০৪-০২-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- অন্তর্মুখী হয়ে নিজের কল্যাণের চিন্তা করো, কোথাও সফরে গেলেও, একান্তে বিচার সাগর মন্থন করো, নিজেকে জিজ্ঞাসা করো - আমি কি সদা আনন্দিত থাকি"

প্রশ্ন:-

করুণাময় বাবার বাচ্চাদের নিজেদের প্রতি কি করুণা করা উচিত ?

উত্তর:-

যেমন বাবার করুণা হয় বলেই তিনি চান যে আমার বাচ্চারা যেন কাঁটা থেকে ফুলে পরিণত হয়, বাবা বাচ্চাদের ফুলের মত সুন্দর (গুল-গুল) বানাবার জন্যে কত পরিশ্রম করেন তো বাচ্চাদেরও নিজেদের প্রতি করুণা হওয়া উচিত যে আমরা বাবার আহ্বান করি - হে পতিত-পাবন এসো, আমাদের ফুলে পরিণত কর। এবারে তিনি এসেছেন তো আমরা কি ফুলে পরিণত হব না ! দয়া হলেই তো দেহী-অভিমানী হয়ে থাকবে। বাবা যা কিছু বলেন সেসব ধারণ করবে ।

ওম্ শান্তি ।

এই কথা তো বাচ্চারা বুঝেছে যে - এই বাবা হলেন পিতা, টিচার ও সদগুরু। তো বাবা বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করছেন যে তোমরা এখানে যখন আসো তো এই লক্ষ্মী-নারায়ণ ও সিঁড়ির চিত্রটি দেখো ? যখন দুটি চিত্র দেখা হয় তখন এইম অবজেক্ট এবং সম্পূর্ণ চক্র বুদ্ধিতে এসে যায় যে আমরা দেবতায় পরিণত হয়ে তারপরে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে আসি। এই জ্ঞান তোমরা বাচ্চারাই প্রাপ্ত কর। তোমরা হলে স্টুডেন্ট। এইম অবজেক্ট অর্থাৎ মুখ্য লক্ষ্যটি সামনে আছে। যে আসবে তাকেই বোঝাও - এই হল এইম অবজেক্ট। এই পঠনপাঠন দ্বারা আত্মারা এইরূপ দেবী-দেবতায় পরিণত হয়। তারপরে ৮৪ জন্মের সিঁড়ি বেয়ে নীচে নেমে আসে, আবার রিপিট করতে হয়। খুবই সহজ এই নলেজ তবু পড়তে পড়তে ফেল হয়ে যাও কেন ? ঐ দৈহিক পড়াশোনার চেয়ে এই ঈশ্বরীয় পড়াশোনা হল খুব সহজ। এইম অবজেক্ট এবং ৮৪ জন্মের চক্র একেবারে সামনে আছে। এই দুটি চিত্র ভিজিটিং রুমেও থাকা উচিত। সার্ভিস করার জন্য সার্ভিসের উপকরণও চাই। এতেই সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে। এই পুরুষার্থও আমরা এখনই করি। সতোপ্রধান হওয়ার জন্যে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। এর জন্যে অন্তর্মুখী হয়ে বিচার সাগর মন্থন করতে হবে। কোথাও বেড়াতে গিয়েও বুদ্ধিতে এটাই থাকা চাই। এই কথা তো বাবা জানেন যে সকলেই হল নম্বর অনুযায়ী। কেউ খুব ভালো ভাবে বোঝে অর্থাৎ নিশ্চয়ই পুরুষার্থ করে, নিজের কল্যাণের জন্য। প্রত্যেকে বোঝে ইনি ভালো পঠনপাঠন করেন। নিজে না পড়া মানে, নিজের ক্ষতি করে। নিজেকে কিছু যোগ্য করে তোলা উচিত । তোমরা হলে স্টুডেন্ট, তাও আবার অসীমের (বেহদের) বাবার ! এই ব্রহ্মাও পড়েন। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ হল পদ মর্যাদা এবং সিঁড়ি হল ৮৪ জন্মের চক্রের। সেটা হল প্রথম জন্ম, এই হল লাস্ট জন্ম। তোমরা দেবতায় পরিণত হও। কেউ ভিতরে এলেই সামনে দাঁড় করিয়ে এইম অবজেক্ট এবং সিঁড়ি নিয়ে বোঝাও। প্রতিদিন চিত্রের সামনে এসে বসো তবে স্মরণে আসবে। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে, অসীমের (বেহদের) বাবা আমাদের বোঝাচ্ছেন। সম্পূর্ণ চক্রের জ্ঞান তোমাদের বুদ্ধিতে ভরপুর আছে তো কতখানি খুশীতে থাকা উচিত। নিজেকে জিজ্ঞাসা করা উচিত যে আমাদের সেইরূপ অবস্থা থাকে না কেন ? কী কারণটা ঘটে যে খুশীতে থাকতে বাধা পড়ে ? যারা চিত্র তৈরি করে তাদের বুদ্ধিতেও থাকবে যে এই হল আমাদের ভবিষ্যতের পদ, এই হল আমাদের এইম অবজেক্ট এবং এই হল ৮৪ জন্মের চক্র। গায়নও আছে সহজ রাজ যোগ। সে তো বাবা রোজই বোঝান যে তোমরা হলে বেহদের পিতার সন্তান, অতএব স্বর্গের উত্তরাধিকার অবশ্যই নেওয়া উচিত এবং সম্পূর্ণ চক্রের রহস্যও বোঝান তাই নিশ্চয়ই সেসব স্মরণে আসা উচিত এবং তারপরে কথা বলার ম্যানার্স ভালো হওয়া উচিত। চলন খুব ভালো হওয়া উচিত। চলতে-ফিরতে কর্ম করতে বুদ্ধিতে শুধু এইটুকু যেন থাকে যে আমরা বাবার কাছে পড়াশোনা করতে এসেছি। এই জ্ঞানই তোমাদের সঙ্গে নিয়ে যেতে হবে। পড়াশোনা তো খুব সহজ। কিন্তু ভালো ভাবে না পড়লে তো টিচারের নিশ্চয়ই এই চিন্তা থাকবে যে ক্লাসে অনেক কমবুদ্ধি বাচ্চারা থাকলে আমাদের নাম খারাপ হবে। স্কলারশিপ প্রাপ্ত হবে না। গভর্নমেন্ট কিছু দেবে না। এও তো স্কুল, তাই না ! এতে স্কলারশিপ ইত্যাদির কোনো ব্যাপার নেই। তবুও পুরুষার্থ তো করানো হয় তাইনা। আচার আচরণ সংশোধন করো। দৈবী গুণ ধারণ করো। চরিত্র ভালো হওয়া উচিত। বাবা তো তোমাদের কল্যাণের জন্য এসেছেন। কিন্তু বাবার শ্রীমৎ অনুসারে চলতে পারে না। শ্রীমৎ যদি বলে ওখানে যাও তো যাবে না। বলবে এখানে গরম, এখানে ঠান্ডা । বাবাকে চেনে না যে আমাদের কে আদেশ দিয়েছেন ? এই সাধারণ রথটি বুদ্ধিতে আসে। সেই পিতা (নিরাকার শিব) কখনও বুদ্ধিতে আসে না। বড় বড় রাজাদের সবাই কত ভয় করে। উঁচু অথরিটি সম্পন্ন তারা। এখানে তো বাবা বলেন, আমি হলাম দীনের নাথ। আমি রচয়িতা এবং আমার রচনার আদি-মধ্য-অন্তের কথা কেউ জানে না। কত অসংখ্য মানুষ আছে। কেমন কেমন কথা বলে, কি সব বলে । ভগবান কি, তা কেউ জানে না। আশ্চর্যের বিষয়, তাই না ! বাবা বলেন, আমি সাধারণ দেহে এসে নিজের ও রচনার আদি-মধ্য-অন্তের পরিচয় প্রদান করি। ৮৪-র এই সিঁড়ি হল কত ক্লিয়ার।



বাবা বলেন আমি তোমাদের এইরূপ তৈরি করেছিলাম, এখন পুনরায় তৈরি করেছি। তোমাদের বুদ্ধি পরশ পাথর সম ছিল, তাহলে তোমাদের পাথর বুদ্ধি কে করল ? অর্ধকল্প রাবণ রাজ্যে তোমাদের পতন হয়েছে। এখন তোমাদের তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান অবশ্যই হতে হবে। বিবেকও বলে, বাবা-ই হলেন সত্য। তিনি নিশ্চয়ই সত্য কথাই বলবেন। এই ব্রহ্মাও পড়েন, তোমরাও পড়ছ। উনি (ব্রহ্মাবাবা) বলেন, আমিও হলাম স্টুডেন্ট । পড়াশোনায় মনোযোগ দিয়ে থাকি। যথাযথ কর্মাতীত অবস্থা তো এখনও হয় নি। এমন কে বা আছে যে এত উঁচু পদ প্রাপ্তির জন্যে এই পড়াশোনায় মনোযোগ দেবে না ! সবাই বলবে এমন পদ তো নিশ্চয়ই প্রাপ্ত হওয়াই উচিত। আমরা বাবার সন্তান তো নিশ্চয়ই আমরা মালিক হলাম । বাকি পড়াশোনাতে উপর-নীচ তো হতে থাকবেই। এখন তোমরা একেবারে জ্ঞানের সারতত্ব প্রাপ্ত করেছ। শুরুতে পুরানো জ্ঞান-ই ছিল। ধীরে ধীরে তোমরা বুঝেছ। এখন বুঝেছ যে জ্ঞান তো আমরা এখন প্রাপ্ত করি। বাবাও বলেন আজ আমি তোমাদের গূঢ় গোপন কথা শোনাই। চট করে তো কেউ জীবন মুক্তি প্রাপ্ত করতে পারে না। সম্পূর্ণ জ্ঞান নিতে পারে না। প্ৰথমে এই সিঁড়ির চিত্র তো ছিল না। এখন বুঝেছ যে যথাযথভাবে আমরা এই পরিক্রমা করি। আমরা-ই হলাম স্বদর্শন চক্রধারী। বাবা আত্মাদের সম্পূর্ণ চক্রের রহস্য বুঝিয়ে দিয়েছেন। *বাবা বলেন তোমাদের ধর্ম হল খুব সুখ দায়ী। বাবা-ই এসে তোমাদের স্বর্গের মালিক করেন। অন্যদের সুখের সময় তো এখন এসেছে, যখন মৃত্যু সামনে দাঁড়িয়ে আছে*। এই এরোপ্লেন, বিদ্যুৎ ইত্যাদি প্ৰথমে ছিল না। তাদের জন্যে বর্তমান সময় হল স্বর্গ। কত বিশাল মহল তৈরি করে। তারা ভাবে এখন তো আমাদের অনেক সুখ আছে। লন্ডনে কত কম সময়ে পৌঁছে যায়। ব্যস, একেই স্বর্গ ভাবে। এবারে তাদের যখন কেউ বোঝাবে যে স্বর্গ তো সত্যযুগকে বলা হয়, কলিযুগকে কি স্বর্গ বলা হবে। নরকে দেহ ত্যাগ করলে অবশ্যই নরকে পুনর্জন্ম হবে। প্ৰথমে তোমরাও এই কথা বুঝতে না। এখন বুঝেছ। রাবণ রাজ্য যখন আসে তো আমাদের পতন হয়, সবাই বিকার গ্রস্ত হয়ে যায়। এখন সম্পূর্ণ জ্ঞান তোমাদের প্রাপ্ত হয় তাই তোমাদের চলনও রাজকীয়তা (রয়্যাল) হওয়া উচিত। এখন তোমরা সত্যযুগের চেয়েও বেশি মূল্যবান। বাবা যিনি হলেন জ্ঞানের সাগর তিনি সম্পূর্ণ জ্ঞান এখনই দেন। অন্য কোনো মানুষ জ্ঞান ও ভক্তিকে বুঝতে পারে না। মিশিয়ে দিয়েছে। তারা ভাবে শাস্ত্র পাঠ করা হল জ্ঞান এবং পূজা করা হল ভক্তি। সুতরাং এখন বাবা ফুলে (গুল-গুল) পরিণত করার জন্যে কত পরিশ্রম করছেন। বাচ্চাদেরও দয়া হওয়া উচিত যে আমরা বাবাকে আহ্বান করি, এসো, পতিতদের পবিত্র করো, ফুলে পরিণত করো। এখন বাবা এসেছেন তো নিজের উপরেও করুণা হওয়া উচিত। আমরা কি এমন ফুলে পরিণত হতে পারি না ! এখনও আমরা বাবার হৃদয় আসনে স্থান পাইনি কেন ! মনোযোগ নেই। বাবা কত করুণাময় । বাবাকে আহ্বান করা হয় পতিত দুনিয়ায় এসে পবিত্র করো। তখন বাবার দয়া হয়, তেমনই বাচ্চাদেরও দয়া হওয়া উচিত। নাহলে সদগুরুর নিন্দুক কোথাও স্থান পাবে না। এই কথা তো কারো স্বপ্নেও থাকবে না যে সদগুরু কে ? মানুষ গুরুদের সম্বন্ধে ভেবে নেয় যাতে গুরু অভিশাপ না দেন, যাতে কৃপা থেকে বঞ্চিত হতে না হয়। সন্তানের জন্ম হলে ভাববে, গুরুর কৃপা। এ হল অল্পকালের সুখ । বাবা বলেন - বাচ্চারা, নিজের উপরে দয়া কর। দেহী-অভিমানী হও তাহলে ধারণা হবে। সব কিছু আত্মা-ই করে। আমিও আত্মাকে পড়াই। নিজেকে আত্মা পাক্কা নিশ্চয় করো এবং বাবাকে স্মরণ করো। বাবাকে স্মরণ না করলে বিকর্ম বিনাশ হবে কিভাবে । ভক্তি মার্গেও স্মরণ করা হয় - হে ভগবান দয়া করো। বাবা হলেন লিবারেটর এবং গাইড দুই-ই .... এও হল তাঁর গুপ্ত মহিমা, বাবা এসে সব বলেন যে ভক্তিমার্গে তোমরা স্মরণ কর। আমি আসব নিশ্চয়ই নিজের নির্দিষ্ট সময়ে। যখন চাইব তখন আসব, তা হয় না। ড্রামাতে যে সময় নির্ধারিত আছে, তখনই আসি। বাকি এমন ভাবনাও কখনও আসেনা। তোমাদের যিনি পড়ান তিনি হলেন পিতা। ব্রহ্মাবাবাও তাঁর কাছে পড়েন। তিনি কখনো কোনো ভুল করেন না, কাউকে দুঃখ দেন না। বাকিরা সবাই হল নম্বর ক্রমানুযায়ী টিচার। তিনি হলেন সত্য পিতা, তোমাদের সত্যের শিক্ষা-ই দেন। সত্যের সন্তানরা হল সত্য। তারা মিথ্যার সন্তান হয়ে অর্ধকল্পের জন্যে মিথ্যা হয়ে যায়। সত্য পিতাকে ভুলে যায়।



সর্বপ্রথমে বোঝাও যে এই যুগ সত্যযুগী নতুন দুনিয়া নাকি পুরানো দুনিয়া ? তবেই মানুষ বুঝবে এই প্রশ্নটি ভালো। এই সময় সবার মধ্যে ৫ বিকারের প্রবেশ রয়েছে। সেখানে অর্থাৎ স্বর্গে ৫ বিকার হয় না। এ হল খুব সহজ কথা, বোঝার মতোই, কিন্তু যে নিজে বুঝবেনা তো তারা প্রদর্শনীতে কি বোঝাবে ? সার্ভিসের পরিবর্তে ডিস-সার্ভিস করে আসবে। বাইরে গিয়ে সার্ভিস করা কোনো মাসির বাড়ি যাওয়া নয় । খুব বুদ্ধি চাই। বাবা প্রত্যেকের আচরণ দেখে বোঝেন। বাবা হলেন বাবা, তখন উনিও বলবেন এইরকমই ড্রামাতে ছিল। কেউ এলে তাকে ব্রহ্মাকুমারীকে দিয়ে বোঝানো টাই হল সঠিক। নামও আছে ব্রহ্মাকুমারী ঈশ্বরীয় বিশ্ব বিদ্যালয়। ব্রহ্মাকুমারীদের নামই বিখ্যাত হবে। এই সময় সবাই ৫ বিকারে ঘিরে আছে। তাদের গিয়ে বোঝানো খুবই কঠিন । কিছুই বোঝে না, শুধু বলবে জ্ঞান তো খুব ভালো। নিজেরা বোঝেনা। বিঘ্নের পরে বিঘ্ন আসতেই থাকে। তখন যুক্তি রচনা করতে হয়। পুলিশের পাহারা রাখো, চিত্র ইনসিওর করে দাও। এ হল যজ্ঞ, তাতে বিঘ্ন নিশ্চয়ই পড়বে। সম্পূর্ণ দুনিয়া এতেই স্বাহা হবে। নাহলে যজ্ঞ নামটি কেন পড়বে । যজ্ঞে স্বাহা হতে হবে। এর নাম হল রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ। জ্ঞানকে পড়াশোনা বলা হয়। এটা হল পাঠশালা এব যজ্ঞ দুই-ই। তোমরা পাঠশালায় পড়া করে দেবতা হও তখন এইসব কিছু এই যজ্ঞে স্বাহা হয়ে যায়। তারা-ই বোঝাতে পারবে যারা রোজ প্র্যাক্টিস করতে থাকবে। যদি প্র্যাক্টিস থাকবে না তবে তারা কি কথা বলতে পারবে। দুনিয়ার মানুষের জন্যে স্বর্গ হল এখন, অল্পকালের জন্য। তোমাদের জন্য স্বর্গ অর্ধকল্পের জন্য হবে। এও ড্রামাতে নির্ধারিত রয়েছে। চিন্তা করলে খুবই আশ্চর্য লাগে। এখন রাবণ রাজ্য শেষ হয়ে রামরাজ্যের স্থাপনা হয়। এতে লড়াই ইত্যাদির কোনো ব্যাপার নেই। এই সিঁড়ির চিত্র দেখে লোকেরা খুব অবাক হয়। বাবা কি বুঝিয়েছেন, ব্রহ্মাও বাবার কাছে শিখে বোঝাচ্ছেন। কুমারীরাও বোঝায়। যে অনেকের কল্যাণ করে তাদের নিশ্চয়ই বেশি ফল প্রাপ্ত হবে। শিক্ষিতদের সামনে অশিক্ষিত-রা অবশ্যই মাথা নত করবে। বাবা প্রতিদিন বোঝান - নিজের কল্যাণ করো। এই চিত্রগুলি সামনে রাখলেই নেশা চড়ে যায়, তাই বাবা এই চিত্র গুলি ঘরে রেখেছেন। প্রধান লক্ষ্য (এইম অবজেক্ট ) হল খুব সহজ, এর জন্য চরিত্র (ক্যারেক্টার) খুব ভালো হওয়া চাই। মন পরিষ্কার হলে মনস্কামনা পূরণ হতে পারে। আচ্ছা !



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ, ভালবাসা ও সুপ্রভাত। ঈশ্বরীয় পিতা ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্যে মুখ্য সার :-

১. সদা স্মরণে রাখতে হবে যে আমরা হলাম বেহদের বাবার স্টুডেন্ট, ভগবান আমাদের পড়ান, তাই ভালো করে পড়ে বাবার নাম উজ্জ্বল করতে হবে। নিজের আচার আচরণ খুবই রয়্যাল রাখতে হবে।

২. বাবার মতন করুণাময় হয়ে কাঁটা থেকে ফুলে পরিণত হতে হবে এবং অন্যদের পরিণত করতে হবে। অন্তর্মুখী হয়ে নিজের ও অন্যদের কল্যাণের চিন্তন করতে হবে।

বরদান:-

বিকার রূপী বিষাক্ত সাপ গুলিকে গলার মালায় পরিবর্তনকারী শঙ্কর সম তপস্বীমূর্তি ভব

এই পাঁচটি বিকার যা হল অন্য লোকেদের জন্যে বিষাক্ত সাপ, এই সাপ গুলি তোমাদের মতন যোগী বা প্রয়োগী আত্মাদের গলার মালা হয়ে যায়। এ হল তোমাদের অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের বা ব্রহ্মা বাবার অশরীরী তপস্বী শঙ্কর স্বরূপের স্মরণিক, আজ পর্যন্ত যে স্বরূপের পূজো হয়। দ্বিতীয়ত - এই সাপ আনন্দে নাচ করবার স্টেজ হয়ে যায় - এই স্থিতি স্টেজের রূপে দেখানো হয়। তাই যখন বিকারের উপরে এমন বিজয় লাভ হবে তখন বলা হবে তপস্বীমূর্তি, প্রয়োগী আত্মা।

স্লোগান:-

যাদের স্বভাব মিষ্টি, শান্ত তাদেরকে ক্রোধের ভূত আক্রমণ করতে পারে না।