07.01.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - জ্ঞানের ধারণার সঙ্গে সঙ্গে সত্যযুগী রাজত্বের জন্য স্মরণ এবং পবিত্রতার বলও জমা করো ।"

প্রশ্নঃ -
বাচ্চারা, তোমাদের এখন পুরুষার্থের কি লক্ষণ থাকা উচিত ?

উত্তরঃ -
সদা খুশীতে থাকা, খুবই মিষ্টি হওয়া, সবাইকে ভালোবেসে চালানো -- এই যেন তোমাদের পুরুষার্থের লক্ষ্য হয় । এতেই তোমরা সর্বগুণ সম্পন্ন ১৬ কলা সম্পূর্ণ হবে ।

প্রশ্নঃ -
যার কর্ম শ্রেষ্ঠ, তার নিদর্শন কি হবে ?

উত্তরঃ -
তাদের দ্বারা কেউই দুঃখ পাবে না । বাবা যেমন দুঃখহর্তা - সুখকর্তা, তেমনই শ্রেষ্ঠ কর্ম যারা করবে, তারাও দুঃখহর্তা - সুখকর্তা হবে ।

গীতঃ-
আকাশ সিংহাসন ছেড়ে এসো*.....

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি - মিষ্টি রুহানী বাচ্চারা এই গান শুনেছে । এই মিষ্টি - মিষ্টি রুহানী বাচ্চা, কে বলেছেন ? দুই বাবাই বলেছেন । নিরাকারও বলেছেন আর সাকারও বলেছেন, তাই এঁদের বলা হয় বাপ - দাদা । দাদা হলেন সাকারী । এখন এই গান তো হলো ভক্তিমার্গের । বাচ্চারা জানে যে, বাবা এসেছেন, আর বাবা সম্পূর্ণ সৃষ্টিচক্রের জ্ঞান বুদ্ধিতে বসিয়েছেন । বাচ্চারা, তোমাদেরও বুদ্ধিতে আছে যে - আমরা ৮৪ জন্ম সম্পূর্ণ করেছি, এখন নাটক সম্পূর্ণ হবে । এখন আমাদের যোগ বা স্মরণের দ্বারা পবিত্র হতে হবে । স্মরণ আর জ্ঞান, এ তো সমস্ত বিষয়েই চলতে থাকে । ব্যরিস্টারকে তো মানুষ অবশ্যই স্মরণ করবে আর তার থেকে জ্ঞানও নেবে । একেও যোগ আর জ্ঞানের শক্তি বলা হয় । এখানে তো এ হলো নতুন কথা । ওই যোগ আর জ্ঞানের দ্বারা জাগতিক বল বা শক্তি প্রাপ্ত হয় । এখানে এই যোগ আর জ্ঞানের দ্বারা অসীম জগতের জ্ঞান প্রাপ্ত হয়, কেননা সর্বশক্তিমান হলেন অথরিটি । বাবা বলেন যে, আমি হলাম জ্ঞানের সাগর । বাচ্চারা, তোমরা এখন এই সৃষ্টিচক্রকে জেনে গেছো । মূলবতন, সূক্ষ্মবতন - সব স্মরণে আছে । যে জ্ঞান বাবার স্মরণে আছে, তাও তোমরা পেয়েছো । তাই এই জ্ঞানও ধারণ করতে হবে আর রাজত্বের জন্য বাবা বাচ্চাদের যোগ আর পবিত্রতা শেখান । তোমরাও পবিত্র হয়ে যাও । তোমরা বাবার থেকে রাজত্বও গ্রহণ করো । বাবা নিজের থেকেও তোমাদের উঁচু পদ দেন । তোমরা ৮৪ জন্ম নিতে নিতে আবার সেই পদ হারিয়ে ফেলো । বাচ্চারা, এই জ্ঞান তোমরা এখনই পেয়েছো । উঁচুর থেকেও উঁচু হওয়ার জ্ঞান তোমরা বাবার থেকেই পাও । বাচ্চারা জানে যে, আমরা যেন বাপদাদার ঘরে বসে আছি । *এই দাদা (ব্রহ্মা) হলেন মা-ও । ওই বাবা তো আলাদা, বাকি ইনি মাও কিন্তু এনার পুরুষ শরীর, এনাকে মায়ের পদ দেওয়া হয়েছে, এনাকেও বাবা দত্তক নেন । তারপর এনার দ্বারা রচনা হয় । রচনাও হলো সব দত্তক সন্তান । বাবা অবিনাশী উত্তরাধিকার দেওয়ার জন্যই বাচ্চাদের দত্তক নেন । ব্রহ্মাকেও তিনি দত্তক নিয়েছেন । প্রবেশ করা বা দত্তক নেওয়া একই কথা* । বাচ্চারা নিজেরা বুঝতেও পারে আবার বোঝাতেও পারে যে - পুরুষার্থের নম্বর হিসাবে সবাইকে বোঝাতে হবে যে, আমরা আমাদের পরমপিতা পরমাত্মার শ্রীমতে চলে এই ভারতকে আবার শ্রেষ্ঠর থেকেও শ্রেষ্ঠ বানাচ্ছি, তাই নিজেকেও তেমনই তৈরী হতে হবে । নিজেকে দেখতে হবে যে, আমরা কি শ্রেষ্ঠ হয়েছি ? কোনো ভ্রষ্টাচারের কাজ করে কাউকে দুঃখ দাও না তো ? বাবা বলেন যে, আমি তো এসেছি বাচ্চাদের সুখী বানাতে, তাই তোমাদেরও সকলকে সুখের দান করতে হবে । বাবা কখনোই কাউকে দুঃখ দিতে পারেন না । তাঁর নামই হলো দুঃখহর্তা - সুখকর্তা । বাচ্চাদের নিজেকে যাচাই করতে হবে - মন - বচন এবং কর্মে আমরা কাউকে দুঃখ দিই না তো ? শিববাবা কখনোই কাউকে দুঃখ দেন না । বাবা বলেন - বাচ্চারা, আমি কল্প - কল্প তোমাদের এই অসীম জগতের কাহিনী শোনাই । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন আছে যে, আমরা আমাদের ঘরে ফিরে যাবো তারপর নতুন দুনিয়াতে আসবো । এখনকার পড়া অনুসারে অন্তিম সময় তোমরা ট্রান্সফার হয়ে যাবে । ঘরে ফিরে গিয়ে আবার নম্বর অনুসারে তোমরা অভিনয় করতে আসবে । এই রাজধানী এখন স্থাপন হচ্ছে ।

বাচ্চারা জানে যে, এখন তারা যে পুরুষার্থ করবে, তা কল্প - কল্প সিদ্ধ হবে । সবার প্রথম তো সকলেরই বুদ্ধিতে এই কথা বসানো উচিত যে, রচয়িতা আর রচনার আদি - মধ্য এবং অন্তের জ্ঞান বাবা ছাড়া আর কেউই জানে না । উঁচুর থেকেও উঁচু বাবার নামই মানুষ লুকিয়ে দিয়েছে । ত্রিমূর্তি নাম তো আছে, ত্রিমূর্তি নামের রাস্তাও আছে, ত্রিমূর্তি হাউসও আছে । ব্রহ্মা - বিষ্ণু এবং শঙ্করকে ত্রিমূর্তি বলা হয় । এই তিনের রচয়িতা যে শিববাবা, তাঁর মূল নামই লুকিয়ে দিয়েছে । বাচ্চারা, এখন তোমরা জানো যে, উঁচুর থেকেও উঁচু হলেন শিববাবা, তারপর হলো ত্রিমূর্তি । বাবার থেকে আমরা বাচ্চারা এই অবিনাশী উত্তরাধিকার গ্রহণ করি । বাবার জ্ঞান এবং এই অবিনাশী উত্তরাধিকার যদি স্মৃতিতে থাকে তাহলে সর্বদা আনন্দিত থাকবে । বাবার স্মরণে থেকে তোমরা যদি কাউকে জ্ঞানের তীর লাগাও তাহলে খুব ভালো কাজ হবে । তাতে শক্তি আসতে থাকবে । এই স্মরণের যাত্রাতেই শক্তি প্রাপ্ত করা যায় । এখন তোমাদের শক্তি হারিয়ে গেছে কেননা আত্মা পতিত তমোপ্রধান হয়ে গেছে । এখন মূল উদ্দেশ্য এই রাখতে হবে যে, আমরা যাতে তমোপ্রধান থেকে সতোপ্রধান হতে পারি । মনমনাভব শব্দের অর্থও এটাই । যারা গীতা পড়ে তাদের জিজ্ঞাসা করা উচিত যে - "মন্মনাভব" শব্দের অর্থ কি ? এ কথা কে বলেছেন যে, আমাকে স্মরণ করো তাহলে অবিনাশী উত্তরাধিকার পাবে ? নতুন দুনিয়া তো কৃষ্ণ স্থাপন করেন না । তিনি হলেন রাজকুমার । এমন মহিমা তো আছেই যে, ব্রহ্মার দ্বারা স্থাপনা । এখন সর্বময় কর্তা কে ? সব ভুলে গেছে । তাঁর জন্য সর্বব্যাপী বলে দেয় । বলে দেয়, ব্রহ্মা - বিষ্ণু - শঙ্কর আদি সকলের মধ্যে তিনি আছেন । এখন একে বলা হয় অজ্ঞান । বাবা বলেন যে, তোমাদের পাঁচ বিকার রূপী রাবণ কতো অবুঝ করে তুলেছে । তোমরা জানো যে, বরাবর আমরাও পূর্বে এমন ছিলাম । হ্যাঁ, প্রথমে উত্তম থেকে উত্তম আমরাই ছিলাম তারপর নীচে নামতে নামতে অনেক বড় পতিত হয়ে গেছি । শাস্ত্রতেও দেখানো হয়েছে যে, রাম ভগবান বানর সেনা নিয়ে যুদ্ধ করেছিলো । এও ঠিক আছে । তোমরা জানো যে, আমরা বরাবর বানরের মতো ছিলে । এখন তোমাদের এই অনুভব এসেছে যে, এ হলো ভ্রষ্টাচারী দুনিয়া । একে অপরকে গালি দেয়, কাঁটা বিঁধাতে থাকে । এ হলো কাঁটার জঙ্গল । আর সে হলো ফুলের বাগিচা । জঙ্গল অনেক বড় হয় । বাগান অনেক ছোটো হয় । বাগান বড় হয় না । বাচ্চারা বুঝতে পারে যে, বরাবর এই সময়ই অনেক বড় এবং ভারী কাঁটার জঙ্গল হয় । সত্যযুগের ফুলের বাগান কতো ছোটো হবে । বাচ্চারা, এই কথা তোমরা পুরুষার্থের নম্বর অনুসারে বুঝতে পারো । যারা জ্ঞান আর যোগ করে না, সেবাতে তৎপর হয় না, তাদের অন্তরে এতো খুশী থাকে না । দান করলে মানুষ খুশী হয় । তারা মনে করে, আগের জন্মে এ অনেক দান - পুণ্য করেছে তাই এমন ভালো জন্ম পেয়েছে । কোনো কোনো ভক্তরা মনে করে, আমরা ভক্ত, তাই আমরা আরো বড় ভক্তের ঘরে জন্ম নেবো । ভালো কর্মের ফল তো ভালোই পাওয়া যায় । বাবা বসে কর্ম - অকর্ম এবং বিকর্মের গতি বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলেন । দুনিয়া এইসব কথা জানে না । তোমরা জানো যে, এখন রাবণ রাজ্য হওয়ার কারণে মানুষের কর্ম সব বিকর্ম হয়ে যায় । পতিত তো হয়েই যায় । সকলের মধ্যেই পাঁচ বিকার প্রবেশ করে । যদিও দান - পুণ্য যা কিছুই করে, অল্পকালের জন্য তার ফলও পেয়ে যায় । তবুও পাপ তো করেই ফেলে । রাবণ রাজ্যে যা কিছুরই লেন দেন হয়, সবই পাপের । মানুষ দেবতাদের সামনে কতো শুদ্ধ ভাবে ভোগ নিবেদন করে । নিজেরাও শুদ্ধ হয়ে আসে কিন্তু কিছুই জানে না । মানুষ এই অসীম জগতের বাবার কতো গ্লানি করে দিয়েছে । তারা মনে করে, ঈশ্বর সর্বব্যাপী, সর্বশক্তিমান, এইসব বলে তারা ঈশ্বরের অনেক মহিমা করে, কিন্তু বাবা বলেন, এ হলো ওদের উল্টো মত ।

তোমরা সর্ব প্রথমে বাবার গুণগান করো যে, উঁচুর থেকে উঁচু ভগবান হলেন এক, আমরা তাঁকেই স্মরণ করি । রাজযোগের নমুনাও আমরা সামনে উপস্থিত করেছি । এই রাজযোগ বাবাই শেখান । কৃষ্ণকে বাবা বলা হবে না, সে তো বাচ্চা, শিবকে বাবা বলা হবে । তাঁর নিজের কোনো দেহ নেই৷ এই দেহ তিনি ধার হিসাবে নেন, তাই একে বাপদাদা বলা হয় । তিনি হলেন উঁচুর থেকেও উঁচু নিরাকার বাবা । রচনা কখনোই রচনার থেকে অবিনাশী উত্তরাধিকার পেতে পারে না । লৌকিক সম্বন্ধে পুত্ররা বাবার থেকে উত্তরাধিকার পায় । পুত্রীরা কিন্তু পায় না ।

বাবা এখন বোঝাচ্ছেন যে, বাচ্চারা, তোমরা আত্মারা হলে আমার সন্তান । তোমরা হলে প্রজাপিতা ব্রহ্মার সন্তান - সন্ততি । ব্রহ্মার থেকে তোমরা কোনো উত্তরাধিকার পাবে না । বাবার হতে পারলেই তোমরা এই অবিনাশী উত্তরাধিকারের আশীর্বাদের অধিকারী হতে পারো । এই কথা বাবা তোমাদের সামনে বসিয়ে বলেন । এর তো কোনো শাস্ত্র তৈরী হতে পারে না । তোমরা যদিও লেখো, বই ছাপাও, তবুও টিচার ছাড়া কেউই তোমাদের বোঝাতে পারে না । টিচার ছাড়া বই পড়ে কেউই বুঝতে পারে না । এখন তোমরা হলে আত্মার শিক্ষক । বাবা হলেন বীজরূপ, তাঁর কাছে সম্পূর্ণ বৃক্ষের আদি - মধ্য এবং অন্তের জ্ঞান আছে । তিনি শিক্ষকের রূপে বসে তোমাদের বোঝান । বাচ্চারা, তোমাদের তো সর্বদা খুশীতে থাকা উচিত যে, সুপ্রীম বাবা আমাদের নিজের সন্তান করেছেন, তিনিই আমাদের শিক্ষক হয়ে পড়ান । তিনিই প্রকৃত সদগুরু, তিনিই আমাদের সঙ্গে করে নিয়ে যান । সকলের সদগতি দাতা হলেন একজন । উঁচুর থেকেও উঁচু বাবাই এই ভারতকে প্রতি পাঁচ হাজার বছর অন্তর অবিনাশী উত্তরাধিকারের আশীর্বাদ দেন । তাঁরই শিব জয়ন্তী পালন করা হয় । বাস্তবে শিবের সঙ্গে ত্রিমূর্তিও থাকা উচিত ।তোমরা ত্রিমুর্তি শিব জয়ন্তী পালন করো । কেবলমাত্র শিব জয়ন্তী পালন করলে কোনো বিষয়ই সিদ্ধ হবে না । বাবা যখন আসেন, তখন ব্রহ্মার জন্ম হয় । সন্তান তৈরী হয়, ব্রাহ্মণ তৈরী হয়, আর লক্ষ্যও সামনে উপস্থিত । বাবা নিজে এসেই স্থাপনা করেন । লক্ষ্য সম্পূর্ণ পরিস্কার, কেবল কৃষ্ণের নাম দেওয়াতে সম্পূর্ণ গীতার গুরুত্ব চলে গেছে । এও এই নাটকেই নিহিত । এই ভুল আবারও হবে । এই খেলাও সম্পূর্ণ জ্ঞান এবং ভক্তির । বাবা বলেন, আমার প্রিয় বাচ্চারা, তোমরা সুখধাম আর শান্তিধামকে স্মরণ করো । আল্লাহ আর বাদশাহী -- এ কতো সহজ । তোমরা যে কোনো মানুষকেই জিজ্ঞেস করতে পারো, মনমনাভব শব্দের অর্থ কি ? দেখো কি বলে ? বলো, ভগবান কাকে বলা হয় ? উঁচুর থেকে উঁচু তো ভগবান, তাই না ? তাঁকে সর্বব্যাপী বলাই হবে না । তিনি তো সকলেরই বাবা । এখন ত্রিমুর্তি শিবজয়ন্তী আসছে । তোমাদের ত্রিমুর্তি শিবের চিত্র বের করা উচিত । উঁচুর থেকে উঁচু হলেন শিব, তারপর সূক্ষ্মবতনবাসী ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শঙ্কর । উঁচুর থেকে উঁচু হলেন শিববাবা । তিনি এই ভারতকে স্বর্গ বানান । তাঁর জয়ন্তী তোমরা কেন পালন করো না ? অবশ্যই তিনি ভারতকে অবিনাশী উত্তরাধিকারের আশীর্বাদ দিয়েছিলেন । ভারতের রাজত্ব ছিলো তখন । আর্য সমাজীরাও তোমাদের এতে সাহায্য করবে কেননা তারাও শিবকে মেনে থাকে । তোমরা নিজের ঝান্ডা ওড়াও । একদিকে ত্রিমুর্তি গোলা, অন্যদিকে এই কল্পবৃক্ষ । বাস্তবে তোমাদের ঝান্ডা এমনই হওয়া উচিত । এমন তো হতেই পারে, তাই না । তোমরা ঝান্ডা উড়িয়ে দাও, যাতে সবাই দেখতে পারে । সম্পূর্ণ বোঝানো এর মধ্যেই আছে । কল্প বৃক্ষ আর এই নাটক এতে তো সবকিছুই পরিস্কার । সকলেই জানতে পেরে যাবে যে আমাদের ধর্ম আবার কবে আসবে । নিজেরাই নিজের - নিজের হিসাব বের করে নেবে । সবাইকেই এই চক্র আর ঝাড় সম্বন্ধে বোঝাতে হবে । ক্রাইস্ট কবে এসেছিলেন ? এতো সময় সেই আত্মা কোথায় থাকে ? তাহলে অবশ্যই বলবে যে, নিরাকারী দুনিয়াতে আছে । আমরা আত্মারা রূপ পরিবর্তন করে এখানে এসে সাকার হই । বাবাকেও তো বলা হয় - তুমিও রূপ পরিবর্তন করে সাকারে এসো । তিনি আসবেন তো এখানেই, তাই না । সূক্ষ্ম বতনে তো আসবেন না । আমরা যেমন রূপ পরিবর্তন করে অভিনয় করি, তুমিও তেমন এসো, এসে আমাদের রাজযোগ শেখাও । ভারতকে স্বর্গ বানানোর জন্যই হলো রাজযোগ । এ তো খুবই সহজ কথা । বাচ্চাদের নেশা থাকা চাই । নিজেরা ধারণ করে অন্যদেরও করাতে হবে । এরজন্য ঈশ্বরীয় পাঠের প্রয়োজন । বাবা এসে ভারতকে স্বর্গ বানান । তিনি বলেন, বরাবর ক্রাইস্টের তিন হাজার বছর পূর্বে ভারত স্বর্গ ছিলো তাই ত্রিমূর্তি শিবের চিত্র সবাইকে দেখানো উচিত । ত্রিমূর্তি শিবের স্ট্যাম্পও তৈরী করার প্রয়োজন । এই স্ট্যাম্প যারা বানাবে তাদেরও ডিপার্টমেন্ট তৈরী হবে । দিল্লীতে তো অনেক লেখাপড়া জানা মানুষ আছে । এই কাজ তারা করতেই পারে । তোমাদের রাজধানীও দিল্লীতেই হবে । আগে দিল্লীকে পরীস্থান বলা হতো । এখন তো তা কবরস্থান । তাই এই সমস্ত কথা বাচ্চাদের বুদ্ধিতে আসা উচিত ।

তোমাদের এখন সর্বদা খুশীতে থাকতে হবে, খুবই মিষ্টি হতে হবে । সবাইকে ভালোবেসে পথ দেখাতে হবে । তোমাদের সর্বগুণ সম্পন্ন, ১৬ কলা সম্পূর্ণ হওয়ার পুরুষার্থ করতে হবে । তোমাদের পুরুষার্থের এই হলো লক্ষ্য, কিন্তু এখন পর্যন্ত কেউই তেমন তৈরী হয় নি । এখন তোমাদের চড়তি কলা হচ্ছে । ধীরে ধীরে তোমরা উপরে উঠছো, তাই না । তাই বাবা সমস্ত প্রকারে শিব জয়ন্তীতে তোমাদের সেবা করার ইঙ্গিত দিতে থাকেন । যাতে মানুষ বুঝতে পারে, বরাবর এদের জ্ঞান তো অনেক বড় । মানুষকে বোঝাতে কতো পরিশ্রম লাগে । এই পরিশ্রম ছাড়া রাজধানী স্থাপন হবেই না । মানুষ উঠতে থাকে, আবার নেমে যায়, আবারও উঠতে থাকে । বাচ্চাদের জীবনেও কোনো না কোনো ঝড় আসে । মূল বিষয়ই হলো স্মরণের যাত্রা । এই স্মরনেই তোমাদের সতোপ্রধান হতে হবে । এই জ্ঞান তো খুবই সহজ । বাচ্চাদের খুবই মিষ্টি থেকে মিষ্টি হতে হবে । তোমাদের লক্ষ্য তো সামনে উপস্থিত । এই লক্ষ্মী - নারায়ণ কতো মিষ্টি । এঁদের দেখে কতো আনন্দ হয় । আমাদের মতো ছাত্রদের এঁরাই হলো লক্ষ্য । আমাদের পড়ান স্বয়ং ভগবান । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা তাঁর আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবার কাছে প্রাপ্ত জ্ঞান এবং অবিনাশী উত্তরাধিকারের আশীর্বাদ স্মৃতিতে রেখে সদা আনন্দিত থাকতে হবে । জ্ঞান এবং যোগ থাকার সঙ্গে সঙ্গে সেবাতেও তৎপর হতে হবে ।

২ ) সুখধাম এবং শান্তিধামকে স্মরণ করতে হবে । এই দেবতাদের মতো মিষ্টি হতে হবে । অপার খুশীতে থাকতে হলে আত্মাদের টিচার হয়ে জ্ঞান দান করতে হবে ।

বরদান:-
অন্তর্মুখতার অভ্যাসের দ্বারা অলৌকিক ভাষাকে অনুভব করে সদা সফলতা সম্পন্ন ভব

বাচ্চারা, তোমরা যতো অন্তর্মুখী সুইট সাইলেন্স স্বরূপে স্থিত হতে থাকবে, ততই নয়নের ভাষা, ভাবনার ভাষা আর সঙ্কল্পের ভাষাকে সহজেই অনুভব করতে পারবে । এই তিন প্রকারের ভাষা এই রুহানী যোগী জীবনের ভাষা । এই অলৌকিক ভাষা খুবই শক্তিশালী । সময় অনুযায়ী এই তিন ভাষার দ্বারাই সহজ সফলতা প্রাপ্ত হবে তাই এখন এই আত্মিক ভাষার অভ্যাসী হও ।
 

স্লোগান:-
তোমরা এতটাই হাল্কা হয়ে যাও, যাতে বাবা তোমাদের নিজের নয়নে বসিয়ে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারেন ।
 


অব্যক্ত স্থিতির অনুভব করার জন্য বিশেষ হোম ওয়ার্ক
অব্যক্ত স্থিতির অনুভব করার জন্য দেহ, সম্বন্ধ বা পদার্থের কোনো আকর্ষণ তোমাদের যেন নীচে টেনে নামাতে না পারে । যে প্রতিজ্ঞা তোমরা করেছো যে, এই তন - মন - ধন সব তোমার -- তাহলে তোমাদের এই আকর্ষণ কিভাবে থাকতে পারে । ফরিস্তা হওয়ার জন্য এই প্রত্যক্ষ অভ্যাস করো যে, এ সবই সেবার্থে, আমি হলাম ট্রাস্টি ।