06-09-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 16-03-86 মধুবন


*আধ্যাত্মিক (রুহানী) ড্রিল*


বাপদাদা সকল বাচ্চাদের সুইট সাইলেন্সের স্থিতিকে দেখছেন । এক সেকেন্ডে সাইলেন্সের স্থিতিতে স্থিত হয়ে যাওয়া - এই প্র্যাকটিস এখনও পর্যন্ত কতদূর হয়েছে ? এই স্থিতিতে যখনই চাও তখনই স্থিত হয়ে যেতে পার নাকি সময় লাগে ? কেননা অনাদি অবিনাশী সংস্কার হল - "সাইলেন্স" । অতএব নিজ অনাদি সংস্কার, অনাদি স্বরূপে, অনাদি স্বভাবকে জানার পরে যখনই ইচ্ছা তখনই সেই স্বরূপে স্থিত হতে পার ? ৬৩ জন্ম হল আওয়াজে আসার, সেইজন্য বেশী অভ্যাস রয়েছে আওয়াজে আসার। কিন্তু অনাদি স্বরূপ এবং তার উপর এই সময় চক্র সম্পূর্ণ হওয়ার কারণে পুনরায় সাইলেন্স হোমে যেতে হবে । এখন নিজ নিকেতনে ফিরে যাওয়ার সময় সমীপে। এখন আদি মধ্য অন্ত তিনটি কালের পার্ট সমাপ্ত করে নিজেদের অনাদি স্বরূপ অনাদি স্থিতিতে স্থিত হওয়ার সময় । সেইজন্য এই সময় এই অভ্যাস বেশী হওয়া আবশ্যক। নিজেকে নিজে চেক করো যে, কর্মেন্দ্রিয়জিৎ হয়েছ কী ? আওয়াজে আসতে চাও না তো ? এই মুখের আওয়াজ তোমাকে আকর্ষণ করছে না তো ? একেই বলা হয় আধ্যাত্মিক ড্রিল ।

যেমন বর্তমান সময়ানুসারে শরীরের জন্য সকল রোগের উপশম হিসেবে 'এক্সারসাইজ' শেখানো হয়। তো এই সময় আত্মাকে শক্তিশালী বানানোর জন্য এই আধ্যাত্মিক এক্সারসাইজ এর অভ্যাস প্রয়োজন। চতুর্দিকে যেমনই পরিবেশই হোক না কেন, কিন্তু চারপাশের আওয়াজের মধ্যে থেকেও এর ঊর্ধ্বে থাকার বহু কালের অভ্যাস প্রয়োজন। শান্ত পরিবেশে শান্তির স্থিতি তৈরী করা, এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। অশান্তির মাঝে তুমি শান্ত রয়েছ, এই অভ্যাসটাই চাই। এমন অভ্যাসকে জানো ? তা সে তোমার নিজের দুর্বলতার বিপর্যস্ত অবস্থা কিম্বা সংস্কারের ব্যর্থ সংকল্পের বিপর্যস্ত অবস্থা - এইরূপ বিপর্যস্ত অবস্থার সময় নিজেকে অচল বানাতে পার নাকি টাইম লেগে যায় ? কেননা টাইম লাগা - এটা যে কোনো সময়ই ধোঁকা দিয়ে দিতে পারে। সমাপ্তির সময়ে বেশী সময় পাওয়া যায় না। ফাইনাল রেজাল্টের পেপার কয়েক সেকেন্ড কিম্বা কয়েক মিনিটেরই হয়ে থাকে। কিন্তু চতুর্দিকের বিপর্যস্ত পরিবেশে অচল থাকার উপরেই নম্বর প্রাপ্ত হয়। যদি বহুকালের বিপর্যস্ত স্থিতিতে অচল হতে সময় লাগার অভ্যাস থাকবে, তবে সমাপ্তির সময় কেমন রেজাল্ট হবে ? সেইজন্য এই আধ্যাত্মিক এক্সারসাইজের অভ্যাস করো। মনকে যেখানে আর যতটা সময় স্থিত করতে চাও স্থিত করতে পার। ফাইনাল পেপার হল খুবই সহজ। আর প্রথম থেকেই বলে দেওয়া হয়েছে যে, এই এই পেপার আসবে। কিন্তু নম্বর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই পাওয়া হয়ে যায়। স্টেজও অত্যন্ত পাওয়ারফুল হতে হবে।

দেহ, দেহের সম্বন্ধ, দেহ - সংস্কার, ব্যক্তি বা বৈভব, ভাইব্রেশন বায়ুমণ্ডল সব কিছু থাকা সত্ত্বেও কিছুই যেন আকৃষ্ট না করে। একেই বলা হয় - 'নষ্টমোহ সমর্থ স্বরূপ' (শক্তিশালী স্বরূপ) । তো এইরূপ প্র্যাকটিস হয়েছে ? লোক চিৎকার করতে থাকবে আর তোমরা অঢল থাকবে। প্রকৃতিও, মায়া-ও সব লাস্ট চাল চালার জন্য নিজের দিকে যতই টানতে থাকুক না কেন, কিন্তু তোমরা সব কিছুর থেকে পৃথক আর বাবার প্রিয় হয়ে ওঠার স্থিতিতে লাভলীন থাকবে। একেই বলা হয় - দেখেও দেখবে না, শুনেও শুনবে না। এমন অভ্যাস হয়ে যেতে হবে। একেই বলা হয় 'সুইট সাইলেন্স' স্বরূপের স্থিতি । তবুও বাপদাদা সময় দিচ্ছেন। যদি কোনো প্রকারের বিচ্যুতি থেকে গিয়ে থাকে, তবে তাকে এখনই ভরে নিতে পার। কেননা বহু কালের হিসাবের বিষয়টা বলেছিলাম না ! অতএব এখন সামান্য চান্স রয়েছে। সেইজন্য এই প্র্যাকটিসের দিকে ফুল অ্যাটেনশন রাখো। পাস উইথ অনার হওয়া কিম্বা কেবল পাস হওয়া, এর আধার - এর উপরেই রয়েছে। এইরূপ অভ্যাস হয়েছে ? সময়ের ঘন্টা বেজে উঠলে তবে প্রস্তুত হবে ? নাকি এখন ভাবছি প্রস্তুত হতে হবে ? এই অভ্যাসের কারণে 'অষ্ট রত্নের মালা' বিশেষতঃ ছোটই হয়ে থাকে। খুবই অল্প সময়ের। তোমরা যেমন বলে থাকো না, সেকেন্ডে মুক্তি বা জীবনমুক্তির উত্তরাধিকার হল সকলের অধিকার। তো সমাপ্তির সময় নম্বর প্রাপ্ত হওয়া হল সামান্য সময়ের ব্যবধানের ব্যাপার। তবে এতটুকুও বিচলিত হওয়া যাবে না। ব্যাস্ বিন্দু বলা হল আর বিন্দুতে স্থির হয়ে গেলে। বিন্দু যেন নড়ে না যায়। এমন নয় যে, অভ্যাস শুরু করলে - "আমি হলাম আত্মা....আমি হলাম আত্মা...এটা তখন চলবে না। কেননা আগেও বলেছি - আঘাত চতুর্দিক থেকে নেমে আসবে। লাস্ট ট্রায়াল সবাই করবে। প্রকৃতির যত শক্তি রয়েছে, মায়ারও যত শক্তি রয়েছে, ট্রায়াল করবে। তাদেরও লাস্ট ট্রায়াল আর তোমাদেরও লাস্ট কর্মাতীত, কর্মবন্ধন মুক্ত স্থিতি হবে। উভয় তরফেরই খুব পাওয়ারফুল সীন হবে। তারাও ফুল ফোর্সে, এরাও ফুল ফোর্সে। কিন্তু সেকেন্ডের বিজয়, বিজয়ের নাগাড়া বাজবে। বুঝেছ, লাস্ট পেপার কী ? সকল শুভ সংকল্প তো এটাই রাখা হয় এবং রাখতেও হবে যে, নম্বর ওয়ান আসতে হবে। অতএব সবেতেই চতুর্দিকের বিজয়ে বিজয়ী (উইন) হলে, তবে তো ওয়ানে আসবে। যদি এক একটি বিষয়েও এতটুকুও ব্যর্থ সংকল্প, ব্যর্থ সময় নিযুক্ত হয়ে যায় অর্থাৎ নম্বরও পিছনে হয়ে যাবে। সেইজন্য সব কিছু চেক করো, চতুর্দিকেই চেক করো, ডবল বিদেশি সবেতে তীব্র যেতে চায়, তাই না ! সেইজন্য তীব্র পুরুষার্থ বা ফুল অ্যাটেনশন - এই অভ্যাসে এখন থেকেই দিতে থাকো। বুঝতে পেরেছ ? কোশ্চেনকে জানো আর টাইমকেও জানো। তবে তো সব পাস হয়ে যাওয়ার কথা ! যদি আগে থেকেই কোশ্চেন জানা থাকে, তবে তো প্রস্তুতি নেওয়া যায়। তখন তো পাস হয়ে যাবে। তোমরা সবাই তো পাস হবেই, তাই না ! আচ্ছা ।

এই সিজনে বাপদাদা সকলের সাথে মিলিত হওয়ার খোলা ভান্ডারা খুলে দিয়েছেন। এরপর কী হবে, সে'কথা পরে বলা হবে। এখন খোলা ভান্ডার থেকে যা যা নিতে এসেছ, তা তো নিয়েই নেবে। ড্রামার দৃশ্য তো পরিবর্তিত হতেই থাকবে। কিন্তু এই সিজনে তা সে ভারতবাসীই হোক, কিম্বা ডবল বিদেশি, সকলেরই বিশেষ বরদান প্রাপ্ত হয়েছে। বাপদাদা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সে তো অবশ্যই রাখবেন। এই সিজনের ফল খাও। ফল হল - মিলন, বরদান। সকলে সিজনের ফল খেতে এসেছ, তাই না ! বাপদাদারও বাচ্চাদেরকে দেখে আনন্দ হয়। তবুও সাকারী সৃষ্টিতে তো সব কিছুই দেখতে হয়। এখন তো আনন্দ করে নাও। পরে সিজনের শেষে আবার বলব।

সেবার স্থান যতই আলাদা আলাদা হোক না কেন, সেবার লক্ষ্য তো একটাই। উৎসাহ - উদ্দীপনাও এক, সেইজন্য বাপদাদা সকল স্থানেরই বিশেষ গুরুত্ব দেন। এমন নয় যে, একটি স্থানের গুরুত্ব বেশী, অন্যটির কম। তা নয়। যে ধরনীতেই বাচ্চারা গিয়ে উপস্থিত হয়েছে, তার দ্বারা কোনো না কোনো বিশেষ রেজাল্ট অবশ্যই এসেছে। তা সে কোনোটার দ্রুত এসেছে, কোনোটার হয়ত একটু সময় লাগবে বের হতে। কিন্তু বিশেষত্ব সকল দিকেরই রয়েছে। কত ভালো ভালো রত্ন বেরিয়েছে। এমন ভেব না যে, আমরা তো সাধারণ। তোমরা সবাই হলে বিশেষ। যদি বিশেষ না হতে, বাবার কাছে উপস্থিত হতে পারতে না। বিশেষত্ব রয়েছে, কিন্তু সেই বিশেষত্বকে কেউ সেবাতে লাগিয়েছে, কেউ সেবাতে লাগানোর জন্য এখন প্রস্তুতি নিচ্ছে, বাকি সকলেই হলে বিশেষ আত্মা তোমরা। সব মহারথী, মহাবীর তোমরা। এক একজনের মহিমা শুরু করা হলে অনেক বড় লম্বা মালা তৈরী হয়ে যাবে । শক্তিদেরকে দেখো, প্রত্যেক শক্তি হল মহান আত্মা। বিশ্ব কল্যাণকারী আত্মাই দেখতে পাওয়া যাবে। এমনই তো, তাই না ! নাকি নিজ নিজ স্থানের কল্যাণকারী ? আচ্ছা ।

০৬-০৯-২০২০ প্রাতঃ মুরলী ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন : রিভাইস : ১৯-০৩-৮৬

*অমৃতবেলা - শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি গুলির বেলা*

আজ আধ্যাত্মিক বাগানের মালিক (বাগবান) তাঁর আধ্যাত্মিক রোজ ফ্লাওয়ার্সের বাগানকে দেখছেন। এমন আধ্যাত্মিক গোলাপ বাগান এখন এই সঙ্গমযুগেই বাপদাদার দ্বারাই নির্মিত হয়। বাপদাদা এক একটি আধ্যাত্মিক গোলাপ ফুলের রুহানিয়তের সৌরভ আর রুহানিয়তের প্রস্ফুটিত প্রতিটি পুষ্পের সৌন্দর্য দেখছেন। সুরভিত সকলেই, কিন্তু কারো সৌরভ সব সময় স্থায়ী হওয়ার আবার কারো সৌরভ স্বল্প সময় স্থায়ী হওয়ার। কোনো গোলাপ সব সময় প্রস্ফুটিত হয়েই আছে, আবার কোনোটা কিছু সময় ফুটে থাকার পর সামান্য রোদ বা আবহাওয়ার কারণে কিছু সময় পরেই ম্রিয়মান হয়ে যায়। কিন্তু তাও সকলে হল আধ্যাত্মিক বাগানের মালিকের আধ্যাত্মিক গোলাপ। কোনো কোনো আধ্যাত্মিক গোলাপে জ্ঞানের সৌরভ বিশেষ ভাবে রয়েছে, কোনোটির মধ্যে ধারণার সৌরভ, কোনোটিতে সেবার সৌরভ বিশেষ ভাবে রয়েছে। কোনো কোনোটি আবার এমনও রয়েছে, যা কিনা সকল সৌরভে সম্পন্ন। তাহলে গোলাপ বাগানে সবার আগে দৃষ্টি কার উপরে যাবে ? যার সৌরভ দূর থেকেই আকৃষ্ট করবে। সেই দিকেই সকলের নজর সবার প্রথমে যাবে। অতএব আধ্যাত্মিক বাগানের মালিক সর্বদা সকল আধ্যাত্মিক ফুল গুলিকে দেখতে থাকেন। কিন্তু নম্বর অনুক্রমে। ভালোবাসা সকলের প্রতিই রয়েছে, কেননা প্রতিটি গোলাপ ফুলের মধ্যে বাগানের মালিকের প্রতি গভীর ভালোবাসা রয়েছে আর মালিকেরও ফুলেদের প্রতি ভালবাসা রয়েছে। তবুও শো'কেসে সবসময় স্থান পাওয়া আধ্যাত্মিক গোলাপ হল সেগুলোই, যেগুলি সর্বদা সৌরভ সম্পন্ন। আর সদা তরতাজা, প্রস্ফুটিত। যেগুলির তাজা ভাব হারিয়ে যায়, সেগুলি কখনোই নয় । প্রতিদিন অমৃতবেলায় বাপদাদা স্নেহ এবং শক্তির দ্বারা বিশেষ লালন পালনের দ্বারা সকল আধ্যাত্মিক গোলাপ ফুল গুলির সাথে মিলিত হন।

অমৃতবেলা হল বিশেষ প্রভু পালনার বেলা। অমৃতবেলা হল বিশেষ পরমাত্ম মিলনের বেলা। আধ্যাত্মিক আন্তরিক আলাপচারিতার বেলা। অমৃতবেলা ভোলা ভান্ডারীর বরদানের খাজানার থেকে সহজ বরদান প্রাপ্ত হওয়ার বেলা। যে গায়ন আছে - মন বাঞ্ছিত ফল প্রাপ্ত করা। তা এই সময় অমৃতবেলার সময়েই গায়ন এটি। বিনা পরিশ্রমে উন্মুক্ত খাজানাকে প্রাপ্ত করার বেলা। এইরূপ মনোরম সুবর্ণ সময়কে অনুভবের দ্বারা তোমরা জানো, তাই না ! অনুভাবীরাই জানে এই শ্রেষ্ঠ সুখকে, শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি গুলিকে। তো বাপদাদা সকল আধ্যাত্মিক গোলাপকে দেখে দেখে আনন্দিত হন। বাপদাদাও বলেন - বাঃ আমার আধ্যাত্মিক গোলাপ ! তোমরা বাঃ বাঃ এর গীত গাও তো বাপদাদাও এই গীত গান। বুঝেছ !

মুরলী তো অনেক শুনেছ ! শুনে শুনে সম্পন্ন হয়ে গেছ। এখন মহাদানী হয়ে বন্টন করবার প্ল্যান বানাচ্ছ। এই উৎসাহ খুব ভালো। আজ ইউ. কে. (ইউনাইটেড কিংডম, সাধারণ কথায় আমরা গ্রেট ব্রিটেন বলি) অর্থাৎ ও. কে. (OK) থাকার টার্ন। ডবল বিদেশিদের একটি শব্দ শুনে বাপদাদা সবসময় আনন্দ পান। কোন্ সে শব্দ - "থ্যাঙ্ক ইউ"। থ্যাঙ্ক ইউ বলতে থাকবে আর বাবাকেও স্মরণ করতে থাকবে। কেননা সবার আগে অন্তর থেকে ধন্যবাদ তো বাবাকেই দেয় তারা। তাই যখনই তারা কাউকে থ্যাঙ্ক ইউ বলে, তখন সর্বাগ্রে বাবার কথাই মনে পড়বে যে, তাই না ! ব্রাহ্মণ জীবনে সর্বপ্রথম ধন্যবাদ অন্তর থেকে মনেপ্রাণে মানে। স্বতঃতই বাবার প্রতি নির্গত হয়। উঠতে - বসতে অসংখ্য বার তোমরা থ্যাঙ্ক ইউ বলতে থাকো, এটাও একটা ভালো বিধি বাবাকে স্মরণ করবার।ইউ. কে. গ্রুপ, তোমরা লৌকিক জগতে নানান শক্তিশালী ব্যক্তিদেরকে বাবার সাথে মিলিত করবার নিমিত্ত হয়েছ, তাই না ! অনেক প্রকারের নলেজের শক্তি রয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের শক্তির অধিকারী ব্যক্তিরা, ভিন্ন ভিন্ন বর্গের ভিন্ন ভিন্ন ধর্মের, ভাষার, সকলকে মিলিত করে একটিই ব্রাহ্মণ বর্গে নিয়ে আসা, ব্রাহ্মণ ধর্মে নিয়ে আসা, ব্রাহ্মণ ভাষাতে নিয়ে আসা। ব্রাহ্মণদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে। যা কিনা নতুনরা বুঝতে পারবে না যে, এরা কী বলছে ! তাই ব্রাহ্মণদের ভাষা, ব্রাহ্মণদের ডিক্শনারিও (শব্দ কোষ) নিজস্ব। তো ইউ. কে. গ্রুপ সকলকে এক করবার কাজে বিজি থাকো, তাই না ? সংখ্যাতেও তোমরা অনেক রয়েছ। স্নেহও রয়েছে তোমাদের মধ্যে। প্রতিটি স্থানের নিজ নিজ বিশেষত্ব তো রয়েছেই, কিন্তু ইউ. কে. র বিশেষত্বের কথা বললাম। যজ্ঞ স্নেহী, যজ্ঞ সহযোগী এই বিশেষত্ব তোমাদের মধ্যে ভালোই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। প্রতিটি পদক্ষেপে যজ্ঞ অর্থাৎ মধুবনের অংশীদারিত্ব বের করবার বিষয়েও ভালো নম্বরে যাচ্ছ। ডাইরেক্ট মধুবনের স্মরণ একটি স্পেশাল লিফ্ট হয়ে যায়। সকল কার্যে, প্রতিটি পদক্ষেপে মধুবন অর্থাৎ বাবার স্মরণ রয়েছে, নয়ত বাবার পাঠ, কিম্বা বাবার ব্রহ্মা ভোজন কিম্বা বাবার সাথে মিলন রয়েছে। মধুবন স্বতঃতই বাবার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যেখানেই থাকো, মধুবনের কথা মনে পড়া অর্থাৎ বিশেষ স্নেহই, লিফ্ট হয়ে যায়। চড়ার পরিশ্রম থেকে বিমুক্ত হয়ে যাও। সেকেন্ডে সুইচ অন করলে আর পৌঁছে গেলে।

বাপদাদার তো হীরে মুক্তোর প্রয়োজন নেই। বাবার স্নেহের ছোট্ট বস্তুই হল হীরে রত্ন। সেইজন্য সুদামার খুদের এত মাহাত্ম্য। এর ভাবার্থ এটাই যে, স্নেহের ক্ষুদ্র থেকে অতি ক্ষুদ্র সূঁচও মধুবনের স্মৃতিকে জাগিয়ে দেয় ।তো সেটাও হল বড়ই অমূল্য। কেননা তা যে হল স্নেহের দাম। ভ্যাল্যু হল স্নেহের। জিনিসের নয়। এমনিতে যদি কেউ যতই দিক না কেন, তাতে যদি স্নেহ না থাকে, তবে তা জমা হবে না। আর স্নেহের সাথে সামান্যও যদি কেউ জমা করে, তবে তার পদ্ম (লক্ষ্ কোটি গুণ) জমা হয়ে যায়। তাই বাবার স্নেহই পছন্দ। তো ইউ. কে. গ্রুপের বিশেষত্ব - যজ্ঞ স্নেহী, যজ্ঞ সহযোগী আদি থেকেই রয়েছে তারা। এটা সহজ যোগ। সহযোগ হল সহজ যোগ। সহযোগের সংকল্প এলেও স্মরণ তো বাবার কথাই আসবে। তো সহযোগী, সহজযোগী স্বতঃতই হয়ে যায়। যোগ বাবার সাথে, মধুবন অর্থাৎ বাপদাদার সাথে । অতএব সহযোগী যারা, তারা সহযোগের সাবজেক্টে ভালো নম্বর নিয়ে নেয়। হৃদয়ের সহযোগ বাবার বড় প্রিয়। সেইজন্য এখানে স্মরণিকও 'দিলওয়ারা মন্দির' বানিয়েছে। তো দিলওয়ালা বাবার দিল অর্থাৎ অন্তরের স্নেহ, অন্তরের সহযোগই হল প্রিয়। ছোট হৃদয়ের যারা, তারা ছোট ছোট সওদা করে খুশী হয়ে যায়। আর বড় হৃদয়ের যারা, তারা অনন্তের সওদা করবে। ফাউন্ডেশনই হল বড় হৃদয়, তাই বিস্তারও বৃহৎ রূপেই হচ্ছে। যেমন কোনো কোনো স্থানে দেখবে, কোনো কোনো গাছের বৃক্ষের শাখাই গাছের কান্ড হয়ে যায়। তো ইউ. কে. এর ফাউন্ডেশন থেকে কান্ড নির্গত হয়েছে, শাখা নির্গত হয়েছে। এখন সেই শাখা গুলিও কান্ড রূপ ধারণ করেছে। সেই কান্ড গুলি থেকেও এখন শাখা নির্গত হতে শুরু করেছে। যেমন অস্ট্রেলিয়া বের হয়েছে, আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা নির্গত হয়েছে। সব গুলোই কান্ড রূপ ধারণ করে ফেলেছে। আর এক একটি কান্ডের শাখা গুলিও ভালোভাবে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হচ্ছে । কেননা ফাউন্ডেশন স্নেহ আর সহযোগের জল দ্বারা মজবুত হয়েছে। সেইজন্য বিস্তারও ভালোই হচ্ছে আর ফলও ভালো হচ্ছে।

বরদান:-
দেহ ভাবকে ত্যাগ করে নিষ্ক্রোধী হয়ে উঠে নির্মানচিত্ত ভব

যে বাচ্চারা দেহ ভাবের ত্যাগ করে থাকে, তাদের কখনোই ক্রোধ আসবে না। কেননা ক্রোধ আগমনের কারণ হল দুটি। এক - কেউ যখন মিথ্যা কথা বলে আর দ্বিতীয় হল যখন কেউ মিথ্যা গ্লানি করছে। এই দুটি বিষয় ক্রোধের জন্ম দেয। এইরূপ পরিস্থিতিতে নির্মানচিত্তের বরদানের দ্বারা অপকারীর উপরেও উপকার করো। যে গ্নানি করছে তাকে গলায় অর্থাৎ আলিঙ্গন করো আর নিন্দা করছে যে, তাকে সত্যিকারের মিত্র মনে করো - তখনই বলা হবে কামাল করেছ। যখন এই রকম পরিবর্তন দেখাতে পারবে, তখন বিশ্বের সামনে প্রসিদ্ধ হবে।

স্লোগান:-
আনন্দ বা আমোদের (মৌজ) অনুভব করবার জন্য মায়ার অধীনতাকে ত্যাগ করে স্বাধীন হও।*