্য, উদাস-উদাস ফিল হবে, নয়তো ভাববে কোনও একান্ত স্থানে চলে যাই, অথবা ভাববে ঘুমিয়ে পড়ি, রেস্ট নিই, নতুবা কিছু সময়ের জন্য পরিবারের থেকে সরে যাই। এই সব স্থিতির কারণ হলো অংশের বিস্ময় উৎপন্ন হওয়া। বিস্ময় ব'লো না, অস্থিরতাই বলো। সুতরাং সম্পূর্ণ নিরহঙ্কারী হওয়া অর্থাৎ সহজে আকারী-নিরাকারী হওয়া। যেমন, কখনো কখনো মন চায় না, তোমরা ভাবো যে, সদা কী একইরকম দিনচর্যায় চলতে হবে? চেঞ্জ হওয়া প্রয়োজন তো না? না চাইলেও এই স্থিতি এসে যায়।

যখন তোমরা নিরহঙ্কারী হয়ে যাবে তখন আকারী আর নিরাকারী স্থিতি থেকে নিচে আসতে চাইবে না। তা'তেই লাভলীন অনুভব করবে, কারণ তোমাদের অরিজিনাল অনাদি স্টেজ নিরাকারী তো না। নিরাকার আত্মা এই শরীরে প্রবেশ করেছে। শরীর আত্মার মধ্যে প্রবেশ করেনি, আত্মা শরীরে প্রবেশ করেছে। তাহলে তোমাদের অনাদি অরিজিনাল স্বরূপ নিরাকারী, তাই তো না? নাকি শরীরধারী? শরীরের আধার নিয়েছ কিন্তু নিয়েছে কে? তুমি আত্মা, নিরাকার সাকার শরীরের আধার নিয়েছ। তাহলে অরিজিনাল কী হলো? আত্মা নাকি শরীর? আত্মা। এই ব্যাপারে তোমরা নিশ্চিত? তাহলে, অরিজিনাল স্থিতিতে স্থিত হওয়া সহজ নাকি আধার নেওয়া স্থিতিতে সহজ?

অহঙ্কার আসার দরজা হলো এক শব্দ, সেটা কী? 'আমি।' অতএব, এই অভ্যাস করো যখনই 'আমি' শব্দ আসবে তখনই অরিজিনাল স্বরূপ সামনে আনো, 'আমি' কে? আমি আত্মা নাকি অমুক-অমুক? অন্যদের জ্ঞান দাও তো না কীভাবে 'আমি' শব্দই উড়িয়ে নিয়ে যায়, আর কীভাবে 'আমি' শব্দই নিচে নামিয়ে আনে। যদি বলো 'আমি' তবে তোমাদের অরিজিনাল স্বরূপ যেন স্মরণে এসে যায়, এটা ন্যাচারাল হয়ে গেলে তখন প্রথম পাঠ সহজ হয়, তাই না? তো এটা চেক করো, অভ্যাস গড়ে তোলো 'আমি' ভাবা মাত্র নিরাকারী স্বরূপ স্মৃতিতে এসে গেল। কত বার 'আমি' শব্দ বলো! 'আমি' এই বলেছি, 'আমি' এটা করবো, 'আমি' এটা ভাবি... অনেকবার 'আমি' শব্দ ইউজ করো। সুতরাং এটা নিরাকারী বা আকারী হওয়ার সহজ বিধি, যখনই 'আমি' শব্দ ইউজ করবে তৎক্ষণাৎ নিজের নিরাকারী অরিজিনাল স্বরূপ যেন সামনে আসে। এটা কঠিন নাকি সহজ? আর তো তোমাদের লক্ষ্য আর লক্ষণ সমান হয়েই আছে। নিরহঙ্কারী হওয়ার সহজ উপায় এই যুক্তি শুধু ব্যবহার করে দেখ। দেহভাবের 'আমি' সমাপ্ত হয়ে যাবে। কেননা, 'আমি' শব্দই দেহবোধে নিয়ে আসে। আর যদি স্মৃতিতে নিয়ে আসো 'আমি' নিরাকারী আত্মাস্বরূপ, তাহলে এই 'আমি' শব্দই দেহবোধের ঊর্ধ্বে নিয়ে যাবে। ঠিক আছে তো না। সারাদিনে ২৫-৩০ বার তো অবশ্যই বলে থাকবে। হয়তো বলছ না কিন্তু ভাববে তো 'আমি' এটা করবো, আমাকে এটা করতে হবে...। যদি প্ল্যানও বানাও ভাবো তো না। সুতরাং এত বারের অভ্যাস, আত্মা স্বরূপের স্মৃতি কী বানিয়ে দেবে? নিরাকারী। নিরাকারী হয়ে, আকারী ফরিস্তা হয়ে তোমার কার্য করলে আর তখনই নিরাকারী! কর্ম-সম্বন্ধের স্বরূপে সম্বন্ধে আসো, সম্বন্ধকে বন্ধনে এনো না। দেহ-অভিমানে আসা অর্থাৎ কর্ম-বন্ধনে আসা। দেহ সম্বন্ধে আসা অর্থাৎ কর্ম-সম্বন্ধে আসা। দুইয়ের মধ্যে প্রভেদ আছে। প্রভেদ রয়েছে দেহের আধার নেওয়া আর দেহের বশ হওয়ার মধ্যেও। ফরিস্তা বা নিরাকারী আত্মা দেহের আধার নিয়ে দেহের বন্ধনে আসবে না, সম্বন্ধ রাখবে কিন্তু বন্ধনে আবদ্ধ হবে না। তো এই বর্ষে বাপদাদা রেজাল্টে দেখবেন যে, নিরহঙ্কারী, আকারী ফরিস্তা আর নিরাকারী স্থিতিতে লক্ষ্য আর লক্ষণ কতটা সমান হয়েছে!

মহত্ত্বের নিদর্শন নম্রতা (নির্মান)। যত নম্রতা ততই আপনা থেকে আত্মা মহান হবে সবার হৃদয়ে। বিনা নম্রতায় সকলের জন্য মাস্টার সুখদাতা হতে পারবে না। নম্রতা সহজে নিরহঙ্কারী বানায়। নম্রতার বীজ আপনা থেকেই মহত্ত্বের ফল প্রাপ্ত করায়। নম্রতা সবার হৃদয়ে আশীর্বাদ প্রাপ্ত করানোর সহজ উপায়। নম্রতা সবার মনে নিরহঙ্কারী আত্মার জন্য সহজে ভালোবাসার স্থান বানিয়ে দেয়। নম্রতা আপনা থেকেই মহিমা যোগ্য বানায়। সুতরাং নিরহঙ্কারী হওয়ার বিশেষ নিদর্শন - নম্রতা। বৃত্তিতেও নম্রতা, দৃষ্টিতেও নম্রতা, বাণীতেও নম্রতা, সম্বন্ধ-সম্পর্কেও নম্রতা। এ'রকম নয় যে, আমার বৃত্তিতে ছিল না কিন্তু বোল বেরিয়ে গেছে। না। তোমার যে বৃত্তি হবে, সেই অনুযায়ী তোমার দৃষ্টি হবে, যেমন দৃষ্টি হবে তেমনই বাণী হবে, যেমন বাণী হবে সেটাই সম্বন্ধ-সম্পর্কে আসবে। চারের মধ্যেই নম্রতা থাকতে হবে। একেই বলা হয়ে থাকে ফরিস্তা। যদি তিনের মধ্যে থাকে, একের মধ্যে নেই তাহলেও অহঙ্কার আসার মার্জিন থাকে। সুতরাং বুঝেছ, বাপদাদা কী চান আর তোমরা কী চাও? উভয়ের 'ইচ্ছা' এক, এখন 'ক্রিয়াকর্ম' একরকম হতে দাও। আচ্ছা!

ভবিষ্যতে সেবার জন্য কী কী নতুন প্ল্যান বানাবে? কিছু বানিয়েছ, কিছু বানাবে। হয় এই বছরের জন্য, না হয়, ভবিষ্যতের বছরগুলোর জন্য যেভাবে প্ল্যান ভাবো যে তোমরা ভাষণ দেবে, সম্বন্ধ-সম্পর্কও বাড়াবে, বড় প্রোগামও করবে, ছোট প্রোগ্রামও করবে; এ' তো তোমরা ভাবোই, কিন্তু বর্তমান সময়ের গতি অনুসারে এখন সেবারও ফাস্ট গতি প্রয়োজন। সেটা কীভাবে হবে? বাণী দ্বারা, সম্বন্ধ-সম্পর্ক দ্বারা তো সেবা করছই, মন্সা সেবাও করো, কিন্তু এখন অল্প সময়ে সেবার সফলতা বেশি হওয়া প্রয়োজন। সফলতা অর্থাৎ রেজাল্ট। তার বিধি হলো, বাণীর সাথে সাথে প্রথমে নিজের স্থিতি এবং স্থানের ভাইব্রেশন পাওয়ারফুল বানাও। যেমন, তোমাদের জড় চিত্র কী সেবা করছে? ভাইব্রেশন দ্বারা কত ভক্তকে প্রসন্ন করে! ডবল বিদেশিরা তাদের মন্দির দেখেছে? তোমাদেরই মন্দির তো না! নাকি শুধু যারা ভারতের

তাদের মন্দির আছে? তোমাদের চিত্র সেবা করছে তো না! সুতরাং বাণী দ্বারা অবশ্য করো, কিন্তু এখন এমন প্ল্যানিং করো, বাণীর সাথে সাথে ভাইব্রেশনের এমন বিধি বানাও যাতে বাণী আর ভাইব্রেশন ডবল কাজ করে। ভাইব্রেশন বহুকাল থাকে। বাণী দ্বারা শুনে কখনো কখনো অনেকে ভুলেও যায় কিন্তু ভাইব্রেশনের ছাপ বেশি সময় চলে। যেমন তোমরা নিজেদের জীবনে অনুভাবী হও যে, কারও উল্টো ভাইব্রেশন যদি তোমাদের মনে কিংবা বুদ্ধিতে বসে যায়, তাহলে সেই উল্টো ভাইব্রেশনের প্রভাব কত সময় ধরে চলে! ভাইব্রেশন তোমাদের ভিতরে বসে যায়, তাই না! আর বোল তো সেই সময়ই ভুলে যাবে কিন্তু ভাইব্রেশন রূপে মন আর বুদ্ধিতে ছাপ লেগে যায়। আর কত সময় সেই ভাইব্রেশনের বশ থাকো, সেই ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবহারে আসো? ভাইব্রেশন ভুল হোক বা ঠিক হোক, তা' সরানো কঠিন হয়।

কিন্তু এই রূহানী ভাইব্রেশন ছড়ানোর জন্য প্রথমে নিজের মনে, বুদ্ধিতে ব্যর্থ ভাইব্রেশন সমাপ্ত করলে তবেই তুমি রূহানী ভাইব্রেশন ছড়াতে পারবে। যদি কারও প্রতি ব্যর্থ ভাইব্রেশন তুমি ধারণ করে আছ, তাহলে রূহানী ভাইব্রেশন ছড়াতে পারবে না। রূহানী ভাইব্রেশনের সামনে ব্যর্থ ভাইব্রেশন এক প্রাচীর হয়ে দাঁড়ায়। সূর্য যতই প্রকাশময় হোক না কেন, যদি সামনে দেওয়াল এসে যায়, মেঘ এসে যায় তাহলে সূর্যের প্রকাশকে প্রজ্জ্বলিত হতে দেয় না। যে ভাইব্রেশন পাকাপোক্ত তা' প্রাচীরের মতো আর হালকা ভাইব্রেশন হলো হাল্কা মেঘের মতো অথবা কালো মেঘ! রূহানী ভাইব্রেশনকে সেসব আত্মাদের কাছে পৌঁছাতে দেবে না। যেমন সাগরে কোনো জাল দিয়ে অনেক জিনিসকে একবারে একত্রিত করে দেয় অথবা কোথাও নিজেদের জাল ছড়িয়ে একটা সময় অনেককে নিজের বানিয়ে নেয়, তাইতো ভাইব্রেশনস্ একই সময়ে অনেক আত্মাকে আকর্ষণ করতে পারে। ভাইব্রেশন্স বায়ুমন্ডল তৈরি করে। অতএব, ভবিষ্যতে যখন সেবা করবে তখন একসাথে তোমাদের বৃত্তি দ্বারা রূহানী ভাইব্রেশন দ্বারা সেবা করো, তবেই ফাস্ট হবে। ভাইব্রেশন আর বায়ুমন্ডলের সাথে সাথে যদি বাণী দ্বারা সেবা করো তবে একই সময়ে অনেক আত্মার কল্যাণ করতে পারো।

বাকি সব প্রোগ্রামের জন্য প্রস্তুত স্টেজের প্রয়োগ আরও বেশি করো, তা' আরও বাড়াও। যারা তোমার সম্পর্কে আছে তাদের থেকে এই সহযোগ নিয়ে এই সেবার বৃদ্ধি প্রাপ্ত করতে পারো। সহযোগীদের সহযোগ যে কোনও বিধি দ্বারা বাড়িয়ে চলো তবে আপনা থেকেই সেবাতে সহযোগী হওয়ার কারণে সহজ যোগী হয়ে যাবে। এমন অনেক আত্মা আছে যারা সহজযোগী হবে না কিন্তু তাদের সহযোগ নিয়ে চলো, সহযোগী বানিয়ে চলো। তখন সহযোগ দিয়ে এগোতে এগোতে সহযোগ তাদেরকে যোগী বানিয়ে দেয়। সুতরাং সহযোগী আরও আত্মাদেরকে স্টেজে নিয়ে এসো, তাদের সহযোগ সময়োপযোগী করো। বুঝেছ, কী করতে হবে? কোনো এক আত্মাও যদি সহযোগী হয় তাহলে সেই আত্মা প্র্যাকটিক্যালি সহযোগ নিয়ে এবং দিয়ে, প্রত্যক্ষ আশীর্বাদে সহজে সামনে এগিয়ে যায় এবং অনেকের সেবার নিমিত্ত হয়।

সেইসঙ্গে বছরের মধ্যে থেকে কিছু মাস নিশ্চিত করো নিজেদের বিশেষ পুরুষার্থ বা শ্রেষ্ঠ শক্তি ধারণ করার অভ্যাসের জন্য, যাকে তোমরা তপস্যা, রিট্রিট অথবা ভাট্টি বলো। সব দেশ অনুসারে দু' মাস দু' মাস করে ফিক্স করো সীজন অনুযায়ী। দু'মাস তপস্যার, দু'মাস ছোট ছোট সেবার, দু' মাস বড় আকারের সেবার - এভাবে ফিক্স করো। এমন নয় যে, ১২ মাস সেবায় এতই বিজি হয়ে যাও যে নিজের প্রগতির জন্য টাইম কম পেলে। দেশ এবং সেই দেশের সীজন এমন হয় যে, অনেক সময় বাইরের বিশেষ সেবা করতে পারো না, সেই সময়টা বিশেষভাবে নিজেদের প্রগতির জন্য রাখো। সারা বছর সেবা করবে না এটাও হতে পারে না, সারা বছর শুধু তপস্যা করবে সেটাও হতে পারে না, সেইজন্য একসাথে দুটোই তোমাদের লক্ষ্য হিসেবে রেখে নিজের স্থান অনুযায়ী নিশ্চিত করো যাতে সেবা আর নিজের উন্নতি দুইই একসাথে চলে।

আচ্ছা। এই বর্ষের সীজনের সমাপ্তি। সমাপ্তিতে কী করা হয়ে থাকে? সমাপ্তিতে এক তো সমারোহ করা হয়ে থাকে আরেক হলো আধ্যাত্মিক বিষয়তে স্বাহা করা হয়ে থাকে। তাহলে এখন কী স্বাহা করবে? একটা বিশেষ জিনিস মন-বুদ্ধি থেকে স্বাহা করো, বাণী দ্বারা নয়, শুধু পড়ে নিয়েছ তা' নয়, মন-বুদ্ধি থেকে স্বাহা করো। তারপরে দেখ, স্ব আর সেবায় তীব্রগতি কীভাবে হয়! সুতরাং আজকের তরঙ্গ হলো কোনও আত্মার প্রতি ব্যর্থ ভাইব্রেশন স্বাহা করো। স্বাহা করতে পারো? নাকি অল্প অল্প থাকবে? এমন ভেবো না যে সে এরকমই, তাহলে ভাইব্রেশন থাকবে তো না! যেমনই হোক, তোমরা কিন্তু নেগেটিভ ভাইব্রেশনকে বদলে পজিটিভ ভাইব্রেশন রাখবে তাহলে সেই আত্মাও অবশ্যই নেগেটিভ থেকে পজিটিভে পরিবর্তন হয়েই যাবে, হতেই হবে। কারণ যতক্ষণ পর্যন্ত এই ব্যর্থ ভাইব্রেশন মন-বুদ্ধিতে থাকবে, ততক্ষণ ফাস্ট গতির সেবা হতেই পারে না।

বৃত্তি দ্বারা রূহানী ভাইব্রেশন ছড়িয়ে দিতে হবে। বৃত্তি হলো রকেট, যেটাতে এখানে বসে বসেই যেখানে চাও, যতটাই পাওয়ারফুল পরিবর্তন করতে চাও তা' করতে পারো। এটা রূহানী রকেট। তোমরা যতদূর পর্যন্ত, যত আত্মাকে তোমাদের পাওয়ারফুল বৃত্তি দ্বারা ভাইব্রেশন পৌঁছাতে চাও, ভাইব্রেশন দ্বারা ততটাই বায়ুমন্ডল তৈরি করতে পারো। হয়তো তা' বাস্তবে (রিয়েল) রংও হতে পারে কিন্তু তোমরা সেটার রং (ভুল) ধারণ ক'রো না। তোমরা রং কেন ধারণ করো? এটা কি শ্রীমৎ? বুঝতে পারা আলাদা জিনিস। যদিও তোমরা নলেজফুল, কিন্তু নলেজফুলের সাথে পাওয়ারফুল হয়ে সেটা সমাপ্ত করো। অর্থ বোঝা আলাদা জিনিস, সমাহিত হওয়া আলাদা জিনিস, আর সমাপ্ত করা আরও আলাদা জিনিস। যদি বা তোমরা বুঝতেও পারো এটা রং, এটা রাইট, এ' এরকম, কিন্তু ভিতরে সেটা সমাহিত ক'রো না। তোমরা জানো কীভাবে সমাহিত করতে হয়, কিন্তু সমাপ্ত করতে জানো না। জ্ঞান অর্থাৎ বোধ। কিন্তু বুঝদার তাকে বলা হয়ে থাকে যে অর্থ উদ্ধার করতে পারে আর মুছে ফেলতেও জানে, পরিবর্তন করতেও জানে।

এই বছরে মন আর বুদ্ধিকে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ থেকে ফ্রি করো। এটাই ফাস্ট গতিকে সাধারণ গতিতে নিয়ে আসে, সেইজন্য এই সমাপ্তি সমারোহ করো অর্থাৎ স্বাহা করো। সম্পূর্ণ ক্লীন। যে যেমনই হোক, কিন্তু তোমরা তাদেরকে ক্ষমা করো। শুভ ভাবনা আর শুভ কামনার বৃত্তি দ্বারা শুভ ভাইব্রেশন ধারণ করো, কারণ লাস্টে এগিয়ে চলার সাথে সাথে তোমাদের এই বৃত্তি-ভাইব্রেশন তোমাদের সেবা বৃদ্ধি করবে, তখন শিঘ্রাতিশীঘ্র কমপক্ষে ৯ লাখ বানাতে পারবে। বুঝেছ কী স্বাহা করতে হবে? ব্যর্থ বৃত্তি, ব্যর্থ ভাইব্রেশন স্বাহা! তারপরে দেখ, ন্যাচারাল যোগী আর নেচারে কীভাবে তোমরা ফরিস্তা হয়েই আছ। এই অনুভবের ভিত্তিতে রিট্রিট করো, ওয়ার্কশপ করো। "কীভাবে হবে সেই ব্যাপারে নয়", কিন্তু এভাবে হবে।"

সদা বারবার নিজের অরিজিনাল স্বরূপ "আমি নিরাকারী" - এইরকম নিশ্চয় আর নেশায় যারা ওড়ে, সদা নম্রতার দ্বারা মহত্ত্বের প্রাপ্তির অনুভাবী সেই আত্মাদের, তেমন নম্র, সদা মহান আর সদা আকারী নিরাকারী স্থিতিকে যারা নেচার আর ন্যাচারাল বানায় সেই সর্বশ্রেষ্ঠ আত্মাদের বাপদাদার অনেক-অনেক-অনেক স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার।

বরদান:-
এই মরজীবা জীবনে সদা সন্তুষ্ট থেকে ইচ্ছা মাত্রম্ অবিদ্যা ভব

তোমরা বাচ্চারা মরজীবা হয়েছই সন্তুষ্ট থাকার জন্য। যেখানে সন্তুষ্টতা সেখানে সর্বগুণ আর সর্বশক্তি আছে, কারণ রচয়িতাকে আপন বানিয়ে নিয়েছ, বাবাকে পেয়েছ তো সবকিছু পেয়ে গেছ। এমনকি, তোমাদের সব ইচ্ছা একত্র করলেও তার থেকেও পদম্ গুণ বেশি প্রাপ্ত হয়েছে। এর তুলনায় ইচ্ছা এমনই যেন সূর্যের সামনে প্রদীপ। কোনো ইচ্ছা উৎপন্ন হওয়ার বিষয় তো বাদই দাও, এমনকি, ইচ্ছার মতো কোনো কিছু হওয়ার কোশ্চেনও উঠতে পারে না। তোমরা সর্ব প্রাপ্তি সম্পন্ন সেইজন্য তোমরা ইচ্ছা মাত্রম্ অবিদ্যা, সদা সন্তুষ্ট মণি।

স্লোগান:-
যাদের সংস্কার ইজি তারা যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মোল্ড করে নেবে।