05-01-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 30-03-85 মধুবন


তিন-তিন বিষয়ের পাঠ


আজ বাপদাদা তাঁর সদাসাথী বাচ্চাদের সাথে মিলিত হতে এসেছেন l বাচ্চারাই বাবার সদাসাথী, সহযোগী, কারণ তারা অতি স্নেহী l যেখানে স্নেহ থাকে, তোমরা তাঁরই সদা সহযোগী সাথী হও l বাচ্চারা স্নেহী হওয়ার কারণে বাবা বাচ্চাদের ছাড়া কোন কার্য করতে পারেন না l আর বাচ্চারা বাবাকে ছাড়া কোন কার্য করতে পারে না l সেইজন্য স্থাপনার আদি থেকে বাবা ব্রহ্মার সাথে ব্রাহ্মণ বাচ্চাদেরও রচনা করেন l একলা ব্রহ্মাকে তিনি রচনা করেননি ; ব্রহ্মার সাথে ব্রাহ্মণ বাচ্চারাও জন্ম নিয়েছে l কেন ? বাচ্চারা সহযোগী সাথী, সেইজন্য যখন বাবার জন্ম-জয়ন্তী উদযাপন করো, সেই সময় তোমরা কি বলো ? শিব জয়ন্তী তথা ব্রহ্মা জয়ন্তী তথা ব্রাহ্মণদের জয়ন্তী l সুতরাং বাপদাদা এবং বাচ্চারা, একসাথে সকলেরই আদি রচনা হয়েছে আর আদি থেকেই বাবার সহযোগী সাথী হয়েছ l সেইজন্য বাবা নিজের সহযোগী সাথীদের সাথে মিলিত হচ্ছেন l সাথী অর্থাৎ যে প্রতি পদে, প্রতি সঙ্কল্পে, কথায় সাহচর্যের দায়িত্ব পরিপূর্ণ করে l ফলো করা অর্থাৎ সাহচর্যের দায়িত্ব পরিপূর্ণ করা l এইভাবে যারা প্রতি পদে সাথে থাকার দায়িত্ব পালন করে অর্থাৎ ফলো ফাদার করে তারা প্রকৃত সাথী, অবিনাশী সাথী l যারা প্রকৃত সাথী তাদের প্রত্যেক কদম স্বতঃই বাবার সমান চলতে থাকে l কোনরকম এদিক-ওদিক হয় না l প্রকৃত সাথীকে পরিশ্রম করতে হয় না, তারা এইভাবে পদক্ষেপ নিক বা ওইভাবে পদক্ষেপ নিক, বাবার কদমে কদম রেখে, নিজে থেকেই তোমরা অন্য কোথাও পদক্ষেপ করতে পার না l এমন প্রকৃত সাথী বাচ্চাদের মনে, বুদ্ধিতে, হৃদয়ে কি সমাহিত হয়ে আছে ? আমি বাবার, বাবা আমার l তোমার বুদ্ধিতে তুমি অবগত আছ, বাবার বেহদ- ভান্ডারের যে উত্তরাধিকার, তা' আমার l হৃদয়ে কেবলই হৃদয়েশ্বর (দিলারাম) আর হৃদয়, আর কিছু হতে পারে না l যেহেতু, বাবাই তোমাদের স্মরণে সমাহিত হয়ে আছেন, তখন, যেমন তোমাদের স্মৃতি তেমন স্থিতি এবং কর্ম তদনুসারে নিজে থেকেই হয় l যেমন ভক্তিমার্গেও বিশ্বস্ততা দেখানোর জন্য ভক্ত বলে, দেখ আমার হৃদয়ে কে আছেন ! তোমরা সেইরকম বলো না, কিন্তু তোমাদের হৃদয়ের মধ্য দিয়ে প্রত্যেকে স্বতঃই হৃদয়েশ্বরকে অনুভব করে অর্থাৎ দেখে l সুতরাং প্রকৃত সাথী প্রতিটা পদক্ষেপে বাবাসম মাস্টার সর্বশক্তিমান l

আজ বাপদাদা বাচ্চাদের অভিনন্দিত করতে এসেছেন l সহযোগী-সাথী বাচ্চারা সকলেই নিজ নিজ উদ্যম-উৎসাহের সাথে সেবার ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে l প্রত্যেকের মনে একই দৃঢ় সঙ্কল্প, বিজয় পতাকা উত্তোলন করতেই হবে l সমগ্র বিশ্বে এক রূহানী বাবার প্রত্যক্ষতার ধ্বজা উত্তোলন হবে, যে উঁচু পতাকার নিচে সারা বিশ্বের আত্মারা এই গীত গাইবে, একেশ্বর পিতা (বাবা) এসে গেছেন l যেমন এখন তোমরা পতাকা উত্তোলন কর তো সবাই পতাকার নিচে গীত গাও, আর তারপরে কি হয় ? পতাকা উত্তোলিত হলে সবার ওপরে পুষ্পবৃষ্টি হয় l একইভাবে, সবার হৃদয়ে এই গীত নিজে থেকেই বের হবে, *সকলের বাবা এক l সকলের সদগতি দাতা এক বাবা l* এইরকম গীত গাইতেই তোমরা অবিনাশী সুখ শান্তির বর্ষণ, পুষ্প-বরিষণ সম অনুভব করবে l বাবা বলার সাথে সাথে তোমরা উত্তরাধিকারের অনুভব করো l সুতরাং সবার মনে এই একই উৎসাহ-উদ্দীপনা l সেইজন্য বাচ্চাদের সকলের হৃদয়ের প্রবল উৎসাহ উদ্দীপনা দেখে বাপদাদা বাচ্চাদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন l তোমাদের বিদায়সম্ভাষণ তো করবেন না, তাই না ! অভিনন্দন ! সঙ্গমযুগের প্রতিটা মুহূর্ত অভিনন্দনের সময় l সুতরাং মনের নিষ্ঠা, সেবার প্রতি একনিষ্ঠ মনোভাবের জন্য বাপদাদা সব বাচ্চাকে অভিনন্দিত করছেন l তোমাদের সকলের সেবাতে সদা উন্নতি করার প্রবল আগ্রহ আছে l এইরকম কেউ হবে না, সেবাতে যার অগ্রচালিত হওয়ার উৎসাহ নেই l যদি তোমাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা না থাকত, তাহলে এখানে কীভাবে আসতে ! এও তো উৎসাহেরই লক্ষণ, নয় কি ! তোমাদের উদ্যম আছে, উৎসাহ আছে আর সদা থাকবে l উৎসাহ-উদ্দীপনায় অগ্রচালিত হওয়ার সাথে সাথে তোমরা সবাই সেবাতে সদা নির্বিঘ্ন থাক ? উৎসাহ-উদ্দীপনা তো খুব ভালো, কিন্তু নির্বিঘ্ন সেবা আর বিঘ্নকে পরাস্ত করতে করতে সেবা, এই দুইয়ের মধ্যে তারতম্য আছে l নির্বিঘ্ন অর্থাৎ তোমরা না কারও জন্য বিঘ্নরূপ হও আর না কোনরকম বিঘ্ন স্বরূপে তোমরা ঘাবড়ে যাও l এই বিশেষত্ব উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে অনুভব কর ? নাকি বিঘ্ন আসে ? এক তো বিঘ্ন পাঠ পড়াতে আসে, দ্বিতীয় হলো, বিঘ্ন তোমাদের সঞ্চালিত করতে আসে l যদি পাঠ পড়ে দৃঢ়চেতা হয়ে যাও, তবে সেই বিঘ্ন একনিষ্ঠায় পরিবর্তন হয়ে যায় l যদি বিঘ্নে ভীত হয়ে যাও, তবে রেজিস্টারে দাগ পড়ে যায়, সুতরাং ফারাক তো হলো, তাই না !

ব্রাহ্মণ হওয়া অর্থাৎ মায়াকে চ্যালেঞ্জ করা, 'বিঘ্ন তুমি যতই আসো, আমি বিজয়ী l তুমি কিছু করতে পারবে না l' প্রথমে মায়ার ফ্রেন্ডস্ ছিলে, এখন তোমরা চ্যালেঞ্জ করে বলো, আমরা মায়াজিত হব l তোমরা তো চ্যালেঞ্জ কর, তাই না ! নয়তো, কা'র ওপর তোমরা মায়া- বিজয়ী হবে ? নিজেদের ওপর ? যখন তোমরা বিজয়ী রত্ন হও, তখন মায়ার ওপরেই তো বিজয় প্রাপ্ত কর, তাই না ? বিজয় মালাতে গ্রথিত হও, পূজিত হও l সুতরাং মায়াজিত হওয়া অর্থাৎ বিজয়ী হওয়া l ব্রাহ্মণ হওয়া অর্থাৎ মায়াকে চ্যালেঞ্জ করা l যেমনই হোক, যারা মায়াকে চ্যালেঞ্জ করে তারা খেলা হিসেবে গ্রাহ্য করে, সেইজন্য সে আসে আর চলে যায় l দূর থেকে জেনে, তাকে দূর থেকেই বিতাড়ন কর l টাইম নষ্ট কর না l সেবায় তোমরা সবাই খুব ভালো l সেবার সাথে সাথে বিঘ্ন-রহিত সেবার রেকর্ড হতে দাও l যেমন আদি থেকে পবিত্রতার রেকর্ড বজায় রাখ l এমন কে আছে যে আদি থেকে এখন পর্যন্ত অপবিত্র হয়নি ? তাহলে, এই বিশেষত্ব তোমরা দেখ, নয় কি ? এই এক পবিত্রতার বিষয়ে কেউ শুধু পাস উইথ অনার এমন হবে না তো, সেইজন্য তোমরা দেখতে পার সেবায়, স্ব-স্থিতিতে, সম্পর্ক-সম্বন্ধে, স্মরণে, সবার মধ্যে কে কে এখনো পর্যন্ত অনড় আছে, চাঞ্চল্য বোধ হয়নি, বিঘ্ন দ্বারা বশীভূত হয়নি ! তোমাদের বলা হয়েছিল,না তোমরা বিঘ্নবশ হবে, না তোমরা নিজেরা কারও সামনে বিঘ্নরূপ হবে l এরও মার্কস সঞ্চয় হয় l এক পিওরিটি, আরেক অব্যাভিচারী স্মরণ l স্মরণের মধ্যে যেন সামান্যতম কোনও বিঘ্ন না হয় l এই নিয়মে সেবায় সদা নিজেকে বিঘ্নমুক্ত রাখ এবং তোমার গুণের সাথে সদা সন্তুষ্ট থাক আর অন্যদের সন্তুষ্টি বিধান কর l *সন্তুষ্টতার গুণ সব গুণের ধারণার দর্পণ* l সুতরাং গুণে নিজের থেকে এবং অন্যদের থেকে তোমাদের সন্তুষ্টতার সার্টিফিকেট প্রাপ্ত করতে হবে l এটাই পাস উইথ অনার হওয়ার লক্ষণ, অষ্ট রত্নের লক্ষণ l সবকিছুতে তোমরা নম্বরপ্রাপ্ত হও নাকি শুধু এক বিষয়েই ঠিক ! সেবায় আমি ভালো, বাপদাদা তো অভিনন্দন জানাচ্ছেন l তোমাদের আটের মধ্যে হতে হবে, ইষ্ট হতে হবে l যদি অষ্ট মধ্যে হও, তবে বিশেষ ইষ্ট দেবদেবীদের মধ্যেও এমনই মহান হবে l সেইজন্য তিনটে বিষয় সারা বছর স্মরণ রেখ আর নিজেদের চেক কর l এই তিনটে বিষয়ই যদি তোমাদের মধ্যে এখনও থাকে, এমনকি সঙ্কল্প মাত্র হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলো বিদায় দিয়ে দাও l আজ অভিনন্দন জানানোর দিন, তাই না ! যখন ছুটি নাও তো বিদায়ের সময় তোমরা কি কর ? (মিছরি, বাদাম, এলাচ দেওয়া হয়) তার মধ্যে তিনটে জিনিস থাকে l তাহলে বাপদাদাকেও তিনটে জিনিস দেবে, তাই না ? এটা বিদায় নয় অভিনন্দন, তাইতো মুখ মিষ্টি করাও l সুতরাং এই তিন জিনিস এখানে কেন দেওয়া হয় ? যাতে তাড়াতাড়ি ফিরে আসার স্মরণ থাকে l আজ বাপদাদাও তিন বিষয়ের কথা তোমাদের বলছেন, যেগুলো সেবাতে কখনও কখনও বিঘ্নরূপ হয় l সেইজন্য বাপদাদা তিনটি বিষয়ের প্রতি আবারও একবার অ্যাটেনশন দিতে বলছেন, যে অ্যাটেনশনের মাধ্যমে নিজে থেকেই পাস উইথ অনার হয়েই যাবে l

১) - সীমিত (হদের) কোনো কিছুর প্রতি কোনো রকম আকর্ষণ যেন না থাকে l বাবার প্রতি আকর্ষণ সেটা একটা ব্যাপার, কিন্তু জাগতিক কোনো কিছুর প্রতি কোনও আকর্ষণ হতে দিও না l

২) - নিজের প্রতি নিজের বা অন্য কারও জন্য কোনো রকম দুশ্চিন্তা যেন না হয় l মোহ থাকবে না l মায়ার সাথে লড়াইয়ের পরিবর্তে নিজেদের মধ্যে কোনরকম দ্বন্দ্ব যেন না হয় l

৩) - কোনও রকম দুর্বল স্বভাব যেন না হয় l

মোহ, দুশ্চিন্তা আর দুর্বল স্বভাব l বাস্তবে, স্বভাব শব্দ খুব ভালো l স্বভাব অর্থাৎ স্ব-এর ভাব l স্ব-কে শ্রেষ্ঠ বলা হয় l শ্রেষ্ঠ ভাব, স্ব-এর ভাব, আত্ম অভিমান l কিন্তু ভাব-স্বভাব শব্দ তোমরা অনেক বলো, তাই না ! সুতরাং এটা হলো দুর্বল স্বভাব l যা সময় সময়ে উড়তি কলার ক্ষেত্রে বিঘ্নরূপ হয়ে যায় l রয়্যাল রূপে তোমরা যেটা বলো, আমার নেচার এমনই l তোমাদের নেচার শ্রেষ্ঠ হলে তা' বাবা সমান হয় l যদি বিঘ্নরূপ হয় তবে তা' দুর্বল স্বভাব l তাহলে তোমরা তিন শব্দের অর্থ জানো, তাই না ! অনেক রকমের উৎকণ্ঠা আর উৎকন্ঠার কারণ 'আমিত্ব ভাব l' আমি এই করেছি ! আমি এটা করতে পারি ! আমি একাই করব ! এই যে আমিত্ব ভাব, এটাই ব্যাকুলতা তৈরি করে l এই কারণে সেবাতে কোথাও কোথাও যেখানে তীব্রগতি হওয়া উচিত, তা' তীব্রতার পরিবর্তে ধীরগতি হয়ে যায় l ক্রমাগত তোমরা চলছ, কিন্তু স্পীড হতে পারে না l স্পীড তীব্র করার আধার - অন্যকে অগ্রচালিত হতে দেখা এবং সদা তাদের উন্নতির দিকে এগিয়ে দেওয়াতেই নিজের এগিয়ে যাওয়া l তোমরা বুঝতে পার সেবাতে কি আমিত্ব ভাব আসে ? এই আমিত্ব ভাবই তীব্রগতি সমাপ্ত করে দেয় l বুঝেছ !

এই তিনটে জিনিস তো দিয়ে যাবে, নাকি সাথে করে আবার নিয়ে যাবে ! একেই বলে ভাগ্য, যা তোমরা ত্যাগের দ্বারা লাভ করেছ l সদা ভাগ করে খাও আর বাড়াও l এটা ত্যাগের ভাগ্য লাভ করেছ l এই ত্যাগের ভাগ্যই সেবার সাধন l যতই হোক, এই ভাগ্য যদি 'আমিত্ব ভাবে'র মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রাখ, তবে তা' বাড়বে না l অন্যদের সহযোগী বানিয়ে সদা ত্যাগের ভাগ্য-ফল তাদের সাথে ভাগ করে এগিয়ে চলো l শুধু 'আমি' 'আমি' ক'রনা, অন্যদের সাথেও ভাগ করে নাও l পরস্পরের সাথে ভাগ করে হাতে হাত মিলিয়ে অগ্রচালিত হও l এখন সেবার মধ্যেও এই ভাইব্রেশন দৃষ্টিগোচর হয় l সুতরাং এর মধ্যে দরাজদিল অর্থাৎ উদারচেতা হয়ে যাও l একেই বলে, যে উদ্যোগী সেই অর্জুন l একে অপরকে দেখ না l 'এও তো এইরকমই করে, না ! এইরকম তো সবসময়ই হয়', কিন্তু 'আমি যেন অন্যের বিশেষত্ব দেখানোর নিমিত্ত হই l' ব্রহ্মা বাবার বিশেষত্ব কি ছিল ? সদা বচ্চাদের সামনে রেখেছেন l ''আমার থেকে বাচ্চারা চতুর l বাচ্চারা করবে l" এমনকি তিনি তাঁর ত্যাগের মাধ্যমে পাওয়া ভাগ্যকেও ত্যাগ করেছেন l যদি কেউ ভালোবাসার কারণে, প্রাপ্তির কারণে ব্রহ্মার মহিমা করতো, তাহলেও তিনি তাকে বাবার স্মরণ করিয়ে দিতেন l ব্রহ্মার থেকে তোমাদের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হবে না l ব্রহ্মার ফটো রেখো না l ব্রহ্মাকে সবকিছু মনে ক'রনা l একেই বলা হয়, ত্যাগ দ্বারা প্রাপ্ত ভাগ্যেরও ত্যাগ ক'রে সেবাকার্যে নিযুক্ত হওয়া l এটা করে তোমরা ডবল মহাদানী হয়ে যাও l দ্বিতীয়তঃ, অন্যেরা নিজেদের অফার করুক, কিন্তু তারা যেন তাদের দিকে তোমাকে না টানে l যদি নিজেই নিজের মহিমা কর, আর নিজের দিকে অন্যদের টানো, তবে সেটাকে তোমরা কি বলতে ! মুরলিতে তোমরা শুনেছ, না ? এইরকম হ'য়োনা l কোনও ব্যাপারকে স্বয়ং নিজের দিকে টানার মানসিক দ্বন্দ্ব কখনও রেখ না l সহজে যা কিছু পাওয়া যায় সেটা শ্রেষ্ঠ ভাগ্য l কোনকিছু টেনে নেওয়াকে শ্রেষ্ঠ ভাগ্য বলা হবে না l তা'তে সিদ্ধিলাভ হয় না l পরিশ্রম বেশি হবে আর সফলতা কম, কারণ সকলের আশীর্বাদ প্রাপ্ত হবে না l যা সহজে পাওয়া যায় তা' সকলের আশীর্বাদে পরিপূর্ণ হয় l বুঝেছ !

দুশ্চিন্তা কি ? মোহ সম্পর্কে বাবা সেদিন ব্যাখ্যা করেছেন l কোনও দুর্বল স্বভাব যেন না হয় l এইরকমও ভেবোনা, আমি তো এই দেশের বাসিন্দা আর এই কারণে আমার স্বভাব, আমার চলাফেরা, আমার রহন-সহন এইরকম, না ! দেশের কারণে, ধর্মের কারণে, সঙ্গের কারণে আমার প্রকৃতি এইরকম l এটা নয় l তোমরা কোন দেশের ? শুধু নামে মাত্র সেবার জন্য তোমাদের স্থান দেওয়া হয়েছে l না কেউ বিদেশি, না কারও নেশা থাকা উচিত - আমি ভারতবাসী l তোমরা সবাই এক বাবার l ভারতবাসীও ব্রাহ্মণ আত্মা আর বিদেশের অধিবাসীও ব্রাহ্মণ আত্মা l কোনও প্রভেদ নেই l এমন নয় যে ভারতবাসী এইরকম, আর বিদেশি এইরকম l এই কথা কখনও ব'লনা l সবাই ব্রাহ্মণ আত্মা l এই স্থান তো সেবার জন্য l তোমাদের তো বলা হয়েছিল, কেন তোমরা বিদেশে গেছ, কেন তোমরা সেখানে জন্ম নিয়েছ আর কেনই বা ভারতে জন্ম নাওনি l তোমরা সেখানে গেছ সেবাস্থান খোলার জন্য l তা' নয়তো ভারতবাসীর ক্ষেত্রে তো ভিসার কতো প্রবলেম ! তোমরা সবাই তো সহজে সেখানে থাক l কতো দেশে সেবা হচ্ছে l সেইজন্যই তো সেবার্থে বিদেশে গেছ l যাই হোক, তোমরা সবাই ব্রাহ্মণ আত্মা l অতএব, তোমাদের কারও স্বভাব কোনকিছুর ওপরে নির্ভরশীল হতে দিও না l বাবার প্রকৃতিই বাচ্চাদের প্রকৃতি l বাবার প্রকৃতি কি ?প্রত্যেক আত্মার প্রতি সদা কল্যাণ অথবা দয়ার ভাবনার স্বভাব l সবাইকে উঁচুতে ওঠানোর স্বভাব, মধুরতার স্বভাব, নম্রতার স্বভাব l কখনও ব'লনা, 'আমার স্বভাব এইরকম l' 'আমার' কোথা থেকে আসে ? রূঢ়ভাবে বলা আমার স্বভাব, আবেগের বশবর্তী হয়ে পড়া আমার স্বভাব l আমার স্বভাবের কারণে এইসব হয়ে যায় l এটা মায়া l কারও অভিমানের স্বভাব, ঈর্ষার অথবা বলপ্রয়োগের স্বভাব হয়, কারও স্বভাব হয় নিরাশ হতাশ হয়ে পড়ার l ভালো হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে ভালো মনে না করা l সদাসর্বদা নিজেকে দুর্বলই মনে করবে l 'আমি এগিয়ে যেতে পারি না l আমি করতে পারি না l' এইগুলো সবই নিরুৎসাহ হওয়ার স্বভাব, এটাও রং l অভিমান রেখো না l কিন্তু স্ব-মান বজায় রেখো l সেইজন্য ওই ধরণের স্বভাবকে বলা হয় দুর্বল স্বভাব l সুতরাং তিন বিষয়ের অ্যাটেনশন সারা বছর রাখবে l এই তিনটে ব্যাপারে সেফ থাক l এটা কঠিন তো নয়, তাই না ? তোমাদের সাথী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সহযোগী সাথী হবেন l সাথী তো সমান হওয়া উচিত, তাই না ? যদি সাথীরা সমান সমান না হয় তাহলে সাথী ভালোবাসার দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না l আচ্ছা, এই তিনটে বিষয়ে তোমরা অ্যাটেনশন রাখবে l কিন্তু এই তিনটে বিষয় থেকে সরে থাকতে আরো তিনটে জিনিস তোমাদের স্মরণে রাখতে হবে l আজ বাবা তোমাদের *'তিনের পাঠ'* পড়াচ্ছেন l নিজের জীবনে সদা একটা ব্যালেন্স রাখা প্রয়োজন l সব ক্ষেত্রে ব্যালেন্স হতে দাও l স্মরণ আর সেবায় ব্যালেন্স l স্ব-মান, অভিমানের অবসান ঘটায় l তোমার স্ব-মানে স্থিত হও l এই সমস্ত বিষয় যেন তোমাদের স্মৃতিতে থাকে l বেশি নমনীয়তাও নয়, বেশি গাম্ভীর্যও নয়, যেন ব্যালেন্স থাকে l যে সময় নমনীয়তা প্রয়োজন সেই সময় নমনীয় হও, যে সময় গাম্ভীর্য প্রয়োজন সেই সময় গম্ভীর হও l সুতরাং প্রথম হলো ব্যালেন্স l দ্বিতীয়তঃ, সদা অমৃতবেলায় বাবার থেকে ব্লেসিংস নিতে হবে l প্রতিদিন অমৃতবেলায় বাপদাদা বাচ্চাদের জন্য ব্লেসিংয়ের ঝুলি খোলেন l সেই ঝুলি থেকে যত চাও ততই নিতে পার l সুতরাং ব্যালেন্স, ব্লেসিং আর তৃতীয় হলো ব্লিসফুল লাইফ l এই তিনটে জিনিস তোমাদের স্মৃতিতে থাকলে, সেই তিনটে ব্যাপারে যে অ্যাটেনশন দিতে হবে তা' নিজে থেকেই সমাপ্ত হয়ে যাবে l বুঝেছ ? আচ্ছা, অন্য তিন বিষয়ে শোন l

((((((((((((লক্ষ্য হিসেবে অথবা ধারণরূপে তিন বিষয়ে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে l সেইগুলো ছাড়তে হবে আর অন্যগুলো ধারণ করতে হবে l সদাকালের জন্য যা ছাড়তে হবে সেগুলোকে তো ছেড়ে দিয়েছ, তাই না ! সেগুলোকে মনে করবার আর প্রয়োজনই পড়বে না l কিন্তু এই যে তিন বিষয়ে তোমাদের বলা হয়েছে, তা' স্মৃতিতে রেখোরেখোদ এবং ধারণার প্রতিরূপ হিসেবে বিশেষভাবে স্মরণে রেখ l ১) সবকিছুতে রিয়্যালিটি হতে দাও , মিক্সড নয় l একেই বলে, রিয়্যালিটি - সঙ্কল্পে, বোলে সবকিছুতে রিয়্যাল হবে l নীতিনিষ্ঠ হৃদয়ের প্রতি ঈশ্বর খুশি হন l সত্যের লক্ষণ কি হবে ? যেখানে সত্য সেখানে আত্মা নাচে l যে নীতিপরায়ণ হবে সে সদা খুশিতে নাচতে থাকবে l সুতরাং, এক রিয়্যালিটি, দুই রয়্যালটি l তুচ্ছ ব্যাপারে তোমার বুদ্ধিকে কখনও পরবশ হতে দিও না l রয়্যাল বাচ্চাদের নজর যেমন কোনও ছোট জিনিসের ওপরে পড়বে না l যদি নজর পড়ে তবে তাকে রয়্যাল বলা যায় না l কোনরকম ছোট ছোট ব্যাপারে বুদ্ধি আজ্ঞাবহ হলে তাকে রয়্যালটি বলা যায় না l যে রয়্যাল হয়, সে সদা প্রাপ্তিস্বরূপ হয় l তাদের চোখ আর তাদের বুদ্ধি কোনদিকে দৃকপাত করে না l সেইজন্যই এটা আধ্যাত্মিক রয়্যালটি l কাপড়ের রয়্যালটি নয় l সুতরাং, রিয়্যালিটি, রয়্যালটি আর তৃতীয় ইউনিটি l সব বিষয়ে, সঙ্কল্পে, বোলে, কর্মেও পরস্পরের মধ্যে সদা ইউনিটি প্রতীয়মান হতে দাও l ব্রাহ্মণ অর্থই এক l লক্ষ নয়, এক l একেই বলে, ইউনিটি l সেখানে অনেক রকম স্থিতির কারণে একও অনেক হয়ে যায় আর এখানে অনেক হয়েও এক l একে বলা হয়ে থাকে ইউনিটি l অন্যদের দিকে অবশ্যই দেখ না l 'আমি ইউনিটি চাই, কিন্তু এইজন সঙ্ঘবদ্ধ হয় না l যদি তুমি ইউনিটি বজায় রাখ, তাহলে অন্যরা ডিসইউনিটির চান্সই পাবে না l যদি কেউ তালি দেওয়ার জন্য হাত ওপরে ওঠায় আর দ্বিতীয়জন হাত না দেয় তাহলে তো কোনো আওয়াজ হবে না l যদি কেউ ডিসইউনিটির কাজ করে, তোমরা ইউনিটি বজায় রাখলে, ডিসইউনিটির কেউ ডিসইউনিটি হয় এমন কোনও কাজ করতে পারবে না l তাদের ইউনিটিতে আসতেই হবে l অতএব, তিনটে বিষয় স্মরণে রাখ - *রিয়্যালিটি, রয়্যালটি এবং ইউনিটি l* এই তিনটি জিনিসই সদা বাবা সমান হওয়ায় সহযোগী হবে l বুঝেছ ! আজ তিনের পাঠ পড়ে নিয়েছ তো ! বাচ্চারা তোমাদের জন্য বাবা গর্বিত l কোনও বাবার এমন যোগ্য বাচ্চা আর যোগী বাচ্চা হতে পারে না l তোমরা যোগ্য এবং তোমরা যোগীও, আর প্রত্যেকে তোমরা লক্ষ-কোটি গুণ ভাগ্যবান l সারা কল্পে এত বাচ্চা আর এমন বাচ্চা হতে পারে না l সেইজন্য বাপদাদা কেন অমৃতবেলার টাইম বিশেষভাবে ব্রাহ্মণ বাচ্চাদের জন্য রেখেছেন ? কারণ, সেই সময়ে বাপদাদা বিশেষভাবে বাচ্চাদের বিশেষত্ব, সেবা, গুণ সদা তাঁর সামনে নিয়ে আসেন l আর তিনি কি করেন ? তিনি প্রত্যেক বাচ্চার বিশেষত্ব, গুণ এবং সেবাকে বিশেষ বরদান দিয়ে অবিনাশী বানান l সেইজন্য এই সময়কে বাচ্চাদের জন্য বিশেষভাবে রাখা হয়েছে l এটা অমৃতবেলার বিশেষ পালন l বাপদাদা স্নেহপূর্ণ সহযোগে এবং বরদানে পালন করেন l বুঝেছ - তিনি কি করেন আর তোমরা কি কর ! শিববাবা সুখদাতা, শান্তিদাতা - এইরকমই তো বলো, তাই না ! আর বাবা তোমাদের পালন করেন l যেভাবে মা বাবা সকালে তাদের বাচ্চাদের তৈরি করেন, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে বলেন, এখন যাও সারাদিন খাওয়া দাওয়া করো, পড় l বাপদাদাও অমৃতবেলায় এই পালনা দেন অর্থাৎ সারাদিনের জন্য শক্তি ভরে দেন l এই সময় বিশেষ পালনের জন্য l এই সময় এক্সট্রা বরদানের এবং পালনের জন্য l অমৃতবেলায় বরদানের ঝুলি খোলা থাকে l তোমরা যে কেউ প্রকৃত হৃদয়ে যত বরদান চাও নিতে পার, স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে নয় l স্বার্থ-উদ্দেশ্য থাকলে বলবে আমাকে এই দাও ! স্বার্থান্বেষে চাইলে বাবা কি করেন ? তাদের উদ্দেশ্য সিদ্ধির জন্য ঠিক ততটাই শক্তি দেন, অভীষ্ট লাভের সাথে সাথে সবকিছু সমাপ্ত l তবুও তাঁরই তো বাচ্চা, না তো করবেন না l অতএব, সদাসর্বদা বরদানে প্রতিপালিত হতে থাক, চলতে থাক, উড়তে থাক, তার জন্য অমৃতবেলা যত শক্তিশালী বানাবে সারাদিন ততই সহজ হবে l বুঝেছ l

সদা পাস উইথ অনার হওয়ার লক্ষ্য এবং যোগ্যতার সাথে যারা ক্রমাগত নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, সদা ব্রহ্মাবাবার সমান ত্যাগের ভাগ্য ভাগ করে, নম্বর ওয়ান ত্যাগী শ্রেষ্ঠ ভাগ্য বানিয়ে, সদা সহজ প্রাপ্তির অধিকারী হয়ে স্ব-উন্নতি এবং সেবার উন্নতি করে, সদা প্রতি পদে সহযোগী, সাথী হয়ে অগ্রচালিত হয়, স্মৃতি, স্থিতি শক্তিশালী বানানোর ক্ষেত্রে সদা বাবাকে ফলো করে, এমন সদা সহযোগী সাথী, আজ্ঞাকারী, আদেশ পালনে আগ্রহী, সন্তুষ্ট থাকে, সবাইকে খুশি করার রহস্য জানে, এমন আত্মাদের, মহান পুণ্য আত্মাদের, ডবল মহাদানী বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l

বরদান:-
মানসিক বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভূতি ক'রে মুক্তিদাতা ভব

অতীন্দ্রিয় সুখে দোল খাওয়া, সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণদের বিশেষত্ব l কিন্তু তোমাদের মন্সা সঙ্কল্পের বন্ধন আন্তরিক খুশি বা অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করতে দেয় না l ব্যর্থ সঙ্কল্প, ঈর্ষা, অমনোযোগ অথবা আলস্যের সঙ্কল্পের বন্ধনে বাঁধা হওয়াই মন্সা বন্ধন, এইরকম আত্মা অভিমান বশে অন্যকে দোষারোপ করার ব্যাপারে ভাবতে থাকে, তাদের উপলব্ধির শক্তি সমাপ্ত হয়, সেইজন্য এই সূক্ষ্ম বন্ধন থেকে মুক্ত হও, তবেই মুক্তিদাতা হতে পারবে l

স্লোগান:-
খুশির আকরে এমন পরিপূর্ণ হও, যাতে তোমাদের কাছে দুঃখের কোনও তরঙ্গ না আসতে পারে l
 


অব্যক্ত স্থিতির অনুভব করতে বিশেষ হোমওয়ার্ক
তোমার সামনে কেউ যতই ব্যর্থ বলুক না কেন, তুমি ব্যর্থকে শক্তিশালীতে রূপান্তরিত কর l কোনও ব্যর্থ তোমার বুদ্ধিতে স্বীকার ক'রনা l যদি একটাও ব্যর্থ বোল স্বীকার করে নাও, তাহলে এক ব্যর্থ অনেক ব্যর্থের জন্ম দেবে l নিজের বোলের প্রতিও সম্পূৰ্ণ খেয়াল রাখ, "কম বলো, ধীরে বলো আর মধুরতার সাথে বলো", তবেই তোমার অব্যক্ত স্থিতি সহজে তৈরি হয়ে যাবে l