07-02-2021 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 29-10-87 মধুবন


"তন, মন, ধন আর সম্বন্ধের শক্তি"


আজ সর্বশক্তিমান বাবা তাঁর নিজের শক্তিশালী বাচ্চাদের দেখছেন l প্রত্যেক ব্রাহ্মণ আত্মা শক্তিশালী হয়েছে, কিন্তু নম্বর অনুক্রমে l অবিনাশী উত্তরাধিকার হলো বাবার সর্বশক্তি আর বরদাতার বরদান l বাবা আর বরদাতা - এই ডবল সম্বন্ধ থেকে এই শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি প্রত্যেক বাচ্চার জন্ম থেকেই প্রাপ্ত হয় l জন্ম থেকেই বাবা তোমাদের সর্বশক্তির অধিকারী অর্থাৎ জন্মসিদ্ধ অধিকারের অধিকারী বানিয়ে দেন, সেইসঙ্গে জন্ম হতেই বরদাতা হিসেবে মাস্টার সর্বশক্তিমান বানিয়ে "মাস্টার শক্তি ভব"র বরদান দিয়ে দেন l সব বাচ্চার একের থেকে একইরকম ডবল অধিকার লাভ হয়, কিন্তু ধারণ করার শক্তি নম্বর অনুক্রমিক বানিয়ে দেয় l বাবা সবাইকে সদা আর সর্ব শক্তিশালী করে গড়ে তোলেন, কিন্তু বাচ্চারা যথা-শক্তি হয়ে যায় l সাধারণতঃ, লৌকিক জীবনে বা অলৌকিক জীবনে সমুদয় শক্তিই সফলতার আধার l যতোধিক শক্তি ততোধিক সফলতা l মুখ্য শক্তি হলো - তনের, মনের, ধনের আর সম্বন্ধের l এই চারই আবশ্যক l যদি এই চারের মধ্যে থেকে একটা শক্তিও কম থাকে তবে জীবনে সদা ও সর্ব সফলতা হয় না l অলৌকিক জীবনেও চার শক্তিই প্রয়োজন l

এই অলৌকিক জীবনে আত্মা আর প্রকৃতি উভয়ের সুস্বাস্থ্য আবশ্যক l যখন আত্মা সুস্থ, তখন স্ব-স্থিতির কারণে তনের হিসেব-নিকেশ অথবা তনের রোগ শূল থেকে কাঁটায় রূপান্তরিত হওয়ার কারণে আত্মা নিজেকে সুস্থ অনুভব করে l তার মুখে, আচার-আচরণে রোগের কষ্টজনিত কোনো চিহ্ন থাকে না l মুখে তারা রোগের বর্ণন করে না, কর্মভোগের বদলে কর্মযোগের স্থিতির বর্ণন করে, কারণ রোগের বর্ণনও রোগ বৃদ্ধির কারণ হয়ে যায় l তারা না কখনও রোগের কষ্ট অনুভব করবে, আর না অন্যকে কষ্টের কথা শুনিয়ে কষ্টের তরঙ্গ ছড়াবে l অর্থাৎ মাস্টার সর্বশক্তিমান হয়ে শক্তির বরদানে সময় অনুযায়ী সহন শক্তি, অন্তর্লীন করার শক্তি প্রয়োগ করবে, তাছাড়া, যথা সময়ে শক্তির বরদান বা উত্তরাধিকার কার্য-ব্যবহারে প্রয়োগ করার ফলে বরদান অর্থাৎ আশীর্বাদ তোমাদের জন্য ওষুধের কাজ করে দেয় l কারণ সর্বশক্তিমান বাবার দ্বারা যে সর্বশক্তি প্রাপ্ত হয়, তা' যে পরিস্থিতি অনুসারে, যে সময়ে, যে বিধিতে তোমরা কার্যে প্রয়োগ করতে চাও, ঠিক সেই ভাবেই এই সব শক্তি তোমাদের সহযোগী হতে পারে l এই শক্তিকে বা প্রভু-বরদানকে যে রূপে চাও সেই রূপ ধারণ করতে পারো, এই মুহূর্তে শীতলতার রূপে, পরমুহূর্তে জ্বালানোর রূপে l এই রূপ জলের শীতলতারও অনুভব করাতে পারে, আবার আগুনে জ্বালানোর অনুভবও করাতে পারে, ওষুধেরও কাজ করতে পারে এবং শক্তিশালী বানানোর মাজনেরও কাজ করতে পারে l শুধু যথা সময়ে কার্যে প্রয়োগ করার অথরিটি হও l এই সর্বশক্তি তোমরা সব মাস্টার সর্বশক্তিমানের সেবাধারী l যখনই তুমি যাকে অর্ডার করবে, সে 'হাজির হুজুর' বলে সহযোগী হবে, কিন্তু যে এই সেবা নেবে, তারও সুচতুর (পারদর্শী) হওয়া প্রয়োজন l অতএব, তনের শক্তি আত্মিক শক্তির আধারে সদা অনুভব করতে পারো অর্থাৎ সদা সুস্থ থাকার অনুভব করতে পারো l

এই অলৌকিক ব্রাহ্মণ জীবন সদাই সুস্বাস্থ্য জীবন l বরদাতার থেকে 'সদা সুস্থ ভব'র বরদান প্রাপ্তি হয়েই আছে l বাপদাদা দেখেন বরদানপ্রাপ্ত অনেক বাচ্চা সময় মতো কার্যে প্রয়োগ করে লাভ নিতে অপারগ অথবা এটা বলা যায় যে তারা তাদের সকল শক্তি অর্থাৎ তাদের সেবাধারীদের থেকে নিজের উদারতা এবং বিশাল বুদ্ধির দ্বারা সেবা নিতে অপারগ l 'মাস্টার সর্বশক্তিমান' - এই স্থিতি কিছুমাত্র কম নয় ! এটা শ্রেষ্ঠ স্থিতিও আর সেইসঙ্গে ডাইরেক্ট পরমাত্মা দ্বারা 'পরম টাইটেল'ও l টাইটেলের কতখানি নেশা আছে তোমাদের ! টাইটেল তোমাদের কতো কার্য সফল করে দেয় l এই টাইটেল পরমাত্ম-টাইটেল, এতে কতো খুশি আর শক্তি ভরে আছে ! যদি এই এক টাইটেলের স্থিতিরূপী সীটে সেট থাকতে পারো, তবে এই সর্বশক্তি তোমার সেবার জন্য সদা হাজির রয়েছে অনুভূত হবে, তোমার অর্ডারের অপেক্ষায় থাকবে l অতএব, বরদান এবং অবিনাশী উত্তরাধিকার কার্যে লাগাও l যদি মাস্টার সর্বশক্তিমানের স্বমানে স্থিত না হও, তাহলে শক্তিসমূহকে অর্ডার অনুযায়ী চালনা করার পরিবর্তে বারবার বাবার কাছে আর্জি পেশ করতে থাকো, এই শক্তি দাও, আমার এই কাজ করিয়ে দাও, এটা যেন হয়ে যায়, এইভাবে যেন হয়ে যায় l সেইজন্য যারা আর্জি পেশ করে তারা কখনই সদা খুশি থাকতে পারে না l একটা জিনিস সম্পন্ন হবে, তারপরে আরেকটা শুরু হবে l সেইজন্য মালিক হয়ে, যোগযুক্ত হয়ে সেবাধারীদের থেকে যুক্তিযুক্তভাবে যদি সেবা নাও তো সদা আপনা থেকেই সুস্থতা অনুভব করবে l একে বলে, তনের শক্তির প্রাপ্তি l

এইরকমই মনের শক্তি অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্প শক্তি l মাস্টার সর্বশক্তিমানের প্রতিটা সঙ্কল্পে এত শক্তি আছে যে সে যা চায়, যে সময়ে চায় তা' করতে পারে এবং করাতেও পারে l কারণ তার সঙ্কল্প সদা শুভ, শ্রেষ্ঠ আর কল্যাণকারী হবে l সুতরাং যেখানে কল্যাণের জন্য শ্রেষ্ঠ সঙ্কল্প ওঠে তা' অবশ্যই সফল হয় আর মাস্টার সর্বশক্তিমান হওয়ার কারণে মন কখনো মালিককে প্রতারণা করতে পারে না, দুঃখ অনুভব করাতে পারে না l মন একাগ্র অর্থাৎ এক জায়গায় ( ঠিকানায় ) স্থির থাকে, দিশাহীন হয়ে ইতস্ততঃ ঘুরে বেড়ায় না l যখন যেখানে চাও সেখানে মনকে তোমরা স্থির করতে পারো l মন কখনো উদাস হতে পারে না, কারণ সেই সেবাধারী দাস হয়ে যায় l এই হলো মনের শক্তি, যা অলৌকিক জীবনে তোমরা প্রাপ্ত করেছ l

তৃতীয়তঃ, এইরকমই ধনের শক্তি অর্থাৎ জ্ঞান-ধনের শক্তি l জ্ঞান-ধন স্থূল ধনের প্রাপ্তি নিজে থেকেই করায় l যেখানে জ্ঞান-ধন আছে, সেখানে প্রকৃতি দাসী হয়ে যায় l এই স্থূল ধন প্রকৃতির সাধনের জন্য l জ্ঞান-ধন থেকে প্রকৃতির সমুদয় উপকরণ স্বতঃই প্রাপ্ত হয়, সেইজন্য জ্ঞান-ধন সব ধনের রাজা l যেখানে রাজা, সেখানে সর্ব পদার্থ নিজে থেকেই প্রাপ্ত হয়, পরিশ্রম করতে হয় না l যদি কোনও লৌকিক পদার্থ প্রাপ্ত করতে পরিশ্রম করতে হয় তাহলে তার কারণ জ্ঞান-ধনের অভাব l বাস্তবে, জ্ঞান-ধন তোমাদের পদ্মাপদমপতি বানায় l পরমার্থ-চিন্তায় ব্যবহার করা সবকিছু স্বতঃই সফল হয়ে যায় l সেইজন্য যাদের পরমাত্ম-ধন আছে তারা পরমেষ্ঠী(পরমার্থী) হয়ে যায় অর্থাৎ তারা সবকিছু পরমার্থে করে l সঙ্কল্প করারও আবশ্যকতা নেই, নিজে থেকেই সর্ব আবশ্যকতা পূরণ হতে থাকে l ধনের এত শক্তি আছে, যা অনেক জন্মের জন্য এই জ্ঞান-ধন রাজার রাজা বানিয়ে দেয় l সুতরাং ধনেরও শক্তি সহজে প্রাপ্ত হয়ে যায় l

এইরকমই সম্বন্ধের শক্তি l সম্বন্ধের শক্তিপ্রাপ্তি'র শুভ ইচ্ছা এইজন্যই হয়, কারণ সম্বন্ধে স্নেহ আর সহযোগের প্রাপ্তি হয় l এই অলৌকিক জীবনে সম্বন্ধের শক্তি ডবল রূপে প্রাপ্ত হয় l জানো তোমরা, কীভাবে ডবল শক্তির প্রাপ্তি হয় ? এক - বাবা দ্বারা সর্ব সম্বন্ধ, দুই - দৈবী পরিবার দ্বারা সম্বন্ধ l তাহলে ডবল সম্বন্ধ তো হয়েই গেল, তাই না ! বাবার সাথেও আর নিজেদের মধ্যেও l সুতরাং সম্বন্ধ দ্বারা সদা নিঃস্বার্থ স্নেহ, অবিনাশী স্নেহ আর অবিনাশী সহযোগ সদাই প্রাপ্ত হতে থাকে l অতএব, তোমাদের সম্বন্ধেরও শক্তি আছে, তাই না ! যে কোনো ক্ষেত্রে, বাবা, বাচ্চাদের কেন চায়, অথবা বাচ্চা, বাবাকে কেন চায় ? সহযোগের জন্য, যাতে প্রয়োজনের সময় সহযোগ পাওয়া যায় l সুতরাং এই অলৌকিক জীবনে চার শক্তি বরদান রূপে, অবিনাশী উত্তরাধিকার রূপে তোমাদের প্রাপ্ত হয় l যখন চার রকমের শক্তি তোমরা প্রাপ্তই করেছ, প্রতি মুহূর্তে তার স্থিতি কেমন হবে ? সদা মাস্টার সর্বশক্তিমান, এই স্থিতির সীটে সদা স্থিত তোমরা ? অন্য কথায় একেই বলা হয়ে থাকে স্ব-এর রাজা বা রাজযোগী l রাজার ভান্ডার সদা পরিপূর্ণ থাকে l সুতরাং রাজযোগী অর্থাৎ শক্তির ভান্ডার সদা পরিপূর্ণ, বুঝেছ ? একে বলে, শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণের অলৌকিক জীবন l সদা মালিক হয়ে সর্বশক্তিকে কার্যে লাগাও l যথাশক্তির পরিবর্তে সদা শক্তিশালী হও l দরখাস্ত (আর্জি) পেশকার নয়, সদা সন্তুষ্ট থাকো l আচ্ছা l

মধুবনে আসার চান্স সবাইই তো পাচ্ছ, তাই না ! প্রাপ্ত হওয়া এই ভাগ্য সদা সাথে রাখো l ভাগ্যবিধাতাকে সাথে রাখা অর্থাৎ ভাগ্যকে সাথে রাখা l তিনটে জোন থেকে তোমরা এসেছ l আলাদা-আলাদা স্থানের তিন নদী এসে একত্রিত হয়েছে - একে বলে, ত্রিবেণীর সঙ্গম l বাপদাদা তো বরদাতা হয়ে সবাইকে বরদান দেন l বরদানকে কার্যে প্রয়োগ করা, সেটা প্রত্যেকের নিজের উপর নির্ভর করছে l আচ্ছা l

চারিদিকের পূর্ণ উত্তরাধিকারের আর বরদানের অধিকারী শ্রেষ্ঠ আত্মাদের, মাস্টার সর্বশক্তিমান সব শ্রেষ্ঠ আত্মাদের, যারা সদা সন্তুষ্টতার তরঙ্গ ছড়ায়, সেই সন্তুষ্ট আত্মাদের, সদা পরমার্থ-চিন্তা দ্বারা ব্যবহারে সফলতা প্রাপ্তকারী মহান আত্মাদের বাপদাদার স্নেহ আর শক্তিসম্পন্ন স্মরণ-স্নেহ আর নমস্কার l

*"সবার সহযোগে সুখময় সংসার" কার্যক্রমের জন্য অব্যক্ত বাপদাদার প্রেরণা"*

এটা এমন বিষয় যে সবাই নিজে থেকে এসে তাদের সহযোগ দেওয়ার অফার করবে l তাদের সহযোগের মাধ্যমে তারা সম্বন্ধেও আসবে, সেইজন্য নিজেদের উদ্যোগেই অফার দেবে l শুধু শুভ ভাবনা, শুভ কামনা সম্পন্ন সেবাধারীরা যেন সেবায় এগিয়ে যায় l শুভ ভাবনার ফল প্রাপ্ত হবে না, এতো হতেই পারে না l সেবাধারীদের শুভ ভাবনা, শুভ কামনার ক্ষেত্র সহজে ফল দেওয়ার নিমিত্ত হবে l ফল প্রস্তুত, শুধু ক্ষেত্র তৈরি হতে সামান্য দেরি l ফল তো সত্বর বেরিয়ে আসবে, কিন্তু তার জন্য উপযুক্ত ক্ষেত্র প্রয়োজন l এখন সেই ক্ষেত্র প্রস্তুত হচ্ছে l

কার্যতঃ, সেবা তো সবারই করা আবশ্যক, কিন্তু তবুও বিশেষ সত্ত্বা যারা আছে, তাদের মধ্যে থেকে এখনও কাছে আসেনি l রাজনৈতিক সত্ত্বাদের সেবা হয়তো হয়েছে, বা ধর্মীয় সত্ত্বাদের হয়েছে, কিন্তু তাদের সহযোগী হয়ে সামনে আসার, প্রয়োজনের সময় তাদের সহযোগ দেওয়ার আবশ্যকতা আছে l তার জন্য শক্তিশালী তির লাগাতে হবে l দেখা যায় যে শক্তিশালী তির সেটাই হয় যার মধ্যে সর্ব আত্মাদের সহযোগের ভাবনা আছে, খুশির ভাবনা আছে, সদ্ভাবনা আছে l এতে সব কার্য সহজে সফল হয় l এখন যে সেবা করো তা' তোমরা আলাদা আলাদা ভাবে করো, কিন্তু যেভাবে আগের কালে কোনো কাজ করতে কেউ বাইরে যেত তো পুরো পরিবারের আশীর্বাদ নিয়ে যেত l সেই আশীর্বাদই সবকিছু সহজ করে দেয় l সুতরাং, বর্তমান সেবায় এই অ্যাডিশন (এখনই বৃদ্ধি) প্রয়োজন l অতএব, কোনও কার্য শুরু করার পূর্বে সকলের শুভ ভাবনা, শুভ কামনা নাও, সকলের সন্তুষ্টতার বল ভরে নাও, তবেই শক্তিশালী ফল বেরোবে l

এখন এত পরিশ্রম করার আবশ্যকতা নেই l সবাই রিক্ত (খালি) হয়ে আছে l পরিশ্রম করার প্রয়োজন নেই l তারা এতটাই খালি যে ফুঁ দিলে তারা উড়ে এসে এখানে পড়বে l আর আজকাল সবাই মনে করছে, অন্য কোনো পাওয়ারের প্রয়োজন আছে যা সবকিছু কন্ট্রোল করতে পারবে - হয় তা' সে রাজ্যের হোক, কিম্বা ধর্মের l ভিতরে ভিতরে তারা খুঁজছে l এখন কেবল ব্রাহ্মণ আত্মাদের সেবার বিধিতে প্রভেদ আনতে হবে, সেটাই মন্ত্র হয়ে যাবে l এখন কেবল সেই মন্ত্রকে নিয়ে আসো আর সফল হও l ৫০ বছর পরিশ্রম করেছ l এই সবই হওয়ার ছিল, তোমরা অনুভাবী হয়ে গেছ l এখন সব কার্যে এই লক্ষ্য রাখো যে 'সকলের সহযোগে সফলতা' - এই টপিক ব্রাহ্মণদের জন্য l আর দুনিয়ার লোকের জন্য টপিক - সবার সহযোগে সুখময় সংসার' l

আচ্ছা l এখন তো তোমাদের সবার সফলতার প্রত্যক্ষ রূপ প্রতীয়মান হবে l কোনও ভুল হয়ে যাওয়া কাজও তোমাদের দৃষ্টিতে, তোমাদের সহযোগে সহজে ঠিক হয়ে যাবে, যার কারণে ভক্তিতে তারা হর্ষরবে (উল্লাসধ্বনি ) ডাকবে l এই সমস্ত সফলতাও প্রত্যক্ষ রূপে তোমাদের সামনে আসবে l সফলতার রীতি অনুযায়ী তোমরা কেউ বলবে না যে, হ্যাঁ এটা হয়ে যাবে', কিন্তু তোমাদের ডিরেকশন নিজে থেকেই সফলতা প্রাপ্ত করাতে থাকবে l তবেই তো প্রজা তাড়াতাড়ি তৈরি হবে, সবদিক থেকে বেরিয়ে তোমাদের দিকে আসবে l সফলতার এই পার্ট এখন বহাল থাকবে l কিন্ত প্রথমে এত শক্তিশালী হও যাতে সফলতা স্বীকার করবে না, তখনই এই প্রত্যক্ষতা হবে l নয়তো, যারা সফলতা নিশ্চিত করবে তারাই যদি সফলতার মধ্যে আটকে যায় তাহলে কি করবে ? সুতরাং এইসব বিষয় এখান থেকেই শুরু হতে হবে l বাবার যে গায়ন আছে তিনি সার্জেনও, ইঞ্জিনিয়ারও, উকিলও, জজও, সবাই এটা প্র্যাকটিক্যালি অনুভব করবে, তখন সবদিক থেকে বুদ্ধি সরে গিয়ে এক দিকে যাবে l ভিড় তো এখন তোমাদের কাছে আসতে চলেছে l বাপদাদা এই দৃশ্য দেখেন আর কখনো কখনো এখনের দৃশ্য দেখেন - একটা বড় পার্থক্য রয়েছে মনে হয় ! তোমরা কে, তা' বাবা জানেন ! অতীব ওয়ান্ডারফুল পার্ট হতে চলেছে, যা স্বপ্নেও আন্দাজ হয় না l শুধু সামান্য আটকে আছে, যেমন পর্দা কখনো কখনো একটু আটকে যায় l যখন তোমরা পতাকা উত্তোলন করো তো কখনো আটকে যায়, ঠিক সেইরকমই এখন একটু একটু আটকে থাকছে l তোমরা যে হও, যেমনই হও, তোমরা খুব মহান l যখন তোমাদের বিশেষত্ব প্রত্যক্ষ হবে তখন তো ইষ্ট হবে l অবশেষে তো ভক্ত মালাও প্রত্যক্ষ হবে, তাই না ! কিন্তু আগে ঠাকুর সেজে তৈরি হবে তবেই তো ভক্ত আসবে, নয় কি ? আচ্ছা !

বরদান:-
নিজের আরামেরও ত্যাগ দ্বারা সেবা করে সদা সন্তুষ্ট, সদা আনন্দময় ভব

সেবাধারী নিজের রাত-দিনের আরামকেও ত্যাগ করে সেবাতেই আরাম বোধ করে, যারাই তাদের সম্পর্কে আসে বা তাদের সম্বন্ধে থাকে, তারা নৈকট্যের এমন শীতলতা অনুভব করে যেন শক্তি ও শান্তির শীতল ঝর্ণার নিচে বসে আছে l শ্রেষ্ঠ চরিত্রবান সেবাধারী কামধেনু হয়ে সদাকালের জন্য সকলের মনোকামনা পূরণ করে দেয় l এইরকম সেবাধারীর সদা উৎফুল্ল এবং সদা সন্তুষ্ট থাকার বরদান স্বতঃই প্রাপ্ত হয় l

স্লোগান:-
জ্ঞান-স্বরূপ যদি হতে হয়, তাহলে সবসময় স্টাডির প্রতি অ্যাটেনশন দাও, বাবা আর পঠন-পাঠনের প্রতি সমান ভালোবাসা হতে দাও l