02-08-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 01-03-86 মধুবন


*হোলিহংস বুদ্ধি, বৃত্তি, দৃষ্টি আর মুখ*


আজ বাপদাদা সব হোলিহংসের সভা দেখছেন, এই সভা সাধারণ নয় l বরং আধ্যাত্মিক হোলি হংসদের সভা l বাপদাদা প্রত্যেক হোলি হংসকে দেখছেন, সবাই কতখানি হোলিহংস হয়েছে l হংসের বিশেষত্ব ভালো করে জানো তোমরা ? সবার আগে হংস বুদ্ধি অর্থাৎ যে সদা প্রত্যেক আত্মার জন্য শ্রেষ্ঠ এবং শুভ ভাবনা রাখে l হোলিহংস অর্থাৎ খুব ভালো করে কাঁকর আর রত্নের পরখ করতে পারে, আর তারপরে ধারণ করে l প্রথমে সব আত্মার ভাব পরখ করে ও সেই অনুযায়ী ঠিকঠাক করে নেয় l কখনও বুদ্ধিতে কোনও আত্মার প্রতি অশুভ বা সাধারণ ভাব পোষণ করে না l তোমরা সদা শুভ ভাব আর শুভ ভাবনা ধারণ করবে l যখন তুমি অন্যের ভাব জানবে, কখনও কারও সাধারণ স্বভাব বা ব্যর্থ স্বভাবের প্রভাব পড়বে না l শুভ ভাব, শুভ ভাবনা, যেটা তোমরা ভাব-স্বভাব বলো, যদি তা' ব্যর্থ হয় তাহলে সেটা পরিবর্তন করতে হবে l বাপদাদা দেখছেন কতখানি তোমরা এমন হোলিহংস বুদ্ধি হয়েছ, অনুরূপভাবে কতখানি তোমাদের হংস-বৃত্তি হয়েছে অর্থাৎ সদা সকল আত্মার প্রতি শ্রেষ্ঠ কল্যাণের বৃত্তি হয়েছে ! সব আত্মার অকল্যাণের বিষয়ে শুনে ও দেখে অকল্যাণকে কল্যাণের বৃত্তি দ্বারা পরিবর্তন করাকেই বলে - হোলিহংস বৃত্তি l নিজের কল্যাণ বৃত্তি দ্বারা অন্যদেরও পরিবর্তন করতে পার l অন্যের অকল্যাণ বৃত্তিকে আপন কল্যাণ বৃত্তি দ্বারা বদলে নেওয়া - এটাই হোলিহংসের কর্তব্য l একইরকমভাবে, দৃষ্টিতে সদা সব আত্মার প্রতি শ্রেষ্ঠ শুদ্ধ স্নেহের দৃষ্টি থাকবে l যে যেমনই হোক, কিন্তু নিজের দিক থেকে সবার প্রতি দেহাতীত আত্মিক স্নেহের দৃষ্টি ধারণ কর l একেই বলে, হোলিহংস দৃষ্টি l বোলের ক্ষেত্রে তোমাদের আগেও এইভাবে বলা হয়েছে যে মন্দ বোল আলাদা বিষয়, যা ব্রাহ্মণদের ক্ষেত্রে বদলে গেছে, কিন্তু ব্যর্থ বোলকেও হোলি হংস মুখ বলা হবে না l মুখও হতে হবে হোলি হংস মুখ, *যার মুখ থেকে কখনো ব্যর্থ বের হয় না, তাকেই বলা যাবে হংস মুখ স্থিতি l* সুতরাং, হোলিহংস বুদ্ধি, বৃত্তি, দৃষ্টি আর মুখ, এই সবই যখন পবিত্র অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ হয়ে যায়, তখন নিজে থেকেই হোলি হংসের স্থিতির প্রত্যক্ষ প্রভাব দেখা দেয় l অতএব, সবাই নিজেকে নিজে দেখ, কতখানি হোলি হংস হয়ে সদা চলাফেরা করছ ! কারণ, স্ব উন্নতির জন্য সময় বেশি নেই, সেইজন্য নিজেকে নিজে চেক কর আর চেঞ্জ কর l

এই সময়ের পরিবর্তন বহুকালের পরিবর্তিত গোল্ডেন দুনিয়ার অধিকারী বানাবে l এই ইশারা বাপদাদা আগেও করেছেন l নিজের দিকে ডবল আন্ডারলাইনে অ্যাটেনশন দিয়েছ তোমরা ? *এখন অল্প সময়ের অ্যাটেনশন দিয়ে যে শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির প্রালব্ধ লাভ হয়, তা' বহুকালের অ্যাটেনশনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তির প্রালব্ধের সমতুল্য হবে, সেইজন্য এই স্বল্প সময় অতি শ্রেষ্ঠ, সুন্দর ও সুখদায়ী l পরিশ্রমেরও প্রয়োজন নেই, শুধু বাবা বলেছেন আর তোমরা ধারণ করেছ, আর ধারণ করাতে তা' নিজে থেকেই প্র্যাকটিক্যাল হয়ে যাবে l ধারণ করাই হোলি হংসের কাজ l তাহলে এটা হোলি হংসদের সভা, তাই না ! তোমরা নলেজফুল হয়েছ l ব্যর্থ বা সাধারণকে খুব ভালোভাবে জেনে গেছ l কোনকিছু ভালোভাবে জানার পরে সেটা তোমাদের কর্মাভ্যাসে আপনা থেকেই এসে যায় l যে কোন ক্ষেত্রেই তোমরা সাধারণ ভাষায় এটাই তো বলো, এবারে আমি বুঝতে পেরেছি, আর তারপরে সেটা না করে তোমরা থাকতে পার না l সুতরাং আগে চেক কর, সাধারণ এবং ব্যর্থ কি ? কখনো ব্যর্থ বা সাধারণকেই শ্রেষ্ঠ মনে করে নাও না তো ? সেইজন্য প্রথম এবং মুখ্য হলো হোলিহংস বুদ্ধি l এর মধ্যেই নিজে থেকে পরখ করার শক্তি বিকশিত হয় l কারণ সঙ্কল্প আর সময় তখনই ব্যর্থ হয়ে যায়, যখন কোনকিছুর রাইট বা রংয়ের পরখ থাকে না l নিজের ব্যর্থকে, রংকে রাইট মনে করে নিলে, তখনই সময় বেশি ব্যর্থ হয়ে যায় l হয় ব্যর্থ, কিন্তু মনে করে যে 'আমি সমর্থ, রাইট ভাবছি l' 'যা আমি বলেছি সেটাই রাইট l' এক্ষেত্রে, পরখ করার শক্তি না থাকার কারণে মনের শক্তি, সময়ের শক্তি, বাণীর শক্তি সব চলে যায় l আর অন্যের থেকে সাহায্য নেওয়ার বোঝাও চেপে যায় l কারণ ? কারণ তোমাদের হোলিহংস বুদ্ধি তৈরি থাকে না l সুতরাং *বাপদাদা সব হোলিহংসকে আবারও এই ইশারা দিচ্ছেন যে ভুলকে ভুল হিসেবে দেখ না l সবক্ষেত্রেই ইনি ভুল, এইরকম ভেবো না ; বরং যেটা ভুল সেটা কীভাবে ঠিক করতে পার সেই বিষয়ে ভাবো l একেই বলে, কল্যাণের ভাবনা l* শ্রেষ্ঠ ভাব, শুভ ভাবনা দ্বারা নিজের ভাব-স্বভাব এবং অন্যের ভাব-স্বভাবকে পরিবর্তন করার বিজয় প্রাপ্ত করবে ! বুঝেছ ! প্রথমে স্ব-এর উপরে বিজয়ী, তারপরে সবার উপরে বিজয়ী, তার পরে প্রকৃতির উপরে বিজয়ী হবে l এই তিন বিজয় তোমাদের বিজয় মালার দানা বানাবে l বায়ুমন্ডল, ভাইব্রেশন অথবা স্থূল প্রকৃতির সমস্যা সব প্রকৃতির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত l তাহলে তোমরা এই তিনের উপরে বিজয়ী হয়েছ ? এই আধারে বিজয় মালাতে নিজের নম্বর তোমরা দেখতে পার, সেইজন্যই নাম রাখাই হয়েছে বৈজয়ন্তী মালা l তবে সবাই তোমরা বিজয়ী ? আচ্ছা !

আজ এই টার্ন যারা অস্ট্রেলিয়া থেকে এসেছে তাদের, অস্ট্রেলিয়া থেকে আগতদের মধুবন থেকেও গোল্ডেন চ্যান্সেলর হওয়ার চান্স লাভ হয়, কারণ তোমরা সবাইকে তোমাদের সামনে রাখার চান্স দাও, এটা তোমাদের বিশেষত্ব l অন্যদের সামনে রাখার এই চান্স দেওয়া অর্থাৎ চ্যান্সেলর হওয়া l যারা চান্স নেয়, যারা চান্স দেয়, উভয়কে চ্যান্সেলর বলে l বাপদাদা সদা সব বাচ্চার বিশেষত্ব দেখে তা' বর্ণন করেন l অস্ট্রেলিয়াতে পাণ্ডবরা সেবার বিশেষ চান্স পেয়েছে l সেন্টারের বেশিরভাগই পাণ্ডব সামলায় l শক্তিরা পাণ্ডবদের চান্স দিয়েছে l যারা অন্যদের সামনে রাখে তারা সবসময় সামনেই থাকে l এটাও শক্তিদের উদারতা l কিন্তু তোমরা, পাণ্ডবরা, নিজেদের নিমিত্ত মনে করে সেবাতে এগিয়ে যাচ্ছ, তাই তো ? সেবাতে নিমিত্ত ভাবই সেবার সফলতার আধার l বাপদাদা তিন শব্দ বলেন, যা সাকার দ্বারাও লাস্টে উচ্চারণ করেছেন l "নিরাকারী, নির্বিকারী এবং নিরহঙ্কারী l" নিমিত্ত ভাব দ্বারা এই তিন বিশেষত্ব নিজে থেকেই বিকশিত হয় l নিমিত্ত ভাব যদি না হয়, তাহলে এই তিন বিশেষত্বের অনুভব হয় না l নিমিত্ত ভাব অনেক রকম আমি-ভাব এবং আমিত্বভাব সহজেই শেষ করে দেয় l না আমি, না আমার l স্থিতিতে যে চঞ্চলতার উদ্রেক হয় তা' এই একের অভাবের কারণে l সেবাতেও পরিশ্রম করতে হয় এবং নিজের উড়তি কলার স্থিতিতেও পরিশ্রম হয় l নিমিত্ত হওয়া অর্থাৎ যিঁনি নিমিত্ত বানিয়েছেন সদা তাঁর স্মরণ থাকা l সুতরাং এই বিশেষত্বে সদা সেবার বৃদ্ধি করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছ, তাই না ! সেবার বিস্তার হওয়া, এটাও সেবার সফলতার লক্ষণ l এখন তোমরা অনড়-অটল স্থিতির ভালো অনুভাবী হয়ে গেছ l বুঝেছ - অস্ট্রেলিয়া অর্থাৎ যাদের মধ্যে কিছু এক্সট্রা রয়েছে, যা অন্যদের মধ্যে নেই l অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে অন্য ভ্যারাইটি, গুজরাটি প্রভৃতি নেই l 'চ্যারিটি বিগিন্স অ্যাট হোম'-এর কাজ তোমরা বেশি করেছ l তোমাদের সমান যারা তাদের তোমরা জাগিয়েছ l কুমার-কুমারীদের ভালোভাবে কল্যাণ হচ্ছে l এই জীবনে নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ সিদ্ধান্ত নিতে হয় l নিজের জীবন তৈরি করে নিতে পারলে সদাসর্বদার জন্য শ্রেষ্ঠ হয়ে যাবে l ভুল সিঁড়িতে ওঠা থেকে রক্ষা পেয়ে যাবে l বাপদাদা খুশি হন, এক দু'টো দীপক থেকে অনেক দীপক জ্বলে উঠছে, আর দীপমালা তৈরি হচ্ছে l তোমাদের উৎসাহ -উদ্দীপনা ভালোই আছে l সেবাতে নিজেরা বিজি থাকায় উন্নতি ভালো হচ্ছে l

এক, তোমাদেরকে নিমিত্ত ভাবের বিষয়ে বলা হয়েছে, দুই, যারা সেবার নিমিত্ত হয়, তাদের স্ব-উন্নতি এবং সেবার উন্নতির জন্য এক বিশেষ স্লোগান - 'সেফটির সাধন l' "আমরা নিমিত্ত হয়ে যা করবো, আমাদের দেখে সবাই করবে l" কারণ সেবার নিমিত্ত হওয়া অর্থাৎ স্টেজে উপস্থিত হওয়া l যেমন, কোনও পার্টধারী যখন স্টেজে আসে তখন কতো অ্যাটেনশন রাখে ! অতএব, সেবার নিমিত্ত হওয়া অর্থাৎ স্টেজে পার্ট প্লে করা তথা সৃষ্টি নাটকের ভূমিকা পালন করা l স্টেজের দিকে সবার নজর থাকে l আর যে বিশেষ হিরো অ্যাক্টর হয় তার উপরে নজর বেশি থাকে l সুতরাং, এই স্লোগান সেফটির সাধন, এর থেকে স্বতঃই উড়তি কলার অনুভব করবে l সাধারণতঃ, হয় তোমরা সেন্টারে থেকে অথবা যেকোন স্থানে থেকে সেবা কর l সেবাধারী তো তোমরা সবাই l কেউ নিজের নিমিত্ত স্থানে থেকে সেবার চান্স নেয়, সেটাও সেবার স্টেজে l সেবা ব্যতীত নিজেদের সময়কে ব্যর্থ ভাবে নষ্ট হতে দিও না l সেবার হিসেব-খাতাতেও অনেক জমা হয় l যারা প্রকৃত হৃদয় দিয়ে সেবা করে, তারা নিজেদের খাতা খুব ভালোভাবে জমা করছে l বাপদাদার কাছে প্রত্যেক বাচ্চার আদি থেকে অন্ত পর্যন্ত সেবার খাতা আছে আর অটোমেটিক্যালি তা'তে জমা হতে থাকে l প্রত্যেকের জন্য একটা করে অ্যাকাউন্ট রাখার প্রয়োজন পড়ে না l যারা অ্যাকাউন্ট রাখে তাদের কাছে অনেক ফাইল থাকে l বাবার কাছে কোনও স্থূল ফাইল কিছুই নেই l আদি থেকে এখন পর্যন্ত এক সেকেন্ডে প্রত্যেকের রেজিস্ট্রার ইমার্জ হয় l অটোমেটিক্যালি জমা হতে থাকে l এমন কখনো ভেবো না, 'আমাদের তো কেউ দেখে না, বুঝতে পারে না l' বাপদাদার কাছে তো যে যেমন যতটা করে যে স্টেজে করে সব জমা হয় l তাঁর কাছে ফাইল নেই, কিন্তু এটা ফাইনাল l অস্ট্রেলিয়ায় শক্তিরা বাবার হওয়ার, বাবাকে চিনে বাবার প্রতি স্নেহের দায়িত্ব পূরণে খুব ভালো সাহস দেখিয়েছে l ওঠা-পড়ার ভুল হয়, সেটা তো অনেক স্থানের, ধরণীর অথবা টোটাল বিগত জন্মের সংস্কারের কারণে l তোমরা সেই সবের ঊর্ধ্বে গিয়ে স্নেহের বন্ধনে সামনে এগিয়ে যেতে থাক, সেইজন্য বাপদাদা শক্তিদের অভিনন্দিত করেন তাদের সাহসের জন্য l এক বল, এক ভরসা তোমাদের অগ্রচালিত করছে l সুতরাং শক্তিদের সাহস আর পাণ্ডবদের সেবার উদ্যম, এই উভয় পাখা মজবুত হয়ে গেছে l সেবার ক্ষেত্রে পাণ্ডবও মহাবীর হয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে l অস্থিরতা সামাল দেওয়ায় তারা খুব সতর্ক l এটাই সবার চিত্র l পাণ্ডবদের বলশালী, তরতাজা, লম্বা-চওড়া দেখানো হয়, কারণ তাদের স্থিতি এত উঁচু আর মজবুত, সেইজন্য পাণ্ডবকে শ্রেষ্ঠ আর বাহাদুর দেখিয়েছে l যারা অস্ট্রেলিয়ার তারা অধিক দয়াশীল, উদ্দেশ্যহীন ভাবে এদিকে-ওদিকে ঘুরে বেড়ানো আত্মাদের প্রতি দয়াশীল হয়ে সেবায় এগিয়ে যাচ্ছে l তারা কখনো সেবা ব্যতীত থাকতে পারে না l বাচ্চাদের এগিয়ে যাওয়ার বিশেষত্বে বাপদাদা সদা খুশি l তোমরা বিশেষ সৌভাগ্যশালী l সব বাচ্চার উৎসাহ-উদ্দীপনায় বাপদাদা প্রসন্ন হন l প্রত্যেকে কীভাবে এক শ্রেষ্ঠ লক্ষ্যের সাথে এগিয়ে চলেছে আর এগিয়ে যেতেও থাকবে ! বাপদাদা সদাসর্বদা বিশেষত্বই দেখেন l প্রত্যেকের থেকে প্রত্যেককে প্রিয় লাগে l তোমরাও সবাই এই বিধিতে পরস্পরকে দেখ, তাই না ! যাকেই দেখ তাদের একেকজনকে আরেকজনের থেকে প্রিয় লাগে, কারণ যারা বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, ৫ হাজার বছর পরে তারাই নিজেদের মধ্যে মিলিত হচ্ছে, সুতরাং কতো মনোরম লাগে ! বাবার সাথে ভালোবাসার লক্ষণ এটাই যে সব ব্রাহ্মণ আত্মাকেই প্রিয় লাগবে l প্রত্যেক ব্রাহ্মণকে প্রিয় মনে হওয়া অর্থাৎ বাবার সাথে ভালোবাসা l মালাতে পরস্পরের সম্বন্ধে তো ব্রাহ্মণই আসবে l বাবা তো রিটায়ার্ড হয়ে দেখবেন, সেইজন্য বাবার প্রতি ভালোবাসার লক্ষণকে সদা অনুভব কর l সবাই বাবার প্রিয় হলে আমারও প্রিয় l আচ্ছা l

পাটিদের সাথে:-

১) সবাই নিজেকে বিশেষ আত্মা মনে কর ? বিশেষ আত্মা, বিশেষ কার্যের নিমিত্ত এবং বিশেষত্ব দেখাতে হবে - সদাই যেন এমন স্মৃতি থাকে l বিশেষ স্মৃতি সাধারণ স্মৃতিকেও শক্তিশালী বানিয়ে দেয় l ব্যর্থকেও সমাপ্ত করে দেয় l সুতরাং সদা এই বিশেষ শব্দ স্মরণে রাখ l তোমাদের বলাও বিশেষ, দেখাও বিশেষ, কিছু করাও বিশেষ, ভাবনাও বিশেষ l সব বিষয়ে এই 'বিশেষ' শব্দের ব্যবহারে তোমরা নিজে থেকেই পরিবর্তন হয়ে যাবে l আর এই স্মৃতি দ্বারা স্ব পরিবর্তন ও বিশ্ব পরিবর্তন সহজ হয়ে যাবে l সব বিষয়ে 'বিশেষ' শব্দ অ্যাড করে যাও l এর মাধ্যমে সম্পূর্ণতা প্রাপ্ত করার যে লক্ষ্য আছে, লক্ষ্যবস্তু আছে তা' তোমাদের প্রাপ্ত হবে l

২) সদা বাবা আর অবিনাশী উত্তরাধিকারের স্মৃতি থাকে তোমাদের ? শ্রেষ্ঠ স্মৃতি দ্বারা শ্রেষ্ঠ স্থিতির অনুভব হয় ? স্থিতির আধার স্মৃতি l স্মৃতি যদি দুর্বল হয়, তাহলে স্থিতিও দুর্বল হয়ে যায় l তোমাদের স্মৃতি সদা শক্তিশালী হতে দাও l এই *শক্তিশালী স্মৃতি হলো, "আমি বাবার আর বাবা আমার l"* এই স্মৃতিতে স্থিতি শক্তিশালী থাকবে এবং অন্যকেও শক্তিশালী বানাবে l সুতরাং স্মৃতির প্রতি যেন সদা অ্যাটেনশন থাকে l সমর্থ স্মৃতি, সমর্থ স্থিতি, সমর্থ সেবা নিজে থেকেই হতে দাও l স্মৃতি, স্থিতি আর সেবা এই তিনই যেন শক্তিশালী হয় l যেমন, সুইচ অন করলে আলোকিত হয়ে যায়, অফ করলে অন্ধকার, ঠিক সেইভাবেই এই স্মৃতিও এক সুইচ l স্মৃতির সুইচ যদি দুর্বল হয়, তাহলে স্থিতিও দুর্বল হয় l সদা স্মৃতিরূপী সুইচের অ্যাটেনশন... এতেই নিজের এবং সকলের কল্যাণ l তোমাদের নতুন জন্ম হয়েছে তো নতুন স্মৃতি হতে দাও l পুরানো সব স্মৃতি সমাপ্ত l সুতরাং, এই বিধিতে সদা সিদ্ধিপ্রাপ্ত হতে থাক l

৩) সবাই তোমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে কর ? বরদান ভূমিতে আসা - এটা মহান ভাগ্য l বরদান ভূমিতে পৌঁছানোর ভাগ্য তোমরা লাভ করেছ, এই ভাগ্যকে যত ইচ্ছা শ্রেষ্ঠ বানাতে পার l শ্রেষ্ঠ মতই ভাগ্যের রেখা টানার কলম, যা দিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠ রেখা তোমরা যতই বানাতে থাকবে, ততটাই শ্রেষ্ঠ হয়ে যাবে l সারা কল্পের মধ্যে এটাই একমাত্র সময়, যখন তোমরা শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের রেখা বানাতে পার l তোমরা এমন সময় এমন স্থানে পৌঁছে গেছ l তাইতো সামান্যতে খুশি হও না তোমরা l যখন দাতা দিচ্ছেন, তখন নিতে গ্রহীতা কেন ক্লান্ত হচ্ছে ? বাবার স্মরণই শ্রেষ্ঠ বানায় l বাবাকে স্মরণ করা অর্থাৎ পবিত্র হওয়া l জন্ম-জন্মের সম্বন্ধ, তাহলে স্মরণ করা কি কঠিন ? শুধু স্নেহ-সম্বন্ধে স্মরণ কর l আচ্ছা l


বরদান:-
ললাট দ্বারা সন্তুষ্টতার ঔজ্জ্বল্যের ঝলক দেখিয়ে সাক্ষাৎকারমূর্তি ভব

যারা সদা সন্তুষ্ট থাকে, তাদের মস্তক থেকে সন্তুষ্টতার ঝলক সদা চমক দেয়, তাদের কোনও উদাস আত্মা যদি দেখে, তবে সেও খুশি হয়ে যায়, তার উদাসীনতার অবসান হয়। যার কাছে সন্তুষ্টতার খুশির খাজানা আছে, তার দিকে সবাই আকৃষ্ট হয় l তার খুশির চেহারা জীবন্ত বোর্ড হয়ে যায়, যা অনেক আত্মাদেরকে তাঁর পরিচয় দেয়, যিঁনি তাকে বানিয়েছেন l সুতরাং এইরকম সন্তুষ্ট থেকে এবং সবাইকে সন্তুষ্ট করে সন্তুষ্ট মণি হও, যাতে অনেকের সাক্ষাৎকার হয় l

স্লোগান:-
যারা আঘাত করে তাদের কাজ আঘাত দেওয়া, আর তোমাদের কাজ নিজেদের রক্ষা করা l