০৭-০৩-১৯ প্রাতঃমুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- জ্ঞানের ডিপার্টমেন্ট আলাদা, যোগের আলাদা। যোগের দ্বারাই আত্মা সতোপ্রধান হয়, যোগের জন্য একান্তের প্রয়োজন"

প্রশ্ন:-

স্থায়ী স্মরণে থাকার আধার কি ?

উত্তর:-

তোমাদের কাছে যা কিছু আছে, তা ভুলে যাও, শরীরও যেন স্মরণে না থাকে। সবকিছু ঈশ্বরীয় সেবায় অর্পণ কর। এটাই হলো তোমাদের পরিশ্রম। এই বলির(সমর্পণ) দ্বারাই স্মরণ স্থায়ী হতে পারে। বাচ্চারা, তোমরা যদি প্রেম-পূর্বক বাবাকে স্মরণ কর তবেই তোমার স্মরণ তাঁর স্মরণকে টানবে। তখন বাবাও কারেন্ট দেবেন। আর সেই কারেন্টেই আয়ু বৃদ্ধি হবে। আত্মা এভারহেল্দী (সদাসুস্থ) হতে পারবে।

ওম শান্তি ।

এখন যোগ আর জ্ঞান -- এ হল দুটি বিষয়। বাবার কাছে এই অনেক বড় সম্পদ(খাজানা) রয়েছে যা তিনি বাচ্চাদেরকে দেন। বাবাকে যারা অনেক স্মরণ করে তারা অনেক বেশী কারেন্ট পায় কারণ স্মরণের সাথে স্মরণ স্মরণকে টানে -- এটাই নিয়ম, কারণ মুখ্য বিষয় হল স্মরণ। এমন নয় যে, অনেক জ্ঞান রয়েছে তার মানে অনেক স্মরণ করে, না। জ্ঞানের ডিপার্টমেন্ট আলাদা। যোগের সাবজেক্ট-ই অনেক বড়, জ্ঞানের তার থেকে কম। যোগের দ্বারাই আত্মা সতোপ্রধান হয়ে যায়। কারণ অনেক স্মরণ করে। *স্মরণ ব্যতীত সতোপ্রধান হওয়া অসম্ভব। বাচ্চারাই যদি সারাদিনে বাবাকে স্মরণ না করে তাহলে বাবাও স্মরণ করবে না। বাচ্চারা যদি সঠিক ভাবে বাবাকে স্মরণ করে তবে বাবারও স্মরণের সঙ্গে স্মরণ মিলিত হয়। তখন বাবাকে আকর্ষণ করে। এই খেলাও পূর্ব নির্ধারিত*। যা ভালভাবে বুঝতে হবে। স্মরণের জন্য অনেক একান্তের প্রয়োজন। পরে এসে যারা উচ্চপদ লাভ করে তার আধারই(ভিত) হল স্মরণ। তারা অনেক বেশী স্মরণে থাকে।স্মরণের সাথে স্মরণ মিলে যায়। বাচ্চারা যখন খুব স্মরণ করে তখন বাবাও স্মরণ করে। তারা আকর্ষণ করে। তারা বলেও তো, তাই না -- বাবা, দয়া করো, কৃপা করো। এতেও স্মরণ চাই। সঠিকভাবে স্মরণ করলে তখন স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণ থাকবে, আর কারেন্টও পাবে। *আত্মা অন্তর থেকে জানে যে, যখন আমি বাবাকে স্মরণ করি তখন সেই স্মরণ আমাকে সম্পূর্ণ ভরপুর করে দেয়*। জ্ঞান হল ধন। স্মরণের সাথেই স্মরণ পুনরায় মিলিত হয়, ফলস্বরূপ হেল্দী(সুস্থ) হয়ে যায়, পবিত্র হয়ে যায়। এতো শক্তি আসে, যার ফলে সমগ্র বিশ্বকে পবিত্র করে দেওয়া যায়। তাই আহ্বান করা হয় -- বাবা এসো আর পতিতদের পবিত্র বানাও।



মানুষ তো কিছুই জানে না, শুধুই চিৎকার-চেঁচামেচি করে আর সময় নষ্ট করতে থাকে, কারণ বাবাকে জানে না। যদিও প্রগাঢ় ভক্তি(নৌধা ভক্তি) করে। কিন্তু তাতে কিছুই প্রাপ্ত হয় না। কাশীতে শিবের মন্দিরে গিয়ে নিজেকে সমর্পণ(কাশী কলবট্) করে, কিন্তু তাতে কিছুই প্রাপ্ত হয় না। তারা আবারও বিকর্ম করতে শুরু করে। অতি শীঘ্রই মায়া তাদেরকে ফাঁদে ফেলে দেয়। প্রাপ্তি কিছুই নেই। এখন তোমরা জানো যে -- পতিত-পাবন হলেন একমাত্র বাবা। তাই তোমাদের তাঁর কাছে নিজেদের সমর্পণ(বলি) করা উচিৎ। লোকেরা মনে করে -- শিব-শঙ্কর একই। এও অজ্ঞানতা। এখানে বাবা বার-বার বলেন যে, 'মন্মনাভব'। আমাকে স্মরণ কর। তাহলেই তোমরা পবিত্র হয়ে যাবে। তোমরা কালের উপর বিজয়লাভ কর, এতে তোমরা যত প্রচেষ্টা করবে মায়াও ততই বিঘ্ন সৃষ্টি করবে কারণ মায়া জানে যে -- বাবাকে স্মরণ করলে আমাকে ছেড়ে দেবে ; কারণ যেহেতু তোমরা আমার হয়ে গেছ, তাই তোমাদের সবকিছুই ত্যাগ করতে হয়। মিত্র, সম্বন্ধী, ধন ইত্যাদি কোনো কিছুই যেন স্মরণে না আসে। একটি গল্প রয়েছে যে, লাঠিও ছেড়ে দাও (অর্থাৎ বাবাই যেন একমাত্র অবলম্বন হয়)। অন্যেরা সব জিনিস ত্যাগ করতে বলে, কিন্তু তারা কখনো একথা বলে না যে, শরীরকেও কখনও স্মরণ কোরো না। বাবা বলেন, এই শরীর তো পুরানো, তাই একেও ভুলে যাও। ভক্তিমার্গের কথাও ছেড়ে দাও। সবকিছুই সম্পূর্ণরূপে ভুলে যাও অথবা যা কিছু আছে তা কার্যে লাগিয়ে দাও, তবেই স্মরণে স্থিতিশীল থাকতে পারবে। যদি উচ্চপদ লাভ করতে হয় তবে অনেক পরিশ্রম করা উচিৎ। শরীরও যেন স্মরণে না আসে। অশরীরী এসেছিলে, অশরীরী হয়েই যেতে হবে।



বাবা বাচ্চাদের পড়ান, ওঁনার কোনো কিছুরই কোনো বাসনা নেই। তিনি তো সার্ভিস(সেবা) করেন। বাবার কাছেই তো জ্ঞান রয়েছে, তাই না। এ হল বাবা আর বাচ্চাদের একত্রিত একটি খেলা। বাচ্চারাও স্মরণ করে আবার বাবাও এখানে বসে সার্চলাইট দেয়। কেউ যদি অধিক আকর্ষণ করে তখন বাবাও বসে লাইট দেন। যদি তারা বাবাকে অধিক আকর্ষণ না করে তখন এই বাবা (ব্রহ্মা বাবা) বসে শিব পিতাকে স্মরণ করেন । কোনো সময় যদি কাউকে কারেন্ট দিতে হয় তখন ব্রহ্মা বাবার চোখে ঘুম থাকে না । এই চিন্তাই চলতে থাকে যে অমুককে কারেন্ট দিতে হবে। পড়াশোনার দ্বারা আয়ু বৃদ্ধি হয় না, কারেন্টের জন্য আয়ু বৃদ্ধি হয়। সদা নিরোগী(এভারহেল্দী) হয়ে যায়। দুনিয়ায় কারো বয়স যদি ১২৫ বা দেড়শ' (১৫০) বছর হয়, তবে সে অবশ্যই সুস্থ। ভক্তিও নিশ্চয়ই অনেক করে। ভক্তিতেও কিছু লাভ অবশ্যই রয়েছে, ক্ষতি নেই। যারা ভক্তিও করে না তাদের ম্যানার্সও ভাল হয় না। ভক্তিতে ভগবানের উপর বিশ্বাস থাকে। তাই তারা কাজ-কর্মে মিথ্যা বা পাপাচার করে না, ক্রোধ করে না। ভক্তিরও মহিমা রয়েছে। মানুষ একথা জানে না যে, ভক্তি কবে থেকে শুরু হয়েছে। জ্ঞানের কথা তো জানাই নেই। ভক্তিও শক্তিশালী হতে থাকে কিন্তু যখন আবার জ্ঞানের প্রভাব পড়ে, তখন ভক্তি একদমই ছেড়ে যায়। এ হল সুখ-দুঃখ, ভক্তি আর জ্ঞানের খেলা, যা তৈরী হয়েই রয়েছে।



মানুষ তো একথা বলে দেয় যে -- দুঃখ-সুখ সব ভগবানই দেন আবার ওঁনাকে সর্বব্যাপীও বলে দেয়। কিন্তু সুখ-দুঃখ তো আলাদা জিনিস। ড্রামাকে না জানার কারণে কিছুই বুঝতে পারে না। এতসব আত্মারা এক শরীর ছেড়ে অন্য শরীর নেয়, একথা তোমরাই জানো। এমন বলবে না যে, সত্যযুগে তোমরা দেহী-অভিমানী থাকো। এই সব তো এখন বাবা শেখান -- এইরকম দেহী-অভিমানী হও।



নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। পবিত্র হতে হবে। সত্যযুগ হলই পবিত্র সুখধাম। সুখের সময় কেউ স্মরণ করে না। ভগবানকে স্মরণ করে দুঃখে। দেখো, ড্রামা কত ওয়ান্ডারফুল (বিচিত্র)। যাকে তোমরাই নম্বরের ক্রমানুসারে জানো। এই যে সমস্ত পয়েন্টস্ লেখা হয় সেগুলো ভাষণের সময় রিভাইজ করার জন্য। ডাক্তার, উকিলরাও পয়েন্টস্ নোট করে। এখন তোমরা বাবার মত পাও, তবে তা ভাষণের সময় রিভাইজ করা উচিৎ। এঁনার মধ্যে তো বাবা প্রবেশ করেন। বাবা তোমাদের বোঝান যে, তাহলে ইনিও(ব্রহ্মা) শুনবেন। যদি তিনি তোমাদের পয়েন্টস্ না শোনান তবে আমি কিভাবে জানবো যে তোমাদের বোঝাব ? বাবা বলেন -- এ হল ব্রহ্মার অনেক জন্মের অন্তিম জন্ম। ব্রহ্মা আর বিষ্ণুর চিত্রও রয়েছে। তোমরা নম্বরের ক্রমানুসারেই তোমাদের রাজ্যে চলে যাও। যত স্মরণ করবে, ধারণা করবে ততই উচ্চপদ পাবে। বাবা বলেন -- আমি সূক্ষ্ম থেকেও অতি সূক্ষ্ম কথা শোনাই। তোমরা নতুন-নতুন পয়েন্টস্ নোট কর।পুরানো পয়েন্টস্ কাজে লাগবে না। ভাষণের পর আবার একথা স্মরণে আসবে যে, যদি এই পয়েন্টস্ বোঝাতাম তাহলে হয়তো বুদ্ধিতে ঠিক বসে যেতো। তোমরা সবাই হলে জ্ঞানের স্পীকার, কিন্তু নম্বরের ক্রমানুসারে। সর্বাপেক্ষা উত্তম হল মহারথীরা। বাবার কথা আলাদা। এই বাপদাদা দুজনেই হল কম্বাইন্ড। মাম্মা সর্বাপেক্ষা ভালো বোঝাতেন। বাচ্চারা মাম্মার সম্পূর্ণরূপের সাক্ষাৎকারও করত। যখন কোথাও প্রয়োজন হত তখন বাবাও প্রবেশ করে নিজের কাজ করে নিতেন। এ হল বড়ই বোঝার মতো বিষয়। অবসর সময়ে পড়াশোনা করা হয়। সারাদিন তো কাজ-কর্ম ইত্যাদি করা হয়। বিচার সাগর মন্থন করার জন্য অবসর চাই, শান্তি চাই। *মনে কর, কেউ ভালো সেবাধারী বাচ্চা, তাকে কারেন্ট দিতে হবে, তখন তাকে সাহায্য করতে হবে। তখন তার আত্মাকে স্মরণ করতে হবে। শরীরকে স্মরণ করে তারপর আত্মাকে স্মরণ করতে হবে। এভাবে সব যুক্তি রচনা করতে হবে। সার্ভিসেবেল(সেবাধারী) বাচ্চাদের যদি কোনো অসুবিধা হয় তবে তাদের সাহায্য কর। বাবাকে স্মরণ করতে হবে, আবার নিজেকে আত্মা মনে করে সেই আত্মাকেও কিছুটা স্মরণ করতে হবে (তাকে বাবার কারেন্ট দিতে হবে) । এ তেমনই, যেমনভাবে সার্চলাইট দেওয়া হয়। এমন নয় যে একই স্থানে বসে স্মরণ করতে হবে। চলতে-ফিরতে, ভোজন খেতে-খেতেও বাবাকে স্মরণ কর। অন্যকে যদি কারেন্ট দিতে হয় তবে রাত্রেও জাগো*। বাচ্চাদের বোঝান হয় -- সকালে উঠে যত বাবাকে স্মরণ করবে ততই আকর্ষিত হবে, তখন বাবাও সার্চলাইট দেবেন। বাবার এটাই কাজ -- বাচ্চাদের সার্চলাইট দেওয়া, *যখন অনেক সার্চলাইট দিতে হয় তখন বাবাকেও অনেক স্মরণ করতে হয়। তখন বাবাও সার্চলাইট দেন। আত্মাকে স্মরণ করে সার্চলাইট দিতে হয়*। এই বাবাও সার্চলাইট দেন, এবার একে কৃপা বল, আশীর্ব্বাদ বল, বা যা কিছু বল। সেবাধারী অসুস্থ হলে তো তার প্রতি সদয় হবে। রাত জেগেও সেই আত্মাকে স্মরণ করবে। কারণ তার শক্তির প্রয়োজন। আত্মা যখন বাবাকে স্মরণ করে তখন বাবাও তাদের স্মরণের রিটার্ন দেয়। বাচ্চাদের প্রতি বাবার ভালোবাসা অফুরন্ত। তাই তাঁর স্মরণও আত্মাদের কাছে পৌঁছায়। এছাড়া জ্ঞান তো অতি সহজ বিষয়, এতে মায়া বিঘ্ন ঘটায় না। মুখ্য হলো স্মরণ, এতেই বিঘ্ন আসে। স্মরণের দ্বারাই বুদ্ধি স্বর্ণ-পাত্রে পরিণত হয়, যা জ্ঞানকে ধারণ করতে সক্ষম হয়। কথিত আছে যে, সিংহীর দুধ স্বর্ণ-পাত্রেই রাখতে হয় (এত শক্তিশালী যে পাত্রই ফেটে যায়)। বাবার এই জ্ঞান-ধনকেও রাখার জন্য (বুদ্ধীরূপী) স্বর্ণ-পাত্রই চাই। আর তা তখনই হবে যখন স্মরণের যাত্রায় থাকবে। স্মরণ না করলে ধারণাও হবে না। এমন মনে কোরো না যে বাবা অন্তর্যামী। কিছু বলা হল আর সেটাই হয়ে গেল -- এ তো ভক্তিমার্গে এরকম হয়। সন্তান জন্মালে বলে গুরুর কৃপা। আর যদি না হয় তখন বলে ঈশ্বরের ইচ্ছা। দেখো, ওদের কথার মধ্যে কেমন রাত-দিনের পার্থক্য। বাচ্চারা, বাবা তো তোমাদের ড্রামার রহস্য ভালভাবে বুঝিয়েছেন। তোমরাও তো পূর্বে জানতে না। এ হল তোমাদের মরজীবা জন্ম★ । এখন তোমরা জানো যে, আমরা দেবতায় পরিণত হচ্ছি। তোমরা এই টপিকের উপর বোঝাতে পার, যে এই লক্ষ্মী-নারায়ণ কিভাবে রাজত্ব পেয়েছে ? আর আবার তা কিভাবে হারিয়েছে ? সমগ্র হিস্ট্রি-জিওগ্রাফী আমরা তোমাদের বোঝাব। এই ব্রহ্মাও বলেন যে, আমিও লক্ষ্মী-নারায়ণের পূজা করতাম, গীতা পড়তাম। বাবা যখন প্রবেশ করেন তখন থেকে সব পরিত্যাগ করেছেন। সাক্ষাৎকারও হয়েছে। বাবা বলেন -- আমাকে স্মরণ কর তবেই তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। এরমধ্যে গীতা ইত্যাদি পড়ার কোনো কথাই নেই। বাবা এঁনার মধ্যেই বসে রয়েছেন, সবকিছু ত্যাগ করিয়েছেন। আর কখনও শিবের মন্দিরে যান নি। ভক্তির কথা তো সম্পূর্ণ উধাও(ভুলে) হয়ে গেছে। এই নলেজে বুদ্ধি পরিপূর্ণ -- রচয়িতা আর রচনার আদি-মধ্য-অন্তের জ্ঞান। বাবাকে জানলেই তোমরা সবকিছু জেনে যাও। তোমরা ওয়ান্ডারফুল টপিক(বিষয়) লেখো, যাতে মানুষ বিষ্ময়বোধ করে, শোনার জন্য ছুটে আসে। মন্দিরে গিয়ে কাউকে জিজ্ঞাসা কর, যখন লক্ষ্মী-নারায়ণ এই বিশ্বের মালিক ছিল তখন আর কোনো ধর্ম ছিল না। একমাত্র ভারতই ছিল তাহলে তোমরা সত্যযুগকে লক্ষ-লক্ষ বছর কিভাবে বলতে পার ? *যখন একথা বলা হয় যে, ক্রাইস্টের জন্মের ৩ হাজার বছর পূর্বে এখানে স্বর্গ(প্যারাডাইস) ছিল, তাহলে লক্ষ-লক্ষ বছর হল কিভাবে ? লক্ষ-লক্ষ বছরে তো প্রচুর সংখ্যক মশা-সদৃশ অগণিত জনসংখ্যা হয়ে যাবে*। জ্ঞানের কথা এতটুকুও যদি কথা শোনা, তারাও আশ্চর্য হয়ে যাবে। কিন্তু যারা এই কুলের হবে, তাদের বুদ্ধিতেই এই জ্ঞান বসবে। আর তা নাহলে বলবে যে, ব্রহ্মাকুমারীদের জ্ঞান ওয়ান্ডারফুল, এ বোঝার জন্য বুদ্ধি চাই। মুখ্য বিষয়ই হল স্মরণ। স্ত্রী-পুরুষ পরস্পরকে স্মরণ করে। আর এই আত্মা স্মরণ করে পরমাত্মাকে। এই সময় সকলেই রুগী, নিরোগী হতে হবে। এই বিষয়টিও রাখ। *বলো -- তোমরা যে এত ঘন-ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ো তাই আমরা তোমাদের এমন সঞ্জীবনী বুটি দেব যে তোমরা আর অসুস্থ হবে না, যদি তোমরা আমাদের ওষুধ সঠিকভাবে কার্যে লাগাতে পারো তবেই। কত সস্তার ওষুধ জানো কি ? ২১ জন্ম, সত্যযুগ-ত্রেতা পর্যন্ত রোগগ্রস্থ হবে না। ওটা হল স্বর্গ*। এমন-এমন পয়েন্ট নোট করে লেখো। এখানকার সব সার্জেনদের থেকেও বড় অবিনাশী সার্জেন তোমাদের এমন ওষুধ দেবে যে তোমরা ভবিষ্যতে ২১ জন্মের জন্য কখনো অসুস্থ হবে না। এখন হল সঙ্গম। এমন কথা শুনে মানুষ খুশী হবে। ভগবানও বলেন -- আমি অবিনাশী সার্জেন। স্মরণও করে -- হে পতিত-পাবন, অবিনাশী সার্জেন এসো। এখন আমি এসেছি। তোমরা সবাইকে বোঝাতে থাকো, শেষ পর্যন্ত অন্তিম সময়ে সকলেই অবশ্য বুঝতে পারবে। বাবা যুক্তি তো বলতেই থাকেন। *আচ্ছা*!



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন, স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. বাবার কাছ থেকে সার্চলাইট নেওয়ার জন্য সকাল-সকাল উঠে বাবাকে স্মরণ করতে বসতে হবে। রাত্রিতে অন্যদেরকে কারেন্ট দিয়ে বাবার সাহায্যকারী হয়ে উঠতে হবে।

২. নিজের সবকিছু ঈশ্বরীয় সেবায় সফল করে, এই পুরানো শরীরকেও ভুলে বাবার স্মরণে থাকতে হবে। সম্পূর্ণরূপে নিজেকে অর্পণ করতে হবে। দেহী-অভিমানী হয়ে থাকার জন্য পরিশ্রম করতে হবে।

বরদান:-

'তোমার- আমার' - এর আলোড়নকে সমাপ্ত করে দয়ার ভাবনাকে উদিত( ইমার্জ) করা মার্সীফুল ভব।

মাঝে-মাঝে কত আত্মারা দুঃখের ঢেউয়ের মধ্যে পড়ে যায়। প্রকৃতিতে একটু আলোড়ন হলে, বিপর্যয় এলে তখন অনেক আত্মারা ছটফট করতে থাকে। ক্ষমা, দয়া- ভিক্ষা করে। তাই এমন আত্মাদের ডাক শুনে করুণার ভাবনা ইমার্জ কর। নিজেকে সম্পন্ন বানাও, তবেই এই দুঃখের দুনিয়া সম্পন্ন হয়ে যাবে। এখন পরিবর্তনের শুভ ভাবনার ঢেউ তীব্রগতিতে চতুর্দিকে ছড়িয়ে দাও তবেই 'তোমার-আমার' -- এই আলোড়ন সমাপ্ত হয়ে যাবে।

স্লোগান:-

ব্যর্থ সঙ্কল্পের হাতুড়ী দ্বারা সমস্যার পাথরকে ভাঙার পরিবর্তে হাই-জাম্প দিয়ে সমস্যা-রূপী পাহাড়ের অতিক্রমকারী হও*।