04.09.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - এখন এই দুনিয়ার অবস্থা একদমই হোপলেস (আশাহীন) হয়ে গেছে, সবাই মরে যাবে সেইজন্য এর থেকে মমতা সরিয়ে নাও, মামেকম্ স্মরণ করো

প্রশ্নঃ -
সেবার উদ্যম না আসার কারণ কি ?

উত্তরঃ -
১) যদি লক্ষণ ঠিক না থাকে, বাবাকে স্মরণ না করে, তাহলে সেবার প্রতি উদ্যম আসবে না। কোনো না কোনো ব্যর্থ কর্ম হতেই থাকবে, এইজন্য সেবা করতে পারবে না। ২) বাবার যে প্রথম নির্দেশ আছে - তুমি মরে গেলে সমগ্র দুনিয়াই তোমার কাছে মৃত হয়ে যাবে, এইটা ধারণ করে না। বুদ্ধি দেহ আর দেহের সম্বন্ধের মধ্যে ফেঁসে থাকে, তাই সেবা করতে পারে না।

গীতঃ-
ওম নমঃ শিবায় ...

ওম্ শান্তি ।
এখন এই ভক্তি মার্গের গান শুনেছো। শিবায় নমঃ বলা হয়েছে। শিবের নাম বারবার নিতে থাকে। প্রতিদিন শিবের মন্দিরে যায় আর যা কিছু পূজা-পার্বণ আছে সেগুলো প্রতি বছর পালন করে। পুরুষোত্তম মাসও হয়ে থাকে, পুরুষোত্তম বছরও হয়। শিবায় নমঃ তো প্রতিদিনই বলতে থাকে। শিবের পূজারী অনেক আছে। রচয়িতা হলেন শিব, উচ্চ থেকে উচ্চতম ভগবান। বলে যে - পতিত পাবন পরমপিতা পরমাত্মা হলেন শিব। প্রতিদিন পূজাও করে থাকে। বাচ্চারা, তোমরা জানো যে এটা হল সঙ্গম যুগ - পুরুষোত্তম হওয়ার যুগ। যেরকম লৌকিক পড়াশোনা করে কোনো না কোনো উচ্চপদ প্রাপ্ত হয়, তাই না। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ এই পদ কিভাবে প্রাপ্ত করেছেন, বিশ্বের মালিক কিভাবে হয়েছেন। এটা কারোরই জানা নেই। শিবায় নমঃও বলে থাকে। তুমি মাতা-পিতা.... প্রতিদিন মহিমা গাইতে থাকে কিন্তু এটাই জানেই না যে তিনি কবে এসে মাতা-পিতা হয়ে উত্তরাধিকার প্রদান করেন। তোমাদের এটা জানা আছে যে, দুনিয়ার মানুষ তো কিছুই জানেনা। ভক্তি মার্গে অনেক ধাক্কা খেতে থাকে। অমরনাথে কতইনা দলে দলে মানুষ যায়। কতইনা ধাক্কা খায়। কাউকে এটা বলো তো সে বিগড়ে যাবে। তোমরা খুব অল্প সংখ্যক বাচ্চারা, যাদের মধ্যে এত খুশি থাকে। তোমরা লিখতেও থাকো যে বাবা যেদিন থেকে তোমাকে চিনেছি, ব্যস্, এখন তো আমাদের খুশির সীমাই নেই। যদি কিছু পরিশ্রম করতেও হয় তবুও খুশিতে থাকতে হবে। আমরা বাবার হয়েছি, এটা কখনো ভুলে যেওনা। বাচ্চারা তোমরা যখন থেকে জেনেছ যে আমরা শিব বাবাকে পেয়েছি। তখন থেকে খুশির সীমানা থাকবে না। মায়া প্রতি মুহূর্তে ভুলিয়ে দেয়। যদিও লিখতে থাকো যে আমাদের নিশ্চয় আছে, বাবাকে আমরা জেনেছি, তবুও চলতে চলতে ঠান্ডা হয়ে যায়। ৬-৮ মাস,২-৩ বছর আসে না, তখন বাবা বুঝে যায় যে সম্পূর্ণ নিশ্চয় বুদ্ধি ছিলোনা। সম্পূর্ণ নেশা চড়েনি। এইরকম অসীম জগতের বাবা, যার থেকে ২১ জন্মের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। নিশ্চয় হয়ে গেলে তো খুশির নেশায় থাকতে হবে। যেরকম কারোর বাচ্চাকে যদি রাজা নিজের কোলে নিতে চায়। বাচ্চা জানতে পারে যে আমার জন্য এই রকম কথাবার্তা হচ্ছে যে রাজা চাইছেন - এই বাচ্চাকে আমি উত্তরাধিকারী বানাবো। তাহলে সেই বাচ্চার অনেক খুশি হবে, তাই না। আমি রাজার বাচ্চা হব বা গরিবের বাচ্চা ধনীর কোল নেয় তখন অনেক খুশি হয় তাই না। জেনে যায় যে আমাকে অমুক ব্যক্তি দত্তক করতে চান তখন গরিবের দুঃখের চিন্তা ভুলে যায়। সেটা তো হল এক জন্মের কথা। এখানে বাচ্চাদের খুশি থাকে ২১ জন্ম উত্তরাধিকার নেওয়ার জন্য। অসীম জগতের বাবাকে স্মরণ করতে হবে আর অন্যদেরকেও রাস্তা বলে দিতে হবে। শিব বাবা পতিত-পাবন এসে গেছেন। বোঝাচ্ছেন যে, আমি হলাম তোমাদের বাবা। এরকম কোনও মানুষ বলতে পারেনা যে আমি তোমাদের অসীম জগতের পিতা। বাবা বোঝাচ্ছেন যে পাঁচ হাজার বছর পূর্বেও আমি এসেছিলাম। তোমাদেরকে এই শব্দই বলেছিলাম যে মামেকম্ স্মরণ করো। আমাকে, পতিত-পাবন বাবাকে স্মরণ করলে তোমরা পতিত থেকে পাবন হবে, আর অন্য কোন উপায় নেই - পতিত থেকে পাবন হওয়ার। পতিত-পাবন হলেনই এক বাবা। কৃষ্ণকে ভগবান বলা যায়না। গীতার ভগবান এক পতিত-পাবন পুনর্জন্ম-রহিত। সবার প্রথমে এই কথা লেখাও। বড় বড় ব্যক্তিদের লেখা দেখলে তো বুঝবে যে ঠিক আছে। কোনো সাধারণ ব্যক্তির লেখা দেখলে বলবে ব্রহ্মাকুমারীরা এদের উপর জাদু করেছে, তাই লিখেছে, বড়-বড় ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এরকম বলবে না। তোমরা যদি কিছু বলো, তাহলে তারা বুঝবে যে ছোট মুখে বড় কথা তৈরি করছে যে ভগবান এসে গেছেন। বাচ্চারা এইভাবে তোমাদেরকে কেবল বললেই হবে না যে ভগবান এসে গেছেন, এর দ্বারা তো কেউ বুঝতেই পারবে না, পরিবর্তে হাসি মজা করবে। এটাই তো বোঝাতে হবে যে আমাদের দুটি বাবা আছেন। প্রথম থেকেই ঝট করে সোজা ভাবে বলা যাবে না যে ভগবান এসে গেছেন। কেননা আজকাল দুনিয়াতে নিজেকে ভগবান বলে পরিচয় দেওয়ার অনেকেই হয়ে গেছে। সবাই নিজেদেরকে ভগবানের অবতার মনে করে তাই যুক্তি দিয়ে দুই বাবার রহস্য বোঝাতে হবে। এক হল লৌকিকের পিতা, দ্বিতীয় হল অসীম জগতের পিতা। বাবার নাম হল শিব। তিনি সকল আত্মাদের বাবা। তাই অবশ্যই বাচ্চাদেরকে উত্তরাধিকার দিতে আসবেন। শিব জন্মজয়ন্তীও পালন করে। তিনিই এসে স্বর্গের স্থাপনা করেন, তাহলে অবশ্যই নরকের বিনাশ হতে হবে। তারই দৃষ্টান্ত হল এই মহাভারতের লড়াই। এছাড়া, কেবল ভগবান এসে গেছেন এটা বললে কেউ বুঝবেনা। ঢাক পেটাতে থাকে। এইরকম এইরকম ত্রুটিপূর্ণ সেবা করার কারণে আরোই সেবার প্রতি অবহেলা এসে যাবে। একদিকে বলবে যে ভগবান এসে গেছেন, ভগবান পড়াচ্ছেন আর অন্যদিকে গিয়ে বিয়ে করে নেবে। তাহলে লোকেরা বলবে যে তোমাদের আবার কি হল। তোমরা তো বলেছিলে যে ভগবান পড়াচ্ছেন। বলে যে আমরা যা কিছু শুনেছিলাম সেটাই বলেছি। অনেক প্রকারের বিঘ্নও আসে নিজের বাচ্চাদের থেকে, যেরকম হিন্দু ধর্মের আত্মারা নিজেরাই নিজেদের মাথায় চাঁটি মেরেছে তাই না। বাস্তবে হল দেবী-দেবতা ধর্মের কিন্তু বলে দেও যে আমরা হলাম হিন্দু। নিজের মাথায় নিজেরাই চাঁটি মেরেছে তাই না। এখন তোমরা জানো যে আমরাই পূজ্য ছিলাম তথা শ্রেষ্ঠ কর্ম, শ্রেষ্ঠ ধর্ম ছিল। আসুরিক মতে চলে ধর্মভ্রষ্ট কর্মভ্রষ্ট হয়ে পড়েছি। আমরাই নিজেদের ধর্মের গ্লানি শুরু করে দিয়েছি আসুরিক মায়ার মতে চলে, এই জন্য বাবা নিজে বলছেন যে - তারা হলো আসুরিক সম্প্রদায়। আর এটা হল দৈবী সম্প্রদায়, যাদেরকে আমি রাজযোগ শেখাচ্ছি। এখন হলো কলিযুগ। যারা এই জ্ঞান এসে শুনবে, তার অসুর থেকে পরিবর্তিত হয়ে দেবতা হয়ে যাবে। এই জ্ঞানই হল দেবতা হওয়ার জন্য। ৫বিকারের উপর জয় প্রাপ্ত করে দেবতা হয়, এছাড়া অসুর আর দেবতাদের মধ্যে কোন যুদ্ধ হয়নি। এটাও ভুল করে দিয়েছে পুনরায় দেখায় যে যাদের দিকে সাক্ষাৎ ভগবান আছেন, তাদের বিজয় হয়েছে। সেখানে কৃষ্ণের নাম দিয়ে দিয়েছে। বাস্তবে হল তোমাদের সাথে মায়ার যুদ্ধ। বাবা কতো কথা বসে বোঝাচ্ছেন কিন্তু তমোপ্রধান এইরকম হয়ে গেছে যে কিছুই বুঝতে পারে না। বাবাকে স্মরণ করতে পারে না। তারা বুঝতে পারে যে আমাদের এমনই তমোপ্রধান বুদ্ধি যে স্মরণই স্থির থাকে না। এইজন্য ভুল কাজ করতে থাকি। ভালো ভালো বাচ্চারাও স্মরণ একদমই করে না। তাদের চালচলন শোধরায় না, এইজন্য সেবার উদ্যম আসে না। বাবা বলেন যে দেহের সাথে দেহের যা কিছু সম্বন্ধ আছে, তাদেরকে মেরে দাও অথবা ভুলে যাও। এখন মারো- এই শব্দটি বাস্তবে হয় না। বলা হয় যে তোমরা মরে গেলে সমগ্র দুনিয়া তোমার কাছে মরে যাবে। এটা বাবা বসে বোঝাচ্ছেন। বুদ্ধির দ্বারা ভুলে যেতে হবে, যখন তোমরা আমার হয়েছ তখন এই সবকিছু ভুলে যাও, এক বাবাকে স্মরণ করো। যে রকম কোনো রোগীর বেঁচে থাকার হোপলেস (আশাহীন) অবস্থা হয়ে যায় তখন তার থেকে মমতা সরে যায়। তখন তাকে বলা হয় রাম-রাম বলো, বাবাও বলেন যে এই দুনিয়ার কেস একদমই আশাহীন হয়ে গেছে। এই সব শেষ হয়েই যাবে, সবাই মরে যাবে, এই জন্য এর থেকে মমতা সরিয়ে নাও। তারা তো রাম-রাম এর ধুন লাগিয়ে দেয়। এখানে তো একজনের কথা নয়। সমগ্র দুনিয়ার বিনাশ হয়ে যাবে এই জন্য তোমাদেরকে একটাই মন্ত্র দিচ্ছি যে মামেকম্ স্মরণ করো। কতইনা ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের দ্বারা বাবা বোঝাচ্ছেন। এখন পুরুষোত্তম মাস এসেছে, তাে পুরুষোত্তম যুগেও বোঝাতে থাকবে। বোঝানোর জন্য অত্যন্ত হুশিয়ার থাকতে হবে। ধারণাও খুব ভালো চাই। কোনও পাপ কর্ম করো'না। অনুমতি ছাড়া কোনও জিনিস নিজের করে নেওয়া বা খাওয়া, এটাও হল গুপ্ত পাপ। এখানে কায়দা-কানুন অত্যন্তই কড়া, পাপ করতে থাকে তথাপি বলেও না, ততই পাপ বৃদ্ধি হতে থাকে। এখানে তো বাচ্চারা তোমাদেরকে পুণ্যাত্মা হতে হবে। পূন্যাত্মাদের প্রতি আমার স্নেহ থাকে আর পাপাত্মাদের প্রতি আমার বিরোধ আছে। ভক্তি মার্গেও জানে যে ভাল কর্ম করলে ভালো ফল প্রাপ্ত হবে এই জন্য দান পূর্ণ ইত্যাদি ভালো ভালো কর্ম করতে থাকে তাই না। এটাই হল ড্রামা, তথাপি বলে যে ভগবান ভাল কর্মের ফল ভালোই দেন। বাবা বলেন যে - আমি কেবল এই ধান্দা থোড়াই বসে করি। এটা তো ড্রামাতে পূর্ব নির্ধারিত করা আছে। ড্রামা অনুসার বাবাকে অবশ্যই আসতে হয়।

বাবা বলেন যে - আমাকে এসে সবাইকে রাস্তা বলে দিতে হয়। এছাড়া এতে কৃপা ইত্যাদির কোনও কথাই নেই। কেউ কেউ লেখে যে বাবা আপনি কৃপা করলে তো আমরা আপনাকে কখনও ভুলব না। বাবা বলেন যে আমি কখনো কৃপা ইত্যাদি করি না, এসব তো হল ভক্তি মার্গের কথা। তোমাদেরকে নিজের ওপর নিজেকেই কৃপা করতে হবে। বাবাকে স্মরণ করলে বিকর্ম বিনাশ হবে। ভক্তি মার্গের কথা জ্ঞান মার্গে হয়না। জ্ঞান মার্গ হলই পড়াশোনা। টিচার কারোর প্রতি থোড়াই কৃপা করবে। প্রত্যেককে পড়তে হবে। বাবা শ্রীমৎ দিচ্ছেন, তার উপর চলতে হবে তাইনা। কিন্তু নিজের মতে চলার কারণে কিছুই সেবা করতে পারেনা। বাচ্চাদেরকে সম্পূর্ণ পূণ্য আত্মা হতে হবে। অল্প একটুও যেন পাপ না হয়। কোনও কোনও বাচ্চা নিজের পাপ কর্মের কথা বলেও না। বাবাও বলেন যে সে উচ্চপদ কখনোই পাবে না। গাওয়া হয়ে থাকে যে - যে উন্নতি করবে সে বৈকুণ্ঠ রস চাখতে পারবে..... বাচ্চারা জানে যে এই লক্ষ্য হলো অনেক উচ্চ। যদি সেখান থেকে পড়ে যায় তাহলে কোনও কাজেরই থাকবে না। অশুদ্ধ অহংকার হল প্রথম নম্বর, তারপর কাম, ক্রোধ, লোভও কম নয়। লোভ, মোহও সত্যানাশ করে দেয়। বাচ্চা প্রভৃতির মধ্যে মোহ থাকলে তো তাদের কথাই স্মরণে আসতে থাকবে। আত্মা তো বলে যে আমার তো এক শিব বাবা দ্বিতীয় কেউ নেই। আর কারো কথা স্মরণে যাতে না আসে - এইরকম পুরুষার্থ করতে হবে। এই সব তো শেষ হয়ে যাবে। বিনাশ সামনে দাঁড়িয়ে আছে, উত্তরাধিকার তো নিতে পারবে না। এদের মধ্যে কেন মোহ রাখব। এইরকম এইরকম নিজের সাথে কথা বলতে হবে। সমগ্র দুনিয়াকে বুদ্ধি দিয়ে ভুলতে হবে। এই সব তো শেষ হয়েই যাবে। তুফান এমন আসবে যে একদম সব শেষ করে দেবে। আগুন কোথায় লেগে যাবে আর হাওয়া এত জোরে আসবে যে চারিদিকে সব পুড়িয়ে ছারখার করে দেবে। আধা ঘণ্টার মধ্যেই একশ থেকে দেড়শ ঝুপড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। তোমরা জানো যে এই জরাজীর্ণ বৃক্ষে আগুন লেগেই যাবে, না হলে তো এত সব মানুষ কিভাবে মরবে। যে বাচ্চারা ভালো হবে, তাদের লক্ষণও ভালো দেখা যাবে তো সেবাও খুব ভালো করবে। বাচ্চারা তোমাদের মধ্যে নেশা থাকতে হবে। সম্পূর্ণ নেশা তো অন্তিম সময়ে থাকবে যখন কর্মাতীত অবস্থা হয়ে যাবে, তখনও পুরুষার্থ করতে থাকবে। বেনারসে শিবের মন্দিরে তো অনেকেই যায় কেননা তিনি হলেন উচ্চ থেকে উচ্চতর ভগবান। সেখানে শিবের ভক্তি অনেক হয়। বাবা তো বলেন যে সেখানে গিয়ে তাদেরকে বোঝাও। এই শিব ভগবান এই লক্ষ্মীনারায়ণ কে এই উত্তরাধিকার প্রদান করেছেন। সঙ্গম যুগেই এই উত্তরাধিকার তাঁর থেকে প্রাপ্ত হয়। এটা বোঝালে পুনরায় ব্রহ্মা-সরস্বতীরও বোঝানো হয়ে যাবে। চিত্রের উপর বোঝালে ক্লিয়ার ভাবে বুঝতে পারবে। এঁনাদের এই রকম রাজ্য কিভাবে প্রাপ্ত হয়েছে। এই লক্ষ্মীনারায়ণের রাজ্যে ভক্তিমার্গ ছিল না। বলে যে - ভক্ত হল অনাদি। এখন তোমাদের অনেক জ্ঞান প্রাপ্ত হয়েছে। তাই নেশাও ঊর্ধ্বমুখী থাকতে হবে। আমাদেরকে ভগবান পড়াচ্ছেন, ২১ জন্মের রাজ্য ভাগ্য দেওয়ার জন্য। তোমরা হলে স্টুডেন্ট তাইনা। যার নিশ্চয় হবে - এই ব্রহ্মাকুমারীরা যার দ্বারা শুনে আমাদের মধ্যে নিশ্চয়তা স্থাপন করছে তিনি নিজে কি হবেন। এই রকম বাবার থেকে প্রথমে সাক্ষাৎকার করতে হবে। যতক্ষণ সম্পূর্ণ নিশ্চয়ই হবে না ততক্ষণ বৃদ্ধিও হবে না। যাদের যাদের মধ্যে নিশ্চয় থাকবে তারাই তাড়াতাড়ি ছুটে আসবে। এইরকম বাবার সাথে আমি গিয়ে সাক্ষাৎকার করব, ছাড়বো না। ব্যস্, বাবা আমি তো তোমার হয়ে গেছি। আমি আর তোমাকে ছেড়ে যাব না। গানও আছে যে - ভালোবাসো বা আঘাত করো... এই পাগল প্রেমী তোমার দোরগোড়া কখনো ছাড়বে না। তবুও তাদেরকে বসিয়ে তো রাখা যায় না। সেবাতে ছাড়তে হয়। গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে কমলফুলের সমান হতে হবে। এইরকম লিখেও দেয়, তবুও বাইরে গিয়ে মায়ার চাকরিতে এসে যায়। মায়া এতই প্রবল। মায়ার অনেক বিঘ্ন পড়ে । ছোট প্রদীপের উপরও মায়ার অনেক তুফান আসে। এই গানেরও সার অংশ বাবা এসে বোঝাচ্ছেন। তোমাদের পুরুষোত্তম যুগ চলছে। ভক্তদের পুরুষোত্তম মাস চলে গেছে। বাবা বলছেন যে - এই সঙ্গম যুগেই আমি আসি, পতিতদেরকে পাবন বানাতে। বোঝানো অত্যন্ত সুন্দর।

আচ্ছা - দিন দিন সেবার বৃদ্ধির জন্য নতুন নতুন যুক্তি বের হতে থাকবে। ভালো ভালো চিত্র তৈরি হতে থাকবে। বলা হয় যে - যে কাজ অনেক সময়ব্যাপী হয়, সেইকাজ অত্যন্ত রুচিসম্পন্ন হয়।তৈরি জিনিস প্রাপ্ত হচ্ছে, যার দ্বারা তাড়াতাড়ি কেউ বুঝতে পারবে। সিঁড়ির ছবি অত্যন্ত সুন্দর। এই সময় কেউ এইটা বলতে পারবে না যে আমি হলাম পবিত্র। পবিত্র দুনিয়া সত্যযুগকেই বলা যায়। পবিত্র দুনিয়ার মালিক হলেন এই লক্ষ্মী-নারায়ণ। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এতটুকুও যেন বড় অথবা সূক্ষ্ম পাপ না হয়, তারজন্য অত্যন্ত সচেতন থাকতে হবে। কখনো কোনো জিনিস লুকিয়ে নেবে না। লোভ, মোহ থেকেও সাবধান থাকতে হবে।

২ ) অশুদ্ধ অহংকার যা কিনা সর্বনাশ করে দেয়, তাকে ত্যাগ করতে হবে। এক বাবাকে ছাড়া দ্বিতীয় কেউ যেন স্মরণে না আসে, এই পুরুষার্থ করতে হবে।

বরদান:-
সূক্ষ্ম সংকল্প গুলির বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে উচ্চ স্টেজের অনুভবকারী নিবর্ন্ধন ভব

যে বাচ্চারা যতটা নির্বন্ধন থাকে ততটাই উঁচু স্টেজের ওপর স্থিত থাকতে পারে। এইজন্য চেক করো যে, মন - বচন এবং কর্মে কোনো সূক্ষ্ম সূতোও জুড়ে নেই তো ! এক বাবা ছাড়া আর কেউ যেন স্মরণে না আসে। নিজের দেহও যদি স্মরণে আসে তাহলে দেহের সাথে সাথে দেহের সম্বন্ধ, পদার্থ, দুনিয়ার সব পিছনে পিছনে এসে যাবে। আমি হলাম নিবর্ন্ধন - এই বরদানকে স্মৃতিতে রেখে সমগ্র দুনিয়াকে মায়ার জাল থেকে মুক্ত করার সেবা করো।

স্লোগান:-
দেহী অভিমানী স্থিতির দ্বারা তন আর মনের দোলাচলকে সমাপ্তকারীই অচল থাকতে পারে।