03.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - এই সৃষ্টি বা দুনিয়া হলো দুঃখের, এর থেকে নষ্টমোহ হও, নতুন দুনিয়াকে স্মরণ করো, বুদ্ধিযোগ এই দুনিয়ার থেকে বের করে নতুন দুনিয়ার দিকে দাও"

প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা, কৃষ্ণপুরীতে যাওয়ার জন্য তোমরা কোন্ প্রস্তুতি নাও এবং (প্রস্তুতি) করিয়ে থাকো?

উত্তরঃ  
কৃষ্ণপুরীতে যাওয়ার জন্য কেবল এই অন্তিম জন্মে সমস্ত বিকারকে পরিত্যাগ করে পবিত্র হতে এবং অন্যদের তৈরী করতে হবে। পবিত্র হওয়াই হলো দু্ঃখধাম থেকে সুখধামে যাওয়ার প্রস্তুতি। তোমরা সকলকে এই সমাচার-ই দাও যে এ হলো ডার্টি (নোংরা) দুনিয়া। এখান থেকে বুদ্ধিযোগ বের করো তবেই সত্যযুগীয় দুনিয়ায় চলে যাবে।

গীতঃ-
আমায় আশ্রয় দিলেন যিনি অন্তর চায় তাঁকে কোটি কোটি ধন্যবাদ দিতে.....

ওম্ শান্তি ।
এই গানে বাচ্চারা বলে যে 'বাবা'। বাচ্চাদের বুদ্ধি চলে যায় অসীম জগতের বাবার দিকে। যে বাচ্চাদের এখন সুখ প্রাপ্ত হচ্ছে অথবা সুখধামের রাস্তা পাচ্ছে, তারা মনে করে অবশ্যই বাবা স্বর্গের ২১ জন্মের সুখ প্রদান করতে এসেছেন। এই সুখের প্রাপ্তির জন্য স্বয়ং বাবা এসে শিক্ষা দিচ্ছেন। বোঝাচ্ছেন যে এই যে দুনিয়ায় অর্থাৎ এত যে মানুষ রয়েছে তারা কিছুই দিতে পারবে না। তারাঐ সবাই হলো রচনাই অংশ ! পরস্পরের ভাই বোন। তাহলে রচনা একে অপরকে সুখের উত্তরাধিকার কিভাবে দিতে পারে? সুখের উত্তরাধিকার প্রদানকারী অবশ্যই একমাত্র রচয়িতা বাবাই হবেন। এই দুনিয়ায় এইরকম কোনো মানুষ নেই যে কাউকে সুখ দিতে পারে। সুখ-দাতা, সদগতি দাতা হলেনই এক সদ্গুরু। এখন কি রকম সুখ চায়? এ তো সকলেই ভুলে গেছে যে স্বর্গে অনেক সুখ ছিল। আর এখন নরকে রয়েছে দুঃখ। তাহলে অবশ্যই সমস্ত বাচ্চাদের উপর মালিকেরই দয়া থাকবে। অনেকেই রয়েছে যারা সৃষ্টির মালিককে মানে কিন্তু তিনি কে ! ওঁনার থেকে কি পাওয়া যায়, তার কিছুই জানে না। এমন তো নয় যে মালিকের থেকে আমরা দুঃখ পেয়েছি। স্মরণ করাই হয়ে থাকে সুখ শান্তির জন্য। ভক্ত ভগবানকে স্মরণ করে অবশ্যই প্রাপ্তির জন্য। তারা দুঃখী, তবেই তো সুখ-শান্তির জন্য স্মরণ করে থাকে। অসীম জগতের সুখপ্রদানকারী হলেন একজন। এছাড়া জাগতিক অল্পকালের সুখ তো একে অপরকে দিতেই থাকে। এ কোনো বড় কথা নয়। ভক্তরা সকলেই আহ্বান করে একজনকে। অবশ্যই ভগবান সকলের থেকে বড়। ওঁনার মহিমাও অনেক বড়। তাহলে অবশ্যই অত্যন্ত সুখপ্রদানকারী হবেন। বাবা কখনও বাচ্চাদেরকে বা দুনিয়াকে দুঃখ দিতে পারে না। বাবা বোঝান, তোমরা ভেবে দেখো -- আমি যে সৃষ্টি অথবা দুনিয়ার রচনা করি তা কি দুঃখ দেওয়ার জন্য ? আমি তো রচনা করে থাকি সুখ দেওয়ার জন্য। কিন্তু এই ড্রামা সুখ-দুঃখের তৈরি হয়েই রয়েছে। মানুষ কত দুঃখী। বাবা বোঝান যে যখন নতুন দুনিয়া, নতুন সৃষ্টি হয় তখন তাতে সুখ থাকে। দুঃখ পুরানো সৃষ্টিতে থাকে। সবকিছু পুরানো জরাগ্রস্থ হয়ে যায়। প্রথমে আমি যে সৃষ্টি রচনা করি তাকে সতোপ্রধান বলা হয়ে থাকে। সেই সময় সকল মানুষ কত সুখী থাকে। এখন সেই ধর্ম প্রায় লুপ্ত হওয়ার কারণে কারোর বুদ্ধিতে নেই।

বাচ্চারা তোমরা জানো নতুন দুনিয়া সত্যযুগ ছিল। এখন পুরানো, তাই আশা রাখে যে বাবা অবশ্যই নতুন দুনিয়া নির্মাণ করবেন। প্রথমে নতুন সৃষ্টি, নতুন দুনিয়ায় অত্যন্ত অল্পসংখ্যক ছিল আর অত্যন্ত সুখী ছিল, যে সুখের কুলকিনারা ছিল না। নামই বলা হয়ে থাকে স্বর্গ, বৈকুন্ঠ, নতুন দুনিয়া। তাহলে অবশ্যই তাতে নতুন মানুষই থাকবে। অবশ্যই সেই দেবী দেবতাদের রাজধানী আমি স্থাপন করেছি, তাই না ! নাহলে যখন কলিযুগে একজনও রাজা নেই, সকলেই কাঙ্গাল হয়ে গেছে। তারপর একেবারে সত্যযুগে দেবী-দেবতাদের রাজত্ব কোথা থেকে এলো ? এই দুনিয়া কিভাবে পরিবর্তিত হয়েছে? কিন্তু সকলের বুদ্ধি এত ভ্রষ্ট হয়ে গেছে যে কিছুই বোঝেনা। বাবা এসে বাচ্চাদের বোঝান - মানুষ মালিকের উপরে দোষারোপ করে যে তিনি সুখ-দুঃখ দেন। কিন্তু ঈশ্বরকে তো স্মরণই করে যে আমাদের সুখ শান্তি দাও, সুইট হোমে নিয়ে চলো। তারপর ভূমিকা পালন করতে তো অবশ্যই পাঠাবে, তাই না ! কলিযুগের পরে সত্যযুগ অবশ্যই আসবে। মানুষ তো রাবণের মতেই চলে। শ্রেষ্ঠ মত হলোই শ্রীমৎ। বাবা বলেন আমি সহজ রাজযোগ শিখিয়ে থাকি। আমি গীতার কোনো শ্লোক ইত্যাদির গাই না, যা তোমরা গেয়ে থাকো। বাবা কি বসে বসে গীতা শেখাবেন ? আমি তো সহজ রাজযোগ শেখাই। স্কুলে কি গান কবিতা শোনানো হয়ে থাকে? স্কুলে তো পড়ানো হয়। বাবাও বলেন - বাচ্চারা, আমি তোমাদের পড়াচ্ছি, রাজযোগ শেখাচ্ছি। আর আমার সাথেই কারোর যোগ নেই। আমাকে ভুলে গেছে। এই ভুলে যাওয়াও ড্রামায় নির্ধারিত। আমি এসে পুনরায় স্মরণ করিয়ে থাকি। আমি হলাম তোমাদের পিতা। তোমরা মানোও যে ইনকর্পোরিয়াল গড( নিরাকার ঈশ্বর) আছেন তাহলে তোমরাও হলে ওঁনার ইনকর্পোরিয়াল সন্তান (নিরাকারী সন্তান)। নিরাকার আত্মারা, তোমরা পুনরায় এখানে আসো ভূমিকা পালন করতে। সমস্ত নিরাকার আত্মাদের নিবাস স্থান হল নিরাকারী দুনিয়া। যা হলো উচ্চ থেকেও উচ্চ (সর্বোচ্চ)। এটা হলো সাকারী দুনিয়া, তারপর হলো আকারী দুনিয়া আর ও'টা হল নিরাকারী দুনিয়া। সবথেকে উপরে তৃতীয় স্তরে। বাবা সম্মুখে বসে বাচ্চাদের বুঝিয়ে থাকেন। আমিও হলাম ওখানকার বাসিন্দা। যখন নতুন দুনিয়া ছিল তখন সেখানে এক ধর্ম ছিল। যাকে হেভেন বলা হয়ে থাকে। বাবাকে বলাই হয়ে থাকে হেভেনলি গডফাদার। কলিযুগ হলো কংসপুরী, সত্যযুগ হলো কৃষ্ণপুরী। তাই জিজ্ঞাসা করা উচিত যে তোমরা কি এখন কৃষ্ণপুরীতে যাবে? যদি তোমরা কৃষ্ণপুরীতে যেতে চাও তাহলে পবিত্র হও। যেভাবে আমরা প্রস্তুত হচ্ছি দুঃখধাম থেকে সুখধামে যাওয়ার জন্য, তেমনি তোমরাও করো। তার জন্য অবশ্যই বিকার ত্যাগ করতে হবে। এ হলো সকলের অন্তিম জন্ম। এখন সকলকে ফিরে যেতে হবে। তোমরা কি ভুলে গেছো -- পাঁচ হাজার বছর পূর্বেও কি এই ভীষণ মহাযুদ্ধ হয়নি? যাতে সকল ধর্ম সমাপ্ত হয়ে গিয়েছিল আর এক ধর্মের স্থাপনা হয়েছিল। সত্যযুগে দেবী-দেবতারা ছিল, তাই না ! কলিযুগে নেই। এখন হল রাবণ রাজ্য, আসুরী মানুষেরা রয়েছে। তাদের পুনরায় দেবতায় পরিণত করতে হবে। সেইজন্য আসুরী দুনিয়ায় আসবে নাকি দৈবী দুনিয়ায় আসবে? বা দুইয়ের সঙ্গমে আসবে? গাওয়াও হয়ে থাকে, প্রতিকল্পে, কল্পের সঙ্গম যুগে-যুগে এসে থাকি। বাবা আমাদের এইভাবেই বুঝিয়ে থাকেন। আমরা ওঁনার শ্রীমতে রয়েছি। বলেও থাকেন -- আমি গাইড হয়ে তোমাদেরকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এসেছি। সেইজন্য আমাকে কালেরও কাল বলা হয়ে থাকে। কল্প পূর্বেও ভীষণ মহাযুদ্ধ লেগেছিল যার ফলে স্বর্গের দ্বার খুলেছিল। কিন্তু সকলেই তো ওখানে যায়নি, কেবল দেবী-দেবতারা ছাড়া। বাকি সকলেই শান্তি ধামে ছিল। সেইজন্য আমি নির্বাণধামের মালিক এসেছি, সকলকে নির্বাণধামে নিয়ে যাওয়ার জন্য। তোমরা হলে রাবণের শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে যাওয়া বিকারী ছিঃ ছিঃ (অবগুণ) আসুরীয় গুণ-সম্পন্ন। কাম-বিকার হলো প্রথম নম্বরের নোংরা (অবগুণ)। তারপর হলো ক্রোধ, লোভ নম্বরের ক্রমানুসারে খারাপ হয়ে থাকে। সমগ্র দুনিয়ার থেকে নষ্টমোহ হতে হবে তবে তো স্বর্গে যাবে। যেমন বাবা যখন জাগতিক ঘরবাড়ি তৈরি করে তখন বুদ্ধি তার মধ্যে আটকে পড়ে। বাচ্চারা বলে বাবা, এখানে এটা বানাও, একটা সুন্দর বাড়ি বানাও। তেমনই অসীম জগতের বাবা বলেন আমি তোমাদের জন্য নতুন দুনিয়া, স্বর্গ কেমন সুন্দর করে তৈরি করি। তাহলে তোমাদের বুদ্ধিযোগ পুরোনো দুনিয়ার থেকে সরে যাওয়া উচিত। এখানে কিইবা রাখা আছে ? দেহও পুরানো, আত্মাতেও খাদ পড়ে রয়েছে। তা বেরোবে তখনই যখন তোমরা যোগে থাকবে। জ্ঞানও ধারণ করতে পারবে। এই বাবা তোমাদেরকে ভাষণ দিচ্ছেন তো না যে, হে বাচ্চারা তোমরা সমস্ত আত্মারা হলে আমার রচনা! আত্মার স্বরূপে তোমরা হলে ভাই ভাই। এখন তোমাদের সকলকে আমার কাছে আসতে হবে। এখন তোমরা সকলেই তমোপ্রধান হয়ে গেছো। এ হলো রাবণ রাজ্য, তাই না? তোমরা প্রথমে জানতে না যে রাবণ রাজ্য কবে থেকে শুরু হয়। সত্যযুগে হয় ১৬ কলা, তারপর ১৪ কলা হয়ে যায়। এইরকম নয় যে একদম দুই কলা কম হয়ে যায়। ধীরে ধীরে নামতে থাকে। এখন তো কোনো কলা নেই। সম্পূর্ণ গ্রহণ লেগে গেছে। এখন বাবা বলেন - দান করো তবেই গ্রহণ ছাড়বে। ৫ বিকারকে দান করে দাও আর কোন পাপ ক'রো না। ভারতবাসীরা রাবণকে জ্বালিয়ে থাকে, অবশ্যই রাবণ রাজ্য। কিন্তু রাবণ-রাজ্য কাকে বলা হয়, রাম-রাজ্য কাকে বলা হয়, এও জানে না। বলে যে রামরাজ্য হোক, নতুন ভারত হোক কিন্তু একজনও জানে না যে নতুন দুনিয়া, নবভারত কখন হয়। সকলেই কবরে শুয়ে রয়েছে।

বাচ্চারা, এখন তোমাদের সত্যযুগী বৃক্ষ (কল্পবৃক্ষ) দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এখানে তো কোনো দেবতা নেই। বাবা এসে এ'সবই বুঝিয়ে থাকেন। মাতা-পিতা হলেন তিনিই, স্থূলে(সাকারে) আবার এই মাতা-পিতা আছে। তোমরা মাতা পিতা ওঁনাকেই বলে থাকো। সত্যযুগে তো এইরকম ভাবে গাইবে না। ওখানে কৃপার কোনো কথা নেই। এখানে মাতা-পিতার হয়ে আবার সুযোগ্যও হতে হবে। আবার স্মরণ করান যে হে ভারতবাসী তোমরা ভুলে গেছো, তোমরা দেবতারা কত ধনবান ছিলে, কত সমঝদার ছিলে। এখন বোধবুদ্ধি-হীন হয়ে দেউলিয়া হয়ে গেছো। মায়া রাবণ তোমাদের এমন বোধ-বুদ্ধিহীন বানিয়ে দিয়েছে, তবেই তো রাবণকে জ্বালিয়ে থাকো। শত্রুর কুশপুত্তলিকা তৈরি করে তাকে জালানো হয়ে থাকে, তাই না ! বাচ্চারা, তোমরা কত নলেজ পেয়ে থাকো। কিন্তু বিচার সাগরমন্থন করো না, বুদ্ধি এদিকে ওদিকে ঘুরতে থাকে। সেইজন্য ভাষণের সময় এরকম-এরকম পয়েন্ট শোনাতে ভুলে যায়। সম্পূর্ণ বোঝায় না। তোমাদের বাবার সমাচার দিতে হবে যে বাবা এসেছেন। এই ভীষণ মহাযুদ্ধ সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সকলকে ফিরে যেতে হবে। স্বর্গ স্থাপিত হচ্ছে। বাবা বলেন -- দেহ-সহ দেহের সব ধর্মকে‌ ভুলে আমায় স্মরণ করো। এছাড়া কেবল এ'কথা বোলো না যে ইসলামী, বৌদ্ধ প্রভৃতিরা হলো সকলেই ভাই-ভাই। এ সবই তো হলো দেহের ধর্ম, তাই না ! সবেরই (সব ধর্মেরই) যে আত্মারা আছে, তারা হলো বাবার সন্তান। বাবা বলেন -- দেহের ধর্ম পরিত্যাগ করে মামেকম্ (একমাত্র আমাকেই) স্মরণ করো। বাবার এই মেসেজ দেওয়ার জন্য আমরা শিব জয়ন্তী পালন করছি। আমরা ব্রহ্মাকুমার-কুমারীরা হলাম শিবের পৌত্রপৌত্রী। ওঁনার থেকে আমাদের স্বর্গের রাজধানীর উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হচ্ছে। বাবা আমাদের মেসেজ দেন যে 'মন্মনাভব'। এই যোগ অগ্নির দ্বারা তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। অশরীরী হও। আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

রাত্রি ক্লাস -
বাচ্চারা, এখন তোমরা স্থুললোক, সুক্ষ্মলোক আর মূললোককে ভালোভাবে বুঝে গেছো। কেবল তোমরা ব্রাহ্মণরাই এই নলেজ পেয়ে থাকো। দেবতাদের এর প্রয়োজনই নেই। তোমাদের এখন সমগ্র বিশ্বের নলেজ রয়েছে। তোমরা প্রথমে শূদ্র বর্ণের ছিলে তারপর ব্রহ্মাকুমার হয়ে যাওয়ায় তখন এই নলেজ দেওয়া হয়, যার দ্বারা ডিটি ডিনায়েস্টি (দৈবী-রাজবংশ) স্থাপিত হতে চলেছে। বাবা এসে ব্রাহ্মণকুল, সূর্যবংশী, চন্দ্রবংশী ডিনায়েস্টি স্থাপনা করেন। সেও এই সঙ্গমেই স্থাপনা করে থাকেন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী সাথে সাথেই ডিনায়েস্টি স্থাপন করে না। তাদের গুরু বলা যায় না। বাবাই এসে ধর্ম স্থাপন করেন। বাবা বলেন - মাথায় চিন্তা রয়েছে বাবাকে স্মরণ করার যা প্রতি মুহূর্তে ভুলে যায়। পুরুষার্থ করে হেলদি থাকার জন্য, কাজকর্মও করে আর স্মরণও করে থাকে। বাবা খুব বড় রকমের উপার্জন করান। সেইজন্য সবকিছুই ভুলে যেতে হয়। আমরা আত্মারা চলে যাচ্ছি - এইরকম অভ্যাস করানো হয়ে থাকে। যখন খাবার খাও, তখন কি বাবাকে স্মরণ করতে পারো না ? কাপড় সেলাই করার সময়ও যেন বুদ্ধিযোগ বাবার দিকে থাকে। ময়লা তো বের করতে হবে। বাবা বলেন শরীর নির্বাহের জন্য অবশ্যই কাজ-কর্ম করো। হলো অত্যন্ত সহজ (বিষয়)। বুঝে গেছো যে ৮৪ চক্র সম্পূর্ণ হয়েছে। এখন বাবা রাজযোগ শেখাতে এসেছেন। এই ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি জিওগ্রাফি এই সময় রিপিট হয়। কল্প-পূর্বের মতনই রিপিট হচ্ছে। রিপীটেশনের (পুনরাবৃত্তি) রহস্য বাবা-ই বুঝিয়ে থাকেন। এক ঈশ্বর, এক ধর্ম বলা হয়ে থাকে, তাই না ! ওখানে শান্তি থাকবে। ওটা হল অদ্বৈত রাজ্য, দ্বৈত মানে আসুরী রাবণ রাজ্য। ওঁনারা হলেন দেবতা, এরা হলো দৈত্য। আসুরী রাজ্য এবং দৈবী রাজ্যের খেলা ভারতের উপরেই তৈরি হয়েছে। ভারতেই আদি সনাতন দেবতা ধর্ম ছিল, পবিত্র প্রবৃত্তি মার্গ ছিল। বাবা এসে পুনরায় পবিত্র প্রবৃত্তি মার্গ গঠন করেন। আমরাই দেবতা ছিলাম তারপর কলা কম হয়ে গেছে। আমরাই আবার শূদ্র বংশে এসেছি। বাবা এমন ভাবে পরিয়ে থাকেন যেমন ভাবে টিচাররা পড়ান, স্টুডেন্টরা শোনে। ভালো স্টুডেন্টরা সম্পূর্ণরূপে ধ্যান দেয়, মিস করে না। পড়াশোনা রেগুলার করা চাই। এইরকম গডলি ইউনিভার্সটিতে অ্যাবসেন্ট (অনুপস্থিত) থাকা উচিত নয়। বাবা গোপনীয় গোপনীয় কথা শোনাতে থাকেন। আচ্ছা, গুড নাইট। আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) দেহের সকল ধর্মকে পরিত্যাগ করে, অশরীরী আত্মা মনে করে অদ্বিতীয় বাবাকে স্মরণ করতে হবে। যোগ আর জ্ঞানের ধারণার দ্বারা আত্মাকে পবিত্র করতে হবে।

২ ) বাবা যে নলেজ দেন, তার উপরে বিচার সাগর-মন্থন করে সকলকে বাবার পরিচয় দিতে হবে। বুদ্ধিকে এদিকে-ওদিকে ছোটানো উচিত নয়।

বরদান:-
বাবার কদমে কদম রেখে পরমাত্ম আশীর্বাদ প্রাপ্তকারী আজ্ঞাকারী ভব

আজ্ঞাকারী অর্থাৎ বাপদাদার আজ্ঞারূপী কদমে কদম রেখে যে চলে। এ'রকম আজ্ঞাকারীরই সর্ব সম্বন্ধ থেকে পরমাত্ম আশীর্বাদ প্রাপ্ত হয়। এটাই হলো নিয়ম। সাধারণ রীতিতেও কেউ যদি কারোর ডায়রেক্শন অনুসারে 'হ্যাঁ ঠিক আছে' বলে কার্য করে, তখন যার কাজ করে থাকে তার আশীর্বাদ সে অবশ্যই প্রাপ্ত করে। এ হলো পরমাত্ম আশীর্বাদ যা আজ্ঞাকারী আত্মাদের সর্বদাই ডবল-লাইট করে দেয়।

স্লোগান:-
দিব্যতা আর অলৌকিকতাকে নিজের জীবনের শৃঙ্গার করে নাও, তবেই সাধারণত্ব সমাপ্ত হয়ে যাবে।