05.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - ভক্তদের উপরে যখন বিপদ-আপদ, দুর্যোগ আছড়ে পড়ে, তখন বাবা আসেন, জ্ঞানের দ্বারা গতি সদ্গতি করতে

প্রশ্নঃ -
বিকর্মাজিত কে হতে পারে? যে বিকর্মাজিত হবে তার লক্ষণগুলি কেমন হবে?

উত্তরঃ  
বিকর্মাজিত সে-ই হতে পারবে যে কর্ম-অকর্ম বিকর্মের গতিকে জেনে শ্রেষ্ঠ কর্ম করবে। যে বিকর্মাজিত হবে সে কখনও কর্ম করে অনুশোচনা করবে না। তার কর্ম, বিকর্ম হবে না।

প্রশ্নঃ -
এই সময় বাবা কোন্ ডবল সেবা করেন?

উত্তরঃ -
আত্মা আর শরীর দুটিকেই পবিত্র বানান আর পুনরায় সাথে করে ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যান। এই দিব্য ভূমিকা একমাত্র বাবার-ই। কোনও সাধারণ মানুষের এই ভূমিকা হতে পারে না।

গীতঃ-
ওম্ নমঃ শিবায়

ওম্ শান্তি ।
এই গান বাচ্চারা শুনেছে। যারা ভক্ত, তারা এই গান করে। ঘোর অন্ধকার থেকে আলোতে যেতে চায় আর দুঃখ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান করতে থাকে। তোমরা তো হলে শিব বংশী ব্রহ্মাকুমার-কুমারী। এটা তো হলো বোঝার মতো কথা। এতো বাচ্চা কুখ-বংশাবলী (গর্ভজাত) তো হতে পারেনা। অবশ্যই মুখ-বংশাবলী হবে। শ্রীকৃষ্ণের তো এতো রাণী বা সন্তান ছিল না। গীতার ভগবান তো রাজযোগ শেখাচ্ছেন, তো অবশ্যই মুখ-বংশাবলী হবে। প্রজাপিতা শব্দটি হল সুপরিচিত। বাবা এসে এনার মুখ দ্বারা ব্রাহ্মণ ধর্ম রচনা করেন। প্রজাপিতা নাম বাবার ক্ষেত্রেই শোভা পায়। বাস্তবে এখন তোমরা সেই বাবার হয়েছো। তারা তো বলে দেয় যে শ্রীকৃষ্ণ ভগবান ছিলেন, শিবও ভগবান ছিলেন। রুদ্র ভগবানের পরিবর্তে শ্রীকৃষ্ণের নাম দিয়ে দিয়েছে। বলেও থাকে শঙ্কর পার্বতী, রুদ্র পার্বতী বলে না। শিব শঙ্কর মহাদেব বলে থাকে। এখন শ্রীকৃষ্ণকে রুদ্র বা শঙ্কর তো বলা হয় না। ভক্তরা গান করতে থাকে কিন্তু ভগবানকে জানেনা। বাস্তবে ভারতে সত্যিকারের ভক্ত হল তারা, যারা পুজ্য ছিলেন তারাই এখন পুজারী হয়েছেন। তাদের মধ্যেও নম্বরের ক্রমানুসারে আছে। তোমাদের মধ্যেও নম্বরের ক্রম আছে। তোমরা হলে ব্রাহ্মণ আর ওরা হল শূদ্র। দেবতা ধর্মের আত্মারাই অনেক দুঃখী হয় কারণ তারা অনেক সুখও ভোগ করেছে। এখন তোমাদের দরজায় দরজায় উদ্ভ্রান্ত হওয়া বন্ধ হয়ে গেছে, অর্ধকল্পের জন্য। এই রহস্য তোমরা ব্রাহ্মণেরাই জানো, সেটাও নম্বরের ক্রমানুসারে। কল্প পূর্বে যারা যতটা পুরুষার্থ করেছিল এখন ততটাই করবে। এমন নয় যে, ড্রামাতে যা আছে তাই হবে... তথাপি পুরুষার্থের নাম এসেই যায়। ড্রামাকে বাচ্চাদেরকে পুরুষার্থ করাতেই হবে । যেরকম পুরুষার্থ সেইরকম পদ প্রাপ্ত হবে। আমরা জানি যে কল্প পূর্বে আমরা এইরকমই পুরুষার্থ করেছিলাম। এইরকমই উৎপীড়ন হয়েছিল, যজ্ঞে বিঘ্ন পড়েছিল।

বাচ্চারা তোমরা জানো যে বাবা পুনরায় এসেছেন। কল্প পূর্বেও এইরকম সময় এসেছিল যখন ইংরেজদের রাজ্য ছিল। কংগ্রেস যাদের থেকে এই রাজ্য উদ্ধার করলো তারপর পাকিস্তান হল। এসব কল্প পূর্বেও হয়েছিল। গীতাতে এসব কথা নেই। অবশেষে বোঝা যায় যে অবশ্যই এখন হল সেই সময়। কেউ কেউ মনে করে যে ঈশ্বর এসে গেছেন। যখন মহাভারতের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল তখন ভগবান এসেছিলেন। তারা ঠিকই বলছে, কেবল নাম পরিবর্তন করে দিয়েছে। রুদ্রের নাম বললে তবুও বলা যায় ঠিক বলছে। রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ রচনা করেছিলেন যার দ্বারা সমগ্র বিশ্ব বিপদ মুক্ত হয়েছিল। এটাও ধীরে-ধীরে তোমাদের দ্বারাই সবাই জানতে পারবে। এরজন্য এখনও অনেক সময় আছে। নাহলে তো এখানে এত ভীড় হয়ে যাবে যে তোমরা পড়াশোনা করতে পারবে না। এখন এখানে ভীড় হওয়া ড্রামাতে নেই। গুপ্ত বেশে কাজ চলতে থাকবে। এখন কোনো গণ্যমান্য ব্যক্তি যদি এখানে আসে তাহলে বলবে এনার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। বাচ্চারা এখানে তো বাবা তোমাদেরকে পড়াচ্ছেন। দেবতা ধর্ম তো ভগবান এসেই রচনা করবেন তাই না। তিনি এখন এসেছেন নতুন দুনিয়া রচনা করতে, ভক্তদের বিপদ মোচন করতে। বিনাশের পর তো কোনও দুঃখ হবে না। সেখানে সত্যযুগে কোনও ভক্ত থাকবে না। না কেউ এমন কর্ম করবে যে দুঃখী হবে।

(মুম্বাই থেকে রমেশ ভাই-এর ফোন এসেছে) বাপদাদা এখান থেকে চলে যাওয়ার পর তো বাচ্চারা উদাস হয়ে যায়। যেরকম পতি বিদেশে গেলে, স্ত্রী স্মরণ করার সময় ক্রন্দন করে। সেটা হল লৌকিক সম্বন্ধ। এখানে বাবার সাথে হলো আত্মিক সম্বন্ধ। বাবার থেকে দূরে গেলে তো প্রেমের অশ্রু এসে যায় । সার্ভিসেবল বাচ্চা যারা বাবা তাদের কদর করেন। আবার সুপুত্র যারা তারাও বাবার কদর করে। শিব বাবার সাথে সম্বন্ধ তো অনেক উচ্চ থেকেও উচ্চ । তার থেকে উচ্চ সম্বন্ধ তো আর কিছু হয় না। শিববাবা তো বাচ্চাদেরকে তাঁর থেকেও শ্রেষ্ঠ বানাচ্ছেন। পবিত্র তো তোমরাই হও, কিন্তু বাবার সমান এভার পিওর হতে পারবে না। হ্যাঁ পবিত্র দেবতা হবে। বাবা তো হলেন জ্ঞানের সাগর। আমরা সবথেকে বেশীই জ্ঞান শুনলেও জ্ঞানের সাগর হতে পারবো না। তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর, আনন্দের সাগর, বাচ্চাদেরকে আনন্দময় বানাচ্ছেন। অন্যরা তো কেবল নাম রেখে দেয়। এইসময় ভক্তের মালা অনেক লম্বা চওড়া আছে। তোমাদের হল ১৬১০৮ এর মালা। ভক্তের সংখ্যা তো কয়েক কোটি। এখানে ভক্তির কথা নেই। জ্ঞানের দ্বারাই সদ্গতি হয়। এখন তোমাদেরকে ভক্তির শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা হচ্ছে। বাবা বলছেন যে যখন সকল ভক্তের উপর বিপদ আছড়ে পরে, তখন আমাকে আসতে হয়, সবাইকে সদ্গতি করার জন্য। স্বর্গের দেবতারা অবশ্যই এইরকম কর্ম করেছিলেন, তবেই তো এত উচ্চপদ প্রাপ্ত করেছেন। কর্ম তো মানুষকে করতেই হয়। কিন্তু সেখানে কর্ম করে অনুশোচনা করতে হয় না। এখানে কর্ম বিকর্ম হয়ে যায়, কেননা মায়া আছে। সেখানে মায়া থাকে না। তোমরা বিকর্মাজিত হচ্ছো, যে বাচ্চাদেরকে এখন কর্ম, অকর্ম, বিকর্মের গতি বোঝাচ্ছি তারাই বিকর্মাজিত হবে। কল্প পূর্বেও বাচ্চারা তোমাদেরকে রাজযোগ শিখিয়েছিলাম, এখন সেটাই পুনরায় শেখাচ্ছি। কংগ্রেসীরা ফিরিঙ্গিদের (ইংরেজদের) বহিঃস্কৃত করে রাজাদের থেকে রাজত্ব ছিনিয়ে নিয়ে রাজা নামটাই মুছে দিল। ৫ হাজার বছর পূর্বে ভারত রাজস্থান ছিল, লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্য ছিল। দেবতাদের রাজ্য ছিল তো পরিস্তান ছিল। অবশ্যই তাদেরকে ভগবান রাজযোগ শিখিয়েছিলেন, তবেই তো তারা ভগবতী ভগবান হয়েছে। কিন্তু এখন আমাদের মধ্যে জ্ঞান আছে তাই আমরা ভগবতী ভগবান বলতে পারবো না। নাহলে তো যথা রাজা-রাণী তথা প্রজারাও ভগবতী ভগবান হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এইরকম হওয়া অসম্ভব। প্রজারাও নিজেদের নাম কখনও লক্ষ্মী-নারায়ণ রাখতে পারবে না, এমন ল' নেই। বিদেশেও রাজার নামে কেউ নিজেদের নাম রাখতে পারবে না। তো বাচ্চারা বুঝে গেছে যে ৫ হাজার পূর্বে বাবা এসেছিলেন। এখনও বাবা এসেছেন - দৈবী রাজস্থান স্থাপন করতে। শিববাবার আসার সময়ও হল এখনই। তিনি হলেন পান্ডবদের পতি, না কি শ্রীকৃষ্ণ। বাবা পাণ্ডা হয়ে এসেছেন বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আর নতুন সত্যযুগী দুনিয়া রচনা করার জন্য। তো অবশ্যই ব্রহ্মার দ্বারাই ব্রাহ্মণ রচনা করবেন। মুখ্য গীতাকেই খন্ডন করে দিয়েছে। এখন বাবা বোঝাচ্ছেন আমি শ্রীকৃষ্ণ নই। আমাকে রূদ্র বা সোমনাথ বলা যেতে পারে। তোমাদেরকে জ্ঞান সোমরস পান করাচ্ছি। এছাড়া লড়াই ইত্যাদির কোনও কথা নেই। যোগবলের দ্বারা তোমরা মাখন প্রাপ্ত করে থাকো। শ্রীকৃষ্ণের অবশ্যই মাখন প্রাপ্ত হয়। ইনি হলেন শ্রীকৃষ্ণের অন্তিম জন্মের আত্মা। এনাদেরকেও (ব্রহ্মা-সরস্বতীকেও) বাবা এইরকম কর্ম শেখাচ্ছেন, যারা ভবিষ্যতে লক্ষ্মী-নারায়ণ হয়। এই লক্ষ্মী-নারায়ণই শৈশবে রাধাকৃষ্ণ হন এইজন্য লক্ষ্মী-নারায়ণের সাথে রাধা-কৃষ্ণের চিত্র দেখিয়েছে। এছাড়া এদের এমন কিছু মহত্ব নেই। প্রধান ভূমিকা হল গীতার ভগবানের। এই শিববাবা বাচ্চাদেরকে ভিন্ন ভিন্ন সাক্ষাৎকার করাচ্ছেন। এছাড়া মানুষের কোনও ভূমিকা নেই। ক্রাইস্ট ইত্যাদি ধর্মাত্মারা এসে নিজেদের ধর্ম স্থাপন করেছে, সেটা তো সবাইকে নিজেদের ভূমিকা পালন করতেই হবে, এতে চরিত্রের তো কোনও কথাই নেই। তারা কারোরই গতি করতে পারবে না। এখন অসীম জগতের বাবা বলছেন যে বাচ্চারা আমি তোমাদেরকে ডবল সেবা করতে এসেছি, যার দ্বারা তোমরা আত্মারা আর তোমাদের শরীর দুটোই পবিত্র হয়ে যায়। সবাইকে পুনরায় নিজেদের ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাই। পুনরায় সেখান থেকে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে এখানে আসবে। কত ভালো ভাবে বাচ্চাদেরকে বোঝাচ্ছেন। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্রের উপর বোঝানো বড়ই সহজ। ত্রিমূর্তি আর শিববাবার চিত্রও আছে। কেউ বলে ত্রিমূর্তি বলা যাবে না। আবার কেউ বলে শ্রীকৃষ্ণের চিত্রে ৮৪ জন্মের কাহিনী থাকবে না। কিন্তু আমরা তো প্রমাণ করে বলছি, অবশ্যই প্রথম নম্বরের শ্রীকৃষ্ণকে সবথেকে বেশী জন্ম নিতে হবে। নতুন নতুন পয়েন্টস্ তো প্রতিদিনই আসে, কিন্তু ধারণাও করতে হবে। সবথেকে সহজ হল লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্রের উপর বোঝানো। সাধারণ মানুষ থোড়াই কোনও চিত্রের অর্থ বুঝতে পারবে। উল্টো পাল্টা চিত্র বানিয়ে দেয়। নারায়ণের দুটি হাত তো লক্ষ্মীর চারটি হাত দিয়ে দেয়। সত্যযুগে এত হাত থাকবে না। সূক্ষ্ম বতনে তো আছেনই ব্রহ্মা-বিষ্ণু-শংকর। তাদেরও এতোগুলি হাত থাকবে না। মূলবতনে আছেই নিরাকারী আত্মারা। তাহলে এই ৮-১০ বাহু বিশিষ্ট দেবতা কোথায় থাকবেন। মনুষ্য সৃষ্টিতে সর্বপ্রথমে বসবাস করেন দুই বাহু বিশিষ্ট লক্ষ্মী-নারায়ণ। কিন্তু তাদের চার ভূজা দেখিয়ে দিয়েছে। নারায়ণকে শ্যাম বর্ণ আর লক্ষ্মীকে গৌর বর্ণ দেখিয়েছে। তো তাদের যে সন্তান হবে, সে কেমন এবং কয়টি বাহু বিশিষ্ট হবে? পুত্র সন্তানের চারটি বাহু আর কন্যা সন্তানের দুটি বাহু হবে কী? এইরকম - এইরকম প্রশ্ন জিজ্ঞেস করতে পারো। বাচ্চাদেরকে বোঝানো হয়েছে যে সর্বদা মনে করবে আমাকে শিববাবা মুরলী শোনাচ্ছেন। কখনো ইনিও (ব্রহ্মা) শোনান। শিববাবা বলেন আমি গাইড হয়ে এসেছি। এই ব্রহ্মা হল আমার জেষ্ঠ্য পুত্র। বলা হয় ত্রিমূর্তি ব্রহ্মা। ত্রিমূর্তি শংকর বা বিষ্ণু বলা হয় না। মহাদেব শংকরকে বলা হয়। তাহলে আবার ত্রিমূর্তি ব্রহ্মা কেন বলে? ইনি প্রজা রচনা করেছেন তাই ইনি হলেন শিববাবার যুগল। শংকর বা বিষ্ণুকে যুগল বলা হবে না। এটা খুবই আশ্চর্যের বিষয়, বোঝার জন্য। এখানে কেবল বাবা আর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে হবে। ব্যস্, এতেই পরিশ্রম আছে। এখন তোমরা কতোই না বুঝদার হয়ে গেছো। অসীম জগতের বাবার দ্বারা তোমরা অসীম জগতের মালিক তৈরী হও। এই ধরিত্রী, এই আকাশ সব তোমাদের হয়ে যাবে। ব্রহ্মাণ্ডও তোমাদের হয়ে যাবে। অলমাইটি অথোরিটি রাজ্য হবে। ওয়ান গভর্নমেন্ট হবে। যখন সূর্যবংশী গভর্নমেন্ট ছিল, তখন চন্দ্রবংশী ছিলো না। আবার চন্দ্রবংশীর সময় সূর্য বংশী থাকবে না। তারা পাস্ট হয়ে যাবে। ড্রামা পাল্টে যাবে। এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের কথা। বাচ্চাদের খুশীর পারদ কতোই না ঊর্ধ্বমুখী হওয়া উচিৎ। অসীম জগতের বাবার থেকে আমরা অসীম জগতের উত্তরাধিকার অবশ্যই নেবো। লৌকিক পতিকে কতোই না স্মরণ করে। আর ইনি অসীম জগতের বাদশাহী প্রদান করেন। এইরকম পতিদেরও পতিকে কতোটা স্মরণ করতে হবে! কতো শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হয়। সেখানে তোমরা কারো থেকে কখনো ভিক্ষা প্রার্থণা করবে না। সেখানে গরীব থাকবেই না। অসীম জগতের বাবা ভারতের ঝুলি ভরপুর করে দেন। লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজ্যকে গোল্ডেন এজ বলা হয়। এখন হল আয়রণ এজ। কতোটা পার্থক্য হয়ে গেছে দেখো। বাবা বলছেন যে আমি বাচ্চাদেরকে রাজযোগ শেখাচ্ছি। তোমরাই সেই দেবী-দেবতা ছিলে, পুনরায় ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র হয়েছো। এখন পুণরায় সেই ব্রাহ্মণ হয়েছো, পুনরায় সেই দেবী-দেবতা হবে। এই ৮৪ র চক্রকে স্মরণ করো। চিত্র দেখিয়ে বোঝানো খুবই সহজ। যখন দেবী-দেবতার রাজ্য ছিল তখন অন্য কোনো রাজ্য ছিল না। একটাই রাজ্য ছিল, জনসংখ্যা খুবই অল্প ছিল। তাকে বলা হয় স্বর্গ, সেখানে পবিত্রতাও ছিল, সুখ-শান্তিও ছিল। পুনর্জন্ম নিতে নিতে তোমরা নিচে চলে গেছো। ইনিও ৮৪ জন্ম নিয়েছেন, ইনিই সর্বপ্রথম তমোপ্রধান হয়েছেন। পুনরায় তাকেই প্রথম সতোপ্রধান হতে হয়। সতোপ্রধান কিভাবে হওয়া যায়, সেটা শেখানোর জন্য অবশ্যই কাউকে চাই। এক বাবা ছাড়া কেউ শেখাতে পারবে না। তোমরা জানো যে শিববাবা এনার অনেক জন্মের অন্তিম জন্মে এনার মধ্যে প্রবেশ করেন। বাবা কতো পরিস্কার করে বোঝাচ্ছেন।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এক বাবার সাথেই সকল প্রকারের আত্মিক সম্বন্ধ রাখতে হবে। সার্ভিসেবল বাচ্চাদের কদর রাখতে হবে। নিজের সমান বানানোর সেবা করতে হবে।

২ ) অসীম জগতের বাবার দ্বারা আমাদের অসীম বিশ্বের রাজ্য ভাগ্য প্রাপ্ত হচ্ছে। ধরিত্রী আকাশ সবকিছুর উপরে আমাদের অধিকার হবে - এই নেশা আর খুশীতে থাকতে হবে। বাবা আর উত্তরাধিকারকে স্মরণ করতে হবে।

বরদান:-
বালক আর মালিকভাবের ব্যালেন্স (সমতা) বজায় রেখে পুরুষার্থ আর সেবাতে সদা সফলতার মূর্তি ভব

সর্বদা এই নেশা রাখো যে আমি হলাম অসীম জগতের বাবা আর অসীম জগতের উত্তরাধিকারের বালক তথা মালিক। কিন্তু যখন কোনও রায় দেওয়ার থাকে, প্ল্যান করতে হয়, কাজ করতে হয় তখন মালিক হয়ে করো আর যখন বেশীরভাগ আত্মা বা নিমিত্ত হওয়া আত্মাদের দ্বারা কোনও কথা ফাইনাল হয়ে যায় তখন সেই সময় বালক হয়ে যাও। কোন্ সময় রায় বাহাদুর হতে হবে, কোন্ সময় রায় মান্য করতে হবে - এই কায়দা শিখে নাও তাহলে পুরুষার্থ আর সেবা দুটিতেই সফল থাকবে।

স্লোগান:-
নিমিত্ত আর নির্মাণচিত্ত হওয়ার জন্য মন আর বুদ্ধিকে প্রভু অর্পণ করে দাও।