04.01.2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - বাবার স্মরণে থেকে সদা প্রফুল্ল থাকো। স্মরণে থাকা বাচ্চারা অত্যন্ত রমণীয় আর মিষ্টি হবে। খুশীতে থেকে সার্ভিস করবে"

প্রশ্নঃ -

জ্ঞানের নেশার সাথে সাথে কিসের চেকিং করা অত্যন্ত আবশ্যক ?

উত্তরঃ -

জ্ঞানের নেশা তো থাকে কিন্তু চেক্(পরীক্ষা) করো যে আত্ম-অভিমানী কতটা হয়েছো ? জ্ঞান তো অত্যন্ত সহজ কিন্তু যোগেই মায়া বিঘ্ন ঘটায়। গৃহস্থ ব্যবহারে অনাসক্ত থাকতে হবে। এমন যেন না হয় যে ইঁদুর-রূপী মায়া ভিতরে ভিতরে কাটতেই থাকে আর তোমরা উপলব্ধিও করতে না পারো। নিজের নাড়ী(স্পন্দন) নিজেই দেখো যে বাবার সাথে আমাদের সুগভীর ভালবাসা আছে কি? কতটা সম`য় আমরা বাবার স্মরণে থাকি ?

গীতঃ-

বহ্নি-পতঙ্গ কেন জ্বলবে না ......

ওম্ শান্তি ।

মিষ্টি মিষ্টি বাচ্চারা গানের লাইন শুনেছে। যেমন বাবা এমন চমক(ভেল্কি) দেখায় যে তোমরা অতি সুন্দর হয়ে যাও। যে বাবা শ্যাম(কালো) থেকে সুন্দর(ফর্সা) বানায়, আমরা কেন সেই বাবার হয়ে যাবো না ! বাচ্চারা জানে যে আমরা এখন শ্যাম(কালো) থেকে সুন্দর হচ্ছি। একথা একজনের উদ্দেশ্যে বলা হয় না। । ওরা তো কৃষ্ণকে শ্যাম-সুন্দর বলে দেয়। চিত্রও এমনই তৈরী করে। কেউ সুন্দর, তো কেউ শ্যামবর্ণের। মানুষ তো জানে না যে এরকম কি করে হতে পারে। সত্যযুগের প্রিন্স(যুবরাজ) শ্যামবর্ণের হতে পারে না। কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে সকলেই বলে যে, যেন কৃষ্ণের মতো সন্তান পাই, পতি পাই। তাহলে সে শ্যাম কি করে হতে পারে। কিছুই বোঝে না। কৃষ্ণকে কালো কেন বানানো হয়েছে, তার কারণ জানা চাই। এই যে দেখানো হয়েছে, সর্পের উপর নাচ করছে - এরকম ব্যাপার তো হতে পারে না। শাস্ত্রে এরকম ধরণের কথা শুনে বলে দেয়। বাস্তবে এরকম কোনো কথা নেই। যেমন চিত্রতে দেখানো হয় যে শেষনাগের শয্যার উপর নারায়ণ বসে রয়েছে, এরকম কোনো শেষনাগের শয্যা ইত্যাদি হয় না। এতো শত শত মুখ হয় নাকি? কিরকম ধরণের চিত্র বসে তৈরী করে। বাবা বোঝান যে এই সবের মধ্যে কিছুই নেই, এইসব ভক্তিমার্গের চিত্র। কিন্তু এও ড্রামায় ফিক্সড(নিশ্চিত) হয়ে রয়েছে। প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত যে নাটক শ্যুট করা হয়েছে তারই পুনরাবৃত্তি(রিপীট) হবে। একথা শুধু বোঝানোর জন্য যে ভক্তিতে কি কি করতে থাকে। কত খরচ করে। কেমন কেমন চিত্র ইত্যাদি তৈরী করে। পূর্বে যখন এইসব চিত্র দেখতাম তখন এতো আশ্চর্য হতাম না। এখন, যখন বাবা বুঝিয়েছেন, তখন ঠিকমতো বুদ্ধিতে আসে যে এসব হলো ভক্তিমার্গের কথা। ভক্তিতে যা কিছুই করা হয় তা পুনরায় অবশ্যই হবে। তোমরা ছাড়া এ'কথা আর কেউই বুঝতে পারে না। এটা তো জানোই যে ড্রামায় যা পূর্বেই স্থির হয়ে রয়েছে, তাই-ই পুনরায় হতে থাকে। অনেক ধর্মের বিনাশ আর এক ধর্মের স্থাপনা হয়। এতো অতি কল্যাণকারী।

এখন তোমরা প্রার্থনা ইত্যাদি কিছুই কর না। এইসব করা হয় ভগবানের থেকে ফল পাওয়ার জন্য। ফল হলো জীবনমুক্তি, এসব কথা তোমাদের বোঝানো হয়েছে । এখানে হলো প্রজার উপর প্রজার রাজত্ব । গীতায় বর্ণিত রয়েছে, হে ভারত বাসী - কৌরব, পান্ডব তোমরা কি করছো ! বরাবর যাদব-রাই মুসল(মিসাইল) বের করে। আর তারা নিজ কুলেরই বিনাশ করে। এরা পরস্পরের শত্রু হয়ে যায়। তোমরা সংবাদ ইত্যাদি শোনো না, যারা শোনে তারা ভালমতন বুঝতে পারে। দিন-প্রতিদিন নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব(মনোমালিন্য) বাড়তেই থাকে। সকলেই খ্রিস্টান কিন্তু পরস্পরের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে প্রচুর, ঘরে বসেই একে-অপরকে উড়িয়ে(মেরে ফেলে) দেয়। তোমরা রাজযোগ শিখছো তাই রাজত্ব করার জন্য পুরোনো দুনিয়াকে অবশ্যই পরিষ্কার(সাফ) করা উচিৎ। পুরোনো দুনিয়ায় আবার সব কিছু নতুন হবে। ৫ তত্ব-ও সেখানে সতোপ্রধান হবে। সমুদ্রের শক্তি নেই যে সেখানে উছলে পড়ে ক্ষতি করবে, এখানে তো ৫ তত্ব-ও অনেক ক্ষতি করে। ওখানে সম্পূর্ণ প্রকৃতিই দাসী হয়ে যাবে তাই দুঃখের কোনো কথাই নেই। এ হলো ফিক্সড হয়ে থাকা ড্রামার খেলা। স্বর্গ বলা হয় সত্যযুগকে, খ্রিস্টানরাও বলে যে প্রথমে হেভেন(স্বর্গ) ছিল। ভারত হলো অবিনাশী খন্ড। শুধু তাদের একথা জানা নেই যে আমাদের মুক্তিদাতা পিতা ভারতেই আসেন। শিব-জয়ন্তীও পালন করা হয় তাও বুঝতে পারে না। তোমরা এখন সকলকে বোঝাও যে ভারতেই শিব-জয়ন্তী পালন করা হয়। অবশ্যই শিববাবা ভারতে এসেই হেভেন তৈরী করেছেন, এখন আবার তৈরী করছেন। যারা প্রজা হবে তাদের বুদ্ধিতে কিছুই প্রবেশ করবে না। যারা রাজত্বের অধিকারী হবে তারাই সঠিকভাবে বুঝবে যে আমরাই হলাম শিববাবার সন্তান । প্রজাপিতা ব্রহ্মাও রয়েছেন। মুক্তিদাতা, জ্ঞানের সাগর হলেন স্বয়ং বাবা। ব্রহ্মাকে বলা যাবে না। ব্রহ্মাও ওঁনার থেকেই(জ্ঞানের দ্বারা) লিবারেট(মুক্ত) হন। একমাত্র বাবাই হলেন সকলের মুক্তিদাতা, কারণ সবাই তো তমোপ্রধাণ। এরকমভাবে ভিতরে-ভিতরে বিচার সাগর মন্থন করা উচিৎ। আমরা মুরলী যেন এমনভাবে পড়ি যাতে মানুষ স্পষ্টভাবে তা বোঝে। বাচ্চারা তো নম্বরের ক্রমানুসারেই হয়। এ হলো জ্ঞান, তাই সর্বদা এর অনুশীলন করা উচিৎ। ভয়ের কারণে পড়া না করা এ তো ঠিক নয়। তখন আবার বলে কর্মবন্ধন আছে। দেখো, প্রথমেই কতজন মুক্ত হয়ে এসেছিল আবার অনেকে চলেও গেছে। সিন্ধুপ্রদেশে অনেক কন্যারা এসেছিল আবার অশান্তির কারণে কত শত্রুও হয়ে গেছে। প্রথমে তাদের জ্ঞান খুব ভাল লাগতো। মনে করতো যে, এরা ভগবানের দান(পুরষ্কার) প্রাপ্ত করেছে। এখনো এটাই মনে করে যে, কোনো শক্তি রয়েছে, কিন্তু এটা বোঝে না যে পরমাত্মা স্বয়ং অবতরিত হয়েছেন। আজকাল রিদ্ধি-সিদ্ধি-র শক্তি তো অনেকের মধ্যেই রয়েছে। গীতা নিয়ে শোনাতেই থাকে। বাবা বলেন, এসব হলো ভক্তিমার্গের পুস্তক। জ্ঞানের সাগর তো এক - আমিই। ভক্তিমার্গে আমাকেই সকলে স্মরণ করে। ড্রামার পরিকল্পনা অনুসারে, এই সবই ড্রামায় নির্ধারিত হয়ে রয়েছে। সাক্ষাৎকারও হয়। তিনি(বাবা) ভক্তিমার্গের লোকেদেরকেও খুশী খুশী করেন । জ্ঞান ধারণ না করতে পারলে তাদের জন্য ভক্তিও ভালো, তবুও মানুষ এতে একটু শুধরোয় তো, তাই না। চুরি ইত্যাদি করবে না। ভগবানের ভজন যারা করে তাদের উদ্দেশ্যে কখনো ভুল কথা বলবে না, যেহেতু তারা হলো ভক্ত। আজকাল ভক্ত হলেও, তারাও দেউলিয়া(কপর্দক-শূন্য) হয়ে যায়। আবার এরকমও নয় যে শিববাবার বাচ্চা হয়ে গেলে তারা আর দেউলিয়া হবে না। অতীতের(পাস্ট) কোনো কর্ম এমন হয়ে থাকলে দেউলিয়া হবে। জ্ঞানে আসলেও দেউলিয়া হতে পারে কারণ এর সঙ্গে জ্ঞানের কোনো সম্পর্কই নেই।

বাচ্চারা, তোমরা এখন সার্ভিসে(সেবায়) যুক্ত রয়েছো। তোমরা মনে কর যে, শ্রীমত অনুসারে সেবায় নিযুক্ত হলে ভাল ফল পাবে। আমাদের সবকিছু ওখানে ট্রান্সফার করতে হবে। ব্যাগ-ব্যাগেজ(মালপত্র) সবকিছু ট্রান্সফার করতে হবে। শুরুতে বাবার(ব্রহ্মা) খুব আনন্দ হতো, ওখান থেকে যখন এখানে আসেন তখন গান বানান - অল্ফ পেলো আল্লাহ-কে (ভগবান) আর বে পেলো বাদশাহী... শ্রীকৃষ্ণের, চতুর্ভুজের(বিষ্ণুর) সাক্ষাৎকার হয়েছিল । তাই তিনি মনে করতেন যে দ্বারকার রাজা(কৃষ্ণ) হবো। এরকম নেশায় মত্ত থাকতেন। এখন এই বিনাশী ধন দিয়ে কি করবো। তাই বাচ্চারা, তোমাদেরও খুশী হওয়া উচিৎ। বাবা আমাদের স্বর্গের রাজত্ব দেন। বাচ্চারা কিন্তু ভালো ভাবে পুরুষার্থ করে না। চলতে-চলতে পড়ে যায়। ভালো ভালো বাচ্চারা, যারা বাবাকে নিমন্ত্রণ জানায় তারাও বাবাকে স্মরণ করে না। বাবার কাছে পত্র আসা উচিৎ যে, বাবা আমরা খুব খুশী। তোমার স্মরণে সদা মেতে থাকি। অনেকেই আছে যারা কখনো স্মরণ করে না। স্মরণের যাত্রায় থাকলেই খুশীর নেশায় বিভোর হয়ে থাকবে। জ্ঞানে যদিও খুবই মত্ত থাকে কিন্তু দেহ- অভিমানও অনেক রয়েছে। আত্ম-অভিমানীভাব কোথায় ? জ্ঞান তো অনেক সহজ। যোগেই মায়া বিঘ্ন ঘটায়। গৃহস্থ ব্যবহারে অনাসক্ত হয়ে থাকতে হবে। এমন যেন না হয় যে মায়া বশীভূত করে নিলো। মায়া এমনভাবে কাটে যেন ইঁদুর। ইঁদুর এরকমভাবেই কামড়ায়, রক্ত বেরিয়ে যায় কিন্তু বুঝতে পারা যায় না। বাচ্চারা বুঝতেও পারে না যে দেহ-অভিমান এলে কত ক্ষতি হয়ে যায়। উচ্চপদ প্রাপ্ত করতে পারবে না। বাবার থেকে সম্পূর্ণ আশীর্ব্বাদ নেওয়া উচিৎ। মাম্মা-বাবার মতো আমরাও যেন রাজসিংহাসনের(তখ্তনসীন) অধিকারী হই। বাবা হলেন হৃদয় হরণকারী। দিলবাড়া মন্দিরেও এর সম্পূর্ণ স্মারকচিহ্ন ( ইয়াদগার) রয়েছে, ভিতরে হাতীর উপর মহারথী বসে রয়েছে। তোমাদের মধ্যেও মহারথী, ঘোড়-সওয়ার, পেয়াদা রয়েছে। প্রত্যেককে নিজের নিজের নাড়ী পরীক্ষা করতে হবে। বাবা কেন দেখবে ! দেখো, আমরা বাবাকে স্মরণ করি এবং বাবার মতো সার্ভিসও করি। আমাদের বাবার সাথে যোগ রয়েছে ! রাত জেগে কি বাবাকে স্মরণ করা হয় ? আমরা কি অনেকের সেবা করি ? চার্ট রাখা উচিৎ - বাবাকে অন্তর থেকে কতটা সময় স্মরণ কর ? কেউ কেউ মনে করে, আমরা নিরন্তর স্মরণ করি, এটা তো হতে পারে না। আবার কেউ কেউ মনে করে, আমরা বাবার বাচ্চা হয়ে গেছি, ব্যস্। কিন্তু নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। বাবার স্মরণ ব্যতীত কোনো কাজ করা মানেই বাবাকে স্মরণ না করা। বাবার স্মরণে সদা প্রফুল্ল থাকা উচিৎ। যারা বাবার স্মরণে থাকে তারা সর্বদা রমনীয় থাকবে আর হর্ষিতমুখী থাকবে। কাউকে যখন বোঝাবে তখন অত্যন্ত খুশী হয়ে ও রমণীয়তার সাথে বোঝাবে। এমন অতি অল্পই আছে যাদের সার্ভিসের অনেক শখ রয়েছে। চিত্রের দ্বারা বোঝানো অতি সহজ। তিনি হলেন উচ্চ থেকে উচ্চতম ভগবান আবার তাঁর রচনা হলো সব বাচ্চারা, আমরা হলাম ভাই-ভাই। এ হলো ভাতৃত্ববোধ (ব্রাদারহুড), তারা তো পিতৃত্বোবোধ(ফাদারহুড) বলে দেয়। প্রথমে শিববাবার চিত্রের দ্বারা বোঝাতে হবে যে ইনি হলেন সব আত্মাদের পিতা পরমপিতা পরমাত্মা নিরাকার। আমরা আত্মারাও নিরাকার, ভ্রুকুটির মধ্যভাগে বিরাজমান। শিববাবাও নক্ষত্র (স্টার) কিন্তু নক্ষত্রের পূজা কিভাবে হবে। তাই আকৃতি বড় করে। এছাড়া আত্মা কখনো ৮৪ লক্ষ জন্ম নেয় না। বাবা বোঝান যে আত্মা প্রথমে অশরীরী আসে তারপর শরীর ধারণ করে অভিনয়(পার্ট) করে। সতোপ্রধান আত্মা পুনর্জন্ম নিতে নিতে আয়রন এজে(লৌহযুগে) চলে আসে। পরে যারা আসবে তারা তো ৮৪ জন্ম নেবে না। সবাই তো ৮৪ জন্ম নিতে পারে না। আত্মাই এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করে। নাম, রূপ, দেশ, কাল সবকিছুই বদলে যায়। ভাষণ এভাবেই করা উচিৎ। বলাও হয় যে সেল্ফ রিয়েলাইজেশন( আত্ম-সচেতনতা)। কিন্তু সেটা কে করাবে ? আত্মাই পরমাত্মা বলা - এ কোনো সেল্ফ রিয়েলাইজেশন কী। এ হলো নতুন নলেজ। বাবা, যিনি হলেন জ্ঞানের সাগর, পতিত-পাবন, সকলের সদ্গতি দাতা, তিনি বসে বোঝান। তাই তাঁর খুব মহিমা করো, তাঁর মহিমা শোনো। আত্মার পরিচয় দিয়েছেন, এখন পরমাত্মার পরিচয়ও দিচ্ছেন। তাঁকে বলা হয় সকল আত্মার পিতা। তিনি ছোটো বা বড় হন না। পরমপিতা পরমাত্মা অর্থাৎ সুপ্রীম সোল। সোল অর্থাৎ আত্মা। পরমাত্মা তো পরপারে নিবাস করেন। উনি পুনর্জন্মতে আসেন না। তাই তাঁকে পরমপিতা বলা হয়। এতো ছোট আত্মায় পার্ট ভরা থাকে। পতিত-পাবনও ওঁনাকেই বলা হয়। সর্বকালেই ওঁনার নাম শিববাবা। রুদ্রবাবা নয়। ভক্তিমার্গে তো অনেক নাম রাখা হয়, সকলেই ওঁনাকে স্মরণ করে বলে যে পতিত-পাবন এসো আমাদের পবিত্র করো। তাই অবশ্যই আসতে হয়। যখন এক ধর্ম স্থাপন করতে হয় তখনই তিনি আসেন। আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম। এখন হলো কলিযুগ, অসংখ্য মানুষ। সত্যযুগে তো অনেক কম মনুষ্য থাকে। গায়নও রয়েছে যে ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা, শঙ্কর দ্বারা বিনাশ....... গীতার দ্বারাই আদি সনাতন ধর্ম স্থাপন হয়েছিল। আর তাতেও ভুলবশত: কৃষ্ণের নাম বসিয়ে দিয়েছে। বাবা বলেন, তিনি(কৃষ্ণ) তো পুনর্জন্মে আসেন। আমি হলাম পুনর্জন্ম-রহিত। তাহলে এখন বিচার কর যে, পরমপিতা পরমাত্মা কে, নিরাকার শিব না কৃষ্ণ। গীতার ভগবান কে? ভগবান তো একজনকেই বলা হয়, আবার সেইকথা যদি কেউ না মানে তাহলে বোঝা উচিৎ যে এরা আমাদের ধর্মের নয়। সত্যযুগে যারা আসবে তারা শীঘ্রই মেনে নেবে আর পুরুষার্থ করতে থাকবে। এই হলো মুখ্য ব্যাপার। এতে তোমাদেরই বিজয় হয়। কিন্তু আত্ম-অভিমানী অবস্থা(স্থিতি) কোথায়? একে অপরের নাম, রূপে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। ভক্তিমার্গেও বলা হতো যে, ভরসা ছিল পরপারের ব্রহ্মতত্ব নিবাসী পরমাত্মার প্রতি, তাহলে ভয় কিসের। অনেক সাহসের প্রয়োজন। যারা ভাষণ করেন, তাদের (জ্ঞানের) নেশায় অত্যন্ত বিভোর হয়ে আত্মার জ্ঞান দেওয়া উচিৎ। আবার পরমাত্মা কাকে বলা হয় - সে বিষয়েও বোঝানো উচিৎ। বাবার মহিমা হলো তিনি প্রেমের সাগর, জ্ঞানের সাগর...... তেমনই বাচ্চাদেরও মহিমা। কারোর উপর ক্রোধ করা অর্থাৎ আইন(ল) নিজের হাতে তুলে নেওয়া। বাবা কত মিষ্টি। বাচ্চারা যদি কোনো কার্যে না বলে দেয় তবে তারা কৃষ্ণের মতো হতে পারবে না। অত্যন্ত মিষ্টি হতে হবে। আচ্ছা!

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাত-পিতা বাপদাদার স্নেহ- স্মরণ ও সুপ্রভাত। রুহানী বাবার প্রতি রুহানী বাচ্চাদের নমস্কার। 

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১) নিজের ব্যাগ-ব্যাগেজ সব ট্রান্সফার করে অত্যন্ত খুশীতে এবং বিভোর হয়ে থাকতে হবে। মাম্মা-বাবার মতো রাজসিংহাসনের অধিকারী হতে হবে। অন্তর থেকে স্মরণ করতে হবে।

২) কারো ভয়ে পড়া কখনো ছেড়ে দেওয়া উচিৎ নয়। স্মরণের দ্বারা নিজের কর্মবন্ধনকে হাল্কা করতে হবে। কখনো ক্রোধের বশে আইন নিজের হাতে নেওয়া উচিৎ নয়। কোনো সেবায় না করা উচিৎ নয়।
 

বরদান:-

ব্রাহ্মণ জীবনের প্রপার্টি (সম্পদ) এবং পার্সোনালিটিকে (ব্যক্তিত্ব) অনুভব করা এবং করানো বিশেষ আত্মা ভব

ব্যাখা :-

বাপদাদা সমস্ত ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের এই স্মৃতি স্মরণ করান যে ব্রাহ্মণ হয়েছো - অহো ভাগ্য ! কিন্তু ব্রাহ্মণ জীবনের আশীর্ব্বাদ, সম্পদ হলো সন্তুষ্টতা আর ব্রাহ্মণ জীবনের পার্সোনালিটি হলো প্রসন্নতা। এই অনুভব থেকে কখনো বঞ্চিত হয়ে থেকো না। তোমরা অধিকারী। যখন দাতা, বরদাতা উন্মুক্ত হৃদয়ে প্রাপ্তির ভান্ডার(খাজানা) দিচ্ছেন তখন তা অনুভবে নিয়ে এসো এবং অন্যদেরও অনুভাবী বানাও, তবেই বলা হবে বিশেষ আত্মা।

স্লোগান:-

অন্তিম সময়ের কথা মননের(ভাবার) পরিবর্তে অন্তিম স্থিতির(অবস্থা) কথা মনন করো।


ব্রহ্মাবাবার সমান হওয়ার বিশেষ পুরুষার্থ

সেবার প্রত্যক্ষফল দেখানোর জন্য ব্রহ্মাবাবা যেমন নিজের অলৌকিক (রুহানী) স্থিতি দ্বারা সেবা করেছেন, তেমন বাচ্চারা তোমরাও এখন নিজের রুহানী স্থিতিকে প্রত্যক্ষ করো। রুহ্ আত্মাকেও বলা হয় আবার রুহ্ সার-কেও(সারাংশ) বলা হয়। তাই রুহানী স্থিতিতে থাকলে, তোমরা উভয়-ই হয়ে যাবে। দিব্যগূুণের আকর্ষণ অর্থাৎ সার, আত্মাও হবে আর আত্মিক স্বরূপ রূপেও দেখা যাবে