05.02.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - এখানে তোমাদের সবকিছুই হল গুপ্ত, এইজন্য তোমাদের বাইরের কোনও শৃঙ্গার করার দরকার নেই, নিজেদের নতুন রাজধানীর নেশায় থাকতে হবে

প্রশ্নঃ -
শ্রেষ্ঠ ধর্ম আর দৈবী কর্ম স্থাপনার জন্য বাচ্চারা, তোমরা কোন্ ধরণের পরিশ্রম কর ?

উত্তরঃ -
এখন তোমরা পাঁচ বিকারকে ত্যাগ করার পরিশ্রম করে থাকো, কেননা এই বিকারগুলিই সবাইকে ভ্রষ্ট বানিয়েছে। তোমরা জানো যে এইসময় সবাই দৈবী ধর্ম আর কর্ম থেকে ভ্রষ্ট হয়ে গেছে। বাবা-ই শ্রীমত প্রদান করে শ্রেষ্ঠ ধর্ম আর শ্রেষ্ঠ দৈবী কর্মের স্থাপন করছেন। তোমরা শ্রীমতে চলে বাবাকে স্মরণের দ্বারা বিকারের উপর বিজয় প্রাপ্ত করে থাকো। পড়ার মাধ্যমে নিজেই নিজেকে রাজতিলক দিয়ে থাকো।

গীতঃ-
তোমাকে পেয়ে...

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আধ্যাত্মিক বাচ্চারা এই গান শুনেছে। আধ্যাত্মিক বাচ্চারাই বলে যে - বাবা। বাচ্চারা জানে যে ইনি হলেন অসীম জগতের বাবা, অসীম জগতের সুখ দাতা অর্থাৎ তিনি হলেন সকলের বাবা। তাঁকে অসীমের জগতের সমগ্র বাচ্চারা, আত্মারা স্মরণ করতে থাকে। কোনো না কোনো প্রকারে স্মরণ করে থাকে কিন্তু তাদের এটা জানা নেই যে আমরা সেই পরমপিতা পরমাত্মার কাছ থেকে বিশ্বের রাজপদ প্রাপ্ত করছি। তোমরা জানো আমাদের বাবা যিনি সত্যযুগী বিশ্বের রাজপদ প্রদান করেন, যা হল অটল, অচল, অখন্ড। আমাদের সেই রাজত্ব ২১ জন্ম বজায় থাকে। সমগ্র বিশ্বের উপর আমাদের রাজত্ব থাকে, যাকে কেউ ছিনিয়ে নিতে পারেনা, চুরি করতে পারে না। আমাদের রাজত্ব হলো অপ্রতিদ্বন্দ্ব, কেননা সেখানে একই ধর্ম থাকে, দ্বৈত নেই। সেটা হল অদ্বৈত রাজ্য। বাচ্চারা যখন এই গান শোনে তখন নিজে মনের মধ্যে রাজধানীর নেশা আনা চাই। এই রকম-এইরকম গান ঘরে রাখতে হবে। তোমাদের সবকিছুই হল গুপ্ত তার বড় বড় ব্যক্তিদের অনেক আত্মহংকার হয়ে থাকে। তোমাদের কোনো আত্মহংকার থাকে না। তোমরা দেখেছো যে বাবা যার মধ্যে প্রবেশ করেছেন তিনিও কত সাধারণ হয়ে থাকেন। এটাও বাচ্চারা জানে যে, এখানে প্রত্যেক মানুষ অনৈতিক নোংরা ছিঃ-ছিঃ কাজই করতে থাকে, এজন্য অবুঝ বলা যায়। বুদ্ধিতে একদমই তালা লেগে গেছে। তোমরা কতই না সুবুদ্ধি সম্পন্ন ছিলে। বিশ্বের মালিক ছিলে। এখন মায়া এতই অবুঝ বানিয়ে দিয়েছে যে কোনও কাজেরই নেই। বাবার কাছে যাওয়ার জন্য যজ্ঞ - তপস্যা ইত্যাদি অনেককিছু করতে থাকে কিন্তু কিছুই প্রাপ্ত হয় না। এইরকমই ধাক্কা খেতে থাকে। দিন প্রতিদিন অকল্যাণই হতে থাকে। মানুষ যত-যত তমোপ্রধান হয়ে যায়, তত অকল্যাণ হতেই থাকে। ঋষি মুনি যাদের গায়ন আছে, তাঁরা পবিত্র ছিলেন। নেতি-নেতি বলতেন। এখন তমোপ্রধান হয়ে গেছে তাই বলে শিবোহম্ ততত্ত্বম্, সর্বব্যাপি, তোমার আমার সকলের মধ্যেই তিনি আছেন। তারা তো কেবল পরমাত্মা বলে দিয়েছে। পরমপিতা কখনো বলেনা। পরমপিতা, তাঁকে আবার সর্বব্যাপী বলা, এটাও ভুল হয়ে যায় এই জন্য পুনরায় ঈশ্বর বা পরমাত্মা বলে দেয়। পিতা শব্দ বুদ্ধিতে আসেনা। যদি কেউ বলেও ফেলে তবে সেটা কেবল বলামাত্র। যদি পরমপিতা মনে করে, তাহলে বুদ্ধিতে একদম চমক উঠবে। বাবা স্বর্গের অবিনাশী উত্তরাধিকার দিচ্ছেন, তিনি হলেনই হেভেনলি গডফাদার। তথাপি আমরা নরকে কেন পড়ে আছি। এখন আমরা মুক্তি-জীবনমুক্তি কিভাবে পেতে পারি। এটা কারোরই বুদ্ধিতে আসেনা। আত্মা পতিত হয়ে গেছে। আত্মা প্রথমে সতোপ্রধান, সু-বুদ্ধিমান হয়ে থাকে, পুনরায় সত, র, তম-তে আসে, অবুঝ হয়ে পড়ে। এখন তোমাদের এই বোধগম্যতা এসেছে। বাবা আমাদেরকে এই স্মৃতি দিয়েছেন। যখন নতুন দুনিয়া ভারত ছিল তখন আমাদের রাজ্য ছিল। একই মত, একই ভাষা, একই ধর্ম, একই মহারাজা-মহারানীর রাজ্য ছিল। পুনরায় দ্বাপরে বাম মার্গ শুরু হয়, তারপর প্রত্যেকের নিজ-নিজ কর্মের উপর সবকিছু নির্ভরশীল হয়ে যায়। কর্ম অনুসারে এক শরীর ছেড়ে দ্বিতীয় শরীর গ্রহণ করে। এখন বাবা বলছেন যে আমি তোমাদেরকে এমন কর্ম শেখাচ্ছি যে ২১ জন্ম তোমরা রাজপদ পেতে থাকো। যদিও সেখানেও তো লৌকিক বাবা প্রাপ্ত হয় কিন্তু সেখানে এই জ্ঞান থাকেনা যে এই রাজত্বের উত্তরাধিকার অবিনাশী বাবা প্রদান করেছেন। পুনরায় দ্বাপর থেকে রাবণ রাজ্য শুরু হয়, বিকারী সম্বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় কর্ম অনুসারে জন্ম হয়। ভারতে পূজ্য রাজারাও ছিলেন তো পূজারী রাজারাও আছেন। সত্য যুগ ত্রেতাতে সবাই পূজ্য হয়ে থাকেন। সেখানে পূজা বা ভক্তি কোন কিছুই হয় না, পুনরায় দ্বাপরে যখন ভক্তিমার্গ শুরু হয় তখন যথা রাজা-রানী তথা প্রজা পূজারী ভক্ত তৈরি হয়ে যায়। বড় থেকেও বড় রাজা যিনি সূর্যবংশী ছিলেন তিনি পূজারী হয়ে যান।

এখন তোমরা যে নির্বিকারী তৈরি হচ্ছ তার প্রালব্ধ ২১ জন্মের জন্য থাকে। পুনরায় ভক্তিমার্গ শুরু হয়। দেবতাদের মন্দির বানিয়ে পূজা করতে থাকে। এটা কেবলমাত্র ভারতেই হয়ে থাকে। ৮৪ জন্মের কাহিনী যেটা বাবা শোনাচ্ছেন, এটাও ভারতবাসীদের জন্যই। অন্যান্য ধর্মের আত্মারা তো পরে পরে আসে। পুনরায় তো বৃদ্ধি হতে হতে অনেক অনেক হয়ে যায়। ভ্যারাইটি ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের আত্মাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, প্রত্যেক কথাতে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে যায়। রীতি-রিয়াজও ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। ভক্তি মার্গের জন্য সামগ্রীও চাই। যে রকম বীজ ছোট হয়, বৃক্ষ কত বড় হয়। বৃক্ষের পাতা ইত্যাদি গণনা করা যায় না। সেরকম ভক্তিরও বিস্তার হয়ে যায়। অনেক অনেক শাস্ত্র তৈরি করতে থাকে। এখন বাবা বাচ্চাদেরকে বলছেন - এই ভক্তি মার্গের সামগ্রী সব সমাপ্ত হয়ে যায়। এখন আমাকে অর্থাৎ বাবাকে স্মরণ করো। ভক্তির প্রভাবও অনেক আছে তাই না।কত সুন্দর, নাচ, তামাশা, গান ইত্যাদির জন্য কত খরচা করতে থাকে! এখন বাবা বলছেন যে আমাকে অর্থাৎ বাবাকে আর অবিনাশী উত্তরাধিকারকে স্মরণ করো। আদি সনাতন নিজের ধর্মকে স্মরণ করো। অনেক প্রকারের ভক্তি জন্ম-জন্মান্তর ধরে তোমরা করে এসেছ। সন্ন্যাসীরাও আত্মাদেরকে থাকার স্থান - তত্ত্বকে পরমাত্মা মনে করে। ব্রহ্ম বা তত্ত্বকেই স্মরণ করতে থাকে। বাস্তবে সন্ন্যাসীরা যখন সতোপ্রধান আছেন, তখন তারা জঙ্গলে গিয়ে শান্তিতে থাকতেন। এমন নয় যে তাদেরকে ব্রহ্মে গিয়ে লীন হয়ে যেতে হয়। তারা মনে করে যে ব্রহ্মকে স্মরণ করলে শরীর ছাড়ার সাথে সাথে ব্রহ্মে লীন হয়ে যাবে। বাবা বলেন যে - ব্রহ্মে কেউ লীন হতে পারে না। আত্মা তো হল অবিনাশী তাইনা, আত্মা কিভাবে লীন হতে পারে! ভক্তি মার্গে কত কত মাথা ঠুকতে থাকে, পুনরায় বলে যে ভগবান কোন না কোন রূপে আসবেন। এখন কে সত্য? তারা বলে যে আমরা ব্রহ্মের সাথে যোগ লাগিয়ে ব্রহ্মে লীন হয়ে যাব। গৃহস্থ ধর্মের ব্যক্তিরা বলে যে ভগবান কোন না কোন রূপে পতিতদেরকে পবিত্র বানাতে আসেন। এমন নয় যে উপর থেকে প্রেরণার দ্বারা শেখাবেন। টিচার ঘরে বসে প্রেরণা দেবেন কি? প্রেরণা অক্ষরই নেই। প্রেরণার দ্বারা কোনো কাজ হয় না। যদিও শংকরের প্রেরণার কারণে দ্বারা বিনাশ বলা যায় কিন্তু এটা ড্রামার মধ্যে পূর্বনির্দিষ্ট আছে। তাদেরকে এই মিসাইল ইত্যাদি তো তৈরি করতেই হয়। এটা কেবল মহিমা গাওয়া হয়। কেউই নিজেদের বড়দের মহিমা জানে না। ধর্ম স্থাপককেও গুরু বলে দেয় কিন্তু তারা তো কেবল ধর্ম স্থাপন করেন। গুরু তাঁকে বলা যায় যিনি সদ্গতি করেন। তাঁরা তো ধর্ম স্থাপন করতে আসেন, তাঁদের পিছনে তাঁদের বংশাবলি আসতে থাকে। সদ্গতি তো কারোরই করেন না। তাহলে তাদেরকে গুরু কিভাবে বলা যাবে! গুরু তো হলেন একজনই যাঁকে সকলের সদ্গতি দাতা বলা যায়। ভগবান বাবা-ই এসে সকলের সদ্গতি করেন। মুক্তি-জীবনমুক্তি প্রদান করেন। তাঁর স্মরণ কখনো কারোর থেকে ছেড়ে যায় না। যদিও পতির সাথে কতই না ভালোবাসা থাকুক তবুও হে ভগবান, হে ঈশ্বর অবশ্যই বলবে, কেননা তিনিই হলেন সকলের সদ্গতি দাতা। বাবা বসে বোঝাচ্ছেন যে এই সবকিছু হলো আমার রচনা, আমি রচয়িতা হলাম তোমাদের বাবা। সকলকে সুখ প্রদানকারী একবাবাই আছেন। ভাই-ভাইকে অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রদান করতে পারেনা। অবিনাশী উত্তরাধিকার সর্বদা বাবার দ্বারাই প্রাপ্ত হয়। তোমরা সকল অসীম জগতের বাচ্চাদেরকে অসীম জগতের অবিনাশী উত্তরাধিকার প্রদান করি, এই জন্যই আমাকে স্মরণ করতে থাকে - হে পরমপিতা, ক্ষমা করো, করুনা করো। বোঝেনা কিছুই। ভক্তি মার্গে অনেক প্রকারের মহিমা করে। এটাও ড্রামা অনুসার নিজের পার্ট অভিনয় করতে থাকে। বাবা বলছেন যে, আমি এদের কারোর আহ্বানে আসি না, এটা তো ড্রামা তৈরী হয়েই আছে। ড্রামাতে আমার আসার পার্ট পূর্ব নির্ধারিত হয়ে আছে। অনেক ধর্মের বিনাশ, এক ধর্মের স্থাপনা, বা কলিযুগের বিনাশ, সত্যযুগের স্থাপনা করতে হয়। আমি নিজের সময়ের অনুসারে নিজেই আসি। এই ভক্তি মার্গেরও ড্রামাতে পার্ট আছে। যখন ভক্তিমার্গের পার্ট সম্পূর্ণ হয়, তখন আমি আসি। বাচ্চারাও বলে যে, এখন আমরা জেনে গেছি, ৫ হাজার বছরের পর পুনরায় আপনার সাথে মিলিত হয়েছি। কল্পপূর্বেও বাবা আপনি ব্রহ্মার শরীরেই এসেছিলেন। এই জ্ঞান তোমাদের এখন প্রাপ্ত হয়, পুনরায় কখনো প্রাপ্ত হবেনা। এই হল জ্ঞান আর সেটা হল ভক্তি। জ্ঞানেরই হল প্রালব্ধ, উন্নতি কলা। সেকেন্ডে জীবন্মুক্তি বলা যায়। বলা হয় যে, রাজা জনক সেকেন্ডে জীবন মুক্তি পেয়েছিলেন। কেবলমাত্র এক জনকই কি জীবন মুক্তি পেয়েছিলেন? জীবন্মুক্তি অর্থাৎ জীবনকে মুক্ত করে, এই রাবণ রাজ্য থেকে।

বাবা জানেন যে সমস্ত বাচ্চদের কতইনা দুর্গতি হয়ে গেছে। তাদের পুনরায় সদগতি হবে। দুর্গতির থেকে পুনরায় উঁচু গতি, মুক্তি-জীবনমুক্তি পেতে হবে। প্রথমে মুক্তিতে গিয়ে পুনরায় জীবনমুক্তিতে আসবে। শান্তি থেকে পুনরায় সুখধামে আসবে। এই চক্রের সমগ্র-রহস্য বাবা বুঝিয়ে দিয়েছেন। তোমাদের সাথে আরও অন্যান্য ধর্ম আসা যাওয়া করে। মনুষ্যসৃষ্টি বৃদ্ধি পেতে থাকে। বাবা বলেন যে এই সময় এই মনুষ্য সৃষ্টির বৃক্ষ তমোপ্রধান প্রায় ক্ষণভঙ্গুর অবস্থা হয়ে গেছে। আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের ভীত্তি সবই নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যান্য সকল ধর্ম দাঁড়িয়ে আছে। ভারতে কেউ একজনও নিজেকে আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের বলে মনে করে না। আছে দেবতা ধর্মের, কিন্তু এই সময়ে এটা কেউই বোঝেনা যে আমরা আদি সনাতন দেবী দেবতা ধর্মের ছিলাম, কেননা দেবতারা তো পবিত্র ছিলেন। মনে করে যে আমরা তো পবিত্র নই। আমরা অপবিত্র পতিত, নিজেদেরকে দেবতা কিভাবে বলব? এটাও ড্রামার প্ল্যান অনুসারে রীতি শুরু হয়ে যায় নিজেকে হিন্দু বলার। আদমশুমারিতেও হিন্দুধর্ম লিখে দেয়। যদি গুজরাতিও হয়, তবুও হিন্দু গুজরাতি বলে দেয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করো যে সত্যিই হিন্দু ধর্ম কোথা থেকে এসেছে ? তো এটা কারো জানা নেই, কেবল বলে দেবে যে আমাদের ধর্ম কৃষ্ণ স্থাপন করেছেন। কবে ? দ্বাপরে। দ্বাপর থেকেই এই লোকেরা নিজেদের ধর্মকে ভুলে হিন্দুধর্ম বলতে শুরু করেছে এইজন্য তাদেরকে দৈবী ধর্ম ভ্রষ্ট বলা যায়। সেখানে সবাই ভাল কর্ম করতে থাকে। এখানে সবাই নোংরা ছিঃ-ছিঃ কর্ম করে এই জন্য দেবী-দেবতা ধর্মভ্রষ্ট, কর্ম-ভ্রষ্ট বলা যায়। এখন পুনরায় শ্রেষ্ঠ ধর্ম, শ্রেষ্ঠ দৈবী কর্মের স্থাপনা হচ্ছে এইজন্য বলা যায় যে, এখন এই পাঁচ বিকারকে পরিত্যাগ করতে থাকো। এই বিকার অর্ধেক কল্প ধরে আছে। এখন একজন্মে একে ত্যাগ করতে হবে - এতেই পরিশ্রম লাগে। পরিশ্রম ছাড়া থােড়াই বিশ্বের রাজত্ব প্রাপ্ত হবে। বাবাকে স্মরণ করবে তবেই নিজেকে তোমরা রাজতিলক দিতে পারবে, অর্থাৎ রাজত্বের অধিকারী হতে পারবে। যত ভালো রীতি স্মরণে থাকবে, শ্রীমতে চলবে তো তোমরা রাজাদেরও রাজা হতে পারবে। যিনি পড়াবেন সেই শিক্ষক তো পড়াতে এসেছেন। এই পাঠশালা হলই মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার। নর থেকে নারায়ন হওয়ার কথা শোনান। এই কথা কতই না নামীগ্রামী। একে অমর কথা, সত্য নারায়ণের কথা, তীজরীর কথা বলা যায়। তিনটির অর্থও বাবা বুঝিয়ে দেন। ভক্তি মার্গে তো অনেক কথা আছে। তো দেখো গান কত সুন্দর আছে। বাবা আমাদেরকে সমগ্র বিশ্বের মালিক বানাচ্ছেন, যে মালিকানা কেউ কেড়ে নিতে পারে না। আচ্ছা!

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) সর্বদা এটা স্মৃতিতে রাখতে হবে যে আমি এক মত, এক রাজ্য, এক ধর্ম স্থাপনের নিমিত্ত, এইজন্য এক মত হয়ে থাকতে হবে।

২ ) নিজেকে রাজতিলক দেওয়ার জন্য বিকারগুলিকে ছাড়ার পরিশ্রম করতে হবে। পড়ার উপর সম্পূর্ণ মনঃসংযোগ করতে হবে।

বরদান:-
ত্রিকালদর্শী স্থিতি দ্বারা মায়ার আক্রমণ হতে সুরক্ষিত থেকে অতীন্দ্রিয় সুখের অধিকারী ভব

সঙ্গম যুগের বিশেষ বরদান বা ব্রাহ্মণ জীবনের বিশেষত্ব হল - অতীন্দ্রিয় সুখ। এই অনুভব অন্য কোনও যুগে হয় না। কিন্তু এই সুখের অনুভূতির জন্য ত্রিকালদর্শী স্থিতি দ্বারা মায়ার আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকো। যদি বার বার মায়ার আক্রমণ হতে থাকে তবে চাইলেও অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করতে পারবে না। যে একবার অতীন্দ্রিয় সুখের অনুভব করে নেয়, তাকে ইন্দ্রিয়ের সুখ আকর্ষণ করতে পারবে না, নলেজফুল হওয়ার কারণে তার সামনে সেটা তুচ্ছ মনে হবে।

স্লোগান:-
কর্ম আর মনের দ্বারা - এই দুই সেবার সমতা বজায় থাকলে শক্তিশালী বায়ুমন্ডল তৈরী করতে পারবে।