04.06.2022 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা হলে জগৎ অম্বা কামধেনুর পুত্র ও কন্যা, সকলের মনস্কামনা পূরণ করতে হবে তোমাদের, নিজের ভাই-বোনদের সঠিক পথ বলে দিতে হবে

প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা তোমরা, বাবার দ্বারা কোন্ রেস্পন্সিবিলিটি বা দায়িত্ব প্রাপ্ত করেছ ?

উত্তরঃ  
বাচ্চারা, বাবা এসেছেন অসীম জগতের সুখ প্রদান করতে, তাই তোমাদের কর্তব্য হল ঘরে-ঘরে এই বার্তা প্রদান করো। বাবার সহযোগী হয়ে ঘরে-ঘরে স্বর্গ বানাও। কাঁটাদের ফুলে পরিণত করার সেবা করো। বাবার সমান নিরহংকারী, নিরাকারী হয়ে সবার সেবা করো। সম্পূর্ণ দুনিয়াকে রাবণ রূপী শত্রুর কবল থেকে মুক্ত করতে হবে - এই বিশাল দায়িত্ব বাচ্চারা তোমাদের।

গীত :-
মাতা ও মাতা, তুমিই ভাগ্যবিধাতা...

ওম্ শান্তি ।
এই মাতা'র মহিমা ভারতেই গায়ন করা হয়। জগৎ অম্বা হলেন ভাগ্য বিধাতা যথাযথভাবে । তার নামই রাখা হয়েছে কামধেনু অর্থাৎ উনি সর্ব কামনা পূরণ করেন । এই ঐশ্বর্যের উত্তরাধিকার তাঁর কোথা থেকে প্রাপ্ত হয় ? শিববাবার দ্বারা জগৎ অম্বা ও জগৎ পিতার বর্সা প্রাপ্ত হয়। বাচ্চাদের এই নিশ্চয় হয়েছে যে আমরা হলাম আত্মা। আত্মাকে চোখে দেখা যায় না, বুদ্ধির দ্বারা জানা যায়। জীব এবং আত্মা। আত্মা হল অবিনাশী, শরীর তো হল বিনাশী যা এই চোখে দেখা যায়। আত্মার সাক্ষাৎকার হয়। বলা হয় - বিবেকানন্দের আত্মার সাক্ষাৎকার হয়েছে, কিন্তু বুঝতে পারেনি। বাচ্চারা ভাবে আমরা নিজের আত্মার সাক্ষাৎকার করবো তো বাবার সাক্ষাৎকারও করবো। যেমন আত্মারা তেমনই আত্মাদের পিতা। কোনো তফাৎ নেই। বুদ্ধির দ্বারা জ্ঞান প্রাপ্ত হয় যে ইনি হলেন পিতা, এরা সন্তান। সব আত্মারাই পিতাকে স্মরণ করে। এই দেহের চোখ দিয়ে না নিজের আত্মাকে, না পিতার আত্মাকে দেখতে পায়। উনি হলেন পরম আত্মা পরমধাম নিবাসী সুপ্রিম পরমাত্মা। ভক্তি মার্গেও নবধা ভক্তি (নয় প্রকারের ভক্তি) করলে সাক্ষাৎকার হয়। এমন নয় যে তার আত্মা এই দেহে আছে এই সময়। না, তার আত্মা তো পুনর্জন্মে চলে গেছে। ভক্তিমার্গে যে যেরকম ভাবনা দিয়ে যার পূজা করে তার সাক্ষাৎকার করে। অসংখ্য চিত্র বানিয়েছে বসে, যাকে পুতুল পূজা বলা হয়। ভাবনা বা ভক্তি থাকলে অল্পকালের সুখ অল্প বিস্তর প্রাপ্ত হয়। তোমাদের অসীমের সুখের কথা একেবারেই আলাদা । তোমরা জানো আমরা স্বর্গের বাদশাহী প্রাপ্ত করি। ভক্তির দ্বারা কেউ স্বর্গে যেতে পারে না। যখন ভক্তিমার্গ পূর্ণ হয় অর্থাৎ দুনিয়া পুরানো হয় তখন পুনরায় কলিযুগের পরে সত্যযুগ নতুন দুনিয়া আসবে। কারো বুদ্ধিতে বসে না। সন্ন্যাসীরাও বলে অমুকে জ্যোতিতে জ্যোতি বিলীন হয়েছে, কিন্তু এমন নয়। তোমাদের এখন ঈশ্বরীয় বুদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছে, যাকে শ্রীমৎ বলে। শব্দগুলো কতো সুন্দর । শ্রী শ্রী ভগবানুবাচ। তিনি স্বর্গের মালিক অর্থাৎ নর থেকে নারায়ণ বানান। তোমরা শ্রীমতের দ্বারা বিশ্বের রাজত্ব প্রাপ্ত করো। শ্রী শ্রী ১০৮ এর মালার অনেক মহিমা আছে। ৮ রত্নের মালা হয়। সন্ন্যাসীরাও মালা জপ করে। একটি কাপড় রাখে যাকে গৌ মুখ বলে । তার ভিতরে হাত রেখে মালা জপ করে। বাবা বলেন তোমরা নিরন্তর স্মরণ করো তাই তারা মালা জপ করার প্রথা চালু করেছে। বাচ্চারা জানে এখন পারলৌকিক পিতা এসে আমাদের আপন করেছেন, ব্রহ্মার দ্বারা। প্রজাপিতা ব্রহ্মা আছেন তো প্রজা মাতাও আছেন। জগৎ অম্বাকে জগৎ মাতা এবং লক্ষ্মীকে বিশ্বের মহারানী বলা হয়। বিশ্ব অম্বা বলো বা জগৎ অম্বা বলো একই কথা। তোমরা হলে সন্তান, সুতরাং এই হল এক কুটুম্ব অর্থাৎ এক পরিবার। তোমরা বাচ্চারাও সকলের মনস্কামনা পূরণ করো। তোমরা হলে জগৎ অম্বার পুত্র ও কন্যা। বুদ্ধিতে এই নেশা থাকে - আমরা আমাদের ভাই বোনদের সঠিক পথ বলি। খুব সহজ। ভক্তিমার্গে তো কষ্ট অনেক আছে। কত রকমের হঠ যোগ, প্রাণায়াম ইত্যাদি করে। নদীতে গিয়ে স্নান করে। অনেক কষ্ট গ্রহণ করে। এখন বাবা বলেন তোমরা ক্লান্ত হয়েছো। ব্রাহ্মণদেরই বোঝানো হয়, যারা বোঝে নিরাকার পরমপিতা পরমাত্মার সঙ্গে আমাদের কি সম্বন্ধ আছে। শিববাবা শব্দটি শোভনীয়, রুদ্র বাবা বলা হয় না। বলাই হয় শিববাবা। এই কথাটি খুব সহজ। নাম আরও অনেক আছে। কিন্তু সঠিক হল "শিববাবা"। শিব অর্থাৎ বিন্দু। রুদ্র অর্থাৎ বিন্দু নয়। যদিও বলে শিববাবা কিন্তু বুঝতে কিছুই পারে না। শিববাবা এবং তোমরা হলে শালগ্রাম, এখন বাচ্চারা তোমাদের মাথায় দায়িত্ব রয়েছে। যেমন গান্ধী ভাবতেন ভারতকে এই বিদেশিদের শাসন থেকে মুক্ত করতে হবে। সে তো হল সীমিত দুনিয়ার কথা। বাবা বাচ্চাদের অর্থাৎ তোমাদেরকে দায়িত্বশীল বানান। বিশেষ ভাবে ভারত এবং সাধারণ ভাবে সম্পূর্ণ বিশ্বকে মায়া রাবণ শত্রুর হাত থেকে বাঁচাতে হবে। এই শত্রু গুলি সবাইকে দুঃখ দিয়েছে, সেসবের উপরে বিজয় অর্জন করতে হবে। যেমন গান্ধীজি ফরেনার্সদের দেশ থেকে দূর করেছিলেন, এই রাবণও হল বিরাট বড় ফরেনার। দ্বাপর যুগে এই রাবণ প্রবেশ করে, কেউ জানতে পারে না, রাবণ এসে সম্পূর্ণ রাজ্য কেড়ে নেয়। এ'হল সবচেয়ে পুরানো ফরেনার, যে ভারতকে কাঙাল করেছে। তার মতানুসারে ভারত এমন ভ্রষ্টাচারী হয়েছে। এই শত্রুকে দূর করতে হবে। শ্রীমৎ প্রাপ্ত হয় যে কীভাবে দূর হবে। তোমাদের তো বাবার সহযোগী হতে হবে। আমার আপন হয়ে পরমতে চললে পতন হবে। উঁচু পদের অধিকারী হতে পারবে না। গায়নও আছে - সাহসী বাচ্চাদের সহায়তা করেন বাবা। তোমরা হলে খোদাই খিদমতগার অর্থাৎ ঈশ্বরীয় সেবাধারী। খোদা স্বয়ং এসে তোমাদের সেবা করেন। তাঁকে স্মরণ করা হয় যে, হে পতিত-পাবন এসো। সেবা যে করে তাকে সার্ভেন্ট বলা হয়। বাবা হলেন কতখানি নিরহংকারী, নিরাকার। নিরহংকারী, নির্বিকারী হতে শেখান। নিজ সম বানিয়ে কাঁটা থেকে ফুলে পরিণত করতে হবে। গ্যারান্টি দেওয়া হয় আমরা বিকার গ্রস্ত হবো না। এ'হল সবচেয়ে পুরানো শত্রু। এর উপরেই জয় লাভ করতে হবে। কেউ কেউ লেখে বাবা আমরা পরাজিত হয়েছি, কেউ তো আবার বলেও না। এক তো নাম বদনাম করে, সদ্গুরুর নিন্দা করে নিজের ক্ষতি করে।

তোমরা বাচ্চারা জানো - এখন আমরা শিববাবার নাতি নাতনী। প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান। ব্রহ্মাও বর্সা প্রাপ্ত করেন শিববাবার কাছ থেকে । তোমরাও শিববাবার কাছ থেকেই নাও। বাচ্চারা জানে বাবার থেকে কল্প পূর্বেও বর্সা প্রাপ্ত করেছিলাম। আত্মা বুঝতে পারে। আত্মাই এক দেহ ত্যাগ করে অন্যটি ধারণ করে। শরীরের নাম রাখা হয়। শিববাবা তো কেবল নলেজ প্রদান করার জন্য দেহটি লোন নেন। শিব ভগবানুবাচ - ব্রহ্মার দেহের দ্বারা। বাকি অতিরিক্ত কথায় মনোযোগ দেওয়ার দরকার নেই। আত্মা বেরিয়ে গেল, কি হয় ? কীভাবে আসে, এইসব কথায় বুদ্ধি যুক্ত করে কোনো লাভ নেই। এইসবই হল সাক্ষাৎকার। যা কিছু হয়, সব সাক্ষাৎকার। সূক্ষ্মবতনের পথ এখন খোলা আছে। অনেকে আসে যায়। এতে জ্ঞান যোগের কোনো কথা নেই। ভোগ অর্পণ করা হয় আত্মা আসে, খাওয়ানো হয় - এই সব হল চিট চ্যাট (কথোপকথন)। বাবার বাচ্চাদের প্রতি অনেক ভালোবাসা থাকে। তোমরা বাচ্চারা বলো বাপদাদা আমরা এসেছি। শিব এবং প্রজাপিতা ব্রহ্মা হলেন একত্রে। ব্রহ্মাকে বলাই গ্রেট গ্রেট গ্র্যান্ড ফাদার। কত বিশাল এই বংশ লতিকা, ওনাকে শিববাবা তো বলবে না। এখানে হল মানুষের বংশ লতা। তা হল করপরিয়ালের। সব বংশের মধ্যে প্রথম মুখ্য বংশের গায়ন আছে। বিশাল নাটক, তাই না। এখন বাচ্চারা তোমরা ভালো ভাবে বুঝেছে। কেউ হয়তো বুঝতে পারে না। এ'টুকু তো বুঝতে পারে যে অবশ্যই শিববাবা হলেন সকলের পিতা। বর্সা প্রাপ্ত হবে পিতামহের কাছ থেকে, ব্রহ্মাবাবাও প্রাপ্ত করেন শিববাবার কাছ থেকে । আচ্ছা, ব্রহ্মাকেও ভুলে যাও। আশীর্বাদ অনুষ্ঠান হয়ে গেছে, আর বাকি কি আছে ? তারপরে মিডিয়েটরকে স্মরণ করে না। ব্রহ্মা বাবা হলেন মিডিয়েটর, এনগেজমেন্ট করান। বলেন হে বাচ্চারা... আত্মাদের সঙ্গে কথা বলেন। আত্মা স্মরণ করে - বাবা এসে আমাদের পবিত্র করো। বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো তো তোমরা পবিত্র হতে থাকবে এবং এছাড়া আর কোনো উপায় নেই। শান্তিধাম থেকে পুনরায় তোমাদের স্বর্গে পাঠিয়ে দেব। এটা হল পিত্রালয়, ওটা হল শ্বশুরালয়। পিতৃ গৃহে গহনা ইত্যাদি ধারণ করে না, নিয়ম নেই। আজকাল ফ্যাশন হয়েছে। এই সময় তোমরা জানো আমরা শ্বশুর গৃহে গিয়ে এই সব ধারণ করবো। বিবাহের পূর্বে কন্যার সব গহনা ইত্যাদি প্রথমে খুলে রাখা হয়। পুরানো পোশাক ধারণ করে। তোমরা জানো বাবা আমাদের শৃঙ্গার করছেন, শ্বশুর গৃহে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ২১ জন্ম আমরা সদাকালের জন্য থাকবো শ্বশুর গৃহে। হ্যাঁ, তার জন্য পুরুষার্থ করতে হবে, পবিত্র থাকতে হবে। গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে পদ্ম ফুলের মতন থাকতে হবে। এই হল শেষ জন্ম। বাবা বোঝান প্রথমে অব্যাভিচারী সতোপ্রধান ভক্তি ছিল, এখন তমোপ্রধান হয়ে গেছে। মুম্বাইয়ে গণেশের পূজা করে লক্ষ টাকা খরচ করে। দেবতাদের রচনা করে তার পালনা করে তাকে বিসর্জন করে, বিনাশ করে দেয়। এখন তোমরা বাচ্চারা আশ্চর্য বোধ করো। তোমরা বোঝাতে পারো এই নিয়ম গুলি কি। দেবীকে জন্ম দিয়ে, পূজা করে খাইয়ে দাইয়ে উৎসব করে তারপর বিসর্জন দেয়। ওয়ান্ডার তাইনা। তুলসীর বিবাহ কৃষ্ণের সঙ্গে দেখানো হয়। খুব ধুমধাম করে বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ফরেনাররা এমন কথা শুনে ভাবে, এমন হয় হয়তো । বসে বসে কি কি কথাই না লিখেছে। পাশা ইত্যাদি খেলার তো কোনো কথাই নেই। তারা তো বলে দেয় পাণ্ডবরা পাশা (জুয়া) খেলেছে, দ্রৌপদীকে বাজি লাগিয়েছে। কি কি কথা বসে লিখেছে, ফলে রাজযোগের কথা তো একেবারেই লুপ্ত হয়ে যায়। এখন বাবা বলছেন আমাকে স্মরণ করো, খুব সহজ কথা। বুদ্ধিতে আসা উচিত আমরা ২১ জন্মের জন্য স্বর্গ, ক্ষীর সাগরে যাই। এখন এ হল বিষয় সাগর। বিষয় সাগর থেকে বেরিয়ে তোমরা পুনরায় ক্ষীর সাগরে যাচ্ছ। তোমাদের হল নতুন কথা। মানুষ শুনে আশ্চর্য হবে। তোমরা বাচ্চারা বুঝেছো সঠিকভাবে স্বর্গে আমরা খুব সুখী থাকবো। আমরা বিশ্বের মালিক হই। সেখানে আমাদের রাজধানী কেউ কেড়ে নিতে পারে না। এখন তো কত পার্টিশন আছে, লড়াই করতে থাকে। বাচ্চারা তোমাদের বোঝাতে হবে - তোমাদের আসল শত্রু হল রাবণ, এই রাবণের উপরে তোমরা কল্প কল্প বিজয় লাভ করো। মায়াজিত জগৎজিত হও। এ হল হার-জিতের খেলা। তোমরা জানো আমরা অবশ্যই বিজয় প্রাপ্ত করবো। ফেল হতে পারি না, বিনাশ সম্মুখে দাঁড়িয়ে আছে। রক্তের নদী বয়ে যাবে। অনেকে অযথা মরে যাবে। একেই বলে নরক অথবা ভ্রষ্টাচারী পতিত দুনিয়া। গেয়েও থাকে - পতিত-পাবন এসো।

বাবা বলেন যেমন তোমরা আত্মারা হলে স্টার, আমিও হলাম স্টার। আমিও ড্রামার বন্ধনে আবদ্ধ, এই বন্ধন থেকে কেউ মুক্ত হতে পারে না। তা নাহলে আমার কি দরকার যে আমি পতিত দুনিয়াতে আসি। আমি তো পরমধামে থাকি তাইনা! এই ড্রামাতে প্রত্যেকে নিজের-নিজের পার্ট প্লে করে। কোনো চিন্তার কিছুই নেই। এখানে তোমরা নেশায় নিশ্চিন্ত (বেফিকর) থাকো, একদম সিম্পল। বাবা কোনো কষ্ট দেন না। শুধুমাত্র স্মরণ করতে হবে এবং করাতে হবে। অসীম জগতের পিতা অসীম জগতের সুখ প্রদান করতে এসেছেন। ঘরে-ঘরে তোমাদের নিমন্ত্রণ পত্র দিতে হবে, এইটুকু কাজ করতে হবে। বাচ্চারা, তোমাদের উপরে বিশাল ভারী রেস্পন্সিবিলিটি অর্থাৎ দায়িত্ব আছে। মায়াও দেখো একেবারে সর্বনাশ করে দেয় । ভারত কতখানি দুঃখে আছে। দুঃখ মায়া দিয়েছে। এখন বাচ্চারা, বাবাকে সহযোগিতা করে কাঁটাদের ফুল বানাতে হবে। তোমরা জানো আমাদের এই ব্রাহ্মণ কুলে কি কি প্রকারের ফুল আছে। সার্ভিস করলে পদ মর্যাদাও প্রাপ্ত হবে, নাহলে প্রজাতে চলে যাবে। পরিশ্রম আছে না। অনেক বাচ্চারা সার্ভিসে যুক্ত আছে। অনেক কন্যারা সার্ভিস করার ছুটি পায় না অর্থাৎ পরিবারে পারমিশন পায় না, অনেকে কষ্ট সহ্য করে, এতে সাহস চাই। ভয় পাওয়া উচিত নয়। বীর বাহাদুরী চাই। নষ্ট মোহও হতে হবে। মোহ কিন্তু কম নয়, ভীষণ প্রবল। ধনী পরিবারের হলে তো বাবা প্রথমে দেহ-অভিমান নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বলবেন ঝাঁট দাও, বাসন মাজো। পরীক্ষা তো নেবেন তাইনা। আচ্ছা!

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) শ্রীমৎ অনুসারে সম্পূর্ণ সহযোগী হতে হবে, পরমত বা মনমত অনুসারে চলবে না। নষ্টমোহ হয়ে, সাহস রেখে সার্ভিসে যুক্ত হবে।

২ ) এখন আমরা পিত্রালয়ে আছি, এখানে কোনো প্রকারের ফ্যাশান ইত্যাদি করবে না। নিজেকে জ্ঞান রত্নের দ্বারা সুসজ্জিত করবে। পবিত্র থাকতে হবে।

বরদান:-
দুঃখকে সুখে, গ্লানিকে প্রশংসায় পরিবর্তনকারী পুণ্য আত্মা ভব

পুণ্য আত্মা হল সে, যে কখনও কাউকে না দুঃখ দেয় আর না দুঃখ নেয়, বরং দুঃখকেও সুখের রূপে স্বীকার করে নেয়, গ্লানিকে প্রশংসা ভাববে তখন বলা হবে পুণ্য আত্মা। এই পাঠ সদা যেন পাকা থাকে যে, অপশব্দ বলা আত্মাকে, দুঃখ প্রদানকারী আত্মকেও নিজের দয়ালু স্বরূপের দ্বারা, দয়ার দৃষ্টি রহমের দৃষ্টির দ্বারা দেখতে হবে। গ্লানির দৃষ্টি দিয়ে নয়। তারা কটু কথা বলবে আর তোমরা ফুল দিয়ে সৎকার করবে তখন বলা হবে পুণ্য আত্মা।

স্লোগান:-
বাপদাদাকে যারা নয়নে সমায়িত করে তারাই হল জগতের আলো (নূর), নূরে জাহান তারা।