05-07-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 20-02-86 মধুবন


"উড়তি কলার দ্বারা সকলের মঙ্গল"


আজ বাপদাদা ডবল বিদেশি বাচ্চাদের ডবল অভিনন্দন জানাতে এসেছেন l এক, দূরদেশে ভিন্ন ধর্মে গিয়েও ভারতের নিকটবর্তী আত্মাদের থেকে তোমরা অনেক তাড়াতাড়ি বাবাকে চিনেছ l চির পরিচিতকে স্বীকার করে নেওয়ার অর্থাৎ নিজের ভাগ্যকে প্রাপ্ত করার অভিনন্দন, দ্বিতীয়তঃ, যেমন বাবাকে অবিলম্বে চিনেছ, ঠিক তেমনই তীব্রগতিতে নিজেকে সেবায় নিয়োজিত করেছ l সুতরাং, সেবায় তীব্রগতিতে এগিয়ে যাওয়ার অভিনন্দন l সেবায় বৃদ্ধির গতি তীব্র হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও ডবল বিদেশি বাচ্চাদের বিশেষ কার্যে নিমিত্ত হতে হবে l ভারতের আদি নিমিত্ত রত্ন বিশেষ আত্মারা স্থাপনের কার্যে অনেক মজবুত ফাউন্ডেশন হয়ে স্থাপনের কার্য করেছে, আর ডবল বিদেশি বাচ্চারা তীব্রগতিতে চারিদিকে আওয়াজ ছড়িয়ে দেওয়ার সেবা করেছে আর করতেও থাকবে l বাচ্চারা, সবাই তোমরা আসার সাথে সাথেই জন্ম নিয়ে ক্ষিপ্রতার সঙ্গে সেবায় এগিয়ে যাওয়ার কারণে বাপদাদা বাচ্চারা, তোমাদের সবাইকে বিশেষ অভিনন্দন জানাচ্ছেন l স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন দেশে সেবার বিস্তার করেছে, সেইজন্য আওয়াজ ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ সহজেই বৃদ্ধি পাচ্ছে l আর সদা ডবল লাইট হয়ে দ্বিমুকুটধারী হওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার প্রাপ্ত করার তীব্র পুরুষার্থ অবশ্য করবে l আজ বাপদাদা বিশেষ মিলনের জন্য এসেছেন l বাপদাদা দেখছেন, সবার হৃদয়ে খুশির বাজনা বাজছে l বাচ্চাদের খুশির সুর, খুশির গীত বাপদাদা শুনতে পাচ্ছেন l স্মরণ আর সেবায় তোমরা একাগ্রচিত্তে এগিয়ে যাচ্ছ l স্মরণও আছে, সেবাও আছে কিন্তু এখন অ্যাডিশন কি হওয়া উচিত ? দুইই আছে, কিন্তু সদা দুইয়ের মধ্যে ব্যালেন্স থাকতে দাও l এই ব্যালেন্স নিজেকে আর সেবায় বাবার ব্লেসিংসের অনুভাবী বানায় l সেবায় উৎসাহ-উদ্দীপনা থাকে l তাছাড়া, এখন সেবাতে স্মরণ আর সেবার ব্যালেন্স রাখায় অতি তীব্রতার সঙ্গে বিশ্বে আওয়াজ ধ্বনিত হবে l তোমরা ভালোভাবে বিস্তার করেছ l বিস্তারের পরে কি করা হয় ? বিস্তারের পরে অধিকতর সেবার সারের জন্য বিশেষ আত্মাদের নিমিত্ত বানাতে হবে, যাতে এই বিশেষ আত্মারা ভারতের বিশেষ আত্মাদের জাগিয়ে তুলতে পারে l এখন ভারতেও সেবার রূপরেখা সময় অনুযায়ী উন্নতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে l নেতারা, ধর্মনেতারা এবং সেইসঙ্গে অভিনেতারাও সম্পর্কে আসছে l বাকী কে রইলো ? তারা সম্পর্কে তো আসছে, নেতারাও আসছে কিন্তু বিশেষভাবে রাজনৈতিক নেতাদের নিকট সম্পর্কে আনতে সঙ্কল্প উৎপন্ন হতেই হবে l

ডবল বিদেশি সব বাচ্চা উড়তি কলায় যাচ্ছ, তাই না ! তোমরা উত্তরণ কলায় নও, তাই তো ! উড়তি কলা আছে ? উড়তি কলা হওয়া অর্থাৎ সবার ভালো হওয়া l যখন সব বাচ্চাদের একরস উড়তি কলা হবে তখন সবার ভালো হবে অর্থাৎ পরিবর্তনের কার্য সম্পন্ন হয়ে যাবে l এখন উড়তি কলা, কিন্তু উড়তি কলার সাথে সাথে বিভিন্ন মাত্রার স্টেজ আছে l কখনো খুব ভালো স্টেজ আবার কখনো স্টেজ তৈরি হওয়ার জন্য পুরুষার্থ করার স্টেজ l যখন মেজরিটি সদা উড়তি কলা হয়, এর অর্থ সমাপ্তি হওয়া l এখন সব বাচ্চারা জানে যে উড়তি কলাই শ্রেষ্ঠ স্থিতি l উড়তি কলাই কর্মাতীত স্থিতিকে প্রাপ্ত করার স্থিতি l উড়তি কলাই দেহের মধ্যে থেকে দেহ থেকে পৃথক হয়েও বাবার এবং সেবায় প্রিয় হওয়ার স্থিতি l উড়তি কলাই বিধাতা আর বরদাতা স্টেজের স্থিতি l উড়তি কলাই চলতে-ফিরতে ফরিস্তা অথবা দেবতা উভয় রূপের সাক্ষাৎকার করানোর স্থিতি l

উড়তি কলা সকল আত্মাদের ভিখারিপনা থেকে নিষ্কৃতি দিয়ে বাবার অবিনাশী উত্তরাধিকারের অধিকারী বানায় l সকল আত্মা অনুভব করবে, তাদের ইষ্ট দেব বা ইষ্ট দেবীগণ অথবা নিমিত্ত হওয়া যে আরও অনেক দেবতাগণ আছেন, সবাই এই ধরিত্রীতে অবতরিত হয়েছেন l সত্যযুগে তো সবাই সদগতিতে থাকবে কিন্তু এই সময় যে আত্মারা আছে তোমরা তাদের জন্য হলে সদগতি দাতা l যেমন, যে কোনও ড্রামা যখন সমাপ্ত হয়, তখন শেষে সব অ্যাক্টর স্টেজে আসে l এখন কল্পের ড্রামা সমাপ্ত হওয়ার সময় হয়ে আসছে l সারা বিশ্বের আত্মাদের হয় স্বপ্নে, নয়তো এক সেকেন্ডের ঝলকে, অথবা চারিদিকে প্রত্যক্ষতার আওয়াজ দ্বারা এটা অবশ্যই সাক্ষাৎকার হবে যে এই ড্রামার হিরো পার্টধারী স্টেজে প্রত্যক্ষ হয়েছে l ধরিত্রীর নক্ষত্র ধরিত্রীতে প্রত্যক্ষ হয়ে গেছে l সবাই নিজ নিজ ইষ্ট দেবকে প্রাপ্ত করে খুশি হবে l তারা আশ্রয় লাভ করবে l ডবল বিদেশিও ইষ্ট দেব আর ইষ্ট দেবীর মধ্যে আছ, তাই না ! নাকি গোল্ডেন জুবিলির ? তোমরাও তার মধ্যে আছ নাকি দর্শক তোমরা ? যেমন এখন গোল্ডেন জুবিলির দৃশ্য দেখেছ l এটা তো একটা আমোদজনক পার্ট প্লে করেছে l কিন্তু ফাইনাল দৃশ্যে তো তোমরা সাক্ষাৎকার করাবে, নাকি শুধুই দর্শক হবে ? কি হবে তোমরা ? তোমরা হিরো অ্যাক্টর, তাই না ! এখন ইমার্জ করো সেই দৃশ্য কেমন হবে ! এই অন্তিম দৃশ্যের জন্য এখন ত্রিকালদর্শী হয়ে দেখ, কতো সুন্দর দৃশ্য হবে আর কতো সুন্দর হবে তোমরা l দিব্য সাজে সুসজ্জিত হয়ে গুণমূর্তি ফরিস্তা তথা দেবতা হবে, সেইজন্য এখন থেকে নিজেকে সদা ফরিস্তা স্বরূপের স্থিতিতে দেখতে অভ্যাস কর, আর নিরন্তর এগিয়ে চলো l যে চারটে বিষয় আছে - জ্ঞানমূর্তি, নিরন্তর স্মৃতিমূর্তি, সর্ব দিব্য গুণমূর্তি হওয়া, এই দিব্য গুণের একটাও কম হলে তবে ১৬ কলা সম্পন্ন বলা যাবে না l ১৬ কলা সম্পূর্ণ, সর্ব গুণসম্পন্ন ও সর্ব শক্তিসম্পন্ন - এই তিনেরই মহিমা আছে l সর্বগুণসম্পন্ন বলো, সম্পূৰ্ণ নির্বিকার বলো আর ১৬ কলা সম্পন্ন বলো - এই তিন বিশেষত্ব প্রয়োজন l ১৬ কলা অর্থাৎ তোমাদের সম্পূর্ণ ও সম্পন্ন হতে হবে এবং সর্বগুণ থাকতে হবে l সুতরাং এটা চেক কর l তোমাদের বলা হয়েছিল যে এই বছর বহুকালের হিসেবে জমা হওয়ার আছে, এরপরে বহুকালের হিসেব সমাপ্ত হয়ে যাবে, তারপরে বলা হবে অল্পকাল, বহুকাল নয় l বহুকালের পুরুষার্থের লাইনে এসো l তখনই বহুকালের রাজ্যভাগ্য প্রাপ্ত করার অধিকারী হবে l দু'চার জন্মও যদি কম হয় তাহলে বহুকালের হিসেবে গুনতি হবে না l প্রথম জন্ম হতে হবে এবং প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সুখ হবে l ওয়ান-ওয়ান-ওয়ান হবে l সবকিছুতে ওয়ান হবে l সেইজন্য কি করতে হবে ? সেবাও নম্বর ওয়ান, স্থিতিও নম্বর ওয়ান, তবেই তো ওয়ান ওয়ানে আসবে, তাই না ! সুতরাং সত্যযুগের আদিতে নম্বর ওয়ান আত্মার সঙ্গে এবং নম্বর ওয়ান জন্মে তোমরা তোমাদের পার্ট তথা ভূমিকা পালন করবে l তাহলে সম্বতও তোমরা আরম্ভ করবে ! শুধুমাত্র যারা প্রথম জন্ম নেবে তারাই প্রথম তারিখ, প্রথম মাস, প্রথম সম্বত শুরু করবে l অতএব, ডবল বিদেশি নম্বর ওয়ানে আসবে, তাই না ! আচ্ছা - ফরিস্তা ড্রেস কীভাবে পরতে হয় জানো তোমরা ! এই ড্রেস ঝিলমিল করে l এই স্মৃতি ও স্বরূপ হওয়া অর্থাৎ ফরিস্তা ড্রেস পরিধান করা l ঝলমলে জিনিস দূর থেকেই আকর্ষণ করে l সুতরাং এই ফরিস্তা ড্রেস অর্থাৎ ফরিস্তা স্বরূপ অনেক দূর পর্যন্ত আত্মাদের আকৃষ্ট করবে l আচ্ছা !

আজ ইউ. কে.র টার্ন l ইউ. কে. থেকে আগতদের বিশেষত্ব কি ? সত্যযুগেও লন্ডনকে তোমাদের রাজধানী বানাবে, নাকি পর্যটন-স্থান বানাবে ? এটা তো ইউনাইটেড কিংডম, তাই না ! ওখানেও কিংডম বানাবে, নাকি কিংস গিয়ে শুধু ঘুরে বেড়াবে ? যতই হোক, এখনও তো কিংডম বলে, তাই না ! সুতরাং এই সময় সেবারই তো কিংডম l সমগ্র বিদেশের সেবার নিমিত্ত রাজধানী তো বটেই ! কিংডম নাম তো ঠিকই আছে, নয় কি ! এই কিংডম সবাইকে ইউনাইট করবে l সব আত্মাকে বাবার সাথে মিলন করানোর রাজধানী l ইউ. কে. থেকে যারা, তাদের বাবা বলেন, তোমরা ও.কে. থাকো l তোমাদের মধ্যে যে কোন কাউকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, তোমরা বলবে ও.কে., এইরকমই তো, তাই না ? দীর্ঘশ্বাস ফেলে এইরকম তো বলবে না, হ্যাঁ ঠিকই তো আছি, আর তোমরা যখন ঠিক থাক তখন উৎসাহের সাথে বলো, হ্যাঁ ও.কে., ও.কে. l ও.কে. বলার মধ্যে ফারাক তো হয়ই l সুতরাং সঙ্গমযুগের রাজধানী, সেবার রাজধানী, যাতে রাজ্য সত্ত্বা অর্থাৎ রয়্যাল ফ্যামিলির জন্য প্রস্তুত হওয়ার প্রেরণা চারিদিকে যেন ছড়িয়ে পড়ে l তাহলে রাজধানীতে রাজ্য অধিকারী বানানোর রাজ্য- স্থান তৈরি হয়েছে, নয় কি ! সেইজন্য বাপদাদা প্রত্যেক দেশের বিশেষত্বকে বিশেষ রূপে স্মরণ করেন এবং সেই বিশেষত্ব দ্বারা ক্রমাগত অগ্রচালিত করেন l বাপদাদা দুর্বলতা দেখেন না, শুধু ইশারা দেন l খুব ভালো খুব ভালো বলতে বলতে খুব ভালো হয়ে যায় l তুমি শক্তিহীন তুমি শক্তিহীন যদি বলা হয় তাহলে শক্তিহীন হয়ে যায় l এক তো প্রথমে শক্তিহীন হয়, দুই, কেউ যদি সেটা বলে দেয় তো মূর্ছা যায় l যতই কেউ মূর্ছিত হোক না কেন, তার শ্রেষ্ঠ স্মৃতির, বিশেষত্বের স্মৃতির সঞ্জীবনী বুটি খাওয়ালেই মুর্ছিত সজীব হয়ে যাবে l সঞ্জীবনী বুটি তোমাদের সবার কাছেই তো আছে, তাই না ! সুতরাং বিশেষত্বের স্বরূপের দর্পণ তার সামনে রাখো, কারণ সব ব্রাহ্মণ আত্মাই বিশেষ l কোটি কোটির মধ্যে কেউ, তাই না ! তাহলে বিশেষই তো হলো, না ! শুধু সেই সময় নিজের বিশেষত্ব ভুলে যায় l সেই স্মৃতি জাগিয়ে তুললে বিশেষ আত্মা হয়েই যাবে l আর যত বিশেষত্বের বর্ণন করবে, তখন তার নিজেরই নিজের ক্ষীণশক্তি আরও বেশি স্পষ্ট অনুভব হবে l তোমাদের সেইসব তাদেরকে মনে করিয়ে দেওয়ার প্ৰয়োজন হবে না l যদি তোমরা কাউকে তার ক্ষীণশক্তির ব্যাপারে বলো তবে সে লুকাবে l এড়িয়ে যাবে, বলবে - 'আমি এইরকম নই l' তোমরা বিশেষত্ব শোনাও l যতক্ষণ পর্যন্ত দুর্বলতা নিজেই না অনুভব করে, ততক্ষণ পরিবর্তন করতে পারবে না l এমনকি পঞ্চাশ বছর ধরে তাদের জন্য পরিশ্রম করলেও না l সেইজন্য এই সঞ্জীবনী বুটি দ্বারা মূর্ছিতকেও সজীব করার উড়ে চলো আর উড়িয়ে চলো l এটাই ইউ.কে.করে, তাই না ? আচ্ছা -

লন্ডন থেকে অন্যান্য স্থানে কতো গেছে ? ভারত থেকে তো গেছে, লন্ডন থেকে কতো গেছে ? অস্ট্রেলিয়া থেকে কতো গেছে ? অস্ট্রেলিয়াও বৃদ্ধি পেয়েছে আর কোথায় কোথায় গেছে ? জ্ঞান গঙ্গা যত দূর-দূরান্তে বয়ে যায়, ততই ভালো l ইউ. কে., অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, ইউরোপে কতো সেন্টার আছে ? (সবাই নিজের নিজের সংখ্যা বলেছে )

এর মানে তো বৃদ্ধি প্রাপ্ত হচ্ছে l কোনও বিশেষ স্থান কি থেকে গেছে ? (অনেক আছে) আচ্ছা সেইগুলোর প্ল্যানও বানাচ্ছ তো ? বিদেশের এই লিফ্ট আছে, খুব সহজে সেন্টার খুলতে পারে l লৌকিক সেবাও করতে পারে আর অলৌকিক সেবার নিমিত্তও হতে পারে l ভারতে যদিও আমন্ত্রণপূর্বক সেন্টার স্থাপনের বিশেষত্ব আছে কিন্তু বিদেশে নিজেই নিজেকে নিমন্ত্রণ করে l বিদেশি তোমরা নিমন্ত্রণও করো নিজেকে আর পৌঁছেও যাও নিজে নিজেই, তাইতো সেবাতে সহজ বৃদ্ধির জন্য তোমরা এই লিফ্টও পেয়েছ l যেখানেই যাও দু'তিনজন একসাথে সেখানে স্থাপনার নিমিত্ত হতে পার আর হতেও থাকবে এই ড্রামা অনুসারে l এটা গিফ্ট বলো, লিফ্ট বলো তোমরা পেয়েছ l কারণ অল্প সময়ের মধ্যে সেবা সমাপ্ত করতে হবে l সুতরাং যদি তীব্রগতি হয় তবেই তো সময়ে সমাপ্ত হতে পারে l ভারতের বিধি আর বিদেশের বিধিতে পার্থক্য আছে, সেইজন্য বিদেশে তাড়াতাড়ি বৃদ্ধি হচ্ছে আর হতেও থাকবে l একই দিনে অনেক সেন্টারই খুলতে পারে l বিদেশবাসী নিমিত্তদের চতুর্দিকে সেবার চান্স সহজ l ভারতে দেখ ভিসা পেতেও তাদের কতো মুশকিল হয় l সুতরাং বিদেশে যারা আছে তারা ওখানেই সেবার নিমিত্ত হয়, সেইজন্য সেবার চান্স থাকে l যেমন লাস্ট তথা ফাস্ট যাওয়ার চান্স আছে, সেইরকম সেবার চান্সও ফাস্ট প্রাপ্ত হয়েছে l সেইজন্য অনুযোগ থাকবে না যে তুমি পরে এসেছ l যারা পরে আসে তাদের ফাস্ট যাওয়ার বিশেষ চান্স থাকে, সেইজন্যই তোমরা প্রত্যেকে সেবাধারী l তোমরা কি সবাই সেবাধারী, নাকি সেন্টারে থাকা সেবাধারী ? তোমরা যেখানেই থাক, সেবা ব্যতীত আরাম হতে পারে না l সেবাই আরাম-নিদ্রা l বলা হয়, আরামে শোওয়াই জীবন l সেবাকে আরাম-নিদ্রা বলো, শোওয়া বলো, সেবা না থাকলে আরাম-নিদ্রাও নেই l তোমাদের বলা হয়েছিল না যে সেবা শুধু বাণীর নয়, প্রতিটা সেকেন্ড সেবা l প্রতিটা সঙ্কল্পে সেবা l কেউ এমন বলতে পারে না - ভারতবাসী বা বিদেশি কোনও ব্রাহ্মণ এটা বলতে পারে না যে তাদের সেবার চান্স নেই l যদি তোমরা অসুস্থও হও তখনও মন্সা সেবা দ্বারা বায়ুমন্ডল বানানোর সেবা, ভাইব্রেশন ছড়ানোর সেবা তো করতেই পার l যেকোনো ধরণের সেবা কর, কিন্তু সেবাতেই বিজি থাকতে হবে l সেবা তোমাদের জীবন l ব্রাহ্মণ হওয়া অর্থাৎ সেবাধারী হওয়া l আচ্ছা !

যারা সদা উড়তি কলা তথা সবার ভালো থাকার স্থিতিতে স্থিত থাকে, সদা নিজেকে ফরিস্তা অনুভব করে, সদা বিশ্বের সামনে ইষ্ট দেবরূপে প্রত্যক্ষ হয়, দেব আত্মারা যারা সদা নিজেকে বিশেষ আত্মা মনে করে অন্যদেরও বিশেষত্বের অনুভব করায়, এমন বিশেষ আত্মাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l

*পাটিদের সাথে :-* সদা নিজেকে কর্মযোগী অনুভব কর ? কর্মযোগী জীবন অর্থাৎ সব কাজ করার মধ্যেই সদা স্মরণের যাত্রায় থাকা l এই শ্রেষ্ঠ কার্য শ্রেষ্ঠ বাবার বাচ্চারাই করে আর সদা সফল হয় l তোমরা সবাই কর্মযোগী আত্মা, তাই না ! কর্মে থেকে পৃথক হয়েও প্রিয় হওয়া - সদা এই অভ্যাসে নিজেকে অগ্রচালিত করা l নিজের সাথে সাথে বিশ্বের প্রতিও তোমাদের সকলের দায়িত্ব আছে l কিন্তু সেইসব স্থূল সাধন l কর্মযোগী জীবনের সাথে সদা এগিয়ে চলো আর অন্যদেরও অগ্রচালিত কর l এই জীবন অতি প্রিয় জীবন l সেবাও হয় খুশিও হয় l একই সময়ে এই দুইই তোমাদের সাথে সাথে থাকে, তাই না ? গোল্ডেন জুবিলি তো সবার l গোল্ডেন অর্থাৎ সতঃপ্রধান স্থিতিতে স্থিত থাকা l সুতরাং সদা নিজেকে এই শ্রেষ্ঠ স্থিতি দ্বারা সামনে অগ্রচালিত কর l সবাই খুব ভালোভাবে সেবা করেছ, তাই না ! সেবার চান্সও এখনই প্রাপ্ত হয়, তারপরে এই চান্স সমাপ্ত হয়ে যায় l সুতরাং সদা সেবায় এগিয়ে চলো l আচ্ছা !
 

বরদান:-
বাবার ছত্রছায়ার অনুভব দ্বারা বিঘ্ন-বিনাশকের ডিগ্রি নিয়ে অনুভাবী-মূর্ত ভব

যেখানে বাবা সাথে আছেন সেখানে কেউ কিছুই করতে পারে না l এই সাথের অনুভবই ছত্রছায়া হয়ে যায় l বাপদাদা বাচ্চাদের সদা রক্ষা করেনই l পেপার আসে তোমাদের অনুভাবী বানানোর জন্য, সেইজন্য সদাই বোঝা উচিত যে এই পেপার ক্লাসকে উন্নতির দিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আসছে l এতেই সদাসর্বদার জন্য বিঘ্ন বিনাশকের ডিগ্রি আর অনুভাবী-মূর্ত হওয়ার বরদান তোমরা লাভ করবে l যদি এখন কেউ সামান্য হৈ চৈ করেও বা বিঘ্নও উৎপন্ন করে তাহলে ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে যাবে l

স্লোগান:-
যারা প্রয়োজনের সময় সহযোগী হয় তাদের একের পদমগুন ফল লাভ হয় l