০৪-০৩-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- সম্পূর্ণ দুনিয়ায় তোমাদের মতন লক্ষ কোটি গুণ (পদ্ম গুণ) ভাগ্যশালী স্টুডেন্ট আর কেউ নেই, তোমাদের স্বয়ং জ্ঞান সাগর পিতা শিক্ষক রূপে পড়াচ্ছেন"

প্রশ্ন:-

কোন্ শখটি সর্বদা থাকলে মোহ মমতার তার ছিন্ন হয়ে যাবে ?

উত্তর:-

সার্ভিস করার শখ থাকলে মোহ মমতার তার ছিন্ন যাবে। সদা বুদ্ধিতে যেন স্মরণ থাকে যে এই চোখ দিয়ে যা কিছু দেখা যাচ্ছে সেসব হল বিনাশী। এইসব কিছু দেখেও দেখবে না। বাবার শ্রীমৎ হল - হিয়ার নো ইভিল, সী নো ইভিল অর্থাৎ খারাপ শুনবেনা, খারাপ দেখবেনা ।

ওম্ শান্তি ।

শিব ভগবানুবাচ মিষ্টি শালিগ্রাম বা আত্মা রূপী বাচ্চাদের প্রতি। এই কথা তো বাচ্চারা বুঝেছে আমরা সত্যযুগী আদি সনাতন পবিত্র দেবী-দেবতা ধর্মের ছিলাম, অতএব এই কথাটি স্মরণে রাখতে হবে। আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মকে তো অনেকেই মানে কিন্তু দেবতা ধর্মের নাম বদলে হিন্দু নাম রেখে দিয়েছে। তোমরা জানো আমরা আদি সনাতন কারা ছিলাম ? তারপরে পুনর্জন্ম নিয়ে এই রূপ ধারণ হয়েছে ? এইসব ভগবান বসে বোঝাচ্ছেন। ভগবান কোনও দেহধারী মানুষ নয়। সবার নিজের নিজের দেহ আছে, কিন্তু শিববাবাকে বলা হয় বিদেহী। তাঁর নিজের দেহ নেই , আর সকলের নিজস্ব দেহ আছে, তো নিজেকেও এমন বিদেহী নিশ্চয় করলে খুব মিষ্টি অনুভব হয়। আমরা কি ছিলাম, এখন কি হতে চলেছি। এই ড্রামা যে পূর্ব থেকেই রচিত রয়েছে - সেসব তোমরা এখন বুঝেছ। এই দেবী-দেবতা ধর্মই পবিত্র গৃহস্থ আশ্রম ছিল। এখন আশ্রম নেই। তোমরা জানো এখন আমরা আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা করছি। হিন্দু নাম তো এখন রাখা হয়েছে। আদি সনাতন হিন্দু ধর্ম তো নেই। বাবা অনেকবার বলেছেন - আদি সনাতন ধর্মের মানুষদের বোঝাও। বলো, এতে লেখো আদি সনাতন দেবী-দেবতা পবিত্র ধর্মের, না হিন্দু ধর্মের ? তখন তাদের ৮৪ জন্মের জ্ঞান অর্জন হবে। এই জ্ঞান তো খুবই সহজ। শুধুমাত্র লক্ষ বছর বলে দেওয়াতে মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছে। এইসবও ড্রামাতে নির্দিষ্ট আছে। সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হওয়ার পার্ট ড্রামাতে আছে। দেবতা ধর্মের মানুষরা-ই ৮৪ জন্ম নিয়ে এমন ছিঃ ছিঃ হয়েছে। প্ৰথমে ভারত কত উঁচু ছিল। ভারতেরই মহিমা করা উচিত। এখন আবার তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান, পুরানো দুনিয়া থেকে নতুন দুনিয়ায় অবশ্যই পরিণত হতে হবে। ভবিষ্যতে তোমাদের কথা নিশ্চয়ই বুঝবে। বলো, ঘোর নিদ্রা থেকে জাগো। বাবা এবং বর্সা কে স্মরণ করো। বাচ্চারা তোমাদের সারা দিন খুশীতে থাকা উচিত। সম্পূর্ণ দুনিয়ায়, পুরো ভারতে তোমাদের মতন পদ্ম গুণ ভাগ্যশালী স্টুডেন্ট কেউ নেই। তোমরা বুঝেছ আমরা যা ছিলাম তাই আবার হতে চলেছি। খুঁজে খুঁজে তারাই আবার আসবে। এতে তোমরা বিভ্রান্ত হয়োনা। প্রদর্শনীতে একটু শুনে গেলেও তারা প্রজা হয়ে যায়, কারণ অবিনাশী জ্ঞান ধনের বিনাশ হয় না। দিন দিন তোমাদের সংস্থা ভরতে থাকবে, তখন অনেকে তোমাদের কাছে আসবে। ধীরে ধীরে ধর্মের স্থাপনা হয়। যখন কোনও বড়লোক মানুষ বাইরে থেকে আসে তখন তাকে দেখতে অনেক মানুষ যায়। এখানে তো সে কথা নেই। তোমরা জানো এই দুনিয়ায় যা কিছু আছে, সবই হল বিনাশী। সেসব দেখবে না। সী নো ইভিল অর্থাৎ খারাপ দেখবে না...এই আবর্জনা তো ভস্ম হবে। যা কিছু দেখতে পাও মানুষ ইত্যাদি, বুঝতে পারো যে এইসবই হল কলিযুগী। তোমরা হলে সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণ। সঙ্গম-যুগকে কেউ জানে না। শুধু এইটুকু স্মরণ করো - এই হল সঙ্গম যুগ, এখন ঘরে ফিরতে হবে। পবিত্রও অবশ্যই হতে হবে। এখন বাবা বলেন এই কাম বিকার আদি-মধ্য-অন্ত দুঃখ দেয়, কাম বিকারকে জয় করো। বিষের জন্যে কত কষ্ট দেয়। বাবা বলেন কাম হল মহা শত্রু, তাকে জয় করতে হবে। এখন এই সময় অনেক মানুষ আছে দুনিয়ায়। তোমরা এক একজনকে কত বোঝাবে। একজনকে বোঝাও তো অন্যজন বলবে জাদু আছে, তারপরে পড়াশোনা ছেড়ে দেয় তাই বাবা বলেন আদি সনাতন ধর্মের মানুষদের বোঝাও। আদি সনাতন হলই দেবী দেবতা ধর্ম। তোমরা বোঝাও লক্ষ্মী-নারায়ণ এই পদ মর্যাদা কিভাবে প্রাপ্ত করেন ? মানুষ থেকে দেবতায় কিভাবে পরিণত হন ? নিশ্চয়ই শেষ জন্ম হবে। ৮৪ জন্ম পূর্ণ করে এমন পদের অধিকারী হয়েছেন। যাদের সার্ভিস করার শখ থাকে তারা তো সার্ভিসে ব্যস্ত থাকে। অন্য সব দিক থেকে মোহ মমতা কেটে যায়। আমরা এই চোখ দিয়ে যা কিছু দেখি সে সব ভুলতে হবে। যেন কিছুই দেখিনি। খারাপ দেখবে না (সী নো ইভিল)....। মানুষ তো বানরের চিত্র বানিয়ে দেয়। কিছু বুঝতে পারে না। ছোট কন্যারা কত পরিশ্রম করে। বাবা তাদের আশীর্বাদ করেন, যারা বুঝিয়ে উপযুক্ত করে। পুরস্কারও তারাই পায়, যারা কাজ করে দেখায়। তোমরা জানো বাবা আমাদের কত প্রাইজ দেবেন। প্রথম প্রাইজ হল সূর্যবংশী রাজধানীর প্রাইজ। সেকেন্ড নম্বরে হল চন্দ্রবংশীর প্রাইজ। নম্বর অনুযায়ী তো আছেই। ভক্তি মার্গের অনেক শাস্ত্রও বসে তৈরি করে। এখন বাবা বোঝাচ্ছেন এই শাস্ত্র পাঠ করে, যজ্ঞ - তপ করে আমার সঙ্গে কারো মিলন হয় না। দিন দিন কত পাপ আত্মা তৈরি হয়। পুণ্য আত্মা কেউ হতে পারে না। বাবা এসে পুণ্য আত্মায় পরিণত করেন। এক হল হদের দান-পুণ্য, দ্বিতীয় হল বেহদের। ভক্তিমার্গে ইন্ডাইরেক্ট ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে দান-পুণ্য করে কিন্তু ঈশ্বর কে সে কথা জানে না। এখন তোমরা জানো। তোমরা বল যে শিববাবা আমাদের কি থেকে কি করে দিয়েছেন ! ভগবান তো একজন - ই। ওঁনাকে সর্বব্যাপী বলে দিয়েছে। তো তাদের বোঝানো উচিত যে তোমরা কি করেছ। তোমাদের কাছে আসে, একটু শুনে বাইরে গেলেই, শেষ। এখানকার সব এখানেই রয়ে যায়। সবকিছু ভুলে যায়। তোমাদের বলে জ্ঞান খুব ভালো, আমরা আবার আসব। কিন্তু মোহ মমতার তার ছিন্ন হয় না। মোহজিত রাজার কত সুন্দর গল্প রয়েছে । ফার্স্টক্লাস মোহজিত রাজা হলেন লক্ষ্মী-নারায়ণ। কিন্তু মানুষ বুঝতে পারে না। আশ্চর্য। রাবণের রাজ্যে সিঁড়ি বেয়ে নেমে একেবারে নীচে এসে পড়েছে। বাচ্চাদের খেলা হয় কিনা। উপরে গিয়ে আবার নীচে নেমে আসে। তোমাদের খেলাও খুব সহজ। বাবা বলেন ভালো রীতি ধারণ করো। কোনোরকম অপকর্ম (ছিঃ ছিঃ কর্ম) কোরো না।



বাবা বলেন আমি হলাম বীজ রূপ - সৎ চিত্ আনন্দ স্বরূপ। জ্ঞানের সাগর। এবার জ্ঞানের সাগর কি উপরে বসে থাকবে ? নিশ্চয়ই কখনও এসে জ্ঞান দিয়েছেন । জ্ঞান কি, তাও কেউ জানে না। এখন বাবা বলছেন আমি তোমাদের পড়াতে আসি তাই রেগুলার পড়া উচিৎ। এক দিনও পড়াশোনা মিস করা উচিত নয়। কোনো পয়েন্ট তো ভালো পাবে। মুরলি না পড়লে নিশ্চয়ই পয়েন্টস মিস হয়ে যাবে। অগাধ পয়েন্টস আছে কিনা। এই কথাও তোমাদের বোঝাতে হবে যে তোমরা ভারতবাসীরা আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের ছিলে। এখন অনেক ধর্ম আছে। এর পরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে(হিস্ট্রি মাস্ট রিপিট)। এই হল উপরে ওঠার এবং নীচে নেমে আসার সিঁড়ি। যেমন জিন কে আদেশ করা হয় - সিঁড়ি বেয়ে ওঠো এবং নামো। তোমরা সবাই হলে জিন তাইনা। ৮৪-র সিঁড়ি বেয়ে ওঠো আর নামো। অনেক মানুষ আছে। প্রত্যেক কে কতরকমের পার্ট প্লে করতে হয়। বাচ্চাদের আশ্চর্য অনুভব হওয়া উচিত। তোমাদের বেহদের নাটকের সম্পূর্ণ পরিচয় প্রাপ্ত হয়েছে। সম্পূর্ণ সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্ত কে এখন তোমরাই জানো। কোনো মানুষ জানতে পারে না। সত্যযুগে কারো মুখ দিয়ে কু-বচন নির্গত হয় না। এখানে তো একে অপরকে গালমন্দ করে। এ হল বিষয় বৈতরণী নদী, ঘোর নরক। সব মানুষ ঘোর নরকে বাস করছে। এখানে তো আছে যথা রাজা রানী, তথা প্রজা। তোমাদের বিজয় হবেই শেষ সময়ে, যখন বুঝবে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা কে করেছেন ? এক নম্বর মুখ্য কথা হল এটাই, যা কেউ জানে না।



বাবা বলেন আমি হলাম গরিব নিবাজ অর্থাৎ দীনের নাথ। এই কথা পরে বুঝবে, যখন অনেক দেরি হয়ে যাবে। এখন তোমরা তৃতীয় নেত্র প্রাপ্ত কর। সুইট হোম এবং সুইট রাজত্ব বুদ্ধিতে স্মরণে আছে। বাবা বলেন এখন শান্তিধাম - সুখধামে ফিরে যেতে হবে। তোমরা যে ভূমিকা পালন করেছ এখন বুদ্ধিতে আসে তাইনা। অন্যরা সবাই মৃত, তোমরা ব্রাহ্মণরা ছাড়া। ব্রাহ্মণরা রয় যাবে। ব্রাহ্মণরাই দেবতায় পরিণত হবে। এই "এক' ধর্মের স্থাপনা হচ্ছে। অন্য ধর্ম গুলি কিভাবে স্থাপন হয়, সেসবও বুদ্ধিতে আছে। যিনি বোঝান তিনি হলেন একমাত্র বাবা। এমন বাবাকে ক্ষনে ক্ষনে স্মরণ করা উচিত। ব্যবসা ইত্যাদি করতে থাকো শুধু পবিত্র হও। আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্ম পবিত্র ছিল। এখন আবার পবিত্র হতে হবে। চলতে-ফিরতে আমি পিতা, আমাকে স্মরণ করো তাহলে তোমরা সতোপ্রধান হয়ে যাবে। শক্তি তখন আসবে যখন সতোপ্রধান হবে। স্মরণের যাত্রা ব্যতীত তোমরা সর্বোচ্চ পদ মর্যাদা কখনোই প্রাপ্ত করতে পারবে না। যখন সতোপ্রধান স্টেজে পৌঁছাবে তখনই পাপ ভস্ম হবে। এই হল যোগ-অগ্নি, এটি হল গীতার শব্দ। যোগ-যোগ বলে মাথা ঘামায়। বিদেশ থেকেও ধরে নিয়ে আসে - যোগ শেখাবে বলে। এবারে তোমাদের কথা যদি কেউ বোঝে। পরমাত্মা সুপ্রিম সোল তো একজন-ই। তিনিই এসে সবাইকে সুপ্রিম করেন। একদিন খবরের কাগজে এমন কথা লেখা হবে। এই কথাটি তো সঠিক। রাজ যোগ এক পরমপিতা পরমাত্মা ব্যতীত অন্য কেউ শেখাতে পারবে না। এমন কথা বড়-বড় অক্ষরে লেখা উচিত। আচ্ছা !



মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণ স্নেহ ও গুডমর্নিং। ঈশ্বরীয় পিতা ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্যে মুখ্য সার :-

১. সূর্যবংশী রাজধানীর পুরস্কার প্রাপ্ত করতে হলে বাপদাদার আশীর্বাদ নিতে হবে। সার্ভিস করে দেখাতে হবে। মোহ মমতার তার ছিন্ন করতে হবে।

২. জ্ঞান সাগর বিদেহী বাবা স্বয়ং পড়াতে এসেছেন তাই রোজ পড়া করতে হবে। একদিনও পড়া মিস করবে না। বাবার মতন বিদেহী হওয়ার পুরুষার্থ করতে হবে।

বরদান:-

শ্রেষ্ঠ বৃত্তির ব্রত নিয়ে সত্য প্রকৃত শিব রাত্রি পালনকারী বিশ্ব পরিবর্তক ভব

ভক্তরা তো স্থূল বস্তুর ব্রত রাখে কিন্তু তোমরা নিজেদের দূর্বল বৃত্তি গুলিকে সদাকালের জন্য নির্মূল করবার ব্রত নাও, কারণ যে কোনো রকমের ভালো বা খারাপ কথা সর্ব প্ৰথমে বৃত্তিতে ধারণ হয় তারপরে বাণী ও কর্মে পরিলক্ষিত হয়। তোমাদের শুভ বৃত্তি দ্বারা যে শ্রেষ্ঠ বোল ও কর্ম নিষ্পাদিত হয় তার দ্বারা বিশ্ব পরিবর্তনের মহান কার্য সম্পন্ন হয়। এই শ্রেষ্ঠ বৃত্তির ব্রত ধারণ করা-ই হল শিব রাত্রি পালন করা।

স্লোগান:-

খুশীতে ভরপুর সে-ই, যার হৃদয়ে সর্বদা খুশীর সূর্য উদিত থাকে।