03.09.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


প্রশ্নঃ -
তোমরা হলে ডবল-অহিংসক, আননোন ওয়ারিয়ার্স, তোমাদের কোন্ বিজয় নিশ্চিত এবং কেন ?

উত্তরঃ -
তোমরা বাচ্চারা যারা মায়াকে পরাজিত করার পুরুষার্থ করছো, তোমাদের লক্ষ্য হলো যে, আমরা রাবণের হাত থেকে নিজের রাজত্ব নিয়েই থাকবো..... ড্রামাতে এরও যুক্তি রচনা করা আছে। তোমাদের বিজয় নিশ্চিত, কারণ তোমাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ পরমপিতা পরমাত্মা আছেন। তোমরা যোগবলের দ্বারা বিজয় লাভ করো। মন্মনাভবের মহামন্ত্র দ্বারা তোমরা রাজত্ব প্রাপ্ত করো। তোমরা অর্ধকল্প রাজত্ব করবে ।

গীতঃ-
নিজের মুখ দেখেনে মনের আয়নাতে....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি-মিষ্টি বাচ্চারা যখন সামনে সামনে বসে থাকে তখন বুঝতে পারে যথাযথভাবে আমাদের কোনও সাকার টিচার নেই, আমাদের যিনি পড়াচ্ছেন তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর বাবা। এই কথা তো নিশ্চিত যে আমাদের পিতাও হলেন উনি, যখন পড়ান তখন পড়াশোনায় মনোযোগ থাকে। স্টুডেন্ট নিজের স্কুলে বসে থাকলে টিচার স্মরণে আসবে, পিতা নয়। কারণ স্কুলে বসে আছে। তোমরাও জানো টিচারও হলেন বাবা। নাম নিয়ে তো কোনও কথা হবে না। বুদ্ধিতে রাখতে হবে - আমরা হলাম আত্মা, বাবার কাছে শুনি। এমন তো কখনও হয় না। না সত্যযুগে, না কলিযুগে হয়। শুধুমাত্র একবার সঙ্গমেই হয়। তোমরা নিজেদেরকে আত্মা নিশ্চয় করো। আমাদের পিতা এই সময় হলেন টিচার, কারণ তিনি পড়ান, দুটি কর্তব্য পালন করতে হয়। আত্মারা পড়াশোনা করে শিববাবার কাছে। এও হলো যোগ এবং জ্ঞানের পড়া। আত্মা পড়ে, পরমাত্মা পড়ান। এতে আরও বেশি লাভ, যখন তোমরা সম্মুখে থাকো। অনেক বাচ্চারা ভালো ভাবে স্মরণে থাকবে। কর্মাতীত অবস্থায় পৌঁছালে তো পবিত্রতার শক্তিও প্রাপ্ত হয়। তোমরা জানো শিববাবা আমাদের পড়ান। এ হলো তোমাদের যোগ এবং উপার্জন দুটি একত্রে। আত্মাকেই সতোপ্রধান হতে হবে। তোমরা সতোপ্রধান হচ্ছো, ধনও প্রাপ্ত করছো। নিজেকে অবশ্যই আত্মা নিশ্চয় করতে হবে। বুদ্ধি যেন বিচরণ না করে। এখানে বসে বুদ্ধিতে যেন থাকে যে, শিববাবা পড়ানোর জন্য টিচার রূপে এসেছেন। তিনি হলেন নলেজফুল, আমাদের পড়াচ্ছেন। বাবাকে স্মরণ করতে হবে। আমরাই হলাম স্বদর্শন চক্রধারী। আমরাই হলাম লাইট হাউস। একটি চোখে শান্তিধাম, অন্যটিতে জীবনমুক্তিধাম আছে। এই চোখের কথা নয়, আত্মার তৃতীয় নেত্র বলা হয়। *এখন আত্মারা শুনছে, যখন শরীর ত্যাগ করবে তখন আত্মায় এই সংস্কার থাকবে* । এখন তোমরা বাবার সঙ্গে যোগযুক্ত হও। *সত্যযুগ থেকে তোমরা বিয়োগী ছিলে অর্থাৎ বাবার সঙ্গে যোগ ছিলো না। এখন তোমরা যোগী হও, বাবার মতন। যোগ শেখাচ্ছেন ঈশ্বর, তাই তাঁকে বলা হয় যোগেশ্বর। তোমরা হলে যোগেশ্বরের সন্তান। তাঁকে যোগ করতে হয় না। তিনি হলেন যোগের শিক্ষা প্রদানকারী পরমপিতা পরমাত্মা। তোমরা এক একজন যোগেশ্বর, যোগেশ্বরী হও তারপরে রাজ-রাজেশ্বরী হবে। তিনি যোগের শিক্ষা দেন, তিনি হলেন ঈশ্বর। নিজে শেখেন না, তিনি শেখান। কৃষ্ণের আত্মা শেষ জন্মে যোগ শিখে কৃষ্ণ রূপে পরিণত হন, তাই কৃষ্ণকেও যোগেশ্বর বলা হয়। কারণ ওনার আত্মা এখন যোগের শিক্ষা গ্রহণ করছে। যোগেশ্বরের কাছে যোগের শিক্ষা প্রাপ্ত করে কৃষ্ণ পদ প্রাপ্ত করেন। শিবপিতা পরে ওনার নাম রাখেন ব্রহ্মা। প্রথমে তো লৌকিক নাম ছিলো, পরে মরজীবা (জীবিত থেকেই মৃত সম) হয়েছেন।* আত্মাকেই বাবার আপন হতে হয়। বাবার আপন হওয়া অর্থাৎ মৃত হওয়া, তাইনা। তোমরাও বাবার কাছে যোগের শিক্ষা অর্জন করো। এই সংস্কার গুলি নিয়ে তোমরা শান্তিধামে যাবে। তারপরে নতুন পার্টের প্রালব্ধ ইমার্য হবে। যেমন বাবার সঙ্কল্প উৎপন্ন হয়েছে যে আমি যাই, তাই বাবা বলেন আমি আসি এবং আমার বাণী চলতে শুরু করে । পরমধামে তো শান্তি থাকে। তখন ড্রামা অনুযায়ী তাঁর পার্ট আরম্ভ হয়ে যায়। আসার সঙ্কল্প উৎপন্ন হয়। তারপরে এখানে এসে পার্ট প্লে করেন। তোমাদের আত্মাও শুনছে। নম্বর অনুসারে পুরুষার্থ অনুযায়ী কল্প পূর্বের মতন। দিন দিন বৃদ্ধিও হতে থাকবে। একদিন তোমরা বিশাল রয়্যাল হল-ও প্রাপ্ত করবে, যেখানে অনেক বড় বড় লোকও আসবে। সবাই একত্রে বসে শুনবে। দিন দিন ধনী ব্যক্তিরাও প্রজা হতে থাকবে। পেটে পিঠে এক হয়ে যাবে। এমন বিপদ আসবে, মুসলধারে বৃষ্টি হবে তখন সম্পূর্ণ কৃষি ইত্যাদি জলে ডুবে যাবে। ন্যাচারাল ক্যালামিটিজ তো আসবেই। বিনাশ হবে, একেই বলা হয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বুদ্ধি বলে বিনাশ হবে নিশ্চয়ই। একদিকে বোমাও তৈরি, ন্যাচারাল ক্যালামিটিজ ইত্যাদি সব এখানকার জন্য। এতে সাহস চাই। অঙ্গদের দৃষ্টান্ত আছে না, তাকে কেউ নড়াতে পারে নি। এই অবস্থা মজবুত করতে হবে - আমি আত্মা, দেহ ভান নষ্ট হতে থাকবে। সত্যযুগে তো যখন অটোমেটিক্যালি সময় পূর্ণ হয় তখন সাক্ষাৎকার হয়। এখন এই দেহ ত্যাগ করে শিশু হতে হবে। এক দেহ ত্যাগ করে অন্য দেহে প্রবেশ করে, দন্ড ইত্যাদি তো সেখানে কিছুই নেই। যত দিন যাবে তোমরা কাছে আসবে। বাবা বলেন, আমার মধ্যে যা পার্ট ভরা আছে সেসব খুলতে থাকবে। বাচ্চাদের বলতে থাকবেন। *যখন বাবার পার্ট পূর্ণ হবে, তখন তোমাদের পার্টও পুরো হয়ে যাবে। তারপরে তোমাদের সত্যযুগের পার্ট আরম্ভ হবে*। এখন তোমাদের নিজের রাজ্য প্রাপ্ত করতে হবে, এই ড্রামা খুব যুক্তি দ্বারা গঠিত হয়েছে। তোমরা মায়ার উপরে জয় লাভ কর, এতেও সময় লাগে। তারা তো একদিকে ভাবে আমরা স্বর্গে বসে আছি, এই দুনিয়া সুখধাম হয়েছে, অন্য দিকে আবার গানের মধ্যে দিয়ে ভারতের অবস্থার কাহিনী শোনায়। তোমরা জানো এই দুনিয়া তো আরও তমোপ্রধান হয়েছে। ড্রামা অনুযায়ী ভীষণ ভাবে তমোপ্রধান হতে থাকে। তোমরা এখন সতোপ্রধান হচ্ছো। *এখন তোমরা কাছে এসেছো, শেষে বিজয় তো তোমাদেরই হবে*। হাহাকারের পরে জয়জয়কার হবে। ঘি-য়ের নদী বইবে। সেখানে ঘি ইত্যাদি কিনতে হবে না। সবার কাছে নিজের ফার্স্টক্লাস গরু থাকে। তোমরা অনেক উঁচু স্থান প্রাপ্ত করো। তোমরা জানো ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি রিপিট হয়। বাবা এসে ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি রিপিট করেন। তাই বাবা বলেন, এই কথাও লিখে দাও যে - ওয়ার্ল্ডের হিস্ট্রি-জিওগ্রাফি কীভাবে রিপিট হয়, এসে বুঝে নাও। যারা সেন্সিবল হবে, তারা বলবে এখন হল আয়রন এজ, অতএব অবশ্যই গোল্ডেন এজ রিপিট হবে। কেউ বলবে সৃষ্টি চক্র লক্ষ বছরের, তাহলে এখন রিপিট হবে কীভাবে । এখানে সূর্যবংশী-চন্দ্রবংশীর হিস্ট্রি তো নেই। অন্তিম সময় পর্যন্ত কীভাবে রিপিট হয়। সে কথাও জানে না যে এদের রাজ্য আবার কবে হবে। রাম রাজ্যের কথা তো জানে না। এখন তোমাদের সঙ্গে বাবা আছেন। যে দিকে সাক্ষাৎ পরমপিতা পরমাত্মা আছেন, তাদের বিজয় তো অবশ্যই হবে। বাবা কোনো রকম হিংসা তো করাবেন না। কাউকে আঘাত করা হল হিংসা । সবচেয়ে মারাত্মক হিংসা হল কাম কাটারী চালানো। এখন তোমরা ডবল অহিংসক হচ্ছো। স্বর্গে তো হলো অহিংসা পরম দেবী-দেবতা ধর্ম। সেখানে না যুদ্ধ হয়, না বিকারগ্রস্ত হয়। এখন তোমাদের হলো যোগবল, কিন্তু না বোঝার জন্য শাস্ত্রে অসুর ও দেবতাদের যুদ্ধ লিখে দিয়েছে, অহিংসার কথা কেউ জানে না। এই কথা তোমরা জানো। তোমরা হলে ইনকগনিটো ওয়ারিয়ার্স। আননোন বাট ভেরি ওয়েল নোন। তোমাদেরকে কেউ ওয়ারিয়ার্স ভাববে ? তোমাদের দ্বারা সবাই "মন্মনাভব" এর সংবাদ প্রাপ্ত করবে। এ হলো মহামন্ত্র। মানুষ এইসব কথা বোঝে না। সত্যযুগ-ত্রেতায় এইসব হয় না। মন্ত্র দ্বারা তোমরা রাজত্ব প্রাপ্ত কর পরে দরকার থাকবে না। তোমরা জানো আমরা কীভাবে পরিক্রমা করে আসি। এখন বাবা পুনরায় মহামন্ত্র দেন। পরে অর্ধকল্প রাজত্ব করবো। এখন তোমাদের দিব্যগুণ ধারণ করতে হবে এবং করাতে হবে। বাবা পরামর্শ দেন - নিজের চার্ট রাখলে খুব আনন্দ হবে। রেজিস্টারে গুড, বেটার, বেস্ট হয়, তাইনা। নিজেও অনুভব করে। কেউ ভালো ভাবে পড়া করে, কারো মনোযোগ থাকে না। তখন ফেল হয়ে যায়। এ হল অসীমের পড়াশোনা। বাবা হলেন টিচার এবং গুরু। একত্রে চলেন। ইনি একমাত্র বাবা যিনি বলেন মরজীবা হও অর্থাৎ জীবিত অবস্থায় মৃত সম হও। তোমরা নিজেকে আত্মা সুনিশ্চয় করে বাবাকে স্মরণ করো। বাবা বলেন - আমি তোমাদের পিতা। ব্রহ্মা দ্বারা রাজত্ব প্রদান করি। ব্রহ্মা মধ্যিখানে থেকে যোগাযোগ করান, এনার সঙ্গে যোগযুক্ত হতে হবে না। এখন তোমাদের বুদ্ধি যুক্ত হয়েছে স্বামীদের স্বামী শিব সাজনের সঙ্গে। ব্রহ্মার দ্বারা শিববাবা তোমাদের আপন করেন। তিনি বলেন নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে আমাকে স্মরণ করো। আমরা আত্মারা পার্ট পূর্ণ করেছি এখন বাবার কাছে ঘরে (পরমধাম) ফিরতে হবে। এখন তো সম্পূর্ণ সৃষ্টি হলো তমোপ্রধান। ৫-টি তত্ত্বও তমোপ্রধান হয়েছে। সেখানে সব কিছু নতুন থাকবে। এখানে তো দেখো হীরে-জহরত ইত্যাদি কিছুই নেই। সত্যযুগে তাহলে কোথা থেকে আসে ? খনি ইত্যাদি যা এখন খালি হয়েছে সেসব পুনরায় ভরে যায়। খনি থেকে খোদাই করে নিয়ে আসে। ভেবে দেখো সব নতুন হবে, তাইনা। লাইট ইত্যাদিও সব ন্যাচারাল থাকে, এখানে বিজ্ঞানের দ্বারা সব শিখতে থাকে। সেখানে এইসবও কাজে লাগে। হেলিকপ্টর থাকবে, অন করলেই চলবে। কোনও কষ্ট নেই। সেখানে সবকিছু ফুলপ্রুফ থাকে, কখনও মেশিন ইত্যাদি খারাপ হয় না। ঘরে বসে সেকেন্ডে স্কুলে যায় বা বেড়াতে যায়। প্রজাদের জন্য তার চেয়ে কিছু কম থাকবে । তোমাদের জন্য সেখানে সব সুখ থাকে। অকালে মৃত্যু থাকে না। সুতরাং বাচ্চারা, তোমাদের কতখানি মনোযোগ দেওয়া উচিত। মায়ার এখন অনেক শক্তি। এই হলো মায়ার শেষ পাম্প। যুদ্ধে দেখবে কত মানুষ মারা যাবে। যুদ্ধ থামবে না। এদিকে এই বিশাল দুনিয়া, অন্যদিকে শুধুমাত্র একটি স্বর্গ হবে। সেখানে এমন বলা হবে না যে পতিত-পাবনী গঙ্গা। সেখানে ভক্তিমার্গের কোনও কথাই নেই। এখানে গঙ্গায় দেখো পুরো শহরের আবর্জনা জমা হয়। মুম্বাইয়ের সম্পূর্ণ আবর্জনা সাগরে ডুবে যায়।

ভক্তি মার্গে তোমরা বিশাল মন্দির বানাও। হীরে-জহরতের সুখ তো থাকে, তাইনা। তিনের চারভাগ সুখ, একভাগ দুঃখ থাকে। অর্ধেক হলে তো আনন্দ থাকবে না। ভক্তিমার্গেও তোমরা অনেক সুখী থাকো। পরে মন্দির ইত্যাদি লুট করে নিয়ে যায়। সত্যযুগে তোমরা অনেক ধনী ছিলে, তাই বাচ্চারা, তোমাদের অনেক খুশীতে থাকা উচিত। মুখ্য উদ্দেশ্যটি তো সামনে আছে। মা-বাবা তো অবশ্যই আছেন। গায়ন আছে খুশীর মতন পুষ্টিকর আহার আর কিছু নেই। যোগের দ্বারা আয়ু বৃদ্ধি হয়।

এখন আত্মার নিজেরই দর্শন হয়েছে যে, আমরা ৮৪-র পরিক্রমা করি। এত পার্ট প্লে করি। সব আত্মা রূপী অভিনেতারা নীচে নেমে এলে বাবা সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবেন। শিবের বরযাত্রা বলা হয়, তাইনা। এইসব কথা তোমরা জানো নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে। তোমরা যত স্মরণে থাকবে ততই খুশীতে থাকবে। দিনে দিনে অনুভব করবে, কারণ যিনি শেখাচ্ছেন তিনি হলেন পিতা। এই কথাও শেখান। ব্রহ্মার শিব বাবাকে জিজ্ঞাসা করার প্রয়োজন নেই। জিজ্ঞাসা তো তোমরা করো। উনি তো শুনছেন। বাবা রেস্পন্ড করেন এবং ব্রহ্মাবাবাও শোনেন, এনার অ্যাক্টিভিটি কত ওয়ান্ডারফুল ! ব্রহ্মাবাবাও শিব বাবার স্মরণে থাকেন। তারপর বাচ্চাদের বর্ণনা করে শোনান। বাবা আমাকে খাবার খাওয়ান। আমি তাঁকে নিজের দেহ রূপী রথ প্রদান করি, শিববাবা সওয়ারী করেন, তাই আমাকে খাওয়ান। এ হলো হিউম্যান অশ্ব। আমি শিববাবার রথ - এই চিন্তন থাকলেও শিববাবার স্মরণ থাকবে। *স্মরণের দ্বারাই লাভ* । পাকশালায় (ভাণ্ডারাতে) ভোজন প্রস্তুত করার সময়ও এমন ভাববে যে, আমরা শিববাবার বাচ্চাদের জন্য রন্ধন করি। নিজেও শিববাবারই সন্তান, অতএব এমন করে স্মরণ করলেও লাভ হবে। সবচেয়ে উঁচু পদ মর্যাদা তারা পাবে, যারা স্মরণে থেকে কর্মাতীত অবস্থা প্রাপ্ত করে এবং সার্ভিসও করে। ব্রহ্মাবাবাও অনেক সার্ভিস করেন, তাইনা। এনার হলো অসীম জগতের সার্ভিস, তোমরা দেহের জগতের সার্ভিস করো। সার্ভিসের দ্বারা উনিও পদ প্রাপ্ত করেন। শিববাবা বলেন - এমন এমন করো, এনাকেও পরামর্শ দেন। ঝড় তো বাচ্চাদের সামনেই আসে, *স্মরণ ব্যতীত কর্মেন্দ্রিয়গুলি বশীভূত করা সম্ভব নয়* । স্মরণের দ্বারাই ভবসাগর পার হবে, এই কথা শিববাবা বলেন বা ব্রহ্মাবাবা বলেন, এই কথা বোঝা মুশকিল হয়ে যায়। এতেই খুব সূক্ষ্ম বুদ্ধি চাই। আচ্ছা !

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এই সময় সম্পূর্ণ মরজীবা হতে হবে। পড়া ভালোভাবে পড়তে হবে, নিজের চার্ট বা রেজিস্ট্রার রাখতে হবে। স্মরণে থেকে নিজের কর্মাতীত অবস্থা অর্জন করতে হবে।

২ ) অন্ত সময়ের বিনাশের সীন দেখবার জন্য সাহসী হতে হবে। আমি আত্মা - এই অভ্যাসের দ্বারা শরীরের অনুভূতি (দেহ ভান) যেন নষ্ট হয়।

বরদান:-
যে কোনও বিকট সমস্যাকে শীতল করে সম্পূর্ণ নিশ্চয়বুদ্ধি ভব

ব্যাখা: যেমন বাবার উপরে দৃঢ় নিশ্চয় আছে তেমনই নিজের উপরে এবং ড্রামাতেও যেন সম্পূর্ণ নিশ্চয় থাকে। নিজের কোনও দুর্বলতার সঙ্কল্প উৎপন্ন হলে দুর্বল হওয়ার সংস্কার নির্মিত হয়, তাই ব্যর্থ সঙ্কল্প রূপী দুর্বলতার জীবাণু নিজের ভিতরে প্রবেশ হতে দেবে না। তারই সাথে ড্রামাতে যা কিছু সীন দেখছো, অস্থিরতার সীনেও যেন কল্যাণ অনুভব হয়, পরিবেশে যতই দোলাচল হোক, সমস্যা বিকট হোক কিন্তু সদা নিশ্চয়বুদ্ধি বিজয়ী হও তাহলে বিকট সমস্যাও শীতল হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
যে আত্মার, বাবার আর সেবার প্রতি ভালোবাসা আছে, পরিবারের ভালোবাসা তার স্বতঃতই প্রাপ্ত হয় ।