02.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হলে রাজঋষি, অসীম জগতের পিতা তোমাদের সম্পূর্ণ দুনিয়ার সন্ন্যাস শেখান, যার দ্বারা তোমরা রাজত্ব পদের অধিকারী হতে পারো"

প্রশ্নঃ -
এই সময় কোনো মানুষের কর্ম অকর্ম হতে পারে না, কেন ?

উত্তরঃ  
কেননা সম্পূর্ণ দুনিয়ায় এখন মায়ার রাজত্ব । সকলের মধ্যেই পাঁচ বিকারের প্রবেশ, তাই মানুষ যেই কর্মই করে, তা বিকর্মই হয়ে যায় । সত্যযুগেই কর্ম অকর্ম হয়, কেননা ওখানে মায়া থাকে না ।

প্রশ্নঃ -
কোন্ বাচ্চারা খুব ভালো প্রাইজ পায় ?

উত্তরঃ -
যারা শ্রীমতে চলে পবিত্র হয়ে অন্ধের লাঠি হয় । কখনোই পাঁচ বিকারের বশীভূত হয়ে কুল কলঙ্কিত করে না, তারা খুব ভালো প্রাইজ প্রাপ্ত করে । কেউ যদি বারবার মায়ার কাছে হেরে যায়, তাহলে তার পাসপোর্টই ক্যান্সেল (বাতিল) হয়ে যায় ।

গীতঃ-
ওম্ নমঃ শিবায়...

ওম্ শান্তি ।
সবথেকে উঁচু হলেন পরমপিতা পরমাত্মা অর্থাৎ পরম আত্মা । তিনি হলেন রচয়িতা । প্রথমে তিনি ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্করকে রচনা করেন, তারপরে এসো নীচে অমরলোকে, ওখানে আছে লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজ্য । সেটা হলো সূর্যবংশীর রাজ্য, চন্দ্রবংশীর নয় । একথা কে বোঝাচ্ছেন ? জ্ঞানের সাগর । মানুষ কখনোই মানুষকে বোঝাতে পারবে না । বাবা হলেন সবথেকে উচ্চ, যাঁকে ভারতবাসী মাতা - পিতা বলে থাকে । তাহলে অবশ্যই প্রত্যক্ষভাবে মাতা - পিতার প্রয়োজন । গায়ন যখন আছে তাহলে অবশ্যই কোনো সময় তাঁরা ছিলো । তাই সবার প্রথমে উঁচুর থেকেও উঁচু হলেন ওই নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মা, বাকি তো প্রত্যেকের মধ্যেই আত্মা আছে । আত্মা যখন শরীরে থাকে তখন দুঃখী বা সুখী হয় । এ খুবই বোঝার মতো কথা । এ কোনো কিম্বদন্তি গল্প - কাহিনী নয় । বাকি গুরু - গোঁসাই ইত্যাদিরা যা শোনান, সেসব কিম্বদন্তি (জনশ্রুতি) গল্পকথা । ভারত হলো এখন নরক । সত্যযুগে একে স্বর্গ বলা হয় । সেখানে লক্ষ্মী - নারায়ণ রাজত্ব করতেন এবং সবাই সৌভাগ্যশালী থাকতেন । সেখানে কোনো দুর্ভাগ্যশালী ছিলেনই না । কোনো দুঃখ বা রোগও ছিলো না । এ হলো পাপ আত্মাদের দুনিয়া । ভারতবাসী স্বর্গবাসী ছিলো, সেখানে লক্ষ্মী - নারায়ণের রাজত্ব ছিলো । শ্রীকৃষ্ণকে তো সবাই মানে । দেখো, তাঁকে দুটি গোলা দিয়ে দিয়েছে । শ্রীকৃষ্ণের আত্মা বলে, এখন আমি নরককে লাথি মারছি । স্বর্গ হাতে করে নিয়ে এসেছি । প্রথমে ছিলো কৃষ্ণপুরী, এখন কংসপুরী । এখানে এই শ্রীকৃষ্ণও আছেন । ওনার ৮৪ জন্মের অন্তিম এই জন্ম, কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের ওই রূপ এখন আর নেই । একথা বাবা বসে বোঝান । বাবা এসেই ভারতকে স্বর্গ বানান । এখন নরক, বাবা তাই স্বর্গ বানাতে এসেছেন । এ হলো পুরানো দুনিয়া । যা নতুন দুনিয়া ছিলো, এখন তা পুরানো । বাড়িও নতুন থেকে পুরানো হয় । অবশেষে ভেঙ্গে ফেলার মতো হয়ে যায় । বাবা এখন বলছেন, আমি বাচ্চাদের স্বর্গবাসী বানানোর জন্য রাজযোগ শেখাই । তোমরা হলে রাজঋষি । রাজত্ব প্রাপ্ত করার জন্য তোমরা বিকারের সন্ন্যাস করো । জাগতিক সন্ন্যাসীরা গৃহত্যাগ করে জঙ্গলে চলে যায়, তবুও তারা এই পুরানো দুনিয়াতেই থাকে । অসীম জগতের পিতা তোমাদের নরকের সন্ন্যাস করান আর স্বর্গের সাক্ষাৎকার করান । বাবা বলেন, আমি তোমাদের নিয়ে যেতে এসেছি । বাবা সবাইকে বলেন, তোমরা তোমাদের জন্মকে জানো না । যে যেমন কর্ম করবে, ভালো বা মন্দ, সেই সংস্কার অনুসারে সে অবশ্যই জন্মগ্রহণ করবে । কেউ বিত্তবান, কেউ গরীব, কেউ রোগী, কেউ আবার স্বাস্থ্যবান হয় । এ হলো পূর্ব জন্মের কর্মের হিসাব । কেউ যদি স্বাস্থ্যবান হয় তাহলে অবশ্যই পূর্ব জন্মে হসপিটাল ইত্যাদি বানিয়ে থাকবে । অনেক বেশী দান - পুণ্য করলে বিত্তবান হয় । নরকে মানুষ যে কর্মই করে তা অবশ্যই বিকর্ম হয়ে যাবে, কেননা সকলের মধ্যেই পাঁচ বিকার বর্তমান । এখন সন্ন্যাসীরা পবিত্র হয়, তারা পাপ কর্ম ত্যাগ করে, জঙ্গলে গিয়ে থাকে কিন্তু এমন নয় যে তাদের কর্ম অকর্ম হয়ে যায় । বাবা বোঝান, এই সময় হলো মায়ার রাজ্য, তাই মানুষ যে কর্মই করবে তা পাপই হবে । সত্যযুগ, ত্রেতাতে মায়া থাকে না, তাই কর্ম, বিকর্ম হয় না । না সেখানে দুঃখ থাকবে । এই সময় এক তো হলো রাবণের শৃঙ্খল, তারপর ভক্তিমার্গের শৃঙ্খল । জন্ম - জন্মান্তর ধরে ধাক্কা খেয়ে এসেছে । বাবা বলেন, আমি পূর্বেও বলেছি, এই জপ - তপ ইত্যাদির দ্বারা আমাকে প্রাপ্ত করা যায় না । আমি তখনই আসি যখন ভক্তির অন্ত হয় । দ্বাপর যুগ থেকে ভক্তি শুরু হয় । মানুষ যখন দুঃখী হয়, তখন স্মরণ করে । সত্যযুগ আর ত্রেতাতে মানুষ থাকে সৌভাগ্যশালী আর এখানে দুর্ভাগ্যশালী । মারধোর - কান্নাকাটি করতে থাকে । এখানে অকাল মৃত্যু হতে থাকে । বাবা বলেন, আমি তখনই ফিরে যাবো যখন নরক স্বর্গ হয়ে যাবে । ভারত প্রাচীন দেশ, যা প্রথমে ছিলো তাই অন্ত পর্যন্ত থাকতে হবে । ৮৪ র চক্রের গায়ন আছে । গভর্নমেন্ট যে ত্রিমূর্তি বানায়, তাতে থাকা উচিত ব্রহ্মা - বিষ্ণু - শঙ্কর কিন্তু সেখানে জন্তুর চিত্র দিয়ে দিয়েছে । রচয়িতা বাবার কোনো চিত্র নেই আবার নীচে চক্রও এঁকে দিয়েছে । ওরা মনে করে, এ হলো চরখা কিন্তু এ হলো ড্রামার সৃষ্টিচক্র । এখন সেই চক্রের নাম রেখে দিয়েছে অশোক চক্র । এখন তোমরা এই চক্রকে জানলেই অশোক হয়ে যেতে পারো । কথা তো ঠিকই কিন্তু উল্টাপাল্টা করে দিয়েছে । তোমরা এই ৮৪ জন্মের চক্রকে স্মরণ করলেই ২১ জন্মের জন্য চক্রবর্তী রাজা হয়ে যেতে পারো । এই দাদাও ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ করেছেন । এ হলো শ্রীকৃষ্ণের অন্তিম জন্ম । এনাকে বাবা বসে বোঝান ।বাস্তবে তোমাদের সকলেরই অন্তিম জন্ম, যাঁরা ভারতবাসী দেবী - দেবতা ধর্মের ছিলো, তাঁরাই সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম ভোগ করেছে । এখন তো সকলেরই চক্র সম্পূর্ণ হয়ে এসেছে । তোমাদের তন এখন ছিঃ ছিঃ হয়ে গেছে । এই দুনিয়াই ছিঃ ছিঃ, তাই তোমাদের এই দুনিয়া থেকে সন্ন্যাস করান । এই কবরখানায় তোমরা মন লাগিও না । এখন তোমরা বাবা আর তাঁর উত্তরাধিকারের প্রতি মন দাও । তোমরা আত্মারা হলে অবিনাশী, তোমাদের এই শরীর বিনাশী । এখন তোমরা যদি আমাকে স্মরণ করো তাহলে 'অন্তিম কলে যেমন মতি তেমনই গতি' হয়ে যাবে । এমন গায়নও আছে যে -- অন্তিমকালে যে স্ত্রীকে স্মরণ করে... বাবা এখন বলেন, অন্তিমকালে যে শিব বাবাকে স্মরণ করে সে নারায়ণ পদ প্রাপ্ত করতে পারে । নারায়ণ পদ প্রাপ্ত হয় সত্যযুগে । বাবা ছাড়া কেউই এই পদ প্রাপ্ত করাতে পারেন না । এই পাঠশালা হলো মনুষ্য থেকে দেবতা হওয়ার পাঠশালা । এখানে বাবা পড়ান । যাঁর মহিমা শুনেছো - ওঁম নমঃ শিবায় । তোমরা জানো যে, আমরা তাঁর বাচ্চা হয়ে গেছি । এখন উত্তরাধিকার গ্রহণ করছি ।

তোমরা এখন আর মনুষ্য মতে চলো না । মনুষ্য মতে চলে তো সবাই নরকবাসী হয়ে গেছে । শাস্ত্রও মনুষ্যের গায়ন বা লেখন । সমস্ত ভারত এই সময় ধর্মভ্রষ্ট এবং কর্মভ্রষ্ট হয়ে গেছে । দেবতারা তো পবিত্র ছিলো । বাবা এখন বলেন, যদি সৌভাগ্যবান হতে চাও তাহলে পবিত্র হও, প্রতিজ্ঞা করো -- বাবা আমরা পবিত্র হয়ে তোমার থেকে অবশ্যই উত্তরাধিকার গ্রহণ করবো । এই পুরানো পতিত দুনিয়া তো শেষ হয়ে যাবে । এখানে লড়াই - ঝগড়া কি কি লেগে আছে । মানুষের কতো ক্রোধ । কতো বড় - বড় বম্ব বানিয়ে রেখেছে । এখানে কতো ক্রোধী এবং লোভী । ওখানে কৃষ্ণের জন্ম গর্ভ মহলে হয়, সে তো বাচ্চারা সাক্ষাৎকার করেছেই । এখানে হলো গর্ভ জেল, বাইরে বের হলেই মায়া পাপ করাতে থাকে । ওখানে তো গর্ভ মহল থেকে বাচ্চার জন্ম হয়, তখন রোশনাই হয়ে যায় । খুব আরামে থাকে তারা । গর্ভ থেকে বের হলেই দাসীরা কোলে তুলে নেয়, বাজনা বাজতে থাকে । এখানে আর ওখানের মধ্যে কতো তফাৎ ।

বাচ্চারা, এখন আমি তোমাদের তিন ধাম বুঝিয়েছি । শান্তিধাম থেকেই আত্মারা আসে । আত্মা তো স্টারের মতো, যা ভ্রুকুটির মধ্যে বিরাজমান থাকে । আত্মার মধ্যে ৮৪ জন্মের অবিনাশী পার্ট ভরপুর আছে । না ড্রামা কখনো বিনাশ হয়, না পার্টের কোনো পরিবর্তন হতে পারে । এও আশ্চর্যের -- কতো ছোটো আত্মার মধ্যে ৮৪ জন্মের পার্ট সম্পূর্ণ এবং সঠিকভাবে ভরপুর হয়ে আছে । এ কখনোই পুরানো হয় না । নিত্যনতুন । আত্মা হুবহ আবারও নিজের ওই পার্ট শুরু করে । এখন তোমরা বাচ্চারা, আত্মাই পরমাত্মা, এমন কথা আর বলতে পারো না । 'আমিই সেই' এই অর্থ বাবাই যথার্থ রীতি বুঝিয়ে বলেন । ওরা তো উল্টো অর্থ করে দেয়, অথবা বলে থাকে - 'অহম্ ব্রহ্মাস্মি', আমিই পরমাত্মা, মায়াকে রচনা করি । এখন বাস্তবে এই মায়াকে রচনা করা যায় না । মায়া হলো পাঁচ বিকার । এই বাবা কখনো মায়া রচনা করেন না । বাবা তো নতুন সৃষ্টির রচনা করেন । আমি সৃষ্টির রচনা করি, একথা আর কেউই বলতে পারে না । অসীম জগতের পিতা একজনই । 'ওম্' শব্দের অর্থও বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে । আত্মা হলোই শান্ত স্বরূপ । আত্মা শান্তিধামে থাকে । বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর, আনন্দের সাগর । এই মহিমা আত্মার জন্য করা হবে না । হ্যাঁ, আত্মার মধ্যে জ্ঞান প্রবেশ করে । বাবা বলেন, আমি একবারই আসি । আমাকে অবশ্যই উত্তরাধিকার প্রদান করতে হয় । আমার উত্তরাধিকারে ভারত একদম স্বর্গ হয়ে যায় । সেই স্বর্গে পবিত্রতা, সুখ, শান্তি সবকিছুই ছিলো । এ হলো অসীম জগতের পিতার সদা সুখের উত্তরাধিকার । ওখানে পবিত্রতা ছিলো তাই সুখ - শান্তিও ছিলো । এখন অপবিত্রতা, তাই দুঃখ আর অশান্তি । বাবা বসে বোঝান যে, তোমরা আত্মারা প্রথম - প্রথম মূল বতনে ছিলে । তারপর দেবী - দেবতা ধর্মে এসেছিলে, তারপর ক্ষত্রিয় ধর্মে এসেছিলে, তোমাদের ৮ জন্ম সতোপ্রধান অবস্থায়, ১২ জন্ম সতোতে, তারপর ২১ জন্ম দ্বাপর যুগে আর ৪২ জন্ম কলিযুগে । এখানে এখন শূদ্র হয়ে গেছো,, এখন আবার তোমাদের ব্রাহ্মণ বর্ণে আসতে হবে, তারপর দেবতা বর্ণে যাবে । এখন তোমরা ঈশ্বরের দত্তক সন্তান । বাবা কতো ভালোভাবে বুঝিয়ে বলেন । ৮৪ জন্ম জানলে এরমধ্যেই সবকিছু এসে যায় । তোমাদের বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ চক্রের জ্ঞান আছে । তোমরা এও জানো যে, সত্যযুগে থাকে এক ধর্ম । ওয়ার্ল্ড অলমাইটি অথরিটি রাজ্য । তোমরা এখন লক্ষ্মী - নারায়ণ পদ প্রাপ্ত করছো । সত্যযুগ হলো পাবন দুনিয়া, ওখানে অতি অল্পসংখ্যক থাকে । বাকি সব আত্মারা মুক্তিধামে থাকে । সকলের সদ্গতি দাতা একমাত্র বাবাই । তাঁকে কেউ জানেই না, আর এও বলে দেয় যে, পরমাত্মা সর্বব্যাপী । বাবা বলেন, তোমাদের কে বলেছে ? তখন বলে, গীতাতে লেখা আছে । গীতা কে লিখেছে ? ভগবান উবাচঃ -- আমি তো এই ব্রহ্মার সাধারণ তনের আধার নিই । লড়াইয়ের ময়দানে এক অর্জুনকে কিভাবে জ্ঞান শোনাবেন । তোমাদের কোনো লড়াই বা জুয়া ইত্যাদি তো শেখানোই হয় না । ভগবান তো মানুষ থেকে দেবতাই তৈরী করেন । তিনি কিভাবে বলবেন যে, জুয়া খেলো বা লড়াই করো । আবার বলে যে, দ্রৌপদীর পাঁচ পতি ছিলো । এ কিভাবে হতে পারে ! পূর্ব কল্পে বাবা স্বর্গ বানিয়েছিলেন । আবারও তিনি তা তৈরী করছেন । শ্রীকৃষ্ণের ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ হয়েছে, যথা রাজা - রানী তথা প্রজা, সকলেরই ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ হয়েছে । তোমরা এখন শূদ্র থেকে পরিবর্তন হয়ে ব্রাহ্মণ হয়েছো । যাঁরা ব্রাহ্মণ বর্ণে আসবে তারাই "মাম্মা - বাবা" বলবে । যদিও কেউ মানুক বা না মানুক, তাদের ইচ্ছা । কেউ কেউ মনে করে যে, আমাদের জন্য লক্ষ্য খুব উচ্চ । তবুও কিছু না কিছু শুনলে অবশ্যই স্বর্গে এসে যাবে, কিন্তু পদ কম প্রাপ্ত করবে । ওখানে যথা রাজা - রানী তথা প্রজা সবাই সুখী থাকে । নামই হলো স্বর্গ । হেভেনলী গড ফাদার হেভেন স্থাপন করেন, এ হলো হেল । এখানে সব সীতাকে রাবণ জেলে বেঁধে রেখেছে । সবাই শোকে থেকে ভগবানকে স্মরণ করছে যে, এই রাবণের থেকে মুক্ত করো । সত্যযুগ হলো অশোক বাটিকা । যতক্ষণ না তোমাদের সূর্যবংশী রাজধানী স্থাপন হচ্ছে ততক্ষণ বিনাশ হতে পারবে না । রাজধানী স্থাপন হবে, বাচ্চাদের কর্মাতীত অবস্থা হবে, তখনই ফাইনাল লড়াই হবে, ততক্ষণ রিহার্সাল হতে থাকে । এই লড়াইয়ের পরে স্বর্গের গেট খুলবে । বাচ্চারা, তোমাদের স্বর্গে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত হতে হবে । বাবা পাসপোর্ট দেন । যতো পবিত্র হবে, অন্ধের লাঠি হবে, তাহলে প্রাইজও ভালো পাবে । বাবার কাছে প্রতিজ্ঞা করতে হবে -- মিষ্টি বাবা, আমরা অবশ্যই তোমার স্মরণে থাকবো । মুখ্য বিষয় হলো পবিত্রতার । তোমাদের অবশ্যই পাঁচ বিকারের দান করতে হবে । কেউ আবার হেরে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে । যদি দুই - চারবার মায়ার ঘুষি খেয়ে পড়ে যাও তাহলে ফেল করে যাবে । তখন পাসপোর্ট ক্যান্সেল হয়ে যায় । বাবা বলেন - বাচ্চারা, কুল কলঙ্কিত ক'রো না । তোমরা বিকারকে ত্যাগ করো । আমি তোমাদের অবশ্যই স্বর্গের মালিক করবো । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) সৌভাগ্যশালী হওয়ার জন্য বাবার কাছে পবিত্রতার প্রতিজ্ঞা করতে হবে । এই ছিঃ ছিঃ পতিত দুনিয়াতে মন লাগিও না ।

২) কখনো মায়ার ঘুষি খেও না । কুল কলঙ্কিতকারী হয়ো না । উপযুক্ত হয়ে বাবার থেকে স্বর্গের পাসপোর্ট নিতে হবে ।

বরদান:-
মনকে বিজি রাখার কলার দ্বারা ব্যর্থ থেকে মুক্ত থেকে সদা সমর্থ স্বরূপ ভব

আজকালকার দুনিয়াতে যেমন বড় পজিশনের মানুষ নিজের কাজের দিনচর্যা সময় অনুযায়ী সেট করে, তেমনই তোমরা, যারা বিশ্বের নব নির্মাণের আধারমূর্তি, অসীম জগতের এই ড্রামাতে হিরো অভিনেতা, হিরে তুল্য জীবন সম্পন্ন, তোমরাও তোমাদের মন এবং বুদ্ধিকে সমর্থ স্থিতিতে স্থির করার প্রোগ্রাম সেট করো । মনকে ব্যস্ত রাখার কলা সম্পূর্ণ রীতিতে ব্যবহার করো, তাহলে ব্যর্থ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে । কখনোই আপসেট হবে না ।

স্লোগান:-
ড্রামার প্রতিটি দৃশ্য দেখে প্রফুল্লিত থাকো, তাহলে কখনোই ভালো বা মন্দের আকর্ষণে আসবে না ।