০৩-০২-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত-বাপদাদা" রিভাইসঃ ১৭-০৪-৮৪ মধুবন


পদ্মাপদম (লক্ষ কোটি গুণ) ভাগ্যবানের নিদর্শন

আজ ভাগ্য বিধাতা বাবা, সকল ভাগ্যবান বাচ্চাদের দেখছেন । প্রতিটি ব্রাহ্মণ আত্মা হল ভাগ্যবান আত্মা । ব্রাহ্মণ হওয়া, অর্থাৎ ভাগ্যবান হওয়া । ভগবানের হওয়া, অর্থাৎ ভাগ্যবান হওয়া । ভাগ্যবান তো সবাই, কিন্তু বাবার হয়ে যাওয়ার পরে বাবার দ্বারা যে নানান খাজানার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়, সেই শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের অধিকারকে প্রাপ্ত করে অধিকারী জীবনে নিয়োজিত করা বা প্রাপ্ত অধিকারকে সর্বদা সহজ বিধি দ্বারা অধিকতর বৃদ্ধি করানো, তাতেই নম্বর ক্রমে এসে যায়। কেউ ভাগ্যবান হয়ে থেকে যায়, কেউ সৌভাগ্যবান হয়ে যায়। কেউ হাজার, কেউ লক্ষ, কেউ লক্ষ কোটি গুণ ভাগ্যবান হয়ে যায় । কেননা, খাজানাকে বিধি (নিয়ম অনুসারে) সম্মত ভাবে কাজে লাগানো অর্থাৎ বৃদ্ধি পাওয়া। তা সে নিজেকে সম্পন্ন বানানোর কার্যে লাগাও অথবা নিজের সম্পন্নতার দ্বারা অন্য আত্মাদের প্রতি সেবার কাজে লাগাও। বিনাশী ধন খরচ করলে তা হ্রাস পায় । অবিনাশী ধন খরচ করলে লক্ষ কোটি গুণ (পদ্মগুণ) বৃদ্ধি পায়। সেইজন্যই প্রবাদ আছে - "খাও দাও আর খরচ করো" । যত বেশি খাবে আর খরচ করবে, সম্রাটেরও সম্রাট বাবা তত বেশি সমৃদ্ধশালী বানাবে। সেইজন্য যে প্রাপ্ত হওয়া খাজানার ভাগ্যকে সেবার্থে নিয়োজিত করে, সে-ই সামনে এগিয়ে যায়। লক্ষ কোটি গুণ ভাগ্যবান অর্থাৎ প্রতিটি কদমে পদম (লক্ষ কোটি গুণ) উপার্জন জমা করে এবং প্রতিটি সংকল্পে বা বচনে, কর্মে, সম্পর্কে পদমের পদম গুণ সেবাধারী হয়ে সেবাতে নিয়োজিত করে থাকে । পদ্মাপদম ভাগ্যবান সদা উদারহৃদয়, অবিনাশী, অখন্ড মহাদানী, সকলের প্রতি সকল খাজানা প্রদানকারী দাতা হবে। সময় বা প্রোগ্রাম অনুসারে অথবা সুযোগ সুবিধা জন্য সেবাধারী নয়, সে হবে অখন্ড সেবাধারী। বাচা সেবা যদি না করতে পারে, তবে মনসা বা কর্মণা দ্বারা করবে। সম্বন্ধ - সম্পর্কের দ্বারা কোনো না কোনো বিধি দ্বারা অগাধ অখন্ড খাজানার সেবাধারী । সেবার ভিন্ন ভিন্ন রূপ থাকতে পারে কিন্তু সেবার তরঙ্গ তো সদা চলতেই থাকবে। যেমন নিরন্তর যোগী তেমনই নিরন্তর সেবাধারী । নিরন্তর সেবাধারী সেবার শ্রেষ্ঠ ফল নিরন্তর নিজে খেতে এবং খাওয়াতে থাকে অর্থাৎ নিজেই সদাকালের ফল খেতে খেতে প্রত্যক্ষ স্বরূপ হয়ে যায় ।



পদমাপদম ভাগ্যবান আত্মা সদা পদ্ম আসন নিবাসী অর্থাৎ কমলপুষ্প স্থিতির আসন নিবাসী। সীমিত বস্তুর আকর্ষণ এবং জাগতিক ফলকে স্বীকার করার প্রতি নির্লিপ্ত এবং বাবা তথা ব্রাহ্মণ পরিবারের সাথে সাথে বিশ্বের কাছেও প্রিয়। এমন শ্রেষ্ঠ সেবাধারী আত্মাকে সকল আত্মারা সদা আন্তরিক স্নেহের খুশীর পুষ্প অর্পণ করে । স্বয়ং বাপদাদাও এমন নিরন্তর সেবাধারী পদ্মাপদম ভাগ্যবান আত্মার প্রতি স্নেহের পুষ্প অর্পণ করে । পদ্মাপদম ভাগ্যবান সদা নিজের ঝলমলে উজ্জ্বল ভাগ্যের নক্ষত্র দ্বারা অন্য আত্মাদেরকেও ভাগ্যবান বানানোর আলো প্রদান করে। বাপদাদা এমন ভাগ্যবান বাচ্চাদেরকে দেখছিলেন। তা তারা দূরেই থাকুন বা সামনে, তারা কিন্তু সদাই বাবার হৃদয়ে সমায়িত হয়ে আছে। সেইজন্যই - যে বাবার সমান, সে-ই বাবার সমীপে থাকে। এখন নিজেকে নিজে প্রশ্ন করো - আমি কীরূপ ভাগ্যবান। নিজেকে নিজেই ভালো জানবে, তাই না ! অন্য কেউ বললে সেটা তুমি মানো বা না মানো, কিন্তু সবাই নিজেকে জানে যে আমি কী ? বুঝেছ ! তাও বাপদাদা বলেন যে, ভাগ্যহীন থেকে ভাগ্যবান তো অন্তত হয়েছ ! নানান প্রকারের দুঃখ কষ্ট থেকে তো বেঁচে যাবে ! স্বর্গের মালিক তো হতে পারবে ! এক হল স্বর্গে আসা, আর দ্বিতীয় হল রাজ্য অধিকারী হওয়া। আসবে তো সবাই, কিন্তু কবে এবং কোথায় (সত্যযুগে নাকি ত্রেতাতে), নিজেকে নিজে জিজ্ঞাসা করো। বাপদাদার রেজিস্টারে স্বর্গে আসার লিস্টে নাম এসে গেছে। জাগতিক দুনিয়ার থেকে তো অন্তত অনেক ভালো। কিন্তু ভালোর থেকেও ভালো - সেটা তো বলা গেল না। তাহলে কী করবে ? কোন্ জোন নম্বর ওয়ান হবে ? প্রত্যেক জোনের ভিন্ন ভিন্ন বিশেষত্ব।



মহারাষ্ট্রের বিশেষত্ব কী ? জানো সেটা ? মহান তো অবশ্যই, কিন্তু বিশেষ কোন্ বিশেষত্বে খ্যাত ? মহারাষ্ট্রে গনেশের পূজা বেশি হয়ে থাকে। গনেশকে কী বলা হয় ? বিঘ্ন বিনাশক, যে কোনো কাজ আরম্ভ করবার সময় প্রথমে গনেশায় নমঃ বলে থাকে। তাহলে মহারাষ্ট্রের ভাই বোনেরা কী করবে ? সকল মহান কার্যে শ্রীগনেশ করবে, তাই না ! মহারাষ্ট্র অর্থাৎ সদা বিঘ্ন বিনাশক রাষ্ট্র। তো সদা বিঘ্ন বিনাশক হয়ে নিজের প্রতি এবং অন্যদের প্রতিও এই মহানতাই দেখাবে। মহারাষ্ট্রে কোনো বিঘ্ন যেন না ঘটে। সবাই যেন বিঘ্ন বিনাশক হয়ে যায় । বিঘ্ন আসবে, দূর থেকেই নমস্কার করবে তোমাদেরকে। তো এমন বিঘ্ন বিনাশক গ্রুপ এনেছ, তাই না ? মহারাষ্ট্রকে সদা নিজের এই মহানতাকে বিশ্বের সামনে দেখাতে হবে। বিঘ্নকে ভয় পাও না তো ? তোমরা হলে বিঘ্ন বিনাশক, যারা চ্যালেঞ্জ করে থাকে। এমনিতেও মহারাষ্ট্র সাহসিকতার পরিচয় তো দেয়ই। আচ্ছা !



ইউ. পি.-র ভাই বোনেরা কী কী বিস্ময় দেখাবে ? ইউ. পি.-র বিশেষত্ব কী ? সেখানে তীর্থস্থান অনেক আছে, নদীও অনেক, জগৎগুরুও ওখানেই। ভারতবর্ষের চার দিকে চারজন জগৎগুরু (শঙ্করাচার্য) আছেন না ! মহামন্ডলেশ্বর ইউ. পি-তে বেশি আছেন। হরি-র দ্বার বিশেষ ভাবে বিখ্যাত স্থান ইউ. পি-তে। তো হরি-র দ্বার অর্থাৎ হরি-র কাছে যাওয়ার পথ প্রদর্শনকারী সেবাধারী ইউ. পি-তেই তো বেশী হওয়া উচিত। যেমন তীর্থ স্থানের কারণে ইউ. পি-তে পান্ডার সংখ্যা অনেক বেশি। তারা তো খায়-দায় (অর্থ রোজগারের জন্য), কিন্তু তোমরা হলে সত্যিকারের পথ প্রদর্শনকারী আধ্যাত্মিক পান্ডা। যারা মিলন উদযাপন করে, যারা আত্মাদেরকে বাবার সমীপে নিয়ে আসে । এমন পান্ডব তথা গাইড (পান্ডা) কী ইউ. পি-তে আছে ? ইউ. পি-র সামনে এমন বিশেষ পান্ডব তথা গাইড (পান্ডা) রূপে প্রকাশিত হতে হবে এখন । বুঝেছ !



মহিশূর-এর বিশেষত্ব কী ? সেখানে চন্দনও আছে আর বৃন্দাবন গার্ডেনও আছে। তো কর্ণাটকের ভাই বোনেদের বিশেষ ভাবে সদা রুহানী গোলাপ, সদা সুরভিত চন্দন হয়ে সমগ্র বিশ্বে চন্দনের সৌরভ বলো বা রুহানী গোলাপের সৌরভ বলো, বিশ্বকে গার্ডেন বানাতে হবে এবং বিশ্বে চন্দনের সৌরভ ছড়িয়ে দিতে হবে। চন্দনের টিকা দিয়ে সুরভিত এবং শীতল বানাতে হবে। চন্দন শীতলও তো হয়, তাই না ! তো সবথেকে বেশি রুহানী গোলাপ কর্ণাটক থেকে বেরোবে, তাই তো ? এটা প্রত্যক্ষ রূপে আনতে হবে।



এখন সবাইকে নিজ নিজ বিশেষত্বকে প্রত্যক্ষ রূপে দেখাতে হবে। সবাইকে এবার সম্পূর্ণ প্রস্ফুটিত রুহানী গোলাপ নিয়ে আসতে হবে। এনেছেও কেউ কেউ, কিন্তু পুস্প স্তবক আনেনি। আচ্ছা !



বিদেশের মহিমা তো অনেক শুনিয়েছি। বিদেশের বিশেষত্ব হল - অত্যন্ত নির্লিপ্তও হতে পারে আবার অত্যাসক্তও হয়ে যেতে পারে। বাপদাদা বিদেশী বাচ্চাদের নির্লিপ্ত এবং বাবার সাথে ঘনিষ্ঠ রূপে দেখে প্রফুল্লিত হন। সেই জীবন তো অতীত হয়ে গেছে। সেই জীবনে যতটাই ফেঁসে ছিল, ততটাই এখন নির্লিপ্তও হয়ে গেছে। সেইজন্য বিদেশীদের নির্লিপ্ত রূপ এবং বাবার সাথে ঘনিষ্ঠ রূপ বাপদাদারও খুব ভালো লাগে। সেইজন্য বাপদাদাও বিশেষ স্মরণের স্নেহ সুমন দিচ্ছেন । নিজের বিশেষত্বে তোমরা সমায়িত হয়ে গেছ ! এমন নির্লিপ্ত এবং বাবার ঘনিষ্ঠ তোমরা, তাই না ? অ্যাটাচমেন্ট নেই তোমাদের, তাই না ? তাও, ওরা বিদেশী অতিথি রূপে ঘরে এসেছে, তো অতিথিদেরকে সব সময় সামনে রাখা হয়। সেইজন্য ভারতীয়রা বিদেশীদের দেখে খুবই আনন্দিত হয়। কেউ কেউ এমন গেস্টও (অতিথি) হয়, যে নিজেই অতিথি সেবক (হোস্ট) হয়ে যায় । বিদেশীদের প্রায়শই এমন করতে দেখা যায়। অতিথি হয়ে এসে নিজেই অতিথি সেবায় লেগে পড়ে। তবুও তো অনেক প্রাচীর ভেঙে তারা বাবার কাছে, তোমাদের কাছে এসেছে । তাহলে তোমরা তো "আগে আপনি" - এ'কথা বলবেই, তাই না ? এমনিতে তো ভারতবর্ষের বিশেষত্ব নিজস্ব এবং বিদেশীদের বিশেষত্ব নিজস্ব। আচ্ছা !



সকল পদ্ম আসনধারী লক্ষকোটি গুণ(পদমাপদম) ভাগ্যবান, সদা প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি সংকল্পে নিরন্তর এমন ৮৪ ঘন্টা নামের দেবী প্রসিদ্ধ। তাই এখন তোমরা ১৯৮৪ তে ঘন্টা বাজাবে, নাকি আরো সময়ের জন্য প্রতীক্ষা করবে ? সবশেষে যখন আরতী করে, তখন তো জোরে জোরে ঘন্টা বাজিয়ে সমাপ্তি ঘোষণা করে। আরতী হওয়ার মানে হল শেষ হওয়া। তাহলে, এখন কী করবে ?



সকল পদ্ম আসনধারী, লক্ষকোটি গুণ ভাগ্যবান, সদা প্রতিটি সেকেন্ড, প্রতিটি সংকল্পে নিরন্তর সেবাধারী, সদা উদারহৃদয়ের হয়ে সকল খাজানাকে বিতরণকারী, মাস্টার দাতা, সদা নিজের সম্পন্নতার দ্বারা অন্যদেরকেও সম্পন্ন বানিয়ে, শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের অধিকারী, সদা শ্রেষ্ঠ প্রমাণ প্রদর্শনকারী সুসন্তানকে বাপদাদার স্মরণের স্নেহ - সুমন এবং নমস্কার।



*পাঞ্জাব নিবাসীদের প্রতি* - বাবা বসে আছেন, তাই তোমাদের কোনো কিছু চিন্তা করবার প্রয়োজন নেই। যেটা হবে সেটা কল্যাণের জন্যই হবে। তোমরা হলে সকলের জন্য। না তোমরা শিখ, না হিন্দু, তোমরা সবাই হলে বাবার, তাই সবারও । পাকিস্তানেও তো এটাই বলতে তাই না - বাবা আমরা তো আল্লাহ্-র বান্দা। তোমাদের তো কোনো কিছুর সাথেই কানেকশন নেই, সেইজন্য তোমরা হলে ঈশ্বরের, আর কারো নও। যেটাই হোক না কেন তোমরা ভীত নও। যত আগুনই লাগুক, বিড়ালের ছানা তো সুরক্ষিত থাকবেই। তবে, যারা যোগযুক্ত থাকবে, তারাই সেফ থাকবে । এমন নয় যে, বলবে আমি তো বাবার-ই, কিন্তু স্মরণ করবে দ্বিতীয় কাউকে। তবে তো সহায়তা পাওয়া যাবে না। ভয় পেও না, ঘাবড়িও না, এগিয়ে যাও। স্মরণের যাত্রায়, ধারণাতে, পঠনপাঠনে - সব বিষয়ে এগিয়ে যাও। যত এগিয়ে যাবে, ততই সহজেই প্রাপ্ত করতে থাকবে ।



*২ )* সবাই নিজেকে এই সৃষ্টি রূপী নাটকের মধ্যে এক বিশেষ ভূমিকা পালনকারী (পার্টধারী) মনে কর কী ? কল্প পূর্বের নিজের ছবি এখন দেখতে পাচ্ছ কী ? এটাই হল ব্রাহ্মণ জীবনের বিস্ময়। সদা এই বিশেষত্বকে স্মরণ করো যে কী ছিলে আর কী হয়ে গেছ। কড়ি(কানাকড়ি, মূল্যহীন) থেকে হীরে তুল্য হয়ে গেছ। দুঃখী সংসার থেকে সুখী সংসারে চলে এসেছ। তোমরা সবাই এই ড্রামার হিরো হিরোইন অ্যাক্টর । এক একজন ব্রহ্মাকুমার, কুমারী বাবার সংবাদ পরিবেশনকারী সন্দেশী। ভগবানের বার্তা পরিবেশনকারী সন্দেশী তোমরা, কতখানি শ্রেষ্ঠ, তাই না ! তো সদা এই কাজের নিমিত্তেই অবতরিত হয়েছ। উপর থেকে নীচে এসেছ এই সন্দেশ দেওয়ার জন্য - এই স্মৃতি খুশী এনে দেয় মনে। ব্যস্ নিজের এই কর্তব্য (অক্যুপেশন) সর্বদা স্মরণে রাখ যে, খুশীর খনির মালিক আমরা। এটাই হল তোমাদের টাইটেল ।



*৩ )* সর্বদা নিজেকে সংগমযুগী শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ আত্মা আমরা - এমন অনুভব কর ? প্রকৃত ব্রাহ্মণ অর্থাৎ সদা সত্য বাবার পরিচয় প্রদানকারী। ব্রাহ্মণদের কাজ হল কথন করা, তোমরা কথা কথন কর না, বরং সত্য পরিচয় শুনিয়ে থাক । এমন সত্য বাবার সত্য পরিচয় প্রদানকারী, ব্রাহ্মণ আত্মা আমরা - এই নেশা যেন থাকে । ব্রাহ্মণ হল দেবতাদের থেকেও শ্রেষ্ঠ, সেইজন্য ব্রাহ্মণদের স্থান শীর্ষে (চোটিতে) দেখানো হয়। শীর্ষে অবস্থিত ব্রাহ্মণ অর্থাৎ উঁচু স্থিতিতে যারা থাকে। উপরে থাকলে, নীচের সব কিছু ছোট দেখাবে। কোনো বিষয়ই বড় মনে হবে না। উপরে বসে নীচের দিকে তাকালে সব জিনিস তো ছোটই মনে হবে। কখনও কোনো সমস্যা যদি বড় বলে মনে হয়, তবে তার কারণ হল নীচে বসে সেটা দেখে থাক। উপর থেকে দেখ, তাহলে পরিশ্রম করতে হবে না। তাই সর্বদা স্মরণে রাখবে যে তোমরা হলে শিখরে থাকা ব্রাহ্মণ। এতে বড় সমস্যাও সেকেন্ডে ছোট হয়ে যাবে। সমস্যা দেখে ভীত নয়, বরং সমস্যাকে অতিক্রম করে সমস্যার সমাধানকারী। আচ্ছা !



*আজ প্রত্যুষে (১৮-০৪-৮৪) অমৃতবেলায়এক ভাই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মধুবনে তার পুরানো শরীর ত্যাগ করেন, সেই সময় অব্যক্ত বাপদাদার দ্বারা উচ্চারিত মহাবাক্য*



সকলে ড্রামার (সৃষ্টি রূপী নাটকের) প্রতিটি সীন-কে সাক্ষী হয়ে দেখতে থাকা শ্রেষ্ঠ আত্মা তো তোমরা, তাই না ! যে কোনো দৃশ্য যখন এই ড্রামাতে হয়, তাকে বলা হবে কল্যাণকারী। নতুন কিছু নয় (নাথিং নিউ) । (সেই ভাই এর লৌকিক অগ্রজ ভ্রাতৃজায়ার উদ্দেশ্যে) কী চিন্তা করছ ? সাক্ষী ভাবের সীট-এ বসে সব দৃশ্য দেখতে থাকলে নিজেরও কল্যাণ আর সেই আত্মারও কল্যাণ। এটা তো বোঝোই, তাই না ! স্মরণের সময় শক্তি রূপে থাকো তো ? শক্তি হল সদা বিজয়ী । তুমি বিজয়ী শক্তি হয়ে নাটকে সমস্ত ভূমিকা পালন করে চলেছ। এটাও হল ড্রামার পার্ট। তোমার ভূমিকা পালন করবার সময় কখনোই কোনো সংকল্প করবে না।. প্রত্যেক আত্মার পার্ট আলাদা আলাদা। এখন সেই আত্মাকে শান্তি আর শক্তির সহযোগ দাও। এত বড় দৈবী পরিবারের সহযোগ প্রাপ্ত হচ্ছে, সেইজন্য চিন্তার কিছু নেই। এটা তো মহান তীর্থ স্থান, তাই না ! মহান আত্মা, মহান তীর্থ ।. সর্বদা মহানতার কথাই ভাবো। সবাই স্মরণে বসে আছ তো ? এক অত্যন্ত প্রিয় বাচ্চা, তার এই পুরানো শরীরের হিসাব পুরো করে, তার নতুন শরীরের প্রস্তুতিতে গেছে, সেইজন্য এখন সবাই এই ভাগ্যবান আত্মাকে শান্তি আর শক্তির সহযোগ দাও। এটা হল বিশেষ সেবা। কী, কেন-র মধ্যে যাবে না, বরং নিজে শক্তি স্বরূপ হয়ে, বিশ্বে শান্তির কিরণ ছড়িয়ে দাও। শ্রেষ্ঠ আত্মা তোমরা, উপার্জন জমা কারী আত্মা তোমরা। সেইজন্য চিন্তার কোনো ব্যাপার নেই। বুঝেছ !

বরদান:-

ফরিস্তা স্বরূপ স্মৃতি দ্বারা বাবার ছত্রছায়ার অনুভবকারী বিঘ্ন জিৎ ভব |

অমৃতবেলায় ওঠার সাথে সাথেই স্মৃতিতে আনো - আমি হলাম ফরিস্তা। ব্রহ্মাবাবাকে এই মনের মতো গিফ্টটি দাও, তবে রোজ অমৃতবেলায় বাপদাদা তোমাকে তাঁর বাহুতে সমায়িত করে নেবেন। অনুভব করবে যে, বাবার বাহুতে, অতিন্দ্রিয় সুখের দোলায় দুলছ । যে ফরিস্তা স্বরূপের স্মৃতিতে থাকবে, তার সামনে কোনো পরিস্থিতি বা বিঘ্ন আসলেও বাবা তার জন্য ছত্রছায়া হয়ে উপস্থিত হয়ে যাবেন। তাই বাবার ছত্রছায়া বা ভালোবাসার অনুভব করে বিঘ্ন জিৎ হও।

স্লোগান:-

সুখ স্বরূপ আত্মা স্ব-স্থিতির দ্বারা পরিস্থিতির উপরে সহজেই বিজয় লাভ করে*।