07.07.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - পুরুষার্থ করে তোমাদের দৈবী গুণ খুব ভালোভাবে ধারণ করতে হবে। কাউকেই দুঃখ দেবে না, তোমাদের আচার - আচরণ কখনোই আসুরী হওয়া উচিত নয়"

প্রশ্নঃ -
কোন্ আসুরী গুণ তোমাদের শৃঙ্গারকে খারাপ করে দেয় ?
 

উত্তরঃ -
নিজেদের মধ্যে লড়াই ঝগড়া করা, রেগে যাওয়া, সেন্টারে গন্ডগোল করা, কাউকে দুঃখ দেওয়া - এ হলো আসুরী গুণ, যা তোমাদের শৃঙ্গারকে খারাপ করে দেয় । যে বাচ্চারা বাবার হয়েও এই আসুরী গুণকে ত্যাগ করে না, বিপরীত কর্ম করে, তাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যায় । এ হলো হিসাব আর হিসাব । বাবার সঙ্গে ধর্মরাজও আছে ।
 

গীতঃ-
ভোলানাথের চেয়ে অনুপম কেউ নেই.....

ওম্ শান্তি ।
আত্মিক সন্তানরা একথা তো জেনেছেই যে, উঁচুর থেকেও উঁচু হলেন ভগবান । মানুষ গায়ন করে আর তোমরা দেখো দিব্যদৃষ্টিতে । তোমরা বুদ্ধির দ্বারাও জানতে পারো যে, আমাদের তিনি পড়াচ্ছেন । আত্মাই শরীরের দ্বারা পড়ে । সবকিছুই আত্মা এই শরীরের দ্বারা করে । শরীর হলো বিনাশী, যা ধারণ করে আত্মা এই অভিনয় করে । আত্মার মধ্যেই সমস্ত পার্ট লিপিবদ্ধ আছে । আত্মার মধ্যেই এই ৮৪ জন্মের পার্ট লিপিবদ্ধ আছে । প্রথম - প্রথম তো নিজেকে আত্মা মনে করতে হবে । বাবা হলেন সর্বশক্তিমান । বাচ্চারা, তোমরা তাঁর থেকেই শক্তি পাও । যোগ থেকেই তোমরা বেশী শক্তি পাও, যাতে তোমরা পবিত্র হও । বাবা তোমাদের এই বিশ্বের রাজত্ব করার জন্য শক্তি প্রদান করেন । বাবা এতো মহান শক্তি দান করেন তোমাদের, আর ওই সায়েন্সের অহংকারীরা এতো সবকিছু বানায় বিনাশের জন্য । ওদের বুদ্ধি হলো বিনাশের জন্য আর তোমাদের বুদ্ধি হলো অবিনাশী পদ পাওয়ার জন্য । তোমরা অনেক শক্তি পাও, যাতে তোমরা এই বিশ্বের রাজত্ব অর্জন করো । ওখানে প্রজার উপর প্রজার রাজত্ব হয় না । ওখানে হলো রাজা - রানীর রাজত্ব । উঁচুর থেকেও উঁচু হলেন ভগবান । তোমরা তাঁকেই স্মরণ করো । মানুষ কেবল লক্ষ্মী - নারায়ণের মন্দির বানিয়ে পূজা করে । তবুও উঁচুর থেকেও উঁচু ভগবানের গায়ন আছে । এখন তোমরা বুঝতে পারো যে, এই লক্ষ্মী - নারায়ণ বিশ্বের মালিক ছিলেন । অসীম জগতের বাবার থেকে উঁচুর থেকেও উঁচু বিশ্বের বাদশাহী পাওয়া যায় । তোমরা কতো উঁচু পদ পাও । বাচ্চাদের তাই কতো খুশী হওয়া উচিত । যার থেকে কিছু পাওয়া যায়, তাঁকে তো স্মরণ করা হয়, তাই না । কন্যার তার পতির প্রতি কতো প্রেম থাকে, কতো মেয়ে পতির জন্য প্রাণ দিয়ে দেয় । পতি মারা গেলে কতো দুঃখের সঙ্গে কাঁদতে থাকে । আর ইনি হলেন পতিরও পতি, ইনি তোমাদের কতো সাজাচ্ছেন ---এই উঁচুর থেকেও উঁচু পদ প্রাপ্ত করাবার জন্য । তাই বাচ্চারা, তোমাদের কতো নেশা থাকা উচিত । দৈবীগুণও তোমাদের এখানেই ধারণ করতে হবে । অনেকের মধ্যেই এখনো পর্যন্ত আসুরী অপগুণ আছে, লড়াই - ঝগড়া করা, রেগে যাওয়া, সেন্টারে গন্ডগোল করা ---বাবা জানেন, বাবার কাছে অনেক রিপোর্টও আসে । কাম মহাশত্রু, ক্রোধও কিন্তু কম শত্রু নয় । অমুককে বেশী ভালোবাসে, আমাকে কেন ভালোবাসে না ! অমুক কথা একে জিজ্ঞেস করলো, আমাকে কেন জিজ্ঞেস করলো না ! এমন - এমন কথা বলা সংশয় বুদ্ধির অনেকেই আছে । রাজধানী তো স্থাপন হচ্ছে, তাই না । এমন যারা, তারা কি পদ পাবে ? এই পদে তো অনেক তফাৎ থাকে । মেথরদেরও দেখো কতো ভালো ভালো বাড়ীতে থাকে সেখানে, কেউ আবার অন্য কোথাও থাকে । প্রত্যেকেরই নিজেকে খুব ভালো পুরুষার্থ করে দৈবীগুণ ভালোভাবে ধারণ করতে হবে । দেহ অভিমানে আসার কারণে আসুরী আচরণ হয়ে যায় । যখন দেহী অভিমানী হয়ে খুব ভালোভাবে ধারণ করতে থাকো, তখন উঁচু পদ পাও । দৈবী গুণ ধারণ করার জন্য এমন পুরুষার্থ করতে হবে । কাউকেই দুঃখ দেবে না । বাবা, তোমরা দুঃখ হর্তা এবং সুখকর্তা বাবার সন্তান । তোমাদের কাউকেই দুঃখ দেওয়া উচিত নয় । যে সেন্টার সামলায়, তার উপর অনেক দায়িত্ব । বাবা যেমন বলেন -- বাচ্চারা, যদি কেউ ভুল করে তাহলে শতগুণ দণ্ড ভোগ করতে হয় । দেহ অভিমান আসার কারণে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়, কেননা তোমরা ব্রাহ্মণরা ওদের শুধরে দেওয়ার জন্য নিমিত্ত হয়েছো । নিজেরাই যদি শুধরিয়ে যেতে না পারো, তাহলে তাহলে অন্যদের কিভাবে শুধরাবে ? তখন অনেক ক্ষতি হয়ে যায় । এ তো পাণ্ডব গভর্নমেন্ট, তাই না । উঁচুর থেকে উঁচু বাবাও যেমন আছেন, তাঁর সঙ্গে ধর্মরাজও আছেন । ধর্মরাজের কাছে অনেক বড় সাজা ভোগ করে । এমন কিছু কর্ম করে যে নিজের অনেক ক্ষতি করে ফেলে । হিসেব তো হিসেবই, বাবার কাছে সম্পূর্ণ হিসেব থাকে । ভক্তিমার্গেও হিসেব হিসেবই । এমন বলেও থাকে যে - ভগবান তোমার হিসেব নেবে । এখানে বাবা নিজেই বলেন যে, ধর্মরাজ অনেক বড় হিসেব নেবে । তখন সেই সময় কি করতে পারবে ! সাক্ষাৎকার হবে যে - আমরা এই এই করেছিলাম । ওখানে তো অল্প সাজা ভোগ করো আর এখানে তো অনেক সাজা ভোগ করতে হবে । বাচ্চারা, তোমাদের সত্যযুগে গর্ভজেলে আসতে হবে না । ওখানে তো গর্ভ মহল । ওখানে কেউ পাপ ইত্যাদি করে না । তাই এমন রাজ্য - ভাগ্য পাওয়ার জন্য বাচ্চাদের অনেক সাবধান থাকতে হবে । কোনো কোনো বাচ্চা ব্রহ্মাণীর (টিচার ) থেকেও তীক্ষ্ণ হয়ে যায় । তাদের ভাগ্য ব্রহ্মাণীর ( টিচার ) থেকেও উঁচু হয়ে যায় । বাবা এও বুঝিয়েছেন যে - ভালো সেবা না করলে তাহলে তো জন্ম - জন্মান্তর দাস - দাসী হবে ।

বাবা সম্মুখে এসেই বাচ্চাদের জিজ্ঞাসা করেন ---বাচ্চারা, দেহী - অভিমানী হয়ে বসেছো তো ? বাবার বাচ্চাদের প্রতি মহাবাক্য হলো - আত্ম - অভিমানী হওয়ার জন্য অনেক পুরুষার্থ করতে হবে । ঘুরতে - ফিরতেও তোমাদের বিচার সাগর মন্থন করতে হবে । অনেক বাচ্চারা আছে, যারা মনে করে যে, আমরা খুব তাড়াতাড়ি নরকের এই ছি - ছি দুনিয়া থেকে সুখধামে যাবো । বাবা বলেন যে, খুব ভালো ভালো মহারথীরাও যোগে ফেল করে যায় । তাদেরও আবার পুরুষার্থ করানো হয় । যোগ না হলে একদম নেমে যাবে । জ্ঞান তো খুবই সহজ । এই হিস্ট্রি - জিওগ্রাফি সম্পূর্ণভাবে বুদ্ধিতে এসে যায় । খুব ভালো ভালো বাচ্চা আছে যারা প্রদর্শনীতে খুব তীক্ষ্ণভাবে বোঝাতে পারে, কিন্তু তাদের যোগ নেই, ফলে দৈবী গুণও নেই । মাঝে মাঝে মনে হয়, বাচ্চাদের কি অবস্থা । দুনিয়াতে কতো দুঃখ । শীঘ্রই এই দুঃখ যেন সমাপ্ত হয়ে যায় । বাবা (ব্রহ্মা )অপেক্ষায় বসে থাকে যে শীঘ্রই সুখধামে যাবে । বাচ্চারা ছটফট করতে থাকে, যেমন বাবার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য তারা ছটফট করে, কেননা বাবা আমাদের স্বর্গের পথ বলে দেন । এমন বাবাকে দেখার জন্য ছটফট করে । তারা মনে করে এমন বাবার সামনে গিয়ে রোজ মুরলী শুনি । এখন তো তোমরা বুঝতে পারো যে, এখানে কোনো ঝঞ্ঝাটের কথা থাকে না । বাইরে থাকলেই সমস্ত সম্বন্ধ - সম্পর্কের বন্ধন মুক্ত হয়ে কর্তব্য পালন করতে হয় । না হলে তো সম্পর্ক খারাপ হয়ে যাবে, তাই বাবা ধৈর্য ধরতে বলেন । এতে অনেক গুপ্ত পরিশ্রম । কেউ কেউ এই স্মরণের পরিশ্রম করতে পারে না । গুপ্ত স্মরণে থাকলে বাবার নির্দেশ মতোই চলবে । দেহ অভিমান থাকলে বাবার এই নির্দেশে চলেই না । আমি বলি যে চার্ট বানাও, তাহলে অনেক উন্নতি হবে । একথা কে বলেছেন ? শিববাবা বলেছেন । টিচার যদি কোনো কাজ দেয়, তাহলে তো করে আসে, তাই না । এখানে ভালো ভালো বাচ্চাদেরও মায়া করতে দেয় না । এই ভালো ভালো বাচ্চাদের চার্ট যদি বাবার কাছে আসে, তাহলে বাবা বলতে পারেন যে - দেখো, কিভাবে তোমরা স্মরণে থাকো । তারা মনে করে আমরা আত্মারা এক প্রিয়তমের (মাশুক) আশিক প্রিয়তমা (আশিক)। ওই দেহের প্রিয়তম - প্রিয়তম (আশিক - মাশুক) তো অনেক প্রকারের হয় । তোমরা অনেক পুরানো আশিক । তোমাদের এখন দেহী - অভিমানী হতে হবে । তোমাদের কিছু না কিছু সহ্য করতেই হবে । তোমরা অতি চালাকি করো না । বাবা এমন বলেনই না যে, তোমরা তোমাদের অস্থি পর্যন্ত বিসর্জন দাও । বাবা তো এমন কথাই বলেন যে, তোমরা সুস্থ থাকো, তাহলে সেবাও ভালোভাবে করতে পারবে । অসুস্থ হলে তো পড়ে থাকবে । কেউ কেউ হাসপাতালেও সেবা করে, তখন ডাক্তাররা বলে যে, এরা তো ফরিস্তা । চিত্র সাথে করে নিয়ে যায় । যারা এমন সার্ভিস করবে, তাদের দয়ালু বলা হবে । সেবার কারণে অনেকেই বেড়িয়ে পড়ে । তোমরা যতো স্মরণের শক্তিতে থাকবে, ততই অন্য মানুষদের আকর্ষণ করতে পারবে, এতে তো শক্তি আছে । পবিত্রতা হলো প্রথম শক্তি । এমন বলাও হয় যে, প্রথমে হলো পবিত্রতা, তারপর শান্তি এবং সম্পদ । এই স্মরণের বলেই তোমরা পবিত্র হও । এরপর হলো জ্ঞান বল । তোমরা স্মরণে দুর্বল হয়ো না । এই স্মরনেই বিঘ্ন আসে । এই স্মরণে থাকলেই তোমরা পবিত্র হতে পারবে এবং তোমাদের মধ্যে দৈবী গুণ এসে যাবে । বাবার মহিমা তো তোমরা জানো, তাই না । বাবা তোমাদের কতো সুখ দেন । ২১ জন্মের জন্য তোমাদের সুখের যোগ্য করে তোলেন । তোমাদের কখনোই কাউকে দুঃখ দেওয়া উচিত নয় ।

কোনো কোনো বাচ্চা ডিসসার্ভিস করে নিজেরাই নিজেদের অভিশপ্ত করে দেয়, অন্যদেরও খুব বিরক্ত করে । কুপুত্র বাচ্চা হলে নিজেরাই নিজেদের অভিশপ্ত করে দেয় । ডিসসার্ভিস করলে একদম পড়ে যায় । অনেক বাচ্চা আছে, যারা বিকারে পড়ে যায় অথবা ক্রোধে এসে পড়া ছেড়ে দেয় । এখানে অনেক প্রকারের বাচ্চা বসে আছে । এখান থেকে তারা রিফ্রেশ হয়ে যায়, তারপর ভুলের জন্য অনুতাপ করে । তবুও এই অনুতাপে তো কোনো মাফ হতে পারে না । বাবা বলেন, তোমরা নিজেরাই নিজেকে ক্ষমা করো । তোমরা স্মরণে থাকো । বাবা কাউকেই ক্ষমা করেন না । এ তো হলো পড়া । বাবা পড়ান, বাচ্চাদের নিজেদের উপর কৃপা করে সেই পড়া পড়তে হয় । ব্যবহারও খুব সুন্দর রাখতে হয় । বাবা ব্রহ্মাণীদের বলে যে, রেজিস্টার নিয়ে এসো । এক একজনের খবর নিয়ে তাদের বুঝিয়ে বলা হয় । তাই তারা তখন মনে করে যে, ব্রহ্মাণী তো রিপোর্ট দিয়েই দিয়েছে, তাই আরো ডিসসার্ভিস করতে লেগে যায় । এ অনেক পরিশ্রমের । মায়া অনেক বড় শত্রু । বাঁদর থেকে মন্দির হতে দেয় না । তখন উঁচু পদ পাওয়ার পরিবর্তে সম্পূর্ণ নীচে নেমে যায় । তখন আর উঠতে পারে না, ফলে মৃত হয়ে যায় । বাবা বাচ্চাদের বারবার বুঝিয়ে বলেন, এ অনেক উঁচু লক্ষ্য, তোমাদের এই বিশ্বের মালিক হতে হবে । বড় মানুষদের বাচ্চারা অনেক বড় রাজকীয়তার সঙ্গে চলাফেরা করে । কোথাও যেন বাবার সম্মান না নষ্ট হয় । লোকে তখন বলবে - তোমাদের বাবা কতো ভালো আর তোমরা কেমন কুপুত্র । তোমরা তোমাদের বাবার সম্মান নষ্ট করছো । এখানে তো প্রত্যেকেই তার সম্মান নষ্ট করে । ফলে অনেক সাজা ভোগ করতে হয় । বাবা সাবধান করেন, তোমরা খুব সাবধানে চলো । জেলের কয়েদি হয়ো না । জেলের কয়েদি তো এখানেই হয়, সত্যযুগে তো আর কোনো জেল থাকে না । তবুও তোমাদের এই ঈশ্বরীয় পড়া পড়ে উঁচু পদ প্রাপ্ত করা চাই । তোমরা কোনো গাফিলতি করো না । কাউকেই দুঃখ দিও না । স্মরণের যাত্রায় থাকো । এই স্মরণই তোমাদের কাজে আসবে । প্রদর্শনীতেও তোমরা এই মুখ্য কথাই বলো । বাবার স্মরণেই তোমরা পবিত্র হতে পারবে । সবাই তো পবিত্র হতে চায় । এ হলোই পতিত দুনিয়া । সকলের সদগতি করতে তো এক বাবাই আসেন । ক্রাইস্ট, বুদ্ধ ইত্যাদি তো কারোরই সদগতি করতে পারে না । এরপর ব্রহ্মার নামও নেওয়া হয় । ব্রহ্মাকেও সদগতিদাতা বলা যাবে না । তিনি হলেন দেবী - দেবতা ধর্মের নিমিত্ত । যদিও দেবী - দেবতা ধর্মের স্থাপন তো শিববাবাই করেন, তবুও নাম তো আছে না, যে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং শঙ্কর । ত্রিমূর্তি ব্রহ্মা বলে দেয় । বাবা বলেন যে, ইনিও গুরু নন । গুরু তো একজনই, তাঁর দ্বারা তোমরা আত্মিক গুরু হও । বাকি ওরা হলো ধর্ম স্থাপক । ধর্ম স্থাপকদের কিভাবে সদগতিদাতা বলা যাবে, এ বোঝার জন্য খুব গভীর কথা । অন্য ধর্ম স্থাপকরা তো কেবল ধর্ম স্থাপন করেন, যাদের পিছনে সবাই এসে যায়, তারা কখনো কাউকেই ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে না । তাদের তো পুনর্জন্মে আসতেই হবে, সবার জন্যই এ কথা বোঝানো হয়েছে । একজন গুরুও নেই সদগতি দান করার জন্য । বাবা বোঝান যে, গুরু পতিত পাবন একজনই, তিনিই সকলের সদগতি দাতা, উদ্ধারকর্তা, এ কথা বলা উচিত যে, আমাদের গুরু একজনই, যিনি আমাদের সদগতি দান করেন, শান্তিধাম আর সুখধামে নিয়ে যান । সত্যযুগে অনেক অল্প লোক থাকে । সেখানে কার রাজ্য ছিলো, সে তো চিত্রতে দেখাবে, তাই না । ভারতবাসীরাই এ কথা মানবে, দেবতাদের পূজারী চট করে মানবে যে, বরাবর এঁরাই তো স্বর্গের মালিক ছিলেন । স্বর্গে এনাদের রাজত্ব ছিলো । বাকি সব আত্মারা কোথায় ছিলো ? তোমরা অবশ্যই বলবে যে, নিরাকারী দুনিয়াতেই ছিলো । এও তোমরা এখনই বুঝতে পারো । পূর্বে কিছুই জানতে না । তোমাদের বুদ্ধিতে এখন এই চক্র ঘুরতে থাকে । বরাবর পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ভারতে এনাদের রাজ্য ছিলো, জ্ঞানের প্রলব্ধ যখন সম্পূর্ণ হয় তখন ভক্তি মার্গ শুরু হয়, তারপর পুরানো দুনিয়ার জন্য বৈরাগ্য চাই । ব্যস, এখন আমরা নতুন দুনিয়াতে যাবো । পুরানো দুনিয়ার থেকে আমাদের মন উঠে যায় । ওখানে পতি , বাচ্চা সব এমনই পাওয়া যাবে । অসীম জগতের পিতা তো আমাদের এই বিশ্বের মালিক বানান । যে বাচ্চারা এই বিশ্বের মালিক হবে, তাদের চিন্তাভাবনা অনেক উঁচু আর চাল চলন রাজকীয় হবে । তাদের ভোজনও খুব কম, লোভ থাকা উচিত নয় । যারা স্মরণে থাকে, তাদের ভোজনও খুব সূক্ষ্ম হবে । অনেকেরই খাওয়ার দিকে বুদ্ধি চলে যায় । বাচ্চারা, তোমরা এই বিশ্বের মালিক হওয়ার নেশায় খুশীতে থাকো । এমন বলা হয় যে, খুশীর মতো খাবার নেই । এমন খুশীতে যদি সদা থাকো তাহলে খাওয়াদাওয়ার ইচ্ছাও কম হয়ে যাবে । অনেক খাবার খেলে ভারী হয়ে যায় তখন ঝিমুনি আসতে থাকে । তখন বলে যে, বাবা ঘুম এসে যায় । ভোজন সর্বদা একরস হওয়া চাই, এমন নয় যে ভালো খাবার হলে অনেক বেশী খেতে হবে । আচ্ছা ।

মিষ্টি - মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা - পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মারূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) আমরা দুঃখহর্তা সুখকর্তা বাবার সন্তান, আমাদের কাউকেই দুঃখ দেওয়া উচিত নয় । ডিসসার্ভিস করে নিজেকে কখনোই অভিশপ্ত করা উচিত নয় ।

২ ) নিজের চিন্তাভাবনা অনেক উচ্চ এবং রাজকীয় রাখতে হবে । দয়ালু হয়ে এই সেবাতে তৎপর থাকতে হবে । খাওয়াদাওয়ার লোভ ত্যাগ করতে হবে ।

বরদান:-
ড্রামার জ্ঞানে অচল স্থিতি বানিয়ে প্রকৃতি বা মায়াজিৎ ভব

প্রকৃতি আর মায়ার দ্বারা যে পেপারই আসুক না কেন, কিন্তু সামান্যতম দোলাচল যেন না আসে । এটা কি বা এটা কেন --- এই প্রশ্ন যদি আসে, সামান্য কোনো সমস্যাও যদি আঘাত করার মতো হয়, তাহলে ফেল করে যাবে, তাই যা কিছুই হোক না কেন, অন্তর থেকে এই আওয়াজ যেন বের হয় যে --- -বাঃ মিষ্টি ড্রামা বাঃ ! হায় কি হলো -- এমন সঙ্কল্পও যেন না আসে । এমন স্থিতি যেন হয় যে, কোনো সঙ্কল্পেও যেন দোলাচল না থাকে । সদা অচল, অটল স্থিতি যেন থাকে, তখনই প্রকৃতিজিৎ এবং মায়াজিৎ বরদান প্রাপ্ত হবে ।

স্লোগান:-
খুশীর খবর শুনিয়ে খুশী দান করা -- এটাই হলো সবথেকে শ্রেষ্ঠ কর্তব্য ।