০৩-০৩-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ ২৮-০২-৮৪ মধুবন


'বিন্দু' (Point) আর ফোঁটার (Drop) তাৎপর্য

আজ ভোলানাথ বাবা তাঁর নিজের বাচ্চাদের তথা বাবার অবতরণ দিবস অর্থাৎ অলৌকিক (রূহানী) জয়ন্তী উদযাপন করতে এসেছেন l যারা ভোলানাথ বাবাকে সর্বাধিক ভালোবাসে তারা ভোলা বাচ্চা l ভোলা অর্থাৎ সদা যাদের সরল স্বভাব, শুভ ভাব এবং স্বচ্ছতা সম্পন্ন মন ও কর্ম উভয় ক্ষেত্রেই সততা আর নির্মলতা থাকে, সেইরকম ভোলা বাচ্চারা ভোলাবাবাকে নিজেদের প্রতি আকৃষ্ট করে l ভোলানাথ বাবা এমন স্বচ্ছমণি ভোলা বাচ্চাদের গুণের মালা সদাসর্বদা জপ করতে থাকেন l তোমরা সকলে অনেক জন্ম ধরে বাবার নামের মালা জপ করেছ আর এখন সঙ্গমযুগে তোমরা সব বাচ্চাকে বাবা রিটার্ণ দিচ্ছেন l তিনি বাচ্চাদের গুণমালা জপ করেন l ভোলা বাচ্চারা ভোলানাথের কত প্রিয় ! যতটাই তোমরা জ্ঞানস্বরূপ, নলেজফুল, পাওয়ারফুল ততটাই ভোলা ! ভগবানেরও সহজ-সরলতা ভালো লাগে l তোমাদের এই শ্রেষ্ঠ ভাগ্যকে তোমরা তো জান, তাই না ? যে ভাগ্যে ভগবানকে তোমরা তোমাদের অনুরাগী করে নিয়েছ, নিজেদের বানিয়ে দিয়েছ l



আজ ভক্ত আর বাচ্চাদের উভয়ের বিশেষভাবে উদযাপনের দিন l ভক্তগণ প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাঁকে আহ্বান করছে আর তোমরা সামনে বসে আছ l ভক্তদের লীলা দেখে বাবা মৃদু হাসেন এবং বাচ্চাদের মিলন লীলা দেখে পুলকিত হন l একদিকে বিয়োগী ভক্ত আত্মারা, অন্যদিকে সহজ যোগী বাচ্চারা l তাদের নিজেদের আকর্ষণের ফলস্বরূপ উভয়েই প্রিয় l ভক্তরাও কিছু কম নয় l আগামীকাল ইষ্ট দেবতার আকারী রূপে চারিদিকে পরিক্রমা করে সবকিছু দেখ l বাবার সাথে শালগ্রাম বাচ্চাদেরও বিশেষ রূপে পূজা হবে। ভক্তরা বাবার সাথে তোমরা সব বাচ্চারও পূজন করছে দেখ l এমনকি, এখনও, শেষ সময় পর্যন্তও এমন কোনো কোনো নবধা ভক্ত আছে, যারা প্রকৃত স্নেহের সাথে ভক্তি ক'রে ভক্তির ভাবনার অল্প সময়ের ফল অনুভব করে l বুঝেছ তোমরা !



সবাই তোমরা বাবার জন্ম-জয়ন্তী পালন করবে নাকি নিজেদের ? সারা কল্পে বাবা আর বাচ্চাদের বার্থ-ডে একই দিনে হতে পারে? দিন এক হলেও হতে পারে, কিন্তু বছর এক হতে পারে না l বাবা আর বাচ্চাদের মধ্যে ফারাক তো হবে, তাই না ! কিন্তু বাবা আর বাচ্চাদের অলৌকিক জন্মদিন একই সময়ে হয় l তোমরা বলবে যে তোমরা বাবার বার্থ-ডে পালন করছ আর বাবা বলবেন, তিনি বাচ্চাদের বার্থ-ডে পালন করছেন l সুতরাং এটা ওয়ান্ডারফুল বার্থ-ডে, তাই না ! তোমরা নিজেদের জয়ন্তী উদযাপনের সাথে সাথে বাবারও জয়ন্তী উদযাপন করছ l এই থেকেই জানছ যে ভোলানাথ বাবার বাচ্চাদের প্রতি কত স্নেহ যে জন্মদিবসও এক সময়ে l সুতরাং ভোলানাথকে তোমরা এতটাই আকৃষ্ট করেছ ! ভক্তরা তাদের ভক্তির নেশায় মাতোয়ারা হয়ে যায়, সেখানে তোমরা সবকিছু পাওয়ার খুশিতে তাঁর সাথে উদযাপন কর, গাও আর নাচ l যে স্মরণিক বানানো হয়েছে তার মধ্যে অনেক তাৎপর্য আছে l



তাদের পূজাতে এবং চিত্রতে দু'টো বিশেষ বিশেষত্ব আছে l এক তো আছে বিন্দুর বিশেষত্ব আরেক হলো প্রতিটা ফোঁটার (বিন্দু ) বিশেষত্ব l পূজার বিধিতে বিন্দুমাত্রেই মহত্ব l এই সময় তোমরা বাচ্চারা বিন্দুর সঙ্কল্পে স্থিত থাক l সমগ্র জ্ঞানের সার বিশেষভাবে *'বিন্দু'* শব্দে সমাহিত l বাবা বিন্দু, তোমরা আত্মারাও বিন্দু এবং ড্রামার জ্ঞান ধারণ হেতু, যা হয়েছে তা' ফিনিশ অর্থাৎ ফুলস্টপ লাগিয়েছ তোমরা l পরম আত্মা, আত্মা এবং প্রকৃতির যেন একটা খেলা অর্থাৎ এই তিনের ড্রামার জ্ঞান বিন্দু হিসেবেই তোমাদের প্র্যাকটিক্যাল লাইফে অনুভব কর, তাই না ! এইজন্য ভক্তিতেও প্রতিমার মাঝখানে বিন্দুকে মহত্ত্ব দেওয়া হয়েছে l দ্বিতীয়তঃ, ফোঁটার মহত্ত্ব।যখন তোমরা সকলে স্মরণে বসো অথবা কাউকে স্মরণে বসাও, কোন্ বিধি প্রয়োগ কর ? ফোঁটা ফোঁটা সঙ্কল্পের - প্রথম ফোঁটা তোমরা সিঞ্চন কর, আমি আত্মা l দ্বিতীয় ফোঁটা, আমি বাবার বাচ্চা l এইরকম শুদ্ধ সঙ্কল্পের কণা থেকে তোমরা মিলনের সিদ্ধির অনুভব কর, তাই না ! সুতরাং প্রথম হল শুদ্ধ সঙ্কল্পের স্মৃতির ফোঁটা আর দ্বিতীয় হল, যখন তোমরা অন্তরঙ্গভাবে আলাপচারিতা (রূহ্-রিহান) করো, বাবার এবং প্রাপ্তির সকল প্রকার মহিমার শুদ্ধ সঙ্কল্প ফোঁটায় ফোঁটায় সিঞ্চন কর l "তুমি এইরকম, তুমিই আমাকে এমন বানিয়েছ !" এমনই মিষ্টি মিষ্টি শীতল ফোঁটা বাবার ওপরে সিঞ্চন কর, অর্থাৎ বাবার সঙ্গে মনখোলা অন্তরঙ্গ আলাপন কর l বিচার্য বিষয়াদির নির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে ব'লে তারপর তোমরা ভাব, সবকিছু একসাথে ভাব না l তৃতীয় ব্যাপার হল, বাচ্চারা সকলে তাদের তন, মন, ধন দ্বারা কণা কণা সহযোগ অর্পণ করে l এই কারণে তোমরা বিশেষভাবে বল, *বিন্দু বিন্দুতেই সিন্ধু অর্থাৎ ফোঁটা ফোঁটা করেই সাগর হয় l* বিশ্ব পরিবর্তনের এত বড় কাজের জন্য, সর্বশক্তিমানের অসীম কাজের জন্য তোমরা সকলে যে সহযোগিতা কর, সেটা তো কণাসমই সহযোগ বলা যাবে ! যেমনই হোক, সকলের ফোঁটা ফোঁটা ক'রে সহযোগ দ্বারা সহযোগের বিশাল সাগর তৈরি হয়ে যায় l সেইজন্য পূজার বিধিতে তারা ফোঁটার মহত্ত্ব দেখিয়েছে l



তারা ব্রত পালনের জন্য পূজার বিশেষ বিধি প্রদর্শন করে l তোমরা ব্রত গ্রহণ কর, তাই না ! সবাই তোমরা বাবার সহযোগী হওয়ায় ব্যর্থ সঙ্কল্পের কোনও ভোজন না নেওয়ার ব্রত পালন কর, তোমরা কখনও তোমাদের বুদ্ধিতে অশুদ্ধ বা ব্যর্থ সঙ্কল্প স্বীকার কর না l তোমরা এই ব্রত নাও অর্থাৎ তোমরা দৃঢ় সঙ্কল্প নাও, সেক্ষেত্রে ভক্তগণ অশুদ্ধ ভোজন গ্রহণ না করার ব্রত নেয় l এর সাথে সাথে তোমরা সবসময়ের জন্য প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠো, আর তারা এই অগ্নিমানের স্মরণিক হিসেবে সারারাত জাগরণে থাকে l তোমরা সব বাচ্চার অবিনাশী, রূহানী, অন্তর্মুখী বিধি ভক্তগণ স্থূল বহির্মুখী বিধি হিসেবে নিয়েছে l যতই হোক, তারা তোমরা সব বাচ্চাকেই কপি করেছে l তাদের তমোপ্রধান বুদ্ধির কারণে যা কিছু তাদের দ্বারা টাচ্ হয়েছে তা' থেকেই তারা এইরকমই বিধি বানিয়ে দিয়েছে l এমনকি, রজঃগুণী নাম্বার ওয়ান ভক্ত আর ভক্তির হিসেব অনুযায়ী, সতঃগুণী ভক্ত তো ব্রহ্মা এবং তোমরা সব বিশেষ আত্মারা এর জন্য নিমিত্ত হয়েছ l যাই হোক, প্রথমতঃ, তোমাদের মন্সা স্নেহ আর মন্সা শক্তি থাকার কারণে মানসিক অনুভূতির ভক্তি প্রথম শুরু হয় l এই সমস্ত স্থূল বিধি পরে ধীরে ধীরে অধিকমাত্রায় শুরু হয় l তথাপি, রচয়িতা বাবা তাঁর নিজের ভক্ত আত্মাদের রচনা আর তাদের বিধি দেখে বলেন, এই ভক্তদের বুদ্ধির টাচিংয়ের এটা বিস্ময় ! তবুও, এই বিধিতে তাদের বুদ্ধি বিজি রেখে বিকারে অসংযত হওয়া থেকে সামান্য হলেও তো সুরক্ষিত করেছে, তাই না ! বুঝেছ তোমরা, তোমাদের প্রকৃত সাফল্যের বিধি ভক্তিতে কিরকম অব্যাহত আছে ! এটা স্মৃতিচিহ্নের মহত্ত্ব l



ডবল বিদেশি বাচ্চারা ভক্তি দেখার সুযোগ পায় না l কিন্তু তোমাদের ভক্ত রয়েছে l সুতরাং ভক্তের লীলা তোমরা বাচ্চারা অনুভব কর যে তোমরা সব পূজ্য আত্মার এখনও ভক্ত আত্মারা কিভাবে পূজনও করছে আবার আহ্বানও করছে ! এইরকম অনুভব কর তোমরা ? ভক্তের ডাক কখনও অনুভব কর ? ভক্তদের জন্য দয়া অনুভূত হয় ? ভক্তদের বিষয়েও তোমরা ভালোভাবে জানো, তাই না ? ভক্তরা ডাকল আর তোমরা বুঝতে পারলে না, তাহলে, ভক্তদের কি হবে ! সেইজন্য ভক্ত কি, পূজারী কি, পূজ্য আত্মা কি সেই তাৎপর্য তোমাদের স্পষ্টভাবে জানা উচিৎ l পূজ্য হওয়ার রহস্য আর পূজারী হওয়ার রহস্য তোমরা জান, তাই না ? আচ্ছা l কখনও ভক্তদের ডাক অনুভব করেছ তোমরা ? তোমরা পাণ্ডবরাও সেই আহ্বান শোন নাকি শুধুই শক্তিরা তা' শোনে ? শালগ্রাম তো অনেক হয়, আনুমানিক লাখ লাখ l কিন্তু দেবতাগণ লাখ লাখ হয় না l দেবী-দেবতা আনুমানিক হাজারে হবে, লক্ষ লক্ষ নয় l আচ্ছা - এর রহস্য বাবা তোমাদের আবার কখনো শোনাবেন l ডবল বিদেশিদের মধ্যে যারা আদিতে এসেছে, যারা শুরুতেই একজাম্পল হয়েছে, তারা শক্তি হোক বা পাণ্ডব, তাদেরও বিশেষত্ব আছে, তাই না ! সবার আগে তো বাবাই সর্বাধিক বিদেশি l সবচেয়ে বেশি সময় বিদেশে কে থাকেন ? বাবা থাকেন, তাই না !



এখন দিনানুদিন যেমন তোমাদের অগ্রগতি হবে, ততই ভক্তদের আহ্বানের আওয়াজ, তাদের ভাবনা অতি স্পষ্টরূপে তোমরা অনুভব করবে l কে তাদের ইষ্ট দেবী বা দেবতা, সেটাও তোমরা জানবে l খানিক পাকাপোক্ত হয়ে যাও, তারপরে দিব্য বুদ্ধির টাচিং দ্বারা তোমাদের এমন অনুভব হবে যেন দিব্য দৃষ্টিতে স্পষ্টরূপে তোমরা সব দেখছ l এখন তোমরা অলঙ্কৃত হচ্ছ, সেইজন্য প্রত্যক্ষতার পর্দা খুলছে না l যখন তোমরা সজ্জিত হয়ে উঠবে তখনই পর্দা সরে যাবে আর তখনই নিজেকে দেখতে সমর্থ হবে l সবার মুখ থেকে তখন এটাই বার হবে, অমুক দেবীও এসে গেছেন, অমুক দেবতাও এসে গেছেন l আচ্ছা !



সদা ভোলানাথ বাবার সরলচিত্ত, সহজ স্বভাবযুক্ত সহজ যোগী ভোলা বাচ্চাদের, যারা বিন্দু এবং ফোঁটার মর্মার্থ তাদের জীবনে সদা ধারণ ক'রে ধারণার প্রতিমূর্তি হয়, প্রজ্জ্বলিত আত্মারা, যারা সদা তাদের সঙ্কল্পে, বাণীতে এবং কর্মে দৃঢ়তার ব্রত নিয়ে 'জ্ঞানী আত্মা', যারা সদা নিজেদের পূজ্যস্বরূপ হওয়ার স্থিতিতে স্থিত থাকে, সেইরকম পূজ্য আত্মাদের ভোলানাথ, বরদাতা, বিধাতা বাবার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l



*পতাকা উত্তোলনের পরে বাবার মধুর মহাবাক্য*

বাবা বলেন, বাচ্চাদের পতাকা সদা মহান l বাচ্চারা না থাকলে বাবা কি করতেন ! তোমরা বল, বাবার পতাকা সদা মহান . . . (গীত বাজছিল) আর বাবা বলেন, বাচ্চাদের পতাকা সদা মহান l বিজয় পতাকা সদাসর্বদা বাচ্চাদের ললাটে উড্ডীয়মান l সকলের নয়নে, সকলের ললাটে বিজয় পতাকা উত্তোলিত হয়ে আছে l বাপদাদা দেখেন এটা একটা পতাকার উত্তোলন নয়, বরং বিজয়ের অবিনাশী পতাকা সকলের ললাটে উত্তোলিত হয়েছে l



*বাবা এবং বাচ্চাদের ওয়ান্ডারফুল বার্থডে'র জন্য অভিনন্দন*

চতুর্দিকের অতি স্নেহী, সেবার সাথী, সদা কদমে কদম রেখে চলা সব বাচ্চাকে এই অলৌকিক ব্রাহ্মণ জীবনের বার্থডে'র অভিনন্দন l তোমরা সব বাচ্চার স্নেহ, স্মরণ, অভিনন্দনের রিটার্ণে বাপদাদা তাঁর স্নেহভরা হাতে বাচ্চাদের মাল্যদান করে অভিনন্দিত করছেন l সব বাচ্চার স্মরণিক হিসেবে এই অলৌকিক বার্থডে বিশ্বের প্রত্যেক আত্মা উদযাপন ক'রে আসছে, কারণ বাবার সাথে সাথে বাচ্চাদেরও ব্রাহ্মণ জীবন থেকে সকল আত্মা অনেক অনেক অনেক সুখ-শান্তি, খুশি আর শক্তির সহযোগ লাভ করে l এই সহযোগের কারণে সবাই অন্তর থেকে শিব এবং শালগ্রাম উভয়ের বার্থডে, শিবজয়ন্তী উদযাপন করে l সুতরাং এইরকম সব শালগ্রাম বাচ্চাকে শিববাবা আর ব্রহ্মাবাবা উভয়ের অবিরত লক্ষ-কোটি গুণ অভিনন্দন, অভিনন্দন l প্রতিনিয়ত তোমরা বন্দিত হও, সদা তোমাদের উন্নতি হোক এবং সদা বিধিপূর্বক সিদ্ধিলাভ করতে থাক l



*বিদায়ের সময়ঃ-* গুড মর্নিং তো সবাই বলে, কিন্তু তোমাদের মর্নিং গডের সাথে, সুতরাং এটা গডলি মর্নিং হয়ে গেল, তাই না ! গডের সাথে রাত্রিযাপন কর আর এখন গডের সাথে মর্নিং উদযাপন করছ l সুতরাং সদা গড্ আর গুড মনে রেখ l নিরন্তর গডের স্মরণই তোমায় গুড বানায় l যদি গডের স্মরণ না থাকে, তবে গুড হতে পারবে না l তোমাদের সকলের সদাই গডলি লাইফ, এই কারণে তোমাদের প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা সঙ্কল্প গুড l সুতরাং এটা শুধু গুড মর্নিং, গুড ইভনিং, গুড নাইট নয়, বরং প্রতিটা সেকেন্ড, প্রতিটা সঙ্কল্প গডের স্মরণের কারণে গুড l এইরকম অনুভব কর তোমরা ? তোমাদের জীবনই গুড, কারণ গডের সাথেই তোমাদের জীবন l সব কর্মই তোমরা বাবার সাথে কর, তাই না? কোনকিছু একা কর না, নয় কি ? তোমরা তো বাবার সাথেই খাও নাকি একাই খেয়ে নাও ? সদা গড্ আর গুডের সম্বন্ধ স্মরণে রাখ আর তোমাদের জীবনে সংযোজিত কর l বুঝেছ তোমরা ? আচ্ছা l সকলকে বাপদাদার অমৃতবেলার বিশেষ অমর স্মরণ -স্নেহ আর নমস্কার l

বরদান:-

মহাদানী হয়ে উদারভাবে খুশির ভাণ্ডার বন্টন ক'রে মাস্টার দয়াশীল ভব

লোকে অল্পকালের খুশি প্রাপ্ত করার জন্য কত সময় আর ধন ব্যয় করে, তবুও প্রকৃত খুশির প্রাপ্তি হয় না, এইরকম আবশ্যক সময়ে তোমাদের সব আত্মাকে মহাদানী হয়ে উদার চিত্তে খুশির দান দিতে হবে l সেইজন্য ঐশ্বরিক করুণা'র গুণ উদ্ভাসিত (ইমার্জ) কর l তোমাদের জড় চিত্র বরদান দিচ্ছে, সুতরাং তোমাদেরও চৈতন্য রূপে দয়াশীল হ'য়ে সদা বিলিয়ে দিতে হবে, কারণ সেই আত্মারা অন্যের প্রভাবে প্রভাবিত অর্থাৎ পরবশ হয়ে আছে l কখনও এটা ভেব না যে এই ব্যক্তি তো শোনেই না, তোমাদের কেবল দয়াশীল হয়ে নিরন্তর দিয়ে যেতে হবে l তোমাদের শুভ ভাবনা তাদের অবশ্যই ফল দেবে l

স্লোগান:-

যারা যোগের শক্তি দিয়ে সমস্ত কর্মেন্দ্রিয়কে তাদের নিজের অর্ডারে চালিত করে, তারাই স্বরাজ্য অধিকারী হয় l