04-04-2021 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 06-12-87 মধুবন


"সফলতার (সিদ্ধি) আধার - 'শ্রেষ্ঠ বৃত্তি"


আজ বাপদাদা চারিদিকে তাঁর হোলিহংসদের সভা দেখছেন l প্রত্যেক হোলিহংস নিজের শ্রেষ্ঠ স্থিতির আসনে বিরাজমান l সব আসনধারী হোলিহংসের সভা সারা কল্পে অলৌকিক এবং অনুপম l প্রত্যেক হোলিহংস আপন বিশেষত্বে অতি সুন্দর ভাবে সজ্জিত l বিশেষত্ব হলো শ্রেষ্ঠ সজ্জা (শৃঙ্গার) l সজ্জিত হোলিহংস কতো রমণীয় লাগে ! বাপদাদা প্রত্যেকের বিশেষত্বের শৃঙ্গার দেখে উৎফুল্ল হন l সবাই সজ্জিত, কারণ বাপদাদা ব্রাহ্মণ জন্ম দেওয়ার সাথে সাথেই শৈশব থেকেই 'বিশেষ আত্মা ভব'র বরদান দিয়েছেন l যদিও নম্বরক্রম থাকে, তবুও লাস্ট নম্বরও বিশেষ আত্মা l ব্রাহ্মণ জীবনে আসা অর্থাৎ বিশেষ আত্মাতে এসেই গেছ l ব্রাহ্মণ পরিবারে যদি লাস্ট নম্বরেও হয়, বিশ্বের অনেক আত্মার তুলনায় সেও বিশেষ হিসেবে মহিমান্বিত হয়, সেইজন্যই গাওয়া হয়েছে - কোটি কোটির মধ্যে কতিপয়, কতিপয়ের মধ্যেও কয়েকমাত্র l সুতরাং ব্রাহ্মণদের সভা অর্থাৎ বিশেষ আত্মাদের সভা l

আজ বাপদাদা দেখছিলেন যে বিশেষ আত্মাদের সবাইকে বাবা তো সমান ভাবে একই রকম শৃঙ্গার করিয়েছেন, কিন্তু কেউ কেউ সেই শৃঙ্গার ধারণ ক'রে সময় অনুসারে কার্যে প্রয়োগ করে আর কেউ কেউ হয় ধারণ করতে পারে না, কিংবা কেউ কেউ সময় অনুসারে কার্যে প্রয়োগ করতে পারে না l যেমন আজকালকার যারা রয়্যাল ফ্যামিলির তারা সময় অনুসারে যদি শৃঙ্গার করে, তাহলে কতো ভালো লাগে ! সময় যেমন, শৃঙ্গার তেমন, একে বলা হয় নলেজফুল l আজকাল সাজগোজের আলাদা আলাদা সেট রাখে, তাই না ! তাইতো বাপদাদা অনেক বিশেষত্বের, অনেক শ্রেষ্ঠ গুণের কতো ভ্যারাইটি সেট দিয়েছেন ! শৃঙ্গার যতই অমূল্য হোক, কিন্তু সময় অনুযায়ী যদি যথাযথ না হয় তাহলে কেমন লাগবে ! বিশেষত্বের, গুণের, শক্তির, জ্ঞান রত্নের অনেক শৃঙ্গার বাবা সবাইকে একইরকম দিয়েছেন, কিন্তু সময়কালে কার্য-প্রয়োগে নম্বর-ক্রম হয়ে যায় l যদিও এই সব শৃঙ্গার তোমাদের আছে, তা' সত্ত্বেও কিন্তু সময় অনুসারে প্রত্যেক বিশেষত্ব বা গুণের নিজ নিজ মহত্ত্ব আছে l থাকা সত্ত্বেও যদি কার্যে প্রয়োগ না করো, তাহলে অমূল্য হলেও তার মূল্য হয় না l যে কার্যের জন্য যে বিশেষত্ব ধারণ করার প্রয়োজন, সেই বিশেষত্ব সেই সময়েই মূল্যবান l যেমন, হংস, কাঁকর আর রত্ন উভয়কে আলাদাভাবে পরখ করে শুধুমাত্র রত্নকে ধারণ করে l কাঁকরকে পাশে সরিয়ে বাকি রত্ন-মোতি ধারণ করে l সেইরকমই হোলিহংস, অর্থাৎ সময় অনুসারে বিশেষত্ব বা গুণ পরখ করে সেই সময়ে ইউজ করা উচিত l একেই বলে, পরখ-শক্তি ও নির্ণয়-শক্তিধর হোলিহংস l সুতরাং পরখ করা এবং নির্ণয় করা, এই দুই শক্তি তোমাদের সামনের নম্বরে নিয়ে যায় l যখন এই দুই শক্তিই তোমরা ধারণ করে নাও, তখন সেই বিশেষত্ব দ্বারা সময় অনুসারে কার্য সম্পন্ন করতে পারো l সুতরাং তোমরা প্রত্যেক হোলিহংস নিজেদের এই দুই শক্তিকে চেক করো l দুই শক্তির কোনটাও সময়কালে তোমাদের বিভ্রান্ত করে না তো ? সময় পার হয়ে যাওয়ার পর যদি পরখও করো বা নির্ণয়ও করে নিলে, কিন্তু সেই সময় তো পার হয়ে গেল, তাই না ! যে নম্বর ওয়ান হোলিহংস, তাদের এই দুই শক্তি সদা সময় অনুসারে কার্য করে l যদি সময় পার হয়ে যাওয়ার পর এই দুই শক্তি কাজ করে, তাহলে তোমরা সেকেন্ড নম্বরে এসে যাও ! থার্ড নম্বরের ব্যাপার তো বাদই দাও l আর সময়কালে সেই হংসই কার্য করতে পারে যার বুদ্ধি সদা হোলি তথা পবিত্র l

হোলির অর্থ তো তোমাদের শোনানো হয়েছিল, তাই না ! এক, হোলি অর্থাৎ পবিত্র আর হিন্দিতে হো লি অর্থাৎ যা অতীত হয়ে গেছে তা' অতীত l সুতরাং যাদের বুদ্ধি হোলি অর্থাৎ স্বচ্ছ এবং যা অতীত হয়ে গেছে সেই পরিস্থিতি সদাই প্রতি সেকেন্ডে হো লি - এমন বুদ্ধির অভ্যাস যাদের আছে, তারা সদা হোলি অর্থাৎ অধ্যাত্ম রঙে রঙিন হয়ে থাকে, তারা সদাই বাবার সঙ্গের রঙে রঙিন হয়ে আছে l সুতরাং, একই হোলি শব্দ তিন রূপে ইউজ হয়, যার মধ্যে এই তিন অর্থেরই বিশেষত্ব আছে অর্থাৎ যে সকল হংস এই বিধি জানে, তারা সবসময় সফলতা প্রাপ্ত হয় l তাইতো, আজ বাপদাদা হোলিহংসদের সভায় সব হোলিহংসের এই বিশেষত্ব দেখছেন l তা' স্থূল কার্যই হোক বা অধ্যাত্ম কার্য, দুইয়ের মধ্যেই কিন্তু সফলতার আধার পরখ করার আর নির্ণয় করার শক্তি বিদ্যমান l যখন কারও সঙ্গে তোমরা সম্পর্কে আসো, যতক্ষণ পর্যন্ত ভাব আর ভাবনা পরখ করতে পারো না আর পরখ করার পর যথার্থ নির্ণয় নিতে পারো না, তখন উভয় কার্যে তোমাদের সফলতা প্রাপ্ত হবে না, তা' ব্যক্তিই হোক বা পরিস্থিতি, কেননা, ব্যক্তিকে সম্বন্ধেও আসতে হয় আর পরিস্থিতিকেও পার করতে হয় l জীবনে এই দুই বিষয়ই আসে l সুতরাং নম্বর ওয়ান হোলিহংস অর্থাৎ উভয় বিশেষত্বে সম্পন্ন l এটাই ছিল আজকের এই সভার সমাচার l এই সভা বাবার সামনে শুধু যারা এখানে বসে আছে তারা নয় l বাপদাদার সামনে তোমাদের সাথে সাথে তো চারিদিকের বাচ্চারা ইমার্জ হয় l বেহদ (অসীম) পরিবারের সাথে বাপদাদা মিলন উদযাপন করেন এবং মনখোলা অধ্যাত্ম আলাপচারিতা করেন l সব ব্রাহ্মণ আত্মা তাদের নিজ স্মরণের শক্তি দ্বারা নিজেই মধুবনে উপস্থিত হয় l আর বাপদাদা বিশেষ এই বিষয়ও দেখছেন যে প্রত্যেক বাচ্চার বিধির লাইন আর সিদ্ধির লাইন, এই দুই রেখা কতো স্পষ্ট, আদি থেকে এখন পর্যন্ত বিধি কীভাবে প্রযুক্ত হয়েছে এবং বিধির ফলস্বরূপ কতটা সিদ্ধি প্রাপ্ত করেছে, দুই রেখা কতটা স্পষ্ট আর কতটা লম্বা অর্থাৎ বিধি প্রয়োগের মাধ্যমে সিদ্ধির হিসেব যথার্থরূপে কতটা জমা হয়েছে ! বিধির আধার - শ্রেষ্ঠ বৃত্তি l যদি বৃত্তি শ্রেষ্ঠ হয় তাহলে বিধিও যথার্থ হয় আর বিধি যথার্থ হলে সিদ্ধি অবশ্যই শ্রেষ্ঠ হয় l সুতরাং বিধি আর সিদ্ধির বীজ হলো বৃত্তি l সদা ভ্রাতৃত্বের আত্মিক বৃত্তি হোক শ্রেষ্ঠ বৃত্তি l এই বিষয় মুখ্য তো বটেই, কিন্তু সেইসঙ্গে সব আত্মার সাথে সম্পর্কে আসার সময়ে সকলের প্রতি কল্যাণের, স্নেহের, সহযোগের, নিঃস্বার্থ ভাবের নির্বিকল্প বৃত্তি হোক, নির্ব্যর্থ-সঙ্কল্প বৃত্তি হোক l কখনো কখনো যে কোনো আত্মার প্রতি তোমাদের ব্যর্থ সঙ্কল্প বা বিকল্পের বৃত্তি থাকে, সুতরাং যেমন তোমাদের বৃত্তি, দৃষ্টি, তেমনই সেই আত্মার কর্তব্য-কর্মের সৃষ্টি প্রতীয়মান হবে l কখনো কখনো বাবা বাচ্চাদের মধ্যে তা' দেখেনও, আর শোনেনও l এই বৃত্তির কারণে, তোমরাও সেই ব্যাপারে বর্ণন করো, তা' সে যতই ভালো কার্য করুক, কিন্তু বৃত্তি ব্যর্থ হওয়ার কারণে সদাই সেই আত্মার প্রতি বাণীও এমনই বের হয় - ইনি তো এইরকমই, ইনি সবসময়ই এইরকম l সুতরাং এই বৃত্তি সেই আত্মার কর্মরূপী সৃষ্টিকে সে'রকমই অনুভব করায় l যেমন, এই জগতে তোমরা চোখের নজর বোঝাতে চশমার দৃষ্টান্ত দাও, 'যে রঙের চশমা পরবে, সর্বত্র সেই রঙই দেখবে l' একইভাবে, তোমাদের বৃত্তি যেমন হয়, ঠিক সেভাবেই তোমাদের দৃষ্টি বদল হয়ে যায়, আর দৃষ্টি সৃষ্টিকে বদল করে দেয় l যদি বৃত্তির বীজ সদাই শ্রেষ্ঠ তাহলে বিধি আর সিদ্ধি সফলতাপূর্বক অবশ্যই হয় l সুতরাং প্রথমে বৃত্তির ফাউন্ডেশনকে চেক করো l সেটাই শ্রেষ্ঠ বৃত্তি বলা হয়ে থাকে l যদি কোনও সম্বন্ধ-সম্পর্কে শ্রেষ্ঠ বৃত্তির পরিবর্তে মিক্সড বৃত্তি হয়, তাহলে যত বিধিই আপন করো, সিদ্ধি কিন্তু হবে না, কারণ বীজ হলো বৃত্তি আর বৃক্ষ হলো বিধি এবং ফল সিদ্ধি l যদি বীজ দুর্বল হয়, তাহলে বৃক্ষ যতই বিস্তৃত হোক না কেন সিদ্ধিরূপী ফল কিন্তু হবে না l বাচ্চাদের এই বৃত্তি আর বিধি বিষয়ে বাপদাদা অন্তরঙ্গভাবে এক বিশেষ অধ্যাত্ম আলাপচারিতা করছিলেন l

স্ব-উন্নতির জন্য এবং সেবায় উন্নতির জন্য তাঁদের অন্তরঙ্গ অধ্যাত্ম আলাপচারিতায় এক মনোরম স্লোগান বলছিলেন l তোমরা সবাই এই স্লোগান পরস্পরের মধ্যে বলেও থাকো, সর্বকার্যে 'প্রথমে তুমি' - এই স্লোগান মনে আছে, আছে না ? এক হলো 'প্রথমে তুমি', আরেক হলো 'প্রথমে আমি' l দু'টো স্লোগান "প্রথমে তুমি" আর "প্রথমে আমি" l এই দুই স্লোগান আবশ্যক l কিন্তু বাপদাদা অন্তরঙ্গভাবে অধ্যাত্ম আলাপচারিতা করতে করতে মৃদু মৃদু হাসছিলেন l যেখানে 'প্রথমে আমি' হওয়া উচিত সেখানে 'প্রথমে তুমি' করে দাও তোমরা, আর যেখানে 'প্রথমে তুমি' করা প্রয়োজন সেখানে 'প্রথমে আমি' করে দাও l বদল করে দাও l যখন কোনো স্ব-পরিবর্তনের বিষয় উত্থাপিত হয়, তখন বলো 'প্রথমে তুমি', এটা যদি বদলে যায় তো 'আমি'র বদল হয়ে যাবে l সুতরাং স্ব-পরিবর্তনের ক্ষেত্রে হয়ে গেল 'প্রথমে তুমি', তাই না ! আর যখন কোনো সেবার বা কোনও এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার চান্স তৈরি হয়, তখন তোমরা চেষ্টা করো - 'প্রথমে আমি, আমিও তো কিছু, আমারও তো কিছু পাওয়া উচিত' l সুতরাং, যেখানে 'প্রথমে তুমি' বলা প্রয়োজন, সেখানে 'আমি' বলে দিচ্ছ l সদা স্বমানে স্থিত হয়ে অন্যকে সম্মান দিতে হবে অর্থাৎ 'প্রথমে তুমি' করতে হবে l মুখে শুধু বলবে প্রথমে তুমি আর কর্মে তারতম্য ঘটবে, এমন নয় l স্বমানে স্থিত হয়ে স্বমান দিতে হবে l স্বমান দেওয়া বা স্বমানে স্থিত হওয়া, এর লক্ষণ কী হবে ? এতে দু'টো বিষয় চেক করো -

এক হয় অভিমানের বৃত্তি, আরেক হয় অপমানের বৃত্তি l যে স্বমানে স্থিত হয় আর অন্যকে স্বমান দিয়ে দাতা হয়, তার মধ্যে এই দুটো বৃত্তি হবে না - না অভিমানের, না অপমানের l ইনি তো এইরকমই করেন, ইনি সবসময়ই এইরকম, সুতরাং এটাও রয়্যাল রূপে সেই আত্মার অপমান l স্বমানে স্থিত হয়ে স্বমান দেওয়াকে বলে 'প্রথমে তুমি' l বুঝেছ ? আর যে কোনও স্ব-উন্নতির বিষয় হোক, তা'তে সদা 'প্রথমে আমি'র স্লোগান স্মরণ হলে কী রেজাল্ট হবে ? প্রথমে আমি অর্থাৎ যে উদ্যোগী সেই অর্জুন l 'অর্জুন অর্থাৎ বিশেষ আত্মা, স্বতন্ত্র আত্মা, অলৌকিক আত্মা, অলৌকিক বিশেষ আত্মা l' যেমন, ব্রহ্মাবাবা সদা 'প্রথমে আমি', এই স্লোগানের মাধ্যমেই 'যে উদ্যোগী সেই অর্জুন' হয়েছেন, তাই না ! অর্থাৎ নম্বর ওয়ান আত্মা l নম্বর ওয়ান সম্বন্ধে তোমাদের তো বলা হয়েছে, যার অর্থ নম্বর ওয়ান ডিভিশন l কার্যতঃ, নম্বর ওয়ান তো একজনই হবে, তাই না ! সুতরাং, দু'টো স্লোগানই আবশ্যক l যাই হোক, তোমাদের বলা হয়েছিল, কিসের ভিত্তিতে নম্বর ওয়ান হয় l যখন কেউ যথার্থ সময়ে কোনও বিশেষত্বকে কার্যে প্রয়োগ করে না, তখন নম্বর আগুপিছু হয়ে যায় l সময়কালে যে কার্যে প্রয়োগ করে, সে উইন করে অর্থাৎ ওয়ান হয়ে যায় l অতএব, চেক করো, কেননা এই বছর বাপদাদা স্ব-এর চেকিং বিষয়ে তোমাদের বলছেন l বাবা তোমাদের বিভিন্ন বিষয়ে বলেছেন, তাই না ? সুতরাং এই ব্যাপারে চেক করো - 'তুমি'র পরিবর্তে 'আমি', 'আমি'র পরিবর্তে 'তুমি' বলছ কিনা ! একেই বলে, যথার্থ বিধি l যেখানে বিধি যথার্থ, সেখানে অবশ্যই সিদ্ধি l আর তোমাদের এই বৃত্তির বিধি বলা হয়েছে - দু'টো বিষয়কে চেক করো, না অভিমানের বৃত্তি থাকবে, না অপমানের l যেখানে এই দুইয়ের অনুপস্থিতি, সেখানেই স্বমানের প্রাপ্তি l এর জন্য তোমরা বলো বা না বলো, এই বিষয়ে ভাবো বা না ভাবো, কিন্তু ব্যক্তি এবং প্রকৃতি উভয়ই সদা আপনা থেকেই তোমাদের স্বমান দিতে থাকবে l সঙ্কল্প মাত্র স্বমানের প্রাপ্তির ইচ্ছা থাকলেও স্বমান প্রাপ্ত হবে না l নিরহঙ্কার হওয়া অর্থাৎ 'প্রথমে তুমি' এটা বলা l নিরহঙ্কার স্থিতি আপনা থেকেই স্বমান দেওয়াবে l পরিস্থিতিতে স্বমানে 'প্রথমে তুমি' বলা অর্থাৎ বাবা সমান হওয়া l ব্রহ্মাবাবা যেমন সদাই স্বমান দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে জগদম্বা সরস্বতী মা, পরে রেখেছেন ব্রহ্মা বাবা l ব্রহ্মা মাতা হওয়া সত্ত্বেও স্বমান দেওয়ার জন্য জগদম্বা মাকে সামনে রেখেছেন l সর্বকার্যে বাচ্চাদের তিনি সামনে রেখেছেন এবং পুরুষার্থের স্থিতিকালে সদা নিজেকে 'প্রথমে আমি' এই ইঞ্জিন রূপে দেখেছেন l ইঞ্জিন সামনে থাকে, তাই না ! বাবার সাকার জীবনে সদা তোমরা দেখেছ, 'যা আমি করব, আমাকে দেখে সবাই করবে l' সুতরাং বিধিবদ্ধ ভাবে স্ব-উন্নতিতে বা তীব্র পুরুষার্থের লাইনে সদা 'প্রথমে আমি' অর্থাৎ তিনি নিজেকে সামনে রেখেছেন l তাইতো আজ বিধি আর সিদ্ধির রেখা চেক করছিলেন l বুঝেছ ? অতএব, অদলবদল করে দিও না l এই অদলবদল করার অর্থ ভাগ্যকে বদল করা l সদা হোলিহংস হয়ে নির্ণয় শক্তি, পরখ করার শক্তিকে যথার্থ সময়ে কার্যে প্রয়োগ করে বিশাল বুদ্ধি হও আর সদা বৃত্তি রূপী বীজকে শ্রেষ্ঠ হতে দাও এবং বিধি আর সিদ্ধি শ্রেষ্ঠ সদা অনুভব করতে থাকো l

পূর্বেও তোমাদের বলা হয়েছিল, বাচ্চাদের প্রতি বাপদাদার স্নেহ আছে l স্নেহের লক্ষণ কী ? যাঁর স্নেহ আছে, তিনি স্নেহীর দুর্বলতা দেখতে পারেন না, সদা নিজেকে আর স্নেহী আত্মাকে সম্পন্ন ও সমান দেখতে চান l বুঝেছ ? সেইজন্য বারবার অ্যাটেনশনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, চেকিং করান - সম্পন্ন বানানোর এটাই প্রকৃত স্নেহ l আচ্ছা l

এখন সবদিক থেকে মেজরিটিতে পুরানো বাচ্চারা l পুরানো কাকে বলে তার অর্থ তোমাদের জানা আছে তো, তাই না ? বাপদাদা তাদের পুরানো বলেন, যারা সব বিষয়ে অভিজ্ঞ (পাকা) l পুরানো অর্থাৎ অভিজ্ঞ l অনুভবই তাদের অভিজ্ঞ বানায় l এমন কাঁচা নয় যে সামান্য একটু মায়ারুপী বিড়াল আসবে আর ঘাবড়ে যাবে l তোমরা যারা এসেছ সবাই পুরানো- অভিজ্ঞ, তাই না ? মিলনের চান্স নেওয়ার জন্য যদি সবাই 'প্রথমে আমি' - এটা করে থাকো তাহলে কোনও অনুচিত হয়নি l যতই হোক, প্রতিটা কার্যেই নিয়ম আর সুযোগ তো আছেই l এমনও নয় যে 'প্রথমে আমি' এটা বললে আর এক হাজার এসে উপস্থিত হবে ! সাকার দুনিয়ায় নিয়মও আছে, সুযোগও আছে l অব্যক্ত বতনে নিয়মের কোনো ব্যাপার নেই, নিয়ম বানানোর দরকার পড়ে না l অব্যক্ত মিলনের জন্য পরিশ্রম লাগে, সাকার মিলন সহজ লাগে, সেইজন্য দৌড়ে দৌড়ে এখানে আসো l যেমনই হোক, সময় অনুসারে যত কায়দা, তত সুযোগ l বাপদাদা সামান্য ইশারা দিলেন তো তোমাদের ভাবনা হয়, জানিনা এখন কী হতে চলেছে ! যদি কিছু হওয়ারই থাকবে, বলে তো হবে না l সাকার বাবা যে অব্যক্ত হয়েছেন তা' কি জানিয়ে হয়েছেন ? যা হঠাৎ হয় তা' অলৌকিক অত্যুৎকৃষ্ট হয়, সেইজন্য বাপদাদা বলেন, সদা এভাররেডি থাকো l যা হবে তা' সবচাইতে ভালো হবে l আচ্ছা l

সকল হোলিহংসকে, সকল বিশাল বুদ্ধি, শ্রেষ্ঠ স্বচ্ছ বুদ্ধি যারা ধারণ করে, সেই বুদ্ধিমান বাচ্চাদের, সকল শক্তিকে, সকল জ্ঞানী আত্মা, যোগী আত্মা বাচ্চাদের যারা সময় অনুসারে সব বিশেষত্বকে কার্যে প্রয়োগ করে, সদা বাবা সমান সম্পন্ন হওয়ার উৎসাহ-উদ্দীপনায় যারা থাকে সেই সম্পন্ন বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l

বরদান:-
মালিকভাবের স্মৃতির দ্বারা হাইয়েস্ট অথরিটির অনুভবকারী কম্বাইন্ড স্বরূপধারী ভব

প্রথমে নিজের শরীর আর আত্মার কম্বাইন্ড রূপকে স্মৃতিতে রাখো l শরীর রচনা, আত্মা রচয়িতা l এতে মালিকভাব আপনা থেকেই স্মৃতিতে থাকবে l মালিকভাবের স্মৃতি দ্বারা নিজেকে হাইয়েস্ট অথরিটি অনুভব করবে l শরীরের চালনাকারী হবে l দ্বিতীয়তঃ, বাবা আর বাচ্চার (শিবশক্তি) কম্বাইন্ড স্বরূপের স্মৃতি দ্বারা মায়ার বিঘ্নকে তোমাদের অথরিটি দিয়ে পরাস্ত করতে পারবে l

স্লোগান:-
বিস্তারকে সেকেন্ডে সমাহিত করে জ্ঞানের সার অনুভব করো আর করাও l