06.12.2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা ‐‐ তোমাদের কাছে মন্মনাভব আর মধ্যাজীভব-র তীক্ষ্ম বাণ আছে, এই বাণ দ্বারাই তোমরা মায়ার উপর বিজয় প্রাপ্ত করতে পার"

প্রশ্নঃ -
কিসের ভিত্তিতে বাচ্চারা বাবার সাহায্য পেয়ে থাকে ? কীভাবে বাচ্চারা তোমাদের বাবাকে ধন্যবাদ জানানো উচিত ?

উত্তরঃ -
যে বাচ্চা বাবাকে যত ভালোবাসে ততটাই বাবার সাহায্য পেয়ে থাকে । তাঁর সাথে ভালোভাবে কথা বলো । যোগযুক্ত হয়ে থাকো, শ্রীমৎ অনুসারে চলতে থাকলে বাবাও সাহায্য করে যাবেন । বাচ্চারা বাবাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলে, বাবা তুমি পরমধাম থেকে এসে আমাদের পতিত থেকে পবিত্র করে তুলছো, তোমার কাছ থেকে কত সুখ প্রাপ্ত করে চলেছি । বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতায় চোখ থেকে জলও বেড়িয়ে আসবে।

ওম্ শান্তি ।
বাচ্চাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় হলো মা, বাবা । মা, বাবার কাছেও বাচ্চারা ভীষণ প্রিয় । বাবা যাঁকে তুমিই মাতা, তুমিই পিতা বলা হয়ে থাকে । লৌকিক মা-বাবাকে এমনটা বলা যাবে না । এটা অবশ্যই মহিমা, কিন্তু কার মহিমা কেউ-ই জানেনা। যদি কেউ জানে তবে সেখানে চলে যাক আর অনেককে সঙ্গে করে নিয়ে যাক । এভাবেই ড্রামা তৈরি হয়েছে । যখন ড্রামা সম্পূর্ণ হয় তখনই বাবা আসেন । পূর্বে লাইভ নাটক ছিল, যখন নাটক শেষ হতো সমস্ত কলাকুশলীরা স্টেজে এসে জড়ো হতো । এটাও অসীম জগতের বড় নাটক । এই নাটক সম্পূর্ণরূপে বাচ্চাদের বুদ্ধিতে থাকা উচিত । সত্যযুগ, ত্রেতা, দ্বাপর, কলিযুগ সম্পূর্ণ সৃষ্টি চক্র । এমন নয় যে মূলবতন, সূক্ষ্মবতনে চক্র ঘোরে, সৃষ্টি চক্র এখানেই ঘোরে ।

গাওয়াও হয়ে থাকে এক ওঙ্কার সত্নাম ......এই মহিমা কার উদ্দেশ্যে ? গ্রন্থ সাহেবে শিখ ধর্মাবলম্বীরাই মহিমা করেছে । গুরুনানক উবাচ..... এক ওঙ্কার সে তো নিরাকার পরমাত্মারই মহিমা । কিন্তু ওরা পরমাত্মার মহিমাকে ভুলে গিয়ে গুরু নানকের মহিমা করতে শুরু করেছে । সদ্গুরু নানককেই মনে করেছে । বাস্তবে সৃষ্টির যা কিছু মহিমা ঐ একজনের অন্য কারও নয় । ব্রহ্মার মধ্যে যদি বাবার প্রবেশ না ঘটত তবে তো এর কানাকড়িও মূল্য ছিল না । এখন তোমরা কড়িহীন থেকে পরমাত্মা দ্বারা হীরেতুল্য হয়ে উঠছো । এখন পতিত দুনিয়া, ব্রহ্মার রাত । পতিত দুনিয়াতে যখন বাবা আসেন আর যারা তাঁকে চিনতে পারে তারাই সমর্পিত হয়ে যায় । এখন দুনিয়াতে বাচ্চারাও কত ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে । দেবতারা কত স্বচ্ছ, নির্মল ছিল, এখন ওরাই পুনর্জন্ম নিতে-নিতে তমোপ্রধান হয়ে গেছে । সন্ন্যাসীরাও প্রথমে কত পবিত্র ছিল । ভারতকে সাহায্য করত । ভারতে যদি পবিত্রতা না আসে, তবে কামবাসনার চিতায় জ্বলবে । সত্যযুগে কামবাসনা নেই । কলিযুগে সবাই কামবাসনার

কাঁটাময় চিতার উপর বসে আছে। সত্যযুগের জন্য এ'কথা বলা হয় না । ওখানে কোনও বিষ নেই । বলাও হয়ে থাকে, অমৃত ছেড়ে কেন বিষ খাব । বিকারীকেই পতিত বলা হয় । এখন মানুষ দেখ ১০-১২ টা সন্তানের জন্ম দেয় । এতে কোনো লাভ নেই । সত্যযুগে যখন সন্তান জন্ম গ্রহণ করবে, তার পূর্বেই সাক্ষাত্কার হয় । শরীর ত্যাগ করার পূর্বেও সাক্ষাত্কার হয় যে আমি এই শরীর ত্যাগ করে আবার ছোট বাচ্চা হব । ওখানে একটাই সন্তান হয়, একাধিক নয় । সবকিছুই নিয়মানুযায়ী চলে । বুদ্ধি অবশ্যই থাকে কিন্তু কোনো বিকার থাকে না । অনেকেই জিজ্ঞাসা করে ওখানে স্বর্গ কিভাবে হয় ? তাদের বলা উচিত যোগবল দ্বারাই ওখানে সবকিছু হয় । যোগবল দ্বারাই আমরা সৃষ্টির রাজত্ব প্রাপ্ত করে থাকি । বাহুবল দ্বারা সৃষ্টির রাজত্ব প্রাপ্ত করা যায় না ।

বাবা তোমাদের বুঝিয়েছেন যদি ক্রিশ্চানরা নিজেদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলে তবে সম্পূর্ণ সৃষ্টির রাজত্ব অধিগ্রহণ করে নিতে পারে, কিন্তু ওরা সেটা পারবে না, নিয়মানুসারে তা সম্ভব হবে না, সেইজন্যই দুইটি বিড়াল নিজেদের মধ্যে লড়াই করে আর মাখন তোমরা বাচ্চারা খেয়ে থাক । কৃষ্ণের মুখে মাখন দেখানো হয়েছে । এটা সৃষ্টিরূপী মাখন ।

অসীম জগতের পিতা বলেন এই যোগবলের লড়াইয়ের কথাই শাস্ত্রে গায়ন আছে, বাহুবলের নয় । ওরা তো হিংসাশ্রয়ী লড়াইয়ের কথা শাস্ত্রে বর্ণনা করেছে, ঐ লড়াইয়ের সাথে তোমাদের কোনও সম্বন্ধ নেই । পান্ডব কৌরবদের কোনও লড়াই হয়নি । এই অনেক ধর্ম ৫ হাজার বছর পূর্বেও ছিল, যারা নিজেদের মধ্যে লড়াই করে বিনাশ হয়েছে । পান্ডবরাই দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা করেছে । এ হলো যোগবল, যার দ্বারা সৃষ্টির রাজত্ব প্রাপ্ত হয় । মায়াকে জয় করে জগতজীত্ হয়ে যায় । সত্যযুগে মায়া রাবণ হয় না । ওখানে রাবণের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়না । কত রকমের চিত্র ওরা তৈরি করেছে । বাস্তবে এরকম কোনো দৈত্য বা অসুর হয়না । এটাও জানে না ৫ বিকার নারীদের আর ৫ বিকার পুরুষের সব মিলিয়ে ১০ শীষযুক্ত রাবণ তৈরি করেছে ।

যেমন বিষ্ণুর ৪ বাহু দেখানো হয়েছে । মানুষ এই সাধারণ বিষয়টাও বোঝেনা । বিশাল রাবণ তৈরি করে জ্বালিয়ে দেয় । ভীষণ প্রিয় বাচ্চাদের বাবা এখন বোঝাচ্ছেন । বাবার কাছে বাচ্চারা সবসময় নম্বরানুসারে প্রিয় হয়ে ওঠে । কেউ খুব প্রিয় কেউ একটু কম প্রিয় । যত প্রিয় বাচ্চা হবে ততই অগাধ স্নেহ জন্মাবে । এখানে সার্ভিসে যে তৎপর, ক্ষমাশীল হয় তার প্রতিই বেশি ভালোবাসা থাকে । ভক্তি মার্গেও ক্ষমা প্রার্থনা করে তাই না ! বলে থাকে ঈশ্বর দয়া কর, আমাকে ক্ষমা কর । কিন্তু ড্রামাকে কেউ জানেনা । যখন অধিকাংশই তমোপ্রধান হয়ে যায় তখনই বাবা আসার প্রোগ্রাম করেন । এমনটা নয় যে, ঈশ্বর যা চান তাই করতে পারেন বা যখনই চান তখনই আসতে পারেন । যদি এমন শক্তি থাকত তবে কেন এতো গালিগালাজ শুনতে হতো ? বনবাস কেন হতো ? (রামের, রামায়ণের গল্প অনুযায়ী) এসবই বড় গুপ্ত বিষয় । কৃষ্ণকে গালিগালাজ শুনতে হয় না । বলা হয় ভগবান এটা করতে পারেন না। কিন্তু বিনাশ তো হতেই হবে, সুতরাং বাঁচানোর কোনও প্রশ্নই নেই । সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে । স্থাপনা-বিনাশ করান যিনি, তিনি তো ভগবানই হবেন । পরমপিতা পরমাত্মা স্থাপনা করেন, কি স্থাপন করেন ? প্রধান বিষয়েই তোমরা জিজ্ঞাসা কর যে, গীতার ভগবান কে ? সম্পূর্ণ দুনিয়া এ বিষয় বিভ্রান্ত হয়ে আছে। ওরা তো মানুষের নাম লিপিবদ্ধ করেছে । আদি সনাতন দেবী-দেবতা ধর্মের স্থাপনা তো ভগবান ছাড়া আর কেউ করতে পারবে না । তারপরও তোমরা কিভাবে বলছ কৃষ্ণ গীতার ভগবান । বিনাশ আর স্থাপনা করা কার কাজ ? গীতার ভগবানকে ভুলে গিয়ে গীতাকেই খন্ডন করে দিয়েছে । সবচেয়ে বড় ভুল এটাই। দ্বিতীয় হলো জগন্নাথ পুরীতে দেবতাদের নিয়ে অশ্লীল চিত্র তৈরি করা হয়েছে । গভর্নমেন্টের নিষেধাজ্ঞা আছে কুরুচিপূর্ণ চিত্র রাখার । সুতরাং এসবই বোঝানো উচিত । মন্দিরের এই সব চিত্রের বিষয়ে কারও কোনো ভাবনা মাথাতেই আসে না । বাবাই বসে সব বোঝান ।

দেখো, বাচ্চারা কত প্রতিজ্ঞা পত্র লিখে থাকে । রক্ত দিয়েও লেখে । কথাতেও আছে না কৃষ্ণের রক্ত বেরোলে দ্রৌপদী তার বস্ত্রের টুকরো ছিঁড়ে বেঁধে দিয়েছিল । একেই ভালোবাসা বলে । তোমাদের ভালোবাসা হলো শিববাবার সাথে । ব্রহ্মার রক্ত ক্ষরণ হতে পারে, দুঃখ হতে পারে কিন্তু শিববাবার কখনোই দুঃখ হয়না, কেননা ওঁনার নিজের শরীর নেই । কৃষ্ণের কিছু হলে দুঃখ তো হবে, তাইনা । সুতরাং তাকে পরমাত্মা কিভাবে বলা যেতে পারে । বাবা বলেন আমি তো সুখ-দুঃখ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ( সুখ - দুঃখ যাকে স্পর্শ করে না)। তবে হ্যাঁ, আমি এসে বাচ্চাদের সুখী করে তুলি । গাওয়া হয় সদাশিব । সদাশিব, সুখ প্রদানকারী বলেন-- আমার মিষ্টি মিষ্টি হারিয়ে যাওয়া বাচ্চাদের মধ্যে যারা সুপুত্র, জ্ঞান অর্জন করে পবিত্র থাকে, প্রকৃত জ্ঞানী আর যোগী হয় সেই আমার বেশি প্রিয় হয় । লৌকিক বাবার কাছেও কেউ ভালো, কেউ মন্দ বাচ্চা হয় । কেউবা খুব খারাপ হয়ে কুলের নাম কলঙ্কিত করে তোলে । তারা খুব নিকৃষ্ট হয়ে পড়ে । এখানেও তেমন হয় তারা আসে অবাক হয়ে বাবার জ্ঞান শোনে, অন্যদেরও শোনায় তারপর বাবাকে ছেড়ে চলে যায় । সেইজন্যই নিশ্চয় পত্র লেখানো হতো । তারপর সেই লেখা তোমাদের সামনে তুলে ধরা হতো। তোমাদের মধ্যে কেউ -কেউ রক্ত দিয়েও লিখে দিত । রক্ত দিয়ে লিখে প্রতিজ্ঞা করত । এখন তো মানুষ শপথ গ্রহণ করে থাকে । কিন্তু ওটা হলো মিথ্যে শপথ গ্রহণ। ঈশ্বর সর্বত্র আছেন এটা বিশ্বাস করে সচেতনভাবে শপথ গ্রহণ অর্থাত্ আমিও ঈশ্বর, তুমিও ঈশ্বর । বাবা বলেন এখন তোমরা বুঝেছ, বাবা সর্বত্র কিভাবে উপস্থিত হতে পারেন । বাবা এই চোখের জানালা দিয়ে দেখেন ( ব্রহ্মা বাবার) । অন্যের শরীর লোন নিয়েছেন । বাবা এই শরীর রূপী বাড়ি ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহার করেছেন । একইভাবে বাবা বলেছেন, আমি এই শরীর ব্যবহার করে থাকি । এই শরীরের জানালা (চোখ) দিয়ে দেখি। তিনি এখানে আসেন এবং এই শরীরের জানালা দিয়ে তোমাদের দেখেন। আত্মা নিশ্চয়ই অরগ্যানস দ্বারাই কাজ করবে । এই অরগ্যানস ব্যবহার করার জন্য আমাকে অবশ্যই ভাড়া দিতে হবে ।

তোমরা বাচ্চারা এই সময় নরককে স্বর্গ করে তুলছ । তোমরা আলো প্রদানকারী, সবাইকে জাগিয়ে তুলছ । বাকিরা তো সবাই কুম্ভকর্ণের ঘুমে আচ্ছন্ন । তোমরা মাতা-রা জাগিয়ে তুলছ, স্বর্গের মালিক করে তুলছ । অধিকাংশ মাতা-ই এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, সেইজন্যই বলা হয় বন্দেমাতরম্ । ভীষ্ম পিতামহ ইত্যাদি আরও যারা ছিলেন, তাদের সবাইকে তোমরাই বাণ মেরেছ । "মন্মনাভব", "মধ্যাজীভব"-র বাণ কত সহজ । এই বাণ দ্বারাই তোমরা মায়ার উপর বিজয় প্রাপ্ত কর । তোমাদের এক বাবা, একজনের শ্রীমত অনুসারে চলতে হবে । বাবা তোমাদের এমন কর্ম শেখান যে, ২১ জন্মের জন্য এভার হেল্দি আর এভার ওয়েল্দি হয়ে যাও । অনেকবার তোমরা স্বর্গের মালিক হয়েছ । রাজ্য অধিগ্রহণ করেছ আবার হারিয়েছ । তোমরা ব্রাহ্মণ কুলভূষণরাই হীরো-হিরোইনের ভূমিকা পালন করেছ । ড্রামাতে সর্বোচ্চ ভূমিকা তোমরা বাচ্চাদেরই । সুতরাং এমন উচ্চ স্থানাধিকারী করে তোলেন যিনি সেই বাবার প্রতি অগাধ ভালোবাসা থাকা উচিত । তোমরা বলো, বাবা তুমি অবাক করে দিয়েছ । না মন, না ভাবনা কখনোই জানতে পারিনি যে আমরা নারায়ণ ছিলাম । বাবা বলেন, তোমরা নারায়ণ অথবা লক্ষ্মী দেবী-দেবতা ছিলে, তারপর পুনর্জন্ম নিতে নিতে অসুর হয়ে গেছ । এখন আবার পুরুষার্থ করে পুনরায় উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করছ। যে যত পুরুষার্থ করে তার সাক্ষাত্কার হতে থাকে ।

রাজযোগ এক বাবাই এসে শিখিয়েছেন । প্রকৃত রূপে সত্য সহজ রাজযোগ তোমরা এখন শেখাতে পার । তোমাদের কর্তব্য হলো সবাইকে বাবার পরিচয় দেওয়া । সবাই ধনহীন (অনাথ) হয়ে গেছে । *এ কথাও পূর্ব কল্পের মতো কোটি সংখ্যকের মধ্যে কেউ-কেউ বুঝবে । বাবা বলেছেন, সম্পূর্ণ দুনিয়াতে মহান মূর্খ দেখতে হলে এখানে দেখ* । বাবা যাদের ২১ জন্মের জন্য উত্তরাধিকার দেন তারাই বাবাকে ছেড়ে চলে যায় । ড্রামায় এটাই স্বাভাবিক । এখন তোমরা ঈশ্বরীয় সন্তান । তারপর দেবতা, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্রের সন্তান হবে । এখন আসুরি সন্তান থেকে ঈশ্বরীয় সন্তান হয়েছ । বাবা পরমধাম থেকে এসে পতিত থেকে পাবন করে তোলেন সুতরাং কতখানি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত । ভক্তি মার্গেও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে । কিন্তু দুঃখী হয়ে পড়লে তখন ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না । এখন তোমরা কতখানি সুখ প্রাপ্ত করছ সুতরাং বাবার প্রতি অগাধ ভালোবাসা থাকা উচিত । বাবার সাথে ভালোভাবে কথা বললে বাবা কেন শুনবেন না ? তাঁর সাথে কানেকশন আছে না ! রাতে উঠে বাবার সাথে কথা বলা উচিত । এই বাবা (ব্রহ্মা বাবা) নিজের অভিজ্ঞতার কথা শুনিয়েছেন । আমি বাবাকে খুব স্মরণ করি । তাঁর স্মরণে চোখে জলও চলে আসে । আমি কি ছিলাম, বাবা কি তৈরি করেছেন-তত্বম । তোমরা এখন তেমনটাই হয়ে উঠছ । *যারা যোগযুক্ত থাকে বাবা তাদের সাহায্য করে থাকেন* । স্বাভাবিকভাবেই ঘুম চোখ খুলে যাবে । তোমাদের বিছানা দুলে উঠবে । নানাভাবে বাবা তোমাদের জাগিয়ে তুলবেন । অসীম জগতের বাবা অত্যন্ত দয়ালু । যখন বাবা তোমাদের জিজ্ঞাসা করবেন, এখানে কেন এসেছ ? তোমরা উত্তর দেবে, আমরা শিখতে এসেছি কীভাবে ভবিষ্যতে নারায়ণ হয়ে ওঠার যোগ্যতা অর্জন করতে পারি অথবা লক্ষ্মীকে বরণ করার যোগ্যতা অর্জন করে এই পরীক্ষায় সফল হতে পারি । কত চমকপ্রদ এই স্কুল । কত চমত্কার বিষয় । শ্রেষ্ঠ থেকে শ্রেষ্ঠতর এই ইউনিভার্সিটি । কিন্তু ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয় নামকরণ করতে দেওয়া হয়নি । একদিন অবশ্যই অনুমতি দেবে। সেইদিন আসবে, বলবে কত বড় বিশ্ববিদ্যালয় । বাবা নিজের চোখে বসিয়ে তোমাদের পড়ান । তিনি বলেন, তোমাদের স্বর্গে পৌঁছে দেব । সুতরাং এমন বাবার সাথে কত কথা বলা উচিত । বাবা অনেক সাহায্য করবেন ।যাদের গলা ব্লক হয়ে গেছে, বাবা তাদের তালা খুলে দেবেন। রাতে স্মরণ করলে খুব আনন্দ হবে । বাবা (ব্রহ্মা) নিজের অনুভবের কথা শোনান । অমৃতবেলায় আমি কিভাবে কথা বলি। বাবা বাচ্চাদের সাবধান হওয়ার কথা বুঝিয়ে বলেন । বলেন কুলকে কলঙ্কিত কোরো না । ৫ বিকারকে দান দিয়ে আবারও ফিরিয়ে নিও না । আচ্ছা!

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবার প্রিয় হওয়ার জন্য দয়াশীল হয়ে সার্ভিসে তৎপর হতে হবে । সুপুত্র, আজ্ঞা পালনকারী হয়ে প্রকৃত যোগী বা জ্ঞানী হয়ে উঠতে হবে ।

২ ) অমৃতবেলায় উঠে বাবার সাথে মধুরভাবে বাক্যালাপ করতে হবে, বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে । বাবার সাহায্য অনুভব করার জন্য প্রিয় বাবাকে ভালোবাসার সাথে স্মরণ করতে হবে ।

বরদান:-
পুরানো দেহ বা দুনিয়ার সব আকর্ষণ থেকে সহজেই আর সব সময়ের জন্য দূরে সরে যেতে সমর্থ রাজঋষি ভব

রাজঋষি অর্থাত্ একদিকে সর্বপ্রাপ্তি অধিকারের নেশা আর অন্যদিকে অসীম জগতের বৈরাগ্যের অলৌকিক নেশা । বর্তমান সময়ে এই দুই নেশাকে বৃদ্ধি করার অভ্যাস করতে হবে ।
বৈরাগ্যের অর্থ সরে যাওয়া নয়, কিন্তু সর্বপ্রাপ্তি থাকা সত্ত্বেও কোনও সীমিত আকর্ষণ যেন মন বুদ্ধিকে আকৃষ্ট না করে। সঙ্কল্পেও যেন ন্যুনতম নির্ভরতা না আসে, তবেই বলা হবে রাজঋষি অর্থাত্ অসীম জগতের বৈরাগী । এই পুরানো দেহ বা দেহ সম্বন্ধীয় পুরানো দুনিয়া, ব্যক্ত ভাব, বৈভবের ভাব সমস্ত আকর্ষণ থেকে সদা আর সহজেই মুক্ত হতে সমর্থ ।
 

স্লোগান:-
বিজ্ঞানের সাধনগুলো ব্যবহার করো কিন্তু এই সাধন যেন জীবনের নির্ভরতা না হয়।