06.01.2023 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - ক্রোধ অত্যন্ত দুঃখদায়ী, নিজেকেও দুঃখী করে আর অন্যকেও দুঃখী করে, তাই শ্রীমৎ অনুসরণ করে এই ভূত গুলির উপরে বিজয় প্রাপ্ত করো

প্রশ্নঃ -
কল্প-কল্পের দাগ কোন্ বাচ্চাদের উপরে লেগে যায়? তাদের গতি কেমন হবে?

উত্তরঃ  
যারা নিজেদেরকে অনেক বুদ্ধিমান ভাবে, শ্রীমৎ পুরোপুরি অনুসরণ করে না, ভিতরে কোনো না কোনো গুপ্ত বা প্রত্যক্ষ রূপে বিকার রয়েছে, সেগুলিকে দূর করে না, মায়া আক্রমণ করতেই থাকে। এমন বাচ্চাদের উপরে কল্প-কল্পের দাগ লেগে যায়। তাদেরকে পরে শেষ সময়ে খুব অনুতাপ করতে হবে। তারা নিজেদের ক্ষতি করে ফেলে ।

গীতঃ-
আজ অন্ধকারে আছে মানুষ....

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চারা জানে যে অসীম জগতের বাবা যাঁকে হেভেনলি গড ফাদার বলা হয় উনি হলেন সকলের বাবা। উনি বাচ্চাদেরকে সম্মুখে বসিয়ে বোঝান। শিববাবা তো সকল বাচ্চাদের এই চোখের দ্বারা দেখেন (ব্রহ্মাবাবার চোখ দিয়ে)। সন্তানদের দেখার জন্য তাঁর দিব্য দৃষ্টির প্রয়োজন নেই। বাবা জানেন পরমধাম থেকে উনি বাচ্চাদের কাছে এসেছেন। এই বাচ্চারাও দেহধারী রূপে পার্ট প্লে করছে, এই বাচ্চাদেরকে সম্মুখে বসিয়ে পড়াই। বাচ্চারাও জানে অসীম জগতের পিতা স্বর্গের স্থাপন কর্তা, উনি পুনরায় আমাদের ভক্তিমার্গের বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত করে আমাদের জ্যোতি প্রজ্বলিত করছেন। সব সেন্টারের বাচ্চারা বুঝেছে যে, এখন আমরা ঈশ্বরীয় কুলের বা ব্রাহ্মণ কুলের । সৃষ্টির রচয়িতা বলা হয় পরমপিতা পরমাত্মাকে। সৃষ্টির রচনা কীভাবে হয়, সেসব বাবা বসে বোঝান। বাচ্চারা জানে মাতা-পিতা ব্যতীত কখনও মনুষ্য সৃষ্টি রচনা সম্ভব নয়। এমন বলা যাবে না যে, পিতার দ্বারা সৃষ্টি রচনা হয়, না। গায়নও আছে তুমি মাতা-পিতা... এই মাতা-পিতা সৃষ্টি রচনা করে পরে তাদেরকে উপযুক্ত করে তোলেন। এ হল বিরাট বিশেষত্ব। এমন তো নয় যে উপর থেকে দেবতারা এসে ধর্ম স্থাপন করবে। যেমন ক্রাইষ্ট বা খ্রীষ্ট খ্রীষ্টান ধর্মের স্থাপনা করেন। তাই খ্রীষ্টকে খ্রিষ্টানরা ফাদার বলে। যদি তিনি ফাদার হন তবে মাদারও চাই। তারা মাদার বলে "মেরী"কে। তাহলে মেরী কে ছিল? খ্রীষ্টের নতুন আত্মা এসে দেহে প্রবেশ করেছিল যার মধ্যে প্রবেশ করেছিল, তার মুখ দিয়ে প্রজা রচনা হয়েছে। তারা হল খ্রিষ্টান। এই কথাও বোঝানো হয়েছে যে নতুন আত্মা যে উপর থেকে আসে, তার এমন কোনও কর্ম থাকে না যে দুঃখ ভোগ করতে হবে। পবিত্র আত্মা আসে। যেমন পরম পিতা পরমাত্মা কখনও দুঃখ ভোগ করতে পারেন না। মানুষ দুঃখ অথবা কটুকথা ইত্যাদি সব সাকারকে দিয়েছে। অতএব খ্রীষ্টকেও যখন ক্রুসে চড়ানো হয়েছিল, তখন যে দেহে খ্রীষ্টের আত্মা প্রবেশ করেছিলেন তাকেই এই দুঃখ সহ্য করতে হয়েছিল। খ্রীষ্টের পবিত্র আত্মা তো দুঃখ সহ্য করতে পারে না। তাই খ্রীষ্ট হলেন ফাদার। মাতা আসবে কোথা থেকে! তখন মেরীকে মাদার বানিয়ে দিয়েছে। দেখানো হয়েছে মেরী কুমারী ছিল তার দ্বারা খ্রীষ্টের জন্ম হয়েছে। এইসব শাস্ত্র থেকে উদ্ধৃত। দেখানো হয়েছে না যে কুন্তী কুমারী কন্যা ছিল, কর্ণের জন্ম দিয়েছিল। এইসব হল দিব্য দৃষ্টির কথা। কিন্তু তারা কপি করে দিয়েছে। অতএব এখানে যেমন ব্রহ্মা হলেন মাদার। মুখের দ্বারা সন্তানের জন্ম দিয়ে প্রতিপালনের জন্য মাম্মাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সুতরাং খ্রীষ্টের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। খ্রীষ্ট প্রবেশ করে ধর্মের স্থাপনা করেন। তাদেরকে বলা হবে খ্রীষ্টের মুখ বংশী ভাই ও বোন। খ্রীষ্টানদের প্রজাপিতা হয়ে গেলো খ্রীষ্ট। যার মধ্যে প্রবেশ করে সন্তান জন্ম হয় সে হলো মাতা। পরে প্রতিপালনের জন্য মেরীকে দিয়েছে, তারা মেরীকে মাতা রূপে স্বীকার করে নিয়েছে। এখানে তো বাবা বলেন আমি এনার মধ্যে প্রবেশ করে মুখ সন্তান রচনা করি। তাই তাতে এই মাম্মাও মুখ সন্তান হলেন। এ হল ডিটেলে বুঝবার কথা।

দ্বিতীয়তঃ - বাবা বোঝাচ্ছেন আজ একটি পার্টি আবুতে আসবে - ভেজিটেরিয়ানের (নিরামিষাশী হওয়ার) প্রচার করতে। তাই তাদের বোঝাতে হবে অসীম জগতের পিতা এখন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা করছেন যারা পাক্কা ভেজিটেরিয়ান (নিরামিষাশী) ছিল। অন্য কোনও ধর্ম এতখানি ভেজিটেরিয়ান হয় না। এখন বলা হবে বৈষ্ণব হওয়ার কতখানি লাভ । কিন্তু সবাই তো হবে না কারণ সবাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে। (অভ্যস্ত হয়ে গেছে) ছাড়া কঠিন হয় । কিন্তু এই বিষয়ে বোঝাতে হবে যে অসীম জগতের পিতা হেভেন স্থাপন করেছেন, সেখানে সবাই বৈষ্ণব অর্থাৎ বিষ্ণুর বংশাবলী ছিল। দেবতারা ভাইসলেস অর্থাৎ সম্পূর্ণ পবিত্র ছিল। আজকাল ভেজিটেরিয়ানরাও পতিত। খ্রীষ্টের ৩ হাজার বছর পূর্বে ভারত হেভেন ছিল। এমন এমন কথা বলে বোঝাতে হবে। বাচ্চারা, তোমরা ব্যতীত এমন কোনও মানুষ নেই যে জানে যে স্বর্গ কি? কবে স্থাপন হয়েছে? সেখানে কারা রাজত্ব করেছে? লক্ষ্মী-নারায়ণের মন্দিরে যদিও যায়, ব্রহ্মাবাবাও যেতেন কিন্তু এই কথা জানতেন না যে স্বর্গে এনাদের রাজত্ব থাকে। শুধুমাত্র মহিমা গান করে কিন্তু কে তাদেরকে রাজ্য প্রদান করেছে, সে কথা জানেনা। এখনও পর্যন্ত অনেক মন্দির নির্মাণ করে কারণ তারা ভাবে লক্ষ্মী এত ধন দিয়েছেন তাই দীপমালায় ব্যবসায়ীরা লক্ষ্মীর পূজা করে। এই মন্দির নির্মাণকারীদেরও বোঝানো উচিত। যেমন ফরেনাররা যারা ভারতে আসে তাদেরকে ভারতের মহিমা বলা উচিত যে খ্রীষ্টের ৩ হাজার বছর পূর্বে ভারত এমন ভেজিটেরিয়ান ছিল, তেমন আর কেউ হতে পারে না। তাদের অনেক শক্তি ছিল। গড গডেসের রাজত্ব বলা হয়। এখন সেই রাজ্য পুনরায় স্থাপন হচ্ছে। এ হল সেই সময়। শঙ্করের দ্বারা বিনাশ হবে সে কথাও গায়নে আছে, পরে বিষ্ণুর রাজ্য হবে। পিতার কাছে স্বর্গের বর্সা নিতে হলে এসে প্রাপ্ত করতে পারো। রমেশ ঊষা দুইজনেরই সার্ভিস করার অনেক শখ আছে। এরা ওয়ান্ডারফুল যুগল, খুব সার্ভিসেবল। দেখো নতুনরা এসে পুরানোদের চেয়েও এগিয়ে যায়। বাবা অনেক যুক্তি বলে দেন, কিন্তু কোনোরকম বিকারের নেশা থাকলে মায়া এগোতে দেয় না। কারো কাম বিকারের অল্প অংশ থাকে, কারোর ক্রোধের অংশ থাকে। পরিপূর্ণ তো কেউই হয়নি। সবাই তৈরী হচ্ছে। মায়াও ভিতরে ভিতরে কাটতে থাকে । যখন থেকে রাবণের রাজ্য আরম্ভ হয়েছে তখন থেকে এই মায়া রূপী ইঁদুর কাটতে আরম্ভ করেছে। এখন তো ভারত একেবারে কাঙাল হয়ে পড়েছে। মায়া সবাইকে পাথরবুদ্ধি বানিয়ে দিয়েছে। ভালো ভালো বাচ্চাদেরও মায়া এমন ভাবে ঘিরে নেয় যে তারা জানতেও পারে না যে তাদের কদম পিছনে যাচ্ছে কীভাবে। তখন সঞ্জীবনী বুটির দ্বারা জাগ্রত করা হয়। ক্রোধও এমনই দুঃখদায়ী। নিজেকেও দুঃখী করে, অন্যকেও দুঃখী করে। কারো মধ্যে গুপ্তরূপে, কারো মধ্যে প্রত্যক্ষ রূপে রয়েছে। যতই বোঝাও, বুঝবে না। এখন নিজেকে বুদ্ধিমান ভাবছে। পরে অনুশোচনা করতে হবে। কল্প-কল্পের দাগ লেগে যাবে। শ্রীমৎ অনুসরণ করলে লাভও অনেক। নাহলে ক্ষতি অনেক হবে। দুটি মতই প্রসিদ্ধ । শ্রীমৎ এবং ব্রহ্মা মত। তারা বলে ব্রহ্মাও যদি নেমে আসেন তবুও মানবে না.... শ্রীকৃষ্ণের নাম নেয় না। এখন তো পরমপিতা পরমাত্মা নিজেই মত দিচ্ছেন। ব্রহ্মাও তাঁর থেকে মত প্রাপ্ত করেন। বাচ্চাদের প্রতি পিতার অনেক স্নেহ আছে। বাচ্চাদের মাথায় তুলে রাখেন। বাবার মুখ্য লক্ষ্য হল বাচ্চারা উঁচু স্থান অর্জন করুক তাতে বংশের নাম প্রখ্যাত হোক। কিন্তু বাচ্চা না বাবার কথা শোনে, না দাদার কথাও শুনবে না অর্থাৎ তাহলে সে বড় মায়ের কথাও শুনবে না। সেই বাচ্চার কি অবস্থা হবে ! বলার কথা নয়। বাকি সার্ভিসেবল বাচ্চারা তো বাপদাদার হৃদয়ে স্থান অর্জন করে। বাবা স্বয়ং তাদের মহিমা গান করেন। তাই তাদেরকে বোঝাতে হবে যে, এই ভারতে বিষ্ণুর বংশীদের রাজত্ব ছিল যা পুনরায় স্থাপন হচ্ছে। এখন বাবা এই ভারতকে বিষ্ণুপুরী বানাচ্ছেন।

তোমাদের অনেক নেশা থাকা উচিত। তারা তো এই সুযোগে নিজেদের নাম বিখ্যাত করার জন্য মাথা ঠুকতে থাকে । খরচ তো গভর্নমেন্টের থেকেই পেয়ে যায়। সন্ন্যাসীদের অনেক অর্থ প্রাপ্ত হয়। এখন তো বলে তারা ভারতের প্রাচীন যোগ শেখাবে, সাথে সাথেই মানুষ তার জন্য তৎক্ষণাৎ অর্থ ব্যয় করতেও প্রস্তুত। বাবার তো কোনও অর্থ বা ধনের দরকার নেই। তিনি স্বয়ং সম্পূর্ণ দুনিয়াকে সাহায্য করেন ভোলা ভাণ্ডারী, সাহায্য প্রাপ্ত হয় বাচ্চাদের। সাহসী বাচ্চাদের সাহায্য করেন বাবা। যখন কেউ বাইরে থেকে আসে তখন তারা অভ্যস্ত থাকে, ভাবে আশ্রমে কিছু দান করতে হবে। কিন্তু তোমাদের বলতে হবে কেন দাও ? জ্ঞান তো কিছুই শোনেনি। কিছুই জানেনা। আমরা বীজ বপণ করি স্বর্গে ফল প্রাপ্ত হবে, এই কথাও তখন জানবে যখন জ্ঞান শুনবে। এমন কোটি মানুষ আসবে। এটাই ভালো যে বাবা গুপ্ত রূপে এসেছেন। শ্রীকৃষ্ণের রূপে এলে তো বালির মতো একত্রিত হয়ে যাবে, সংযুক্ত হয়ে যাবে, কেউ ঘরে বসতে পারবে না। তোমরা হলে ঈশ্বরীয় সন্তান। এই কথাটি ভুলবে না। বাবার হৃদয়ে আছে যে বাচ্চারা যেন সম্পূর্ণ বর্সা প্রাপ্ত করে। স্বর্গে তো অনেক আসবে, কিন্তু সাহস করে উঁচু পদ তারাই পাবে কোটিতে কেউ কেউ । আচ্ছা!

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

রাত্রি ক্লাস ১৫-০৬-১৯৬৮

পাস্টে যা হয়ে গেছে সেসব রিভাইজ করলে যাদের দুর্বল হৃদয় তাদের হৃদয়ের দুর্বলতাও রিভাইজ হয়ে যায় তাই বাচ্চাদেরকে ড্রামার পয়েন্টে স্থির করা হয়েছে। মুখ্য লাভ হয়ই স্মরণের দ্বারা। স্মরণের দ্বারাই আয়ু বৃদ্ধি পায়। ড্রামাকে যদি বাচ্চারা বুঝে নেয় তো কখনও চিন্তা থাকবে না। ড্রামায় এই সময় জ্ঞান শেখার এবং শেখানোর পার্ট চলছে। পরে এই পার্ট বন্ধ হয়ে যাবে। না বাবার পার্ট থাকবে, না আমাদের পার্ট থাকবে। না তাঁর জ্ঞান প্রদানের পার্ট থাকবে, না আমাদের জ্ঞান অর্জনের পার্ট থাকবে। অর্থাৎ এক সমান হয়ে যাবে তাইনা। আমাদের পার্ট নতুন দুনিয়ায় হয়ে যাবে। শিববাবার পার্ট হয়ে যাবে শান্তিধামে । পার্টের রীল ভরা আছে তাইনা, আমাদের প্রারব্ধের পার্ট, বাবার শান্তিধামের পার্ট। দেওয়ার এবং নেওয়ার পার্ট পূর্ণ হয়েছে, ড্রামা পূর্ণ হয়েছে। পুনরায় আমরা রাজত্ব করতে আসবো, সেই পার্ট চেঞ্জ হবে। জ্ঞান স্টপ হয়ে যাবে। আমরা সেই রূপে পরিণত হয়ে যাবো। পার্ট সম্পূর্ণ হয়ে যায় আর কিছু তফাৎ থাকে না। বাচ্চাদের সঙ্গে বাবার পার্টও থাকবে না। বাচ্চারা পুরোপুরি জ্ঞান প্রাপ্ত করে। তখন তাঁর কাছে আর কিছু থাকে না। না দাতার কাছে দেওয়ার কিছু থাকে, না প্রাপ্তকারীর অপ্রাপ্তি কিছু থাকে, তখন দুইজনেই সমান হয়ে যায়। এতেই বিচার সাগর মন্থন করার বুদ্ধির প্রয়োজন হয়। বিশেষ পুরুষার্থ হল স্মরণের যাত্রা। বাবা বসে বোঝান। মুখে বলতে গেলে তো সেটা স্থূল হয়ে যায়, কিন্তু বুদ্ধিতে তো সূক্ষ্ম তাইনা। ভিতরে ভিতরে জানে যে শিব বাবার রূপ কেমন। বোঝাতে গেলে স্থূল রূপ হয়ে যায়। ভক্তি মার্গে বিশাল লিঙ্গ রূপ বানিয়ে দিয়েছে। আত্মা তো হল সূক্ষ্ম তাইনা। এ হল প্রকৃতি। অন্ত কোথায় পাবে? পরে বলে দেয় অন্তহীন। বাবা বুঝিয়েছেন সম্পূর্ণ পার্ট আত্মায় ভরা আছে। এ হল প্রকৃতি। অন্ত পাওয়া যাবে না। সৃষ্টি চক্রের অন্ত তো পাওয়া যায় । রচয়িতা আর রচনার আদি মধ্য অন্তকে তোমরা জানো। বাবা হলেন নলেজফুল। তবুও আমরা ফুল (ভরপুর) হয়ে যাবো, পাওয়ার জন্য কিছু বাকি থাকবে না। শিববাবা এনার (ব্রহ্মা বাবার) মধ্যে প্রবেশ করে পড়ান। উনি হলেন বিন্দু স্বরূপ। আত্মা বা পরমাত্মার সাক্ষাৎকার হলে খুশীর অনুভব হয় না। পরিশ্রম করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে তবে বিকর্ম বিনাশ হবে। শিববাবা বলেন আমার জ্ঞান বন্ধ হলে তোমরাও জ্ঞান বন্ধ হয়ে যাবে। নলেজ প্রাপ্ত করে উচ্চ পদ প্রাপ্ত করে। সর্ব প্রাপ্তি হওয়ার পরেও পিতা তো হলেন পিতা, তাইনা। তোমরা আত্মারা, আত্মাই থাকবে, পিতা রূপে থাকবে না। এ হল জ্ঞান। পিতা সর্বদা থাকেন পিতা, সন্তানরা সর্বদা সন্তান। এইসব হল বিচার সাগর মন্থন করে গভীরে যাওয়ার বিষয়। এই কথাও জানে যে, সবাইকেই যেতে হবে। সবাই ফিরে যাবে। আত্মারা গিয়ে বাস করবে। সম্পূর্ণ দুনিয়া তো শেষ হবেই, এতে নির্ভয় থাকতে হবে। পুরুষার্থ করতে হবে, নির্ভীক থাকার জন্য। শরীরের বোধ যেন না আসে, সেই অবস্থায় স্থির হতে হবে। বাবা নিজ সম করে তোলেন, তোমরা বাচ্চারাও নিজ সম বানাতে থাকো। এক পিতার স্মরণ যেন থাকে এমন পুরুষার্থ করতে হবে। এখন সময় আছে। এই রিহার্সাল তীব্র গতিতে করতে হবে। প্র্যাক্টিস না থাকলে থেমে যাবে। পা দুটি এগোবে না হঠাৎ হার্ট ফেল হবে। তমোপ্রধান শরীরের হার্টফেল হতে দেরি লাগে না। যত অশরীরী হতে থাকবে, বাবাকে স্মরণ করতে থাকবে ততো কাছে আসতে থাকবে। যোগ যুক্ত থাকে যারা তারাই নির্ভয়ে থাকবে। যোগের দ্বারা শক্তি প্রাপ্ত হয়। জ্ঞানের দ্বারা ধন প্রাপ্ত হয়। বাচ্চাদের চাই শক্তি। অতএব শক্তি প্রাপ্তির জন্য বাবাকে স্মরণ করতে থাকো। বাবা হলেন অবিনাশী সার্জেন। উনি কখনও পেশেন্ট হবেন না। এখন বাবা বলেন তোমরা নিজের অবিনাশী ওষুধ সেবন করতে থাকো। বাবা এমন সঞ্জীবনী বুটি দেন যে কেউ কখনও অসুস্থ হবে না। কেবল পতিত-পাবন বাবাকে স্মরণ করতে থাকো তাহলেই পবিত্র হয়ে যাবে। দেবতারা সর্বদা নিরোগী পবিত্র থাকে, তাইনা। বাচ্চাদের এই দৃঢ়নিশ্চয় তো অবশ্যই হয়েছে আমরা কল্প কল্প বর্সা প্রাপ্ত করেছি। অসংখ্য বার বাবা এসেছেন, যেমন বর্তমানে এসেছেন। বাবা যা শেখান, যা বুঝিয়ে বলেন তারই নাম রাজযোগ। ওই গীতা ইত্যাদি সবই হল ভক্তি মার্গের। এই জ্ঞান মার্গের কথা একমাত্র বাবা বলে দেন। বাবা এসে নীচের থেকে উপরে উঠিয়ে দেন। যারা পাক্কা নিশ্চয় বুদ্ধি হয় তারাই মালার দানা হয়। বাচ্চারা বুঝেছে ভক্তি করতে করতে আমরা নীচে নেমেছি। এখন বাবা এসে প্রকৃত সত্য উপার্জন করাচ্ছেন। লৌকিক পিতা এতখানি উপার্জন করান না যত পারলৌকিক পিতা করান। আচ্ছা - বাচ্চাদের গুড নাইট এবং নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) সার্ভিসেবল হওয়ার জন্য বিকারের অংশ গুলিকে সমাপ্ত করতে হবে। সার্ভিসের প্রতি উৎসাহিত থাকতে হবে।

২ ) আমরা হলাম ঈশ্বরীয় সন্তান, শ্রীমৎ অনুসারে ভারতকে বিষ্ণুপুরী বানাচ্ছি, যেখানে সবাই পাক্কা বৈষ্ণব হবে .... এই নেশায় থাকতে হবে।

বরদান:-
দুঃখের চক্র থেকে সদা মুক্ত থাকতে আর সবাইকে মুক্ত করতে সক্ষম স্বদর্শন চক্রধারী ভব

যে বাচ্চারা কর্মেন্দ্রিয়ের বশে বশীভূত হয়ে বলে যে, আজ মুখ বা দৃষ্টি ধোঁকা দিয়েছে, তো ধোঁকা খাওয়া অর্থাৎ দুঃখের অনুভূতি হওয়া। দুনিয়ার মানুষ বলে - আমরা তো চাইনি কিন্তু চক্রে ফেঁসে গেছি। কিন্তু যারা স্বদর্শন চক্রধারী বাচ্চা তারা কখনও কোনও ধোঁকার চক্করে পড়তে পারে না। তারা তো দুঃখের চক্র থেকে মুক্ত থেকে অন্যদের মুক্ত করতে সাহায্য করে, মালিক হয়ে সর্ব কর্মেন্দ্রিয়ের দ্বারা কর্ম করায়।

স্লোগান:-
অকাল তখতে আসীন হয়ে নিজের শ্রেষ্ঠ গৌরবে থাকো তাহলে কখনই অস্থির অনুভব হবে না।