০৩-১১-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ ০২-০৩-৮৫ মধুবন


বর্তমান ঈশ্বরীয় জন্ম এক অমূল্য জন্ম

আজ রত্নাকর বাবা তাঁর অমূল্য রত্নরাজি দেখছেন l এটা অলৌকিক অমূল্য রত্নদের দরবার l প্রত্যেক রত্নই অমূল্য l এই বর্তমান সময়ের বিশ্বের সমস্ত প্রপার্টি বা বিশ্বের সমগ্র ভান্ডার যদি তোমরা একত্রিত কর, সেই সবের তুলনায় প্রত্যেক ঈশ্বরীয় রত্ন অনেক বেশি অমূল্য l তোমাদের এক রত্নের সামনে বিশ্বের সমস্ত ভান্ডার কিছুই না l এতই অমূল্য রত্ন তোমরা l এই অমূল্য রত্ন সঙ্গমযুগ ব্যতীত সারা কল্পে পাওয়া যায় না l সত্যযুগী দেব-আত্মার পার্ট এই সঙ্গমযুগী ঈশ্বরীয় অমূল্য রত্ন হওয়ার পার্টের সামনে সেকেন্ড নম্বর হয়ে যায় l তোমরা এখন ঈশ্বরীয় সন্তান, সত্যযুগে দৈবী সন্তান হবে l ঈশ্বরের যেমন শ্রেষ্ঠ নাম, মহিমা, জন্ম, কর্ম আছে, ঠিক সেইরকমই ঈশ্বরীয় রত্নরাজির বা ঈশ্বরীয় সন্তান আত্মাদের মূল্য সর্বশ্রেষ্ঠ l এই শ্রেষ্ঠ মহিমার বা শ্রেষ্ঠ মূল্যের স্মরণিক এখনও নবরত্ন রূপে গায়ন ও পূজন হয় l নবরত্নের বিবিধ বিঘ্ন-বিনাশক রত্ন হিসেবে গায়ন হয়ে থাকে l বিঘ্ন অনুসারে বিশেষত্বযুক্ত রত্নের আংটি বানিয়ে তারা পরে বা লকেটে রাখে অথবা সেই বিশেষ রত্ন যেকোনও রূপে তাদের বাড়ীতে রেখে দেয় l এখনও তোমাদের লাস্ট জন্মে, বিঘ্ন-বিনাশক রূপে নিজেদের স্মারকচিহ্ন দেখছ l নম্বর অনুক্রমে নিশ্চয়ই আছ, কিন্তু তবুও, নম্বরানুক্রমিক হয়েও সবাই অমূল্য আর বিঘ্ন-বিনাশক l এমনকি আজও, আত্মারা তোমাদের শ্রেষ্ঠ স্বরূপে তোমরা সব রত্নকে সম্মান দেয় l অনেক ভালোবাসা আর স্বচ্ছতার সাথে সযত্নে রাখে, কেননা, তোমরা সবাই যেমনই হও, এমনকি যদি নিজেদের তেমন যোগ্য মনে না কর, বাবা কিন্তু তোমরা সব আত্মাকে যোগ্য বিবেচনা করেই তাঁর নিজের বানিয়েছেন l তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, 'তুমি আমার, আমি তোমার l' যে আত্মার উপর বাবার দৃষ্টি পড়ে, সে প্রভু-দৃষ্টির কারণে অবশ্যই অমূল্য হয়ে যায় l পরমাত্ম দৃষ্টির কারণে এমন আত্মা ঈশ্বরীয় সৃষ্টির, ঈশ্বরীয় সংসারের শ্রেষ্ঠ আত্মা হয়েই যায় l যখন তোমরা পরেশনাথের সম্বন্ধে এসেছ, তখন পরশের রঙ লেগেই যায়, সেইজন্য পরমাত্ম ভালোবাসার দৃষ্টি লাভে সারা কল্প তোমাদের স্মরণিক বিদ্যমান থাকে l হয় তা' চৈতন্য দেবতা রূপে বা হয় অর্ধেক কল্প জড় চিত্রের রূপে অথবা বিভিন্ন স্মারকচিহ্ন রূপে, যেমন রত্নরূপেও তোমাদের স্মরণিক আছে, নক্ষত্র রূপেও তোমাদের স্মরণিক বিদ্যমান l যে রূপেই তোমাদের স্মরণিক আছে, সারা কল্প তোমরা সবার ভালোবাসা পেয়েছ, কারণ অবিনাশী ভালোবাসার সাগরের ভালোবাসার দৃষ্টি সারা কল্পের জন্য তোমাদের ভালোবাসার অধিকারী বানিয়ে দেয়, সেইজন্য ভক্তরা এক-আধ মুহূর্তের দৃষ্টির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, যাতে এক ঝলকের দৃষ্টিতে তারা সবকিছুর ঊর্ধ্বে যেতে পারে l এই কারণে ভালোবাসার দৃষ্টি অবিনাশী ভালোবাসার যোগ্য বানায় l অবিনাশী প্রাপ্তি নিজে থেকেই হয়ে যায় l তিনি ভালোবাসার সাথে তোমাদের স্মরণ করেন, ভালোবাসার সাথে রাখেন l ভালোবাসার সাথে দেখেন l



দ্বিতীয়তঃ, স্বচ্ছতা অর্থাৎ পবিত্রতা l তোমরা এই সময় বাবার থেকে পবিত্রতার জন্মসিদ্ধ অধিকার প্রাপ্ত কর l তোমরা জান যে পবিত্রতা তথা স্বচ্ছতা তোমাদের নিজ স্বধর্ম l সেইজন্য পবিত্রতা আপন করে নেওয়ার কারণে যেখানে তোমাদের স্মারকচিহ্ন হবে, সেখানে পবিত্রতা বা স্বচ্ছতা স্মারক রূপে এখনও বিদ্যমান l আর অর্ধেক কল্প তো আছেই পবিত্র পালনা, পবিত্র দুনিয়া l সুতরাং, অর্ধেক কল্প পবিত্রতায় জন্ম হয়, পবিত্রতার সাথে প্রতিপালিত হও আর অর্ধেক কল্প পবিত্রতার মাধ্যমে পূজিত হও l



তৃতীয়তঃ, তিনি তাঁর গভীর হৃদয়ের ভালোবাসা দিয়ে, তোমাদের শ্রেষ্ঠ এবং অমূল্য গণ্য করে লালন করেন, কারণ এই সময় স্বয়ং ভগবান মাতাপিতা রূপে তোমরা সব বাচ্চাকে দেখাশোনা করেন অর্থাৎ প্রতিপালন করেন l সুতরাং, তোমাদের লালন-পালন অবিনাশী হওয়ার কারণে, অবিনাশী স্নেহের সাথে দেখভাল হওয়ার কারণে সারা কল্প অত্যুচ্চ রয়্যালটির সাথে, সস্নেহে, রিগার্ড সহ তোমরা প্রতিপালিত হয়ে থাক l এইভাবে ভালোবাসা, স্বচ্ছতা, পবিত্রতা আর স্নেহের সাথে অবিনাশীরূপে প্রতিপালিত হওয়ার পাত্র হয়ে ওঠো তোমরা l অতএব, বুঝেছো কত অমূল্য তোমরা ! প্রত্যেক রত্নের কত মূল্য ! সেইজন্য আজ রত্নাকর বাবা প্রত্যেক রত্নের মূল্য দেখছিলেন l সমগ্র দুনিয়ার অক্ষৌহিণী আত্মারা একদিকে, কিন্তু তোমরা পাঁচ পাণ্ডব অক্ষৌহিণী আত্মাদের থেকে শক্তিশালী l সেই অক্ষৌহিণী তোমাদের একেরও সমান নয়, তোমরা এতই শক্তিশালী l অতএব, তোমরা কত মূল্যবান হয়ে গেছ ! তোমরা তোমাদের এত মূল্য জান ? নাকি কখনো কখনো নিজেদের ভুলে যাও ? যখন তোমরা নিজেদের ভুলে যাও তো অধোগামী হও l নিজেকে ভুলে যেয়োনা l সদা নিজেকে অমূল্য মনে করে এগিয়ে চলো l কিন্তু খুব ছোট ভুলও ক'রনা l তোমরা অমূল্য, কিন্তু বাবার সাহচর্যের কারণে তোমরা অমূল্য l বাবাকে ভুলে শুধু নিজের ভাবনা করলে সেটাও রং অর্থাৎ ভুল হবে l যিনি তোমাকে বানিয়েছেন তাঁকে বিস্মৃত হ'য়োনা l তোমরা হয়েছ ঠিকই, কিন্তু যিনি বানিয়েছেন তাঁর সাথে হয়েছ, এটা বোধশক্তিসম্পন্ন হওয়ার বিধি l যদি বিধি ভুলে যাও তো বোধ-বুদ্ধি, অনুভূতি-শক্তিহীন রূপে পরিবর্তিত হয়ে যায় l তারপরে আসে আমিত্ব বোধ l বিধি ভুলে গেলে সাফল্যের অনুভব হয় না, সেইজন্য বিধিপূর্বক নিজেকে মূল্যবান জেনে বিশ্বের পূর্বজ হয়ে যাও l মনকে পীড়িত কোরো না। এই চিন্তা করে যে, তুমি তো কিছুই না l না এটা ভাবো, 'আমি কিছুই না', না এটা মনে কর যে 'আমিই সবকিছু' l দুটোই রং l আমিই সেই, কিন্তু আমি সেই রচয়িতারই নির্মাণ l বাবাকে সরিয়ে দিলে পাপ হয়ে যায় l বাবা আছেন তো পাপ নেই l যেখানে বাবার নাম আছে সেখানে পাপের লেশমাত্র নেই l আর যেখানে পাপ আছে সেখানে বাবার চিহ্নমাত্র নেই l সুতরাং বুঝেছ নিজের মূল্য !



ভগবানের দৃষ্টির যোগ্য পাত্র হয়েছ, সাধারণ ব্যাপার নয় l পালনার পাত্র হয়েছ l অবিনাশী পবিত্রতার জন্মসিদ্ধ অধিকারের অধিকারী হয়েছ, সেইজন্য জন্মসিদ্ধ অধিকার প্রাপ্ত করা কখনও কঠিন হয় না, সহজে প্রাপ্ত হয় l এইরকমই তোমরা নিজেরা অনুভাবী হয়েছ যে যারা অধিকারী বাচ্চা তাদের পবিত্রতা বজায় রাখতে কঠিন মনে হয় না l পবিত্রতা যাদের কঠিন মনে হয় তারা বেশি টালমাটাল অবস্থা হয় l পবিত্রতা স্বধর্ম, এটা তোমাদের জন্মসিদ্ধ অধিকার এবং সেইজন্য সদা সহজ মনে হবে l দুনিয়ার লোকেও এড়িয়ে যায়, সেটা কেন ? পবিত্রতা কঠিন মনে হয় l যে আত্মারা অধিকারী নয়, তাদের কাছে কঠিন লাগবে l অধিকারী আত্মা আসার সাথে সাথেই দৃঢ় সঙ্কল্প করে, বাবার থেকেই তাদের পবিত্রতার অধিকার, সেইজন্য পবিত্র হতেই হবে l পবিত্রতার প্রতি সদা তাদের হৃদয় আকৃষ্ট হবে l যদি চলতে চলতে মায়া কোনও রূপে তাদের সঙ্কল্পে, স্বপ্নে পরীক্ষা নিতেও আসে, তখন অধিকারী আত্মা নলেজফুল হওয়ার কারণে বিচলিত হবে না l কিন্তু নলেজের শক্তি দ্বারা তাদের সঙ্কল্প পরিবর্তন করে দেবে l একটা সঙ্কল্প থাকতে অনেক সঙ্কল্প তারা উৎপন্ন করবে না l কোনকিছুর অংশ, বংশ রূপে উপস্থাপিত করবে না l 'কি হয়েছে, এটা হয়েছে.....' এইসবই বংশ l তোমাদের বলা হয়েছিল, তোমরা 'কেন' দিয়ে 'ক্যু' তৈরি করে ফেল l এইভাবে বংশের উৎপত্তি হয় l কিছু এলো আর সদাসর্বদার জন্য চলে গেল, তোমাদের পেপার হিসেবে এলো আর তোমরা পাস হয়ে গেলে, সেটা সমাপ্ত l মায়া কেন এসেছে, কোথা থেকে এসেছে ? এখান থেকে এসেছে, ওখান থেকে এসেছে l তার আসা উচিত ছিল না l কেন এসেছে ! এই বংশ হওয়া উচিত নয় l আচ্ছা এসেই পড়েছে যদি, তাকে বসতে দিয়ো না l তাকে হাঁকিয়ে দাও ! সে কেন এসেছে . . . এইরকম যদি ভাবো তাহলে তো সে বসেই যাবে l সে এসেছে তোমাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে, পেপার নিতে l ক্লাসে অগ্রসর হতে এবং তোমাদের অনুভাবী বানাতে l কেন সে এসেছে, এইভাবে এসেছে, সেইভাবে এসেছে - এইরকম ভেবো না l তারপরে তোমরা ভাবো, মায়ার এমনও রূপ হয় ! 'লাল, সবুজ, হলুদ !' এই বিস্তারে তোমরা চলে যাও l এর মধ্যে যেয়োনা l ঘাবড়ে যাও কেন ? অবদমন কর l পাস উইথ অনার হয়ে যাও l তোমাদের নলেজের শক্তি আছে, তোমাদের অস্ত্র l তোমরা সর্বশক্তিমান, ত্রিকালদর্শী, ত্রিবেণী l কম কি আছে ! এত তাড়াতাড়ি বিচলিত হ'য়োনা ! এমনকি, একটা পিঁপড়ে আসলেও তোমরা হতবুদ্ধি হয়ে যাও l তোমরা বেশি চিন্তা কর l চিন্তা করা অর্থাৎ মায়াকে আতিথেয়তা করা l তারপরে সে সেখানে ঘর বানায় l রাস্তায় চলতে চলতে নোংরা কিছু যদি নজরেও আসে তখন কী করবে ! দাঁড়িয়ে কী ভাববে কে এটা ফেলেছে, কেন-কী হয়েছে ! এমন হওয়া উচিত ছিল না l তোমরা এই সবই ভাববে নাকি পাশ কাটিয়ে চলে যাবে ? ব্যর্থ সঙ্কল্পের বংশ বেশি উৎপত্তি হতে দিয়োনা l অংশের আকারে অর্থাৎ ব্যর্থ সঙ্কল্পের অঙ্কুরোদ্গমেই সমাপ্ত করে দাও l প্রথমে এটা সেকেন্ডের ব্যাপার থাকে, তারপরে সেটাকে ঘন্টায়, দিনে, মাসে তোমরা বাড়িয়ে দাও l আর একমাস পরে যদি তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হয় কী হয়েছিল, তখন বিষয়টা এক সেকেন্ডের হবে, সেইজন্য ঘাবড়িয়োনা l গভীরে যাও - জ্ঞানের গভীরে যাও, পরিস্থিতির গভীরে যেয়োনা l বাপদাদা এত শ্রেষ্ঠ মূল্যবান রত্নদের মাটির ক্ষুদ্র কণিকা দিয়ে খেলতে দেখে ভাবেন, এই রত্ন যারা রত্নের সাথে খেলে, তারা ধূলিকণা দিয়ে খেলছে ! তোমরা রত্ন, সেইজন্য রত্ন দিয়ে খেল l



বাপদাদা কত স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে তোমাদের প্রতিপালিত করেছেন, তাহলে ধূলিকণার সাথে কীভাবে তোমাদের খেলতে দেখতে পারবেন ! ধূলিমলিন হয়ে আবার বলো, আমাদের এখন অমলিন কর, অমলিন কর l তোমরা শঙ্কিত হও l এখন আমি কী করি, কীভাবে করি ! কাদামাটি দিয়ে খেলতেই বা যাও কেন, তাও ক্ষুদ্র ধূলিকণায়, যা ভূমিতে পড়ে থাকে ! অতএব, সদা নিজের মূল্য জানো l



সারা কল্পের এইরকম মূল্যবান আত্মাদের, প্রভুপ্রেমের উপযুক্ত আত্মাদের, প্রভু পালনার যোগ্য আত্মাদের, পবিত্রতার জন্মসিদ্ধ অধিকারের অধিকারী আত্মাদের, সদা বাবার সাথে একীভূত হওয়ার বিধিতে সিদ্ধিপ্রাপ্ত করে এমন আত্মাদের, সদা অমূল্য রত্ন হয়ে রত্নের সাথে খেলে এমন রয়্যাল বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l



*পাটিদের সাথে -*

১) নিজেদের সদা বাবার নয়নে সমাহিত হওয়া আত্মা মনে কর ? নয়নে কে সমাহিত হয়ে থাকে ? যে খুব হালকা বিন্দু l তোমরা তো সদাই বিন্দু, আর বিন্দু হয়ে বাবার নয়নে সদাসর্বদা মিশে আছ l বাপদাদা তোমাদের নয়নে সমাহিত হয়ে আছেন আর তোমরা সবাই সমাহিত আছ বাপদাদার নয়নে l যখন বাপদাদা তোমাদের নয়নেই আছেন, তো তোমরা অন্য কিছু দেখতে পাবে না l সুতরাং, সদা এই স্মৃতি বজায় রেখে ডবল লাইট থাক, 'আমি সদাই বিন্দু l' বিন্দুর কোনও বোঝা থাকে না l এই স্মৃতির স্বরূপ সবসময় তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে l যদি চোখের মাঝখানে দেখ তো সেখানে শুধুই বিন্দু l বিন্দুই দেখা যায় l যদি বিন্দু না থাকে তাহলে চোখ থাকা সত্ত্বেও দেখতে পারবে না l সুতরাং, সদা এই স্বরূপ স্মৃতিতে রেখে উড়তি কলার অনুভব কর l বাপদাদা বাচ্চাদের বর্তমান আর ভবিষ্যতের ভাগ্য দেখে উৎফুল্ল হন, বর্তমান হলো কলম, যা দিয়ে তোমরা তোমাদের ভবিষ্যৎ ভাগ্য তৈরি করতে পার l বর্তমানকে শ্রেষ্ঠ বানানোর সাধন, বড়দের থেকে সদা সংকেত গ্রহণ করে নিজেদের পরিবর্তন করে নেওয়া l এই বিশেষ গুণ দ্বারা বর্তমান আর ভবিষ্যৎ ভাগ্য শ্রেষ্ঠ হয়ে যায় l



২) সবার ললাটভাগে ভাগ্য-নক্ষত্র ঝলমল করছে, তাই না ! সবসময় জাজ্বল্যমান ? কখনও টিমটিমে হয় না তো ? অখন্ড জ্যোতি বাবার সাথে তোমরাও সব অখন্ড জ্যোতি সদা দীপ্তিমান নক্ষত্র হয়ে গেছ l এইরকম অনুভব কর তোমরা ? বায়ুর কারণে কখনো দীপক বা নক্ষত্র দপদপ করে না তো ? যেখানে বাবার স্মরণ আছে, সেই নক্ষত্র অবিনাশী প্রদীপ্ত নক্ষত্র, মিটমিট করে না l লাইটও যখন দপদপ করে, তখন সুইচ বন্ধ করে দেওয়া হয়, কারও ভালো লাগে না l সুতরাং, এখানেও সদা দীপ্তিমান নক্ষত্র l সদা জ্ঞানসূর্য বাবার থেকে আলো নিয়ে তোমরা অন্যদের আলো দাও l সেবার প্রতি তোমাদের উত্সাহ-উদ্দীপনা কায়েম থাকে l তোমরা সবাই শ্রেষ্ঠ আত্মা, শ্রেষ্ঠ বাবার শ্রেষ্ঠ আত্মা l



স্মরণের শক্তি দ্বারা সহজে সফলতা প্রাপ্ত হয় l তোমাদের যতটা স্মরণ আর সেবা একসাথে থাকে, সেই স্মরণ আর সেবার ব্যালেন্স নিজে থেকেই সদাসর্বদার জন্য সফলতার আশীর্বাদ প্রাপ্ত করায়, সেইজন্য সদা শক্তিশালী স্মরণ স্বরূপের বাতাবরণ তৈরি হওয়ায় শক্তিশালী আত্মারা আহূত হয় এবং সফলতা লাভ হয় l লৌকিক কার্য শুধুই নামেমাত্র, কিন্তু নিষ্ঠা বাবা এবং সেবার প্রতি l লৌকিক কার্যও সেবার্থে, আকর্ষণ থেকে কর না, ডিরেকশন অনুযায়ী কর, সেইজন্য বাবার স্নেহের হাত এমন বাচ্চাদের সাথে থাকে l সদা খুশিতে গাও, নাচো এটাই সেবার সাধন l তোমাদের খুশি দেখে অন্যেরাও খুশি হবে, সুতরাং এটাই সেবা হয়ে যাবে l বাপদাদা বাচ্চাদের সদা বলেন, যত মহাদানী হবে, ততই ভান্ডার বাড়তে থাকবে l মহাদানী হও আর ভান্ডার বাড়াতে থাক l মহাদানী হয়ে অনেক দান কর, এই দেওয়াই নেওয়া l যখন কোনও ভালো জিনিস পাও, তা' অন্যকে না দিয়ে তোমরা থাকতে পার না l



তোমাদের ভাগ্যকে দেখে, সদা মহানন্দে থাক l কত বড় ভাগ্য তোমরা লাভ করেছ ! ঘরে বসে ভগবানকে পেয়েছ, এর থেকে বড় ভাগ্য আর কী হতে পারে ! এই ভাগ্য স্মৃতিতে রেখে উৎফুল্ল থাক l সুতরাং, সদাসর্বদার জন্য দুঃখ আর অশান্তির অবসান হবে l তোমরা সুখস্বরূপ

শান্তস্বরূপ হয়ে যাবে l যাদের ভাগ্য স্বয়ং ভগবান বানিয়েছেন তা' কত শ্রেষ্ঠ ! সুতরাং সদা নিজের মধ্যে নতুন আগ্রহে, নতুন উদ্যমে অনুভব করতে করতে সামনে এগিয়ে চলো, সঙ্গমযুগের প্রতিদিন নতুন উদ্যম, নতুন উৎসাহ থাকে l



যেভাবে চলছে নয় ! বরং সদা নতুন উৎসাহ, নতুন উদ্দীপনা সদা সামনে এগিয়ে নিয়ে যায় l প্রতিদিন নতুন l সদা নিজের মধ্যে অথবা সেবায় কোনও না কোনও নতুনত্বের প্রয়োজন l যত নিজেদের উৎসাহ-উদ্দীপনায় রাখবে, ততই নতুন নতুন টাচিং হতে থাকবে l নিজে যদি অন্য কোনো বিষয়ে বিজি থাক তো নতুন টাচিংও হয় না l মনন করলে নতুন উদ্যমের উন্মেষ ঘটে l



*যারা বন্ধনে আবদ্ধ (বন্ধেলী) তাদের স্মরণ-স্নেহ দেওয়ার কালে -* যারা বন্ধনে আবদ্ধ তাদের স্মরণ তো সদা বাবার কাছে পৌঁছায়, আর বাপদাদা বন্ধনে আবদ্ধ সবাইকে এটাই বলেন, যোগ অর্থাৎ স্মরণের একাগ্রতাকে অগ্নিরূপ বানাও l যখন একাগ্রতা অগ্নিরূপ হয়ে যায় তখন অগ্নিতে সব ভস্ম হয়ে যায় l সুতরাং এই বন্ধনও একাগ্রতার অগ্নিতে সমাপ্ত হয়ে যাবে আর স্বতন্ত্র আত্মা হয়ে যে সঙ্কল্প করবে সেটার সাফল্য প্রাপ্ত করবে l তোমরা স্নেহী, স্নেহের স্মরণ বাবার কাছে পৌঁছায় l স্নেহের রেসপন্সে তোমরা স্নেহই লাভ কর l কিন্তু তোমাদের স্মরণ এখন অগ্নিরূপ হতে দাও l তারপরে সেইদিন আসবে যখন তোমরা সমক্ষে এসে যাবে l

বরদান:-

সদা আত্মিক স্থিতিতে থেকে অন্যদেরও আত্মারূপে দেখে আধ্যাত্ম গোলাপ ভব

আধ্যাত্ম গোলাপ (রূহে গুলাব ) অর্থাৎ যার মধ্যে সদা আত্মিক সুগন্ধি বিদ্যমান l যারা আত্মিক-সৌরভান্বিত তারা যেখানেই দেখবে, যাকেই দেখবে তারা আত্মাকেই দেখবে, শরীর নয় l সুতরাং তোমরা নিজেরাও সদা আত্মিক স্থিতিতে থাক আর অন্যদেরও আত্মারূপে দেখ l যেমন বাবা উঁচু থেকেও উঁচুতম, সেইরকম তাঁর বাগিচাও সর্বাপেক্ষা উঁচু, যে বাগিচার বিশেষ অলঙ্করণ সুরভিত গোলাপ তোমরা বাচ্চারা l তোমাদের আত্মিক সৌরভ অনেক আত্মার কল্যাণ করবে l

স্লোগান:-

মর্যাদা ভেঙে অর্থাৎ গৌরব হানি করে অন্যকে সুখ দিলে সেটাও দুঃখের খাতায় সঞ্চিত হয়ে যাবে l