01.09.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - প্রাণেশ্বর বাবা এসেছেন প্রাণ বাঁচানোর জন্য, তোমাদের মতো বাচ্চাদেরকে তিনি জ্ঞানের মিষ্টি মুরলী শুনিয়ে প্রাণ বাঁচাচ্ছেন

প্রশ্নঃ -
কোন বিষয়ে কেবল ভাগ্যবান বাচ্চারাই নিশ্চিত হয় ?

উত্তরঃ -
এখন আমাদের ভাগ্য শ্রেষ্ঠ বানানোর জন্য স্বয়ং বাবা এসেছেন। বাবার কাছ থেকে আমরা ভক্তির ফল পাচ্ছি। যে ডানা মায়া কেটে দিয়েছিল, সেই ডানা আবার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এবং নিজের সঙ্গে ঘরে ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য বাবা এসেছেন। কেবল ভাগ্যবান বাচ্চারাই এই বিষয়ে নিশ্চিত হয়।

গীতঃ-
কে এসেছে আজি প্রভাতে

ওম্ শান্তি ।
কে এসে প্রতিদিন সকালে মুরলী শোনান ? দুনিয়ার মানুষ তো গভীর অন্ধকারে ডুবে আছে। তোমরা এখন জ্ঞানের সাগর, পতিন-পাবন বাবার কাছ থেকে মুরলী শুনছ। তিনি ঈশ্বর, প্রাণ বাঁচান। মানুষ বলে - ঈশ্বর, এই দুঃখ থেকে মুক্ত করো। ওরা সীমিত সাহায্য প্রার্থনা করে। এখন তোমরা বাচ্চারা সীমাহীন সাহায্য পাচ্ছ। কারন তিনি সীমাহীন জগতের পিতা। তোমরা জানো যে আত্মা গুপ্ত এবং বাবাও গুপ্ত। যেমন বাচ্চাদের শরীরটা দেখতে পাওয়া যায়, সেইরকম বাবার শরীরও দেখতে পাওয়া যায়। আত্মা যেমন গুপ্ত, বাবাও সেইরকম গুপ্ত। তোমরা জানো যে বাবা এসেছেন অসীম জগতের উত্তরাধিকার দিতে। তিনি শ্রীমৎ দিচ্ছেন। সকল শাস্ত্রের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো গীতা। গীতা খুব সুপ্রসিদ্ধ। কিন্তু তাতে নাম পাল্টে দেওয়া হয়েছে। এখন তোমরা জানো যে এই শ্রীমৎ আসলে ভগবানুবাচ। এটাও তোমরা জেনেছ যে কেবল ভগবানই দুর্নীতিগ্রস্থ মানুষকে নীতিপরায়ন বানাতে পারেন। তিনিই নর থেকে নারায়ন বানিয়ে দেন। বলা হয় - সত্য নারায়নের কথা। অমর পুরীর মালিক হওয়ার জন্য বা নর থেকে নারায়ন হওয়ার জন্য অমর কথার উল্লেখ আছে। সেই একই বিষয়। এটা মৃত্যুপুরী। কিন্তু কেউই জানে না যে এই ভারতই অমরপুরী ছিল। এখানেও অমর বাবা এসে ভারতবাসীদেরকেই শোনান। একজন পার্বতী কিংবা একজন দ্রৌপদীর কথা নয়। এখানে অনেক বাচ্চা শুনছে। শিববাবা ব্রহ্মাবাবার দ্বারা শোনান। বাবা বলছেন - ব্রহ্মার দ্বারা আমি মিষ্টি মিষ্টি আত্মাদেরকে বোঝাই। বাবা বুঝিয়েছেন, বাচ্চাদেরকে অবশ্যই আত্ম-অভিমানী হতে হবে যা কেবল বাবা বানাতে পারেন। দুনিয়ায় তো একজন মানুষের মধ্যেও আত্মার জ্ঞান নেই। আত্মার জ্ঞান না থাকলে পরমপিতা পরমাত্মার জ্ঞান কিভাবে থাকবে। ওরা তো বলে দেয় আত্মা-ই পরমাত্মা। কত বড় ভুলের মধ্যে সমগ্র দুনিয়া আচ্ছন্ন আছে। এখন মানুষের বুদ্ধি কোনো কাজের নয়। নিজেকে বিনাশ করার জন্যই প্রস্তুত হচ্ছে। বাচ্চারা, তোমাদের কাছে এটা নতুন কিছু নয়। তোমরা জানো যে ওদের ড্রামাতে এইরকম ভূমিকা আছে। ড্রামার বন্ধনে আবদ্ধ। আজকাল দুনিয়ায় অনেক ঝামেলা। বিনাশের সময়ে তোমাদের মতো বাচ্চাদের বুদ্ধিতে প্রীত রয়েছে। যাদের বুদ্ধিতে বাবার প্রতি প্রীত নেই, তাদের বিনাশের গায়ন আছে। এখন এই দুনিয়াকে পরিবর্তন করতে হবে। তোমরা জানো যে বরাবর এইরকম মহাভারতের যুদ্ধ হয়েছিল, বাবা রাজযোগ শিখিয়েছিলেন। শাস্ত্রগুলোতে টোটাল (সমগ্র জগতের) বিনাশের উল্লেখ আছে। কিন্তু টোটাল বিনাশ তো হবে না। তাহলে তো প্রলয় হয়ে যাবে। কোনো মানুষ থাকবে না, কেবল পাঁচ তত্ত্ব থাকবে, এইরকম কখনোই হবে না। প্রলয় হয়ে গেলে মানুষ আসবে কোথা থেকে ? দেখানো হয়, কৃষ্ণ অশ্বত্থ পাতায় চেপে আঙ্গুল চুষে চুষে সাগর থেকে ভেসে ভেসে এসেছে। কিন্তু এভাবে কোনো বালক কিভাবে আসবে ? শাস্ত্রে এমন সব কাহিনী লিখে দিয়েছে যে বলা কথা নয়। এখন তোমাদের মতো কুমারীদের দ্বারা এইসব ভীষ্ম পিতামহের মতো বিদ্বান ব্যক্তিরাও তীরবিদ্ধ হবে। ভবিষ্যতে ওরাও আসবে। তোমরা যত বেশি সেবাতে জোর দেবে, সবাইকে বাবার পরিচয় দেবে, তত তোমাদের প্রভাব বাড়বে। কথিত আছে, এই যজ্ঞে অসুর সম্প্রদায়ের দ্বারা অনেক বিঘ্ন আসবে। তোমরা কাউকে শেখাতে পারবে না। বাবা-ই জ্ঞান যোগ শেখাচ্ছেন। কেবল বাবা হলেন সদগতি দাতা। তিনিই পতিতদের পবিত্র করে দেন। তাহলে নিশ্চয়ই পতিতদেরকেই জ্ঞান দেবেন। বাবাকে কি কখনো সর্বব্যাপী বলে মানা যায় ? তোমরা বাচ্চারা বুঝেছ যে আমাদের বুদ্ধি পরশের মতো হয়ে যায়, তাই আমরাই পারশনাথ হই। মানুষ কত ঢের মন্দির বানিয়েছে। কিন্তু তারা কে ছিলেন, কি কাজ করেছিলেন, সেইসব জানে না। পারশনাথের মন্দিরও আছে। ভারত পারশপুরী ছিল। সোনা, হীরে, মানিকের মহল ছিল। গতকালের কথা। ওরা তো কেবল সত্যযুগের আয়ুকেই লক্ষ বছর বলে দেয়। আর বাবা বলেন, গোটা ড্রামাটা ৫০০০ বছরের। তাই বলা হয় - কাল ভারত কেমন ছিল আর আজকে কেমন হয়ে গেছে। লক্ষ বছরের হলে তো কারোর স্মৃতিতে কিছুই থাকত না। তোমরা বাচ্চারা এখন স্মৃতি পেয়েছ। জেনেছ যে এটা ৫০০০ বছরের কথা। বাবা বলেন, যোগ করতে বসো। নিজেকে আত্মা রূপে অনুভব করে বাবাকে সময় স্মরণ করো। এটা তো জ্ঞান, তাই না ? ওরা হঠযোগী। পায়ের ওপর পা তুলে বসে। কত কিছুই করে। তোমরা মাতারা এইরকম করতে পারবে না। এইরকম ভাবে বসতেও পারবে না। ভক্তিমার্গের অনেক চিত্ৰ রয়েছে। বাবা বলেন, মিষ্টি বাচ্চারা তোমাদের এমন কিছু করার দরকার নেই। স্কুলে স্টুডেন্টরা সুশৃঙ্খল ভাবে বসে। বাবা তো এত কিছু করতে বলেন না, যেভাবে ইচ্ছে হয় বসো। বসে বসে যদি ক্লান্ত হয়ে যাও তাহলে শুয়ে পড়ো। বাবা কোনো কিছুতে মানা করেন না। এই বিষয়টা তো খুব সহজেই বোঝা যায়, এর মধ্যে কোনো কষ্টকর ব্যাপার নেই। যতই অসুস্থ হও, এমনও হতে পারে শুনতে শুনতে, শিববাবার স্মরণে থাকতে থাকতে শরীর থেকে আত্মা বেরিয়ে গেল। কথিত আছে - মুখে গঙ্গাজল নিয়ে দেহত্যাগ করা অনেক ভাগ্যের ব্যাপার...। ওইসব হল ভক্তিমার্গের কথা। প্রকৃতপক্ষে এর অর্থ জ্ঞান অমৃত। তোমরা জানো যে, সত্যিই এইভাবে আত্মা শরীর ত্যাগ করবে। তোমরা বাচ্চারা যখন এখানে আসো, তখন আমাকে ছেড়ে চলে আসো। বাবা বলেন, আমি তোমাদেরকে সঙ্গে করে নিয়ে যাব। আমি এসেছি তোমাদেরকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তোমরা নিজেদের ঘরকেও জানো না, এমনকি আত্মকেও জানো না। মায়া তোমাদের ডানাকে পুরোপুরি কেটে দিয়েছে। এইজন্য তমোপ্রধান হওয়ার কারণে আত্মারা উড়ে যেতে পারবে না। সতোপ্রধান না হলে শান্তিধামে ফিরে যাবে কিভাবে ? এটাও জানো যে - ড্রামার প্ল্যান অনুসারে সবাইকে তমোপ্রধান হতে হবে। এই সময়ে সমগ্র ঝাড় জর্জরিত হয়ে গেছে। এখানে কারও অবস্থা এখন সতোপ্রধান নেই। আত্মা পবিত্র হয়ে গেলে আর এখানে থাকবে না, এখান থেকে একেবারে চলে যাবে। সবাই ভক্তি করে মুক্তি পাওয়ার জন্য। কিন্তু কেউ ফিরে যেতে পারে না। এইরকম নিয়ম নেই। বাবা এই সব রহস্য বসে থেকে বোঝান - ধারণ করার জন্য। তবুও মুখ্য বিষয় হল বাবাকে স্মরণ করা এবং স্বদর্শন চক্রধারী হওয়া। বীজকে স্মরণ করলে সম্পূর্ণ ঝাড় বুদ্ধিতে এসে যাবে। তোমরা এক সেকেন্ডে সবকিছু জেনে যাও। এইসব বিষয় দুনিয়াতে কেউ জানে না - কেবল বাবা হলেন সমগ্ৰ মনুষ্য সৃষ্টির বীজ। কৃষ্ণ ভগবান নয়। কৃষ্ণকেই শ্যাম-সুন্দর বলা হয়। এমন নয় যে, কোনো বিষাক্ত সাপ কামড়ানোর ফলে কালো হয়ে গেছে ! কাম চিতায় বসার ফলে মানুষ কালো হয়ে যায়। এমনকি রামকেও কালো দেখায়, তাহলে তাকে কে কামড়েছে ? কিছুই বোঝে না। যাইহোক, যাদের ভাগ্যে আছে এবং নিশ্চয় আছে তারা অবশ্যই বাবার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করবে। নিশ্চয় না হলে কখনই বুঝতে পারবে না। ভাগ্যে না থাকলে প্রচেষ্টা করে কি হবে! যখন তাদের ভাগ্যে থাকে না তারা এমনভাবে বসে থাকে যে, কিছুই বুঝতে পারে না। এতটুকু নিশ্চয় নেই যে, বাবা এসেছেন অসীম জগতের উত্তরাধিকার দেওয়ার জন্য। যেমন নতুন কেউ মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে বসলে কি বুঝবে ! কিছুই বুঝতে পারবে না। এখানেও এভাবে এসে বসে। এই অবিনাশী জ্ঞান কখনও বিনাশ হয় না। তাহলে তারা এসে কি করবে ? রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। তাই দাস-দাসী, প্রজা, প্রজাদেরও দাস-দাসী সবকিছু প্রয়োজন। সময়ের সাথে সাথে আরও কিছু পড়ার চেষ্টা করবে কিন্তু তখন পড়াশুনা করা খুব কঠিন হয়ে যাবে কারণ সেই সময় অনেক উথালপাথাল হবে। দিনে-দিনে ঝড় বাড়তে থাকে। এত সেন্টার আছে, কেউ কেউ আসবে আর খুব ভালভাবে বুঝতে পারবে। এটাও লেখা রয়েছে - ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপন হয়। বিনাশও সামনে রয়েছে। বিনাশ তো হবেই। তারা বলে যে, কম শিশু জন্ম হওয়া উচিত। কিন্তু বৃক্ষের বৃদ্ধি তো অবশ্যই হবে। যতক্ষণ বাবা এখানে আছেন, ততক্ষণ প্রত্যেক ধর্মের আত্মাদের এখানে আসতেই হবে। যখন ফিরে যাওয়ার সময় হবে তখন আর কোনো আত্মা ওপর থেকে আসবে না। এখন তো সবাইকে আসতেই হবে, কিন্তু এই বিষয়গুলি কেউ বুঝতে পারে না। তারা বলেও যে, ভক্তদের রক্ষক হলেন ভগবান। সুতরাং, ভক্তদের ওপর নিশ্চয়ই দুর্যোগ আসে। রাবণরাজ্যে সবাই সম্পূর্ণ পাপ আত্মা হয়ে গেছে। কলিযুগের অন্তিমে রাবণরাজ্য এবং সত্যযুগের শুরুতে রামরাজ্য। এই সময়ে তো সবাই আসুরিক রাবণ সম্প্রদায়। ওরা বলে, অমুক ব্যক্তি স্বর্গবাসী হয়েছে। তাহলে এই দুনিয়া তো অবশ্যই নরক, তাই না! যদি স্বর্গবাসী হয় তাহলে খুব ভাল! তাহলে এখানে কি ছিল ? অবশ্যই নরকবাসী ছিল। এটাও বুঝতে পারে না যে তারা এখন নরকবাসী। এখন তোমরা বুঝতে পারো যে, একমাত্র বাবা এসে স্বর্গবাসী করে তোলেন। গায়নও আছে হেভেনলি গড ফাদার। তিনিই এসে স্বর্গের স্থাপন করেন। তারা গাইতে থাকে পতিত-পাবন সীতারাম; আমরা পতিত, আপনিই আমাদের পবিত্র করেন। এরা সবাই ভক্তিমার্গের সীতা। বাবা হলেন রাম। কাউকে সরাসরি বললে বিশ্বাস করে না। তারা রামকে আহ্বান করে। বাচ্চারা, এখন বাবা তোমাদেরকে তৃতীয় নেত্র দিয়েছেন। এমন মনে হয় যেন তোমরা অন্য দুনিয়ার বাসিন্দা হয়ে গেছ।

বাবা বোঝান, সবাইকে অবশ্যই তমোপ্রধান হতে হবে তাহলেই তো বাবা এসে সতোপ্রধান বানাবেন। বাবা খুব সুন্দর ভাবে বসে থেকে বোঝান। বাবা বলেন, যদিও তোমরা বাচ্চারা নিজেদেরই সার্ভিস করো কেবল একটা কথা মনে রেখো - বাবাকে স্মরণ করো। অন্য কেউ সতোপ্রধান হওয়ার উপায় বলতে পারবে না। সকলের রুহানী সার্জেন কেবল একজন। তিনিই এসে আত্মাদের ইনজেকশন দেন কারণ আত্মারা তমোপ্রধান হয়ে গেছে। বাবাকে অবিনাশী সার্জেন বলা হয়। আত্মা অবিনাশী এবং পরামাত্মা বাবাও অবিনাশী। এখন আত্মারা সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হয়ে গেছে, তাই তাদের ইনজেকশন দরকার। বাবা বলেন, বাচ্চারা নিজেকে আত্মারূপে অনুভব করো এবং নিজের বাবাকে স্মরণ করো। বুদ্ধির যোগ ওপরে যুক্ত করো তাহলে সুইট হোমে চলে যাবে। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে, এখন আমাদের নিজেদের সুইট সাইলেন্স হোমে যেতে হবে। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) জ্ঞান এবং যোগের দ্বারা বুদ্ধিকে স্বচ্ছ বানাতে হবে। যতই অসুস্থ থাকো কিংবা যতই কষ্ট হোক, সকল পরিস্থিতিতেই কেবল বাবাকে স্মরণ করবে।

২ ) নিজের শ্রেষ্ঠ ভাগ্য বানানোর জন্য সম্পূর্ণ নিশ্চয়বুদ্ধি হতে হবে। বুদ্ধির যোগ নিজের সুইট সাইলেন্স হোমের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

বরদান:-
সর্বদা কম্বাইন্ড স্বরূপের স্মৃতির দ্বারা জটিল কাজকে সহজ বানিয়ে ডবল লাইট ভব

যে সন্তান নিরন্তর স্মরণ করে, সে সর্বদা বাবার সঙ্গ অনুভব করে। তার সামনে যেকোনো সমস্যা এলেই সে নিজেকে কম্বাইন্ড অনুভব করবে, ঘাবড়ে যাবে না। এই কম্বাইন্ড স্বরূপের স্মৃতি যেকোনো জটিল কাজকে সহজ বানিয়ে দেয়। কখনো কোনো বড় বাধার সম্মুখীন হলে, নিজের সকল বোঝা বাবার ওপর রেখে নিজে ডবল লাইট হয়ে যাও। তাহলেই ফরিস্তার মতো দিন-রাত খুশিতে মন থেকে নৃত্য করবে।

স্লোগান:-
যিনি যেকোনো কারণকে সমাপ্ত করে সর্বদা সন্তুষ্ট থাকেন এবং সন্তুষ্ট করেন, তিনিই সন্তুষ্টমণি।


মাতেশ্বরীজীর অমূল্য মহাবাক্য - জ্ঞান এবং যোগের পার্থক্য

দুটো কথা আছে - জ্ঞান আর যোগ। পরমাত্মাকে স্মরণ করাকে যোগ বলা হয়। অন্য কাউকে স্মরণ করলে তাকে যোগ বলা যাবে না। গুরুরা যেসব যোগ শেখায়, তারাও পরমাত্মার দিকেই যোগ লাগায়। কিন্তু তাদের কাছে পরমাত্মার সম্পূর্ণ পরিচয় না থাকার জন্য যোগের সম্পূর্ণ সফলতা প্রাপ্তি হয় না। যোগ এবং জ্ঞান - দুটোই শক্তি। এই দুই পুরুষার্থের দ্বারা শক্তি পাওয়া যায় এবং আমরা বিকর্মকে পরাজিত করে শ্রেষ্ঠ জীবন তৈরি করি। যোগ কথাটা অনেকেই ব্যবহার করে কিন্তু যার সঙ্গে যোগ লাগানো হয়, আগে তার পরিচয় জানা প্রয়োজন। এখন আমরা পরমাত্মার কাছ থেকেই পরমাত্মার পরিচয় পাচ্ছি। সেই পরিচয়কে জেনে যোগ লাগালে সম্পূর্ণ সাফল্য পাওয়া যায়। যোগের দ্বারা আমরা অতীতের বিকর্মের বোঝা ভস্মীভূত করি আর জ্ঞানের দ্বারা আমরা জানতে পারি যে ভবিষ্যতে আমাদেরকে কেমন কর্ম করতে হবে এবং কেন ? জীবনের ভিত্তি হলো সংস্কার। আত্মাও অনাদি সংস্কার দিয়েই তৈরি। কিন্তু কর্ম অনুসারে সেই সংস্কার পরিবর্তিত হয়। যোগ এবং জ্ঞানের দ্বারা আত্মার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব আসে আর জীবনে শক্তি আসে। কিন্তু এই দুটো জিনিসই পরমাত্মার কাছ থেকেই পাওয়া যায়। কর্ম বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার রাস্তাও আমরা পরমাত্মার কাছ থেকেই জানতে পারি। বিকর্মের দ্বারা আমরা যেসব কর্ম বন্ধন বানিয়েছি সেগুলো থেকে মুক্তি পাওয়া, এবং ভবিষ্যতে আমাদের কর্মগুলো বিকর্ম না হওয়া - এই দুই শক্তি পরমাত্মা ছাড়া অন্য কেউ দিতে পারে না। যোগ এবং জ্ঞান - এই দুটোই পরমাত্মাই নিয়ে আসেন। যোগের অগ্নির দ্বারা অতীতে করে থাকা বিকর্মকে ভস্মীভূত করান এবং জ্ঞানের দ্বারা ভবিষ্যতের জন্য শ্রেষ্ঠ কর্ম শেখান যার দ্বারা কর্মগুলো অকর্ম হয়ে যায়। এইজন্যই পরমাত্মা বলেছেন - কর্ম, অকর্ম এবং বিকর্মের গতি খুব গভীর। এখন তো আমাদের আত্মাদের সরাসরি পরমাত্মার শক্তি প্রয়োজন। শাস্ত্র থেকে এই যোগ এবং জ্ঞানের শক্তি পাওয়া যাবে না। সেই সর্বশক্তিমানের কাছ থেকেই শক্তি পাওয়া যাবে। এখন আমাদের জীবনের ভিত্তি (সংস্কার) এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে জীবনে সুখ পাওয়া যায়। সুতরাং, পরমাত্মা এসে আমাদের জীবনে শুদ্ধ সংস্কারের বীজ বপন করেন, যে শুদ্ধ সংস্কারের ভিত্তিতে আমরা অর্ধেক কল্প মুক্ত জীবন পাব। আচ্ছা - ওম্ শান্তি।