01-12-2019 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 15-03-85 মধুবন


পরিশ্রম থেকে মুক্ত হওয়ার সহজ সাধন - নিরাকার স্বরূপের বিধি
 


বাচ্চাদের স্নেহের জন্য বাপদাদা নৈঃশব্দের ঊর্ধ্বে নির্বাণ অবস্থা থেকে বাণীতে অর্থাৎ শব্দের দুনিয়ায় আসেন l কিসের জন্য ? বাচ্চাদের নিজসম নির্বাণ স্থিতির অনুভব করানোর জন্য l তোমাদের নির্বাণে, সুইট হোমে নিয়ে যাওয়ার জন্য l নির্বাণ স্থিতি নির্বিকল্প হওয়ার স্থিতি l নির্বাণ স্থিতি তথা নিরাকার থেকে তোমরা সাকার রূপধারী হয়ে শব্দে আসো l সাকারে এসেও নিরাকার স্বরূপের স্মৃতি, স্মরণে থাকে আমি নিরাকার, সাকার আধার দ্বারা বলছি l সাকারে থেকেও যখন তোমাদের নিরাকার স্থিতির স্মৃতি থাকে, তাকে বলে নিরাকার থেকে সাকার মাধ্যমে শব্দে এবং কর্মে আসা l *প্রকৃত স্বরূপ নিরাকার, সাকার রূপ হলো আধার l* নিরাকার তথা সাকারের এই ডবল স্মৃতি শক্তিশালী স্থিতি l সাকারের আধার নিয়ে নিরাকার স্বরূপ ভুলো না l ভুলে যাওয়ার কারণেই স্মরণ করা পরিশ্রমসাধ্য হয় l যেমন লৌকিক জীবনে নিজের শারীরিক স্বরূপ নিজে থেকেই সদা স্মরণে থাকে যে আমি অমুক এই সময় এই কার্য করছি, কার্যের পরিবর্তন হয় কিন্তু 'আমি অমুক' - এর কোনও পরিবর্তন হয় না আর না তোমরা তা' ভুলে যাও l একইভাবে, 'আমি নিরাকার আত্মা', প্রকৃত এই স্বরূপ যে কোনও কার্য করাকালীন নিজে থেকেই সদা স্মরণে থাকা উচিত l একবার যখন তোমাদের এই স্মৃতি এসে গেছে, পরিচয়ও পেয়ে গেছ, 'তুমি নিরাকার আত্মা - পরিচয় অর্থাৎ নলেজ - তখন নলেজের শক্তি দ্বারা স্বরূপ জেনে নিয়েছ, জানার পর কীভাবে এটা ভুলতে পার ? যেমন নলেজের শক্তি দ্বারা শরীরের অস্তিত্ব ভোলার চেষ্টা করলেও ভুলতে পার না, তাহলে, এই আত্মিক স্বরূপ কীভাবে ভুলে যাবে ! অতএব, নিজেই নিজেকে জিজ্ঞাসা কর আর অভ্যাস কর l চলতে-ফিরতে, কাজ করতে করতে চেক কর, নিরাকার আমি, সাকারের আধারে এই কার্য করছি ! তখন তোমাদের স্বতঃই নির্বিকল্প স্থিতি, নিরাকার স্থিতি, নির্বিঘ্ন স্থিতি থাকবে ; পরিশ্রম থেকে তোমরা রেহাই পাবে l তোমাদের তখনই পরিশ্রম মনে হয় যখন বারবার এটা ভুলে যাও l তারপর এটাই স্মরণ করতে তোমাদের পরিশ্রম করতে হয় l কিন্তু কেনই বা ভুলে যাও ? ভুলে যাওয়া কি উচিত ? বাপদাদা জিজ্ঞাসা করেন, তোমরা কে ? সাকার নাকি নিরাকার ? তোমরা নিরাকার, তাই না ! নিরাকার হয়েও ভুলে কেন যাও ! প্রকৃত স্বরূপ ভুলে যাও আর আধার মনে থাকে ! নিজের প্রতিই নিজের হাসি আসে না, এটা কি করছি ! এখন হাসি আসছে, তাই না ? আসল জিনিস ভুলে যাও আর নকল মনে থাকে ? বাপদাদাও কখনো কখনো বাচ্চাদের জন্য বিস্মিত হন l নিজেকে নিজে ভুলে যায় আর তারপরে কি করে ! নিজেকে নিজে ভুলে বিভ্রান্ত হয় l বাবাকে যেমন স্নেহের সাথে আহ্বান ক'রে নিরাকার থেকে সাকারে

নিয়ে আসতে পার, তো যাঁর প্রতি স্নেহ তাঁর মতো নিরাকার স্থিতিতে স্থিত হতে পার না ! বাপদাদা বাচ্চাদের পরিশ্রম দেখতে পারেন না ! মাস্টার সর্বশক্তিমান আর পরিশ্রম ! মাস্টার সর্বশক্তিমান তোমরা সর্বশক্তির মালিক l যে শক্তিকে যে কোনও সময় শুভ সঙ্কল্প দ্বারা আহ্বান করলে সেই শক্তি তোমরা সব মাস্টারের সামনে উপস্থিত হয়ে যাবে l এমন মালিক, সর্বশক্তি যার সেবাধারী, সে পরিশ্রম করবে নাকি শুভ সঙ্কল্পের দ্বারা তাদের অর্ডার করবে ! কি করবে সে ! রাজা হবে নাকি প্রজা ! সাধারণতঃ যে বাচ্চা উপযুক্ত, তাকে কি বলা হয় ? রাজা বাচ্চা বলে, তাই না ! তাহলে তোমরা কে ? তোমরা রাজা বাচ্চা নাকি অধীন ? তোমরা অধিকারী আত্মা, তাই না ! সুতরাং, এই শক্তি, এই গুণ এই সকলই তোমাদের সেবাধারী, আহ্বান কর আর সামনে উপস্থিত l যে দুর্বল, তার শক্তিশালী অস্ত্র থাকা সত্ত্বেও দুর্বলতার কারণে পরাহত হয় l তোমরা দুর্বল কি ? তোমরা বাহাদুর বাচ্চা, তাই না ! সর্বশক্তিমানের বাচ্চারা যদি দুর্বল হও, তো লোকে কি বলবে ! ভালো লাগবে ? অতএব, আহ্বান করা, অর্ডার করা শেখো l কিন্তু সেবাধারী কার অর্ডার মানবে ? যে মালিক হবে l মালিক স্বয়ংই সেবাধারী হয়ে গেছে, পরিশ্রম যে করে সে তো সেবাধারীই হলো, নয় কি ! মনের এই কঠিন শ্রম থেকে তোমরা নিস্তার পেয়েছ ! যজ্ঞ সেবার্থে তোমরা যে শারীরিক পরিশ্রম করছ তা' আলাদা বিষয় l সেটাও পরিশ্রম মনে হবে না যজ্ঞ সেবার মহত্ত্ব জানলে l যখন সম্পর্কিত আত্মারা (নতুন ভাই-বোনেরা ) মধুবনে আসে এবং দেখে এত বিপুলসংখ্যক আত্মার ভোজন তৈরি হচ্ছে আবার সেই একই সময়ে সব কাজও চলছে, তারা আশ্চর্য হয় এই ভেবে যে কীভাবে তোমরা এই এত হার্ডওয়ার্ক কর ! তারা বড়ই আশ্চর্যান্বিত হয় কতবড় কর্মকাণ্ড কীভাবে হয়ে চলেছে ! যতই হোক, যারা করছে তারা এতবড় কর্মকাণ্ডকে কি মনে করে ? সেবার মহত্ত্বের কারণে এইসবই খেলা মনে হয়, পরিশ্রম লাগে না l তোমরা এই মহত্ত্বকে জানো ব'লে এবং বাবাকে ভালোবাসার কারণে পরিশ্রমের রূপ পরিবর্তিত হয়ে যায় l এইভাবে মনের শ্রম থেকে নিস্তার পাওয়ার সময় এখন এসে গেছে l দ্বাপর থেকে অনুসন্ধানে, মরিয়া হয়ে ওঠায় এবং চিৎকার করে আহ্বান করতে মনের পরিশ্রম করে আসছ l মনের শ্রম হেতু ধন উপার্জনের পরিশ্রমও বেড়ে গেছে l আজ যে কোনও কাউকে যদি জিজ্ঞাসা কর তো কি বলে ? ধন উপার্জন মাসীর বাড়ী যাওয়ার মতো সহজ নয় ! মনের শ্রমের সাথে তোমরা ধন উপার্জনের শ্রমও বাড়িয়ে দিয়েছ আর তন তো অসুস্থই হয়ে গেছে, সেইজন্য তনের কার্যেও পরিশ্রম, মনেরও পরিশ্রম, ধনের জন্যও পরিশ্রম l শুধু এটাই নয়, বরং পরিবারে আজ ভালোবাসার দায়িত্ব পালনেও পরিশ্রম l কখনো একজনের অভিমান তো কখনো আরেকজনের আর তারপরে তোমরা তাকে তোষামোদ করে রাজী করানোর পরিশ্রমে লেগে থাক l আজ তোমার, কাল তা' তোমার হবে না, তদ্বিপরীত হবে l সুতরাং, সবরকম পরিশ্রম করে তোমরা ক্লান্ত হয়ে গেছ, তাই না ! তন, মন, ধন, সম্বন্ধে সবকিছুতে তোমরা ক্লান্ত হয়ে গেছ l

বাপদাদা প্রথমে মনের শ্রম সমাপ্ত করে দেন, কারণ বীজ হলো মন l মনের পরিশ্রম দেহের, ধনের পরিশ্রম অনুভব করায় l যখন মন ঠিক থাকে না তখন যে কোনও কার্যের ক্ষেত্রেই বলবে 'আজ এই কাজ করতে অপারগ l' অসুস্থ হবে না, তবুও ভাববে, আমার ১০৩ ডিগ্রি জ্বর হয়েছে l তাইতো মনের পরিশ্রম তনের পরিশ্রম অনুভব করায় l ধনের ক্ষেত্রেও একই হয় l মন সামান্য খারাপ হলে, তোমরা বলবে, অনেক কাজ করতে হয় ! রোজগার করা খুব কঠিন l বায়ুমন্ডল খারাপ l আর যখন মন খুশি হবে, তখন বলবে কোনো বড় সমস্যাই নয় l কাজ সেই একই হবে, কিন্তু মানসিক শ্রম ধনেরও পরিশ্রম অনুভব করায় l মনের দুর্বলতা বায়ুমন্ডলে দুর্বলতা নিয়ে আসে l বাপদাদা বাচ্চাদের মানসিক পরিশ্রম দেখতে পারেন না l ৬৩ জন্ম তোমরা পরিশ্রম করেছ, এখন এই এক জন্ম আনন্দের জন্ম, ভালোবাসার জন্ম, প্রাপ্তির জন্ম, বরদানের জন্ম l সহায়তা নেওয়ার, সহায়তা প্রাপ্ত হওয়ার জন্ম l তবুও এই জন্মে পরিশ্রম কেন ? অতএব, এখন পরিশ্রমকে ভালোবাসায় পরিবর্তন কর l এর মহত্ত্ব জেনে এই শ্রমের অবসান ঘটাও l

আজ বাপদাদা নিজেদের মধ্যে অনেক চিটচ্যাট করছিলেন, বাচ্চাদের কঠিন শ্রমের ব্যাপারে l বাপদাদা স্মিতহাসি হাসছিলেন, বাচ্চাদের মানসিক শ্রমের কারণ কোন্ গুলি আর তার ফল স্বরূপ তারা কি করে ! তারা ট্যারা বাঁকা সব বাচ্চা রচনা করে, যাদের কখনো মুখ থাকে না, কখনো পা থাকে না, কখনো বা হাত l এমন সব ব্যর্থের বংশাবলী সংরচন করতে থাকে আর যখন সেই রচনা রচিত হয়ে যায়, তখন কি করে ? তাদের প্রতিপালন করতে তখন তো কঠিন শ্রম করতেই হবে l এইরকম রচনা সংরচন করার কারণে অধিকতর কঠিন পরিশ্রম করতে হয় আর স্বভাবতই ক্লান্ত হয়ে পড়ে, হতাশার শিকার হয়ে যায় l খুব কঠিন মনে হয় l এটা খুব ভালো, কিন্তু বড় কঠিন l ছাড়তেও চায় না আর উড়তেও চায় না l তাহলে কি করতে হবে ! তোমাদের চলতে হবে, চলতে তো পরিশ্রম অবশ্যই হবে, সেইজন্য দুর্বল রচনা বন্ধ করো, তবেই মানসিক শ্রম থেকে নিস্তার পাবে l তারপরে আমোদজনক ব্যাপারে কি বলে ? বাবা বলেন, এমন রচনা তোমরা কেন রচেছ ! আজকালকার লোকে যেমন বলে তেমনই তারা তখন বলে, 'কি করব ! ঈশ্বর দেন ! সমস্ত দোষ ঈশ্বরের ওপরে ! এইরকম ব্যর্থ রচনা সম্বন্ধে কি বলে ? আমি এটা চাইনি কিন্তু মায়া এসে যায় ! এটা আমার চাওয়া নয়, কিন্তু ঘটে যায় l সেইজন্য সর্বশক্তিমান বাবার বাচ্চারা ! মালিক হও l রাজা হও l দুর্বল অর্থাৎ অধীন প্রজা l মালিক অর্থাৎ শক্তিশালী রাজা l সুতরাং মালিক হয়ে আহ্বান কর l স্ব-স্থিতির শ্রেষ্ঠ সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হও l সিংহাসনে বসে শক্তিরূপী সেবাধারীদের আহ্বান কর l অর্ডার দাও l এমন সম্ভবই নয় যে তোমাদের সেবাধারী তোমাদের অর্ডার অনুযায়ী চলবে না l তখন বলবে না যে 'আমি কি করব ? সহন শক্তি না থাকার কারণে আমাকে পরিশ্রম করতে হয় l অন্তর্লীন করার শক্তির অভাব ছিল, সেইজন্য এইরকম হয়েছে l' তোমাদের সেবাধারী সময়মতো প্রয়োজনে যদি না আসে তো তারা কেমন সেবাধারী হলো ! কার্য সম্পূৰ্ণ হয়ে যাবে আর তারপরে সেবাধারী আসবে তবে কি হবে ! যার নিজের কাছে সময়ের গুরুত্ব আছে তার সেবাধারীও সময়ের মহত্ত্বকে জেনে উপস্থিত হবে l যদি কোনও শক্তি বা গুণ সময়মতো ইমার্জ না হয় তাহলে এর থেকে এটাই প্রমাণ হয়, মালিকের সময়ের কোনও গুরুত্ব নেই l সুতরাং, কি করা উচিত তোমাদের ? সিংহাসনে অধিষ্ঠান করা ভালো নাকি পরিশ্রম করা ভালো ? এখন এতে সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই l পরিশ্রম করা তোমাদের ভালো লাগে নাকি মালিক হতে ? কি ভালো লাগে ? তোমাদের বলা হয়েছিল, এর জন্য শুধু এই এক অভ্যাস সদা করতে থাক- 'আমি নিরাকার সাকারের আধারে এই কার্য করছি l' করানোর মালিক (করাবনহার) হয়ে কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা করাও l নিজের নিরাকার বাস্তবিক স্বরূপকে তোমাদের স্মৃতিতে রাখ, তবে বাস্তবিক স্বরূপের গুণ শক্তি নিজে থেকেই ইমার্জ হবে l যেমন তোমাদের স্বরূপ তেমন সেই রূপের গুণ আর সমস্ত শক্তি নিজে থেকেই কর্ম শুরু করে l যেমন, কন্যা যখন মা হয়ে যায়, তখন মাতৃস্বরূপে সেবা ভাব, ত্যাগ, স্নেহ, অক্লান্ত সেবা নিজে থেকেই ইমার্জ হয়, তাই না ! সুতরাং তোমাদের অনাদি অবিনাশী স্বরূপ স্মরণে থাকায় স্বতঃই এই গুণ আর শক্তি ইমার্জ হবে l স্বরূপ স্মৃতি আর স্থিতি নিজে থেকেই তৈরি করে l বুঝেছ, কি করতে হবে তোমাদের ! পরিশ্রম শব্দটাই জীবন থেকে সমাপ্ত করে দাও l তোমাদের পরিশ্রম করতে হয় বলেই কোনকিছু কঠিন লাগে l পরিশ্রমের সমাপ্তি, তো কঠিন শব্দ নিজে থেকেই সমাপ্ত হয়ে যাবে l আচ্ছা !

যারা সদা কঠিনকে সহজ করে, পরিশ্রমকে ভালোবাসায় পরিবর্তন করে, সদা স্ব-স্বরূপের স্থিতি দ্বারা শ্রেষ্ঠ শক্তি এবং গুণ অনুভব করে, সদা বাবার স্নেহের রেসপন্স দেয়, বাবা সমান হয়, সদা শ্রেষ্ঠ স্মৃতির শ্রেষ্ঠ আসনে স্থিত থাকে এবং মালিক হয়ে সেবাধারীদের দ্বারা কার্য করায়, এইরকম রাজা বাচ্চাদের, মালিক বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর নমস্কার l

পার্সোনাল সাক্ষাৎকার - (বিদেশি ভাই-বোনেদের সাথে)
সেবা বাবার সাহচর্য স্মরণ করায় l সেবাতে যাওয়া অর্থাৎ সদা বাবার সাথে থাকা l চাও তো সাকার রূপে থাক, অথবা আকার রূপে, বাবা সদা সেবাধারী বাচ্চাদের সাথেই আছেন l করানোর মালিক

করাচ্ছেন, যিনি চালানোর তিনি চালাচ্ছেন আর নিজে কি কর ? তোমরা নিমিত্ত হয়ে খেলা খেলছ l এইরকম তোমরা অনুভব করেছ, তাই না ? এমন সেবাধারী সফলতার অধিকারী হয়ে যায় l সফলতা জন্মসিদ্ধ অধিকার, সফলতা সদা পুণ্যাত্মা হওয়ার অনুভব করায় l যারা মহান পুণ্য আত্মা তারা অনেক আত্মার আশীর্বাদের লিফ্ট লাভ করে l আচ্ছা -

এখন তো সেই দিনও আসবে, যখন সবার মুখে মুখে *'এক আছেন, কেবল একই আছেন* - এই গীত বের হবে l শুধুমাত্র এখন ড্রামার এই পার্টই বাকি থেকে গেছে l এটা হওয়ার সাথে সাথেই সমাপ্তি হয়ে যাবে l তোমরা জানো যে এই পার্ট এখন কাছে নিয়ে আসতে হবে l এইজন্য অনুভব করানোই আকর্ষণের বিশেষ সাধন l অবিরত জ্ঞান শোনাও আর অনুভব করাও l তারা শুধু জ্ঞান শুনে সন্তুষ্ট হয় না, সুতরাং তারা জ্ঞান শ্রবণকালে, তাদের অনুভবও করাও l তাহলে জ্ঞানেরও মহত্ত্ব বুঝতে পারবে আর তাদের প্রাপ্তির কারণে তারা উৎসাহ বোধ করবে l লোকের ভাষণ তো শুধু নলেজফুল l তোমাদের ভাষণ শুধু নলেজফুল হতে দিয়ো না, বরং তা' অনুভবের অথরিটি হতে দাও l আর অনুভবের অথরিটির সাথে বলার কালে অবিরত তাদের অনুভব করাও l উদাহরণস্বরূপ, যারা ভালো স্পিকার তারা যখন বলে, তারা মানুষকে কাঁদাতেও পারে, হাসাতেও পারে l শান্তির মধ্যে, সাইলেন্সেও তারা নিয়ে যেতে সক্ষম l যে বিষয়ে তারা বলবে, হলের বায়ুমন্ডল ঠিক সেইরকমই বানিয়ে দেয় l সেটা শুধুই টেম্পোরারি l তারা যখন এটা করতে পারে, তো তোমরা মাস্টার সর্বশক্তিমান কেন পারবে না ! যখন কেউ বলে 'শান্তি' তখন শান্তির বাতাবরণ হোক, যখন কেউ বলে, 'আনন্দ', তখন আনন্দের বাতাবরণ হোক l যে ভাষণ এইরকম অনুভূতি করায়, তা' প্রত্যক্ষতার ধ্বজা ওড়াবে l কিছু তো বিশেষত্ব তারা দেখবে, নয় কি ! আচ্ছা - সময় নিজে থেকেই শক্তি দিয়ে তোমাদের ভরিয়ে দিচ্ছে l আগে থেকেই এটা সম্পন্ন হয়ে আছে, তোমাদের শুধু রিপিট করতে হবে l আচ্ছা l

বিদায়কালে দাদী জানকীজীর সাথে সাক্ষাৎকার
এই সমস্ত দেখে তুমি প্রসন্নতা লাভ করেছ l সবচেয়ে বেশি প্রসন্নতা অনন্য বাচ্চাদের, তাই না ! যারা খুশির সাগর-তরঙ্গে তরঙ্গিত হতে থাকে l সুখের সাগরে, সর্বপ্রাপ্তির সাগরে তরঙ্গিত হতেই থাকে, তারা অন্যদেরও সেই সাগর-তরঙ্গে তরঙ্গিত করে l সারাদিন তুমি কি কাজ কর ? যদি কেউ সাগরে অবগাহন করতে না জানে তখন তারা কি করে ? তারা তার হাত ধরে অবগাহন করায়, তাই না ! এই কাজই করো, সুখের তরঙ্গে, খুশির তরঙ্গে এগিয়ে চলো .. . . এইরকমই করতে থাক, নয় কি ! বিজি থাকার ভালো কার্য পেয়ে গেছ l কতটা বিজি থাক ? ফুরসৎ আছে ? তুমি সর্বদাই এর সাথে বিজি আছ, অন্যেরাও তোমাকে দেখে ফলো করে l শুধু স্মরণ আর সেবা ব্যতীত অন্য কিছু প্রতীয়মান হয় না l অটোম্যাটিক্যালি, তোমার বুদ্ধি স্মরণ আর সেবাতেই যায় অন্য কোথাও যেতে পারে না l তোমার বুদ্ধিকে চালনা করতে হয় না, নিজে থেকেই ক্রিয়া করতেই থাকে l একে বলে, যে শিখেছে সেই শেখাচ্ছে l তুমি ভালো কাজ দিয়ে দিয়েছ, তাই না ! বাবা তোমাকে পারদর্শী বানিয়ে গেছেন, নয় কি ? তোমাকে অলস তো বানিয়ে যাননি ! কুশলী বানিয়ে, নিবেশিত করে গেছেন অর্থাৎ তুমি সুশৃঙ্খলভাবে রচিত হয়েছ, তাই না ! সদা তাঁর সাহচর্য তো আছেই, কিন্তু তোমাকে নিমিত্ত তো বানিয়েছেন, না ! সুনিপুণ বানিয়ে আসন দিয়েছেন l এখান থেকেই সীট দেওয়ার রীতি শুরু হয় l বাবা তোমাকে সেবার সিংহাসন আর সেবার সীট দিয়ে অগ্রসর হয়েছেন, এখন সাক্ষী হয়ে দেখছেন, বাচ্চারা কীভাবে সর্বাগ্রে এগিয়ে চলেছে l সহায়কের সহায়ও তিনি, সাক্ষীর সাক্ষীও l উভয় পার্ট অর্থাৎ দুইয়েরই ভূমিকা পালন করছেন l সাকার রূপে তাঁকে সাক্ষী বলা হবে আর অব্যক্ত রূপে সাথী l উভয় ভূমিকাই (পার্ট ) পালন করছেন l আচ্ছা !

বরদান:-
প্রতিটি শ্বাসে স্মরণ আর সেবার ব্যালেন্স দ্বারা ব্লেসিংস প্রাপ্ত করে সদা প্রসন্নচিত্ত ভব

ঠিক যেভাবে তোমরা অ্যাটেনশন রাখো যাতে তোমাদের স্মরণের লিঙ্ক জুড়ে থাকে, সেইভাবে যেন সেবার লিঙ্কও জুড়ে থাকে l প্রতি শ্বাসে স্মরণ আর প্রতি শ্বাসে সেবা হল, তাকেই বলে ব্যালেন্স, এই ব্যালেন্সের সাথে তোমরা সদা ব্লেসিংয়ের অনুভব করতে থাকবে এবং এই আওয়াজ হৃদয় থেকে বেরোবে, 'আশীর্বাদের সাথে আমরা প্রতিপালিত হচ্ছি l' পরিশ্রম থেকে, যুদ্ধ থেকে নিস্তার পাবে l কি, কেন, কীভাবে -এইসব প্রশ্ন থেকে মুক্ত হয়ে সদা প্রসন্নচিত্ত থাকবে l তারপরে সফলতা জন্মসিদ্ধ অধিকার রূপে অনুভূত হবে l

স্লোগান:-
বাবার থেকে পুরস্কার নিতে হলে নিজের এবং সাথীদের নির্বিঘ্ন হওয়ার সার্টিফিকেট তোমার সাথে থাকতে হবে l