04.11.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - পবিত্র হয়ে গতি-সদ্গতির যোগ্য হও। পতিত আত্মা গতি-সদ্গতির যোগ্য নয়। অসীম জগতের বাবা তোমাদেরকে অসীম জগতের জন্য যোগ্য বানাচ্ছেন

প্রশ্নঃ -
পিতাব্রতা কাকে বলা হবে? তার মুখ্য লক্ষণগুলি বলো?

উত্তরঃ  
পিতাব্রতা হলো সে, যে সম্পূর্ণরূপে বাবার শ্রীমতে চলে, অশরীরী হওয়ার অভ্যাস করে, অব্যভিচারী স্মরণে থাকে, এইরকম সুপুত্র বাচ্চারাই প্রতিটি কথার ধারণা করতে পারে। সার্ভিসের প্রতি তার চিন্তা সর্বদা চলতে থাকবে। তার বুদ্ধি রূপী পাত্র পবিত্র হতে থাকবে। সে কখনও বাবার থেকে দূরে চলে যাবে না।

গীতঃ-
আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন যিনি...

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা ধন্যবাদ জানায় সেই হিসেবেই, যার যার নিজের পুরুষার্থের ক্রম অনুসারে। সবাই একই প্রকারে ধন্যবাদ জানায় না। যে তেমন নিশ্চয় বুদ্ধির হবে ও মনপ্রাণ দিয়ে বাবার সেবা করবে, কেবল সে প্রেম পূর্বক হাজির হবে। সে হৃদয় থেকে ধন্যবাদ জানাবে বাবাকে। সেই বাচ্চা বলবে-"বাবা সত্যি কি অলৌকিক দক্ষতা আপনার, আমরা এসবের কিছুই জানতাম না আগে। আমাদের কোনও যোগ্যতাই ছিল না-আপনার সাথে মিলিত হবার।" --তা ঠিকই বটে, মায়া সবাইকে অযোগ্য বানিয়েছে। লোকেরা তো জানেই না, স্বর্গ-রাজ্যের উপযুক্ত করে গড়ে তোলেন কে, আর নরকে টেনে আনে কে? -কিন্তু তারা একথা অবশ্যই জানে, গতি আর সদগতির উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে পারেন একমাত্র এই বাবা। উনি ছাড়া আর কেউ যে নেই। লোকেরা নিজেরাই তো তা বলে- "আমরা পতিত, এই দুনিয়াও পতিত।" এমন কি সাধু-সন্ন্যাসীরাও কেউ সঠিক রীতিতে বাবাকে জানে না। তাই বাবা স্বয়ং এখন নিজের পরিচয় জানাচ্ছেন আপন বাচ্চাদেরকে। (অবিনাশী নাটকের) নিয়মানুসারে বাবা এসে স্বয়ং ওনার পরিচয় দেবেন। আর বাবাকে এখানে এসেই বাচ্চাদেরকে পবিত্র বানিয়ে উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হয়। সেখানে (পরমধামে) বসেই যদি পবিত্র বানানো যেত, তবে তো সেখানে বসেই তা করতেন, তবে কি আর তোমরা এত বিশাল সংখ্যক অযোগ্য বাচ্চা হতে?

বাচ্চারা, তোমাদের মধ্যেও পুরুষার্থের ক্রমানুসারে নিশ্চয়বুদ্ধির হও। সঠিক ভাবে বাবার পরিচয় কিভাবে দিতে হবে, তার জন্যও তেমন বুদ্ধির দরকার হয়। শিবায় নমঃ -একথা অবশ্যই বলতে হবে। একমাত্র উনি সবার মাতা ও পিতা, অর্থাৎ যিনি সর্বোচ্চ। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শংকর এনারা তো রচনা। নিশ্চয়ই কোনও না কোনও পিতা এদের রচনা করেছেন, যার জন্য আবার মায়েরও প্রয়োজন। সবারই 'গড-ফাদার' যিনি, তিনি নিশ্চয় একজনই হবেন। নিরাকারকেই 'গড' বলা হয়। রচনাকার চিরকালই এই একজন। তাই, শুরুতে পরিচয় জানাবে সেই 'অল্ফ'-এর। কিভাবে তা যুক্তিযুক্ত পরিচয় দিতে পারবে, তা খুব ভালোভাবে নিজেকেই বুঝে নিতে হবে। ভগবান যিনি জ্ঞানের সাগর, উনি স্বয়ং এসে রাজযোগ শেখান। কিন্তু সেই ভগবান আসলে কে? তাই সর্বাগ্রে 'অল্ফ'-এর পরিচয় দিতে হবে। বাবা (পরমাত্মা) যেমন নিরাকার, আত্মাও তেমনি নিরাকার। সেই নিরাকার বাবা এসেই বি.কে. বাচ্চাদের অবিনাশী উত্তরাধিকার দিয়ে থাকেন। প্রয়োজনে অন্যের সাহায্য নিয়েও বোঝাতে হবে। তা না হলে, রাজাদেরও রাজা হবে কিভাবে? সত্যযুগী রাজ্য কে স্থাপন করেছিল? স্বর্গ-রাজ্যের রচয়িতা কে? তিনি নিশ্চয়ই 'হেভেনলী গড-ফাদার'-ই হবেন। প্রকৃত অর্থে তিনি নিরাকারই হবেন নিশ্চয়। তাই শুরুতেই বাবার পরিচয় জানানো উচিত। কৃষ্ণ আর ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শংকরকে কিন্তু পিতা বা ফাদার বলা যায় না। তাদেরকে তো রচনা করা হয় । যখন সূক্ষ্মবতন-বাসীদেরও রচনা করা হয়, তারাও হলো ক্রিয়েশন, তাহলে স্থুল-বতন-বাসীদের কি করে ভগবান বলা যাবে । বলা হয়ে থাকে দেবতায় নমঃ, আর তাঁর উদ্দেশ্যে হলো 'শিবায় নমঃ'- এটাই হলো মুখ্য কথা। কিন্তু প্রদর্শনীতে তো আর বারে-বারে একই কথা বোঝাতে যাবে না। তাই প্রত্যেককেই খুব সুন্দর রীতিতে তা বোঝাতে হবে। তাদের মধ্যে যেন সেই নিশ্চয় আসে। যে আসুক, শুরুতেই তাকে বলবে - আসুন, আপনাকে বাবার সাক্ষাৎকার করাই। ফাদারের থেকেই আপনি অবিনাশী উত্তরাধিকার পাবেন। ফাদারই গীতাতে রাজযোগ শিখিয়েছেন। কৃষ্ণ নয়। বাবা,ই হলেন গীতার ভগবান। নম্বর ওয়ান কথা হলো এটাই। শ্রীকৃষ্ণ 'ভগবান উবাচ' নয়, 'রুদ্র ভগবান উবাচ', বা 'সোমনাথ শিব ভগবানুবাচ' বলা হয়। প্রতিটি মানুষেরই তাদের নিজেদের জীবন কাহিনী ভিন্ন-ভিন্ন। একের সাথে অন্যের (হুবহু) কোনও মিল নেই। তাই যে কেউ আসুক না কেন, শুরুতে এই কথাগুলি বোঝাতে হবে । মূল এই কথাটিকেই বোঝাতে হবে - পরমপিতা পরমাত্মার অক্যুপেশন (কর্ম-কর্তব্য) গুলি কি কি আর বাচ্চাদের কি কি। উনি হলেন হেভেনলী গড-ফাদার আর ওনার বাচ্চারা হলো হেভেনলী প্রিন্স! এটা একেবারে ক্লিয়ারলি বোঝাতে হবে।মুখ্য হলো গীতা, তার আধারেই অন্যান্য শাস্ত্র রচিত হয়েছে। সর্বশাস্ত্রের শিরোমনি হলো গীতা। সর্ব-শাস্ত্রের মা 'শিরোমনি ভগবৎ গীতা'। লোকেরা জানতে চায়, তোমরা বি.কে.-রা কি শাস্ত্র, বেদ ইত্যাদিকে মানো? আরে, প্রত্যেকেই তো নিজের ধর্মের শাস্ত্রকে মানবে। কিন্তু তাই বলে সব ধর্মের শাস্ত্রকে তো আর মানবে না। হ্যাঁ, সকল শাস্ত্র আছে ঠিকই। কিন্তু শাস্ত্রের জ্ঞানের চাইতে মুখ্য বিষয় হলো বাবাকে চেনা-জানা। যার থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার পাওয়া যায়। উত্তরাধিকার শাস্ত্রের থেকে পাওয়া যাবে না। উত্তরাধিকার পাওয়া যাবে বাবার থেকে। বাবা যে নলেজ দেন, যে অবিনাশী উত্তরাধিকার দেন, তার পুস্তক বানানো হয়েছে। সবার আগে তো গীতার প্রসঙ্গ ওঠাতে হবে।

গীতার ভগবান কে? সেখানেই রাজযোগের কথা এসে যায়। রাজযোগ অবশ্যই নতুন দুনিয়ার জন্যই হবে। ভগবান এসে পতিত তো বানাবেন না। তিনি তো সবাইকে পবিত্র মহারাজা বানাবেন। সবার আগে বাবার পরিচয় দাও আর এটা লেখাও - অবশ্যই, আমি এই বিষয়ে নিশ্চিত যে, ইনি হলেন আমাদের বাবা। প্রথমে বোঝাতে হবে যে - শিবায় নমঃ, তুমি মাতা-পিতা... এইসকল মহিমাও হল সেই বাবার-ই। ভগবানকে ভক্তির ফলও এখানেই এসে দিতে হয়। ভক্তির ফল কোনটি, এটা তোমরা বুঝে গেছো। যে অনেক ভক্তি করেছে, সে-ই ফল প্রাপ্ত করবে। এইসব কথা কোনো শাস্ত্রে নেই। তোমাদের মধ্যেও নম্বরের ক্রমে পুরুষার্থ অনুসারে সবাই জানো। বোঝানো হয় যে - তোমাদের অসীমের (পারলৌকিক) মাতা-পিতা হলেন তিনি। জগত অম্বা, জগত পিতাও গাওয়া হয়ে থাকে। আদম আর ইভ্ কে তো মানুষ বলে মনে করে। ইভ্-কে মা বলে দেয়। রাইট ওয়ে-তে (সঠিক পদ্ধতিতে) ইভ্ কে? এটা কেউ জানে না। বাবা বসে বোঝাচ্ছেন। হ্যাঁ, কেউ ঝট্ করে তো বুঝতে পারবে না। পড়াশোনা করতে সময় লাগে। পড়াশোনা করে ব্যারিষ্টার হয়ে যায়। এইম্ অবজেক্ট অবশ্যই আছে, দেবতা হতে হবে, তাই সবার আগে বাবার পরিচয় দিতে হবে। গাইতেও থাকে - তুমি মাতা-পিতা আবার এটাও বলে যে - হে পতিত-পাবন এসো। তো পতিত দুনিয়া আর পাবন দুনিয়া কাকে বলা যায়, কলিযুগ কি এখনও ৪০ হাজার বছর চলবে? আচ্ছা, যদিও পবিত্র করেন সেই এক বাবা, তাই না। হেভেনের স্থাপন কর্তা হলেন গড্ ফাদার। শ্রীকৃষ্ণ তো হতে পারে না, সে তো হেভেনের উত্তরাধিকার গ্রহণ করে। শ্রীকৃষ্ণ হল হেভেনের প্রিন্স আর শিববাবা হলেন হেভেনের ক্রিয়েটার। শ্রীকৃষ্ণ হল ক্রিয়েশন, ফার্স্ট প্রিন্স। এটাও ক্লিয়ার করে বড়-বড় অক্ষরে লিখতে হবে, তাহলে তোমাদের বোঝাতে সহজ হবে। রচয়িতা আর রচনার বিষয়ে তারা বুঝতে পারবে। ক্রিয়েটার-ই হলেন নলেজফুল। তিনিই রাজযোগ শেখাচ্ছেন। তিনি কোনো রাজা নন, তিনি রাজযোগ শিখিয়ে রাজাদেরও রাজা বানাচ্ছেন। ভগবান রাজযোগ শিখিয়েছেন, শ্রীকৃষ্ণ রাজপদ পেয়েছেন আবার হারিয়েছেন, পুনরায় তাকেই আবার প্রাপ্ত করতে হবে। চিত্র দেখিয়ে খুব ভালোভাবে বোঝানো যেতে পারে। বাবার অক্যুপেশন অবশ্যই জানাতে হবে। গীতাতে শ্রীকৃষ্ণের নাম দেওয়ার কারণে ভারত কড়িতুল্য হয়ে গেছে। শিববাবাকে জানার ফলে ভারত পুনরায় হিরেতুল্য হয়ে উঠছে। কিন্তু সেটা তখনই সম্ভব, যখন বুদ্ধিতে বসবে যে - ইনি হলেন আমাদের বাবা। বাবা-ই সর্বপ্রথম নতুন স্বর্গের দুনিয়া রচনা করেন। এখন তো হল পুরানো দুনিয়া। গীতাতে রাজযোগের উল্লেখ আছে। বিদেশীরাও রাজযোগ শিখতে চায়। গীতা থেকেই শিখেছে। এখন তোমরা জেনে গেছো, চেষ্টা করছো অন্যদেরকেও বোঝানোর, যে - ফাদার কে? তিনি সর্বব্যাপী নন্। যদি সর্বব্যাপী হন, তাহলে রাজযোগ কিভাবে শেখাবেন? এই মিস্টেক (ভুল)- এর উপর খুব চিন্তন করতে হবে। যারা সেবাতে তৎপর থাকবে তাদেরই এই চিন্তন চলবে। ধারণাও তখন হবে যখন বাবার শ্রীমতে চলবে, অশরীরী ভব, মন্মনা ভব হয়ে থাকবে, পতিব্রতা বা পিতাব্রতা হবে অথবা সুপুত্র বাচ্চা হবে। বাবা আদেশ করছেন - স্মরণ করার সময়সীমা বৃদ্ধি করতে থকো। দেহ-অভিমানে আসার কারণে তোমরা স্মরণ করতে পারো না আর বুদ্ধিও পবিত্র হয় না। বাঘিনীর দুধের জন্য সোনার পাত্র চাই। এক্ষেত্রেও পিতাব্রতা পাত্র চাই। অব্যভিচারী পিতাব্রতা খুব কম সংখ্যকই আছে। কেউ তো আবার কিছুই জানে না। যেন ছোটো বাচ্চা। যদিও এখানে বসে আছে, কিন্তু কিছুই বুঝতে পারছে না। যেরকম, বাচ্চাদের ছোটোবেলাতেই বিবাহ দিয়ে দেয়। কোলে বাচ্চা নিয়ে বিয়ে দেওয়া হয়। একে-অপরের বন্ধু হয়। অনেক প্রেম থাকলে তো শীঘ্রই বিয়ে-শাদী দিয়ে দেয়, তো এটাও এইরকম। বিয়ে করেছে কিন্তু কিছুই বুঝতে পারে না। আমরা মাম্মা-বাবার হয়েছি, তাঁর থেকে উত্তরাধিকার নিতে হবে। কিছুই জানে না। আশ্চর্যের বিষয়, তাই না। ৫-৬ বছর বাবার কাছে থেকেও বাবাকে অথবা পতিকে ত্যাগ করে চলে যায়। মায়া অত্যন্ত ব্যতিব্যস্ত করে।

তো সর্ব প্রথমে শোনাতে হবে - শিবায় নমঃ। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শংকরেরও রচয়িতা হলেন ইনি। জ্ঞানের সাগর হলেন এই শিব। তো এখন কি করা উচিৎ ? ত্রিমূর্তির পাশে যে ফাঁকা জায়গা আছে, সেখানে লিখতে হবে যে শিববাবা আর শ্রীকৃষ্ণ দুজনের অক্যুপেশনই হল আলাদা। প্রথম কথা, এটা যখন বোঝাবে, তখন এদের ভাগ্য খুলবে। এই পড়াশোনা হল ভবিষ্যতের জন্য। এইরকম পড়া অন্য কোথাও হয় না। শাস্ত্র পড়ে এই অনুভব হতে পারে না। তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে আমরা সত্যযুগ আদির জন্য পড়াশোনা করছি। পড়াশোনা কম্প্লিট হলে আমাদের ফাইনাল পরীক্ষা হবে। তারপর সেখানে গিয়ে রাজ্য করবে। যারা গীতা পাঠ করে শোনায়, তারা এইসব কথা বোঝাতে পারবে না। প্রথমে তো বাবাকে জানতে হবে। বাবার থেকে উত্তরাধিকার নিতে হবে। বাবা-ই হলেন ত্রিকালদর্শী, দুনিয়াতে আর কোনও মানুষ ত্রিকালদর্শী হতে পারে না। বাস্তবে যারা পূজ্য ছিল, তারাই পুনরায় পূজারী হয়। ভক্তিও তোমরাই করেছো, এটা আর কেউ জানেনা। যারা ভক্তি করেছিল, তারাই প্রথম নম্বরে ব্রহ্মা এবং ব্রহ্মা মুখ বংশাবলীতে আসে। এরাই আবার পূজ্য হয়। প্রথম নম্বরের পূজ্যই আবার প্রথম নম্বরের পূজারী হয়, পুনরায় পূজ্য হবে। ভক্তির ফলও প্রথমে তারাই প্রাপ্ত করে। ব্রাহ্মণই পড়াশোনা করে দেবতা হয় - এটা কোথাও লেখা নেই। এটা তো বোঝা গেছে যে ভীষ্ম পিতামহ প্রমুখদের প্রতি জ্ঞান বাণ চালনাকারী অন্য কেউ আছে। এটা তো অবশ্যই বুঝতে পারে যে কোনো শক্তি নিশ্চই আছে। এখনও বলতে থাকে যে এমন কোনও শক্তি আছে যেটা এদেরকে শেখাচ্ছে।

বাবা দেখছেন - এইসব হল আমার বাচ্চা। এই চোখ দিয়েই দেখবেন। যেরকম পিন্ডি (শ্রাদ্ধ) খাওয়ায়, তো আত্মা আসে আর দেখে - এ হল অমুক। খেলে তো চোখ ইত্যাদি তার মতো হয়ে যাবে। টেম্পরারী লোন নেয়। এইসব ভারতেই হয়। প্রাচীন ভারতে সর্ব প্রথমে রাধা-কৃষ্ণ আসবে। যারা তাদেরকে জন্ম দেবেন, তাদেরকে শ্রেষ্ঠ বলে গণনা করা হবে না। তারা তো কম নম্বরে পাশ হয়েছেন তাই না। মহিমা শুরু হয় শ্রীকৃষ্ণের থেকে। রাধা-কৃষ্ণ দুজন আলাদা আলাদা রাজধানীতে আসে। তাদের মা-বাবার থেকে বাচ্চার নাম অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করবে। কতোই না ওয়ান্ডারফুল বিষয়। গুপ্ত খুশী থাকে। বাবা বলছেন - আমি সাধারণ তনে (শরীরে) আসি। এতো মাতাদেরকে দেখাশোনা করতে হবে এইজন্য সাধারণ শরীর ধারণ করেছি, যার দ্বারা খরচা চলতে থাকে। এটা হল শিব বাবার ভাণ্ডার। ভোলা ভাণ্ডারী, অবিনাশী জ্ঞান রত্নেরও আছে আবার অ্যাডাপ্টেড (দত্তক নেওয়া) বাচ্চারাও আছে, তাদেরকেও দেখাশোনা করতে হয়। এটা তো বাচ্চারাই জানে।

প্রথমে যখন শুরু করবে তখন বলো - শিব ভগবানুবাচ - তিনি হলেন সকলের রচয়িতা পুনরায় শ্রীকৃষ্ণকে জ্ঞান সাগর, গড্ ফাদার কিভাবে বলে থাকে? লেখা এমনই ক্লিয়ার হবে যেটা পড়লে ভালোভাবে বুদ্ধিতে ধারণ হয়ে যাবে। কারো কারো তো দুই তিন বর্ষ লেগে যায় বুঝতে। ভগবানকে এসে ভক্তির ফল দিতে হয়। ব্রহ্মার দ্বারা বাবা যজ্ঞ রচনা করেছেন। ব্রাহ্মণদেরকে পড়িয়েছেন, ব্রাহ্মণ থেকে দেবতা বানিয়েছেন। পুনরায় নিচে আসতেই হবে। বড়ই সুন্দর বোঝানো। প্রথমে এটা প্রমাণ করে বলতে হবে যে - শ্রীকৃষ্ণ হলেন হেবেনলি প্রিন্স, হেবেনলি গড্ ফাদার নন। সর্বব্যাপীর জ্ঞানের দ্বারা একদমই তমোপ্রধান হয়ে গেছে। যিনি বাদশাহী দিয়েছেন, তাঁকেই ভুলে গেছে। প্রত্যেক কল্পে বাবা রাজ্য প্রদান করেন আর আমরা পুনরায় বাবাকে ভুলে যাই। বড়ই ওয়ান্ডার লাগে। সারাদিন খুশীতে নাচতে হবে। বাবা আমাকে বিশ্বের মালিক বানাচ্ছেন। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) অব্যভিচারী পিতাব্রতা হয়ে থাকতে হবে। স্মরণ করার সময়সীমা বৃদ্ধি করে বুদ্ধিকে পবিত্র বানাতে হবে।

২ ) যুক্তিযুক্ত ভাবে বাবার পরিচয় দেওয়ার বিধি বের করতে হবে। বিচার সাগর মন্থন করে 'অল্ফ'-কে প্রমাণ (সিদ্ধ) করতে হবে। নিশ্চয়বুদ্ধি হয়ে সেবা করতে হবে।

বরদান:-
স্ব-পরিবর্তনের দ্বারা বিশ্ব পরিবর্তনের নিমিত্ত হয়ে শ্রেষ্ঠ সেবাধারী ভব

তোমরা বাচ্চারা স্ব-পরিবর্তনের দ্বারা বিশ্ব পরিবর্তন করার কন্ট্র্যাক্ট নিয়েছো। স্ব-পরিবর্তনই হলো বিশ্ব পরিবর্তনের আধার। স্ব-পরিবর্তন না করে কোনো আত্মার প্রতি যতই পরিশ্রম করো না কেন, পরিবর্তন হবে না। কারণ বর্তমান সময়ে কেবল শুনে পরিবর্তন হয় না, দেখে পরিবর্তন হয়। বন্ধনে জড়ানোর জন্য যদি কেউ আসে, তোমাদের জীবনে পরিবর্তন দেখে সে-ও বদলে যাবে। সুতরাং, করে দেখাও, পরিবর্তন হয়ে দেখানোই হলো শ্রেষ্ঠ সেবাধারী হওয়া।

স্লোগান:-
সময়, সংকল্প আর বাণীর এনার্জিকে ওয়েষ্ট (ব্যর্থ) থেকে বেষ্ট - এ পরিবর্তন করে দাও তাহলে শক্তিশালী হয়ে যাবে।