02.03.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - এখন ঘরে ফিরে যেতে হবে, তাই দেহ সহ দেহের সব সম্বন্ধকে ভুলে এক বাবাকে স্মরণ করো, এই হলো প্রকৃত গীতার সার"

প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা, তোমাদের সহজ পুরুষার্থ কি ?

উত্তরঃ -
বাবা বলেন, তোমরা সম্পূর্ণ চুপ থাকো, চুপ থাকলেই বাবার অবিনাশী আশীর্বাদ নিতে পারবে । বাবাকে স্মরণ করতে হবে আর সৃষ্টিচক্রকে ঘোরাতে হবে । বাবার স্মরনেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে, তোমাদের আয়ু বৃদ্ধি পাবে আর এই চক্রকে জানলে তোমরা চক্রবর্তী রাজা হয়ে যাবে - এই হলো সহজ পুরুষার্থ ।

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি - মিষ্টি আত্মা রূপী সন্তানদের, আত্মাদের পিতা আবার বোঝাচ্ছেন । তিনি রোজই বোঝান । বাচ্চারা তো বুঝতে পারে যে, পূর্ব কল্পের মতো বরাবর আমরা সেই গীতার জ্ঞানই পড়ছি, কিন্তু তা কৃষ্ণ পড়ান না, পরমপিতা পরমাত্মা আমাদের এই পড়া পড়ান । তিনিই আবার আমাকে রাজযোগ শেখাচ্ছেন । তোমরা এখন প্রত্যক্ষভাবে ভগবানের কাছ থেকে শুনছো । ভারতবাসীদের সমস্তকিছুই গীতার উপর নির্ভর করে, সেই গীতাতেও লেখা আছে যে, রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ রচিত হয়েছিলো । এ যেমন যজ্ঞ তেমনই পাঠশালাও । বাবা যখন এসে প্রকৃত গীতা শোনান, তখনই আমার সদগতি হয় । মানুষ এ কথা বুঝতে পারে না । বাবা, যিনি সকলের সদগতিদাতা, তাঁকেই স্মরণ করতে হবে । যদিও মানুষ গীতা পড়ে এসেছে কিন্তু রচয়িতা আর রচনাকে না জানার কারণে 'কিছুই না -- কিছুই না' করে এসেছে । প্রকৃত গীতা তো সত্যিকারের বাবা এসেই শোনান, এ হলো বিচার সাগর মন্থন করার কথা । যারা এই সেবাতে থাকবে, তাদেরই এর প্রতি মনোযোগ যাবে । বাবা বলেছেন -- প্রতিটি চিত্রে অবশ্যই যেন লেখা থাকে যে, জ্ঞানের সাগর, পতিত পাবন, গীতা জ্ঞান দাতা, পরমপ্রিয় পরমপিতা, পরম শিক্ষক, পরম সদগুরু শিব ভগবান উবাচঃ । এই অক্ষর তো অবশ্যই লেখো যাতে মানুষ বুঝতে পারে যে --কৃষ্ণ নন, ত্রিমূর্তি শিব পরমাত্মাই গীতার ভগবান । এর উপর মতামতও লেখানো হয় । আমাদের মূখ্য হলো গীতা । বাবা দিন - প্রতিদিন নতুন নতুন পয়েন্টসও দিতে থাকেন । এমন কথা মনে আসা উচিত নয় যে, একথা বাবা আগে কেন বলেন নি ? বা ড্রামাতে ছিলো না । বাবার মুরলী থেকে নতুন নতুন পয়েন্টও বের হওয়া উচিত । এমন লিখেও থাকে --উত্থান আর পতন । হিন্দীতে বলা হয় -- ভারতের উত্থান আর পতন । রাইজ অর্থাৎ দেব সাম্রাজ্যের স্থাপনা, ১০০ ভাগ পবিত্রতা, শান্তি, সমৃদ্ধির স্থাপনা হয়, এরপর অর্ধেক কল্প পরে পতন হতে থাকে । দৈত্য সাম্রাজ্যের পতন । উত্থান আর তৈরী দেব সাম্রাজ্যেরই হয় । পতনের সঙ্গে ধ্বংসও লিখতে হবে ।

তোমাদের সমস্ত কিছুই গীতার উপর নির্ভর করে । বাবা এসেই প্রকৃত গীতা শোনান । বাবা রোজ এর উপরই বুঝিয়ে বলেন । আত্মারা তো বাচ্চাই । বাবা বলেন, তোমরা এই দেহের সমস্ত বিস্তারকে ভুলে নিজেকে আত্মা মনে করো । আত্মা যখন শরীর থেকে পৃথক হয়ে যায় তখন সব সম্বন্ধ ভুলে যায় । তাই বাবাও বলেন, দেহের সব সম্বন্ধ ত্যাগ করে নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে স্মরণ করো । এখন তো তোমাদের ঘরে ফিরে যেতে হবে, তাই না । অর্ধেক কল্প ধরে ফিরে যাওয়ার জন্য অনেক ভক্তি ইত্যাদি করেছো । সত্যযুগে তো কেউ ফিরে যাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করে না । ওখানে তো সুখই সুখ । মানুষ এমন গান গেয়েও থাকে - দুঃখে সবাই স্মরণ করে, সুখে কেউই করে না, কিন্তু সুখ কখন আর দুঃখ কখন - এ কথা বোঝে না । আমাদের সব বিষয়ই হলো গুপ্ত । আমরাই তো আত্মা রূপী মিলিটারী, তাই না । আমরা শিববাবার শক্তিসেনা । এর অর্থও কেউ বুঝতে পারে না । দেবীদের এতো পুজো হয় কিন্তু মানুষ কারোর বায়োগ্রাফিই জানে না । যাঁর পুজা করে, তাঁর বায়োগ্রাফি তো জানা চাই, তাই না । উঁচুর থেকে উঁচু শিববাবার পুজো হয়, তারপর ব্রহ্মা - বিষ্ণু - শঙ্করের, তারপর লক্ষ্মী - নারায়ণ, রাধা - কৃষ্ণের মন্দির থাকে । আর তো কেউই নেই । একই শিববাবার উপর ভিন্ন - ভিন্ন নাম রেখে মন্দির বানিয়েছে । এখন তোমাদের বুদ্ধিতে সম্পূর্ণ চক্র আছে । ড্রামাতে তো মূখ্য অভিনেতাও থাকে, তাই না । সে হলো লৌকিক জগতের ড্রামা । এ হলো অসীম জগতের ড্রামা । এখানে মূখ্য কে - কে আছে, সে তো তোমরা জানোই । মানুষ তো বলে দেয় - রাম জী সংসার বানানই নি । এর উপরও এক শাস্ত্র বানানো হয়েছে । ওরা অর্থ কিছুই বোঝে না ।

বাচ্চারা, বাবা তোমাদের খুব সহজ পুরুষার্থ শিখিয়েছেন । সবথেকে সহজ পুরুষার্থ হলো - তোমরা চুপ থাকো । চুপ থাকতে পারলেই বাবার অবিনাশী উত্তরাধিকারের আশীর্বাদ নিতে পারবে । তোমাদের, বাবাকে স্মরণ করতে হবে । এই সৃষ্টিচক্রকে স্মরণ করতে হবে । বাবার স্মরনেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে । তোমরা নিরোগী হতে পারবে । তোমাদের আয়ু অনেক বেশী হবে । চক্রকে জানতে পারলে তোমরা চক্রবর্তী রাজা হতে পারবে । এখন তোমরা নরকের মালিক, এরপর স্বর্গের মালিক হবে । স্বর্গের মালিক তো সবাই হয় কিন্তু তাতে পদেরই গুরুত্ব । যতো তোমরা নিজের সমান তৈরী করতে পারবে ততই উঁচু পদ পাবে । অবিনাশী জ্ঞান রত্নের দান যদি না করো, তাহলে পরিবর্তে কি পাবে । কেউ যদি বিত্তবানের ঘরে জন্ম নেয়, তখন বলা হয় - এ পূর্ব জন্মে খুব ভালো দান - পুণ্য করেছিলো । বাচ্চারা এখন জানে যে, এই রাবণ রাজ্যে সবাই পাপই করে, সবথেকে পুণ্য আত্মা হলেন লক্ষ্মী - নারায়ণ । হ্যাঁ, ব্রাহ্মণদেরও উঁচুতে রাখা হবে যারা সবাইকে উঁচু বানায় । সে তো হলো প্রালব্ধ । এই ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণ কুল ভূষণ শ্রীমতে চলে এই শ্রেষ্ঠ কর্তব্য করে । ব্রহ্মার নাম হলো মুখ । ত্রিমূর্তি ব্রহ্মা বলা হয়, তাই না । এখন তো তোমাদের প্রতি কথায় ত্রিমূর্তি শিব বলতে হবে । ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা, শঙ্করের দ্বারা বিনাশ -- এমন মহিমা তো আছে, তাই না । বিরাট রূপও বানানো হয় কিন্তু টাতে না শিবকে দেখানো হয়, না ব্রাহ্মণদের দেখানো হয় । এও বাচ্চারা, তোমাদেরই বোঝাতে হবে । তোমাদের মধ্যেও যথার্থ রীতিতে খুব মুশকিলে মাত্র কতিপয়েরই বুদ্ধিতে বসে । অথৈ পয়েন্টস তো আছে, যাকে টপিকও বলা হয় । কতো টপিকস পাওয়া যায় । ভগবানের কাছে এই প্রকৃত গীতা শুনলে মানুষ থেকে দেবতা, বিশ্বের মালিক হয়ে যায় । এই টপিক কতো সুন্দর কিন্তু বোঝানোর মতো তো বুদ্ধি দরকার, তাই না । এই কথা পরিস্কার করে লেখা উচিত যাতে মানুষ বুঝতে পারে আর জিজ্ঞেসও করতে পারে । এ কতো সহজ । এক একটি জ্ঞানের পয়েন্ট লাখ - কোটি টাকার, যাতে তোমরা কি থেকে কি হয়ে যাও । তোমাদের প্রতি পদে পদ্ম, তাই দেবতাদেরও পদ্ম ফুলের উপরে দেখানো হয় । তোমাদের অর্থাৎ ব্রহ্মা মুখ বংশাবলী ব্রাহ্মণদের নামও লুকিয়ে দিয়েছে । ওই ব্রাহ্মণরা বগলে শাস্ত্র নিয়ে ঘোরে, গীতা রাখে । এখন তোমরা হলে প্রকৃত ব্রাহ্মণ, তোমাদের বুদ্ধিতে সত্য জ্ঞান আছে । ওদের কাছে শাস্ত্র আছে । তাই তোমাদের নেশা চড়া উচিত --- আমরা তো শ্রীমতে চলে স্বর্গ বানাচ্ছি, বাবা আমাদের রাজযোগ শেখাচ্ছেন । তোমাদের কাছে কোনো পুস্তক নেই । এই সাধারণ ব্যাজই হলো তোমাদের প্রকৃত গীতা, এতে ত্রিমূর্তির চিত্রও আছে । তাই সম্পূর্ণ গীতা এতেই এসে যায় । এক সেকেণ্ডেই সম্পূর্ণ গীতা বোঝানো যায় । এই ব্যাজের দ্বারা তোমরা সেকেণ্ডেই কাউকে বোঝাতে পারো । ইনি হলেন তোমাদের বাবা, এনাকে স্মরণ করলে তোমাদের পাপ বিনাশ হবে । ট্রেনে যেতে যেতে বা চলতে ফিরতে যাকেই পাও না কেন, তোমরা তাদের খুব ভালোভাবে বোঝাতে পারো । কৃষ্ণপুরীতে তো সবাই যেতে চায়, তাই না । এই পাঠে এমন হতে পারে এই পড়ার দ্বারাই রাজত্ব স্থাপনা হয় । অন্য ধর্ম স্থাপকরা কোনো রাজত্ব স্থাপন করেন না । তোমরা জানো যে, আমরা ভবিষ্যত ২১ জন্মের জন্য রাজযোগ শিখছি । এ কতো সুন্দর পড়া । রোজ কেবল এক ঘন্টা পড়ো । ব্যস । ওই পড়া তো চার - পাঁচ ঘণ্টার জন্য হয় । এখানে এক ঘন্টাই যথেষ্ট । সেও সকালের সময় এমন যে সেইসময় সবাই ফ্রী থাকে । বাকি যারা নানা বন্ধনে আছে, সকালে আসতে পারে না, তাদের জন্য অন্য সময় রাখা আছে । ব্যাজ যেন লাগানো থাকে, যেখানেই যাও, এই খবর দিতে থাকো । খবরের কাগজে তো ব্যাজ দিতে পারবে না, একদিকের ছবি দিতে পারবে । মানুষকে তো না বোঝালে এমনিতে বুঝতেই পারবে না । এ হলো খুবই সহজ । এই কাজ তো যে কেউই করতে পারে । আচ্ছা, নিজে যদি স্মরণ নাও করে, অন্যকে তো স্মরণ করাতে থাকো । এও ভালো । অন্যকে বলবে - তোমরা দেহী অভিমানী হও আর নিজে যদি দেহ ভাবে থাকো তখন কিছু না কিছু বিকর্ম হতে থাকবে । প্রথমে তুফান আসে মনে, তারপর কর্মে আসে । মনে অনেক তুফান আসবে, এর উপর বুদ্ধির দ্বারা কাজ করতে হবে, খারাপ কাজ কখনোই করবে না । তোমাদের ভালো কর্ম করতে হবে । সঙ্কল্প যেমন ভালোও হয় তেমনই খারাপও আসে । খারাপ সঙ্কল্প আসাকে আটকানো উচিত । এই বুদ্ধি বাবা দিয়েছেন । অন্য কেউই এ কথা বুঝতে পারবে না । ওরা তো ভুল কাজই করতে থাকে । তোমাদের এখন সঠিক কাজই করতে হবে । ভালো পুরুষার্থ করলে সঠিক কাজই হয় । বাবা তো প্রতিটি কথা খুব ভালোভাবে বোঝাতে থাকেন । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এই এক একটি অবিনাশী জ্ঞান রত্ন লক্ষ - কোটি টাকার, একে দান করে করে প্রতি পদে পদ্ম সম উপার্জন জমা করতে হবে । নিজের তুল্য করে উঁচু পদ পেতে হবে ।

২ ) বিকর্ম থেকে বাঁচার জন্য দেহী - অভিমানী থাকার পুরুষার্থ করতে হবে । মনে যদি কখনো খারাপ সঙ্কল্প আসে, তাকে আটকাতে হবে । সুন্দর সঙ্কল্প করতে হবে । কর্মেন্দ্রিয়ের দ্বারা কখনো কোনো ভুল কাজ করবে না ।

বরদান:-
সেবার দ্বারা যোগযুক্ত স্থিতির অনুভব করে আত্মিক সেবাধারী ভব

ব্রাহ্মণ জীবন হলো সেবার জীবন । মায়ার থেকে দূরে থাকার শ্রেষ্ঠ সাধন হলো সেবা । সেবা যোগযুক্ত করে, কিন্তু কেবল মুখের সেবা নয়, মধুর বাণী শুনে তার স্বরূপ হয়ে সেবা করো, নিঃস্বার্থ সেবা করো, ত্যাগ, তপস্যা স্বরূপে সেবা করো, জাগতিক কামনার উর্ধ্বে নিষ্কাম সেবা করো - একেই বলা হয় ঈশ্বরীয় বা আত্মিক সেবা । মুখের সঙ্গে মনের দ্বারাও সেবা করা, অর্থাৎ 'মনমনাভব' স্থিতিতে স্থিত হওয়া ।

স্লোগান:-
আকৃতিকে না দেখে নিরাকার বাবাকে দেখবে, তাহলে আকর্ষণ মূর্ত হয়ে যাবে ।


মাতেশ্বরী জীর অমূল্য মহাবাক্য
কর্ম বন্ধন ছিন্ন করার পুরুষার্থ
অনেক মানুষই এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে যে, আমাদের কি করতে হবে, কিভাবে আমাদের কর্ম বন্ধন ছিন্ন করবো ? এখন প্রত্যেকেরই জন্মপত্রী তো বাবা জানেন । বাচ্চাদের কাজ হলো এক বার নিজের মন থেকে বাবার প্রতি যেন সমর্পিত হয়ে যায়, নিজের দায়িত্ব তাঁর হতে দিয়ে দেয় । তখন তিনি প্রত্যেককে দেখেই রায় দেবেন যে, তোমাকে কি করতে হবে, প্রত্যক্ষভাবে সাহায্যও নিতে হবে, বাকি এমন নয় যে, শুনতে থাকো আর নিজের মতে চলতে থাকো । বাবা যখন সাকারে আছেন তখন বাচ্চাদেরঔ স্থূলভাবে পিতা, গুরু, টিচারের সাহায্য নিতে হবে । এমন নয় যে, আজ্ঞা পেলে আর পালন করতে পারলে না, তাহলে আরো অকল্যাণ হয়ে যাবে । তাই আদেশ পালন করারও সাহস চাই, সর্বময় কর্তা তো মনোরঞ্জনকারী, তিনি জানেন যে, এর কল্যাণ কিসে, তাই তিনি এমন নির্দেশ দেবেন যে কর্ম বন্ধন কাটো । কারোর তখন এই খেয়াল আসা উচিত নয় যে, এরপর বাচ্চা ইত্যাদিদের কি হাল হবে ? এতে বাড়ী - ঘর ত্যাগ করার কোনো কথা নেই, এ তো কিছু বাচ্চার এই ড্রামাতে পার্ট ছিলো এমন সব ছিন্ন করার, তাদের যদি এমন পার্ট না থাকতো, তাহলে তোমাদের এখন যে সেবা হচ্ছে, তাহলে তা কে করতো ? এখন তো কিছু ত্যাগ করার কথা নেই, কিন্তু তোমাদের পরমাত্মার হয়ে যেতে হবে, তোমরা ভয় পেও না, সাহস রাখো । বাকি যারা ভয় পায়, তারা নিজেরা তো খুশী থাকেই না, না তারা বাবার সাহায্যকারী হয় । এখানে তো তাঁর সঙ্গে সম্পূর্ণ সাহায্যকারী হতে হবে, যখন তোমরা জীবন্মৃত হতে পারবে, তখনই সাহায্যকারী হতে পারবে । কোথাও আটকে গেলে তখন সে তোমাদের সাহায্য দিয়ে পার করবে । তাই বাবার সঙ্গে মন - বচন এবং কর্মে সাহায্যকারী হতে হবে, এতে সামান্যতম মোহের রং থাকলে তা তোমাদের ফেলে দেবে । তাই তোমরা সাহস রাখো আর সামনে এগিয়ে যাও । কোথাও যদি সাহস কম হয় তো ঝিমিয়ে যায়, তাই তোমাদের বুদ্ধিকে সম্পূর্ণ পবিত্র রাখতে হবে, বিকারের সামান্য অংশও যেন না থাকে, লক্ষ্য কি দূরে নাকি ? কিন্তু চড়াই সমান্য টেরাবাঁকা, কিন্তু সমর্থকে অবলম্বন করলে না ভয় আর না পরিশ্রম । আচ্ছা । ওম্ শান্তি ।