০২-০৩-১৯ প্রাতঃ মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা- মৃত্যুর মতো নীরবতায় (ডেড সাইলেন্স) যাওয়ার অভ্যাস কর, বুদ্ধি বাবার দিকে থাকলে বাবাও তোমাদের অশরীরী হওয়ার জন্য শক্তির প্রবাহ (সকাশ) দেবেন"

প্রশ্ন:-

তোমরা বাচ্চারা যখন জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত কর তখন কি সাক্ষাত্কার হয় ?

উত্তর:-

সত্য যুগের আদি থেকে কলিযুগের শেষ পর্যন্ত আমরা কি-কি পার্ট প্লে করেছি-এসবই সম্পূর্ণরূপে সাক্ষাত্কার হয় । তোমরা সমগ্র বিশ্বকে আদি ( সর্বপ্রথম শুরু) থেকে শেষ পর্যন্ত জেনে যাও । জ্ঞানকেই সাক্ষাত্কার বলা হয় । এখন তোমরা বুঝেছ যে আমরাই দৈবীগুণ সম্পন্ন দেবতা ছিলাম, এখন আসুরি গুণ সম্পন্ন হয়ে গেছি । পুনরায় দৈবীগুণ সম্পন্ন দেবতা হতে যাচ্ছি । এখন আমরা নতুন দুনিয়া, নতুন ঘরে যাব* ।

ওম্ শান্তি ।

বাচ্চারা স্মরণের যাত্রায় বসেছে । অসীম (বেহদের) বাবা তো এই যাত্রায় বসেন না । তিনি তো বাচ্চাদের শক্তির প্রবাহ (সকাশ) দিয়ে সাহায্য করেন, যাতে বাচ্চারা শরীরকে ভুলতে পারে । বাবা সকাশ দেন আত্মাদের, কেননা বাবা আত্মাকেই দেখেন । তোমাদের প্রত্যেকের বুদ্ধি বাবার দিকেই যায়, বাবার বুদ্ধি বা দৃষ্টিও তখন বাচ্চাদের প্রতি যায় । পার্থক্য আছে তাই না! মৃত্যুসম নীরবতায় যাওয়ার অভ্যাস তোমরা করছ । শরীর ছেড়ে আলাদা হতে চাইছ । আত্মা বুঝেছে যে যত স্মরণে থাকব ততই এই শরীর থেকে বেরিয়ে যেতে পারব । যেমন সাপের দৃষ্টান্ত আছে, যা দৃষ্টান্ত দেওয়া হয় তার মধ্যে বিশেষ কিছু অবশ্যই থাকে । তোমরা জান এই শরীর ছেড়ে ফিরে যাব তারপর আবার ফিরে আসব । এসব কথা আর কেউ জানেনা, এই ড্রামাকে ও কেউ জানেনা । কেউ-ই এমন গ্যারান্টি দেয় না যে এই স্মরণে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে, এমন কথা কেউ-ই শোনায় না । তোমরা বাচ্চারা জান আমরা এখন ফিরে যাওয়ার জার্নিতে আছি । আত্মার বুদ্ধি-যোগ ঐ দিকেই রয়েছে । এখন নাটক শেষ হতে চলেছে ঘরে ফিরে যেতে হবে। বাবাকেই স্মরণ করতে হবে, তিনিই পতিত পাবন । গঙ্গার জলকে তো মুক্তি দাতা আর গাইড বলা যায় না । এক বাবাই লিবরেটর আর গাইড হতে পারেন। এও বড় বোঝার আর বোঝানোর বিষয় । সেটা হল ভক্তি, তাতে কোনও কল্যাণ হতে পারে না। বাচ্চারা জানে জল হল স্নানের জন্য, জল কখনও পবিত্র করে তুলতে পারে না । এমনও নয় যে ভক্তির জন্য কোনও রিটার্ন বা ফল প্রাপ্তি হয়ে থাকে । ভক্তি মার্গে এরই মহত্ত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে । একেই বলে অন্ধশ্রদ্ধা । *এই শ্রদ্ধা পালন করতে-করতেই মানুষ এই উপাধিতে ভূষিত হয়েছে-অন্ধের সন্তান অন্ধই* । ভগবানুবাচ তাই না ! কে অন্ধ আর কার দৃষ্টি আছে তা তোমরা জান । এখন সম্পূর্ণ বিশ্বের আদি-মধ্য অন্তকে তোমরা বাবার কাছ থেকে জেনেছ । তোমরা বাবাকে জেনেছ, সুতরাং সৃষ্টির আদি-মধ্য অন্তের সময়কালকেও জেনেছ। প্রতিটি বিষয়ে বিচার সাগর মন্থন করে নিজেকেই সমাধান করে নেওয়া উচিত । ভক্তি আর জ্ঞানের কন্ট্রাস্ট । জ্ঞান সম্পূর্ণ আলাদা । এই নলেজ প্রসিদ্ধ । এ হল রাজযোগের অধ্যয়ন । বাচ্চারা এটাও জেনেছে - দেবতারা সম্পূর্ণ নির্বিকারী ছিল । রচয়িতা বাবাই বসে নিজের পরিচয় দিয়ে থাকেন। তিনি হলেন পরম আত্মা। পরম আত্মাকেই পরমাত্মা বলা হয় । ইংরেজিতে বলে সুপ্রিম সোল । সোল অর্থাত্ আত্মা । বাবার আত্মাও বড়ো হয়না, বাবার আত্মাও তোমরা বাচ্চাদের মতোই । এমন নয় যে, বাচ্চাদের ছোট আর বড় । না । সুপ্রিম নলেজফুল বাবা অত্যন্ত স্নেহের সাথে বাচ্চাদের বুঝিয়ে থাকেন । পার্ট প্লে করে আত্মা, নিশ্চয়ই শরীর ধারণ করেই রোল প্লে করবে । আত্মার বাসস্থান হল শান্তিধাম । বাচ্চারা জানে আত্মারা ব্রহ্ম মহাতত্ত্বে বাস করে। যেমন হিন্দুস্তান নিবাসী তারা নিজেদের হিন্দু বলে থাকে, তেমনই ব্রহ্মাণ্ড নিবাসীদের ঈশ্বর ভেবে বসে আছে । পতন হওয়ার কারণও ড্রামায় নির্ধারিত । ফিরে যেতে তো পারবে না কেউ-ই, যতই চেষ্টা করুক । নাটক যখন সম্পূর্ণ হয়ে যায় তখনই সব কুশীলবরা একত্রে সমবেত হয় । ক্রিয়েটর, প্রধান চরিত্রাভিনেতাও এসে দাঁড়ায় । বাচ্চারা জানে এখন এই নাটক সম্পূর্ণ হতে চলেছে । এসব কথা কোনও সাধু সন্ত ইত্যাদি জানতে পারে না । আত্মার এই নলেজ কারও মধ্যেই নেই । পরমাত্মা বাবা একবারই এখানে আসেন । বাকী সবাইকে তো এখানে পার্ট প্লে করতেই হবে। বৃদ্ধি তো হতেই থাকে না! আত্মারা সব কোথা থেকে এসেছে ? যদি কেউ ফিরে যেতে পারে তবে ঐ নিয়মই চালু হয়ে যাবে, একজন আসবে আরেকজন যাবে । একে তো পুনর্জন্ম বলা যাবে না । পুনর্জন্ম তো শুরু থেকেই চলে আসছে । প্রথম নম্বর হল লক্ষ্মী-নারায়ণ । বাবা বুঝিয়েছেন পুনর্জন্ম নিতে নিতে যখন পিছনে চলে আসে তখনই আবার প্রথম নম্বরে যেতে হয় । এর মধ্যে সংশয়ের কোনও প্রশ্নই নেই । আত্মাদের পিতা স্বয়ং এসে বোঝান । কি বোঝান তিনি ? নিজের পরিচয় দেন । সুপ্রিম আত্মা সম্পর্কে তোমরা আগে কি কিছুই জানতে ! শুধু তোমরা শিব মন্দিরে যেতে, যেখানে অসংখ্য মন্দির থাকে । সত্য যুগে মন্দির পূজো ইত্যাদি হয়-ই না । ওখানে তোমরা পূজ্য দেবী-দেবতা হয়ে ওঠো। তারপর অর্ধকল্প পরে পূজারী হয়ে যাও তখন তাদের দেবী-দেবতা বলা হয় না । তারপর বাবাই এসে পূজ্য করে তোলেন । আর কোনো দেশে এই মহিমা নেই । রাম রাজ্য, রাবণ রাজ্য - এখন তোমরা বুঝে গেছ । রাম রাজ্যের সময়কাল কত - প্রমাণ করা উচিত । এ হল নাটক, একেই বোঝাতে হবে । উচ্চ থেকে উচ্চতর বাবা, তিনিই নলেজফুল । আমরা এঁনার দ্বারাই উচ্চ থেকে উচ্চতর হয়ে উঠি। উচ্চ থেকে উচ্চতর পদ প্রাপ্ত করি। বাবা আমাদের পড়ান, দৈবীগুণও ধারণ করতে হয় ।



বাচ্চারা বর্ণনা করে তুমি এইরকম, আমরা এইরকম । এই সময় তোমরা জেনেছ আমাদেরও ওঁনার মতোই সম্পূর্ণ নির্বিকারী হতে হবে । বাবাকে স্মরণ করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও উপায় নেই । যদি কেউ জেনে থাকে বলুক । এমন তো বলতেই পারে না যে, ব্রহ্ম বা তত্ত্ব নির্বিকারী । না, আত্মাই নির্বিকারী হয় । ব্রহ্ম বা তত্ত্বকে আত্মা বলা হয় না । ওটা তো হল আত্মাদের থাকার জায়গা । বাচ্চাদের বোঝানো হয় যে আত্মার মধ্যেই বুদ্ধি থাকে । আত্মা যখন তমোপ্রধান হয়ে পড়ে তখন অবুঝ হয়ে যায় । বুঝদার আর অবুঝ আছে না! তোমাদের বুদ্ধি কত স্বচ্ছ হয়ে ওঠে, তারপর আবার ম্লেচ্ছ ( অপবিত্র, ময়লা) হয়ে যায় । তোমাদের পিউরিটি (পবিত্রতা) আর ইমপিউরিটি(অপবিত্রতা) কন্ট্র্রাস্ট তোমরা বুঝে গেছ । অপবিত্র আত্মা ফিরে যেতে পারে না । এখন অপবিত্র থেকে পবিত্র কিভাবে হবে তারজন্য মাথা ঠুকতে থাকে, এটাও ড্রামায় নির্ধারিত । এখন তোমরা জেনেছ- এ হলো সঙ্গম যুগ । বাবা একবারই আসেন নিয়ে যাবার জন্য । সবাই তো নতুন দুনিয়াতে যাবে না । যার পার্ট নেই সে শান্তিধামে থাকে, আর সেজন্যই চিত্রেও দেখানো হয়েছে । বাকি সব চিত্র ইত্যাদি যা কিছু আছে সবই ভক্তি মার্গের । এ হল জ্ঞান মার্গ । যেখানে বোঝান হয়-সৃষ্টি চক্র কিভাবে ঘুরছে । আমরা কিভাবে নিচে নেমে আসি (অধঃগতি হতে থাকে) । ১৪ কলা থেকে ১২ কলা হয়ে যায় । এখন কোনও কলা নেই । নম্বরানুসার আছে না! অ্যাক্টর্সও নম্বরনুসারে হয় । কারও বেতন ১ হাজার, কারো ১৫০০, কারও বা ১০০ । কতটা তফাত হয়ে যায় । পঠন-পাঠনেও দিন-রাতের পার্থক্য আছে । লৌকিক স্কুলে পাশ না করলে তাকে আবার পড়তে হয় । এখানে তো আবার পড়ার প্রশ্নই নেই, পদ কম হয়ে যায় । তারপর আর কখনও এই পঠন-পাঠ হবে না । একবারই পঠন-পাঠ হয় । বাবাও একবারই আসেন । বাচ্চারাও জানে প্রথমে একটাই রাজধানী ছিল । একথা তোমরা কাউকে বোঝালে মানবে। ক্রিশ্চানরা সায়েন্সে প্রচন্ড তীক্ষ্ম হয়, আর সবাই তাদের কাছ থেকেই শেখে । ওরা না পারসবুদ্ধির হয়, না পাথরবুদ্ধির হয় । এই সময় ওদের বুদ্ধি হতবাক করে দিচ্ছে । সায়েন্সের প্রচার সম্পূর্ণরূপে ক্রিশ্চিয়ানদের থেকেই এসেছে । সেটাও সুখের জন্যই । তোমরা জান এই পুরানো দুনিয়ার বিনাশ তো হবেই, তারপর তোমরা শান্তিধাম -সুখধামে চলে যাবে । তা না হলে এতো মনুষ্য আত্মা ঘরে কিভাবে ফিরবে ? সায়েন্স দ্বারাই বিনাশ হবে । সব আত্মা শরীর ছেড়ে ঘরে ফিরে যাবে । এই বিনাশের মুক্তি অন্তরে শক্তি প্রদান করে । অর্ধকল্প ধরে মুক্তির জন্যই পরিশ্রম করে এসেছ না! সুতরাং সায়েন্স আর প্রাকৃতিক বিপর্যয় যাকে ভাগ্যের পরিহাস বলে, এটাই হওয়া উচিত। বোঝা উচিত এই লড়াই মুক্তিধামে নিয়ে যাওয়ার নিমিত্ত । সবাইকে মুক্তিধামে যেতে হবে । যদিও তোমরা অনেক পরিশ্রম করেছে, গুরু করেছ, হঠযোগ শিখেছে, কিন্তু কেউ-ই মুক্তিধামে যেতে পারবে না । সায়েন্সের এতো গোলা বারুদ ইত্যাদি তৈরি হয়েছে, বোঝা উচিত বিনাশ অবশ্যই হবে। নতুন দুনিয়াতে নিশ্চয়ই অল্প সংখ্যক থাকবে । বাকি সবাই মুক্তিধামে চলে যাবে । ঈশ্বরীয় পঠন-পাঠের শক্তি দ্বারাই জীবনমুক্তিতে আসবে । তোমরা সেখানে অটুট, অখণ্ড রাজ্য পালন করে থাক । এখানে দেখ সব খন্ড টুকরো-টুকরো হয়ে গেছে । বাবা তোমাদের অটুট, অখণ্ড সারা বিশ্বের রাজধানীর মালিক করে তোলেন । অসীম এই বাবার অবিনাশী উত্তরাধিকার হল অবিনাশী বাদশাহী । এমন বর্সা কবে আর কে দিয়ে থাকেন ? এ কারও বুদ্ধিতেই আসে না । শুধুমাত্র তোমরা জান । জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত করে আত্মা জ্ঞান স্বরূপ হয়ে ওঠে । সেটাও জ্ঞানের সাগর বাবার কাছ থেকেই প্রাপ্ত হয় । বাবাই এসে রচয়িতা আর রচনার আদি-মধ্য-অন্তের নলেজ দিয়ে থাকেন । মাত্র এক সেকেন্ডের বিষয় । সেকেন্ডে জীবনমুক্তি । বাকি সবাই মুক্তি লাভ করে । এভাবেই ড্রামা তৈরি হয়েছে । রাবণের বন্ধন থেকে সবাই মুক্ত হয়ে যায় । ওরা বিশ্বে শান্তি আনার জন্য কত পরিশ্রম করে । এটা শুধু তোমরা বাচ্চারাই জান বিশ্ব আর ব্রহ্মাণ্ডে শান্তি কবে ফিরে আসে । ব্রহ্মাণ্ডে শান্তি বলা হয় তারপর বিশ্বে শান্তি আর সুখ দুই-ই থাকে । বিশ্ব আলাদা, ব্রহ্মাণ্ডও আলাদা । চন্দ্র-নক্ষত্রেরও ঊর্ধ্বে হল ব্রহ্মাণ্ড । ওখানে শব্দ, কোলাহল এসব কিছুই হয় না । তাকে বলাই হয় সাইলেন্স ওয়ার্ল্ড । তোমরাও শরীর ত্যাগ করে সাইলেন্সে চলে যাবে । তোমরা বাচ্চাদের সেটাও স্মরণে আছে । এই সময় তোমরা ওখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছ । আর কেউ এটা জানেনা । তোমাদের তৈরি করানো হয় । প্রকৃতপক্ষে এই লড়াই হল কল্যাণকারী, সবার হিসেব-পত্র মেটাতে হবে । সবাই পবিত্র হয়ে যাবে । যোগ-অগ্নি না! অগ্নিতে সমস্ত জিনিস পবিত্র হয়ে যায় । যেমন বাবা ড্রামার আদি-মধ্য অন্তকে জানেন, তেমনই তোমরা অ্যাক্টরা ড্রামার আদি-মধ্য অন্তকে জান । এই জানাকেই সাক্ষাত্কার বলা হয় ।



এখন তোমাদের জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র খুলে গেছে । একইভাবে পুনরায় আমরা সারা বিশ্বকে সত্য যুগের আদি থেকে কলিযুগের শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে জেনে গেছি । দ্বিতীয় কোনও মানুষ এটা জানেনা । তোমরা বুঝেছ যে, আমরা দৈবীগুণ সম্পন্ন ছিলাম, আমরাই আবার আসুরি গুণে পরিণত হয়ে পড়ি । তারপর আবার বাবা এসে দৈবীগুণ সম্পন্ন করে তোলেন । বাবা আসেনই পতিতকে পাবন করে তুলতে । দুনিয়ার আর কারও জানা নেই যে, এই দেবী-দেবতা পরিবারবর্গই সম্পূর্ণ ৮৪ জন্ম গ্রহণ করে। পাবনই পতিত হয়ে পড়ে । এটা কারও বুদ্ধিতে নেই। এখন তোমরা বুঝেছ এ সবই জড় চিত্র । অবিকল চিত্র তো তাদের বের করতে পারবে না । ওরা তো স্বাভাবিক ভাবেই সুন্দর । পিওর প্রকৃতিতে শরীরও পিওর হয় । এখানে তো ইমপিওর ( অপবিত্র) । এমন রঙ-বেরঙের দুনিয়া সত্য যুগে হবেনা । কৃষ্ণকে বলা হয় শ্যামসুন্দর । সত্যযুগে হয় সুন্দর, কলিযুগে শ্যাম । সত্যযুগ থেকে কলিযুগে কিভাবে আসেন তোমরা নম্বরনুসারে জেনেছ । কৃষ্ণ গর্ভ থেকে বেরিয়েই নাম পেয়েছে । নাম তো অবশ্যই চাই না ! সুতরাং তোমরা বলবে কৃষ্ণের আত্মা সুন্দর ছিল ( সত্যযুগে) তারপর শ্যাম হয়ে গেছে (কলিযুগে) । এই জন্যই তাকে শ্যামসুন্দর বলা হয় । কৃষ্ণের জন্মপরিচয় পাওয়া অর্থাত্ সম্পূর্ণ চক্রকে পাওয়া । কত রহস্যময় যা তোমরাই বুঝেছ আর কেউ জানে না । তোমাদের এখন নতুন দুনিয়া, নতুন ঘরে ফিরে যেতে হবে । যারা ভালো করে অধ্যয়ন করবে তারাই নতুন দুনিয়াতে যেতে পারবে । বাবা হলেন সম্পূর্ণ বেহদের মালিক, সমস্ত আত্মাদের পিতা । এ হল ঈশ্বরীয় পঠন-পাঠ । এর মধ্যে কোনও সংশয় বা প্রশ্ন উঠতেই পারে না । এর মধ্যে শাস্ত্রের তর্কবিতর্ক করার প্রয়োজন নেই । একজন টিচার, যিনি উচ্চতর তিনিই বসে পড়ান । এটাই সত্য । সত্য নারায়ণের সত্য কথা শিক্ষা রূপে শুনিয়ে থাকেন । আচ্ছা!



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন, স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। ঈশ্বরীয় পিতা ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার:-

১. নিজের সমস্ত হিসেব-পত্র মিটিয়ে দিয়ে সাইলেন্স ওয়ার্ল্ডে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে । স্মরণের বল দ্বারা আত্মাকে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র করে তুলতে হবে ।

২. জ্ঞান সাগরের জ্ঞানকে স্বরূপে নিয়ে আসতে হবে । বিচার সাগর মন্থন করে নিজের সমস্যা নিজেকেই সমাধান করতে হবে । জীবনমুক্তিতে শ্রেষ্ঠ পদ প্রাপ্ত করার জন্য দৈবীগুণ ধারণ করতে হবে ।

বরদান:-

সময়ের মহত্ত্বকে জেনে অতি দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে সমর্থ তীব্র গতির পুরুষার্থী ভব

সাকার পার্ট শেষ হওয়ার পরে, অব্যক্ত পার্টে আসা আত্মাদের শেষে এসেও প্রথম হওয়ার ( অত্যন্ত দ্রুত গতিতে অগ্রসর হওয়ার) বরদান রয়েছে । সুতরাং সময়ের মহত্ত্বকে জেনে প্রাপ্ত বরদানকে স্বরূপে নিয়ে আসতে হবে । এই অব্যক্ত পালনা সহজেই শক্তিশালী করে তুলতে সক্ষম, সেইজন্য যতদূর অগ্রসর হতে চাও, এগিয়ে যেতে পার । বাপদাদা আর নিমিত্ত আত্মাদের, সকলের প্রতি সবসময় আগে ওড়ার আশীষ থাকার কারণে তীব্র গতির পুরুষার্থ হওয়ার ভাগ্য সহজেই প্রাপ্ত হয়েছে ।

স্লোগান:-

"নিরাকার তথা সাকার" এই মহামন্ত্রের স্মৃতির দ্বারা নিরন্তর যোগী হয়ে ওঠো* ।