07-03-2020 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


*"মিষ্টি বাচ্চারা- তোমাদের নিজেদের যোগবলের দ্বারা সমগ্র সৃষ্টিকে পবিত্র করে তুলতে হবে, তোমরা যোগবলের দ্বারাই মায়ার উপর বিজয় প্রাপ্ত করে জগৎজীত হতে পারো"*

*প্রশ্নঃ -

বাবার ভূমিকা কি, সেই ভূমিকা তোমরা বাচ্চারা কিসের আধারে জানতে পেরেছ ?*

*উত্তরঃ -

বাবার ভূমিকা হলো- সকলের দুঃখ হরণ করে সুখ প্রদান করা, রাবণের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করা। বাবা যখন আসেন তো ভক্তির রাত্রি সম্পূর্ণ হয়। বাবা স্বয়ং তোমাদেরকে তাঁর নিজের আর নিজের সম্পদের পরিচয় দেন। তোমরা এক বাবাকে জানলেই সব কিছু জেনে যাবে।*

*গীতঃ-

তুমিই মাতা, পিতাও তুমিই ...*

*ওম্ শান্তি ।* বাচ্চারা ওম্ শান্তির অর্থ বুঝেছে, বাবা বুঝিয়েছেন আমরা হলাম আত্মা, এই সৃষ্টি ড্রামার ভিতরে হলো আমাদের মুখ্য পার্ট। কার পার্ট ? আত্মা শরীর ধারণ করে ভূমিকা পালন করে। বাচ্চাদের তো এখন আত্ম-অভিমানী করে তোলা হচ্ছে। এতোটা সময় দেহ-অভিমানী ছিলে। এখন নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করতে হবে। আমাদের বাবা এসেছেন ড্রামা প্ল্যান অনুসারে। বাবা আসেনও রাত্রিতে। কখন আসেন তার কোনো তিথি-তারিখ কিছু নেই। তিথি তারিখ তাদের হয় যারা লৌকিক জন্ম গ্রহণ করে। ইনি তো হলেন পারলৌকিক বাবা। এনার লৌকিক জন্ম হয় না। কৃষ্ণের তিথি, তারিখ, সময় ইত্যাদি সব দেওয়া হয়। এঁনার ক্ষেত্রে তো বলা হয় দিব্য জন্ম। বাবা এনার মধ্যে প্রবেশ করে বলে দেন যে এটা হলো অসীম জগতের ড্রামা। ওর মধ্যে অর্ধ-কল্প হলো রাত। যখন রাত অর্থাৎ ঘোর অন্ধকার হয় তখন আমি আসি। তিথি-তারিখ কিছু নেই। এই সময় ভক্তিও হলো তমোপ্রধান। অর্ধ-কল্প হলো অসীম জগতের দিন। বাবা নিজে বলেন আমি এঁনার(ব্রহ্মা বাবার) মধ্যে প্রবেশ করেছি। গীতাতে আছে ভগবানুবাচ, কিন্তু ভগবান মানুষ হতে পারেন না। কৃষ্ণও হলো দৈবী গুণ সম্পন্ন। এটা হলো মনুষ্যলোক। এটা দেবলোক না। গানও করে ব্রহ্মা দেবতায়ে নমঃ...তিনি হলেন সূক্ষ্মলোকবাসী। বাচ্চারা জানে সেখানে হাড়-চামড়া থাকে না। সে হলো সূক্ষ্ম সাদা ছায়া। মূলবতনে বা অমরলোকে আত্মার না সূক্ষ্ম শরীর ছায়া সম্পন্ন থাকে, না হাড় মাসের হয় । এই কথা যেকোনো মানুষ জানে না। বাবা এসেই শোনান, ব্রাহ্মণরাই শোনে, আর কেউ শোনে না। ব্রাহ্মণ বর্ণ হয়ই ভারতে, সেটাও তখনই হয় যখন পরমপিতা পরমাত্মা প্রজাপিতা ব্রহ্মা দ্বারা ব্রাহ্মণ ধর্মের স্থাপনা করেন। এখন এঁনাকে রচয়িতাও বলা হবে না। এমন নয় যে তিনি নূতন কিছু কেউ রচনা করেন। শুধুমাত্র রিজুবিনেট(নব রূপে স্থাপনা) করেন। ডাকেও- হে বাবা, পতিত দুনিয়াতে এসে আমাদের পবিত্র করো। এখন তোমাদের পবিত্র করে তুলছেন। তোমরা আবার যোগবলের দ্বারা এই সৃষ্টিকে পবিত্র করে তুলছো। মায়ার উপর বিজয় প্রাপ্ত করে তোমরা জগতজীত হয়ে উঠছো। যোগবলকে সাইন্স বলও বলা হয়। ঋষি-মুনি ইত্যাদি সকলে শান্তি চায় কিন্তু শান্তির অর্থ তো জানে না। এখানে তো অবশ্যই ভূমিকা পালন করতে হবে। শান্তিধাম হলো সুইটসাইলেন্স হোম। তোমাদের অর্থাৎ আত্মাদের এখন জ্ঞাত হয়েছে যে আমাদের নিজ গৃহ হলো শান্তিধাম। এখানে আমরা ভূমিকা পালন করতে আসি। বাবাকেও ডাকে- হে পতিত-পাবন, দুঃখ মোচনকারী, সুখ দাতা এসো, আমাদের এই রাবণের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করো। ভক্তি হলো রাত, জ্ঞান হলো দিন। রাত হলো মুর্দাবাদ (মৃত্যুর ডাক দেয়), আবার জ্ঞান হলো জিন্দাবাদ(জীবনের ডাক দেয়)। এই খেলা হলো সুখ আর দুঃখের। তোমরা জানো প্রথমে আমরা স্বর্গে ছিলাম আবার নামতে-নামতে এসে নীচে হেলে(নরকে) পড়েছি। কলিযুগ কবে নিঃশেষ হবে আবার সত্যযুগ কবে আসবে এটা কেউ জানে না। তোমরা বাবাকে জানো বলে বাবার দ্বারা সব কিছু জেনে গেছো। মানুষ ভগবানকে খোঁজার জন্য কতো ধাক্কা খায়। বাবাকে জানেই না। তখনই জানে যখন বাবা এসে নিজের আর ওনার সম্পত্তির পরিচয় দেন। উত্তরাধিকার বাবার থেকেই প্রাপ্ত হয়, মায়ের থেকে নয়। এঁনাকে মাম্মাও বলা হয়, কিন্তু এঁনার থেকে উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয় না, ওনাকে স্মরণও করতে হয় না। ব্রহ্মা, বিষ্ণু, শঙ্করও হলো শিবের বাচ্চা- এটাও কেউ জানে না। অসীমের সমগ্র দুনিয়ার রচয়িতা একমাত্র বাবা। এছাড়া সব হলো ওনার রচনা যিনি এই পার্থিব জগতের রচয়িতা। এখন তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। মানুষ বাবাকে না জানলে কাকে স্মরণ করবে ? এই জন্য বাবা বলেন কতো নির্ধন হয়ে পড়ে আছে। এটাও ড্রামাতে নির্ধারিত। ভক্তি আর জ্ঞান দুটোতেই সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ কর্ম হলো- দান করা। ভক্তি মার্গে ঈশ্বরের নিমিত্তে দান করে থাকে। কিসের জন্য ? কোনো কামনা তো অবশ্যই থাকে। মনে করে যেমন কর্ম করবো সেরকম ফল অন্য জন্মে প্রাপ্ত হবে, এই জন্মে যা করবো তার ফল পরের জন্মে প্রাপ্ত হবে। জন্ম-জন্মান্তর পাওয়া যায় না।এক জন্মের জন্য ফল প্রাপ্ত হয়। সব চেয়ে ভালো কর্ম হলো দান। দানীকে পূণ্য আত্মা বলা হয়। ভারতে যতো দান হয় তেমন আর কোনো দেশে হয় না। বাবাও এসে বাচ্চাদের দান করে, বাচ্চারা আবার বাবাকে দান করে। বলে বাবা আপনি এলে তো আমি নিজের তন-মন-ধন সব আপনাকে সঁপে দেবো। আপনি ছাড়া আমার আর কেউ নেই। বাবাও বলেন আমার কাছে তোমরা বাচ্চাই হলে। আমাকে বলেই হেভেনলী গড ফাদার অর্থাৎ স্বর্গের স্থাপনা করতে সক্ষম। আমি এসে তোমাদের স্বর্গের বাদশাহী প্রদান করি। বাচ্চারা আমার নিমিত্তে সব কিছু দিয়ে দেয়- বাবা সব কিছু হলো আপনার। ভক্তি মার্গেও বলা হতো- বাবা, এই সব কিছু আপনাকে দেওয়া আছে। আবার সেটা চলে গেলে দুঃখী হয়ে পড়ে। সেটা হলো ভক্তির অল্প সময়ের সুখ। বাবা বোঝান ভক্তি মার্গে তোমরা আমাকে ইনডাইরেক্ট দান-পূণ্য করো। তার ফল তো তোমাদের প্রাপ্ত হতে থাকে। এখন এই সময়ে তোমাদের কর্ম-অকর্ম বিকর্মের রহস্য বসে বোঝাই। ভক্তি মার্গে তোমরা যেমন কর্ম করো তার অল্পকালের সুখও আমার দ্বারা তোমাদের প্রাপ্ত হয়। এই ব্যাপারে দুনিয়ার কেউ জানে না। বাবা এসেই কর্মের গতি বোঝান। সত্যযুগে কেউ কোনো খারাপ কাজ করেই না। সর্বদা সুখ আর সুখ। স্মরণও করে সুখধাম, স্বর্গের। এখন বসে আছে নরকে। তবুও বলে দেয়- অমুকের স্বর্গে গমন হয়েছে। কিন্তু তমোপ্রধান হওয়ার কারণে তারা কিছু জানতে পারে না যে স্বর্গ কি, নরক কি হয় ? অসীম জগতের পিতা বলেন তোমরা সকলে কতো তমোপ্রধান হয়ে গেছো। ড্রামাকে তো জানো না। মনেও করে যে সৃষ্টির চক্র আবর্তিত হয় তো অবশ্যই হুবহু আবর্তিত হবে যে না! তারা শুধু বলার জন্যই বলে। এখন এটা হলো সঙ্গম যুগ। এই একই সঙ্গম যুগের গায়ন আছে। অর্ধ-কল্প দেবতাদের রাজ্য চলে আবার সেই রাজ্য কোথায় চলে যায়, কারা জিতে নেয়? এটাও কারোর জানা নেই। বাবা বলেন রাবণ জিতে নেয়। তারা আবার দেবতাদের আর অসুরের লড়াই বসে দেখিয়েছে। এখন বাবা বোঝান- পাঁচ বিকার রূপী রাবণের কাছে পরাজিত হয়ে আবার বিজয়ও প্রাপ্ত করে রাবণের উপর। বাবা আসেন বিজয় প্রাপ্ত করাতে। এটা হলো খেলা যে না! মায়ার উপর পরাজিত হলে পরাজয়, মায়ার উপর বিজয় প্রাপ্ত হলে জয়। বিজয় বাবা প্রাপ্ত করিয়ে দেন সেইজন্য তাঁকে সর্বশক্তিমান বলা হয়। রাবণও কম শক্তিমান নয়। কিন্তু সে দুঃখ দেয়, সেইজন্য তার মহিমার সুখ্যাতি নেই। রাবণ হলো খুবই শক্তি সম্পন্ন। তোমাদের রাজত্বই কেড়ে নেয়। এখন তোমরা বুঝে গেছো- আমরা কীভাবে পরাজিত হই আবার কীভাবে বিজয় প্রাপ্ত করি? আত্মা চায়ও আমাদের যেন শান্তি থাকে। আমরা নিজেদের গৃহে ফিরে যাবো। ভক্ত ভগবানকে স্মরণ করে, কিন্তু পাথর বুদ্ধি সম্পন্ন হওয়ার জন্য বোঝে না। ভগবান হলেন বাবা, অবশ্যই তাই বাবার থেকে উত্তরাধিকারের প্রাপ্তি হয়। প্রাপ্তও অবশ্যই হয় কিন্তু কবে প্রাপ্ত হয় আবার কবে হারিছে ফেলেছে, এ'কথা তারা জানে না। বাবা বলেন আমি এই ব্রহ্মা তন দ্বারা তোমাদের বসে বোঝাই। আমারও যে অরগ্যান্স চাই না! আমার তো নিজের কর্মেন্দ্রীয় নেই। সূক্ষ্মবতনেও কর্মেন্দ্রীয় আছে। চলতে ফিরতে যেমন মুভি বায়োস্কোপ হয়, এই মুভি, টকী এক হয়ে বায়োস্কোপ বের হলে বাবারও বোঝাতে সহজ হলো। তাদের হলো বাহুবল, তোমাদের হলো যোগবল। সেই দুই ভাই(রাশিয়া ও আমেরিকা) যদি নিজেদের মধ্যে মিলে যায় তবে বিশ্বের উপর রাজত্ব করতে পারে। কিন্তু এখন তো তারা বিচ্ছিন্ন। তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের সাইলেন্সের শুদ্ধ গর্ববোধ থাকা উচিত। তোমরা মন্মনাভবের আধারে সাইলেন্স দ্বারা জগতজীত হয়ে যাও। সেটা হলো সায়েন্স- দম্ভ। তোমরা সাইলেন্স গর্বে নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ করো। স্মরণের দ্বারা তোমরা সতোপ্রধান হয়ে যাবে। অনেক সহজ উপায় বলে দেওয়া হয়। তোমরা জানো যে শিববাবা এসেছেন আবার আমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের স্বর্গের উত্তরাধিকার প্রদান করতে। তোমাদের যা কিছু কলিযুগী কর্মবন্ধন আছে, বাবা বলেন সে সমস্ত ভুলে যাও। ৫ বিকারও আমাকে দান করে দাও। তোমরা যে আমার আমার করে এসেছো, আমার স্বামী, আমার অমুক- সে সমস্ত ভুলতে থাকো। সব দেখেও ওর থেকে মায়া- মমতা মিটিয়ে দাও। এই কথা বাচ্চাদেরই বোঝানো হয়। যারা বাবাকে জানেই না, তারা তো এই ভাষাকেও বুঝতে পারবে না। বাবা এসে মানুষ থেকে দেবতায় পরিণত করেন। দেবতারা থাকেই সত্যযুগে। কলিযুগে হয় মানুষ। এখনো পর্যন্ত তাদের চিহ্ন আছে অর্থাৎ চিত্র আছে। আমাকে বলেই পতিত-পাবন। আমি তো ডিগ্রেড হই না। তোমরা বলো আমরা পবিত্র ছিলাম আবার ডিগ্রেড হয়ে পতিত হয়েছি। এখন আপনি এসে পবিত্র করলে আমরা নিজ গৃহে যাবো। এটা হলো স্প্রীচুয়্যাল নলেজ। অবিনাশী জ্ঞান রত্ন যে না! এটা হলো নূতন নলেজ। এখন তোমাদের এই নলেজ শেখাচ্ছি। রচয়িতা আর রচনার আদি-মধ্য-অন্তের রহস্য বলে দিই। এখন এটা তো হলো পুরানো দুনিয়া। এর মধ্যে তোমাদের যে কেউ মিত্র সম্বন্ধী ইত্যাদি আছে, দেহ সহ সকলের সাথে মমতা মিটিয়ে দাও। বাচ্চারা, এখন তোমরা নিজেদের সব কিছু বাবার কাছে সঁপে দাও। বাবা আবার স্বর্গের বাদশাহী ২১ জন্মের জন্য তোমাদের হাতে তুলে দেন। লেন-দেন হয় যে না! বাবা তোমাদের ২১ জন্মের জন্য রাজ্য ভাগ্য দেন। ২১ জন্ম ২১ প্রজন্ম গাওয়া হয় যে না অর্থাৎ ২১ জন্ম সম্পূর্ণ লাইফ চলতে থাকে। মাঝখানে কখনো শরীর ছাড়তে পারে না। অকাল মৃত্যু হয় না। তোমরা অমর হয়ে অমরপুরীর মালিক হও। মৃত্যু কখনো তোমাদের গ্রাস করতে পারে না। এখন তোমরা মরণের জন্য পুরুষার্থ করছো। বাবা বলেন দেহ সহ দেহের সকল সম্বন্ধ ছেড়ে এক বাবার সাথে সম্বন্ধ রাখতে হবে। এখন যেতে হবেই সুখের সম্বন্ধে। দুঃখের বন্ধনকে ভুলতে থাকবে। গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে পবিত্র হতে হবে বাবা বলেন মামেকম্ (একমাত্র আমাকে) স্মরণ করো, সাথে-সাথে দৈবী গুণও ধারণ করো। এই দেবতাদের মতো হতে হবে। এই হলো এম অবজেক্ট। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ স্বর্গের মালিক ছিলো, এরা কীভাবে রাজ্য পেলো, আবার কোথায় গেল, এটা কারোর জানা নেই। এখন তোমাদের অর্থাৎ বাচ্চাদের দৈবী গুণ ধারণ করতে হবে। কাউকে দুঃখ দিতে নেই। বাবা হলেনই দুঃখ মোচনকারী, সুখ দাতা। তাই তোমাদেরও সকলকে সুখের রাস্তা বলে দিতে হবে অর্থাৎ অন্ধের লাঠি হতে হবে। বাবা এখন তোমাদের জ্ঞানের তৃতীয় নেত্র প্রদান করেছেন। তোমরা জানো, বাবা কীভাবে ভূমিকা পালন করেন। এখন বাবা যা তোমাদের পড়াচ্ছেন, সেই পড়াশুনা আবার প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাবে। দেবতাদের মধ্যে এই নলেজ থাকে না। তোমরা ব্রহ্মা মুখবংশাবলী ব্রাহ্মণরাই রচয়িতা আর রচনার জ্ঞানকে জানো। আর কেউ জানতে পারে না। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ ইত্যাদির মধ্যেও যদি এই জ্ঞান থাকতো তো পরম্পরায় চলে আসতো। ওখানে জ্ঞানের প্রয়োজনই হয় না কারণ সেখানে হলোই সদ্গতি। এখন তোমরা সব কিছু বাবাকে প্রদান করো, তাই আবার বাবা তোমাদের ২১ জন্মের জন্য সব কিছু দিয়ে দেন।এরকম দান কখনো হয় না। তোমরা জানো যে আমরা সর্বস্ব দিয়ে দিই- বাবা এই সব কিছু হলো আপনার, আপনিই আমাদের সব কিছু। ত্বমেব মাতাশ্চ পিতা...ভূমিকা তো পালন করে যে না! বাচ্চাদের এডাপ্টও করেন আবার নিজেই পড়ান। আবার স্বয়ং গুরু হয়ে সবাইকে নিয়ে যান। বলেন যে তোমরা আমাকে স্মরণ করলে পবিত্র হয়ে যাবে, আবার তোমাদের সাথে নিয়ে যাবো। এই যজ্ঞ রচনা করা হয়েছে। এটা হলো শিব জ্ঞান যজ্ঞ, এর মধ্যে তোমরা তন-মন-ধন সব স্বাহা করে দাও। খুশীতে সব অর্পণ করা হয়ে যায়। বাকি আত্মা থেকে যায়। বাবা, ব্যাস এখন আমরা আপনার শ্রীমতেই চলবো। বাবা বলেন যে গৃহস্থ ব্যবহারে থেকে পবিত্র হয়ে উঠতে হবে। ৬০ বছরের আয়ু যখন হয় তখন বাণপ্রস্থে যাওয়ার প্রস্তুতি করতে থাকে কিন্তু সেখানে কেউ ফিরে(পরমধামে) যাওয়ার জন্য কি আর প্রস্তুতি নেয়! এখন তোমরা সদ্গুরুর মন্ত্র নাও মন্মনাভব। ভগবানুবাচ- তোমরা আমাকে স্মরণ করলে তোমাদের বিকর্ম বিনাশ হবে। সকলকে বলো তোমাদের সকলের(বাবার বাচ্চাদের) হলো বাণপ্রস্থ অবস্থা। শিববাবাকে স্মরণ করো, এখন নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

*ধারণার জন্যে মুখ্য সারঃ-*

*১ )* কলিযুগী সমস্ত কর্মবন্ধনকে বুদ্ধি থেকে ভুলে ৫ বিকারের দান করে আত্মাকে সতোপ্রধান করে তুলতে হবে। একই সাইলেন্সের গর্ববোধ নিয়ে থাকতে হবে।

*২ )* এই রুদ্র যজ্ঞে খুশীর থেকে নিজের তন-মন-ধন সব অর্পণ করে সফল করে তুলতে হবে। এই সময় সব কিছু বাবাকে গচ্ছিত করে ২১ জন্মের বাদশাহী বাবার থেকে নিয়ে নিতে হবে।

*বরদানঃ-*

নিমিত্ত ভাবের স্মৃতি দ্বারা অস্থিরতাকে সমাপ্ত করে সদা অচল অটল ভব*

নিমিত্ত ভাবের দ্বারা অনেক ধরনের আমিত্ব ভাব, আমার-আমার ভাব সহজেই শেষ হয়ে যায়। এই স্মৃতি সমস্ত ধরনের চঞ্চলতার থেকে মুক্ত করে অচল-অটল স্থিতির অনুভব করায়। সেবাতেও পরিশ্রম করতে হয় না। কারণ নিমিত্ত যে হয় তার বুদ্ধিতে সর্বদা এটা স্মরণে থাকে যে- যা আমি করবো, আমাকে দেখে সবাই তাই করবে। সেবাতে নিমিত্ত হওয়া অর্থাৎ স্টেজের উপর আসা। স্টেজের দিকে স্বাভাবিকভাবেই সকলের দৃষ্টি যায়। তাই এই সচেতনতাও তোমার সেফ্টির(নিরাপত্তার) মাধ্যম হয়ে যায়।

*স্লোগানঃ-*

সব রকম ব্যাপার থেকেই পৃথক হয়ে থাকলে পরমাত্ম বাবার সহায়তার অনুভব হবে*