04-10-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 29-03-86 মধুবন


*ডবল বিদেশি বাচ্চাদের সাথে বাপদাদার আধ্যাত্মিক বার্তালাপ*


আজ বাপদাদা চারিদিকের ডবল বিদেশি বাচ্চাদের বতনে ইমার্জ করে সব বাচ্চার বিশেষত্ব দেখছিলেন। কারণ সব বাচ্চাই বিশেষ আত্মা। তাইতো বাবার হয়েছে অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ ভাগ্যবান হয়েছে l বিশেষ সবাই, কিন্তু নম্বরানুক্রমিক তো বলবে ! সেইজন্য আজ বাপদাদা ডবল বিদেশি বাচ্চাদের বিশেষভাবে দেখছিলেন l অল্প সময়ের মধ্যে চারিদিকের বিভিন্ন রীতি-নীতি এবং মান্যতা থাকলেও এক মান্যতায় একমতের হয়ে গেছ তোমরা l বাপদাদা মেজরিটিতে দু'টো বিশেষ বিশেষত্ব দেখছিলেন l এক তো স্নেহের সম্বন্ধে খুব তাড়াতাড়ি স্থিরবুদ্ধি হয়েছে l স্নেহের সম্বন্ধ, ঈশ্বরীয় পরিবারের এবং বাবার হওয়াতে তোমাদের ভালো সহযোগ দিয়েছে l সুতরাং, এক স্নেহে আসার বিশেষত্ব, দুই, স্নেহের কারণে পরিবর্তন-শক্তি সহজভাবে তোমাদের প্র্যাকটিক্যাল জীবনে রাখা l স্ব-পরিবর্তন আর সেইসঙ্গে নিজ-সমদের পরিবর্তনে একমনা হয়ে এগিয়ে যাচ্ছ l সুতরাং স্নেহের শক্তি আর পরিবর্তন করার শক্তি এই দুই বিশেষত্ব সাহস তথা মনোবলের সাথে ধারণ করে ভালো প্রমাণ দেখাচ্ছ l

আজ বতনে বাপদাদা নিজেদের মধ্যে বাচ্চাদের বিশেষত্ব সম্বন্ধে অধ্যাত্ম বার্তালাপ করছিলেন l এখন এই বছরের অব্যক্ত'র ব্যক্ত মিলনের সীজন বলো বা মিলন মেলা, সমাপ্ত হয়ে এসেছে, সেইজন্য বাপদাদা সবার রেজাল্ট দেখছিলেন l সাধারণত:, অব্যক্ত রূপে অব্যক্ত স্থিতিতে মিলন তো আছেই আর সদা থাকবেও l কিন্তু সাকার রূপ দ্বারা মিলনের সময় নির্ধারণ করতে হয় এবং এতে সময়-সীমাও ধার্য করতে হয় l অব্যক্ত রূপে মিলনে সময়ের কোনও সীমা নেই, যে যতটা চায় মিলন উদযাপন করতে পারে l অব্যক্ত শক্তির অনুভূতি করে তুমি নিজেকে এবং সেবাকে সদা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারো l যদিও নির্ধারিত সময় অনুসারে এই বছরের এই সীজন সমাপ্ত হচ্ছে, কিন্তু তোমাদের সমাপ্তি নয়, তোমরা সম্পন্ন হচ্ছ l মিলন হওয়া অর্থাৎ সমান হওয়া l সমান হয়েছ, তাই না ! অতএব, সমাপ্তি নয়, যতই সীজনের সময় সমাপ্ত হয়ে আসুক না কেন তোমরা কিন্তু সমান আর সম্পন্ন হয়ে গেছ l সেইজন্য বাপদাদা চারিদিকের ডবল বিদেশি বাচ্চাদের বতনে দেখে উৎফুল্ল হচ্ছিলেন। কারণ সাকারে তো কেউ আসতে পারে, কেউ নাও আসতে পারে, সেইজন্য তোমরা নিজের চিত্র অথবা পত্র পাঠিয়ে দাও l কিন্তু অব্যক্ত রূপে বাপদাদা চারিদিকের সংগঠনকে সহজে ইমার্জ করতে পারেন l যদি সবাইকে এখানে আমন্ত্রণ জানাতেন, তাহলে আসা-থাকার সব বন্দোবস্ত বা সুযোগ সুবিধা প্রয়োজন হতো l অব্যক্ত বতনে তো এই স্থূল সাধনের কোনও আবশ্যকতা নেই l ওখানে যে শুধু ডবল বিদেশি তা' নয়, বরং সমগ্র ভারতের বাচ্চাদেরও একত্রিত করলে এমন মনে হবে যেন অসীম জগতের অব্যক্ত বতন l ওখানে যত লাখই হোক না কেন, তবুও এমনই মনে হবে যেন ছোট একটা সংগঠন দেখছ ! সেইজন্য আজ বতনে শুধু ডবল বিদেশিদের ইমার্জ করেছিলেন l

বাপদাদা দেখছিলেন যে ভিন্ন ভিন্ন রীতি-রেওয়াজ হওয়া সত্ত্বেও দৃঢ় সঙ্কল্পের সাথে ভালো উন্নতি করেছে l মেজরিটি উৎসাহ-উদ্দীপনায় এগিয়ে চলেছে l তাদের মধ্যে কেউ কেউ খেলা দেখায় ঠিকই, কিন্তু রেজাল্টে বাবা এই প্রভেদ দেখেছেন যে গত বছরও পর্যন্ত তোমরা অনেক কনফিউজড হতে l কিন্তু এই বছরের রেজাল্টে বাবা দেখেছেন অনেক বাচ্চা বিগত বছরের থেকে শক্তিশালী l কিছু কিছু বাচ্চা বাপদাদাকে তাদের খেলা দেখায়, তিনি এমনও দেখেছেন l তোমরা কনফিউজ হওয়ার খেলাও কর, তাই না ! সেই সময়ের ভিডিও তুলে যদি বসে দেখ তাহলে একেবারে ড্রামা বলে তোমাদের মনে হবে l যেমনই হোক, আগের চেয়ে অন্যরকম ছিল l এখন যারা অনুভাবী হয়েছে, তারা গম্ভীর হয়েছে অর্থাৎ পারিপার্শ্বিক প্রভাব থেকে মুক্ত হয়েছে l তাইতো রেজাল্টে বাবা দেখেছেন পড়াশোনার প্রতি তোমাদের অনুরাগ আর স্মরণে থাকার উৎসাহ আলাদা রীতি-রেওয়াজ মান্যতা সহজে বদলে দেয় l ভারতবাসীর পরিবর্তন হওয়া সহজ l তারা দেবতাদের জানে, শাস্ত্রের মিক্স নলেজ আছে তাদের, আর সেইজন্য মান্যতা ভারতবাসীর কাছে ততো নতুন নয় l তবুও, চারিদিকের টোটাল বাচ্চাদের মধ্যে এমন নিশ্চয়বুদ্ধি, অটল, অনড় বাচ্চাদের দেখেছেন l এমন নিশ্চয়বুদ্ধি যে অন্যকেও নিশ্চয়বুদ্ধি বানানোতে এক্সাম্পল হয়ে উঠেছে l প্রবৃত্তিতে থেকেও পাওয়ারফুল সঙ্কল্পের দ্বারা দৃষ্টি, বৃত্তি পরিবর্তন করে নেয় l বাবা সেই বিশেষ রত্নও দেখেছেন l কিছু এমন বাচ্চাও আছে যারা যতই নিজেদের নিয়ম অনুযায়ী অল্পকালের সাধনে, অল্পকালের সুখে নিমজ্জিত ছিল, সেইরকম বাচ্চারাও দিন-রাতের পরিবর্তনে তীব্র পুরুষার্থীদের লাইনে নিরন্তর এগিয়ে চলেছে l যদিও তারা তেমন বেশি নয়, কিন্তু তবুও তারা ভালো l যেমন বাপদাদা 'ঝটকু'র দৃষ্টান্ত দেন, *ঝটকু অর্থাৎ এক ঝটকায় (লহমায়) যে সমর্পিত হয় l* এইরকম মন থেকে ত্যাগের সঙ্কল্প করার পর তোমাদের চোখও পিছনে ফিরে দেখে না, সেইরকমও ছিল l আজ টোটাল রেজাল্ট দেখছিলেন l শক্তিশালী আত্মাদের দেখে বাপদাদা স্মিতহাস্যে ব্রহ্মার দু' ধরণের রচনার গায়ন কীভাবে হয়, সেই সম্বন্ধে অন্তরঙ্গভাবে মনখোলা আলাপচারিতা করছিলেন l এক, ব্রহ্মার মুখ থেকে ব্রাহ্মণ বেরিয়েছে l আর দ্বিতীয় রচনা-ব্রহ্মা সঙ্কল্প দ্বারা সৃষ্টি রচনা করেছেন l সেইজন্য ব্রহ্মাবাবা বহু সময় ধরে শ্রেষ্ঠ শক্তিশালী সঙ্কল্প করেছেন ! যদিও বাপদাদা উভয়েই আছেন, তবুও শিববাবার রচনা বলা যাবে না l শিববংশী বলা হবে l শিবকুমার শিবকুমারী বলা হবে না l ব্রহ্মাকুমার কুমারী বলা হবে l সুতরাং ব্রহ্মা বিশেষ শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্প দ্বারা তোমাদের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থাৎ রচনা রচেছেন l তাইতো ব্রহ্মার এই শক্তিশালী সঙ্কল্পের আহ্বান দ্বারা তোমরা এখানে পৌঁছে গেছ l

সঙ্কল্পের রচনাও কম নয় l সঙ্কল্প শক্তিশালী ছিল, কারণ বিভিন্ন পর্দার আড়াল থেকে বাচ্চাদের নিজের পরিবারে নিয়ে আসার ছিল, শ্রেষ্ঠ শক্তিশালী সঙ্কল্প তোমাদের অনুপ্রাণিত করে কাছাকাছি নিয়ে এসেছে, সেইজন্য এই শক্তিশালী সঙ্কল্পের রচনাও শক্তিশালী l তোমাদের মধ্যে কারও কারও অনুভবও হয়েছে বুদ্ধিকে কেউ যেন বিশেষ প্রেরণা দিয়ে কাছে নিয়ে আসছে l ব্রহ্মার শক্তিশালী সঙ্কল্পের কারণে ব্রহ্মার চিত্র দেখতেই চেতনার অনুভব হয় l চৈতন্য সম্বন্ধের অনুভব দ্বারা তোমরা এগিয়ে যাচ্ছ l তাইতো বাপদাদা রচনা দেখে উৎফুল্ল হচ্ছেন l তোমরা এখন আরো শক্তিশালী রচনার প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিতে থাকবে l ডবল বিদেশিদের সেবার সময় অনুসারে এখন শৈশবের সময় সমাপ্ত হয়েছে l এখন অনুভাবী হয়ে অন্যকেও অনড়, অটল বানানোর অনুভব করার সময় l এখন খেলার সময় সমাপ্ত হয়েছে, এখন সদা শক্তিশালী হয়ে নির্বল আত্মাদের শক্তিশালী বানাও l তোমাদের মধ্যে যদি নির্বলের সংস্কার থাকে তাহলে তোমরা অন্যকেও নির্বল বানাবে l সময় কম আর সর্বাপেক্ষা অধিক সংখ্যক রচনা আসতে চলেছে l এই সংখ্যাতেই খুশি হয়োনা যে অনেক হয়ে গেছে l এখন সংখ্যাবৃদ্ধি তো হওয়ারই আছে l কিন্তু তোমরা যত সময় পালনা নিয়েছ আর যে বিধিতে তোমরা পালনা নিয়েছ, এখন তা' পরিবর্তন হতে থাকবে l

যেমন, যারা গোল্ডেন জুবিলির তারা ৫০ বছরে যে পালনা লাভ করেছে তাদের সঙ্গে সিলভার জুবিলির পালনার তারতম্য তো ছিল, তাই না ! সেইভাবে যারা পরে আসবে তাদের মধ্যে প্রভেদ হতে থাকবে l সুতরাং অল্প সময়ে তাদের শক্তিশালী বানাতে হবে l যেমনই হোক, তাদের শ্রেষ্ঠ ভাবনা তো থাকবেই l কিন্তু তোমাদেরও সবাইকে এইরকম অল্প সময়ের মধ্যে আগুয়ান বাচ্চাদের নিজেদের সম্বন্ধ আর সম্পর্কের সহযোগ দিতে হবে, যাতে তারা সহজে এগিয়ে যাওয়ার প্রবল উৎসাহ আর সাহস পায় l এখন এই সেবা বর্ধিত হতে চলেছে l এখন শুধু নিজের জন্য শক্তি সঞ্চয় করার সময় নয় l বরং নিজের সাথে অন্যদের জন্যও শক্তি এতটাই সঞ্চয় করতে হবে যাতে অন্যদেরও সহযোগ দিতে পারো l শুধু সহযোগ গ্রহণকারী নয়, বরং সহযোগ দানকারী হতে হবে l যাদের দু'বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে এখানে, তাদের ক্ষেত্রে সেইসঙ্গে সেবাধারীরও অনুভব করতে হবে l সেবাধারীর শুধু কোর্স করানো কিংবা ভাষণ দেওয়াই নয়, সেবাধারী অর্থাৎ সদা উৎসাহ-উদ্দীপনার সহযোগ দেওয়া l শক্তিশালী বানানোর সহযোগ দেওয়া l অল্প সময়ে সব সাবজেক্টস পাস করতে হবে l এইরকম তীব্রগতিতে করবে তবে তো গন্তব্যে পৌঁছাবে, তাই না ! সেইজন্য পরস্পরের সহযোগী হতে হবে l পরস্পরের যোগী হয়ো না l একে অন্যের সঙ্গে যোগ শুরু ক'রোনা l সহযোগী আত্মা সদা সহযোগ দ্বারা বাবার সমীপ আর সমান বানায় l নিজসম নয়, বরং অন্যদের বাবা সমান বানাতে হবে l নিজের মধ্যে যা যা দুর্বলতা আছে তা' এখানেই ছেড়ে যাও l নিজেদের সঙ্গে বিদেশে নিয়ে যেও না l শক্তিশালী আত্মা হয়ে শক্তিশালী বানাতে হবে l এই বিশেষ দৃঢ় সঙ্কল্প সদা স্মৃতিতে থাকতে দাও l আচ্ছা !

বাবা চারিদিকের সব বাচ্চাকে বিশেষ স্নেহ সম্পন্ন স্মরণ-স্নেহ দিচ্ছেন l সদা স্নেহী, সদা সহযোগী আর শক্তিশালী এমন শ্রেষ্ঠ আত্মাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l

সবার এই খুশি আছে যে, ভ্যারাইটি হওয়া সত্ত্বেও তোমরা একের হয়ে গেছ, তাই না ! এখন আলাদা আলাদা মত নেই l একই ঈশ্বরীয় মত অনুসরণকারী শ্রেষ্ঠ আত্মা তোমরা l ব্রাহ্মণের ভাষাও একই l তোমরা এক বাবার হয়েছ আর বাবার নলেজ অন্যদেরও দিয়ে সবাইকে এক বাবার বানাতে হবে l কতো বড় শ্রেষ্ঠ পরিবার ! যেখানে যাও, যে দেশেই যাও, তোমাদের এই নেশা থাকে - আমার নিজের ঘর l সেবাস্থান অর্থাৎ নিজের ঘর l এমন কেউই হবে না যার এত ঘর আছে l যদি তোমাদের কেউ জিজ্ঞাসা করে, আপনাদের পরিচিতরা কোথায় কোথায় থাকেন ? তখন বলবে সারা ওয়ার্ল্ডে l যেখানেই যাও, নিজেরই পরিবার l কতো অসীম ! যার অধিকারী হয়ে গেছ তোমরা ! সেবাধারী হয়ে গেছ l সেবাধারী হওয়া অর্থাৎ অধিকারী হওয়া l তোমাদের এই অসীম, আধ্যাত্মিক খুশি থাকে l এখন প্রত্যেক স্থান আপন শক্তিশালী স্থিতি দ্বারা বিস্তারপ্রাপ্ত হচ্ছে l প্রথমে সামান্য পরিশ্রম করার প্রয়োজন হয় l তারপরে যখন কিছু এক্সাম্পল তৈরি হয়, তখন তাদের দেখে অন্যেরা সহজে এগিয়ে যেতে থাকে l

বাপদাদা সব বাচ্চাকে এই শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্পের স্মৃতি মনে করিয়ে দেন, নিজেও সদা স্মরণ আর সেবার উৎসাহ-উদ্দীপনায় থাক, খুশির সাথে তীব্রগতিতে সামনে এগিয়ে চলো এবং অন্যদেরও এইরকমই উৎসাহ-উদ্দীপনায় এগিয়ে নিয়ে যাও, আর চারিদিকের যারা সাকারে এখানে এসে পৌঁছায়নি তাদের চিত্র ও পত্র সব বাবার কাছে পৌঁছেছে l সবার রেসপন্সে বাপদাদা সবাইকে পদমাপদম গুনে হৃদয়ের স্মরণ-স্নেহ দিচ্ছেন l এখন যত উৎসাহ-উদ্দীপনা, খুশি আছে তার থেকে আরও পদম্ গুন বাড়াও l কেউ কেউ নিজের দুর্বলতার সমাচারও লিখেছে, তাদেরকে বাপদাদা বলেন, বাবাকে লেখা অর্থাৎ বাবাকে দিয়েছ l সুতরাং যে জিনিস একবার দিয়ে দেওয়া হয় সেটা নিজের কাছে থাকতে পারে না l যদি দুর্বলতা দিয়ে দাও তাহলে তা' সঙ্কল্পেও এনো না l তৃতীয়তঃ, কখনও নিজের কোনও সংস্কার বা সংগঠনের সংস্কার অথবা বায়ুমন্ডলের অস্থিরতায় নিরুৎসাহ হয়োনা l বাবাকে সদা কম্বাইন্ড রূপে অনুভব কর আর ভগ্নোৎসাহের অবস্থা থেকে শক্তিশালী হয়ে সামনে উড়তে থাক l হিসেব-নিকেশ চুকে যাওয়া অর্থাৎ বোঝা নেমে গেল l খুশির সাথে অতীতের বোঝা নিরন্তর ভস্ম করে যাও l বাপদাদা সবসময় বাচ্চাদের সহযোগী l বেশি ভেবো না l ব্যর্থ ভাবনাও দুর্বল করে দেয় l যার মধ্যে ব্যর্থ সঙ্কল্প বেশি চলে সে দু'চারবার মুরলী পড় l মনন কর, পড়ে যাও l কোন না কোন পয়েন্ট বুদ্ধিতে বসে যাবে l শুদ্ধ সঙ্কল্পের শক্তি নিরন্তর জমা করতে থাকলে তবেই ব্যর্থ শেষ হয়ে যাবে l বুঝেছ !

*বাপদাদার বিশেষ প্রেরণা*

সর্বত্র, দেশে বা বিদেশে এমন অনেক ছোট ছোট জায়গা আছে, এখনকার সময় অনুসারে সাধারণ কিন্তু রত্ন-ভাণ্ডারে সমৃদ্ধ বাচ্চারা আছে l এইরকম অনেকে আছে যারা নিমিত্ত হওয়া বাচ্চাদের তাদের পক্ষ হয়ে সফরে বের হওয়ার আশা দেখছে, দীর্ঘ সময় ধরে l কিন্তু আশা পূর্ণ হচ্ছে না l সেই আশাও বাপদাদা পূরণ করছেন l মহারথী বাচ্চাদের জন্য বিশেষ প্ল্যান বানাও, যাতে চারিদিকে যারা আশার দীপক হয়ে তৈরি রয়েছে, সেই দীপক জ্বালাতে যেতে হবে l আশার দীপক জ্বালানোর জন্য বাপদাদা বিশেষ সময় দিচ্ছেন l তোমরা সব মহারথী মিলে বিভিন্ন এরিয়া ভাগ করে, গ্রামের বাচ্চাদের কাছে যাও, যাদের কাছে সময়ের কারণে যেতে পারনি, তাদের আশা পূরণ করতে হবে l মুখ্য স্থানগুলোতে তো তোমরা যাওই, কারণ তাদের বড়-বড়ো প্রোগ্রাম থাকে, কিন্তু ছোট ছোট স্থানগুলোতে তাদের যথাশক্তি অনুযায়ী যে প্রোগ্রাম করে সেটাই তাদের বড় প্রোগ্রাম l তাদের ভাবনাই সবচেয়ে বড় ফাংশন l বাপদাদার কাছে এইরকম অনেক বাচ্চার বহু দিনের আর্জি ফাইলে পড়ে আছে l এই ফাইলও বাপদাদা সম্পূৰ্ণ করতে চান, মহারথী বাচ্চাদের চক্রবর্তী হওয়ার বিশেষ চান্স দিচ্ছেন l পরে এইরকম ব'লো না - সব জায়গায় দাদী যাবেন l না, যদি একই দাদী সবদিকে যাবেন তাহলে তো পাঁচ বছর লেগে যাবে l আর তারপরে পাঁচ বছর যদি বাপদাদা না আসেন, সেটাতে তোমরা রাজী তো ? বাপদাদার সীজন এখানে হবে, আর দাদী সফরে যাবেন, এটা ভালোও হবে না, সেইজন্য মহারথীদের জন্য প্রোগ্রাম বানানো প্রয়োজন l যেখানে কেউ যায়নি, সেখানে যাওয়ার প্রোগ্রাম বানাও এবং এই বছর বিশেষভাবে তোমরা যেখানেই যাবে, একদিন বাইরের সেবা করো, একদিন ব্রাহ্মণদের জন্য তপস্যার প্রোগ্রাম - এই দুই প্রোগ্রাম অবশ্যই থাকবে l শুধু ফাংশনে গিয়ে দৌড়ঝাঁপ করে ফিরে এসো না l যতটা পারো এমন প্রোগ্রাম বানাও যাতে ব্রাহ্মণদের বিশেষ রিফ্রেশমেন্ট হয় l সেইসঙ্গে এমন প্রোগ্রাম বানাও যার সাথে ভি.আই. পি.দেরও তোমরা সম্পর্কে জুড়তে পারো, কিন্তু প্রোগ্রাম শর্ট হবে l আগে থেকেই এমন প্রোগ্রাম বানাবে যাতে ব্রাহ্মণরাও বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনার শক্তি পেতে পারে আর নির্বিঘ্ন হওয়ার সাহস ও প্রবল উৎসাহে ভরপুর হতে পারে l সেইজন্য বাবা চারিদিকের সফরে বের হওয়ার প্রোগ্রাম বানানোর জন্যও তোমাদের বিশেষ সময় দিচ্ছেন, কারণ সময় অনুসারে সার্কমস্ট্যান্সও বদলাচ্ছে আর বদলাতেও থাকবে l সেইজন্য ফাইলকে নিষ্পন্ন করতে হবে l আচ্ছা l


বরদান:-
আধ্যাত্মিকতার শ্রেষ্ঠ স্থিতি দ্বারা অধ্যাত্ম বাতাবরণ তৈরি করে সহজ পুরুষার্থী ভব*

আধ্যাত্মিকতার স্থিতি দ্বারা নিজের সেবাকেন্দ্রের এমন অধ্যাত্ম বাতাবরণ বানাও যার দ্বারা নিজের এবং যারা আসতে চলেছে সেই আত্মাদের সহজ উন্নতি হতে পারে, কারণ যারাই বাইরে থেকে পরিশ্রান্ত হয়ে আসে, তাদের এক্সট্রা সহযোগের প্রয়োজন হয় l সেইজন্য তাদের আধ্যাত্মিক বায়ুমন্ডলের সহযোগ দাও l সহজ পুরুষার্থী হও আর অন্যকেও বানাও l যারা আসতে চলেছে সেই প্রত্যেক আত্মার অনুভব হতে দাও, এই স্থান সহজেই উন্নতি-প্রাপ্তির স্থান l

স্লোগান:-
বরদানী হয়ে শুভ ভাবনা আর শুভ কামনার বরদান দিতে থাক l*