০৬-০১-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ ০৮-০৪-৮৪ মধুবন


সঙ্গমযুগের অধিকার প্রাপ্তির দ্বারা বিশ্ব রাজ্যের অধিকারী হওয়া

বাপদাদা আজ স্বরাজ্য অধিকারী শ্রেষ্ঠ আত্মাদের দিব্য দরবার দেখছেন l তোমরা শ্রেষ্ঠ আত্মারা, বিশ্ব রাজত্বের দরবার এবং স্বরাজ্য, উভয় দরবারের অধিকারী হও l স্বরাজ্য অধিকারীই বিশ্ব-রাজত্বের অধিকারী হয়ে ওঠে l এই ডবল নেশা সবসময় থাকে তোমাদের ? বাবার হওয়া অর্থাৎ অনেক অধিকারের প্রাপ্তি l কতো রকম অধিকার প্রাপ্ত করেছো, জানো তোমরা ? তোমাদের অধিকারের মালা স্মরণ করো l প্রথম অধিকার- তোমরা ঈশ্বরীয় সন্তান হয়েছো অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ মাননীয় পূজন যোগ্য আত্মা হওয়ার অধিকার লাভ করেছো l বাবার বাচ্চা হওয়া ব্যতীত পূজ্য আত্মা হওয়ার অধিকার প্রাপ্ত হতে পারে না l সুতরাং, প্রথম অধিকার- তোমরা পূজন যোগ্য আত্মা হয়েছো l দ্বিতীয় অধিকার - জ্ঞান-ভান্ডারের মালিক হয়েছো অর্থাৎ অধিকারী হয়েছো l তৃতীয় অধিকার - সর্বশক্তি প্রাপ্তির অধিকারী হয়েছো l চতুর্থ অধিকার- সর্ব কর্মেন্দ্রিয়জিৎ স্বরাজ্য অধিকারী হয়েছো l এই সমস্ত অধিকারের সাথে তুমি মায়াজিৎ তথা জগৎজিত হয়ে, বিশ্ব রাজত্বের অধিকারী হও l সুতরাং, এই সকল অধিকার সদা তোমার স্মৃতিতে রেখে, তুমি সমর্থ আত্মা হয়ে ওঠো l এইরকম সমর্থ আত্মা হয়েছো তোমরা, তাই না !



স্বরাজ্য বা বিশ্বের রাজত্ব প্রাপ্ত করার জন্য বিশেষভাবে তিনটে বিষয়ের ধারণার মাধ্যমেই তোমরা সাফল্য অর্জন করতে পারো l যে কোনও শ্রেষ্ঠ কার্যের সাফল্যের আধার ত্যাগ, তপস্যা আর সেবা l এই তিন বিষয়ের আধারে সফলতা হবে কি হবে না, এই কোশ্চেন হতেই পারে না l যেখানে তিন বিষয়ের ধারণা আছে, সেখানে সেকেন্ডে সফলতা নিশ্চিত, এটা আগে থেকেই সম্পন্ন হয়ে আছে l ত্যাগ স্বীকার কোন বিষয়ে ? শুধু একটা বিষয়ের ত্যাগ, সহজে এবং স্বভাবতঃই সকল ত্যাগ করতে তোমাদের সমর্থ করে তুলবে l সেই ত্যাগ হলো, দেহ-অভিমানের ত্যাগ, যা সীমিত পরিসরের (হদ) আমিত্ব ভাবের ত্যাগ সহজে করিয়ে দেয় l হদের এই আমিত্ব ভাব তপস্যা আর সেবা থেকে তোমাকে বঞ্চিত রাখে l যেখানে সীমিত পরিসরের আমিত্ব ভাব থাকে, সেখানে ত্যাগ, তপস্যা আর সেবা হতেই পারে না l হদের 'আমি' আর 'আমার' বোধ, এই এক বিষয়ের ত্যাগ প্রয়োজন l যখন 'আমি' আর 'আমার' সমাপ্ত হয়ে গেছে তো বাকি কি থাকলো? যা বেহদের, *"আমি এক শুদ্ধ আত্মা"* আর *"আমার তো এক বাবা, দ্বিতীয় কেউ নেই"* l সুতরাং যখন বেহদের বাবা সর্বশক্তিমান তোমাদের সাথে আছেন, সেখানে তোমাদের সাফল্য নিশ্চিত l এই ত্যাগের দ্বারা তোমাদের তপস্যাও নিজে থেকেই সাফল্য লাভ করেছে, তাই না ! তপস্যা কি ? আমি একের l আমি শুধুমাত্র একের শ্রেষ্ঠ মত অনুসরণ করে চলি l এর দ্বার একরস স্থিতি নিজে থেকেই হয়ে যায় l সদা এক পরমাত্মার স্মৃতি থাকাই তপস্যা l একরস স্থিতিই তোমার শ্রেষ্ঠ আসন l কমল পুষ্পের মতো হওয়ার স্থিতিই তোমার তপস্যার আসন l ত্যাগের মাধ্যমে তপস্যাও নিজে থেকেই সফল হয়ে যায় l তোমরা যখন ত্যাগ আর তপস্যার প্রতিমূর্তি হয়ে যাবে, তখন কি করবে ? আপন ভাবের ত্যাগ অর্থাৎ আমিত্ব বোধ সমাপ্ত তখন হয়ে যাবে l একের ভালোবাসায় একনিষ্ঠ তোমরা যখন তপস্বী হয়ে যাও তো সেবা ব্যতীত তোমরা থাকতে পারো না l সীমিত পরিসরের এই 'আমি' আর 'আমার' তোমাদেরক প্রকৃত সেবা করতে দেয় না l ত্যাগী আর তপস্বীমূর্ত প্রকৃত সেবাধারী l 'আমি এই করেছি, আমি এইরকম', এই দেহ-ভাব যখন তোমাদের একটুও থাকে, তোমরা সেবাধারী হওয়ার পরিবর্তে কি হও? শুধু নামে মাত্র তোমরা সেবাধারী হও, প্রকৃত সেবাধারী হয়ে উঠতে পারো না l প্রকৃত সেবার ফাউন্ডেশন হলো ত্যাগ আর তপস্যা l এইরকম ত্যাগী তপস্বী সেবাধারী সদা সফলতার প্রতিমূর্তি l বিজয়, সাফল্য তাদের গলার মালা হয়ে যায় l জন্মসিদ্ধ অধিকারী হয়ে যায় l সুতরাং বাপদাদা বিশ্বের সকল বাচ্চাকে এই শিক্ষা দিচ্ছেন, ত্যাগী হও, তপস্বী হও, প্রকৃত সেবাধারী হও l



আজকের দুনিয়া মৃত্যু ভয়ে পরিপূর্ণ l (ঝড় উঠেছে) প্রকৃতি অস্থির হলেও, তোমরা স্থির, (অনড়), তাই না ! তমোগুণী প্রকৃতির কাজ হলো অস্থিরতা তৈরি করা, আর তোমরা সব অনড় আত্মার কাজ প্রকৃতিকে পরিবর্তন করা l নাথিং নিউ ! যেভাবেই হোক, এই সবকিছু হওয়ারই আছে l অস্থিরতার মধ্যেই তো তোমরা অনড় থাকবে l সুতরাং, স্বরাজ্য দরবারের অধিকারী-অধিবাসী, তোমরা শ্রেষ্ঠ আত্মারা বুঝেছো ! এটাও রাজ্য দরবার, তাই না ! রাজযোগী অর্থাৎ স্ব-এর রাজা l রাজযোগী দরবার অর্থাৎ স্বরাজ্য দরবার l সবাই তোমরা রাজনেতা হয়ে গেছ, তাই না ! তারা দেশের রাজনেতা আর তোমরা স্বরাজ্য নেতা l নেতা অর্থাৎ যারা যথার্থ নীতি অনুসরণ ক'রে চলে l সুতরাং, তোমরা ধর্মনীতি, স্বরাজ্য নীতি অনুসরণকারী স্বরাজ্য নেতা l যথার্থ শ্রেষ্ঠ নীতিসমূহই শ্রীমৎ l শ্রীমতই যথার্থ নীতি l এই যথার্থ নিয়মনীতি অনুসরণকারীই সফল নেতা l



বাপদাদা দেশের নেতাদের অভিনন্দিত করেন কারণ তারা অন্ততপক্ষে পরিশ্রম তো করেন, তাই না ! যদিও তাদের ভ্যারাইটি আছে, তবুও দেশের প্রতি ভালোবাসা আছে l "আমার রাজ্য অমর হোক" - এই ভাবনার সাথে তারা অন্ততঃ কর্তব্যকর্ম করে, তাই না ! "আমার ভারত মহান" - এই দেশভক্তি নিজে থেকেই কাজকর্ম (পরিশ্রম) করতে তাদের উৎসাহিত করে l এখন, সময় আসবে, যে সময়ে রাজ্য সত্ত্বা আর ধর্ম সত্ত্বা উভয়ই একসাথে আসবে, তখন বিশ্বমাঝে ভারতের জয়জয়কার হবে l ভারতই হবে লাইট হাউজ l ভারতের দিকেই সবার দৃষ্টি থাকবে l বিশ্ববাসীর অনুভূত হবে, ভারতই প্রেরণা ভূমি l ভারত অবিনাশী খন্ড, অবিনাশী বাবার অবতরণ ভূমি, সেইজন্য ভারতের মহত্ব সদা মহান l আচ্ছা l



সবাই তোমরা সুইট হোমে পৌঁছে গেছ l বাপদাদা সব বাচ্চাকে এখানে আসার জন্য অভিনন্দিত করছেন l সুস্বাগতম্ ! বাবার ঘরের অলঙ্কার সুস্বাগতম্ l আচ্ছা l



সাফল্যের নক্ষত্র সকলকে, সদা একরস স্থিতির আসনে স্থিত তপস্বী বাচ্চাদের, সদা এক পরমাত্মার পবিত্র স্মরণে থাকা মহান আত্মাদের, শ্রেষ্ঠ ভাবনা এবং শ্রেষ্ঠ কামনা করে এমন বিশ্ব কল্যাণকারী সেবাধারী

বাচ্চাদের বাপদাদার স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l



*অব্যক্ত বাপদাদার সাথে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎকারঃ*



বাবার ঘরে, আপনার নিজের ঘরে স্বাগত l বাবা জানেন যে সেবায় আপনার নিষ্ঠা খুব ভালো l কোটির মধ্যে মাত্র মুষ্টিমেয় এমন সেবাধারী আছেন, সেইজন্য সেবায় পরিশ্রমের জন্য আন্তরিক খুশির রূপে অবিরতভাবে প্রত্যক্ষ ফল প্রাপ্ত হতে থাকবে l সাফল্যের আধার এই পরিশ্রম l যদি সকল নিমিত্ত সেবাধারী এই কর্তব্যকর্মকে আপন করে নেয়, তবে ভারতের রাজ্য সদাই সাফল্য অর্জন করবে l সফলতা তো অবশ্যই লাভ হবে l এটা নিশ্চিত, কারণ যারা নিমিত্ত হয়, তারা সেবার প্রত্যক্ষ ফল লাভ করে এবং ভবিষ্যৎ ফলও লাভ করে l অতএব, আপনি সেবার নিমিত্ত l নিমিত্ত হওয়ার ভাব বজায় রেখে প্রতিনিয়ত সেবাতে এগিয়ে চলুন l যেখানে নিমিত্ত ভাব আছে, আমিত্বের ভাব নেই সেখানে নিরন্তর উন্নতি হবে l নিমিত্ত হওয়ার এই ভাব নিজে থেকেই শুভ কামনা, শুভ ভাবনার জাগরণ ঘটায় l আজ দুনিয়ায় শুভ কামনা, শুভ ভাবনা অনুপস্থিত, তার কারণ নিমিত্ত হওয়ার ভাব থাকার পরিবর্তে আমিত্ব ভাবের উপস্থিতি l যদি তারা নিজেদের নিমিত্ত ভাবে, তবে করাবনহার বাবাকেও বুঝবে l করণকরাবনহার স্বামী, যা কিছু শ্রেষ্ঠ সেটা করতেই প্রেরণা দেবেন l ট্রাস্টি হওয়ার পরিবর্তে তারা রাজ্যের গার্হস্থ্য প্রবৃত্তির হয়ে গেছে, গৃহস্থ হওয়াতে বোঝা হয় আর ট্রাস্টি ভাবে হালকা বোধ হয় l যতক্ষণ না পর্যন্ত হালকা হওয়া যায়, নির্ণয় শক্তি থাকতে পারে না l যদি আপনি ট্রাস্টি ভাব বজায় রাখেন তো আপনি হালকা আর আপনার নির্ণয় শক্তিও শ্রেষ্ঠ l অতএব, সদা ট্রাস্টি হয়ে থাকতে হবে l নিমিত্ত হওয়ার ভাব ফলদায়ী l এই ভাবনার ফল অবশ্যই পাওয়া যায় l নিমিত্ত হওয়ার এই ভাবনা আপনাকে সদা শ্রেষ্ঠ ফল দিতে থাকবে l সুতরাং, আপনার সঙ্গীদের স্মরণ করিয়ে দিতে হবে, নিমিত্ত হওয়ার এবং ট্রাস্টি হওয়ার ভাব বজায় রাখতে l তাহলে এই রাজনীতি সমগ্র বিশ্বের জন্য শ্রেষ্ঠ নীতি হয়ে যাবে l সারা বিশ্ব এই ভারতের রাজনীতির কপি করবে l যতোই হোক, এর আধার হলো, ট্রাস্টি হওয়ার ভাব অর্থাৎ নিমিত্ত ভাব l



*কুমারদের সাথে বাপদাদাঃ* - কুমার অর্থাৎ যারা সর্বশক্তি এবং সর্ব ধনভান্ডার জমা করে অন্যদেরও শক্তিমান বানানোর সেবা করে l সদা এই সেবায় বিজি থাকো, তাই না! যদি বিজি থাকো তো উন্নতি হতে থাকবে l যদি তোমরা এতটুকুও ফ্রী হবে তো ব্যর্থ সঙ্কল্প চলবে l সমর্থ থাকতে বিজি থাকো l নিজেদের টাইমটেবল বানাও l তোমাদের শরীরের জন্য যেমন টাইমটেবল বানাও, সেইরকম বুদ্ধিরও টাইমটেবল বানাও l বুদ্ধিকে বিজি রাখতে প্ল্যান বানাও, তো বিজি থাকলে সদা উন্নতি হতে থাকবে l বর্তমান সময় অনুসারে কুমার জীবনে শ্রেষ্ঠ হওয়া খুব বড়ো ভাগ্য ! সদাসর্বদা ভাবো, তুমি শ্রেষ্ঠ ভাগ্যবান আত্মা l স্মরণ আর সেবার মধ্যে প্রতিনিয়ত ব্যালেন্স বজায় রাখো l যারা সদা এই ব্যালেন্স রাখে, তারা অবিরত ব্লেসিংস লাভ করে l আচ্ছা !



*বাছাই করা বিশেষ অব্যক্ত মহাবাক্যঃ*

*পরমাত্ম ভালোবাসায় সদা লাভলীন থাকো*



পরমাত্ম ভালোবাসা এক আনন্দময় দোলা, এই সুখদায়ী দোলায় দোলাকালীন নিরন্তর পরমাত্ম ভালোবাসায় থাকো তো কখনো কোনো বিপরীত পরিস্থিতি বা মায়ার বিপর্যয় তোমাদের সামনে আসতে পারে না l পরমাত্ম-প্রেম অসীম, অটল এবং এত আছে যে সবাই নিতে পারে l কিন্তু ঈশ্বরীয় ভালোবাসা প্রাপ্ত করার বিধি - নির্লিপ্ত হওয়া l যে যতো নির্লিপ্ত সে ততোই ঈশ্বরীয় ভালোবাসার অধিকারী l পরমাত্ম ভালোবাসায় নিমজ্জিত আত্মারা কখনও সীমিত পরিসরের (হদের ) প্রভাবে প্রভাবিত হয় না l সদা বেহদের সকল প্রাপ্তিতে মগ্ন থাকে, যা থেকে সদা রূহানিয়তের সৌরভ বাতাবরণে ছড়িয়ে পড়ে l ভালোবাসার নিদর্শন হলো, যার প্রতি তোমার অগাধ ভালোবাসা থাকে, তাকে তুমি সবকিছু দিয়ে দাও l বাচ্চাদের প্রতি বাবার এত ভালোবাসা যে ভালোবাসার রেসপন্স দিতে তিনি প্রতিদিন এত বড়ো পত্র লেখেন ! তিনি স্মরণ-স্নেহ দেন আর সাথী হয়ে প্রতিনিয়ত স্নেহের দায়িত্ব পরিপূর্ণ করেন l তাহলে তোমরা এই ভালোবাসায় সব দুর্বলতা বলিদান করো l বাচ্চারা, বাবা তোমাদের ভালোবাসেন বলে তিনি সবসময় বলেন, তোমরা যা-ই হও, যেমনই হও, তোমরা আমার l এইভাবে তোমরাও ভালোবাসায় লাভলীন থাকো আর অন্তর থেকে বলো, বাবা তুমি যেই হও, তুমিই সব l কখনও অসত্য রাজ্যের প্রভাবে প্রভাবিত হয়োনা l যে তোমার ভালোবাসার পাত্র, তাকে সচেতনভাবে স্মরণ করতে হয়না, তার স্মরণ আপনা থেকেই আসে l তোমাদের ভালোবাসা শুধু হৃদয়ের প্রকৃত আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা যেন হয় l যখন তুমি বলো, আমার বাবা, প্রিয় বাবা, তুমি তখন তাঁকে ভুলতে পারো না l আর বাবা ব্যতীত অন্য কোনও আত্মার থেকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা তোমরা পাবে না l সেইজন্য কোনো উদ্দেশে তাঁকে স্মরণ কোরোনা, বরং নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় লাভলীন থাকো l ঈশ্বরীয় ভালোবাসার অনুভাবী হলে, এই অনুভবের দ্বারা সহজ যোগী হয়ে নিরন্তর উড়তে থাকবে l পরমাত্ম ভালোবাসা ওড়ানোর সাধন l যারা উড়তে পারে, ধরণীর আকর্ষণে তারা আবদ্ধ হয় না l যতোই মায়ার আকর্ষণীয় রূপ হোক না কেন, যারা বিহঙ্গম(উড়তি কলা) কলায় আছে তাদের কাছে তা'পৌঁছাতে পারে না l পরমাত্ম ভালোবাসার ডোর দূর দূর থেকে তোমাদের এখানে টেনে আনে l এই ভালোবাসা তোমাদের এত সুখ দেয় যে, তোমরা যদি এক সেকেন্ডও এই ভালোবাসায় হারিয়ে যাও তো তোমরা সবরকম দুঃখ ভুলে যাবে l আর সদাকালের জন্য সুখদোলায় দুলতে শুরু করবে l জীবনে যা প্রয়োজন তা' যদি তোমাকে কেউ দিয়ে দেয়, সেটাই ভালোবাসার লক্ষণ l তোমরা সব বাচ্চার প্রতি বাবার এত ভালোবাসা আছে যে তোমাদের জীবনের সুখ-শান্তির সব কামনা তিনি পূর্ণ করে দেন l বাবা শুধু সুখই দেন না, বরং সুখের ভান্ডারের মালিক বানিয়ে দেন l সেইসঙ্গে তিনি তোমাদের শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের রেখা টানার কলমও দেন, তোমরা যতোটা চাও, ভাগ্য তৈরি করতে পারো l এটাই পরমাত্ম ভালোবাসা l যে বাচ্চারা ঈশ্বরীয় প্রেমে সদা লাভলীন অর্থাৎ নিমগ্ন এবং আত্মহারা হয়, তাদের ঝলক আর আকুলতা, অনুভূতির কিরণ এত শক্তিশালী হয় যে কোনো সমস্যা তাদের থেকে শুধু দূরে থাকাই নয়, বরং চোখ তুলে তাদের দিকে তাকাতেও পারে না l তাদের কখনও কোনরকম কষ্ট থাকতে পারে না l



বাচ্চাদের প্রতি বাপদাদার এত স্নেহ যে অমৃতবেলা থেকেই তোমাদের পালনা করেন l দিনের শুরুই কতো শ্রেষ্ঠ হয় l মিলন উদযাপন করতে স্বয়ং ঈশ্বর তোমাদের আহ্বান করেন, মনখোলা অন্তরঙ্গ (রূহরিহান) আলাপচারিতা করেন এবং শক্তিতে পূর্ণ করেন l বাবার স্নেহের গীত তোমাদের জাগিয়ে তোলে l কতো স্নেহের সাথে তোমাদের ডাকেন, জাগিয়ে তোলেন - মিষ্টি বাচ্চারা, প্রিয় বাচ্চারা এসো! ভালোবাসার এই পালনার প্র্যাকটিক্যাল স্বরূপ হলো, 'সহজ যোগী জীবন' l যার প্রতি ভালোবাসা থাকে, তার যা ভালো লাগে সাধারণতঃ তোমরা তাই করো l বাচ্চাদের আপসেট হওয়া বাবার ভালো লাগে না, সেইজন্য কখনো বোলোনা, কি করবো! ঘটনা প্রবাহ এমনই ছিলো, সেইজন্য আপসেট হয়ে গেছ l এমনকি, তোমাদের আপসেট হওয়ার মতো পরিস্থিতি যদি উদ্ভূত হয়ও, তবুও তোমরা আপসেট হওয়ার স্থিতিতে নিজেদের ঠেলে দিও না l



তোমরা সব বাচ্চার প্রতি বাপদাদার ভালোবাসা এত গভীর যে তিনি মনে করেন বাচ্চারা সবাই তাঁর থেকে এগিয়ে l জাগতিক স্তরেও, যার প্রতি তোমাদের ভালোবাসা থাকে, তাকে তোমাদের সামনে এগিয়ে যেতে দাও l এটাই ভালোবাসার লক্ষণ l বাপদাদাও বলেন, আমার বাচ্চাদের মধ্যে এখন কোনও দুর্বলতা থাকে না, সবাই সম্পূর্ণ, সম্পন্ন আর সমান হয়ে যাও l দিনের শুরুতে, অমৃতবেলায় পরমাত্ম-স্নেহে আপন হৃদয় পূর্ণ করে নাও l পরমাত্ম-প্রেম, পরমাত্ম-শক্তি এবং পরমাত্ম-জ্ঞানে তোমাদের হৃদয় যদি পরিপূর্ণ থাকে, তবে কখনো কোনো বিষয়ে আকর্ষণ বা স্নেহের অনুভূতি হবে না l



ঈশ্বরীয় প্রেম শুধুমাত্র একবার এই জন্মেই প্রাপ্ত হতে পারে l ৮৩ জন্ম দেবাত্মা বা সাধারণ আত্মার থেকেই ভালোবাসা পাওয়া যায়, কেবলমাত্র এখনই পরমাত্ম-ভালোবাসা তোমরা লাভ করতে পারো l আত্মার প্রতি ভালোবাসায় রাজ্যভাগ্যের লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়, কিন্তু পরমাত্ম-ভালোবাসা রাজ্যভাগ্য লাভ করতে তোমাদের সমর্থ বানায় l সুতরাং, এই ভালোবাসার অনুভূতিতে তন্ময় হয়ে থাকো l বাবার প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা যদি থাকে, তার লক্ষণ হলো - সমান এবং কর্মাতীত হওয়া l করাবনহার হয়ে কর্ম করো এবং কর্ম করাও l তোমাদের কর্মেন্দ্রিয় কিছু করাবে, সেইরকম নয়, বরং তোমরা কর্মেন্দ্রিয় দিয়ে করাও l কখনও মন, বুদ্ধি, সংস্কারের বশবর্তী হয়ে কোনো কর্ম কোরোনা l

বরদান:-

নির্বল থেকে বলবান হয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে সাহসী আত্মা ভব

"হিম্মতে বচ্চে মদতে বাপ" অর্থাৎ 'বাচ্চারা যখন সাহসী হয়, বাবা সহায় হন' - এই বরদানের আধারে তোমাদের প্রথম দৃঢ় সঙ্কল্প ছিল যে তোমরা পবিত্র হবে এবং বাবা তোমাদের লক্ষ-কোটি (পদমগুণা) অভাব মোচন (মদত) করেছেন l তিনি বলেছেন, তোমরা সব আত্মা অনাদি-আদি পবিত্র, বহুবার তোমরা পবিত্র হয়েছো আর হতেও থাকবে l পূর্বের অনেকবারের স্মৃতি দ্বারা তোমরা সমর্থ হয়েছো l নির্বল থেকে এত বলবান হয়েছো যে তোমরা চ্যালেঞ্জ করছো, বিশ্বকেও অবশ্যই পবিত্র করে সবাইকে দেখাবে, যা ঋষি, মুনি, মহান আত্মাগণ মনে করে প্রবৃত্তিতে থেকে পবিত্র থাকা কঠিন, সেটাই তোমরা বলো অতি সহজ l

স্লোগান:-

দৃঢ় সঙ্কল্প থাকাই ব্রত নেওয়া, প্রকৃত ভক্ত কখনো ব্রত ভাঙেনা* l