03-01-2021 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 05-10-87 মধুবন


"ব্রাহ্মণ জীবনের সুখ - সন্তুষ্টতা এবং প্রসন্নতা"


আজ বাপদাদা চতুর্দিকের তাঁর অতি আদরের, হারানিধি ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের মধ্যে বিশেষ ব্রাহ্মণ জীবনের বিশেষত্ব সম্পন্ন বাচ্চাদেরকে দেখছেন । আজ অমৃতবেলায় বাপদাদা সর্ব কুলভূষণ বাচ্চাদের মধ্যে থেকে সেই সব বিশেষ আত্মাদেরকে নির্বাচন করছিলেন যারা সদা সন্তুষ্টতার দ্বারা নিজেরাও সদা সন্তুষ্ট রয়েছেন এবং অন্যদেরকেও সন্তুষ্টতার অনুভূতি তাদের দৃষ্টি, বৃত্তি আর কৃতির দ্বারা সদা করিয়ে আসছেন। তো আজ এইরূপ সন্তুষ্টমণিদের মালা গাঁথছিলেন, যারা সদা সংকল্পে, সংগঠনের সম্বন্ধে, সম্পর্কে, কর্মে সন্তুষ্টতার গোল্ডেন পুষ্প দ্বারা নিজেদের উপরে বর্ষণের অনুভব করেন আর সকলের প্রতি সন্তুষ্টতার গোল্ডেন পুষ্পের বরিষণকে সদাই অনুভব করতে থাকেন। এইরূপ সন্তুষ্ট আত্মা চারিদিকে কতিপয়ই দৃষ্টি গোচর হয়। মালা বেশী বড় তৈরী হয়নি, ছোট্ট মালা'ই। বাপদাদা বারবার সন্তুষ্টমণিদের মালাটিকে দেখে উৎফুল্ল হচ্ছিলেন। কেননা এইরূপ সন্তুষ্টমণিরাই বাপদাদার গলার মালা হয়ে থাকে, রাজ্য অধিকারী হয়ে থাকে এবং ভক্তদের কাছে জপমালা হয়ে থাকে।

বাপদাদা আরও বাচ্চাদেরকেও দেখছিলেন যারা কখনো সন্তুষ্ট আবার কখনো সংকল্পমাত্র অসন্তুষ্টতার ছায়ার মধ্যে চলে যায় আবার তারপর বেরিয়েও যায়, ফেঁসে যায় না । তৃতীয় বাচ্চারা কখনো সংকল্পের অসন্তুষ্টতা, কখনো নিজেই নিজের প্রতি অসন্তুষ্টতা, কখনো পরিস্থিতি সঙ্কুলতার দ্বারা অসন্তুষ্টতা, কখনো নিজের মনের অস্থিরতার দ্বারা অসন্তুষ্টতা আবার কখনো ছোট ছোট বিষয়ে অসন্তুষ্টতার অনুভব - এই রকম চক্রাবর্তে চলতে থাকে, বের হতে থাকে তারপর ফেঁসে যেতে থাকে। এমন মালাও দেখেছেন। তাই তিনটি মালা তৈরী হয়েছে। মণি তো সকলেই কিন্তু সন্তুষ্টমণিদের ঝলক আর অন্য দুই প্রকারের মণিদের ঝলক কেমন হবে, সে তো তোমরাও জানতে পারো। ব্রহ্মা বাবা বার বার তিনটি মালাকে দেখতে দেখতে উৎফুল্লও হচ্ছিলেন, সাথে সাথে এটাও চেষ্টা করছিলেন যে, দ্বিতীয় নম্বরের মালার মণিরা প্রথম মালাতে যাতে এসে যায়। দু'জনের মধ্যে আন্তরিক বার্তালাপ (রুহ-রুহান) চলছিল। কেননা দ্বিতীয় মালার কোনো কোনো মণি খুব সামান্যই অসন্তুষ্টতার ছায়ামাত্রও থাকার কারণে প্রথম মালার থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছে, একে পরিবর্তন করে যেভাবেই হোক প্রথম মালাতে নিয়ে নেবেন। এক একজনের গুণ, বিশেষত্ব, সেবা - সব কিছুকে সামনে নিয়ে এসে বারে বারে এটাই বলছিলেন, একে প্রথম মালাতে নিয়ে নিই। এই রকম ২৫ - ৩০ কাছের মণিরা ছিলেন, যাদের উপরে ব্রহ্মা বাবার বিশেষ রুহ-রুহান চলছিল। ব্রহ্মা বাবা বললেন - প্রথম নম্বর মালাতে এই মণিদেরকেও নিলে ভালো হয়। কিন্তু তারপরই ওনার মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল। নিজেই বললেন, বাবা এদেরকে অবশ্যই প্রথমটিতে এনেই দেখাবেন। তো এইরূপ বিশেষ মণিরাও ছিলেন।

এইরূপ অন্তরঙ্গ আলাপচারিতা চলবার সময় একটি বিষয় বেরিয়ে এল, অসন্তুষ্টতার বিশেষ কারণ কী ? সঙ্গমযুগের বিশেষ বরদানই যেখানে সন্তুষ্টতা, তা সত্ত্বেও বরদান প্রাপ্ত বরদানী আত্মারা দ্বিতীয় নম্বরের মালাতে কেন চলে আসছেন ? সন্তুষ্টতার বীজ হল সর্ব প্রাপ্তি । অসন্তুষ্টতার বীজ হল স্থূল অথবা সূক্ষ্ম অপ্রাপ্তি। যখন ব্রাহ্মণদের বিষয়ে প্রশস্তি রয়েছে - "অপ্রাপ্ত কোনো বস্তুই নেই ব্রাহ্মণদের খাজানাতে", বা ব্রাহ্মণদের জীবনে, তবে অসন্তুষ্টতা কেন ? বরদাতা কি বরদান দেওয়ার ব্যাপারে কোনও প্রভেদ রেখেছেন নাকি যারা নিচ্ছে তারাই কোনো প্রভেদ করে নিচ্ছে, কী হচ্ছে ? যখন বরদাতা, দাতার ভান্ডার ভরপুর, এতটাই ভরপুর যে তোমাদের অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ নিমিত্ত আত্মাদের, যারা বহুদিন ধরে ব্রহ্মাকুমার-ব্রহ্মাকুমারী হয়ে গেছো, তাদের ২১ জন্মের বংশাবলী এবং তাদের ভক্ত, ভক্তদেরও বংশাবলী, তারাও সেই সকল প্রাপ্তির আধারে চলতে থাকবে। এত বড় প্রাপ্তি, তবুও অসন্তুষ্টতা কেন ? অগাধ সম্পদ যখন সকলেরই প্রাপ্ত হয়েছে - এক'এর দ্বারা, একই রকম, একই সময়ে, একই বিধিতে। কিন্তু এই প্রাপ্ত হওয়া সম্পদকে সব সময় কাজে ব্যবহৃত করে না অর্থাৎ স্মৃতিতে রাখে না। মুখে খুশি হয় কিন্তু অন্তরে খুশি হয় না। মগজে খুশী রয়েছে কিন্তু হৃদয়ে খুশী নেই। কারণ কী ? প্রাপ্তি সমূহের সম্পদকে স্মৃতি স্বরূপ হয়ে কাজে লাগায় না। স্মৃতিতে থাকে কিন্তু স্মৃতি স্বরূপ হয়ে ওঠে না । প্রাপ্তি অপরিসীমের কিন্তু তাকে কখনো কখনো সীমিত প্রাপ্তিতে পরিণত করে নেয়। সেই কারণে সীমিত অর্থাৎ অর্থাৎ অল্প কালের প্রাপ্তির ইচ্ছা, অপরিসীম প্রাপ্তির ফল স্বরূপ যে সদা সন্তুষ্টতার অনুভূতি হবে, তার থেকে বঞ্চিত করে দেয়। সীমিত প্রাপ্তি মনকে সীমিত করে দেয়। সেইজন্য অসন্তুষ্টতার অনুভব হয় ।সেবাতে সীমা টেনে দেয়। কেননা সীমিত কিছুর ইচ্ছার ফল মনবাঞ্ছিত ফল প্রাপ্ত হয় না । সীমিত ইচ্ছার ফল স্বল্পকালের জন্য পূরণ করে থাকে। সেইজন্য এখনই সন্তুষ্টতা, পরক্ষণেই অসন্তুষ্ট হয়ে যায়। সসীম অসীমের অনুভব করতে দেয় না। সেইজন্য বিশেষ ভাবে চেক করো যে, মনের অর্থাৎ নিজের সন্তুষ্টতা, সকলের সন্তুষ্টতা অনুভব হয় কী ?

সন্তুষ্টতার লক্ষণ - তারা মন থেকে, অন্তর থেকে, সকলের প্রতি, বাবার প্রতি, ড্রামার প্রতি সন্তুষ্ট হবে ; তাদের মন এবং তনে সর্বদা প্রসন্নতার ঢেউ দেখতে পাওয়া যাবে। যে পরিস্থিতিই আসুক না কেন, তা সে হিসাব-নিকাশ মেটানোর জন্য কোনো আত্মা এসে উপস্থিত হোক, সেই পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হোক না কেন, কিম্বা শরীরের কর্মভোগই বারে বারে সামনে হাজির হতে থাকুক না কেন, কিন্তু সীমিত কামনার থেকে মুক্ত আত্মা সন্তুষ্টতার কারণে সদা প্রসন্নতার ঝলকে ঝলমলে উজ্জ্বল নক্ষত্রের রূপেই প্রতীয়মান হবে। প্রসন্নচিত্ত যে, সে কখনোই প্রশ্নচিত্ত হবে না। প্রশ্ন থাকলে প্রসন্ন হবে না। প্রসন্নচিত্তের লক্ষণ - তারা সর্বদা নিঃস্বার্থ আর সকলকে সদাই নির্দোষ অনুভব করবে ; অন্যদেরকে দোষারোপ করবে না - না ভাগ্যবিধাতার উপরে যে, আমার ভাগ্য কেন এমন বানিয়েছ, না ড্রামার উপরে যে, আমার ড্রামাতেই পার্ট এমন রয়েছে, না অন্যদের উপরে যে, অমুকের স্বভাব - সংস্কার এইরকম, না প্রকৃতির উপরে যে, প্রকৃতির বায়ুমন্ডল এই রকম, না শরীরের হিসাব-নিকাশের উপরে যে, আমার শরীরই এই রকম। প্রসন্নচিত্ত অর্থাৎ সদা নিঃস্বার্থ, নির্দোষ বৃত্তি - দৃষ্টির। তো সঙ্গমযুগের বিশেষত্ব হল 'সন্তুষ্টতা' আর সন্তুষ্টতার লক্ষণ হল - 'প্রসন্নতা' । এটাই হল ব্রাহ্মণ জীবনের বিশেষ প্রাপ্তি। সন্তুষ্টতা নেই, প্রসন্নতা নেই তো ব্রাহ্মণ হওয়ার কোনো লাভ নেই। ব্রাহ্মণ জীবনের সুখই তো হল সন্তুষ্টতা, প্রসন্নতা। ব্রাহ্মণ জীবন হল আর তার সুখ পাওয়া হল না, তবে তো নামেই ব্রাহ্মণ হলে, প্রাপ্তি স্বরূপ ব্রাহ্মণ হল কী ? তো বাপদাদা সকল ব্রাহ্মণ বাচ্চাদেরকে এই স্মৃতিই স্মরণ করাচ্ছেন - "ব্রাহ্মণ হয়েছি, অহো ভাগ্য !" ব্রাহ্মণ জীবনের উত্তরাধিকার, প্রপার্টি হল 'সন্তুষ্টতা'। আর ব্রাহ্মণ জীবনের পার্সোনালিটি হল 'প্রসন্নতা'। এই অনুভব থেকে কখনোই বঞ্চিত থেকে যেও না। অধিকারী তোমরা। যখন দাতা, বরদাতা উদার হৃদয়ে প্রাপ্তির খাজানা দিচ্ছেন, দিয়ে দিয়েছেন তবে খুব করে তোমাদের প্রপার্টি আর পার্সোনালিটিকে অনুভবে নিয়ে এসো, অন্যদেরকেও অনুভাবী বানাও। বুঝতে পেরেছো ? প্রত্যেকে নিজেকে জিজ্ঞাসা করো, কোন্ নম্বরের মালাতে আমি ? মালাতে তো রয়েছেই কিন্তু কোন্ নম্বর মালাতে রয়েছি আমি। আচ্ছা।

আজ রাজস্থান আর ইউ. পি. গ্রুপ রয়েছে। রাজস্থান অর্থাৎ রাজার সংস্কার রয়েছে তাদের। প্রতিটি সংকল্পে, স্বরূপে রাজার সংস্কার প্র্যাকটিক্যালে নিয়ে আসে যারা অর্থাৎ প্রত্যক্ষ করিয়ে দেখাবে। একেই বলা হয় রাজস্থান নিবাসী। তোমরা তাই না ! কখনো প্রজা হয়ে তো যাও না ! বশীভূত যদি হয়ে যাও তবে প্রজা বলা হবে, মালিক হলে রাজা। তবে এমন না হয় কখনো রাজা কখনো প্রজা। সর্বদা রাজার সংস্কার স্বতঃতই যেন স্মৃতি স্বরূপে হয়ে যায়। এইরূপ রাজস্থান নিবাসী বাচ্চাদেরই মাহাত্ম্য। রাজাকে সকলে উঁচু নজরেই দেখবে আর স্থান রাজাকে উচ্চই দেবে। রাজা সর্বদা সিংহাসনেই বসবে, প্রজা সর্বদা নীচে। রাজস্থানের রাজার সংস্কারের আত্মারা অর্থাৎ সদা উচ্চ স্থিতির স্থানে থাকা। এইরকম হয়ে গেছো নাকি হচ্ছো ? হয়েছো এবং সম্পন্ন হতেই হবে। রাজস্থানের মহিমা কম নয়। স্থাপনার হেড কোয়ার্টারই তো হল রাজস্থানে। তাহলে উঁচু হয়ে গেলে না ! নামের কারণেও উচ্চ, কর্মের দিক থেকেও উচ্চ। এইরকম রাজস্থানের বাচ্চারা নিজেদের গৃহে পৌঁছে গেছে। বুঝতে পেরেছো ?

ইউ. পি. র ভূমি বিশেষ পবিত্র ভূমি হিসেবে বিখ্যাত। পবিত্র বানানো ভক্তিমার্গের গঙ্গা নদীও সেখানে রয়েছে আর ভক্তির দিক থেকে কৃষ্ণের জন্মভূমিও তো ইউ. পি. তেই। ভূমির মহিমা অনেক। কৃষ্ণ লীলা, জন্মভূমি দেখতে হলে তো ইউ. পি. তেই যাবে সকলে। তো ইউ. পি. বাসীদের বিশেষত্ব রয়েছে। সর্বদা পবিত্র হয়ে আর পবিত্র বানানোর বিশেষত্ব সম্পন্ন তোমরা । যেমন বাবার মহিমা হল পতিত পাবন...ইউ. পি. বাসীদের মহিমা হল তারা হল বাবার সমান। তোমরা হলে পতিত পাবনী আত্মা । তোমাদের ভাগ্য নক্ষত্র ঝলমল করছে। এমন ভাগ্যবান স্থান আর স্মৃতি দুই এরই মহিমা রয়েছে। "সদা পবিত্র" - এ হল স্থিতির মহিমা। তো এমন ভাগ্যবান নিজেকে মনে করো ? সর্বদা নিজের ভাগ্যকে দেখে প্রফুল্লিত হয়ে নিজেও সদা প্রফুল্লিত আর অন্যদেরকেও প্রফুল্লিত বানাতে থাকো। কেননা প্রফুল্লিত আনন স্বতঃতই আকর্ষণ মূর্তি হয়ে থাকে। যেমন স্থূল নদী নিজের দিকে আকৃষ্ট করে না ! যাত্রী তার আকর্ষণে ছুটে যায়। তার জন্য যত কষ্টই সইতে হোক না কেন, তবুও পবিত্র হওয়ার আকর্ষণ আকৃষ্ট করতে থাকে। তো এই পবিত্র বানানোর কাজের যাদুকর ইউ. পি. তে আছে। এই রকমই প্রফুল্লিত আর আকর্ষণ মূর্তি হতে হবে । বুঝতে পেরেছো ?

তৃতীয় গ্রুপ ডবল বিদেশীদেরও রয়েছে। ডবল বিদেশী অর্থাৎ সদা বিদেশী বাবাকে আকৃষ্টকারী, কেননা সমান যে। বাবাও বিদেশী, তোমরাও হলে বিদেশী। সমগোত্রীয় সব সময় প্রিয়ই মনে হয়। মা - বাবার থেকে ফ্রেন্ডস বেশী প্রিয় মনে হয়। তো ডবল বিদেশী বাবা সমান সদা এই দেহ আর দেহের আকর্ষণের থেকে ঊর্ধ্বে বিদেশী, অশরীরী আর অব্যক্ত হয়ে থাকে। তো বাবা নিজ সম অশরীরী, অব্যক্ত স্থিতি সম্পন্ন বাচ্চাদেরকে দেখে উৎফুল্ল হন। রেস'ও (প্রতিযোগিতা) ভালোই করছে। সেবাতে ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের উপায় আর ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির (বিধি) সাহায্যে এগিয়ে যাওয়ার রেস খুব ভালোই করছে। বিধিও (সঠিক পদ্ধতি) ঠিক মতো গ্রহণ করছে আর বৃদ্ধিও করে যাচ্ছে। সেইজন্য বাপদাদা চতুর্দিকের ডবল বিদেশী বাচ্চাদেরকে সেবার অভিনন্দন দিচ্ছেন আর নিজের বৃদ্ধির বিষয়ে স্মরণও করাচ্ছেন । স্ব এর উন্নতিতে সদা উড়ন্ত কলার দ্বারা উড়তে থাকো । স্ব উন্নতি আর সেবার উন্নতির ব্যালেন্সের দ্বারা সদা বাবার ব্লেসিংয়ের অধিকারী তোমরা আর সর্বদা থাকবেও। আচ্ছা।

চতুর্থ গ্রুপ রইল মধুবন নিবাসী। তারা তো সদাই রয়েছে। যারা হৃদয়ে রয়েছে তারা চুলায় রয়েছে, যারা চুলায় রয়েছে (উনুনের পাশে যারা বসে তারা আগে খাবার খাওয়ার সুযোগ পায়) তারা বাবার হৃদয়ে রয়েছে অর্থাৎ সবার আগে বাবার থেকে সব কিছু পায়। সব থেকে বেশী বিধি সম্মতভাবে ব্রহ্মা ভোজনও মধুবনেই প্রস্তুত হয়। সবথেকে হারানিধিও মধুবন নিবাসীরাই। সব ফাংশনও মধুবনেই হয়। সবচেয়ে, ডায়রেক্ট মুরলীও সব থেকে বেশী মধুবনবাসীই শোনে। তো মধুবন নিবাসী হল সদা শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের অধিকারী আত্মা ।সেবাও অন্তর থেকে করে। সেইজন্য মধুবন নিবাসীদেরকে বাপদাদা এবং সকল ব্রাহ্মণের একেবারে মন থেকে আশীর্বাদ প্রাপ্ত হতেই থাকে। আচ্ছা।

চতুর্দিকের সকল বাপদাদার বিশেষ সন্তুষ্টমণিদেরকে বাপদাদার বিশেষ স্মরণের স্নেহ-সুমন। তার সাথে সাথে সকল ভাগ্যবান ব্রাহ্মণ জীবন প্রাপ্তকারী কোটির মধ্যে কেউ, তার মধ্যেও কতিপয় হারানিধি আত্মাদেরকে, বাপদাদার শুভ সংকল্পকে সম্পন্ন করতে সমর্থ আত্মাদেরকে, সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণ জীবনের প্রপার্টির সম্পূর্ণ অধিকার প্রাপ্ত করতে সমর্থ আত্মাদেরকে বিধাতা আর বরদাতা বাপদাদার অনেক অনেক স্মরণের স্নেহ-সুমন স্বীকার হোক।

"দাদী জানকী জী এবং দাদী চন্দ্রমণি জী সেবার উদ্দেশ্যে প্রস্থানের জন্য বাপদাদার কাছ থেকে অনুমতি নিচ্ছেন"

তোমরা যাচ্ছো নাকি সমায়িত হয়ে যাচ্ছো ? যাও কিম্বা আসো সদা যেন সমায়িত হয়েই রয়েছো। বাপদাদা অনন্য বাচ্চাদেরকে কখনোই নিজের থেকে আলাদা দেখেন না। তা সে আকারে হোক কিম্বা সাকারে সদা সাথেই রয়েছে। কেননা কেবলমাত্র মহাবীর বাচ্চারাই এই প্রতিজ্ঞা পালন করে যে, সব সময় সাথে থাকবো আর সাথে সাথেই যাব। খুব সামান্যই এই প্রতিজ্ঞা রাখে। সেইজন্য এইরকম মহাবীর বাচ্চারা হল অনন্য বাচ্চা, তারা যেখানেই যাবেন বাবাকে সাথে করে নিয়ে যান আর বাবা সর্বদা বতনেও তাদেরকে সাথে রাখেন। প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি তাদেরকে সঙ্গ দেন। সেইজন্য যাচ্ছো নাকি আসছো - কী বলবে ? সেইজন্যই বলা হল তোমরা যাচ্ছো নাকি বাবার সাথে সমায়িত হচ্ছো ? এইভাবেই সাথে থাকতে থাকতে (বাবার) সমান হয়ে সমায়িত হয়ে যাবে। পরমধাম গৃহে কিছু সময়ের জন্য রেস্ট করে তারপর একসাথে থাকবে। তারপর তোমরা রাজত্ব করবে আর বাবা উপর থেকে দেখবেন। কিন্তু বাবার সঙ্গের অল্প সময়ের জন্য অনুভব ক'রো। আচ্ছা।

( আজ বাবা, আপনি সত্যিই খুব বিস্ময়কর মালা বানিয়েছেন) তোমরাও তো মালা বানাও, তাই না ! তবে সেই মালা এখনও ছোট । এখন বড় মালা তৈরী হবে। এখন কিছু কিছু, যারা কখনো কখনো বেহুশ হয়ে যাচ্ছে, কিছু কালের মধ্যেই প্রকৃতির বা সময়ের আওয়াজ তাদের হুশ ফিরিয়ে আনবে। তখন বড় মালা তৈরি হয়ে যাবে। আচ্ছা। তোমরা যেখানেই যাবে, বাবার বরদানী তো হয়েই আছো। তোমাদের পদক্ষেপের দ্বারা সকলের বাবার বরদান প্রাপ্ত হতে থাকবে । তোমাদের দেখলেও, তোমাদের দৃষ্টি থেকে বাবার বরদান নেবে। তোমরা যখন বলবে, তোমাদের বলা বাণী থেকে তারা বরদান নেবে, তোমাদের কর্ম থেকেও বরদানই নেবে। তোমরা চলতে ফিরতে বরদানের বর্ষা করবার জন্যই যাচ্ছো। এখন যে সকল আত্মারা আসছে তাদের বরদানের বা মহাদানেরই আবশ্যকতা রয়েছে। তোমাদের যাওয়া অর্থাৎ দিলখোলা ভাবে তাদের বাবার বরদান প্রাপ্ত হওয়া । আচ্ছা ।

বরদান:-
বুদ্ধি রূপী চরণ দ্বারা এই পাঁচ তত্ত্বের আকর্ষণের ঊর্ধ্বে থাকা ফরিস্তা স্বরূপ ভব

ফরিস্তাদেরকে সর্বদা আলোর কায়া দেখানো হয়। আলো বা প্রকাশের কায়ার যারা, তারা এই দেহের স্মৃতির থেকেও ঊর্ধ্বে থাকে। তাদের বুদ্ধি রূপী চরণ এই পাঁচ তত্ত্বের আকর্ষণের থেকে উচ্চে অর্থাৎ ঊর্ধ্বে হয়ে থাকে। এইরূপ ফরিস্তাদেরকে মায়া বা কোনো প্রকারের মায়াবী কিছুই চাট্ করতে পারে না। কিন্তু সেটা তখনই হবে, যখন কখনোই তারা কারোরই অধীন হবে না। শরীরেরও অধিকারী হয়ে চলা, মায়ারও অধিকারী হয়ে যাওয়া, লৌকিক বা অলৌকিক সম্বন্ধেরও অধীনতাতে না আসা।

স্লোগান:-
শরীরকে দেখার অভ্যাস যদি থাকে, তবে লাইটের শরীরকে দেখো, লাইট রূপে স্থিত থাকো।