02.07.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা ভবিষ্যতের ২১ জন্মের জন্য তোমাদের এখানেই পঠন-পাঠন করতে হবে, দৈবীগুণ ধারণ করতে হবে এবং অন্যদের করাতে হবে"

প্রশ্নঃ -
কোন্ বাচ্চাদের বুদ্ধির তালা নম্বরানুসারে খুলতে থাকে ?

উত্তরঃ -
যারা শ্রীমতে চলে। পতিত-পাবন বাবার স্মরণে থাকে। জ্ঞান প্রদান করেন যিনি তাঁর সাথে যার যোগ থাকে তারই বুদ্ধির তালা খুলতে থাকে। বাবা বলেন বাচ্চারা, অভ্যাস কর আমরা আত্মারা সবাই ভাই-ভাই , বাবার কাছে শুনছি । দেহী -অভিমানী হয়ে শোন আর শোনাও তবেই বুদ্ধির তালা খুলতে থাকবে।

ওম্ শান্তি ।
বাবা বাচ্চাদের বোঝান - যখন এখানে এসে বসো, এমন নয় যে শুধু শিববাবার স্মরণে থাকতে হবে। সেটা হবে শুধুমাত্র শান্তির জন্য তার সাথে সুখও প্রয়োজন। তোমাদের শান্তিতে থাকতে হবে আর স্বদর্শন চক্রের রাজত্বকেও স্মরণ করতে হবে। তোমরা পুরুষার্থ করছই নর থেকে নারায়ণ হয়ে ওঠার অথবা মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার জন্য। এখানে কারো মধ্যে যতই দৈবীগুণ থাকুক না কেন তাকে দেবতা বলা যাবে না। দেবতা হয় স্বর্গে । দুনিয়াতে মানুষ স্বর্গ সম্পর্কে কিছুই জানে না। তোমরা বাচ্চারা জান নতুন দুনিয়াকে স্বর্গ আর পুরানো দুনিয়াকে নরক বলা হয়। ভারতবাসীরা এটা জানে যে দেবতারা সত্যযুগে রাজত্ব করত, তাদের চিত্র-ও ভারতেই রয়েছে। এ হলো আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের। এদের চিত্রকে বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয় পূজা করার জন্য। বাইরে যেখানেই যাক না কেন সেখানেই মন্দির নির্মাণ করে থাকে । প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী যেখানেই যাক না নিজেদের চিত্রকেই পূজা করে থাকে। যে সব গ্রামাঞ্চলে বিজয় প্রাপ্ত করে থাকে ( নিজ ধর্মের ফলোয়ার তৈরি করে, ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয় ) সেখানেই চার্চ ইত্যাদি নির্মাণ করে থাকে । প্রত্যেক ধর্মের চিত্র আছে নিজ-নিজ আরাধনার জন্য। প্রথমে তোমরাও জানতে না যে আমরাই দেবী-দেবতা ছিলাম। নিজেদের তাদের থেকে আলাদা মনে করে পূজা করতে । অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা যখন পূজা করে তারা জানে যে ইনি আমাদের ধর্ম স্থাপক ক্রাইস্ট, আর আমরা ক্রিশ্চান অথবা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। হিন্দুরা নিজেদের ধর্মকে না জানার কারণে নিজেদের হিন্দু বলে থাকে আর দেবতাদের পূজা করে। এটাও জানে না আমরা আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের, আমাদের পূর্ব পুরুষদের পূজা করি । ক্রিশ্চানরা ক্রাইস্টকে পূজা করে। ভারতবাসীদের জানা নেই আমাদের প্রকৃত ধর্ম কি ? সেই ধর্ম কে স্থাপন করেছিল ? বাবা বলেন এই ভারতের আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম যখন প্রায় লুপ্ত হয়ে যায় তখন আমি আসি পুনরায় স্থাপন করতে। এই জ্ঞান এখন বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। প্রথমে কিছুই জানতে না, না জেনেই ভক্তি মার্গের চিত্রদের পূজা করতে। এখন তোমরা জান আমরা ভক্তি মার্গে নেই। এখন তোমরা ব্রাহ্মণ কুল ভূষণ আর শূদ্র কুল বর্ণের মধ্যে রাত-দিনের পার্থক্য, এটাও তোমরা বুঝেছ। সত্য যুগে মনে থাকবে না। এই সময়েই তোমরা বুঝে বিচক্ষণ হয়ে ওঠো । বাবা আত্মাদের জ্ঞান প্রদান করে বিচক্ষণ করে তোলেন। পুরানো দুনিয়া আর নতুন দুনিয়া সম্পর্কে তোমরা ব্রাহ্মণরাই জান । পুরানো দুনিয়াতে অসংখ্য মানুষ। এখানে মানুষ কত লড়াই -ঝগড়া করে । এ হলো কাঁটার জঙ্গল। তোমরা জান আমরাও কাঁটা ছিলাম । এখন বাবা আমাদের ফুল তৈরি করছেন । কাঁটা এই সুগন্ধ যুক্ত ফুলকে প্রণাম করে। এই রহস্য তোমরা এখন জেনেছ। আমরা দেবতা ছিলাম এখন আবার সুগন্ধ যুক্ত ফুল ( ব্রাহ্মণ)হচ্ছি। বাবা বুঝিয়েছেন এটাই ড্রামা। আগে ড্রামা, বায়োস্কোপ ইত্যাদি ছিল না। এসবই এখন হয়েছে। কেন তৈরি হয়েছে এমন ? কেননা বাবার দৃষ্টান্ত দিতে সুবিধে হবে । বাচ্চারাও বুঝতে পারে । সায়েন্সও তোমরা বাচ্চাদের শিখতে হবে তাইনা। বুদ্ধিতে সায়েন্সের সংস্কার ধারণ করলে সত্য যুগে কাজে আসবে। দুনিয়া কখনোই সম্পূর্ণ রূপে শেষ হয়ে যাবে না। সংস্কার নিয়ে আবার পুণর্জন্ম হবে। বিমান ইত্যাদিও তৈরি করবে। যে-যে জিনিস কাজের উপযোগী সবই সত্য যুগে তৈরি হবে। স্টীমার নির্মাণ কারীও থাকবে কিন্তু ওখানে স্টীমার কোনও কাজে আসবে না। জ্ঞান নিক বা না নিক তার সংস্কার ওখানে কাজে আসবে না। ওখানে স্টীমার ইত্যাদির প্রয়োজন নেই। ড্রামাতে নেই । তবে হ্যাঁ, বিমান, বিদ্যুৎ ইত্যাদির প্রয়োজন পড়বে । ঐ সব আবিষ্কার বের করতেই থাকবে। বাচ্চারা সব শিখে আসে। এইসব বিষয় তোমরা বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আছে ।

তোমরা জানো, আমরা পড়াশোনা করছি নতুন দুনিয়ার জন্য। বাবা আমাদের ২১ জন্মের জন্য শিক্ষা প্রদান করছেন। আমরা স্বর্গবাসী হওয়ার জন্য পবিত্র হচ্ছি । প্রথমে নরকবাসী ছিলাম । মানুষ বলেও থাকে অমুক স্বর্গবাসী হয়েছে। কিন্তু আমরা নরকে আছি সেটা জানা নেই । বুদ্ধির তালা খোলেনা। বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধির তালা এখন ধীরে-ধীরে খুলছে, নম্বরানুসারে। তালা তারই খুলবে যে শ্রীমত অনুসারে চলার জন্য একনিষ্ঠ হবে আর পতিত-পাবন বাবাকে স্মরণ করবে। বাবা জ্ঞান প্রদান করেন এবং স্মরণ করতেও শেখান । তিনি তো শিক্ষক তাইনা, সুতরাং টিচার যখন অবশ্যই পড়াবেন । যত টিচার এবং পঠন-পাঠনের প্রতি যুক্ত থাকবে ততই উচ্চ পদ প্রাপ্ত করবে। লৌকিক পড়াশোনাতেও যুক্ত থাকতেই হয়। জানে যে ব্যারিস্টার পড়াচ্ছেন। এখানে বাবা এসে পড়াচ্ছেন। ভুলেও যাও ঈশ্বর পড়াচ্ছেন নতুন বিষয় না ! দেহকে স্মরণ করা অতিব সহজ। প্রতি মুহূর্তে দেহ স্মরণে আসে । আমরা আত্মা এটাই ভুলে যাও । আমরা আত্মাদের পিতা বোঝাচ্ছেন। আমরা আত্মারা ভাই-ভাই। বাবা তো জানেন আমি পরমাত্মা, আত্মাদের শেখান যে নিজেকে আত্মা মনে করে অন্য আত্মাদেরও বসে শেখাও। আত্মা কান দ্বারা শোনে, শোনান পরমপিতা পরমাত্মা। তাঁকে সুপ্রিম আত্মা বলা হয়। তোমরা যখন কাউকে বোঝাও বুদ্ধিতে থাকা উচিত আমার আত্মার মধ্যে জ্ঞান আছে, আত্মাকে এ বিষয়ে শোনাচ্ছি। আমি বাবার কাছে যা শুনছি সেটাই আত্মাদের শোনাচ্ছি। এই বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন। তোমরা অন্য আত্মাদের যখন পড়াও দেহী-অভিমানী হয়ে পড়াও না, ভুলে যাও । তোমাদের লক্ষ্য তো একটাই, বুদ্ধিতে এটাই স্মরণ থাকা উচিত আমি আত্মা অবিনাশী। আমি আত্মা এই কর্মেন্দ্রিয় দ্বারা ভূমিকা পালন করছি । তোমরা শুদ্র কুলে ছিলে, এখন ব্রাহ্মণ কুলের হয়েছ। এরপর দেবতা কুলে যাবে। ওখানে শরীরও পবিত্র পাবে। আমরা আত্মারা ভাই-ভাই । বাবা আমাদের পড়ান। বাচ্চারা বলবে আমরা ভাই-ভাই, ভাইকে পড়াই, আত্মাকেই বোঝাই । আত্মা শরীর দ্বারা শোনে । অর্ধকল্প ধরে তোমরা দেহ-অভিমানে ছিলে । এইসময় তোমাদের দেহী-অভিমানী হয়ে থাকতে হবে। নিজেকে আত্মা নিশ্চিত করতে হবে। আত্মা নিশ্চিত করে বসো, আত্মা নিশ্চিত করে শোন । পরমপিতা পরমাত্মাই শোনান তবেই তো বলে থাকেন আত্মা পরমাত্মা বহুকাল আলাদা ছিল ...... ওখানে গিয়ে তিনি পড়ান না । এখানে এসেই পড়ান ।সব আত্মাদের নিজ -নিজ শরীর আছে। বাবা হলেন সুপ্রিম সোল, ওঁনার শরীর নেই। ওঁনার আত্মার নাম শিব । তোমরা জান এই শরীর আমার নয় । আমি সুপ্রিম আত্মা, আমার মহিমা ভিন্ন । প্রত্যেকের নিজ-নিজ মহিমা আছে। গায়নও আছে পরমপিতা পরমাত্মা ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপনা করেন। তিনি জ্ঞানের সাগর, মনুষ্য সৃষ্টির বীজরূপ । তিনিই সত্য, চৈতন্য, আনন্দময়, সুখ-শান্তির সাগর। এসবই হলো বাবার মহিমা। বাচ্চাদের বাবার প্রপার্টি সম্পর্কে জানা থাকে আমার বাবার এই কারখানা আছে, মিল আছে ( লৌকিক) নেশা ( সম্পত্তির) থাকে না ! বাচ্চাই সেই প্রপার্টির মালিক হয় । প্রপার্টি তো একবারই প্রাপ্ত হয়। বাবার কাছে কি কি প্রপার্টি আছে , বল ।

তোমরা আত্মারা অমর, কখনো মৃত্যু হয় না। প্রেমের সাগর হয়ে ওঠো । লক্ষ্মী-নারায়ণ প্রেমের সাগর, তাদের মধ্যে কখনও লড়াই-ঝগড়া হয় না। এখানে তো কত লড়াই-ঝগড়া করে থাকে। প্রেমেও কত লড়াই । বাবা এসে বিকার বন্ধ করান যখন কত অত্যাচার সইতে হয়। বাবা বলেন বাচ্চারা পবিত্র হলে তবেই পবিত্র দুনিয়ার মালিক হতে পারবে। কাম হলো মহাশত্রু সেইজন্যই বাবার কাছে যখন আসে বলা হয় যা বিকর্ম হয়েছে, সেইসব বাবাকে বলে হালকা হয়ে যাও । প্রধান বিষয়ই হলো বিকারের । বাবা বাচ্চাদের কল্যাণার্থেই জিজ্ঞাসা করেন । বাবাকেই আহ্বান করে বলে থাকে হে - পতিত-পাবন এসো কেননা বিকারগ্রস্তদেরই পতিত বলা হয়। এই দুনিয়া পতিত, মানুষ পতিত , ৫ তত্ত্ব-ও পতিত । সত্য যুগে তোমাদের জন্য পবিত্র তত্ত্ব প্রয়োজন। এই আসুরিক পৃথিবীতে দেবতাদের ছায়া পড়তে পারে না। লক্ষ্মীকে আহ্বান করে থাকে কিন্তু এখানে কিভাবে আসবে । এই ৫ তত্ত্বই পরিবর্তনের প্রয়োজন। সত্য যুগ হলো নতুন দুনিয়া আর এটা হলো পুরানো দুনিয়া। এর বিনাশের সময় হয়েছে। মানুষ মনে করে এখনও ৪০ হাজার বছর বাকি আছে । কল্পই যেখানে ৫ হাজার বছরের সেখানে কলিযুগ ৪০ হাজার বছরের কিভাবে হতে পারে! কত অজ্ঞান অন্ধকার মানুষ। জ্ঞান-ই নেই। ভক্তি হলো ব্রাহ্মণদের রাত , জ্ঞান হলো ব্রহ্মা আর ব্রাহ্মণদের দিন । যা এখন প্র্যাকটিকালি হচ্ছে। সিঁড়িতে পরিষ্কার করে দেখানো হয়েছে। নতুন দুনিয়া আর পুরানো দুনিয়া অর্ধকল্প ধরে। এমন নয় যে নতুন দুনিয়া বেশি সময়ের জন্য আর পুরানো দুনিয়া অল্প সময়ের জন্য। তা নয়, সম্পূর্ণ অর্ধেক-অর্ধেক । অর্ধেক না হলে নির্দিষ্টভাবে ভাগ-ও করা যাবে না।

স্বস্তিকাতেও ৪ ভাগ দেখানো হয়েছে, ওরা বিশ্বাস করে ( ভক্তি মার্গে) এর মধ্যে গণেশ আছে। তোমরা বাচ্চারা এখান বুঝেছ এই পুরানো দুনিয়া বিনাশ হবে, আমরা নতুন দুনিয়ার জন্য পড়াশোনা করছি । আমরা নতুন দুনিয়ার জন্য নর থেকে নারায়ণ হয়ে উঠছি। কৃষ্ণ-ও নতুন দুনিয়ার । কৃষ্ণের জন্য গায়ন আছে, তাকে মহাত্মা(মহান আত্মা ) বলা হয়। কেননা ছোট বাচ্চা । ছোট বাচ্চা সবারই প্রিয় হয়। বড়দের এতো কেউ ভালোবাসেনা যতটা ছোটদের ভালোবাসে কেননা তখন সতোপ্রধান অবস্থা থাকে বাচ্চাদের , বিকারের কোনও গন্ধ থাকে না। বড় হওয়ার পরেই বিকারী গন্ধ তৈরি হয়। বাচ্চাদের কখনোই ক্রিমিনাল দৃষ্টি হতে পারে না। এই দৃষ্টি-ই প্রতারিত করে এবং এই কারণেই উদাহরণ দেওয়া হয়েছে যে নিজের চোখ উপড়ে ফেলেছে । এমন কোনো কিছু ঘটেনি, কেউ এভাবে নিজের চোখ উপড়ে ফেলে না ।বাবা দৃষ্টান্ত স্বরূপ জ্ঞানের কথা বুঝিয়ে থাকেন। তোমরা এখন জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত করেছ । আত্মা আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জন করেছে। আত্মার মধ্যেই জ্ঞান সঞ্চিত থাকে। বাবা বলেন আমার মধ্যে জ্ঞান আছে। আত্মাকে নির্লেপ বলা যায় না। আত্মাই এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীর ধারণ করে। আত্মা অবিনাশী, কত ছোট বিন্দু, তার মধ্যে ৮৪ জন্মের পার্ট সঞ্চিত আছে । ওরা নির্লেপ বলে দেয়, সেইজন্যই বাবা বলেন, প্রথমে আত্মাকে রিয়েলাইজ কর । কেউ-কেউ জিজ্ঞাসা করে জানোয়াররা কোথায় যাবে? জানোয়ারের কথা ছাড়ো, প্রথমে আত্মাকে রিয়েলাইজ কর । আমি আত্মা কেমন ? আমি কি ......? বাবা বলেন যখন নিজেকেই আত্মা বলে জানোনা, আমাকে কি করে জানবে । এসবই সূক্ষ্ম বিষয় তোমরা বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আছে। আত্মার মধ্যে ৮৪ জন্মের পার্ট সঞ্চিত আছে যা বাজতেই থাকে। কেউ-কেউ বলে ড্রামায় নির্ধারিত আছে যখন পুরুষার্থ কেন করব ! বাবা বলেন পুরুষার্থ ছাড়া তো জল-ও পাওয়া যাবে না। এমন নয় যে, ড্রামা অনুসারে সবকিছু সহজেই পেয়ে যাবে , কর্ম তো অবশ্যই করতে হবে। কর্ম ভালো ,মন্দ দুটোই হয় । এটা বুদ্ধি দিয়ে বুঝতে হবে। বাবা বলেন এটা রাবণ রাজ্য, এখানে তোমাদের কর্ম বিকর্ম হয়ে যায়। ওখানে রাবণ রাজ্যই নেই যে বিকর্ম হবে । আমিই তোমাদের কর্ম, অকর্ম, বিকর্মের গতি বুঝিয়ে থাকি । ওখানে তোমাদের কর্ম অকর্ম হয়ে যায়। গীতা পাঠ করে যারা তারাও এর অর্থ জানে না। ওরা তো শুধু পড়ে শুনিয়ে থাকে, সংস্কৃত শ্লোক শুনিয়ে তারপর হিন্দিতে অর্থ বলে দেয়। বাবা বলেন, কিছু-কিছু শব্দ ঠিকই আছে। ভগবানুবাচ আছে, কিন্তু ভগবান কাকে বলে, এটা কারও জানা নেই। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-স্মরণ আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১) অসীম জগতের পিতার প্রপার্টির আমি আত্মা মালিক, বাবা যেমন শান্তি, পবিত্রতা, আনন্দের সাগর, আমি আত্মাও তেমনি মাস্টার সাগর এমনই ঈশ্বরীয় নেশায় থাকা উচিত।

২) ড্রামা বলে পুরুষার্থ ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। কর্ম অবশ্যই করতে হবে। কর্ম-অকর্ম-বিকর্মের গতিকে বুঝে সবসময় শ্রেষ্ঠ কর্ম করতে হবে।

বরদান:-
সদা বাবার অবিনাশী আর নিঃস্বার্থ প্রেমে একাত্ম থেকে মায়াপ্রুফ ভব

যে বাচ্চারা সবসময় বাবার প্রেমে একাত্ম থাকে মায়া তাদের আকর্ষণ করতে পারে না। যেমন ওয়াটার প্রুফ কাপড় হয় জলের একফোঁটাও কাপড়ে টিকতে পারে না, তেমনই যে বাবার প্রেমে একাত্ম থাকে সে মায়াপ্রুফ হয়ে যায়। মায়ার কোনও তীর তাকে বিদ্ধ করতে পারে না, কেননা বাবার ভালোবাসা অবিনাশী আর নিঃস্বার্থ, এর অনুভাবী যে হবে সে অল্প কালের প্রেমের জালে জড়াবে না । এক বাবা আর আমি এর মধ্যে তৃতীয় কেউ আসতেই পারবে না।

স্লোগান:-
আসক্তিহীন অথচ প্রিয় হয়ে কর্ম করতে সমর্থরাই ফুলস্টপ বসাতে পারে ।