০৭-০২-১৯ প্রাতঃ মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- পবিত্র হওয়ার প্রথম উপায় হল স্মরণের শক্তি, দ্বিতীয় হল শাস্তির শক্তি, তোমাদেরকে স্মরণের শক্তির দ্বারাই পবিত্র হয়ে উচ্চপদ প্রাপ্ত করতে হবে"

প্রশ্ন:-

বাবা হলেন আধ্যাত্মিক (রুহানী) সার্জেন, তিনি তোমাদের কি ধরণের ধৈর্য্য প্রদান করতে এসেছেন ?

উত্তর:-

জাগতিক সার্জেন যেমন রোগীকে ধৈর্য্য প্রদান করে বলেন যে এখনই রোগ সেরে যাবে, বাচ্চারা, তোমাদেরকেও আধ্যাত্মিক সার্জেন ঠিক সেভাবেই ধৈর্য্য প্রদান করে বলেন যে --- বাচ্চারা, তোমরা মায়ার থেকে প্রাপ্ত রোগে ঘাবড়ে যেও না, সার্জেন ওষুধ দেন, তাই এই সব রোগ দূর হয়ে যাবে। যখন অজ্ঞানী ছিলে তখনও যে চিন্তা আসেনি, এখন তা আসবে। কিন্তু তোমাদের সবকিছু সহ্য করতে হবে একটু পরিশ্রম কর, তোমাদের সুখের দিন এল বলে।

ওম্ শান্তি ।

অসীমের (বেহদের) বাবা সব বাচ্চাদেরকে বোঝান -- সকলের কাছে তোমাদের এই ঈশ্বরীয় বার্তা পৌঁছে দিতে হবে যে, এখন বাবা এসেছেন। বাবা তোমাদের ধৈর্য্য ধরতে বলছেন, কারণ ভক্তিমার্গে তোমরা আহ্বান(ডাকতে) করতে - বাবা এসো, মুক্ত করো, দুঃখ থেকে মুক্তি দাও। তাই বাবা ধৈর্য্য ধরতে বলেন যে, আর মাত্র কিছুদিন বাকী রয়েছে। যখন কোনো রোগ সেরে যাওয়ার মুখে থাকে তখন বলা হয় যে এখন সুস্থ হয়ে যাবে। বাচ্চারাও বোঝে যে এই ছিঃ-ছিঃ(অপবিত্র) দুনিয়া সমাপ্ত হতে আর মাত্র কিছুদিন বাকী রয়েছে, তারপর আমরা নতুন দুনিয়ায় চলে যাব। সেইজন্যই আমাদের যোগ্য হতে হবে, তবেই কোনো রোগ-ভোগ ইত্যাদি তোমাদের দুশ্চিন্তার কারণ হবে না। বাবা ধৈর্য্য ধরতে বলেন, বাবা বলেন -- একটু পরিশ্রম কর। আর কেউ-ই নেই যে এমন ধৈর্য্য ধরতে বলবে। তোমরাই তমোপ্রধাণ হয়ে গেছ। এখন বাবা এসেছেন তোমাদের সতোপ্রধান বানাতে। এখন সব আত্মাই পবিত্র হয়ে যাবে -- কেউ যোগবলের দ্বারা, কেউ শাস্তির বলের(সাজা ভোগ) দ্বারা। শাস্তিরও ক্ষমতা রয়েছে, তাই না! সাজা ভোগ করে যারা পবিত্র হবে তাদের পদও কম হয়ে যাবে। বাচ্চারা, তোমরা শ্রীমত পেতেই থাক। বাবা বলেন, মামেকম্ স্মরণ কর, তোমাদের পাপ ভস্ম হয়ে যাবে। যদি স্মরণ না কর তবে পাপ শতগুণ অধিক হয়ে যাবে, কারণ পাপাত্মা হয়ে তোমরা আমারই গ্লানি করাও। তখন মানুষ বলবে যে, এদের ঈশ্বর এমন মত দেন যে, এদের চাল-চলন এমন আসুরীয় হয়ে যায়। স্থিতি উপর-নীচেও তো হয়, তাই না। বাচ্চারা পরাজিতও হয়। ভাল-ভাল বাচ্চারাও পরাজিত হয়। তাই পাপ কাটেই(নষ্ট) না, ভুগতেও হয়। এ হল অত্যন্ত ছিঃ-ছিঃ দুনিয়া, এখানে সবকিছু হতেই থাকে। বাবাকে আহ্বান(ডেকে) করে বলে যে, বাবা, তুমি এসে আমাদের নতুন দুনিয়ার রাস্তা বলে দাও। বাবা জানেন -- ওদিকে হল পুরানো দুনিয়া আর এদিকে হল নতুন দুনিয়া। তোমরা হলে তরণী। এখন তোমরা পুরুষোত্তম হওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করেছ। এই পুরানো দুনিয়ার থেকে তোমাদের নোঙ্গর উঠে গেছে। তাই যেখানে যাচ্ছ, সেই ঘর-কেই স্মরণ করতে হবে। বাবা বলেন যে, আমাকে স্মরণ করলেই তোমাদের খাদ বেরিয়ে যাবে। হয় যোগবলের দ্বারা, নয় তো শাস্তি ভোগ করে। প্রতিটি আত্মাকেই পবিত্র হতেই হবে। পবিত্র না হলে কেউ-ই ফিরে যেতে পারে না। সকলেই নিজ-নিজ ভুমিকা পালন করছে। বাবা বলেন, এ হল তোমাদের অন্তিম জন্ম। মানুষ বলে যে, কলিযুগ এখনও শৈশব অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ মানুষ এখন এর থেকেও অধিক দুঃখী হবে। কিন্তু তোমরা অর্থাৎ সঙ্গমযুগী ব্রাহ্মণেরা জান যে, এই দুঃখধাম তো শীঘ্রই সমাপ্ত হয়ে যাবে। বাবা তোমাদের ধৈর্য্য প্রদান করেন । কল্প- পূর্বেও বাবা বলেছিলেন, মামেকম্ অর্থাৎ আমাকে স্মরণ কর তাহলেই পাপ কেটে(মুক্ত) যাবে। আমি(বাবা) এই গ্যারান্টি করছি। এও বোঝান যে, কলিযুগের বিনাশ হবে আর সত্যযুগ-কেও অবশ্যই আসতে হবে। তোমরা বাবার থেকে এই গ্যারান্টি পাও, আর বাচ্চাদের নিশ্চয়তাও রয়েছে। কিন্তু স্মরণে না থাকতে পারার জন্য কোনো না কোনো বিকর্ম করে ফেলে। তারা বলে যে, বাবা, ক্রোধ এসে যায়, একেও ভূত(বিকার) বলা হয়। এই রাবণ রাজ্যে ৫ ভূত দুঃখই দেয়। পূর্বের যত হিসেব-নিকেশ আছে তা চুক্তও করতে হবে। পূর্বে কখনও কাম-বিকার যাদের বিরক্ত করেনি, তাদেরও এই রোগের উদয় (ইমার্জ হয়) হয়। তারা বলে যে, পূর্বে তো এমন বিকল্প(ব্যর্থ সঙ্কল্প) কখনও আসেনি, এখন কেন যাতনা দিচ্ছে ? এ হল জ্ঞান, তাই না। জ্ঞান সমস্ত রোগ-কে দূর করে দেয়। ভক্তি সব রোগ-কে দূর করতে পারে না। এ হল অশুদ্ধ বিকারী দুনিয়া, ১০০‌ শতাংশ অশুদ্ধতা রয়েছে। ১০০ শতাংশ পতিত থেকে ১০০ শতাংশ পবিত্র হতে হবে। ১০০ শতাংশ ভ্রষ্টাচারী থেকে ১০০ পবিত্র, শ্রেষ্ঠাচারী দুনিয়া তৈরী হবে।।



বাবা বলেন, আমি এসেছি তোমাদের শান্তিধাম এবং সুখধামে নিয়ে যেতে। তোমরা আমাকে স্মরণ কর এবং সৃষ্টি চক্রকে (স্মরণ কর) ঘোরাও কর। কোনো বিকর্ম কোরো না। যে গুণ দেবতাদের মধ্যে রয়েছে তা ধারণ করতে হবে। বাবা কোনো কষ্ট দেন না। কোনো কোনো বাড়ীতে অশুভ আত্মা থাকে, তারা ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়, অনেক ক্ষতি করে। এইসময় সব মানুষই অশুভ, তাই না ! শারীরিক(স্থূল) কর্মভোগও থাকে। আত্মা পরস্পরকে দুঃখ দেয় শরীর দ্বারা, আবার শরীর না থাকলেও দুঃখ দেয়। বাচ্চারা দেখেছে যে, যাদের অশরীরী আত্মা বলা হয়, তাদের সাদা ছায়ার মতো দেখতে লাগে। কিন্তু ওদের বিষয়ে কিছু চিন্তা করার নেই। তোমরা যত বাবাকে স্মরণ করবে ততই এসব সমাপ্ত হয়ে যাবে। এও এক হিসেব-নিকেশ, তাই না ! বাচ্চারা, অনেকে ঘরে বলে যে আমরা পবিত্র থাকতে চাই। একথা আত্মা বলে। আর যাদের জ্ঞান নেই, তারা বলে, পবিত্র হয়ো না। এর ফলে ঝগড়া শুরু হয়ে যায়। কত হাঙ্গামা (ঝামেলা) হয়। এখন তোমরা পবিত্র আত্মায় পরিণত হচ্ছ। ওরা অপবিত্র, তাই দুঃখ দেয়। কিন্তু ওরাও তো আত্মা। ওদেরকে বলা হয় অশুভ আত্মা। তাই ওরা শরীর দ্বারাও দুঃখ দেয় আবার শরীর ছাড়াও দুঃখ দেয়। জ্ঞান তো সহজ, স্বদর্শন-চক্রধারী হতে হবে। এছাড়া মুখ্য বিষয় হল পবিত্রতা। তারজন্য বাবাকে আনন্দের সাথে স্মরণ করতে হবে। রাবণকে ইভিল(অশুভ) বলা হয়, তাই না ! এই সময় এই দুনিয়াই হল অশুভ। পরস্পরের থেকে অনেক দুঃখ পেতে হয়। ইভিল পতিতকে বলা হয়। পতিত আত্মায় ৫ বিকার অনেক প্রকারের থাকে। কারোর মধ্যে কাম বিকারের অভ্যাস, কারোর মধ্যে ক্রোধের অভ্যাস, কারোর মধ্যে বিরক্ত করার অভ্যাস, কারোর আবার ক্ষতি করার অভ্যাস। কারোর মধ্যে যদি বিকার(কাম) থাকে তবে তা না পাওয়ার কারণে ক্রোধবশতঃ অনেক মারধোরও করে। এই দুনিয়াই এমন। তাই বাবা এসে ধৈর্য্য প্রদান করে বলেন -- হে আত্মারূপী বাচ্চারা, ধৈর্য্য ধরো, আমাকে স্মরণ কর এবং দৈবীগুণ ধারণ কর। তিনি এমন তো বলেন না যে, কাজ-কর্ম ইত্যাদি কোরো না। যেমন মিলিটারীরা যখন যুদ্ধে যায় তখন তাদেরকেও বলা হয় যে শিববাবাকে স্মরণ কর। গীতার কথাগুলোকে স্মরণ করে মনে করে যে, যদি আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যুবরণ করি, তাহলে স্বর্গে চলে যাব, তাই খুশী মনে যুদ্ধে যায়। কিন্তু এমন কোনো কথাই নেই। এখন বাবা বলেন, তোমরা স্বর্গে যেতে পার, শুধু শিববাবাকে স্মরণ কর। স্মরণ তো একমাত্র শিববাবাকেই করতে হবে তবে অবশ্যই স্বর্গে যাবে। যারাই আসে, যদিও পরে তারা পতিত হয়ে যায়, তথাপি তারাও স্বর্গে অবশ্যই যাবে। শাস্তিভোগ করে পবিত্র হয়ে তারাও অবশ্যই যাবে। বাবা তো করুণাময় (রহমদিল), তাই না। বাবা বোঝান, কোনো বিকর্ম কোরো না তবেই বিকর্মাজীত হতে পারবে। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ হল বিকর্মাজীত, তাই না। রাবণ রাজ্যে আবার বিকর্মী(বিকারী) হয়ে যায়। তখন বিক্রম বর্ষ(সম্বত)(দ্বাপর থেকে) শুরু হয়, তাই না। মানুষ তো কিছুই জানে না। বাচ্চারা, তোমরা এখন জেনেছ যে, এই লক্ষ্মী-নারায়ণ হল বিকর্মাজীত। এটাই বলা হবে যে, বিকর্মাজীত হল নম্বর ওয়ান আর ২৫০০ বছর পরে পুনরায় বিক্রম বর্ষ শুরু হয়। মোহজীত রাজারও একটি গল্প রয়েছে, তাই না। বাবা বলেন, নষ্টমোহ হও। একমাত্র আমাকেই (মামেকম্) স্মরণ কর, তো পাপ কেটে যাবে। ২৫০০ বছরে যা পাপ হয়েছে, তা থেকে ৫০-৬০ বছরের মধ্যেই তোমরা নিজেকে সতোপ্রধান বানাতে পার। যদি যোগবল না থাকে তবে পিছনের সারিতে চলে যাবে। মালা তো অনেক বড়। ভারতের মালা তো বিশেষ হয়। যার উপরেই সমগ্র খেলা তৈরী হয়ে রয়েছে। এরমধ্যে মুখ্য হল স্মরণের যাত্রা। আর কোনো কষ্ট নেই। ভক্তিতে তো অনেকের সঙ্গেই বুদ্ধিযোগ থাকে। এ সবই হল রচনা। তাই তাদের স্মরণ করে কারো কোনো কল্যাণ হবে না। বাবা বলেন, কাউকে স্মরণ কোরো না। যেমন ভক্তিমার্গে প্রথমে তোমরা আমাকে ভক্তি করতে এখন অন্তে এসেও তোমরা আমাকে স্মরণ কর। বাবা কত পরিষ্কার করে বোঝান। পূর্বে কি এসব জানতাম, না জানতাম না। এখন তোমরা জ্ঞান প্রাপ্ত করেছ। বাবা বলেন, আর অন্যসব সঙ্গ ছেড়ে বুদ্ধি একের সাথেই যুক্ত কর, তবেই যোগ-অগ্নির দ্বারা তোমাদের পাপ ভস্ম হয়ে যাবে। পাপ তো অনেক করেছ। কাম-কাটারী চালিয়েছ। পরস্পরকে আদি-মধ্য-অন্ত পর্যন্ত দুঃখ দিয়ে এসেছ। মুখ্য বিষয়ই হল কাম-কাটারীর। এও হলো ড্রামা, তাই না। এরকমও বলা যাবে না যে ড্রামা এভাবে কেন তৈরী করা হয়েছে? এ তো অনাদি খেলা। এতে আমারও (ভগবানের) পার্ট রয়েছে। ড্রামা কখন তৈরী হয়েছে, কখন সম্পূর্ণ হবে -- এটাও বলতে পারা যাবে না। আত্মাতেও তো পার্ট ভরা থাকে। আত্মার যে প্লেট রয়েছে তার কিন্তু কোনো ক্ষয় নেই। কারণ আত্মা অবিনাশী, আর তাতে যে পার্ট ভরা রয়েছে তাও অবিনাশী।। ড্রামাকেও অবিনাশী বলা হয়। বাবা, যিনি পুনর্জন্মে আসেন না, তিনিই এসে সব রহস্য বোঝান। সৃষ্টির আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য আর কেউ-ই বোঝাতে পারবে না। কারণ না জানে বাবার অক্যুপেশন, না জানে আত্মার, কোনো কিছুই জানে না। এ সৃষ্টি-চক্র সদা ঘুর্ণায়মান।





এখন হল পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ, যখন সব মানুষই উত্তম পুরুষ হয়ে যায়। শান্তিধামে সব আত্মাই পবিত্র উত্তম হয়ে যায়। শান্তিধাম তো পবিত্র, তাই না। নতুন দুনিয়াও পবিত্র। শান্তি তো রয়েছেই, আবার শরীর ধারণ করে নিজের ভূমিকাও পালন করে। একথা আমরাই জানি, প্রত্যেকটি আত্মা তার নিজ-নিজ ভূমিকা পালন করে। ওটা হল আমাদের নিজ নিকেতন, যেখানে আমরা শান্তিতে থাকি। এখানে তো ভূমিকা পালন করতেই হবে। এখন বাবা বলেন, ভক্তিমার্গে তোমরা আমার অব্যভিচারী পূজা করেছ । দুঃখ ছিল না। এখন ব্যভিচারী ভক্তিতে(অনেকের পূজা) আসার কারণে তোমরা দুঃখী হয়ে পড়েছ। বাবা বলেন, দৈবী-গুণ ধারণ কর, তবুও আসুরী-গুণ ধারণ কর কেন ? বাবাকে ডাকো যে, এসে আমাদের পবিত্র কর। তাহলে পুনরায় কেন পতিত হও ? এরমধ্যেও কাম-বিকারকে অবশ্যই জিততে হবে, তবেই জগৎজীত হতে পারবে। মানুষ তো ভগবানকে উদ্দেশ্য করেই বলে যে, নিজেই পূজ্য আবার নিজেই পূজারী। অর্থাৎ তাঁকে নীচে নামিয়ে দেয় । এভাবেই পাপ করতে-করতে দুনিয়া মহা-বিকারী হয়ে যায়। গরুড় পুরাণেও, অতি ভয়ঙ্কর(রৌরব) নরকের কথা বর্ণনা রয়েছে। বলা হয় যে, সেখানে বিছা-টিকটিকি এই সব দংশন করে। শাস্ত্রে তো কি কি সব দেখিয়েছে। বাবা এও বুঝিয়েছেন, এই শাস্ত্র ইত্যাদি সব ভক্তিমার্গের জন্য। এগুলির দ্বারা কেউ-ই আমার সাথে মিলিত হতে পারবে না। মানুষ আরও তমোপ্রধাণ হয়ে গেছে তাই আমাকে আহ্বান করে যে, এসে আমাদের পবিত্র কর, তাহলে এখন অবশ্যই পতিত, তাই না। মানুষ তো কিছুই বোঝে না। যারা "নিশ্চয় বুদ্ধি" হবে, তারা তো বিজয়ী হয়ে যাবে। রাবণের উপরে বিজয় প্রাপ্ত করে রাম-রাজ্যে চলে যায়। বাবা বলেন, কাম-বিকারের উপর বিজয়লাভ কর, এরজন্যই যত লড়াই-ঝগড়া হয়। বলাও হয়েছে, অমৃত ছেড়ে তোমরা কেন বিষ খাও ? অমৃতের কথা শুনে মনে করে, গো-মুখ থেকে অমৃত নির্গত হয়। আরে, গঙ্গা জলকে কি কেউ অমৃত বলে, না বলে না। এ হল জ্ঞান- অমৃতের কথা। স্ত্রী, স্বামীর চরণ ধুয়ে সেই জল পান করে, আর একে অমৃত মনে করে। যদি তা অমৃত হয় তবে তো সকলেই হীরে-তুল্য হবে, তাই না। এখানে তো বাবা জ্ঞান প্রদান করেন, যার ফলে তোমরা হীরে-তুল্য হয়ে যাও। তারা তো গঙ্গা জলের নামও কত মহিমান্বিত করে দিয়েছে। তোমরা জ্ঞান-অমৃত পান করাও, ওরা জল পান করায়। তোমরা হলে ব্রাহ্মণ, তোমাদের কথা কেউ জানেই না। তারা কৌরব-পান্ডব বলে, কিন্তু পান্ডবদের কি ব্রাহ্মণ মনে করে ? না করে না। গীতায় এমন কোনো শব্দ নেই, যেকথা জেনে তারা পান্ডবদের ব্রাহ্মণ বলে গন্য করবে। বাবা বসে সব শাস্ত্রের সার কথা শোনান। বাচ্চাদের বলেন, শাস্ত্রে যা কিছু পড়েছ আর আমি যা কিছু শোনাই, সেগুলোকে যাচাই(পরীক্ষা) কর। তোমরা জান যে পূর্বে যা কিছু শুনেছিলাম তা ভুল, এখন সঠিক শুনি।



বাবা বোঝান, তোমরা হলে সীতা বা ভক্ত । ভক্তির ফল দেন রাম-ভগবান। বলেন যে, আমি আসিই ফল দিতে। তোমরা জান যে, আমরাই স্বর্গের অপার সুখ ভোগ করি। আর সেইসময় বাকীরা সব শান্তিধামে থাকে। শান্তি তো পায়, তাই না। সেই বিশ্বে সুখ-শান্তি- পবিত্রতা সবকিছু রয়েছে। তোমরা বোঝাও, বিশ্বে যখন এক ধর্ম ছিল তখনই শান্তি ছিল। তবু তারা বোঝে না। কদাচিৎ কেউ টিকে যায় এখানে । পরে অনেকেই আসবে। যাবে কোথায়! এ হল একটাই হাট ।যেমন দোকানদারের জিনিস যদি ভাল হয় তাহলে এক দাম(ফিক্সড রেট) থাকে। এ হল শিববাবার হাট, তিনি হলেন নিরাকার। ব্রহ্মা-কেও অবশ্যই দরকার। তোমাদের বলা হয় ব্রহ্মাকুমার-কুমারী। শিবকুমারী তো বলা হয় না। ব্রাহ্মণদেরও অবশ্যই প্রয়োজন। ব্রাহ্মণ না হলে দেবতা হবে কিভাবে। আচ্ছা !



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ, ভালবাসা ও সুপ্রভাত! ঈশ্বরীয় পিতা ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. দেবতাদের মতো গুণ নিজের মধ্যে ধারণ করতে হবে, ভিতরে যা কিছু অশুভ সংস্কার রয়েছে, ক্রোধ ইত্যাদির অভ্যাস রয়েছে, তা পরিত্যাগ করতে হবে। বিকর্মাজীত হতে হবে, তাই এখন যেন কোনো বিকর্ম না করা হয়।

২. হীরে-সম শ্রেষ্ঠ হওয়ার জন্য জ্ঞান-অমৃত পান করতে এবং করাতে হবে। কাম-বিকারের উপর সম্পূর্ণ বিজয় প্রাপ্ত করতে হবে। নিজেকে সতোপ্রধান বানাতে হবে। স্মরণের শক্তি দ্বারা পুরানো সব হিসেব-নিকেশ মিটিয়ে ফেলতে হবে।

বরদান:-

সহজ যোগের সাধনার দ্বারা সুযোগ সুবিধার জন্য ব্যবহারিক উপকরণের উপর বিজয় প্রাপ্তকারী প্রয়োগী আত্মা ভব |

সুযোগ সুবিধার জন্য ব্যবহারিক উপকরণ গুলি রয়েছে, সেগুলি ব্যবহার করেও যেন যোগের স্থিতি টলমল না হয় । যোগী হয়ে প্রয়োগ(ব্যবহার) করা, একে বলা হয় অলিপ্তভাব (ন্যারা)। উপকরণ থাকলেও তা নিমিত্তভাবে, অনাসক্তরূপে ব্যবহার কর। যদি ইচ্ছা থাকে, তবে সেই ইচ্ছা, ভালো (আচ্ছা) হতে দেবে না। পরিশ্রম করতেই সময় অতিবাহিত হয়ে যাবে। অর্থাৎ সেইসময় তোমরা সাধনায় মগ্ন থাকার প্রচেষ্টা করবে আর উপকরণ তোমাদের নিজের দিকে আকর্ষণ করবে। তাই প্রয়োগী হয়ে সহজ যোগের সাধনার দ্বারা উপকরণের উপর অর্থাৎ প্রকৃতির উপর বিজয়ী হও।

স্লোগান:-

নিজে সন্তুষ্ট থেকে, সকলকে সন্তুষ্ট করাই হল সন্তুষ্টমণি হওয়া।