06.01.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - তোমরা যেসব কর্ম করো, তার ফল তোমরা অবশ্যই পাও, কেবল বাবা-ই নিষ্কাম কর্ম করেন

প্রশ্নঃ -
এই ক্লাস খুব ওয়ান্ডারফুল, কিভাবে ? এখানে প্রধানতঃ কোন্ পরিশ্রম করতে হয় ?

উত্তরঃ -
এটাই একমাত্র ক্লাস যেখানে ছোট বাচ্চাও বসে আছে, আবার বৃদ্ধ ব্যক্তিও রয়েছে। এটা এমনই ওয়ান্ডারফুল ক্লাস যেখানে একদিন পতিত, প্রতিবন্ধী এবং সাধু সন্ন্যাসী সকলেই এসে বসবে। এখানে প্রধানতঃ স্মরণের বিষয়েই পরিশ্রম করতে হয়। স্মরণের দ্বারা শরীর এবং আত্মা উভয়ের নেচার-কিওর (প্রাকৃতিক চিকিৎসা) হয়। কিন্তু স্মরণ করার জন্যও জ্ঞানের প্রয়োজন।

গীতঃ-
হে নিশীথের পথিক

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি আত্মা রূপী বাচ্চারা গান শুনলো। আত্মিক পিতা বাচ্চাদেরকে এই গানের অর্থও বোঝাচ্ছেন। আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, যারা গীতা এবং অন্যান্য শাস্ত্র বানিয়েছে, তারাও এই গানের অর্থ জানে না, প্রত্যেক ক্ষেত্রে অনর্থ করে দিয়েছে। আত্মিক পিতা, যিনি জ্ঞানের সাগর, পতিত-পাবন, তিনি বসে থেকে এর অর্থ বোঝাচ্ছেন। রাজযোগও বাবা-ই শেখান। তোমরা জানো যে আমরা এখন পুনরায় রাজাদের রাজা হচ্ছি। অন্যান্য স্কুলে তো এইভাবে বলবে না যে আমরা পুনরায় ব্যারিস্টার হচ্ছি। কেউই এই ‛পুনরায় শব্দটা বলতে পারবে না। তোমরা জানো যে আমরা ৫ হাজার বছর আগের মতো অসীম জগতের বাবার কাছে পড়ছি। অবশ্যই পুনরায় বিনাশও হবে। কতো বড় বড় শক্তিশালী বোমা বানাচ্ছে। সাজিয়ে রাখার জন্য তো বানাচ্ছে না। তবে এই বিনাশও শুভ কাজের জন্যই হবে। তাই বাচ্চারা, তোমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই, এই যুদ্ধ কল্যাণকর। বাবা তো কল্যাণ করতেই আসেন। বলা হয়, বাবা এসে ব্রহ্মা দ্বারা স্থাপন এবং শঙ্করের দ্বারা বিনাশের কর্তব্য করেন। অতএব, এইসব বোমা ইত্যাদি বিনাশের জন্যই তৈরি হয়েছে। এর থেকেও শক্তিশালী জিনিস আর কিছু নেই। সেই সঙ্গে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ও হবে। কিন্তু সেটাকে কেউ ঈশ্বরীয় বিপর্যয় বলবে না। এইসব প্রাকৃতিক বিপর্যয় তো ড্রামাতেই আছে। এগুলো কোনো নতুন ব্যাপার নয়। কতো বড় বড় বোমা বানায়। বলে - আমরা অনেক শহর ধ্বংস করে দেব। জাপানের যুদ্ধে যে বোমা ব্যবহৃত হয়েছে, সেটা তো খুবই ছোট ছিল। এখন আরও বড় বড় বোমা বানিয়েছে। যখন সমস্যা খুব বেড়ে যায়, তখন আর সহ্য করতে না পেরে বোমা মেরে দেয়। অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওরাও পরীক্ষা করে দেখে নিচ্ছে। কত কোটি-কোটি টাকা খরচ করে। যারা এইসব বানায়, তারা অনেক টাকা বেতন পায়। বাচ্চারা, তোমাদের তো খুশি হওয়া উচিত। বিনাশ তো এই পুরাতন দুনিয়ার হবে। তোমরা বাচ্চারা তো নতুন দুনিয়ার জন্য পুরুষার্থ করছ। বিবেক বলছে - এই পুরাতন দুনিয়ার ধ্বংস অবশ্যই হবে। কলিযুগে কি কি থাকে আর সত্যযুগে কি কি থাকে, তা তো বাচ্চারা জানে। তোমরা এখন সঙ্গমযুগে রয়েছ। তোমরা জানো যে সত্যযুগে এতো মানুষ থাকবে না। সুতরাং এদের বিনাশ হবে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় তো আগের কল্পেও হয়েছিল। পুরাতন এই দুনিয়ার অবশ্যই বিনাশ হবে। অনেক রকমের প্রাকৃতিক বিপর্যয় আসে। কিন্তু সেগুলো সব ছোট খাটো। এখন এই গোটা পুরাতন দুনিয়ার বিনাশ হবে। তাই বাচ্চারা, তোমাদের খুব খুশি হওয়া উচিত। আমাদের মতো আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে পরমপিতা পরমাত্মা অর্থাৎ বাবা স্বয়ং বসে থেকে বোঝাচ্ছেন - এই বিনাশের কার্য তোমাদের জন্যই হচ্ছে। গায়ন আছে - রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ থেকেই বিনাশের আগুন জ্বলেছিল। গীতার কিছু কিছু কথার অর্থ খুব সুন্দর। কিন্তু কেউই অর্থ বুঝতে পারে না। ওরা কেবলই শান্তি প্রার্থনা করে। তোমরা বলো যে তাড়াতাড়ি বিনাশ হয়ে গেলে আমরা ওখানে গিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করব। বাবা বলছেন, সতোপ্রধান হলেই সুখী হবে। বাবা অনেক রকম পয়েন্ট বলেন। কিন্তু কারোর বুদ্ধিতে ভালোভাবে ধারণ হয়, কারোর কম হয়। যারা বৃদ্ধা, তারা কেবল বোঝে যে শিববাবাকে স্মরণ করতে হবে। তাদেরকে কেবল এটাই বোঝানো হয় যে নিজেকে আত্মা রূপে অনুভব করে বাবাকে স্মরণ করো। তাতেই উত্তরাধিকার পেয়ে যায়। সাথী হয়ে যায়। প্রদর্শনীতে সকলেই আসে। অজামিলের মতো পাপী থেকে পতিতা - সবাইকেই উদ্ধার করতে হবে। মেথররাও ভালো ভালো পোশাক পরে চলে আসে। গান্ধীজি অচ্ছুৎদের মুক্ত করে দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে তিনি খাবার খান। বাবা তো আরওই নিষেধ করেন না। এদেরকেও উদ্ধার করতে হবে। আত্মা বলছে - আমি অচ্ছুৎ। আমরা এখন বুঝতে পেরেছি যে আমরাই সতোপ্রধান দেবী দেবতা ছিলাম। তারপর পুনর্জন্ম নিতে নিতে এখন অন্তিমে একেবারে পতিত হয়ে গেছি। এখন পুনরায় আমাকে অর্থাৎ আত্মাকে পবিত্র হতে হবে। তোমরা হয়তো জানো যে সিন্ধপ্রদেশে ভিল সম্প্রদায়ের একজন মহিলা আসতো যে অনেক সময়ে ধ্যানে চলে যেত। দৌড়ে এসে দেখা করতো। বোঝানো হয় যে ওই শরীরের মধ্যেও তো আত্মা রয়েছে, তাই না ? আত্মার অবশ্যই নিজের বাবার থেকে উত্তরাধিকার নেওয়ার অধিকার আছে। তার বাড়ির লোককে বোঝানো হয়েছিল যে ওকে এই জ্ঞান অর্জন করার সুযোগ করে দিন। তারা বলেছিল যে আমাদের বংশে এই বিষয় নিয়ে অনেক ঝামেলা হবে। তারপর ভয় পেয়ে ওকে নিয়ে চলে গিয়েছিল। সুতরাং, তোমাদের কাছে যে কেউই আসুক, তাকে নিষেধ করতে পারো না। গায়ন আছে - অবলা, পতিতা, ভিল, সাধু সন্ন্যাসী সবাইকে উদ্ধার করেন। সাধু থেকে ভিল, সবাইকে। তোমরা বাচ্চারা এখন যজ্ঞের সেবা করছ। এই সেবার দ্বারা অনেক প্রাপ্তি হয়। অনেকের কল্যাণ হয়ে যায়। দিনে দিনে প্রদর্শনী সেবা আরো বৃদ্ধি পাবে। বাবা ব্যাজ তৈরি করান। যেখানেই যাও, এই বিষয়ের ওপর বোঝাও। ইনি বাবা, ইনি ঠাকুরদাদা আর এই হলো উত্তরাধিকার। বাবা এখন বলছেন - আমাকে স্মরণ করলে তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। গীতাতেও আছে - "মামেকম্ স্মরণ করো" । কেবল সেখানে আমার নামের জায়গায় সন্তানের (কৃষ্ণের) নাম লিখে দিয়েছে। রাধা-কৃষ্ণের মধ্যে কি সম্বন্ধ, সেটা ভারতবাসীরাও জানে না। তাদের বিবাহের ইতিহাস নিয়ে কিছুই বলা হয় না। তারা দুটো পৃথক রাজধানীতে ছিল। বাবা এখন বসে থেকে এইসব বোঝাচ্ছেন। যারা এটা বুঝতে পারে, তারা যদি এগুলোকে শিব ভগবানুবাচ বলে, তখন সবাই তাদের তাড়িয়ে দেবে। মানুষ জিজ্ঞেস করবে যে তোমরা এগুলো কোথা থেকে শিখলে ? কে তোমাদের গুরু ? যদি তারা বি.কে.দের নাম বলে, তখন সবাই বিরূপ (নারাজ) হয়ে যায়। তখন তো এইসব গুরুদের রাজত্ব আর থাকবে না। অনেকেই এইরকম আসে। পত্রও লেখে। কিন্তু তারপর উধাও হয়ে যায়। বাবা বাচ্চাদের কোনো কষ্ট দেন না। খুব সহজ উপায় বলে দেন। কারোর সন্তান না থাকলে ভগবানের কাছে সন্তান প্রার্থনা করে। তারপর সন্তান প্রাপ্তি হলে, তাকে খুব যত্ন করে, পড়াশুনা করায়। তারপর বড় হয়ে গেলে বলবে - এবার নিজে রোজগার করো। বাবা বাচ্চাদেরকে লালন পালন করে তাদেরকে যোগ্য করে তুলছেন। সুতরাং বাবা হলেন সেবাধারী। এই বাবা তো সেবা করার পরে বাচ্চাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যান। লৌকিক বাবা ভাবে - বাচ্চা যখন বড় হয়ে নিজে রোজগার করবে, তখন আমরা বৃদ্ধ হয়ে গেলে আমাদের সেবা করবে। এই বাবা কখনোই সেবা চান না, ইনি নিষ্কাম। লৌকিক বাবা মনে করে, যতদিন বেঁচে আছি ততদিন তাদের দেখাশোনা করা বাচ্চাদের কর্তব্য। ওদের মনে এইরকম ইচ্ছে থাকে। এই বাবা বলছেন - আমি নিষ্কাম। আমি কখনোই রাজত্ব করি না। আমি কতোই না নিষ্কাম। অন্যরা যাকিছু করে, তার ফল অবশ্যই পেয়ে যায়। ইনি সকলের পিতা। ইনি বলছেন - বাচ্চারা, আমি তোমাদেরকে স্বর্গের উত্তরাধিকার দিচ্ছি। তোমরা অনেক উঁচু পদ পেয়ে যাও। আমি তো কেবল ব্রহ্মাণ্ডের মালিক। তোমরাও ব্রহ্মাণ্ডের মালিক, তবে তোমরা রাজত্ব পাও তারপর হারিয়ে ফেল। আমি রাজত্ব নিই না, তাই হারাই না। এটাই এই ড্রামায় আমার ভূমিকা। তোমরা বাচ্চারা এখন সুখের উত্তরাধিকার নেওয়ার পুরুষার্থ করছ। বাকি সবাই কেবল শান্তি চায়। ওরা এই জ্ঞান বুঝতে পারবে না। ওরা সুখের দুনিয়া সম্বন্ধে কিছুই জানে না। বাবা বলছেন - আমিই শান্তি এবং সুখের উত্তরাধিকার দিই। সত্য এবং ত্রেতাযুগে কোনো গুরু থাকবে না। ওখানে তো রাবণ-ই থাকে না। ওটা হলো ঈশ্বরীয় রাজ্য। এই ড্রামা বানানোই আছে। অন্য কারোর বুদ্ধিতে এইগুলো ধারণ হবে না। বাচ্চাদেরকে ভালো করে ধারণ করে উঁচু পদ পেতে হবে। তোমরা এখন সঙ্গমযুগে আছ। তোমরা জানো যে এখন নতুন দুনিয়ার রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। অতএব, তোমরা এখন সঙ্গমযুগে আছ। বাকি সবাই কলিযুগে আছে। ওরা কল্পের মেয়াদ লক্ষ বছর বলে দিয়েছে। ঘন অন্ধকারে ডুবে আছে। কুম্ভকর্ণের ঘুমের গায়ন আছে। পাণ্ডবরাই জয়ী হয়েছিল। তোমরা হলে ব্রাহ্মণ। ব্রাহ্মণরাই যজ্ঞ রচনা করে। এটা সবথেকে বড় সীমাহীন ঈশ্বরীয় রুদ্র যজ্ঞ। ওইসব সীমিত যজ্ঞ অনেক রকমের হয়। এই রুদ্র যজ্ঞ একবারই হয়। এরপর সত্য এবং ত্রেতাযুগে কোনো যজ্ঞ হবে না কারণ সেখানে কোনো বিপদ আপদ থাকবে না। ওগুলো সব সীমিত যজ্ঞ। এটা সীমাহীন যজ্ঞ। এটা অসীম জগতের পিতার রচিত যজ্ঞ যেখানে সীমাহীন জগতের আহুতি হবে। এরপর অর্ধেক কল্প আর কোনো যজ্ঞ হবে না। ওখানে রাবণ রাজ্যই থাকবে না। রাবণ রাজ্য শুরু হলে এইসব পুনরায় শুরু হয়। সীমাহীন যজ্ঞ তো একবারই হয়, যেখানে গোটা পুরাতন দুনিয়াই স্বাহা হয়ে যায়। এটাই সেই সীমাহীন রুদ্র জ্ঞান যজ্ঞ। এখানে জ্ঞান এবং যোগের বিষয়ই মুখ্য। যোগ মানে স্মরণ। স্মরণ শব্দটা খুব মিষ্টি। যোগ শব্দটা কমন হয়ে গেছে। যোগের অর্থ কেউই জানে না। তোমরা বোঝাতে পারো - যোগ মানে বাবাকে স্মরণ করা। বাবা, তুমি তো আমাদের সীমাহীন উত্তরাধিকার দাও। এইভাবে আত্মা বার্তালাপ করে - বাবা, তুমি আবার এসেছো, আমরা তোমাকে ভুলেই গেছিলাম। তুমি আমাদেরকে রাজত্ব দিয়েছিলে। এখন পুনরায় তুমি এসে মিলিত হয়েছ। আমরা অবশ্যই তোমার শ্রীমৎ অনুসারে চলব। এইভাবে নিজের মনে মনে কথা বলতে হয়। বাবা, তুমি আমাদেরকে অনেক ভালো রাস্তা দেখাচ্ছো। আমরা প্রতি কল্পেই ভুলে যাই। এখন বাবা পুনরায় নির্ভুল বানাচ্ছেন, তাই বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। স্মরণের দ্বারা-ই উত্তরাধিকার পাওয়া যায়। আমি যখন সম্মুখে আসি, কেবল তখনই তোমাদেরকে বোঝাই। ততক্ষণ তোমরা গাইতে থাকো - তুমিই হলে দুঃখ হর্তা, সুখ কর্তা। ওরা এইভাবে গুণগান করলেও আত্মা কিংবা পরমাত্মা কাউকেই জানে না। তোমরা এখন বুঝেছ - এত ছোট বিন্দুর মধ্যে অবিনাশী ভূমিকা ভরা আছে। এইসব বাবা-ই বোঝান। তাঁকে পরমপিতা পরমাত্মা অথবা পরম আত্মা বলা হয়। এছাড়া আমি কোনো অনেক বড় হাজার সূর্যের মতো নই। আমি কেবল টিচারের মতো পড়াচ্ছি। অনেক বাচ্চা আছে। এই ক্লাস খুবই ওয়ান্ডারফুল। এখানে কারা পড়াশুনা করে ? অবলা, প্রতিবন্ধী, সাধু সন্ন্যাসী সকলেই একদিন এখানে এসে বসবে। ছোট বাচ্চা থেকে বৃদ্ধা - সকলেই আসবে। এইরকম স্কুল কি কখনো দেখেছ ? এখানে স্মরণ করার পরিশ্রম করতে হয়। স্মরণ করার জন্যই সময় দিতে হয়। স্মরণের জন্য পুরুষার্থ করা - এটাও তো জ্ঞান। স্মরণের জন্যও জ্ঞানের দরকার। চক্র বোঝানোর জন্যও জ্ঞান থাকতে হবে। এটাই হলো প্রকৃত নেচার-কিওর। তোমরা আত্মারা একেবারে পবিত্র হয়ে যাও। ওটা তো শারীরিক সুস্থতা, আর এটা হচ্ছে আত্মার সুস্থতা। আত্মাতেই খাদ পড়ে। খাঁটি সোনা থেকে খাঁটি অলঙ্কার হয়। এখানে বাচ্চারা জানে যে শিববাবা সম্মুখে এসেছেন। বাচ্চাদেরকে তো অবশ্যই বাবাকে স্মরণ করতে হবে। আমাদেরকে এখন ফিরে যেতে হবে। এই পার থেকে ওই পারে যেতে হবে। বাবা, উত্তরাধিকার এবং ঘরকে স্মরণ করতে হবে। ওটা হচ্ছে সুইট সাইলেন্স হোম। অশান্তির কারণেই দুঃখ আসে আর শান্তি থেকেই সুখ আসে। সত্যযুগে সুখ, শান্তি, সম্পত্তি সবকিছুই ছিল। ওখানে লড়াই ঝগড়ার কোনো ব্যাপার থাকবে না। বাচ্চাদের কেবল এটাই মাথায় রাখতে হবে যে আমাদেরকে সতোপ্রধান, সত্যিকারের সোনা হতে হবে। তবেই উঁচু পদ পাব। এই আত্মিক ভোজন খাওয়ার পর জাবর কাটতে হবে, আজকে কি কি মুখ্য পয়েন্ট শুনলাম। এটাও বোঝানো হয়েছে যে যাত্রা দুই রকমের - আত্মিক এবং শারীরিক। এই আত্মিক যাত্রাই কাজে আসবে। ভগবানুবাচ - মন্মনা ভব। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) শুভ কাজের জন্যই এই বিনাশ হবে, তাই ভয় পাওয়া উচিত নয়। কল্যাণকর বাবা সর্বদা কল্যাণ করেন, এটা স্মরণে রেখে সর্বদা খুশিতে থাকতে হবে।

২ ) সর্বদা মাথায় রাখতে হবে যে, সতোপ্রধান সত্যিকারের সোনা হয়ে উঁচু পদ পেতে হবে। আত্মার যে ভোজন আমরা পাই, সেটাকে জাবর কাটতে হবে।

বরদান:-
সৎসঙ্গের দ্বারা আধ্যাত্মিক রং লাগিয়ে সর্বদা হাসিখুশী আর ডবল লাইট ভব

যে সন্তান বাবাকে হৃদয়ের সত্যিকারের সাথী বানিয়ে নেয়, তার ওপর সঙ্গের আধ্যাত্মিক রঙ সর্বদাই লেগে থাকে। সৎসঙ্গ মানে, বুদ্ধি দ্বারা সৎ বাবা, সৎ টিচার এবং সৎ গুরুর সঙ্গ করা। যে এইরকম সৎসঙ্গে থাকে, সে সর্বদাই হাসিখুশী এবং ডবল লাইট থাকে। তার কোনো রকম বোঝা অনুভব হয় না। সে সর্বদাই ভরপুর অনুভব করে। খুশির খনি আমার সঙ্গে আছে, বাবার সবকিছুই আমার হয়ে গেছে।

স্লোগান:-
নিজের মিষ্টি কথা এবং উৎসাহ উদ্দীপনার সহযোগিতার দ্বারা হতাশ ব্যক্তিকে শক্তিশালী বানাও।