০৫-০২-১৯ প্রাত: মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - বাবা এসেছেন কাঁটাকে ফুল বানাতে, বাবা ভালোবাসা যেমন কাঁটার প্রতি, তেমন ফুলের প্রতিও l তিনি কাঁটাকেই ফুলে পরিণত করার পরিশ্রম করেন"

প্রশ্ন:-

যে বাচ্চাদের মধ্যে জ্ঞানের ধরণা থাকবে তাদের নিদর্শন কি হবে ?

উত্তর:-

তারা কামাল করে দেখাবে l তারা নিজেদের এবং অন্যদের কল্যাণ না করে থাকতে পারবে না l তীর লেগে গেলে নষ্টমোহ হয়ে আধ্যাত্মিক (রুহানী) সেবায় লেগে পড়বে l তাদের অবস্থাও একরস অটল - অটল থাকবে l তারা কখনোই অবুঝের মতো কোনো কাজ করবে না l তারা কখনোই কাউকে দুঃখ দেবে না l তারা অপগুণরূপী কাঁটাকে দূর করতে থাকবে l

ওম্ শান্তি l

বাচ্চারা তো একথা জানেই যে, বাবা হলেন বড় লিভার ঘড়ির মতো l তিনি সম্পূর্ণ সঠিক সময়ে কাঁটাকে ফুলে পরিণত করেন l এক সেকেণ্ডও কম হতে পারে না l সামান্য তফাৎও হতে পারে না l মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চারা একথাও জানে যে, এইসময় হল কলিযুগী কাঁটার জঙ্গল l তাই যারা ফুলে পরিণত হচ্ছে তাদের এমন অনুভব হওয়া দরকার যে, আমরা ফুলে পরিণত হচ্ছি l প্রথমে আমরা সবাই কাঁটা ছিলাম, কেউ ছোটো আবার কেউ বড় l কেউ খুব দুঃখ দেয়, কেউ আবার অল্প l এখন বাবার ভালোবাসা তো সবার জন্য l এমন মহিমাও আছে যে, কাঁটার প্রতিও প্রেম -- ফুলের প্রতিও প্রেম l প্রথমে কার প্রতি প্রেম ? অবশ্যই কাঁটার প্রতি l কাঁটার প্রতি তাঁর এত প্রেম যে তিনি পরিশ্রম করে তাদের ফুলে পরিণত করেন l তিনি তো কাঁটার দুনিয়াতেই আসেন l এতে সর্বব্যাপীর কোনো ব্যাপারই নেই l একজনেরই মহিমা হয় l মহিমা হয় আত্মার, আত্মা যখন শরীর ধারণ করে অভিনয় করে l আত্মাই শ্রেষ্ঠাচারী হয় আবার আত্মাই ভ্রষ্টাচারী হয় l আত্মা শরীর ধারণ করে যেমন যেমন কাজ করে, সেই অনুসারে বলা হয়, এ কুকর্মী আর এ সুকর্মী l আত্মাই ভালো বা মন্দ কাজ করে l তোমরা নিজেদের জিজ্ঞেস করো, তোমরা কি সত্যযুগী দৈবী কুলের নাকি কলিযুগী আসুরী কাঁটার ? কোথায় সত্যযুগ আর কোথায় কলিযুগ ! কোথায় দেব দুনিয়া আর কোথায় আসুরী দুনিয়া ? অনেক তফাৎ l যারা কাঁটা হয় তারা নিজেদের ফুল বলতে পারবে না l ফুল হয় সত্যযুগে, কলিযুগে হয় না l এখন এ হল সঙ্গম যুগ, যখন তোমরা কাঁটা থেকে ফুলে পরিণত হচ্ছ l টিচার পাঠ দেন, বাচ্চাদের কাজ হল তা সুন্দর করে (রিফাইন করে) বুঝিয়ে বলা l তাতে এও লেখো, যদি ফুল হতে চাও তাহলে নিজেকে আত্মা মনে করো আর ফুল যিনি করেন সেই পরমপিতা পরমাত্মাকে স্মরণ কর, তাহলেই তোমাদের অপগুণ দূর হয়ে যাবে আর তোমরা সতোপ্রধান হয়ে যাবে l বাবা নিবন্ধ দেন l বাচ্চাদের কাজ হল তা সঠিক করে ছাপানো l তখন সমস্ত মানুষই এই নিয়ে চিন্তা করবে l এ হল পঠনপাঠন l বাবা তোমাদের বেহদের হিস্ট্রি - জিওগ্রাফী পড়ান l ওই স্কুলে তো পুরানো দুনিয়ার হিস্ট্রি - জিওগ্রাফী পড়ানো হয় l নতুন দুনিয়ার হিস্ট্রি - জিওগ্রাফী তো কেউ জানেই না l তাহলে এ হল পড়া আবার বোঝাও l কোনো ছিঃ - ছিঃ কাজ করা হল অবুঝ কাজ l এরপর বোঝানো হয় যে এই দুঃখদায়ক বিকারী কাজ আর করবে না l দুঃখ হর্তা, সুখ কর্তা বাবার মহিমা আছে, তাই না l এখানে তোমরাও শিখছো যে, কাউকে দুঃখ দেওয়া উচিত নয় l বাবা শিক্ষা দেন যে, সর্বদা সবাইকে সুখ দিতে থাকো l এই অবস্থা খুব তাড়াতাড়ি হয় না l এক সেকেণ্ডে বাবার অবিনাশী উত্তরাধিকার তো নিতে পারো l বাকি যোগ্য হতে তো সময় লাগে l তারা মনে করে যে, অসীমের (বেহদের) বাবার অবিনাশী উত্তরাধিকার হল স্বর্গের বাদশাহী l তোমরা বুঝিয়েও থাকো যে, ভারত পারলৌকিক বাবার থেকে বিশ্বের বাদশাহী পেয়েছিল l তোমরা সকলে বিশ্বের মালিক ছিলে l বাচ্চারা, এ কথা শুনে তোমাদের ভিতরে তো খুশী হওয়া উচিত l এ তো কালকের কথা যখন তোমরা স্বর্গের মালিক ছিলে l মানুষ বলে দেয় লক্ষ বছরের কথা l কোথায় তারা এক একটি যুগের আয়ু লক্ষ বছর বলে দেয় যেখানে সম্পূর্ণ কল্পের আয়ু পাঁচ হাজার বছর l এ অনেক তফাৎ l



এক অসীমের (বেহদের) বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর l তাঁর থেকে দৈবী গুণ ধারণ করা উচিত l এই দুনিয়ার মানুষ দিনে দিনে তমোপ্রধান হয়ে যাচ্ছে l তারা খুব বেশী অপগুণ শিখে যাচ্ছে l আগে এত দুর্নীতি (করাপশন), জালিয়াতি (এডাল্ট্রেশন), ভ্রষ্টাচার ছিল না, এখন সব বৃদ্ধি পাচ্ছে l এখন তোমরা বাবার স্মরণের শক্তিতে সতোপ্রধান হয়ে যাচ্ছ l যেমন ধীরে ধীরে নেমে এসেছ, তেমনি ওই ভাবে যেতে হবে l প্রথমে তো বাবাকে পেয়েছ তার খুশী হবে, সম্পর্ক তৈরী হল তারপর স্মরণের যাত্রা l যে যত বেশী ভক্তি করেছে, তার তত ভালো স্মরণের যাত্রা হবে l অনেক বাচ্চাই বলে থাকে, বাবা স্মরণ স্থায়ী হয় না l ভক্তিতেও এমন হয় l কথা শুনতে বসলেও বুদ্ধি অন্যদিকে চলে যায় l যিনি শোনান তিনি হঠাৎ জিজ্ঞাসা করেন, আমি কি শুনিয়েছি, তখন দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে, কেউ আবার চট্ করে বলতেও পারে l সবাই তো একরকম হয় না l এখানে যদিও অনেকেই বসে থাকে কিন্তু ধারণা কিছুই করতে পারে না l ধারণা যদি হত তাহলে কামাল করে দেখাতে পারত l তারা নিজের এবং অন্যদের কল্যাণ না করে থাকতে পারত না l কারো যদিও বা ঘরে সুখ থাকে, গাড়ি, বাড়ি ইত্যাদি থাকে, তবুও যদি একবার তীর লেগে যায়, তাহলে পতিকে বলবে, আমি এই আধ্যাত্মিক (রুহানী) সেবা করতে চাই, কিন্তু মায়া খুবই শক্তিশালী, করতে দেয় না l মোহ থাকে, তাই না l এত বড় বাড়ি, এতো সুখ, কিভাবে ছাড়বে ? আরে, আগে যে তোমরা এতো সুখ ভোগ করেছিলে l বড় বড় কোটিপতি, লাখপতি, যাদের বড় বড় মহল ছিল, সব ছেড়ে চলে এসেছে l ওদের ভাগ্যই বলে দেয় যে, ওদের এই সবকিছু ছাড়ার শক্তি নেই l রাবণের শৃঙ্খলে ওরা আটকে আছে l এ হল বুদ্ধির শৃঙ্খল l বাবা বোঝান যে - আরে, তোমরা তো স্বর্গের মালিক, পূজ্য হও l বাবা তোমাদের গ্যারান্টি দেন যে, তোমরা ২১ জন্ম কখনোই রোগগ্রস্ত হবে না l ২১ জন্ম পর্যন্ত স্বাস্থ্যবান থাকবে l তোমরা যদিও স্বামীর কাছে থাকো, তবুও তার থেকে মুক্তি নাও -- বলো, পবিত্র হব আর অন্যকেও করব l তোমাদের দায়িত্ব হল বাবাকে স্মরণ করা, যাতে অপার সুখ পাওয়া যায় l স্মরণ করতে করতে তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হয়ে যাবে l এ কতো বোঝার কথা l এই শরীরের কোনো ভরসা নেই l তোমরা বাবার তো হয়ে যাও l তাঁর মতো প্রিয় জিনিস আর কিছুই নেই l বাবা তোমাদের বিশ্বের মালিক বানান, তিনি বলেন, যতো চাও তত সতোপ্রধান হও l তোমরা অপার সুখ দেখতে পাবে l বাবা নারীদের দ্বারাই এই স্বর্গের দ্বার খোলান l মায়েদের উপরেই জ্ঞানের কলস রাখা হয় l বাবা মাতাদেরই ট্রাস্টি করেছেন, তোমরা মায়েরাই সবকিছু সামলাও l এনার দ্বারাই তো কলস রাখা হয়েছে, তাই না l মানুষ কিন্তু লিখে দিয়েছে সাগর মন্থন করা হয়েছিল, অমৃতের কলস লক্ষ্মীকে দেওয়া হয়েছিল l এখন তোমরা জানো যে, বাবা স্বর্গের দ্বার খুলছেন l তাহলে আমরা কেন বাবার থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার নেব না ? কেন না বিজয় মালায় গ্রথিত হই, আমরা মহাবীর হব l বেহদের বাবা বাচ্চাদের কোলে নেন -- কিসের জন্য ? স্বর্গের মালিক করার জন্য l তিনি একদম কাঁটাদের বসে শিক্ষা দেন l কাঁটাদের প্রতিই তো তাঁর প্রেম, তাই তো তিনি তাদের ফুল বানান l বাবাকে ডাকাই হয় পতিত দুনিয়ায়, পতিত শরীরে, নির্বাণধাম ছেড়ে তুমি এখানে এসো l বাবা বলেন যে, ড্রামা অনুসারে আমাকে কাঁটার দুনিয়াতেই আসতে হয় l তাহলে অবশ্যই তো ভালোবাসা আছে, তাই না l ভালোবাসা ছাড়া তিনি কিভাবে ফুল বানাবেন ? এখন তোমরা কলিযুগী কাঁটার থেকে সত্যযুগী দেবতা, সতোপ্রধান এই বিশ্বের মালিক হও l কত ভালোবেসে তোমাদের এই কথা বোঝানো হয় l কুমারী হলো ফুল, তাই তো সবাই তাদের চরণ স্পর্শ করে l যখন তারা কাঁটায় (পতিত ) পরিণত হয়, তখন তাদের সকলের কাছে মাথা নত করতে হয় l তাহলে কি করা উচিত ? ফুলের তো ফুলই থাকা চাই তাহলেই এভারফুল হয়ে যাবে l কুমারী তো নির্বিকারী, যতই তাদের বিকারে জন্ম হোক না কেন l সন্ন্যাসীরা যেমন বিকারেই জন্ম নেয়, তাই না l বিয়ে করার পরে বাড়ি - ঘর ত্যাগ করে l তবুও তাদের মহান আত্মা বলা হয় l কোথায় সেই সত্যযুগের মহান আত্মা, এই বিশ্বের মালিক, কোথায় এই কলিযুগের l তাই বাবা বলছেন যে, প্রশ্ন লেখো, তোমরা কি কলিযুগী কাঁটা নাকি সত্যযুগী ফুল ? ভ্রষ্টাচারী নাকি শ্রেষ্ঠাচারী ?



এ হল ভ্রষ্টাচারী দুনিয়া, যেহেতু এ রাবণ রাজ্য l বলা হয় আসুরী রাজ্য, রাক্ষস রাজ্য l তাও নিজেদের কেউ বুঝতেই পারে না l বাচ্চারা, এখন তোমরা যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন জিজ্ঞেস করো, তখন নিজেরাই বুঝতে পারো, বরাবর আমরাই কামী, ক্রোধী এবং লোভী ছিলাম l প্রদর্শনীতেও এমন কথা লেখো, তাহলেই তাদের ফিলিং আসবে যে, আমি তো কলিযুগী কাঁটা l এখন তোমরা ফুলে পরিণত হচ্ছ l বাবা তো হলেন এভারফুল l তিনি কখনোই কাঁটা হন না l বাকি সকলেই কাঁটায় পরিণত হয় l ওই ফুল বলেন - আমি তোমাদেরও কাঁটার থেকে ফুলে পরিণত করি l তোমরা আমাকে স্মরণ করো l মায়া তো কতো প্রবল l তাহলে কি তোমরা মায়ার হবে ? বাবা তোমাদের নিজের দিকে আকর্ষণ করেন আবার মায়া নিজের দিকে আকর্ষণ করে l এ হলো পুরানো জুতো (শরীর )l আত্মা প্রথমে শরীর রূপী নতুন জুতো পায় তারপর তা পুরানো হয় l এইসময় সকল শরীর রূপী জুতোই তমোপ্রধান l আমি তোমাদের মখমলের বানিয়ে দিই l ওখানে আত্মা পবিত্র হওয়ার কারণে শরীরও মখমলের হয় l কোনো খুঁত থাকে না l এখানে তো অনেক খুঁত l ওখানকার ছবি তো দেখো কতো সুন্দর l ওই ছবি তো এখানে কারোরই হবে না l বাবা এখন বলেন, আমি তোমাদের কতো উঁচু বানাই l ঘর - গৃহস্থীতে থেকে কমল পুষ্প সমান পবিত্র হও আর জন্ম - জন্মান্তরের যে জং পড়েছে তা দূর করার জন্য আছে যোগ - অগ্নি l এতেই সব পাপ ভস্ম হয়ে যাবে l তোমরা পাকা সোনায় পরিণত হবে l বাবা এই খাদ দূর করার যুক্তি খুব ভালোভাবে বলেন, তিনি বলেন, একমাত্র আমাকেই (মামেকম্) স্মরণ করো l তোমাদের বুদ্ধিতে এই জ্ঞান আছে l আত্মাও অনেক ছোটো l বড় হলে ব্রহ্মার মধ্যে প্রবেশ করতে পারতেন না l কেমনভাবে করবেন ? আত্মাকে দেখার জন্য ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করেছেন কিন্তু দেখতে পান নি l সাক্ষাৎকার হয় কিন্তু এই সাক্ষাৎকারে তো কোনো লাভ হয় না l মনে করো তোমাদের বৈকুন্ঠের সাক্ষাৎকার হল কিন্তু এই সাক্ষাৎকারে কি লাভ ! পুরানো দুনিয়া যখন শেষ হয়ে যাবে, তখনই তো বৈকুন্ঠবাসী হবে l এরজন্য তোমরা যোগের অভ্যাস কর l



বাবা বোঝান বাচ্চারা, প্রথমে কাঁটার সঙ্গে প্রেম হয় l সবথেকে বেশী প্রেমের সাগর হলেন বাবা l বাচ্চারা, তোমরাও ধীরে ধীরে মিষ্টি হতে থাক l বাবা বলেন বাচ্চারা, নিজেকে আত্মা মনে করে সবাইকে ভাই - ভাইয়ের দৃষ্টিতে দেখ, তাহলে কুদৃষ্টি সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাবে l ভাই - বোনের সম্বন্ধেও বুদ্ধি অন্য দিকে যায়, তাই ভাই - ভাইয়ের দৃষ্টিতে দেখ l ওখানে তো শরীর থাকেই না, যে দেহভাব আসবে বা মোহ আসবে l বাবা আত্মাদেরই পড়ান l তাই তোমরাও নিজেকে আত্মা মনে কর l এই শরীর তো বিনাশী, এতে মন লাগিও না l সত্যযুগে শরীরের প্রতি ভালোবাসা থাকে না l তোমরা তো মোহজিত রাজার কথা শুনেছ, তাই না l বলে এক আত্মা নিজের শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করবে l এই পার্ট তোমরা পেয়েছ, তাই মোহ কেন রাখবে ? বাবাও বলেন, তোমরা সাবধান থেকো l মা মারা গেলে, বউ মারা গেলে, তোমরা হালুয়া (জ্ঞান আনন্দ ) খেও l এমন প্রতিজ্ঞা কর যে কেউ মারা গেলেও আমরা কাঁদব না l তোমরা তোমাদের বাবাকে স্মরণ করো, সতোপ্রধান হও l সতোপ্রধান হওয়ার জন্য আর অন্য কোনো পথই নেই l তোমরা পুরুষার্থের দ্বারাই বিজয় মালার দানা হতে পারবে l পুরুষার্থের দ্বারা তোমরা যা চাও তাই হতে পারো l বাবা তো বুঝতে পারেন, আগের কল্পে যতো পুরুষার্থ করেছো, ততটুকুই করতে পারবে l বাবা তো হলেনই গরীবের ভগবান l দানও গরীবদেরই করা হয় l বাবা নিজেই বলেন, আমিও সাধারণ শরীরেই আসি l না গরীব, না বিত্তবান l বাচ্চারা, তোমরাই একমাত্র বাবাকে জান, বাকি সম্পূর্ণ দুনিয়া তো সর্বব্যাপী বলে দেয় l বাবা এমন ধর্ম স্থাপন করেন, যেখানে দুঃখের কোনো নামও থাকবে না l



ভক্তিমার্গে মানুষ আশীর্বাদ চায় l এখানে তো কৃপার কোনো কথাই নেই l তোমরা কোথায় মাথা ঠুকবে ? এ তো বিন্দু l বড় জিনিস হলে মাথা ঠুকতে পারতে l ছোটো জিনিসে তো মাথাও ঠেকানো যায় না l কার কাছে হাত জোর করবে ? ভক্তিমার্গের এইসব চিহ্ন লুপ্ত হয়ে যায় l ভক্তিমার্গে হাত জোর করা হয় l ভাই - বোন, তারা ঘরে কি হাত জোর করে ? উত্তরাধিকারী বানানোর জন্য সন্তান চায় l বাচ্চারা তো মালিক, তাই বাবা বাচ্চাদের নমস্কার করেন l বাবা তো বাচ্চাদের সেবক l আচ্ছা l



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা, বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ, ভালবাসা ও সুপ্রভাত। ঈশ্বরীয় পিতা ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. বিনাশী শরীরের প্রতি মনকে যুক্ত রেখ না l মোহজিত হতে হবে, প্রতিজ্ঞা করো, কেউ শরীর ত্যাগ করলেও আমরা কাঁদব না l

২. বাবার সমান মিষ্টি হতে হবে, সবাইকে সুখদান করতে হবে l কাঁটাকে ফুল বানানোর সেবা করতে হবে l নিজের এবং অন্যদেরও কল্যাণ করতে হবে l

বরদান:-

দেহভাব থেকে নির্লিপ্ত হয়ে পরমাত্ম প্রেমের অনুভবকারী কমল আসনধারী ভব

কমল আসন হল ব্রাহ্মণ আত্মাদের শ্রেষ্ঠ স্থিতির নিদর্শন l এমন কমল আসনধারী আত্মা এই দেহভাব থেকে স্বতঃতই নির্লিপ্ত থাকে l তাদের দেহ - ভাব নিজের প্রতি আকৃষ্ট করে না l ব্রহ্মা বাবার যেমন চলতে - ফিরতে ফরিস্তা রূপ বা দেবতা রূপ সদা স্মৃতিতে থাকত l এমন ন্যাচারাল দেহী - অভিমানী স্থিতি সদা থাকলেই বলা হবে দেহ - ভাব থেকে নির্লিপ্ত l এমন দেহ - ভাব থেকে নির্লিপ্ত ব্যক্তিই পরমাত্মার প্রিয় হয় l

স্লোগান:-

তোমার বিশেষত্ব বা গুণ হল প্রভু প্রসাদ, তাকে 'আমার' মনে করাই হল দেহ - অভিমান l