06.10.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


প্রশ্নঃ -
তোমাদের মতো রূপ - বসন্ত বাচ্চাদের কর্তব্য কি ? তোমরা বাবার কাছ থেকে কোন্ শিক্ষা পেয়েছো ?

উত্তরঃ -
তোমাদের মতো রূপ - বসন্ত বাচ্চাদের কর্তব্য হলো, মুখ থেকে সর্বদা রত্ন নির্গত হওয়া, তোমাদের মুখ থেকে কখনোই পাথর নির্গত হওয়া উচিত নয় । সকল বাচ্চাদের প্রতি বাবার শিক্ষা হলো - ১) নিজেদের মধ্যে কখনোই কেউ কাউকে বিরক্ত করবে না, রাগ করবে না, এ হলো আসুরী মানুষের কাজ । ২) মনেও যেন কাউকে দুঃখ দেওয়ার খেয়াল না আসে । ৩) নিন্দা - স্তুতি, মান - অপমান সবকিছুই সহন করতে হবে । কখনো যদি কেউ কিছু বলে, তাহলে শান্ত থাকো । নিজের হাতে আইন তুলে নিও না ।

গীতঃ-
তুমি প্রেমের সাগর....

ওম্ শান্তি ।
জ্ঞান এবং অজ্ঞান । বাচ্চারা, তোমাদের মধ্যে এখন জ্ঞান আছে । ভক্তরা কার মহিমা করে, আর তোমরা বাচ্চারা, যারা এখানে বসে আছো, তোমরা কার মহিমা শোনো ? এ হল রাত দিনের তফাৎ । ওরা তো এমনিতেই মহিমা করতে থাকে । ওদের এতো প্রেম থাকে না, কারণ ওরা চেনে না । বাবা তোমাদের পরিচয় দিয়েছেন যে, আমি হলাম প্রেমের সাগর আর আমি তোমাদের প্রেমের সাগর তৈরী করছি । বাবা হলেন প্রেমের সাগর, তাই সকলের তাঁকে কতো প্রেমী মনে হয় । ওখানেও সবাই একে অপরকে ভালোবাসে । তোমরা এখন তা এখানে শেখো । তোমাদের কারোর সঙ্গেই বিরোধ হওয়া উচিত নয়, যাকে বাবা নুন জল বলেন । তোমাদের অন্তরে কারোর জন্যই ঘৃণা থাকা উচিত নয় । যারা ঘৃণা করে, তারা হলো কলিযুগী নরকবাসী । তোমরা জানো যে, আমরা সবাই ভাই - বোন । শান্তিধামে থাকলে সবাই ভাই - ভাই । এখানে সবাই এই কর্মক্ষেত্রে অভিনয় করে, তাই ভাই - বোন । সকলেই ঈশ্বরীয় সন্তান । ঈশ্বরের মহিমা হলো, তিনি হলেন জ্ঞানের সাগর, প্রেমের সাগর, অর্থাৎ সবাইকে সুখ দান করেন । তোমরা সবাই নিজের মনকে জিজ্ঞেস করো - বাবা যেমন ২১ জন্মের জন্য সুখ প্রদান করেন, আমরা কি তেমনই সেই কার্য করি ? আমরা যদি বাবার সাহায্যকারী না হই, ভালো না বাসতে পারি, একে অপরের প্রতি প্রীতি যদি না থাকে, যদি বিপরীত বুদ্ধির হয়ে থাকি, তাহলে বিনশ্যন্তি হয়ে যাবো । বিপরীত বুদ্ধির হওয়া হলো অসুরের কাজ । নিজেদের ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়ের বলে তারপর একে অপরকে দুঃখ দেওয়া, এদেরই অসুর বলা হয় । বাচ্চারা, তোমাদের কাউকে দুঃখ দেওয়া উচিত নয় । তোমরা হলে দুঃখ হর্তা, সুখ কর্তা বাবার সন্তান । তাই তোমাদের দুঃখ দেওয়ার খেয়াল আসাই উচিত নয় । ওরা তো হলো আসুরী সম্প্রদায়, নাকি ঈশ্বরীয় সম্প্রদায়, কেননা ওরা দেহ - অভিমানী । ওরা কখনোই স্মরণের যাত্রায় থাকতে পারবে না । এই স্মরণের যাত্রা ছাড়া কল্যাণ হবেই না । উত্তরাধিকার প্রদানকারী বাবাকে তো অবশ্যই স্মরণ করতে হবে, তাহলেই বিকর্ম বিনাশ হবে । তোমরা অর্ধেক কল্প তো একে অপরকে দুঃখ দিয়েই এসেছো । একে অপরের সঙ্গে যারা লড়াই - ঝগড়া করে, একে অপরকে বিরক্ত করে, তাদের আসুরী সম্প্রদায়ের মধ্যে গণনা করা হয় । যদিও তোমরা পুরুষার্থী, তবুও কতদিন পর্যন্ত দুঃখ দিতে থাকবে, তাই বাবা বলেন, নিজেদের চার্ট রাখো । এই চার্ট রাখলে বুঝতে পারবে যে, আমাদের রেজিস্টার শুধরে যাচ্ছে নাকি সেই আসুরী চলনই আছে ? বাবা সর্বদাই বলেন, কখনো কাউকে দুঃখ দিও না । নিন্দা - স্তুতি, মান - অপমান, ঠান্ডা - গরম সবই সহন করতে হবে । কেউ যদি কিছু বলে, তাহলেও শান্ত থাকা উচিত । এমন নয় যে, তাদেরকে আরো দুটো কথা শুনিয়ে দেওয়া উচিত । কেউ যদি কাউকে দুঃখ দেয়, তাহলে বাবা তো তাকে বোঝাবেন, তাই না । বাচ্চারা তো বাচ্চাদের বলতে পারে না । নিজের হাতে আইন নেওয়া উচিত নয় । কোনোকিছু হলে বাবার কাছে আসা উচিত । গভর্নমেন্টেরও নিয়ম আছে যে - কেউই একে অপরকে ঘুসি পর্যন্ত মারতে পারবে না । অভিযোগ জানাতে পারে । আইনের ব্যবহার করা গভর্নমেন্টের কাজ । তোমরাও গভর্নমেন্টের কাছে যাও । নিজের হাতে আইন নিও না । এ তো হলো নিজেদের ঘর, তাই বাবা বলেন যে, রোজ কাছারি বসাও । এও বোঝে না যে - শিববাবা নির্দেশ দেন । বাবা বলেছেন যে, সবসময় মনে করো, শিববাবাই শোনাচ্ছেন । এমন মনে করো না যে, ব্রহ্মা শোনাচ্ছেন । সবসময় যদি শিববাবার কথাই মনে করো, তাহলে তাঁর স্মরণ থাকবে । শিববাবা তোমাদের জ্ঞান শোনানোর জন্য এই রথ নিয়েছেন । সতোপ্রধান হওয়ার পথ বাবাই তোমাদের বুঝিয়ে বলছেন । তিনি হলেন গুপ্ত । তোমরা হলে প্রত্যক্ষ । যেই নির্দেশ পাও, মনে করো তা শিববাবার, তাহলে তোমরা সুরক্ষিত থাকবে । তোমরা শিবকেই 'বাবা - বাবা' বলে ডাকো । উত্তরাধিকারও তোমরা তাঁর থেকেই পাও । তাঁকে কতো সম্মান দিয়ে এবং রাজকীয় ভাবে চলা উচিত । তোমরা বলো না - বাবা, আমরা তো লক্ষ্মী - নারায়ণ হবো । তারপর সেকেণ্ড - থার্ড হবো, সূর্যবংশী যদি না হই তাহলে চন্দ্রবংশী হবো । এমন তো নয় যে, আমরা দাস - দাসী তৈরী হবো । প্রজা হওয়া তো ভালো নয় । তোমাদের তো এখানে দৈবী গুণই ধারণ করতে হবে । আসুরী চলন হওয়া তো উচিত নয় । নিশ্চয়তা না থাকলে বসে বসেই বলে দেয় - এনার মধ্যে যে শিববাবা আসেন, আমরা তো বুঝতে পারি না । মায়ার ভূত এলে নিজেরা এমন কথা বলে দেয় । আসুরী স্বভাবের মানুষ যখন নিজেদের মধ্যে মিলিত হয়, তখন এমন কথা বলতে থাকে, মুখ দিয়ে আসুরী কথাই নির্গত হয় । বাবা বলেন যে, তোমরা আত্মারা রূপ - বসন্ত তৈরী হও । তোমাদের মুখ দিয়ে রত্ন নির্গত হওয়া উচিত । যদি পাথর নির্গত হয়, তাহলে তো আসুরী বুদ্ধির হয়ে গেলে ।

বাচ্চারা গীতও শুনেছে । বাচ্চারা বলে যে - বাবা প্রেমের সাগর, সুখের সাগর । শিববাবারই মহিমা । বাবা বলেন যে, তোমরা নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো । এতে অনেক ভালো ভালো বাচ্চা ফেল করে যায় । দেহী - অভিমানী স্থিতিতে টিকতে পারে না । দেহী - অভিমানী হবে, তবেই এতো উঁচু পদ পাবে । অনেক বাচ্চা অপ্রয়োজনীয় কথায় সময় অপচয় করে । জ্ঞানের কথাই তাদের খেয়ালে আসে না । এমনও মহিমা আছে যে - ঘরের গঙ্গার মানও রাখে না । ঘরের জিনিসের এতো মান করে না । যদিও তাদের ঘরে কৃষ্ণ আদি দেবী - দেবতার চিত্র আছে, তবুও তারা শ্রীনাথ দ্বার ইত্যাদি এতো দূরে দূরে কেন যায় ! শিবের মন্দিরেও আছে পাথরের লিঙ্গ । পাহাড় থেকে পাথর বের করে তা ঘসে ঘসে লিঙ্গ তৈরী করা হয, সেখানে কোনো কোনো পাথরে সোনাও লাগানো থাকে । বলা হয় সোনার কৈলাস পর্বত । সোনা তো পাহাড় থেকে বের হয়, তাই না । তাই অল্প সোনা লাগানো পাথরও বের হয়, আর তা খুব সুন্দর গোলাকার হয়ে যায়, সেইসব তখন বিক্রি করে । মার্বেলেরও সুন্দর লিঙ্গ তৈরী করে । এখন ভক্তিমার্গের মানুষদের যদি বলো যে, তোমরা বাইরে - বাইরে কেন এতো বিভ্রান্ত হও, তখন তারা বিগড়ে যাবে । বাবা নিজে বলেন - বাচ্চারা, তোমরা অনেক অর্থ অপচয় করেছো । এও এই ড্রামারই অংশ যে, তোমাদের ধাক্কা খেতেই হয় । এ হলো জ্ঞান আর ভক্তির খেলা । বাচ্চারা, এখন তোমরা সম্পূর্ণ জ্ঞান পেয়েছো । জ্ঞান হলো সুখের রাস্তা । জ্ঞান থেকেই সত্যযুগের রাজত্ব পাওয়া যায় । এই সময় রাজা - রানী আর প্রজা, সকলেই নরকের মালিক । যখন কেউ মারা যায়, তখন বলে যে স্বর্গবাসী হয়েছেন । এই কথা এখন তোমরা বুঝতে পারো । তোমরা এখন বলো, আমরা স্বর্গবাসী হওয়ার জন্য স্বর্গের স্থাপনকারী বাবার কাছে বসে আছি । আমরা জ্ঞানের বিন্দু পাই । অল্প জ্ঞানও যদি কিছু শোনো, তাহলেও অবশ্যই স্বর্গে চলে আসবে, বাকি পুরুষার্থের উপর নির্ভর করে । মানুষ মনে করে এক ঘটি গঙ্গাজল মুখে ঢাললে পতিত থেকে পবিত্র হওয়া যায় । তারা ঘটি ভরে গঙ্গাজল বাড়ীতে নিয়ে যায়, তারপর এক এক ফোঁটা জলে মিলিয়ে স্নান করে । সে যেন গঙ্গাস্নান হয়ে গেলো । বিলেতেও গঙ্গাজল ভরে নিয়ে যায় । এ সবই হলো ভক্তি ।

বাবা বাচ্চাদের বোঝান যে - বাচ্চারা, মায়া অনেক জোরে থাপ্পড় লাগায়, বিকর্ম করিয়ে দেয় তাই কাছারি বসাও, নিজেই নিজের কাছারি করা ভালো । তোমরা নিজেদের নিজেই রাজতিলক দাও, তাই নিজেদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে । তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে হবে । বাবা শ্রীমৎ দেন যে, এমন - এমন করো, দৈবীগুণ ধারণ করো । যা করবে, তাই পাবে । তোমাদের তো খুশীতে রোমাঞ্চিত হয়ে যাওয়া উচিত । তোমরা অসীম জগতের পিতাকে পেয়েছো, তাই তাঁর সেবায় সাহায্যকারী হতে হবে । অন্ধের লাঠি হতে হবে । যতো বেশী হতে পারবে, ততই নিজের কল্যাণ হবে । বাবাকে তো প্রতি মুহূর্তে স্মরণ করতে হবে । ধ্যানে (নেষ্ঠাতে) এক জায়গায় বসার কোনো কথা নয় । তোমাদের চলতে - ফিরতে স্মরণ করতে হবে । তোমরা ট্রেনেও সেবা করতে পারো । তোমরা যে কোনো কাউকেই জিজ্ঞেস করতে পারো যে, উঁচুর থেকেও উঁচু কে ? তাঁকেই স্মরণ করো । তোমরা তাঁর থেকেই উত্তরাধিকার পাবে । আত্মা বাবার থেকে অসীম জগতের উত্তরাধিকার পায় । কেউ দান - পুণ্য করার কারণে রাজার ঘরে জন্ম নেয়, তাও অল্পকালের জন্য । সদা তো রাজা থাকতে পারবে না । বাবা তাই বলেন, এখানে তো ২১ জন্মের জন্য গ্যারেন্টি । ওখানে একথা জানতেই পারবে না যে, অসীম জগতের বাবার থেকে উত্তরাধিকার নিয়ে এসেছি । এই জ্ঞান যখন তোমরা এই সময় পাও তাই কতো ভালোভাবে পুরুষার্থ করা উচিত । পুরুষার্থ যদি না করো তাহলে নিজের পায়ে কুড়াল মারবে । আর চার্ট যদি লিখতে থাকো তাহলে ভয় থাকবে । কেউ - কেউ এমনও লেখে যে বাবা দেখলে কি বলবে ? চালচলনে অনেক তফাৎ থাকে । তাই বাবা বলেন যে, এই গাফিলতি ত্যাগ করো । নাহলে অনেক অনুতাপ করতে হবে । পরের দিকে অবশ্যই নিজের পুরুষার্থের সাক্ষাৎকার হবে, তখন অনেক কাঁদতে হবে । কল্প - কল্প এই উত্তরাধিকারই পাবে যে, গিয়ে দাস-দাসী হবে । আগে তো ধ্যানে (সূক্ষ্ম লোকে) গিয়ে শোনাতে - অমুকে দাসী, অমুকে এই । তারপর বাবা সব বন্ধ করে দিয়েছেন । বাচ্চারা, ভবিষ্যতে তোমাদের আবার সাক্ষাৎকার হবে । সাক্ষাৎকার ছাড়া কিভাবে সাজা ভোগ করবে । এমন নিয়মই নেই ।

বাচ্চাদের অনেক যুক্তি সহকারে বোঝানো হয় যে, তোমরা তোমাদের পতিদের বলো যে, কাম হলো মহাশত্রু । একে জয় করো । মায়াজিৎ - জগৎজিৎ হও । এখন আমি স্বর্গের মালিক হবো, নাকি তোমাদের কারণে অপবিত্র হয়ে নরকে যাবো । অনেক ভালোবেসে এবং নম্রতার সঙ্গে বোঝাও । আমাদের নরকে কেন ধাক্কা দিচ্ছো ? এমন অনেক বাচ্চা আছে যারা বোঝাতে বোঝাতে পতিকেও নিয়ে আসে । তখন পতি বলে, এ আমার গুরু, এ আমাকে খুব ভালো পথ বলে দিয়েছে । তখন বাবার সামনে এসে তাঁর পায়ে পড়ে । কখনো জিৎ, কখনো আবার হারও হয়ে যায় । তাই বাচ্চাদের খুবই মিষ্টি হতে হবে । যারা সেবা করবে তারাই প্রিয় হবে । ভগবান বাবা বাচ্চাদের কাছে এসেছেন, তাই তাঁর শ্রীমতে চলতে হবে । শ্রীমৎ অনুযায়ী যদি না চলে তাহলে ঝড় এলে ভেঙ্গে পড়ে যায় । এমনও আছে - তারা আর কি কাজের হবে । এই পড়া কোনো সাধারণ পড়া নয়, আর সব সৎসঙ্গ আদিতে তো আছে - কানরস, যাতে অল্পকালের সুখ পাওয়া যায় । এই বাবার কাছে তো ২১ জন্মের সুখ পাওয়া যায় । বাবা হলেন সুখ - শান্তির সাগর - আমাদেরও বাবার থেকে সেই উত্তরাধিকার পেতে হবে । সেবা করবে, তাহলেই তো পাবে, তাই সর্বদা ব্যাজ পড়ে থাকো । আমাদের এমন সর্বগুণ সম্পন্ন হতে হবে । আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে হবে যে, আমরা কাউকে দুঃখ দিই না তো ? আসুরী চলনে চলি না তো ? মায়া এমন কাজ করিয়ে দেয় যে, সেকথা আর জিজ্ঞেস করো না । খুব ভালো ভালো ঘরের যারা তারাও বলে যে - মায়া এই বিকর্ম করিয়ে নিলো । কেউ সত্য কথা বলে, আর কেউ সত্য কথা না বলার কারণে শতগুণ দণ্ড ভোগ করে । এরপর এই অভ্যাসও বৃদ্ধি পেতে থাকবে । বাবাকে শোনালে বাবা সাবধান করে দেবেন । বাবা বলেন যে, পাপ করে থাকলে তা রেজিস্টারে লেখো, আর বলে দাও, তাহলে তোমরা পাপ থেকে অর্ধেক মুক্ত হয়ে যাবে । যদি না শোনাও আর লুকাতে থাকো, তাহলে সেই পাপ করতেই থাকবে । তখন অভিশপ্ত হয়ে যায় । না বললে একবারের বদলে একশো বার করতে থাকবে । বাবা কতো ভালো রায় দেন কিন্তু কারোর - কারোর তো সামান্যতম প্রভাবও পড়ে না । নিজের ভাগ্যকে যেন পদাঘাত করতে থাকে । অনেক বেশী ক্ষতি করে দেয় । অন্তিম সময় সকলের সাক্ষাৎকার হবে যে, এই - এই তৈরী হবে, ক্লাসে যখন ট্রান্সফার হয় তখন তো নম্বর বের হয় । ট্রান্সফার হওয়ার পূর্বে নম্বর বের হয় । তোমরাও যখন নিজের ক্লাসে যাও, তখন রেজাল্টও জানতে পারবে, তখন খুব জোরে কাঁদতে থাকবে । তখন আর কি করা যাবে ? রেজাল্ট তো বের হয়ে গেছে, তাই না । যা ভাগ্যে ছিলো তাই নিয়ে নিয়েছো । বাবা সমস্ত বাচ্চাদেরই সাবধান করেন । তোমাদের কর্মাতীত অবস্থা এখন হতে পারবে না । কর্মাতীত অবস্থা হয়ে গেলে তখন তো শরীর ত্যাগ করতে হবে, এখন কিছু না কিছু বিকর্ম বাকি আছে, হিসেব - নিকেশ আছে, তাই সম্পূর্ণ যোগ লাগে না । এখন কেউই বলবে না যে, আমি কর্মাতীত অবস্থায় আছি । কর্মাতীত অবস্থার কাছাকাছি গেলে অনেক নিদর্শন দেখা যাবে । সমস্তকিছুই তোমাদের অবস্থার উপর আর বিনাশের উপর নির্ভর করে । তোমাদের এই পাঠ সম্পূর্ণ হলে দেখবে, লড়াই শিয়রে উপস্থিত । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) মায়ার বশীভূত হয়ে কোনো আসুরী চলনে চলবে না । নিজের আচার-আচরণের রেজিস্টার রাখতে হবে । এমন কোনো কর্ম ক'রো না, যাতে অনুতাপ করতে হয় ।

২ ) অনেক ভালোবেসে আর নম্রতার সাথে সেবা করতে হবে । তোমাদের মিষ্টি হতে হবে । মুখ দিয়ে কোনো আসুরী কথা বের করবে না । খুব ভালোভাবে সঙ্গের সুরক্ষা রাখতে হবে । শ্রীমৎ অনুসারে চলতে হবে ।

বরদান:-
মনের সঙ্কল্প বা বৃত্তির দ্বারা শ্রেষ্ঠ ভাইব্রেশনের সুগন্ধ ছড়িয়ে শিবশক্তি কম্বাইন্ড ভব

আজকাল যেমন স্থূল সুগন্ধের সাধনে গোলাপ, চন্দন এবং ভিন্ন - ভিন্ন প্রকারের সুগন্ধ ছড়ায়, তেমনই তোমরা শিবশক্তি কম্বাইন্ড হয়ে মনের সঙ্কল্প বা বৃত্তির দ্বারা সুখ - শান্তি, প্রেম, আনন্দের সুগন্ধ ছড়াও । রোজ অমৃতবেলায় ভিন্ন - ভিন্ন শ্রেষ্ঠ ভাইব্রেশনের ঝর্ণার মতো আত্মাদের উপর গোলাপ জল ছড়াও । কেবল সঙ্কল্পের অটোমেটিক সুইচ অন্ করো, তাহলেই বিশ্বে যে অশুদ্ধ বৃত্তির দুর্গন্ধ আছে, তা সমাপ্ত হয়ে যাবে ।

স্লোগান:-
সুখদাতার দ্বারা সুখের ভাণ্ডার প্রাপ্ত হওয়া -- এ হলো তাঁর প্রেমের নিদর্শন ।