০২-০২-১৯ প্রাতঃ মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- বিদেহী হয়ে বাবাকে স্মরণ কর, স্বধর্মে স্থিত হতে পারলেই শক্তি পাবে, খুশি আর স্বাস্থ্যবান থাকবে, ব্যাটারি ( আত্মার ) সম্পূর্ণ চার্জ হতেই থাকবে"

প্রশ্ন:-

ড্রামাতে কোন্ বিষয়টিকে নির্ধারিত কারণ জেনে তোমরা বাচ্চারা সদা অটল থাকতে পার ?

উত্তর:-

তোমরা জান বোমা ইত্যাদি যা কিছু তৈরি হয়েছে, এসব অবশ্যই ব্যবহার হবে । বিনাশ হবে তবেই তো আমাদের নতুন দুনিয়া আসবে । এটাই অনাদি কাল ধরে ড্রামায় নির্ধারিত, মরতে হবে সবাইকেই । তোমরা খুশিতে আছ যে, আমরা এই পুরানো শরীর ছেড়ে রাজধানীতে জন্ম নেব । তোমরা ড্রামাকে সাক্ষী হয়ে দেখছ। এতে অস্থিরতার কোনও প্রশ্নই নেই , কান্নাকাটির ও প্রয়োজন নেই* ।

ওম্ শান্তি ।

বাবা বসে বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন এই যে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম ছিল তাকে হিন্দু ধর্মে কেন নিয়ে এসেছ ? কারণ খুঁজে বের করা উচিত । সর্বপ্রথম আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মই ছিল । তারপর যখন বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়েছে তখন আর নিজেদের দেবতা বলে উঠতে পারেনি । তখন নিজেকে আদি সনাতন দেবী-দেবতা বলার পরিবর্তে আদি সনাতন হিন্দু বলে দিয়েছে । শুধু দেবতা শব্দটি বদল করে হিন্দুস্তান রেখেছে । ঐ সময় ইসলামরা এসেছিল আর ঐ বাইরে থেকে আগতরা এসে হিন্দু ধর্ম নাম রেখেছিল । প্রথমে হিন্দুস্তান নামও ছিল না । সুতরাং আদি সনাতন হিন্দু দেবতা ধর্মাবলম্বীই বোঝা উচিত । ওরা প্রকৃতপক্ষেই ধর্মাত্মা । সবাই সনাতনী নয়, যারা পরে এসেছে তাদের আদি সনাতনী বলা হবে না । হিন্দুদের মধ্যেও পরে আসবে । আদি সনাতন হিন্দুদের বলা উচিত যে তোমাদের আদি সনাতন দেবতা ধর্ম ছিল । তোমরাই আদি সতোপ্রধান সনাতন ছিলে তারপর পুনর্জন্ম নিতে নিতে তমোপ্রধান হয়ে গেছ । এখন আবার স্মরণের যাত্রা দ্বারা সতোপ্রধান হয়ে ওঠ । ওদের এই ওষুধ ভালো লাগবে বাবা সার্জেন না ! যাদের এই ওষুধ ভালো লাগবে তাদেরই দেওয়া উচিত । যারা আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের ছিল তাদেরই স্মরণ করানো উচিত । যেমন তোমরা বাচ্চাদের স্মৃতিতে এসেছে । বাবা বুঝিয়েছেন- কিভাবে তোমরা সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হয়েছ । এখন আবার তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে হবে । তোমরা বাচ্চারা স্মরণের যাত্রা দ্বারা সতোপ্রধান হয়ে উঠছ । যারা আদি সনাতন হিন্দু হবে তারাই প্রকৃতপক্ষে দেবী-দেবতা হবে, আর ওরাই আবার দেবতাদের পুজা করবে । ওদের মধ্যে যারা শিব বা লক্ষ্মী-নারায়ণ, রাধা-কৃষ্ণ, সীতা-রাম ইত্যাদি দেবতাদের ভক্ত, তারা হল দেবতা গোত্রীয় (ঘরানার) । এখন স্মৃতিতে এসেছে -- যারা সূর্যবংশী তারাই আবার চন্দ্রবংশী হয়, সুতরাং এমন সব ভক্তদের খুঁজে বের করা উচিত । ফর্ম তাকে দিয়েই পূরণ করাবে যে বুঝতে এসেছে । প্রধান সেন্টার গুলোতে অবশ্যই পূরণ করার জন্য ফর্ম রাখা উচিত । যে আসবে তাকে প্রথম থেকেই অধ্যয়ন করাতে হবে । সর্বপ্রথম কথাই হল যে বাবাকে জানে না তাকে বোঝাতে হয় । তুমি নিজের বড় বাবাকে (শিব) জান না । তুমি আসলেই পারলৌকিক বাবার সন্তান । এখানে এসে লৌকিকের হয়েছ । তোমরা নিজের পারলৌকিক বাবাকে ভুলে যাও। বেহদের বাবাই হলেন স্বর্গের রচয়িতা । ওখানে অনেক ধর্ম হয় না । সুতরাং যে ফর্ম পূরণ করাবে তার উপরই সবটা নির্ভর করছে । যদিও কিছু বাচ্চা আছে যারা খুব ভালো বোঝাতে পারে কিন্তু যোগ করে না । অশরীরী হয়ে বাবাকে স্মরণ করা সেটা নেই । স্মরণে স্থিত হতে পারে না । যদিও জানে আমি খুব ভালো বোঝাতে পারি, মিউজিয়াম ইত্যাদিও খোলে কিন্তু স্মরণ খুব কম । নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করা এতেই পরিশ্রম । বাবা সতর্ক করে দিচ্ছেন । এমনটা ভেবো না যে, আমি খুব ভালো কনভিন্স করতে পারি । কিন্তু এতে লাভ কি হবে? ঠিক আছে , স্বদর্শন চক্রধারী হয়ে গেছ কিন্তু এতে তো বিদেহী হতে হবে । কর্ম করতে-করতে নিজেকে আত্মা মনে করতে হবে । আত্মা এই শরীর দ্বারা কর্তব্য করছে -- এটাও স্মরণে আসে না, খেয়ালেও আসে না যাদের তাদের বলে বুদ্ধু । বাবাকে স্মরণ করতে পারে না! সার্ভিস করার শক্তি নেই । বিনা স্মরণে শক্তি কোথা থেকে আসবে? ব্যাটারি কিভাবে ভর্তি হবে? চলতে-চলতে দাঁড়িয়ে পড়বে, শক্তি থাকবে না ।

বলা হয়ে থাকে ধর্মই শক্তি । আত্মা স্বধর্মে স্থিত হবে, তবেই তো শক্তি পাবে । অনেকেই আছে যাদের বাবাকে স্মরণ করা আসে না । তাদের মুখ দেখেই বোঝা যায় । সবকিছু স্মরণে আসবে, কিন্তু বাবাকে স্মরণ করতে অসমর্থ হবে । যোগ দ্বারাই বল প্রাপ্ত হবে । স্মরণে অনেক খুশি আর স্বাস্থ্যবান থাকবে । তারপর পরবর্তী জন্মেও এমন তেজস্বী শরীর লাভ করবে । আত্মা পবিত্র হলে শরীরও পবিত্র পাবে । বলা হয় এতে ২৪ ক্যরেট সোনা আছে, সুতরাং ২৪ ক্যারেটের গয়না । এই সময় সবাই ৯ ক্যারেট হয়ে গেছে । সতোপ্রধানকে ২৪ ক্যারেট বলা হয়, সতোকে ২২ ক্যারেট, এটাই বড় বোঝার ব্যপার । বাবা বুঝিয়েছেন সর্বপ্রথম ফর্ম পূরণ করালেই বোঝা যাবে কতটা রেসপন্স করছে ? কতটুকু ধারণ করেছে? তারপরও কি এসে স্মরণের যাত্রায় স্থিত হচ্ছে ? স্মরণের যাত্রা দ্বারাই তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে হবে । ওটা (লৌকিক) হল ভক্তির শারীরিক যাত্রা আর এটা হল আত্মিক (রূহানী) যাত্রা। আত্মা (রূহ) যাত্রা করে । ভক্তিতে আত্মা আর শরীর দুই-ই যাত্রা করে ।



পতিত-পাবন বাবাকে স্মরণ করলেই আত্মা তেজোদীপ্ত হয়ে ওঠে । কাউকে প্রভাবিত করতে হলে বাবাকে কখনও বা কারও মধ্যে প্রবেশও করতে হয় । মা-বাবা দু'জনেই সাহায্য করেন - কখনও নলেজ দ্বারা কখনও বা যোগ দ্বারা । বাবা তো সদা বিদেহী (শরীর হীন)। শরীরের কোনো অনুভূতি নেই । সুতরাং বাবা দুই শক্তি দ্বারাই (জ্ঞান আর যোগ) সাহায্য করে থাকেন । যোগ না হলে শক্তি কোথা থেকে পাবে ? কাউকে দেখেই বোঝা যায় এ জ্ঞানী না যোগী । যোগের জন্য বাবা প্রতিদিন নতুন নতুন পয়েন্টস বুঝিয়ে বলেন । আগে তো বাবা এ'সব বোঝাতেন না । কেবল বলতেন - নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ কর । বাবা তোমাদের এখন এত শক্তিশালী করে তুলেছেন যে, ভাই বোনের সম্পর্কও মুছে ফেলে শুধুমাত্র ভাই-ভাই দৃষ্টি যেন থাকে। আমরা আত্মা ভাই-ভাই । এ অনেক উচ্চ দৃষ্টি । শেষ পর্যন্ত এই পুরুষার্থ করে যেতে হবে । যখন সতোপ্রধান হয়ে যাবে তখন এই শরীর ত্যাগ করবে, সুতরাং যতটা সম্ভব এই পুরুষার্থ বৃদ্ধি করতে হবে । বৃদ্ধদের জন্য অনেক সহজ। এখন আমাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে । ইয়ংদের এই (তরুণ, তরুণী) ধরনের ভাবনা কখনও আসবে না । বৃদ্ধরা বাণপ্রস্থ অবস্থায় থাকে । বোঝা যায় ফিরে যেতে হবে । এইসব জ্ঞানের কথা বুঝতে হবে । কল্প-বৃক্ষ (ঝাড়) বৃদ্ধি হতেই থাকবে । বৃদ্ধি হতে হতে সম্পূর্ণ কল্প বৃক্ষ তৈরি হয়ে যাবে। কাঁটাকে বদলে নতুন ছোট ফুলের ঝাড় তৈরি করতে হবে । নতুন তৈরি হয়ে আবার পুরানো হয়ে যাবে । প্রথমে ঝাড় ছোট হবে তারপর বৃদ্ধি হবে । বৃদ্ধি হতে হতে শেষে গিয়ে কাঁটায় পরিণত হয় । প্রথমে হয় ফুল আর তার নামই হলো স্বর্গ । তারপর তার গন্ধ আর ঐ শক্তি থাকে না । কাঁটায় কোনও গন্ধ হয়না । সাধারণ ফুলেও গন্ধ থাকে না । বাবা হলেন বাগানের মালী আবার কান্ডারীও । সবার নৌকা পাড়ে নিয়ে আসেন । নৌকা পার কিভাবে করেন, কোথায় নিয়ে যান -- এটাও যারা বুদ্ধিমান বাচ্চা তারাই বুঝবে । যে বোঝে না সে পুরুষার্থও করে না । নম্বর অনুযায়ী আছে না! কোনও কোনও এরোপ্লেন তো শব্দের থেকেও দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায় । আত্মা কিভাবে উড়ে যায় - এটা কারো জানা নেই । আত্মা তো রকেটের থেকেও তীব্র গতিতে উড়ে যায় । আত্মার মত দ্রুত গতি আর কোনো জিনিসের হয় না । রকেট ইত্যাদির মধ্যে এমন কিছু জ্বালানি ঢালা হয় যা শীঘ্রই উড়িয়ে নিয়ে যায় । বিনাশের জন্য কত বারুদ ইত্যাদি তৈরি করে । স্টীমার, এরোপ্লেনে করেও বোম্ব নিয়ে যায় । এখন তো সমস্ত কিছুই আগে থেকেই রেডি করে রাখে । সংবাদপত্রেও লেখে । এমনটা বলতে পারে না যে বোমা কাজে লাগাব না । হতে পারে বোমা নিক্ষেপ হবে এমনটাই বলতে থাকে । এই সবই প্রস্তুত হয়ে চলেছে । বিনাশ তো নিশ্চয়ই হবে । বোমা নিক্ষেপ হবে না, বিনাশ হবে না -- এমন হতেই পারে না । তোমাদের জন্য নতুন দুনিয়া অবশ্যই প্রয়োজন । এটাই ড্রামায় নির্ধারিত । সেইজন্য তোমাদের অতীব খুশি হওয়া উচিত । কথায় আছে, কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ (মিরুয়া মৌত মলুকা শিকার = শিকার মরলে শিকারীর খুশী) ••••ড্রামানুসারে সবাইকেই মৃত্যু বরণ করতে হবে । বাচ্চারা, তোমাদের ড্রামার জ্ঞান থাকার কারণে তোমরা অস্থির হওনা, সাক্ষী হয়ে দেখ । কান্নাকাটির প্রয়োজন নেই সময়ানুসারে শরীর তো ত্যাগ করতেই হবে । তোমাদের আত্মা জানে যে আমরা পরবর্তী জন্মে রাজপরিবারে জন্ম গ্রহণ করব । আমি রাজকুমার হব । আত্মা জানে তবেই তো এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীর ধারণ করে । সাপের মধ্যেও আত্মা আছে না ! ওরাও বলতে পারে আমরা এক খোলস ছেড়ে অন্য খোলস ধারণ করি । কখনও তো শরীর ত্যাগ করবে, তারপর আবার বাচ্চা হবে । বাচ্চা তো জন্ম নেয়, তাইনা! পুনর্জন্ম তো সবাইকেই নিতে হবে । এসবই বিচার সাগর মন্থন করতে হবে ।



সর্বপ্রথম মুখ্য বিষয় হল বাবাকে অত্যন্ত ভালোবাসার সাথে স্মরণ করতে হবে । যেমন ছোট বাচ্চা মা-বাবার সাথে একদম জড়িয়ে থাকে, ঠিক তেমনই অত্যন্ত ভালোবাসার সাথে বুদ্ধি যোগ দ্বারা বাবার সাথে জুড়ে থাকতে হবে । নিজেকে দেখতে হবে আমি কতটুকু ধারণ করতে সক্ষম হয়েছি । (নারদের দৃষ্টান্ত অনুযায়ী) । ভক্ত যতক্ষণ জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম না হবে ততক্ষণ দেবতা হতে পারবে না । এ শুধুই লক্ষ্মীকে বরণ করার কথা নয় । এটা তো বোঝার ব্যাপার । তোমরা বাচ্চারা বুঝেছ যখন আমরা সতোপ্রধান ছিলাম তখন বিশ্বে রাজত্ব করতাম । এখন আবার সতোপ্রধান হওয়ার জন্য বাবাকে স্মরণ করতে হবে । এই পরিশ্রম তোমরা কল্প-কল্প ধরে প্রকৃত যোগ আর শক্তি দ্বারা করেই আসছ । প্রত্যেকেই বুঝতে পারে যে আমি কাউকে বোঝাতে কতটা সক্ষম হয়েছি ? দেহ-অভিমান থেকে কতটা মুক্ত হতে পেরেছি ? আমি আত্মা এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করি । আমি আত্মা এর দ্বারা (কর্মেন্দ্রিয়)কর্ম করি, এসব আমার অরগ্যানস । আমরা সবাই পার্টধারী । এই ড্রামায় এটাই বেহদের বড় নাটক । এখানে নম্বর অনুসারে সবাই তাদের ভূমিকা পালন (পার্ট প্লে) করছে । আমরা বুঝতে পারি-এখানে মুখ্য চরিত্রে কারা আছেন । প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় গ্রেডে কে কে আছে । তোমরা বাচ্চারা বাবার দ্বারা ড্রামার আদি-মধ্য অন্তকে জেনে গেছ । রচয়িতা দ্বারাই রচনার নলেজ পাওয়া যায় । রচয়িতা এসেই নিজের আর রচনার রহস্য বুঝিয়ে বলেন । ইনি (ব্রহ্মা শরীর) ওঁর রথ, যার মধ্যে প্রবেশ করেন । তোমরা বলতে পার , তবে তো দু'জন আত্মা । এটাও সহজ কথা । যখন পিন্ড দান করা হয় তখন আত্মা তো আসে না ! পূর্বে তারা আসত আর তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হত । এখন তো তমোপ্রধান হয়ে গেছে । কেউ-কেউ এখনও বলে আমি পূর্ববর্তী জন্মে অমুক ছিলাম । ভবিষ্যতের কথা বলতে পারে না । অতীতের কথা বলে থাকে । অনেকে এসব বিশ্বাস করে না ।



বাবা বলেন -- মিষ্টি বাচ্চারা, এখন তোমাদের শান্ত হতে হবে । তোমরা যত জ্ঞান-যোগ দ্বারা শক্তিশালী হবে ততই সলিড (খাঁটি) হতে পারবে । এখনও অনেক বাচ্চা সহজ-সরল । ভারতবাসী দেবী-দেবতারা কত সলিড ছিল । ধন সম্পদে পরিপূর্ণ ছিল । এখন তো সব রিক্ত । ওরা ছিল সলভেন্ট, যেখানে তোমরা হয়ে উঠছ ইনসলভেন্ট । তোমরা নিজেরাই জান ভারত কি ছিল আর এখন কি হয়েছে । অনাহারে মরতে হবে । শস্য-আনাজ, জল কিছুই পাওয়া যাবে না । কোথাও বন্যা হবে, আবার কোথাও একফোঁটা জলও থাকবে না । এই সময় চতুর্দিকে দুঃখের ঘনঘটা ছড়িয়ে আছে, সত্য যুগে থাকে সুখের ঘনঘটা । এই খেলাকে তোমরা বাচ্চারাই বুঝেছ আর তো কেউ জানেই না । ব্যাজ ব্যবহার করেও ভালো ব্যাখ্যা করা যেতে পারে উনি হদের লৌকিক পিতা আর ইনি (শিব বাবা) বেহদের পারলৌকিক পিতা । এই পিতা একবারই সঙ্গমে এসে বেহদের অবিনাশী উত্তরাধিকার দিয়ে থাকেন । নতুন দুনিয়া সৃষ্টি হয় । এখন হল আয়রন এজ (লৌহযুগ) এরপর গোল্ডেন এজ(স্বর্ণ যুগ) অবশ্যই হবে । তোমরা এখন সঙ্গমে আছ । অন্তর স্বচ্ছ হলে ইচ্ছেও পূর্ণ হবে। রোজ নিজেকে জিজ্ঞাসা কর -- কোনও খারাপ কর্ম করিনি তো ? কারও প্রতি অন্তরে বিকার ভাবনা আসেনি তো ? অন্তরের আনন্দে আছি ? না নানা গল্প করে সময় নষ্ট করেছি ? বাবার আদেশ হল--- মামেকম্ স্মরণ কর । যদি স্মরণ না কর তবে আদেশ অমান্যকারী হয়ে যাবে । আচ্ছা!



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ, ভালবাসা ও সুপ্রভাত। ঈশ্বরীয় পিতা ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. জ্ঞান-যোগের খুশিতে থাকতে হবে । অন্তর স্বচ্ছ রাখতে হবে । ব্যর্থ চিন্তা করে নিজের সময় নষ্ট কোরো না ।

২. আমরা আত্মারা হলাম ভাই-ভাই, এখন আমাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে - এই অভ্যাস দৃঢ় করতে হবে । বিদেহী হয়ে স্বধর্মে স্থিত হয়ে বাবাকে স্মরণ করতে হবে ।

বরদান:-

অকল্যাণের সংকল্পকে সমাপ্ত করে অপকারীর প্রতি উপকার করতে সমর্থ জ্ঞানী আত্মা ভব

কেউ যদি রোজ তোমার গ্লানি করে, অকল্যাণ করে, গালমন্দ করে - তবুও তার প্রতি যেন মনে ঘৃণা না জন্মায় । অপকারীর প্রতি উপকার - এটাই হল জ্ঞানী আত্মার কর্তব্য । যেমন তোমরা বাচ্চারা বাবাকে ৬৩ জন্ম ধরে গালিগালাজ করেছ তারপরও বাবা তোমাদের কল্যাণকারী দৃষ্টিতে দেখেছেন । তাই এমন বাবাকে অনুসরণ কর । জ্ঞানী আত্মার অর্থই হল সবার প্রতি কল্যাণের ভাবনা রাখা। অকল্যাণের ভাবনা যেন সংকল্পেও না আসে।

স্লোগান:-

মনমনাভব-র স্থিতিতে স্থিত থাকলে অন্যদের মনের ভাবকে জানতে পারবে ।