01.04.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হচ্ছো মুক্তি সেনাদল, সবাইকে তোমাদের সদ্গতি দিতে হবে, সবার ভালোবাসা এক বাবার সাথে জুড়তে হবে"

প্রশ্নঃ -
মানুষ নিজের বুদ্ধি কোন্ বিষয়ে ব্যবহার করে থাকে, তোমাদের বুদ্ধি কোথায় জুড়তে হবে ?

উত্তরঃ -
মানুষ নিজের বুদ্ধি আকাশ এবং সৃষ্টির অন্ত (শেষ) পাওয়ার কাজে ব্যবহার করছে কিন্তু এতে তো কোনো লাভ হবে না। এর অন্তকে পাওয়া যায় না। বাচ্চারা, তোমরা নিজেদের বুদ্ধিকে লাগাচ্ছ পূজ্য হওয়ার জন্য। ওদের দুনিয়ার কেউ পূজা করবে না। বাচ্চারা তোমরা পূজ্য দেবতা হয়ে উঠছ।

গীতঃ-
তোমাকে পেয়ে আমরা আরা জগৎ পেয়ে গেছি....

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা বুঝেছে যে, এ হলো জ্ঞান মার্গ । ওটা হলো ভক্তি মার্গ । এখন প্রশ্ন ওঠে যে ভক্তি মার্গ ভালো নাকি জ্ঞান মার্গ ভালো ? দুটো বিষয় আছে । বলা হয় জ্ঞান দ্বারা সদ্গতি হয়। নিশ্চয়ই বলে থাকবে ভক্তি আর জ্ঞান দুটো আলাদা। মানুষ মনে করে ভক্তি করলে জ্ঞান প্রাপ্ত হয় এবং তবেই সদ্গতি পাওয়া যায়। ভক্তির মধ্যে জ্ঞান আসতে পারে না। ভক্তি সবার জন্য, জ্ঞানও সবার জন্য। এখন কলিযুগের অন্তিম সময়, সুতরাং সবারই দুর্গতি হবে, সেইজন্যই আহ্বান করে আর গেয়ে থাকে সব সঙ্গ ত্যাগ করে তোমার সাথেই জুড়ে থাকব । উনি কে ? কার সাথে যুক্ত হবে ? এটাও তো জানেনা। স্বাভাবিকভাবেই বুদ্ধি কৃষ্ণের দিকে চলে যায়। বলে থাকে তোমার প্রতিই প্রকৃত ভালোবাসা থাকবে। সুতরাং যখন তারা কৃষ্ণের সাথেই জুড়ে থাকবে তখন তো আর গুরু বা অন্য কারোর প্রয়োজনই নেই, তাদের শুধুই কৃষ্ণকে মনে করা উচিত। কৃষ্ণের চিত্রও সবার কাছেই আছে। কৃষ্ণ জয়ন্তীও পালন করে যখন তখন তো আর কারো কাছেই যাওয়ার প্রয়োজন নেই। যেমন মীরা শুধুমাত্র একজনের সাথেই জুড়ে ছিল। কাজকর্ম করতে-করতেও কৃষ্ণকেই স্মরণ করত। ঘরে থেকে, কাজকর্ম করা,খাওয়া-দাওয়া সবকিছুই করত কিন্তু প্রকৃত ভালোবাসা এক কৃষ্ণের সাথেই ছিল। ঠিক যেমন মীরা আশিক ( প্রেমিকা ) আর কৃষ্ণ মাশুক (প্রেমিক)। কৃষ্ণকে স্মরণ করলে ফলও পাওয়া যায়। কৃষ্ণকে তো সবাই জানে, গানও গেয়ে থাকে প্রকৃত ভালোবাসা এক তোমার সাথেই জুড়েছি আর সব সঙ্গ ত্যাগ করেছি। উচ্চ থেকে উচ্চতর সত্য হলেন পরমপিতা। সবাইকে উত্তরাধিকার প্রদানকারী এক বাবা। তাঁকে কেউ-ই জানে না। যদিও বলে থাকে পরমপিতা পরমাত্মা শিব, কিন্তু তিনি কবে আসেন কিছুই জানে না। শিব জয়ন্তী যখন পালন হয় তবে নিশ্চয়ই আসেন । কবে, কীভাবে আসেন, এসে কি করেন ? কারো জানা নেই । কোনও মানুষই জানেনা যে সবার সদ্গতি উনিই করে থাকেন। কিন্তু কিভাবে সদ্গতি করেন ? এর অর্থই বা কী ! কিছুই জানা নেই। শিববাবা তো স্বর্গের বাদশাহী দিয়েছিলেন। তোমরা বাচ্চারা যারা ঐ ধর্মের ছিলে তোমাদের এসব জানা ছিল না, ভুলে গিয়েছিলে। কিভাবে তবে জানেবে ! এখন শিববাবার কাছ থেকে তোমরা জেনেছ আর অন্যদেরও বলছ। তোমরা হলে ঈশ্বরীয় মুক্তি সেনাদল। মুক্তিদাতা বল বা সদ্গতির সৈনিক বল ,বাচ্চারা তোমাদের উপর এখন এই দায়িত্বভার পড়েছে। তোমরা চিত্র দেখিয়েও বোঝাতে পার । ভাষা তো অনেক। প্রধান ভাষা দিয়েই চিত্র তৈরি করতে হয়। ভাষা নিয়েও বড় ঝঞ্ঝাট হয়, সেইজন্যই প্রদর্শনী করতে হয়। চিত্র দিয়ে বোঝানো সহজ হয়। ভাষার ক্ষেত্রেও অনেক জটিলতা রয়েছে এবং সেইজন্য প্রদর্শনীর সেট তৈরি করতে হবে। চিত্র দিয়ে বোঝানো সহজ হয়। চক্রের মধ্যেই সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে,সিঁড়ি শুধুমাত্র ভারতবাসীদের জন্য, এর মধ্যে অন্য কোন ধর্ম নেই। এমনটাও নয় যে ভারত যখন তমোপ্রধান হয়, তখন অন্যরা হয়না । প্রত্যেকেই তমোপ্রধান হয়। সুতরাং তাদের জন্যও কিছু হওয়া উচিত । সার্ভিসের সময় এই ভাবনাও তোমাদের বুদ্ধিতে থাকা উচিত। দুই পিতার রহস্যও ব্যাখ্যা করা উচিত। উত্তরাধিকার রচয়িতা দ্বারা প্রাপ্ত হয়। সব ধর্মাবলম্বীরাই জানে লক্ষ্মী-নারায়ণ ভারতের প্রথম মহারাজা-মহারাণী ছিলেন বা ভগবান-ভগবতী ছিলেন । আচ্ছা ওরা স্বর্গের রাজ্য কিভাবে পেয়েছে ? নিশ্চয়ই ভগবান দ্বারা পেয়েছে। কিভাবে এবং কবে পেয়েছে, সেটা কারো জানা নেই। গীতায় কৃষ্ণের নাম লিখে তারপর প্রলয় দেখানো হয়েছে, ফলাফল কিছুই নেই। বাচ্চারা তোমাদের এসব বোঝাতে হবে। চিত্র তো সর্বত্র আছে। লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্রও আছে । যদিও তাদের পোশাক, বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি আলাদা হবে। যার যেমন মনে হয়েছে সেভাবেই চিত্র তৈরি করেছে। শ্রীনাথ -শ্রীনাথীনি, এরা রাধা - কৃষ্ণ তাইনা। শ্রী রাধা, শ্রী কৃষ্ণ তাজধারী ( মুকুটধারী) নয়। তারা কৃষ্ণ বর্ণেরও নয়। রাজধানী হলো লক্ষ্মী-নারায়ণের, রাধা -কৃষ্ণের নয়। মানুষ বিভিন্ন রকমের মন্দির নির্মাণ করেছে এবং একই নাম রেখেছে লক্ষ্মী-নারায়ণ। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজধানী বলা হয়। রাম-সীতার বংশ, লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ বংশ বলা হয়। রাধা-কৃষ্ণের বংশ হয়না। এসব বিষয় মানুষের ভাবনাতেই আসেনা। বাচ্চারা তোমরাও নম্বরানুসারে পুরুষার্থ অনুযায়ী বুঝে থাকো,যারা সেবা করতে আগ্রহী তারা খুব উত্সাহী হয়ে ওঠে। কেউ-কেউ বলে থাকে যে তারা সবকিছু বোঝে। ধীরে-ধীরে তাদের মুখ খুলতে (জ্ঞান প্রদান করার জন্য) যুক্তি রচনা করতে হবে।

কেউ-কেউ মনে করে বেদ-শাস্ত্র অধ্যয়ন করলে, যজ্ঞ, তপ ইত্যাদি করলে, তীর্থযাত্রা ইত্যাদি করলে পরমাত্মাকে পাওয়া যায় । কিন্তু ভগবান বলেন, এসব রীতি হলো আমার থেকে দূরে সরে যাওয়ার পথ। ড্রামাতে সবাইকেই দুর্গতি ভোগ করতে হবে সুতরাং এসবই করার বলে থাকে। প্রথমে আমরাও বলতাম যে ঈশ্বর শীর্ষে বিরাজ করেন এবং যে কোনো পথে যে কেউ-ই তাঁর কাছে পৌঁছে যেতে পারে। সুতরাং মানুষ অনেক রকম পথ বেছে নিয়েছে। ভক্তি মার্গের পথে চলতে চলতে যখন মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখনও ভগবানকে আহ্বান করে বলে থাকে হে পতিত-পাবন, তুমি এসে পবিত্র হওয়ার পথ বলে দাও। তুমি ছাড়া পবিত্র হতে পারব না, ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। ভক্তি প্রতিদিনই সম্পূর্ণ রূপে ক্লান্ত করে তুলবে। এখন তো মেলা ইত্যাদিতে কত লক্ষ-লক্ষ মানুষ একত্রিত হয়,সেই জায়গা কত নোংরা হয়ে যায়। এখন অন্তিম সময়। দুনিয়াকে পরিবর্তন হতেই হবে। প্রকৃতপক্ষে দুনিয়া (বিশ্ব) তো একটাই, ওরা দুটো অংশে ভাগ করেছে, সুতরাং মানুষ মনে করেছে স্বর্গ এবং নরক দুটো পৃথক দুনিয়া। কিন্তু এটা অর্ধেক-অর্ধেক। উপরে সত্যযুগ, তারপর ত্রেতা, দ্বাপর এবং কলিযুগ। কলিযুগে তমোপ্রধান হতেই হবে। সৃষ্টি পুরানো হয়ে যায়, এসব বিষয়ে কেউ-ই জানে না। বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। কেউ কৃষ্ণকে ভগবান, তো কেউ রামকে ভগবান বলছে। আজকাল তো মানুষ নিজেকেও ভগবান বলে থাকে। বলে আমি ঈশ্বরের অবতার। দেবতাদের থেকেও মানুষ নিজেকে উচ্চ করে তুলেছে। দেবতাদের তো দেবতাই বলা হবে। ভক্তি মার্গে তো মানুষকেই ভগবান বলে থাকে। দেবতারা তো স্বর্গবাসী, কলিযুগের লৌহযুগে মানুষ কিভাবে ভগবান হতে পারে ? বাবা বলেন ‐ আমি আসি সঙ্গম যুগে, যখন আমাকে এসে এই দুনিয়াকে ট্রান্সফার করতে হয়। কলিযুগ থেকে সত্যযুগ হবে। অবশিষ্ট যারা থাকবে তারা শান্তিধামে চলে যাবে। ওটা হলো নিরাকার দুনিয়া, এটা সাকার দুনিয়া। নিরাকার বৃক্ষকে ব্যাখ্যা করার জন্য বড় করে তৈরি করতে হবে। ব্রহ্ম মহতত্ব ততটাই বিশাল ,যত বিশাল আকাশ। এই দুইয়ের অন্ত পাওয়া যাবে না। যদিও চেষ্টা করে থাকে এরোপ্লেন ইত্যাদি নিয়ে যাবে কিন্তু এর অন্ত (শেষ) পাবে না। সমুদ্রের মত অন্তহীন শুধুই আকাশ ছাড়া আর কিছুই নেই সেখানে। যদিও অনেক চেষ্টা করে কিন্তু এসব করে লাভ কিছুই হয়না। তারা মনে করে যে ওরা ওদের বুদ্ধি প্রয়োগ করছে । মানুষের বুদ্ধি এরকমই, সায়েন্সের জন্যও তাদের ভীষণ অহং-বোধ রয়েছে। যে যতই আবিষ্কার করুক না কেন দুনিয়া তাদের পূজা করবে না। পূজা হয় দেব-দেবীদের । বাচ্চারা, বাবা তোমাদের কত উচ্চ করে তোলেন। সবাইকে শান্তিধামে নিয়ে যান। যদিও সবাই জানে আমরা মূলবতন থেকে আসি, কিন্তু যেভাবে তোমরা বুঝেছ সেভাবে দুনিয়ার কেউ জানেনা। ওটা কি, কিভাবে আত্মারা ওখানে থাকে, তারপর নম্বরানুসারে আসে। এসব কেউ-ই জানে না। ব্রহ্ম মহাতত্ব হলো নিরাকার। এটাও কারো জানা নেই যে, সত্যযুগে অল্প সংখ্যক মানুষ থাকে, বাকি সবাই আত্মারা মূলবতনে থাকে । যেমন এটা সাকার দুনিয়া তেমন ওটা নিরাকার দুনিয়া। দুনিয়া কখনও শূন্য (খালি) হয়না। না এই দুনিয়া, না ওই নিরাকার দুনিয়া। যখন শেষ হয় (পরিবর্তন) আত্মা স্থানান্তরিত হয়। কিছু এই সাকার দুনিয়াতে থাকবে। যদি সম্পূর্ণ দুনিয়া খালি হয়ে যায় তবে প্রলয় হয়ে যাবে। প্রলয় হয় না কারণ অবিনাশী খন্ড। এইসব বিষয় বুদ্ধিতে রাখতে হবে। সারাদিন এই ভাবনাই চলা উচিত যে কার কল্যাণ করব। যখন তোমাদের ভালোবাসা একজনের সাথেই জুড়ে আছে, তখন তাঁর পরিচয় তো দেবে, তাইনা। উনি হলেন শিববাবা, যাঁর কাছ থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রাপ্তি হয়। কিভাবে পাওয়া যায় তোমাদের বলতে পারি। যারা বোঝাতে পারে তাদের মধ্যেও নম্বরানুসারে আছে। কেউ-কেউ খুব ভালো বক্তৃতা দিতে পারে, অন্যরা পারেনা। সুতরাং তাদের শিখে নিতে হবে। প্রত্যেক বাচ্চাকে নিজের কল্যাণ করতে হবে। যখন পথ পাওয়া গেছে অন্যদেরও কল্যাণ করতে হবে। মনে হবে অন্যদেরও বাবার উত্তরাধিকার পাইয়ে দিতে। আত্মিক সহযোগী হতে হবে। প্রত্যেকে একে অপরের সেবা করে চলেছে ।

বাবা এসে আত্মিক সেবা করতে শেখান আর কেউ-ই তা জানেনা। আত্মিক পিতাই আত্মার সেবা করেন। দেহভাবের সেবা তো জন্ম-জন্মান্তর ধরে অনেক করেছ , এখন এই অন্তিম জন্মে আত্মিক সেবা করতে হবে, যা বাবা শিখিয়েছেন। এতেই কল্যাণ আছে আর অন্য কিছুতেই নেই। ঘর পরিবারেও থাকতে হবে, এবং সব দায়িত্ব পালন করতে হবে। এটা পরিবারের সবাইকে বুঝিয়ে তাদের কল্যাণ করতে হবে। যদি তারা তোমকে ভালোবাসে তবে কিছু শুনবে। কেউ-কেউ ভয় পায় এই ভেবে যে তাদেরকেও সবকিছু ত্যাগ করে সন্ত্রাসী হয়ে যেতে হবে। আজকাল তো প্রচুর সন্ন্যাসী। গেরুয়া বসন পরে দুটো কথা শোনালো আর কোথাও না কোথাও থেকে খাবার জুটে যায় । কোনো দোকানে গিয়ে দাঁড়ালে দুটো পুরি দিয়ে দেয়। তারপর আবার অন্য জায়গায় চলে যায়, এভাবেই তাদের পেট পূজা (আহার) হয়ে যায়। অনেক রকমের ভিক্ষুক আছে। এই বাবার কাছ থেকে তোমরা বিশ্বের সীমাহীন বাদশাহী পেয়ে থাকো এবং রোগ থেকে মুক্ত থাকো। ধনবান ব্যক্তিরা এটাকে এতটা গ্রহণ করেনা। দরিদ্রদের কল্যাণ করা উচিত। গ্রামের সংখ্যা অধিক বলে বাবা অনেক প্রদর্শনী বানাচ্ছেন সেখানে । যখন সরকারী মন্ত্রী ইত্যাদিরা বুঝতে পারবে যে এই ঈশ্বরীয় জ্ঞান কত উচ্চ মার্গের, তখন সবাই শুনতে আসবে। অগ্রগতির সাথে-সাথে তোমাদের নামও গৌরবান্বিত হবে এবং তখন অনেকেই আসবে। জং ( আত্মার মধ্যে জমে থাকা ময়লা) সরাতে সময় লাগে। যদি কেউ দিন-রাত চেষ্টা (পুরুষার্থ) করে তবে হয়ত জং কাটবে। আত্মা পবিত্র হলে শরীর ত্যাগ করবে। এসবই হল বোঝার বিষয়। প্রদর্শনী করেও বোঝাতে হবে। সবকিছুই ভারতের জন্য প্রযোজ্য। ভারতের উত্থান হওয়া অর্থাত্ সবার উত্থান। প্রজেক্টরের চেয়ে প্রদর্শনীর মাধ্যমে আরও ভালো করে সেবা করা যায়। ধীরে-ধীরে বৃদ্ধি পেতে থাকবে। দিনে দিনে তোমাদের নাম প্রসিদ্ধ হয়ে উঠবে। লেখা উচিত ৫ হাজার বছর আগেও এমনটাই হয়েছিল। বড়ই চমকপ্রদ বিষয়। বাবা ইশারা করেন । বাচ্চারা অনেক বিষয় ভুলে যায়। যা কিছুই হোক না কেন বলবে ৫ হাজার বছর আগেও এমন হয়েছিল। বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার, কিন্তু যখন এটা বুদ্ধিতে বসবে। সংবাদপত্রেও প্রচার করতে পারলে কিছু তো বুঝবে। জ্ঞান মার্গের জন্য ফার্স্টক্লাস স্থিতির প্রয়োজন। এমনই সব বিষয় স্মরণ করে প্রফুল্ল থাকা উচিত। অভ্যাস করতে-করতে তোমাদের অবস্থাও অতীব আনন্দময় হয়ে উঠবে । আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মিক পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) সবকিছু থেকে বুদ্ধিকে বিছিন্ন করে এক বাবার সাথে ভালোবাসা জুড়তে হবে আর সবার ভালোবাসাকেও এক বাবার সাথে যুক্ত করার সেবা করতে হবে।

২ ) প্রকৃত আত্মিক সহযোগী হতে হবে, নিজের কল্যাণ করতে হবে আর অন্যদেরও পথ বলে দিতে হবে। স্থিতি অতীব আনন্দময় হওয়া চাই ।

বরদান:-
এক বাবার স্মৃতির দ্বারা প্রকৃত সোহাগ অনুভবকারী ভাগ্যবান আত্মা ভব

যে, কোনো আত্মার কথা শুনেও শোনে না , অন্য কোনও আত্মার স্মৃতি সঙ্কল্পে এবং স্বপ্নেও আনেনা অর্থাত্ কোনও দেহধারীর অধীন নয়, এক বাবা ছাড়া দ্বিতীয় কেউ নয় - এই স্মৃতিতে থাকে, সে-ই অবিনাশী সোহাগ তিলকের অধিকারী হয়ে যায়। এমনই প্রকৃত সোহাগ অনুভবকারীই ভাগ্যবান।

স্লোগান:-
নিজের শ্রেষ্ঠ স্থিতি তৈরি করতে হলে অন্তর্মুখী হয়ে তারপর বহির্মুখীতে যাও ।