02-01-2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - এই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে, পুরুষোত্তম হওয়ার লক্ষ্যে পূর্ণোদ্যমে পুরুষার্থ করো। যতটা সম্ভব স্মরণের-যোগ আর জ্ঞানের-পাঠের প্রতি মনোনিবেশ করো"

প্রশ্ন:-
বাচ্চারা, তোমরা খুব বড় পেশায় নিযুক্ত। অতএব সর্বদাই কোন্ বিষয়ের উপর লক্ষ্য রেখে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত তোমাদের ?

উত্তর:-
সর্বদা প্রকৃত লাভ-লোকসানের চিন্তা-ভাবনাই করবে তোমরা। যদি এই সব বিষয়ের উপর তেমন ধারায় চিন্তা না করা যায়, তবে আগামীতে প্রজা বা দাস-দাসী হতে হবে। ২১-জন্মের রাজ্য-ভাগ্যের জন্য বাবা যে অবিনাশী আশীর্বাদী-বর্সা দেন, তা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে। অবএব বাবার সাথে পুরোপুরি লেন-দেন করে সম্পূর্ণরূপেই তা পেতে হবে। বাবা যে মহান দাতা। তাই বাচ্চারা, তোমরা সুদামার মতন এক মুষ্ঠি চালের বিনিময়ে সমগ্র বিশ্বের রাজ্য-ভাগ্য পেয়ে যাও অনায়াসেই ।

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারাই সব বসে আছে এই ঈশ্বরীয় বিদ্যালয়ে। এটা কোনও সৎসঙ্গের আশ্রম নয়। সামনে কোনও মহন্ত, ব্রাহ্মণ বা কোনও সন্ন্যাসীও বসে নেই এখানে। তাই এখানে এমন কোনও ভয়ের ব্যাপার নেই যে, স্বামীজী বিরূপ হয়ে যাবে। ভক্তি-মার্গের আচার-আচরণে, যখন কোনও সাধু-সন্ন্যাসীকে ঘরে আমন্ত্রণ করা হয়, উনি এলে ওনার চরণ ধুয়ে সেই জল পান করার রেওয়াজ আছে। কিন্তু এখানে ইনি তো তোমাদের বাবা। ঘরে কি আর বাচ্চারা তাদের বাবাকে ভয় পায় কখনও? বাচ্চারা তো বাবার সাথেই খাওয়া-দাওয়া, হাসি-খেলা এসবই করে থাকে ঘরে। কিন্তু সন্ন্যাসী বা গুরু-গোঁসাইদের সাথে কি আর তেমনটা কেউ করে? তখন তারা দিনভর কেবল গুরু-জী, গুরু-জী করতে থাকে। এখানে তোমাদের সেসব কিছুই করতে হয় না। এসব করাও যে পাপ। গুরু বা টিচারের কাছ থেকে তো কেবল আশীর্বাদী-বর্সাই পাওয়া যায়। কিন্তু বাবার থেকে ওয়ারিশনের অধিকারের আশীর্বাদী-বর্সা পাওয়া যায়। অর্থাৎ বাবার সেই সম্পত্তি পায় বাচ্চারা। বাচ্চা জন্মাবার সাথে সাথেই ওয়ারিশনের অধিকারী হয়। এখানেও তেমনি - যেমনি তুমি বাবার একান্ত আপন বাচ্চা হলে, বাবাকে তা জানালে, অমনি তোমরা স্বর্গ-রাজ্যের ওয়ারিশানের অধিকারী হয়ে গেলে। যেহেতু এই বাবা-ই যে সেই স্বর্গ-রাজ্যের রচয়িতা। একথা কেউ-ই জানে না যে, লক্ষ্মী-নারায়ণ সেই স্বর্গ-রাজ্যের রাজত্ব কোত্থেকে এবং কিভাবে তা পেয়েছিল। একমাত্র তোমরা বি.কে.-রাই তা জানো। পূর্বেও তোমরাই তা ছিলে, এবং আবারও তা হতে চলেছো। লোকেরা শিব মন্দিরে ঘটি-ঘটি জল ঢালে শিবলিঙ্গের উপরে। তারা ভেবেও দেখে না যে, প্রকৃত অর্থে এই শিবলিঙ্গ কি বা কে, আর কেনই বা তার পূজো করা হয়। প্রকৃত অর্থ কিছুই জানে না তারা। কিন্তু তোমাদের মধ্যে এখন সে বোধ আছে যে, তোমরা এই মৃত্যুলোকে শরীর ত্যাগ করে অমরলোকেই যাবে। জ্ঞান-মার্গের প্রাপ্তি ব্যাপক। সেই হিসাবে ভক্তি-মার্গে তেমন কিছুই নেই। ব্রহ্মাবাবাও তাই বলেন, ওঁনার তো ১২-জন গুরুর নিকট-সান্দিগ্ধে থাকার অভিজ্ঞতা আছে। আর তা যে কেবল সময়ের অপচয় ছিল, পরে তা উপলব্ধি করেছেন উনি। শুধু তাই নয়, উপরন্তু এতে ওঁনার অবনতিই হয়েছে অনেক। যদিও তা হয়েছে অবিনাশী এই ড্রামার চিত্রপট অনুসারেই। কারও সাথে শত্রুতা নেইবতোমাদের। একমাত্র বাবার সাথেই তোমাদের যাবতীয় প্রেম-ভালবাসা। ক্লাসে এসে এখানকার এই চিত্রগুলি দেখে মনেতে খুব খুশী আসা উচিত তোমাদের, যেহেতু এই বিশেষ জ্ঞানের পাঠ পড়ে তোমরাও এমনই হতে চলেছো। তোমরা এখন জেনেছো, কিভাবে সত্যযুগের রাজধানী স্থাপনার কাজ চলছে। বাবা বাচ্চাদের ভরসা দিয়ে বলছেন-বাচ্চারা, নিরাশ হয়ো না কখনো। এতই সুন্দর রূপে বাচ্চাদেরকে বোঝান বাবা, অনেকেই তা খুব আশ্চর্যের সাথে শুনন্তী, কথন্তী আবার ভাগন্তী-ও হয়ে যায় কেউ কেউ। যেহেতু তারা মায়ার কবলে পড়ে সেই অনুসারে চলতে বিবশ হয়ে যায়। তাদেরকেই বলা হয় 'ট্রেটর' বা বিশ্বাসঘাতক। যে একের রাজধানী ছেড়ে অন্যের রাজধানীতে গিয়ে তার অধীনে ঠাঁই নেয়।

বাচ্চারা, এখানে বাবা তোমাদের কত সুন্দর ভাবে পুরুষার্থ করান। আর ভক্তি-মার্গের লোকেরা কতই না এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকে। কত দান-পুণ্য, তীর্থ, ব্রত, ধর্মানুষ্ঠান ইত্যাদি করতেই থাকে। আচ্ছা, যদিও বা কারও কোনও সাক্ষাৎকারও হয়, তবে তাতেই বা কি এসে গেলো। তাতে তার গুণ ও শক্তির কলা তো বৃদ্ধি পায় না, বরঞ্চ আরও আরও কম হতে থাকে। কিন্তু তোমাদের পুরুষার্থে দিন-প্রতিদিন তা কেবল বাড়তেই থাকে। আর ভক্তি-মার্গে গুণ ও শক্তির কলা কেবল কমতেই থাকে। গুরু-গোঁসাইরাও তা বলে থাকে, জ্ঞান হলো ব্রহ্মার দিন আর ভক্তি ব্রহ্মার রাত। অতএব জ্ঞান আর ভক্তি, রাত-দিনের তফাৎ। জ্ঞানের মাধ্যমে সুখের প্রাপ্তি। বাবা কত সহজ পদ্ধতিতে যুক্তি দিয়ে তা বুঝিয়ে বলেন- তোমরা বি.কে.-রা একদা সমগ্র বিশ্বের মালিক ছিলে, পরে তোমাদের অধঃপতন হতে হতে এখানে আসার পূর্বে যা একেবারে তলানিতে এসে পৌঁছেছিলো। তাই বাবা জানাচ্ছেন- নিজেদেরকে কেবল আত্মা মনে করবে। আত্মা হলো অবিনাশী। আত্মাই কিন্তু বলে-"ওগো অবিনাশী বাবা, তুমি এসে আমাদের পবিত্র বানাও, যাতে মুক্তি ও জীবনমুক্তি সবকিছুই হয় আমাদের। এখন এই জ্ঞান পেয়ে তোমরা নিজেরাও তা বুঝতে পারছো, এতদিন ভক্তি-মার্গে থেকেও কোনো সঠিক তথ্যই জানতে পারনি তোমরা৷ কেবল সন্ধানেই ছিলে। তাই তো মহিমা-কীর্তন করতে- -"দয়া করো ভগবান!" কেবলমাত্র ভগবান বললেই তা কিন্তু তেমন সুন্দর শোনায় না, তেমনি আবার ওয়ারিশনের আশীর্বাদী-বর্সার কথাও চট্ করে মনে আসে না। কিন্তু সেক্ষেত্রে যদি বলা হয়, উচ্চতমেরও উচ্চে, যিনি শিববাবা--তা বললে মুহূর্তেই আশীর্বাদী-বর্সার কথা স্মরণে চলে আসবে। তোমরা তো জানো, বর্তমান দুনিয়াতে এখন রাবণ-রাজ্য চলছে। রাম-রাজ্য হয় সত্যযুগে। এখন তো কলিযুগ। সত্যযুগে লোকসংখ্যাও থাকে অনেক কম। তখন কেবল একটাই আদি সনাতন ধর্ম থাকে। যেখানে অপার সুখ ও শান্তি। আর সেই শান্তির জন্য মানুষেরা এদিক-ওদিক, চারদিকে কেবল ভ্রমিত-ই হচ্ছে। কত অনেক খরচও করে চলেছো শান্তির জন্য, কত প্রকারের কনফারেন্স ইত্যাদি ইত্যাদির জন্য। তাদের উদ্দেশ্যে তোমরা লিখে জানাতে পারো, একমাত্র এই শিববাবাই শান্তির সাগর, পবিত্রতার সাগর, সর্ব-প্রকার সম্পত্তিরও সাগর এই বাবা। যার যা কিছু প্রয়োজন, সবকিছুই পাওয়া যায় ওঁনার থেকেই।

বাচ্চারা, তোমরা এখন জানতে পারছো, সত্যযুগে তোমরা সরকিছুতেই খুব ধনবান ছিলে। সেই বিশ্ব ছিল শান্তির বিশ্ব। কিন্তু আত্মাদের প্রকৃত শান্তি তো হয়, নিজ ঘর- পরমধামে। এই বিশ্বে যখন কেবল তোমরাই ছিলে, তখন সুখ-শান্তি সবকিছুই ছিল। কত সুখেই না ছিলে তোমরা। স্বর্গ-রাজ্য এতই মনোরম! শাস্ত্রেও এর কত সুন্দর সুন্দর বর্ণন আছে। বাবা বলছেন- বাচ্চারা, আমি তোমাদের এত সুন্দর করে সবকিছু বুঝিয়ে বলি, এরপর তোমাদের মনে আর কোনও প্রশ্ন করার প্রয়োজনই পড়ে না। মূল কথা হলো, 'মামেকম্ স্মরণ করো।'- অবিরত আমাকেই স্মরণ করতে থাকো। তোমরাই তো আমাকে ডাকতে থাকো, বাবা এসো, এসে আমাদেরকে পবিত্র বানাও। এই পুরোনো পতিত দুনিয়াকে আবার নতুন করে গড়ে তোলো। যদিও এসবের যথার্থ কারণ বা মানে কিছুই জানো না তোমরা। ভক্তি-মার্গের লোকেরা চিত্রগুলিতে এমন সব প্যাঁচ লাগিয়ে রেখেছে, সেসবের গিঁট খুলে সমস্যাগুলিকে তো মেটাতেই হবে। যেমন কৃষ্ণের হাতে স্বদর্শণ-চক্র দিয়ে রেখেছে। আবার এও দেখাচ্ছে, ঐ চক্রের দ্বারা অকাসুর-বকাসুরকে মারা হয়। আরে, দেবতারা কি কখনও হিংসক হতে পারে ? কৃষ্ণের নামে আবার একথাও বলা হয়, সে একে-ওকে নিয়ে পালিয়ে গেছিলো। দেবতাদেরও লোকেরা ডবল-হিংসক বানিয়ে দিয়েছে। সত্যি কি আশ্চর্যের কথা! যেসব অজ্ঞানী শাস্ত্রকারেরা এইসব শাস্ত্রাদি লিখেছে, তাদের বিদঘুটে বুদ্ধির প্রশংসা না করে পারা যায় না। লোকেরা তো ব্যাসদেবকেও ভগবান মানে। তাই বাবা এখন বাচ্চাদের জানাচ্ছেন - তোমরা কেবল আমাকেই স্মরণ করতে থাকো আর দৈবী-গুণগুলিকে ধারণ করতে থাকো। আর অন্য কোনওদিকে লক্ষ্য দিও না। নিয়মিত যোগে বসানোর অভ্যাস তোমাদের করানো হয়, যেহেতু অনেকেই এমন আছে, বাবার বাচ্চা হওয়া সত্ত্বেও বাবাকে স্মরণ করে না তারা। তারা কেবল নিজ নিজ কাজকর্ম নিয়েই দিন অতিবাহিত করে। যোগে বসার সময়টুকুও পর্যন্ত নেই তাদের। কিন্তু, কাজ-কর্ম ইত্যাদি করার সাথে সাথেও মন ও বুদ্ধিতে স্মরণের যোগ তো করে যেতে হবে। মনে রাখতে হবে, তোমরা সবাই এই প্রেমিক বাবার প্রেমিকা সন্তান। তাই তোমাদের বলা হচ্ছে, অন্য সর্বপ্রকার সম্বন্ধগুলিকে ত্যাগ করে কেবলমাত্র এই এক বাবার সাথেই যোগযুক্ত হও। খাওয়া-দাওয়া বা যে কোনও ব্যাপারেই যুক্ত থাকো না কেন, কেবলমাত্র এই অভ্যাসে অভ্যাসী হতে হবে যে, আমি আত্মা আর সর্বক্ষণই আমার বাবা পরমাত্মার স্মরণে থাকতে হবে আমাকে। যে বাবা তোমাদের এত উন্নত করে গড়ে তোলেন, তবুও কেন তোমরা এত সাধারণ এই সামান্য কথাটুকুও মেনে চলো না, এই বাবাকে সেভাবে স্মরণ করো না। কিন্তু লৌকিক সন্তান-সন্ততিদেরকে মনে করতে তো ভুল হয় না, যত ভুল হয় কেবল এই বাবাকে স্মরণ করার বেলায়। বাস্তবে নিষ্ঠা শব্দটা বলাই ভুল। বাবা যিনি ডাইরেক্টর, তিনি স্বয়ং এসে তোমাদের বলছেন- বাচ্চারা, আমাকে স্মরণ করো। পূর্ব কল্পেও ঠিক এভাবেই বাচ্চাদের সামনে বসেই বাচ্চাদেরকে এসব বুঝিয়েছিলেন এই বাবা। ঠিক তেমনই এখন আবার বোঝাচ্ছেন - "ও আমার মিষ্টি-মিষ্টি আদরের বাচ্চারা, কল্প বাদে আবার আমরা এখন মিলিত হয়েছি, যখন তোমাদের ৮৪-জন্ম পুরো হয়েছে। এখন আপন ঘরে ফেরার পালা, অতএব এখন তো তোমাদের পবিত্র হতেই হবে। বিকারী হয়েই তোমরা পতিত হয়ে গেছো। পবিত্র হতে না পারলে ভাল পদের প্রাপ্তিও যে হবে না। তাই নিজেকে আত্মা ভেবে বাবাকে স্মরণ করো আর ৮৪-র জন্ম-চক্রকেও স্মরণ করো। এটাই স্ব-দর্শন চক্র। যার প্রকৃত অর্থ কেউ জানে না। মুখের দ্বারা জ্ঞানের শঙ্খ বাজাতে হবে তোমাদের। এটাই জ্ঞানের মূল কথা।" ইনিই তোমাদের অসীম-বেহদের বাবা। যিনি স্বর্গ-রাজ্যের রচয়িতা। অতএব এই বাবাকে স্মরণ করলে তোমরা উন্নতির শিখরে উঠতে থাকবে। কত সহজ এই পন্থা।

বাচ্চারা, তোমরা এখন বুঝতে পেরেছো যে, এই অবিনাশী নাটকের সবকিছুই অনেক পূর্ব থেকেই নির্দ্ধারিত হয়ে আছে। কল্পের এই সময়কালেই প্রতি ৫-হাজার বছর বাদে বাবা আসেন এখানে। অতএব তোমরা খুব মনোযোগ সহকারে পুরুষার্থ করতে থাকো। তাই কেনই বা এই বিনাশী ধন-সম্পদের পিছনে দৌড়ানো। মাসে এক বা দুই লাখ টাকাও যদি রোজগার করো, সে সবই তো একদিন বিনাশ হয়ে যাবে। এমন কি তোমার সন্তানদের ভোগেও তা আসবে না, যেহেতু তারাও তো আর থাকবে না তখন। যদিও আশা থাকে পুত্র, পৌত্র ও তারও পুত্র পৌত্ররা তা ভোগ করবে। আবার এমনও নয় যে পুনর্জন্মেও তারা সবাই আবার এই কুলেই জন্ম নেবে। পুনর্জন্মে তারা কে কোথায় জন্মাবে তাও কারও জানা নেই। যাই হোক্, তোমরা বি.কে.-রা তো ২১-জন্মের জন্য অবিনাশী আশীর্বাদী-বর্সা পেয়ে থাকো। কম পুরুষার্থ করলে প্রজা বা দাস-দাসী হয়ে জন্মাতে হবে, যা কত লোকসানের ব্যাপার। অতএব লাভ-লোকসানের ব্যাপারটা নিজেরাই বিচার করবে। ব্যবসায়ীরা যদিও অনেক পাপ করে, তবুও কিছু না কিছু দান-পুণ্যও অবশ্যই করে। আর এখানে তো অবিনাশী জ্ঞান-রত্নের এত বিশাল ব্যবসা। যা অতি বড় ব্যবসায়ীই তা করতে পারে। যে ব্যবসার লেন-দেন তোমাদের করতে হয় সরাসরি বাবার সাথে। বাবা স্বয়ং সেই জ্ঞান-রত্ন দেন। উনি যে মহান দাতা। বাচ্চাদের একমুষ্টি চালের পরিবর্তে বাবা তাদের দেন অসীম-বেহদের বিশাল রাজত্ব। তার তুলনায় তোমাদের উপহার তো একমুষ্টি চালের তুল্যই। তোমরা সবাই যে সুদামা। কি বা দাও আর কত কিছু পাও। বিশ্বের রাজত্ব পেয়ে বিশ্বের মালিকও হও। বুদ্ধির যোগে এও বুঝতে পারছো, সমগ্র বিশ্বে একমাত্র এই ভারতই অবিনাশী ভূ-খণ্ড। তখন প্রকৃতিও হবে নতুন, আত্মারাও হবে সতোপ্রধান। গত কল্পের সত্যযুগে তোমরা ছিলে একেবারে খাঁটি সোনার মতন। ত্রেতা অর্থাৎ রৌপ্যযুগে সেই সোনায় অর্থাৎ আত্মায় কিছু রূপার খাদ পড়ে। এইভাবে ধীরে ধীরে সিঁড়ির মতন সৃষ্টি-চক্র পতনের দিকে যেতে থাকে। কিন্তু বর্তমানে তোমরা বি.কে.-রা অনেক অনেক উঁচুতে। যা বিরাট রূপের চিত্রে বোঝানো আছে! লোকেরা সেসবের অর্থই বোঝে না। এমন কত চিত্রই তো আছে চতুর্দিকে। যেমন কেউ যীশুখ্রীষ্টের চিত্র রাখে, কেউ বা আবার সাঁই বাবার চিত্র রাখে। কেউ বা আবার মুসলমানকেই গুরু বানায়। অনেকে আবার মদ্যপানের জন্য মদের আসরের আড্ডায় যায়। তাই তো বাবা বলেন-"এ যে ঘোর অজ্ঞানের অন্ধকার। এসব অন্ধকার যা কেবল ভক্তি-মার্গেই।"

বাচ্চারা, সঙ্গ নির্বাচনে তোমাদের খুব সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। কথিত আছে- 'সৎসঙ্গে স্বর্গবাস, অসৎসঙ্গে সর্বনাশ।'- এই অসৎসঙ্গ অর্থাৎ কুসঙ্গ হলো মায়ার ৫-বিকার। কিন্তু এখন তো তোমরা সৎ-বাবার সৎসঙ্গ পেয়েছো, যিনি স্বয়ং তোমাদেরকে ভব-সাগর পার করিয়ে দিচ্ছেন। একমাত্র এই সৎ-বাবাই সত্য বচন বলেন। তোমরা বি.কে.-রা এতই ভাগ্যবান যে প্রতি কল্পেই এই সত্য বাবার সঙ্গ লাভ করো। তারপর অর্দ্ধকল্প পরে রাবণের কুসঙ্গের কবলে পড়তে হয় তোমাদের। তোমরা জানো, পূর্ব কল্পের মতন আবারও সত্যযুগে অবশ্যই নতুন রাজধানী স্থাপন হবে। তখন তোমরাই বিশ্বর মালিক হবে। দেশ ভাগের ফলে এখানে কত লড়াই-ঝগড়া হয়েছিল৷ কিন্তু সত্যযুগে নতুন দুনিয়ায়,তখন তো কেবলমাত্র একটা ধর্মই থাকবে। যে বিশ্বে থাকে শান্তি। কারণ তা হয় অদ্বৈত দেবতাদের রাজত্ব। যেখানে থাকে একটি মাত্র ধর্ম। তাই অশান্তি সেখানে আসবেই বা কোত্থেকে? তা যে ঈশ্বরীয় রাজ্য। আধ্যাত্মিক জ্ঞানের দ্বারা স্বয়ং পরমাত্মা যে রাজ্য স্থাপন করবেন, সেখানে তো অফুরন্ত সুখ বিরাজ করবেই। পরমাত্মা যে আত্মাদের পিতা, তাই বাচ্চাদের প্রতি পিতার অগাধ ভালবাসা তো থাকবেই। এবার বাবা জানাচ্ছেন- উনি তো সবই জানেন, ভক্তি-মার্গে থাকার সময় দোরে-দোরে ঘুরে বাচ্চাদের কতই না ধাক্কা খেতে হয়েছে। তেমনি লোকেরাও জানে, কোনও না কোনও রূপে বাবা অবশ্যই আসবেন। তাই চিত্রের মাধ্যমে কখনও দেখায় যে, বাবা ষাঁড়ের পিঠে বসে আছেন ..... । কিন্তু ষাঁড়ের পিঠে কি কেউ চড়ে? সত্যি কত অন্ধকার জগতে এরা। তাই বাচ্চারা, তোমরাই সবাইকে জানাও, বাবা এসেছেন সবাইকে অবিনাশী আশীর্বাদী-বর্সা দেবার জন্য। ব্রহ্মার দ্বারা নতুন দুনিয়া স্থাপনার কাজ শুরু হয়েছে। বটগাছের যে উদাহরণ বাবা প্রায়শঃই দিয়ে থাকেন। তেমনি এরও ভিত্তি প্রস্তর আবার স্থাপনার কাজ চলছে, তখন আর অন্য কোনও ধর্মই থাকবে না নতুন দুনিয়ায়। একমাত্র এই ভারতই সেই অবিনাশী ভূ-খণ্ড এবং অবিনাশী তীর্থভূমিও বটে। যেহেতু বাবার জন্মভূমি এই ভারতভূমি। বাবা ওঁনার মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চাদের কত স্নেহ-আদরে এমন সুন্দর করে সবকিছুই বোঝান। আবার টিচারের মতন করেও জ্ঞানের পাঠও পড়ান।

এবার বাবা বলছেন- "বাচ্চারা, ভাল করে পড়াশুনা করে তোমরা আমার থেকেও বেশী এগিয়ে যাও। আমি নিজে তো আর রাজ্য-ভাগ্য নেই না। তোমরা কি কখনও আমাকে স্বর্গ-রাজ্যে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছো? এমন কি কখনও বলেছো, বাবা এসো? বরঞ্চ আমিই তোমাদের সেখানে পাঠাই। সত্যি, কি মজার খেলা এটা।" এবার বাবা বলছেন- আচ্ছা বাচ্চারা দীর্ঘায়ু হও। আমি তো বাণপ্রস্থ অবস্থায় পৌঁছে সেখানেই গিয়ে থাকি। বাবা বাচ্চাদের জানাচ্ছেন - বাচ্চারা, অনেক প্রকারের দুর্যোগ-দুর্দশা এখন তোমাদের মাথার উপরে। তাই পুরুষোত্তম হবার লক্ষ্যে এই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগেই সম্পূর্ণ রূপে নিজেকে পুরুষার্থে নিয়োজিত কর। অবিরাম বাবাকে স্মরণ করার পুরুষার্থ করতে থাকো, তবেই বিকর্ম বিনাশ হবে। এছাড়া যে যত মনোযোগ সহকারে জ্ঞানের পাঠ পড়বে সে তত উচ্চ কুলে যেতে পারবে। তাই তো বাবা বলেন, "আপনী ঘোট তো নেশা চড়ে"- ( নিজে বিচার সাগর মন্থন যত করবে, ততই উদ্যম-উৎসাহ বাড়তে থাকবে।) মন ও বুদ্ধির যোগে মনন-চিন্তন যত করবে, ততই তার প্রতি আগ্রহও বাড়বে। বাচ্চারা তো সদা-সর্বদাই বাবার থেকে আশীর্বাদী-বর্সা পেতেই থাকে। লৌকিকে কেবল পুত্র-সন্তানেরাই উত্তরাধিকারের আশীর্বাদী-বর্সা পেয়ে থাকে। কন্যাদের বিয়ে দিয়ে দান করা হয়। কিন্তু এখানে তো পুত্র ও কন্যা সব আত্মাধারীদেরই উত্তরাধিকারের আশীর্বাদী-বর্সা দেওয়া হয়, তাও আবার অসীম বেহদের অমূল্য আশীর্বাদী-বর্সা। অতএব তোমাদের সকলকেই উত্তরাধিকারের এই আশীর্বাদের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হওয়া উচিত। যেখানে এখানকার এই পাঠ পড়াচ্ছেন স্বয়ং ভগবান! অতএব জ্ঞানের পাঠ যেন একদিনও বাদ না পড়ে। কেউ কেউ আবার বাবাকে বলে- "বাবা, আমি যে পড়ার জন্য একদমই সময় পাই না।" বাবা উত্তরে বলেন- ওঃ তাই, আমাকে একথা জানাতে তোমার লজ্জা এলো না ? *আচ্ছা !*

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ, ভালবাসা আর সুপ্রভাত। ঈশ্বরীয় পিতা নমন জানাচ্ছেন ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদের।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১ ) সঙ্গী নির্বাচনে নিজে খুব সতর্ক থাকবে। এক ও একমাত্র সত্য বাবার সঙ্গ করতে হবে। মায়ারূপী ৫-বিকারের সঙ্গ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে রাখতে হবে নিজেকে।

২ ) পঠন-পাঠনের প্রতি সম্পূর্ণ রূপে মনোযোগ দিতে হবে। এই খুশীতেই থাকো নিজে। নিজের বিশেষত্বগুলিকে স্মরণ করে নিজের আনন্দে থাকবে। একদিনও যেন এই জ্ঞানের পাঠ বাদ না পড়ে।
 

বরদান:-
বাবার কৃপায় শূলকেও কাঁটায় পরিণত করে সদা নিশ্চিন্ত আর ট্রাস্টি হও

পুরানো কর্মের হিসেবে তোমার প্রাপ্য শূল, কিন্তু বাবার কৃপাতে তা ক্ষুদ্র কাঁটায় পরিণত হয়। পরিস্থিতি তো আসবেই, যেহেতু সব কিছুরই হিসেব-নিকেশ তো মেটাতেই হবে। কিন্তু বাবার কৃপাতে সেই শূলও হয়ে যায় ক্ষুদ্র কাঁটা৷ বড় ঘটনাকে ছোট করে দেয়, যেহেতু বড় বাবা আছেন তোমার সাথে। এই নিশ্চয়তার আধারে সদা নিশ্চিন্ত থাকো আর এমন ট্রাস্টি হয়ে যাও যে, আমারটা তোমাকে দিয়ে বদল করে হাল্কা হয়ে যাও। তবেই সব বোঝা এক সেকেণ্ডেই সমাপ্ত হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
শুভ ভাবনার স্টক দ্বারা নেগেটিভকে পজিটিভে পরিবর্তন করো।

ব্রহ্মা বাবার সমান হওয়ার জন্য বিশেষ পুরুষার্থ :

অন্তর্মুখী স্থিতির দ্বারা প্রত্যেকের মনের গোপন কথা জেনে তাকে খুশী করবে। এর জন্য সাধারণ রূপে নিজের মধ্যে নিজেকে অসাধারণ স্থিতির অনুভব করো এবং অন্যকেও তা করাও। বহির্মুখিতায় আসার সময় অন্তর্মুখিতার স্থিতিকেও তার সাথে রাখো।