০৫-০৩-১৯ প্রাতঃ মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা কখনোই পড়া মিস্ করবে না, এই পড়াতেই স্কলারশিপ পাওয়া যায়, তাই বাবার কাছে যে জ্ঞান পাওয়া যায়, তা গ্রহণ করো"

প্রশ্ন:-

যোগ্য ব্রাহ্মণ কাকে বলা হবে ? তার নিদর্শন শোনাও ?

উত্তর:-

১ )* সুযোগ্য ব্রাহ্মণ তিনিই, যার মুখে সর্বদা গীতা জ্ঞান থাকবে, *২ )* যিনি অনেককেই নিজ তুল্য বানাবেন l *৩ )* যিনি অনেককেই জ্ঞান ধনের দান পুণ্য করবেন, *৪ )* কখনোই নিজেদের মধ্যে একে অপরের সঙ্গে মতভেদে আসবে না, *৫ )* কোনো দেহধারীর প্রতিই বুদ্ধি আটকে থাকবে না, *৬ )* ব্রাহ্মণ, অর্থাৎ যার মধ্যে কোনো ভুল থাকবে না, যিনি দেহ অহংকারকে ত্যাগ করে দেহী - অভিমানী থাকার পুরুষার্থ করেন l

ওম্ শান্তি l

বাবা তাঁর নিজের এবং সৃষ্টিচক্রের পরিচয় তো দিয়েছেনই l এ তো বাচ্চাদের বুদ্ধিতে বসেই গেছে যে, এই সৃষ্টিচক্র হুবহু পুনরাবৃত্তি হয় l নাটক যেমন বানানো হয়, তাতে মডেল বানানো হয় l এরপর তা রিপিট হয় l বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে এই চক্র চলা উচিত l তোমাদের নামও হল স্বদর্শন চক্রধারী l তাই বুদ্ধিতে এই কথা ঘোরা উচিত l বাবার কাছে যে জ্ঞান পাচ্ছো তা গ্রহণ করা উচিত l এমন গ্রহণ যেন করতে পারো যে, পরের দিকে বাবা আর রচনার আদি - মধ্য এবং অন্ত যেন স্মরণে থাকে l বাচ্চাদের খুব ভালোভাবে পুরুষার্থ করতে হবে l এ হলো শিক্ষা l বাচ্চারা জানে যে এই শিক্ষা তোমরা ব্রাহ্মণরা ছাড়া আর কেউই জানে না l বর্ণের তফাত ত আছে, তাই না l মানুষ বোঝে যে, আমরা সবাই মিলেমিশে এক হয়ে যাবো l এখন এতো বড় দুনিয়া, সবাই তো এক হতে পারবে না l এখানে সম্পূর্ণ বিশ্বে এক রাজ্য, এক ধর্ম, এক ভাষা প্রয়োজন l সে তো সত্যযুগে ছিল l সেই সময় বিশ্বের বাদশাহী ছিল, যার মালিক ছিল এই লক্ষ্মী - নারায়ণ l তোমাদের এই কথা বুঝিয়ে বলতে হবে যে, বিশ্বে শান্তির রাজ্য হল সেটা l এ কেবল ভারতেরই কথা, যখন এদের রাজ্য থাকে, তখনই বিশ্বে শান্তি থাকে l তোমরা ছাড়া এই কথা কেউই জানে না l সকলেই হলো ভক্ত l তফাতও তোমরাই দেখতে পাও l ভক্তি আলাদা আর জ্ঞান আলাদা l এমন নয় যে ভক্তি না করলে কোনো ভূত -প্রেত খেয়ে ফেলবে l তা নয় l তোমরা তো বাবার হয়েই গেছ l তোমাদের মধ্যে যে ভূত (বিকার ) আছে, সে সব বের হয়ে যাবে l প্রথম নম্বরের ভূত হলো দেহ - অহংকার l একে দূর করার জন্যই বাবা দেহী - অভিমানী বানান l বাবাকে স্মরণ করলে কোনো ভূতই সামনে আসবে না l ২১ জন্মের জন্য কোনো ভূতই আসবে না l এই ভূত (বিকার ) হলো রাবণ সম্প্রদায়ের l তাই রাবণ রাজ্য বলা হয় l রাম রাজ্য আলাদা আর রাবণ রাজ্য আলাদা l রাবণ রাজ্যে ভ্রষ্টাচারী আর রামরাজ্যে শ্রেষ্ঠাচারীরা থাকে l এর তফাতও তোমরা ছাড়া কেউই জানে না l তোমাদের মধ্যেও যারা খুবই হুঁশিয়ার তারা ভালোভাবে বুঝতে পারে যে, এই মায়া বিড়ালও কম নয় l কখনো - কখনো পড়া ছেড়ে দেয়, সেন্টারেও যায় না, দৈবী গুণও ধারণ করে না l এই চোখও ধোঁকা দিয়ে দেয় l কোনো জিনিস ভালো লাগলে তা খেয়ে ফেলে l বাবা এখন বোঝাচ্ছেন যে, এই লক্ষ্মী - নারায়ণ হল তোমাদের এইম অবজেক্ট l তোমাদের এমন হতে হবে l এমন দৈবী গুণ ধারণ করতে হবে যে, যথা রাজা - রাণী তথা প্রজা সবার মধ্যেই যেমন দৈবী গুণ থাকে l ওখানে আসুরী গুণ থাকে না l অসুর সেখানে থাকে না l তোমরা ব্রহ্মাকুমার - ব্রহ্মাকুমারী ছাড়া আর কেউই নেই যারা এইসব কথা বুঝতে পারে l তোমাদের শূদ্র অহংকার ছিল, এখন তোমরা আস্তিক হয়েছ, কারণ তোমরা মিষ্টি - মিষ্টি রুহানী বাবার হয়েছ l তোমরা এও জানো যে, কোনো দেহধারীই রাজযোগের জ্ঞান বা স্মরণের যাত্রা শেখাতে পারে না l এক বাবাই তা শেখান l তোমরা শিখে তারপর অন্যদের তা শেখাও l মানুষ তোমাদের জিজ্ঞেস করবে যে, এই জ্ঞান তোমাদের কে শিখিয়েছে ? তোমাদের গুরু কে ? কেননা শিক্ষক তো আর আধ্যাত্মিক বিষয় শেখান না, এ তো গুরুই শেখান l একথা বাচ্চারা জানে যে, আমাদের কোনো গুরু নেই, আমাদের হল সদ্গুরু, তাঁকে সুপ্রীম বলা হয় l ড্রামা অনুসারে সদ্গুরু নিজে এসেই পরিচয় দেন, আর তিনি যা কিছুই শোনান, সে সব সত্যই বুঝিয়ে বলেন, আর তিনি সত্যখণ্ডে নিয়ে যান l সত্য হলেন একজনই l বাকি কোনো দেহধারীকে স্মরণ করা হলো মিথ্যা l এখানে তো তোমাদের এক বাবাকেই স্মরণ করতে হবে l সব আত্মারা যেমন জ্যোতি বিন্দু, বাবাও তেমনই জ্যোতির্বিন্দু l বাকি সমস্ত আত্মার সংস্কার এবং কর্ম তার নিজের নিজের l সকলের একরকম সংস্কার হতে পারে না l যদি এক ধরনের সংস্কার হবে তাহলে চেহারাও একইরকম হবে l কখনোই কিন্তু এক রকমের চেহারা হতে পারে না l অবশ্যই সমান্য হলেও তফাৎ থাকে l



এই নাটক তো একটাই l সৃষ্টিও অনেক নয়, একটাই l মানুষ এই গল্পকথা করে যে, উপর আর নীচে আলাদা দুনিয়া আছে l উপরে তারাদের দুনিয়ায় দুনিয়া আছে l বাবা বলেন যে, এ কথা কে বলেছে ? তখন শাস্ত্রের নাম নেয় l শাস্ত্র তো অবশ্যই কোনো মানুষ লিখেছে l তোমরা জানো যে, এ তো এক বানানো খেলা l প্রতি সেকেণ্ডে সম্পূর্ণ দুনিয়ায় যে অভিনয় চলছে, এও এই নাটকের বানানো খেলা l বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে আছে যে - এই চক্র কিভাবে ঘুরছে, সমস্ত মানুষ যারা এখানে আছে, তারা কিভাবে অভিনয় করছে ? বাবা বলেছেন যে, সত্যযুগে কেবল তোমাদেরই পার্ট থাকে l তোমরা নম্বর অনুসারে আসো এই অভিনয় করতে l বাবা কতো ভালোভাবে এই কথা বুঝিয়ে বলেন l বাচ্চারা, তোমাদের আবার তা অন্যদের বোঝাতে হয় l তোমরা বড় - বড় সেন্টার খুললে, বড় - বড় মানুষ সেখানে যাবে l গরীবরাও আসবে l বেশীরভাগ সময় গরীবদের বুদ্ধিতে চট্ করে বসে যায় l বড় - বড় মানুষ যদিও বা আসেন কিন্তু কাজ পড়ে গেলে তারা বলবে, সময় নেই l মানুষ প্রতিজ্ঞা করে যে, খুব ভালোভাবে পড়বে, কিন্তু পড়তে না পারলে তখন ধাক্কা লাগে l মায়া আরো বেশী করে নিজের দিকে টেনে নেয় l অনেক বাচ্চাই আছে যারা পড়া বন্ধ করে দেয় l পড়া যদি মিস্ করে তাহলে অবশ্যই ফেল করে যাবে l স্কুলেও যারা ভালো ভালো বাচ্চা থাকে, তারাও কখনো কারোর বিয়ে উপলক্ষে বা অন্য কোথাও যাওয়ার জন্য ছুটি নেয় না l তাদের বুদ্ধিতে থাকে যে, আমরা খুব ভালোভাবে পড়লে স্কলারশিপ পাবো, তাই তারা ভালোভাবে পড়ে l পড়া মিস্ করার কোনো চিন্তাও মাথায় রাখে না l তাদের পড়া ছাড়া অন্য কিছুই মিষ্টি লাগে না l তারা মনে করে অকারণে সময় নষ্ট হবে l এখানে একজন টিচারই পড়ান, তাই পড়া কখনো মিস্ করা উচিত নয় l এতেও পুরুষার্থের নম্বর অনুসারেই হয় l যে পড়ে সে যদি ভালো হয়, তাহলে যিনি পড়ান তাঁরও পড়ানোতে মন লাগে l টিচারের নামও উজ্জ্বল হয়, গ্রেডও বৃদ্ধি পায় l উচ্চ পদ পাওয়া যায় l এখানেও বাচ্চারা যে যেমন পড়ে, তেমনই উঁচু পদ পায় l একই ক্লাসে পড়ে কেউ উঁচু পদ পায়, কেউ আবার কম l সবার অর্জন একরকম হয় না l বুদ্ধির উপরই সবকিছু l ওখানে তো মানুষ মানুষকে পড়ায় l তোমরা জানো যে, বেহদের বাবা আমাদের পড়ান, তাই খুব ভালোভাবে পড়া উচিত l গাফিলতি করা উচিত নয় l এই পড়াকে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় l উল্টাপাল্টা কথা শুনিয়ে একে অপরের বিশ্বাসঘাতকও হয়ে যায় l পরমতে চলা উচিত নয় l শ্রীমতের জন্য যে যা খুশীই বলুক না কেন, তোমরা তো নিশ্চিত যে, বাবা আমাদের পড়ান তাই এই পড়া ছেড়ে দেওয়া উচিত নয় l বাচ্চারা তো নম্বর অনুসারে, বাবা এক নম্বরে l এই পড়া ছেড়ে আর কোথায় যাবে ? আর কোথাও এই পড়া পাবে না l তোমাদের শিববাবার কাছেই পড়তে হবে l কামাইও শিববাবার থেকেই করতে হবে l কেউ কেউ উল্টাপাল্টা কথা শুনিয়ে অন্যদের মুখ ঘুরিয়ে দেয় l এই ব্যাঙ্ক হলো শিববাবার l মনে করো কেউ যদি বাইরে সৎসঙ্গ শুরু করে, আর ভাবে শিববাবার ব্যাঙ্কে জমা করবে তাহলে তা কিভাবে করবে ? যে বাচ্চারা আসে তারা শিববাবার ব্যাঙ্কেই জমা করে l এক পয়সাও যদি দান করে তাহলে তার শতগুণ ফেরৎ পায় l শিববাবা বলেন, তোমরা এর পরিবর্তে মহল পাবে l এই সম্পূর্ণ পুরানো দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে l ধনবান ব্যক্তিও অনেক আসে l এমন কেউই বলে না যে, আমাদের শিববাবার ভাণ্ডার থেকে পালন হয় না l এখানে সকলেরই পালন হচ্ছে l তার মধ্যে কেউ গরীব, কেউ আবার ধনবান l ধনবান ব্যক্তির সঙ্গে সঙ্গে গরীবদেরও পালন করা হয়, এতে ভয়ের কোনো কথা নেই l অনেকেই চায় যে, আমরা বাবার হয়ে যাই কিন্তু তারজন্য উপযুক্ত তো হতে হবে l স্বাস্থ্যবানও চাই l জ্ঞানও যেন তারা শোনাতে পারে l গভর্নমেন্টও অনেক পরীক্ষা করে নেয় l তেমন এখানেও সবকিছু দেখা হয় l সার্ভিস করতে পারে কিনা l নম্বরের ক্রম অনুযায়ী তো হবেই l সকলেই তার নিজের নিজের পুরুষার্থ করছে l কেউ আবার ভালো পুরুষার্থ করতে করতে অনুপস্থিত (অ্যাবসেন্ট) হয়ে যায় l কারণে বা অকারণে আসা বন্ধ করে দেয়, তখন স্বাস্থ্যও তেমন হয়ে যায় l চিরসুস্থ হওয়ার জন্য এই সব শেখানো হয় l যার শখ আছে, যে মনে করে এই স্মরণের দ্বারাই আমাদের পাপ কেটে যাবে, তারা খুব ভালোভাবে পুরুষার্থ করে l কেউ আবার এমনিই সময় নষ্ট করে l তাই নিজেদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে l বাবা বোঝান যে, তোমরা যদি গাফিলতি করো, সেই খবর জানা যাবে -- ইনি (ব্রহ্মা) কাউকেই পড়ান না l



বাবা বলেন যে, সাত দিনে তোমাদের সুযোগ্য ব্রাহ্মণ - ব্রাহ্মণী হয়ে যেতে হবে l কেবল নামমাত্র ব্রাহ্মণ - ব্রাহ্মণীর প্রয়োজন নেই l তারাই ব্রাহ্মণ - ব্রাহ্মণী, যাদের গীতা জ্ঞান কণ্ঠস্থ থাকে l ব্রাহ্মণদের মধ্যেও নম্বরের ক্রমানুসার হয় l এখানেও তেমনই l পড়াতে মনোযোগ না থাকলে তোমরা ওখানে গিয়ে কি হবে ? প্রত্যেককেই তাদের নিজেদের পুরুষার্থ করতে হবে l সার্ভিসের প্রমাণ দেওয়া চাই, তখনই বোঝা যাবে যে, এ এমন পদ পাবে l তখন তা কল্প - কল্পান্তরের জন্য হয়ে যাবে l পড়া বা পড়ানো যদি না হয় তাহলে মনে করতে হবে যে, আমরা সম্পূর্ণ পড়িনি তাই পড়াতে পারছি না l বাবা বলেন যে, তোমরা পড়ানোর যোগ্য কেন হও না l কিসের জন্য একজন ব্রাহ্মণীকে পাঠাবো ? তোমাদের সকলকে নিজের সমান তৈরী করতে হবে l যেখানে সবাই ভালোভাবে পড়াশোনা করে, তাদের সাহায্য করা প্রয়োজন l অনেকেরই নিজেদের মধ্যে মতভেদ থাকে l কেউ আবার একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়া ছেড়ে দেয় l তোমরা যেমন করবে, তেমনই পাবে l একে অপরের কথা শুনে তোমরা পড়া কেন ছেড়ে দাও ? এ হলো ড্রামা l ভাগ্যে হয়তো নেই l দিনে দিনে এই পড়া আরো জোর হয়ে যাবে l সেন্টার খুলতে থাকবে l এ শিববাবার খরচ নয় l সম্পূর্ণই বাচ্চাদের খরচ l এই দান হলো সবথেকে ভালো l ওই দানে অল্পসময়ের সুখ পাওয়া যায় আর এই দানে ২১ জন্মের প্রালব্ধ পাওয়া যায় l তোমরা জানো যে, আমরা এখানে আসি নর থেকে নারায়ণ হওয়ার জন্য l তাই যে খুব ভালোভাবে পড়ে তাকে অনুসরণ করো l কত নিয়মিত ভাবে পড়ার প্রয়োজন l বেশীরভাগ দেহ - ভাবে এসে মানুষ লড়াই করে l নিজের ভাগ্যের প্রতি বিরক্ত হয় তাই বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মায়েরাই ভূমিকা নেয় l মায়েদের নামই তো উজ্জ্বল হয় l ড্রামাতে মায়েদের উন্নতিও লিপিবদ্ধ আছে l



বাবা তাই তাঁর মিষ্টি - মিষ্টি বাচ্চাদের বলেন, নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে স্মরণ করো l আত্ম - অভিমানী হয়ে থাকো l তোমাদের শরীরই নেই তাহলে অন্যেরটা শুনবে কি করে l এই কথা দৃঢ়ভাবে অভ্যাস করো যে, আমরা আত্মা, আমাদের ফিরে যেতে হবে l বাবা বলেন যে, এই সবকিছু ত্যাগ করো, বাবাকে স্মরণ করো l এই স্মরণের উপরেই সবকিছু নির্ভর করছে l বাবা বলেন, কাজ কারবার যদিও বা করো, আট ঘণ্টা কাজ, আট ঘণ্টা আরাম আর বাকি আট ঘণ্টা এই গভর্নমেন্টের সার্ভিস করো l এও তোমরা আমার নয়, সম্পূর্ণ বিশ্বের সেবা করো, এর জন্য সময় বের করো l মুখ্য হলো স্মরণের যাত্রা l সময় নষ্ট করা উচিত নয় l ওই গভর্ণমেন্টের আট ঘণ্টা সার্ভিস করো, ওতে তোমরা কি পাও l দুই হাজার বা পাঁচ হাজার ----এই গভর্ণমেন্টের সার্ভিস করলে তোমরা পদ্মপতি হয়ে যাও l তাই কতটা মন থেকে সেবা করা উচিত l আট রত্ন যদি হও তাহলে অবশ্যই আট ঘণ্টা বাবাকে স্মরণ করবে l ভক্তি মার্গে মানুষ অনেক স্মরণ করে, সময় নষ্ট করে, কিন্তু কিছুই পায় না l গঙ্গাস্নান, জপ - তপ ইত্যাদি করলে বাবাকে পাওয়া যায় না যে তাঁর অবিনাশী উত্তরাধিকার পাবে l এখানে তো তোমরা বাবার কাছ থেকে আশীর্বাদী বর্সা পাও l আচ্ছা l



মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণ স্নেহ ও গুডমর্নিং। ঈশ্বরীয় পিতা ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. শ্রীমত ছেড়ে কখনো পরমতে চলবে না l উল্টোপাল্টা কথা শুনে কখনো পড়া থেকে মুখ ঘুরিয়ে নেবে না l কখনো মতভেদে আসবে না l

২. নিজেকে যাচাই করো যে, আমরা কোনো গাফিলতি করছি না তো ? পড়াতে সম্পূর্ণ মনোযোগ আছে তো ? সময় ব্যর্থ নষ্ট করিনা তো ? আমরা কি আত্ম - অভিমানী হয়েছি ? মন থেকে রুহানী সেবা করি কি ?

বরদান:-

পুরানো সংস্কার এবং সংসারের সম্পর্কের আকর্ষণ থেকে মুক্ত থেকে ডবল লাইট ফরিস্তা ভব |

ফরিস্তা অর্থাৎ পুরানো সংসারের আকর্ষণ মুক্ত, না সম্বন্ধ - রূপে আকর্ষণ থাকবে, না নিজের দেহের প্রতি বা কোনো দেহধারী ব্যক্তি অথবা বস্তুর প্রতি আকর্ষণ থাকবে, এমনই পুরানো সংস্কারের আকর্ষণ থেকেও মুক্ত - সঙ্কল্প, বৃত্তি বা বাণীর রূপে কোনো সংস্কারের আকর্ষণ যেন না থাকে l যখন এমন সর্ব আকর্ষণ থেকে, অথবা ব্যর্থ সময়, ব্যর্থ সঙ্গ, ব্যর্থ পরিবেশ থেকে মুক্ত হতে পারবে তখন বলা হবে ডবল লাইট ফরিস্তা l

স্লোগান:-

শান্তির শক্তি দ্বারা সর্ব আত্মার পালনাকারীই হলেন রুহানী সোশ্যাল ওয়ার্কার* l