07.09.2020 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


প্রশ্নঃ -
অনেক বাচ্চারা চলতে-চলতে নিজের ভাগ্যকে নিজেই শ্যুট করে দেয়, কিভাবে ?

উত্তরঃ -
যদি বাবার হয়েও (সমর্পিত) সার্ভিস না করে, নিজের এবং অপরের উপর কৃপা না করে, তবে সে নিজের ভাগ্যকেই শ্যুট করে অর্থাৎ শেষ করে দেয় । সঠিকরীতিতে পড়ো, স্মরণে থাকো তবে পদও ভাল পাবে। সার্ভিসেবেল বাচ্চাদের সার্ভিসের অত্যন্ত শখ থাকা উচিত।

গীতঃ-
কে এসেছে আজ সকাল-সকাল..

ওম্ শান্তি ।
আত্মিক বাচ্চারা জানে যে, আমরা হলাম আত্মা, শরীর নই। আর এ'জ্ঞান এখনই পাওয়া যায় -- পরমপিতা পরমাত্মার নিকট থেকে। বাবা বলেন, আমি যখন এসেছি তখন তোমরা নিজেদের আত্মা নিশ্চয় করো। আত্মাই শরীরে প্রবেশ করে। এক শরীর পরিত্যাগ করে অন্য শরীর ধারণ করতে থাকে। আত্মার পরিবর্তন হয় না, শরীরের পরিবর্তন হয়। আত্মা অবিনাশী, তাই নিজেকে আত্মা মনে করতে হবে। এ'জ্ঞান কেউ কখনো দিতে পারে না। বাচ্চাদের আহ্বানে বাবা এসেছেন। এও কারোর জানা নেই যে, এ হলো পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ। বাবা এসে বোঝান যে, আমি আসিই কল্পের পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগে যখন সমগ্র বিশ্বই পুরুষোত্তম হয়। এ'সময় সমগ্র বিশ্বই নীচ(অস্পৃশ্য), অপবিত্র। সে'টিকে বলা হয় অমরপুরী, এ হলো মৃত্যুলোক। মৃত্যুলোকে আসুরীয়-গুণসম্পন্ন মানুষ থাকে, অমরলোকে দৈবী-গুণসম্পন্ন মানুষ থাকে তাই তাদের দেবতা বলা হয়। এখানেও যারা সু-স্বভাবের, তাদের বলা হয় -- এরা তো যেন দেবতা। কেউ দৈবী-গুণসম্পন্ন হয়, এ'সময় সকলেই হলো আসুরীয়-গুণসম্পন্ন। ৫ বিকারে আবদ্ধ হয়ে রয়েছে তবেই তো গায়, এসে এই দুঃখ থেকে মুক্তি প্রদান করো। কোনো একজন সীতাকে তো মুক্ত করেনি। বাবা বোঝান, ভক্তকে সীতা বলা হয়, আর রাম বলা হয় ভগবানকে। যিনি ভক্তদের ফলপ্রদান করতে আসেন। এই অসীম জগতের রাবণ-রাজ্যে সমগ্র দুনিয়া বন্দী হয়ে রয়েছে। তাদের মুক্ত করে রাম-রাজ্যে নিয়ে যান। রঘুপতি রাঘব রাজা রামের কথা নয়। তিনি তো ত্রেতার রাজা ছিলেন। এখন সকল আত্মারাই তমোপ্রধান জরাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। অবতরণ করতে-করতে সিড়ির সম্পূর্ণ নিচে চলে এসেছে। পূজ্য থেকে পুজারী হয়ে গেছে। দেবতারা কারোর পূজা করে না। তারা হলেন পূজ্য। পুনরায় যখন তারা বৈশ্য, শূদ্র হয়ে যায় তখন পূজো শুরু হয়। বাম-মার্গে চলে আসায় পুজারী হয়ে যায়, পুজারীরা দেবতাদের চিত্রের সম্মুখে নমন করে। এ'সময় একজনও পূজ্য হতে পারে না। সর্বোচ্চ পূজ্য হলেন ঈশ্বর, তারপর পূজ্য হলেন সত্যযুগীয় দেবতারা। এ'সময় তো সকলেই পুজারী, সর্বপ্রথম পূজা শিবের হয়, তা হলো অব্যভিচারী পূজা। তারা সতোপ্রধান পুনরায় সতঃ, পুনরায় দেবতাদের থেকে নেমে জলের, মানুষের, পাখী ইত্যাদির পুজো করতে থাকে। দিনে-দিনে অনেকের পূজাই হতে থাকে। আজকাল ধর্মীয় কনফারেন্সও অনেক হতে থাকে। কখনো আদি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের, কখনো জৈনদের, কখনো আর্য-সমাজের মতাবলম্বীদের। অনেককেই ডাকা হয় কারণ প্রত্যেকেই নিজের ধর্মকে উচ্চ মনে করে, তাই না! প্রত্যেক ধর্মে কোন না কোন বিশেষ গুণ হওয়ার কারণে তারা নিজেদের বড় মনে করে। জৈনদের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের হয়। ৫-৭ ধরনের হবে। তাদের মধ্যে কেউ-কেউ নগ্নও থাকে, নগ্ন হওয়ার অর্থ বোঝে না। ভগবানুবাচ --- নগ্ন অর্থাৎ অশরীরী এসেছিলে, পুনরায় অশরীরী হয়েই যেতে হবে। ওরা আবার বস্ত্র পরিত্যাগ করে নগ্ন হয়ে যায়। ঈশ্বরের কথার অর্থ বোঝে না। বাবা বলেন, তোমরা অর্থাৎ আত্মারা এখানে এ'শরীর ধারণ করে নিজ ভূমিকা পালন করতে এসেছো, পুনরায় ফিরে যেতে হবে। বাচ্চারা, এ'সকল কথা তোমরাই জানো। আত্মাই (নিজ) ভূমিকা পালন করতে আসে, বৃক্ষ(ঝাড়) বৃদ্ধি পেতে থাকে। নতুন-নতুন প্রকারের ধর্ম ইমার্জ হতে থাকে, তাই একে ভ্যারাইটি ড্রামা বা নাটক বলা হয়ে থাকে। এ হলো ভ্যারাইটি ধর্মের বৃক্ষ। দেখো, ইসলাম ধর্মকে। তাদেরও অনেক শাখা-প্রশাখা বেরোয়। মহম্মদ তো পরে এসেছে, প্রথমে ইসলাম ধর্মাবলম্বী। মুসলমানদের সংখ্যা অগণিত। আফ্রিকায় কত ধনবান রয়েছে, সোনা-হীরার খনি রয়েছে। যেখানেই অনেক ধন-সম্পদ দেখে তার উপর আক্রমণ করে ধনবান হয়ে যায়। খ্রিস্টানরাও কত ধনবান হয়ে গেছে। ভারতেও ধন-সম্পদ রয়েছে, কিন্তু গুপ্ত। সোনা ইত্যাদি কত ধরা পড়ে। এখন দিগম্বর সভাসদেরা কনফারেন্স ইত্যাদি করতে থাকে, কারণ প্রত্যেকেই নিজেকে বড় মনে করে, তাই না! এতসব ধর্ম বৃদ্ধি পেতেই থাকে, বিনাশও তো কখনো হতেই হবে, কিছুই বোঝে না। সর্ব ধর্মের মধ্যে উচ্চ হলো তোমাদের ব্রাহ্মণ ধর্মই, যা কেউই জানে না।কলিযুগীয় ব্রাহ্মণও অনেক রয়েছে, তারা হলো (মাতৃ) গর্ভজাত। প্রজাপিতা ব্রহ্মার মুখ-বংশজাত, তারা তো সকলে ভাই-বোন হওয়া উচিত। যদি তারা নিজেদেরকে ব্রহ্মার সন্তান বলে, তবে তো ভাই-বোনই হলো তাহলে বিবাহও করতে পারে না। প্রমাণিত হয় যে, ওই ব্রাহ্মণেরা ব্রহ্মার মুখ-বংশজাত নয়, শুধু নাম রেখে দেয়। বাস্তবে দেবতাদের থেকেও উচ্চ ব্রাহ্মণদের বলা হয়, কেশ-শিখা(টিকি) রয়েছে, তাই না! এই ব্রাহ্মণেরাই মানুষকে দেবতায় পরিনত করে। শিজ্ঞাদাতা হলেন পরমপিতা পরমাত্মা, স্বয়ং জ্ঞানের সাগর। একথা কারোর জানা নেই। বাবার কাছে এসে ব্রাহ্মণ হয়ে পুনরায় কাল শূদ্র হয়ে যায়। পুরানো সংস্কার পরিবর্তন করতে অত্যন্ত পরিশ্রম হয়। নিজেকে আত্মা নিশ্চয় করে বাবার থেকে উত্তরাধিকার নিতে হবে। আত্মিক পিতার থেকে আত্মিক সন্তানেরাই উত্তরাধিকার নেবে। বাবাকে স্মরণের সময়েই মায়া বিঘ্ন ঘটায়। বাবা বলেন, হাতের দ্বারা কর্ম করতে-করতেও মন(হৃদয়) যেন বাবার স্মরণে থাকে। এ অত্যন্ত সহজ। যেমন প্রেমিক-প্রেমিকা পরস্পরকে না দেখে থাকতে পারে না। বাবাও তো প্রিয়তমই (মাশুক)। সব বাচ্চারা হলো প্রিয়তমা, যারা বাবাকে স্মরণ করে। একমাত্র বাবা-ই আছেন, যিনি কখনো কারোর প্রতি আসক্ত হন না, কারণ ওঁনার থেকে উচ্চ কেউ নয়। হ্যাঁ, বাচ্চাদের মহিমা করা হয়, এছাড়া তোমরা সকলেই ভক্তিমার্গ থেকে আমার অর্থাৎ প্রিয়তমের প্রিয়তমা। আবাহনও করো যে এসে আমাদের দুঃখ থেকে মুক্ত করে পবিত্র করো। তোমরা সকলে হলে বধূ(ব্রাইডস্), আমি হলাম বর (ব্রাইডগ্রুম)। তোমরা সকলে আসুরীয় জেলে বন্দী হয়ে রয়েছো, আমি এসে মুক্ত করি। এখানে পরিশ্রম অনেক, কুদৃষ্টি(ক্রিমিনাল আই) ধোঁকা দেয়, সুদৃষ্টিসম্পন্ন(সিভিল আই) হওয়ার জন্য পরিশ্রম করতে হয়। দেবতাদের চরিত্র কত ভাল, এখন এরকম দেবতাদের রচনাকারের তো অবশ্যই প্রয়োজন, তাই না!

কনফারেন্সে টপিক রাখা হয়েছে -- "মানবজীবনে ধর্মেও আবশ্যকতা।" ড্রামাকে না জানার কারণে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তোমরা ব্যতীত আর কেউ বোঝাতে পারবে না। খ্রিস্টান, বৌদ্ধাদিরা একথা জানে কি যে খ্রিস্টান, বৌদ্ধাদিরা পুনরায় কবে আসবে ! না তা জানে না। তোমরা তৎক্ষনাৎ হিসেব-নিকেশ বলে দিতে পারো। তাই বোঝানো উচিত যে, ধর্মের আবশ্যকতা তো রয়েছে, তাই না! সর্বপ্রথমে কোন্ ধর্ম ছিল ? পরে কোন্ ধর্ম এসেছে। নিজেদের ধর্মের লোকেরাও সম্পূর্ণ বোঝে না। যোগ করে না। যোগ ব্যতীত শক্তি প্রাপ্ত হয় না, তীক্ষ্ণতা আসে না। বাবাকেই অলমাইটি অথরিটি বলা হয়। তোমরাও সর্বশক্তিমান হয়ে যাও, বিশ্বের মালিক হয়ে যাও। তোমাদের রাজ্যকে কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে না। সে'সময়ে আর কোনো খন্ড থাকে না। এখন তো অনেক খন্ড(দেশ)। এই সৃষ্টি-চক্র কিভাবে আবর্তিত হয়। এই চক্র ৫ হাজার বছরের, এছাড়া সৃষ্টি কত দীর্ঘ। তা কি পরিমাপ করা যাবে ? ভুমির পরিমাপ করতে পারা যায়। সাগরের তো করতে পারবে না। আকাশ এবং সাগরের অন্ত কেউ পাবে না। তাই বোঝাতে হবে -- কেন ধর্মের আবশ্যকতা রয়েছে। সমগ্র চক্র তৈরীই হয়েছে ধর্মের উপর। এ হলো ভ্যারাইটি ধর্মের বৃক্ষ(ঝাড়), এই বৃক্ষ হলো অন্ধের সম্মুখে আয়না ধরা।

তোমরা এখন সার্ভিসের জন্য বাইরে বেরিয়েছো, ধীরে-ধীরে তোমাদের বৃদ্ধি হতে থাকে। ঝড় হলে অনেক পাতা পড়ে যায়, তাই না! অন্যান্য ধর্মে ঝড় ওঠার কোনো কথা থাকে না। ওঁনাকে তো উপর থেকে আসতেই হবে, এখানে তোমাদের স্থাপনকার্য অতি বিস্ময়কর। যারা ভক্তরা সর্বপ্রথমে আসে, বাবাকে এসে তাদেরকেই ফল দিতে হবে, নিজ-গৃহে নিয়ে যেতে হবে। আবাহনও করা হয় যে, আমাদের আত্মাদের নিজ-গৃহে নিয়ে যাও। একথা কারোরই জানা নেই যে বাবা স্বর্গের রাজ্য-ভাগ্য প্রদান করেন। সন্ন্যাসীরা সুখকে মান্যতা দেয়না। তারা মোক্ষ চায়। মোক্ষকে উত্তরাধিকার বলা যায় না। স্বয়ং শিববাবাকেও ভূমিকা পালন করতে হয় তাহলে কাউকে মোক্ষে অর্থাৎ চিরমুক্তিতে কিভাবে রাখতে পারেন। তোমরা ব্রহ্মাকুমার-কুমারীরা নিজেদের ধর্মকে আর অন্য সকলের ধর্মকে জানো। তোমাদের সমবেদনা জ্ঞাপন করা উচিত। চক্রের রহস্যকে বোঝান উচিত। বলো, তোমাদের ধর্মস্থাপক পুনরায় নিজ সময়ানুসারে আসবে। যারা বোঝাবে তাদের হুশিয়ার(তীক্ষ্ণ) হওয়া উচিত। তোমরা বোঝাতে পারো যে, প্রত্যেককে সতোপ্রধান থেকে সতঃ, রজঃ, তমোঃ-তে আসতেই হবে। এখন হলো রাবণ-রাজ্য। তোমাদের গীতা হলো সত্য, যা বাবা শোনান। ঈশ্বর নিরাকারকেই বলা হয়। আত্মা নিরাকার গডফাদারকে আবাহন করে। ওখানে তোমরা আত্মারা থাকো। তোমাদের পরমাত্মা বলা যাবে কি, না যাবে না। পরমাত্মা তো একজনই, তিনি সর্বোচ্চ ভগবান, আর সকলেই হলো আত্মা, (বাবার) বাচ্চা। সকলের সদ্গতিদাতা একজনই, তারপর আসে দেবতারা। তাদের মধ্যেও প্রথম স্থানাধিকারী হলেন কৃষ্ণ কারণ আত্মা এবং শরীর দুই-ই পবিত্র। তোমরা হলে সঙ্গমযুগীয়। তোমাদের জীবন অমূল্য। দেবতাদের নয়, ব্রাহ্মণদের জীবন অমূল্য। বাবা তোমাদের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে তোমাদের জন্য কত পরিশ্রম করেন। দেবতারা কি এত পরিশ্রম করবে, না তা করবে না। তারা পঠন-পাঠনের জন্য স্কুলে পাঠিয়ে দেবে। এখানে বাবা বসে তোমাদের পড়ান। পিতা, শিক্ষক, গুরু -- এই তিনই হলেন তিনি। তাহলে কত সম্মান করা উচিত। সার্ভিসেবেল বাচ্চাদের সার্ভিসের শখ থাকা উচিত। অতি অল্পসংখ্যকই রয়েছে যারা ভাল, হুশিয়ার সদা সেবায় তৎপর। হ্যান্ডস্(নিমিত্ত) তো চাই, তাই না! লড়াই-এর ময়দানে যাওয়ার জন্য যাদের শেখানো হয় তাদের চাকরী ইত্যাদি সবকিছু ছাড়িয়ে দেওয়া হয়। তাদের কাছে লিস্ট থাকে। তাই মিলিটারিকে কেউ রিফিউজ করতে পারে না যে আমরা ময়দানে অর্থাৎ যুদ্ধস্থলে যাব না। ড্রিল শেখানো হয়, প্রয়োজন পড়লে ডেকে নেওয়া হবে। যারা রিফিউজ করে তাদের উপর মকদ্দমা চলে। এখানে সেইরকম কোন কথা নেই। এখানে যে ভালমতন সার্ভিস করে না, সে পদভ্রষ্ট হয়ে যায়। সার্ভিস না করার অর্থ নিজেই নিজেকে শ্যুট করে দেয়। পদভ্রষ্ট হয়ে যায়। নিজের ভাগ্যকেই শ্যুট করে দেয়। ভালভাবে পড়ো, স্মরণে থাকো তাহলে ভাল অর্থাৎ উচ্চপদ লাভ করা যাবে। নিজের উপর কৃপা করতে হবে। (কৃপা) নিজের উপরেও করো আবার অন্যের উপরেও করো। বাবা সবরকমভাবেই বোঝান। এ'দুনিয়ার নাটক কিভাবে চলে, রাজধানীও স্থাপিত হয়। এ'সকল কথা দুনিয়া জানে না। এখন নিমন্ত্রণ পাও। ৫-১০ মিনিটে কি আর বোঝাবে ? এক-দু'ঘন্টা দিলে তবেই বোঝাত পারবে। ড্রামাকে তো একদমই জানে না। ভাল-ভাল পয়েন্টস্ যেখান-সেখানে লিখে রাখা উচিত। কিন্তু বাচ্চারা ভুলে যায়। বাবা ক্রিয়েটারও (সৃষ্টিকর্তাও), বাচ্চারা তোমাদেরকে সৃষ্টি (ক্রিয়েট) করেন। নিজের করে নিয়েছেন, ডাইরেক্টার হয়ে ডায়রেক্শন দেন। শ্রীমত দেন আবার অভিনয়ও করেন। জ্ঞান শোনান। এও তো ওঁনার সর্বোচ্চ ভূমিকা বা দায়িত্ব, তাই না। ড্রামার ক্রিয়েটার, ডাইরেক্টার এবং প্রধান অ্যাক্টরকে না জানলে তখন তাকে কি বলা হবে ? আচ্ছা।

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা-রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) এই অমূল্য জীবনে শিক্ষা প্রদানকারী শিক্ষকের অত্যন্ত সন্মান রাখা উচিত। পড়ায় ভাল, হুশিয়ার হয়ে সেবাররত হতে হবে। নিজের উপর নিজেকেই কৃপা করতে হবে।

২ ) নিজেকে সং‌শোধনের জন্য মার্জিত (সংস্কারী) হতে হবে। নিজের চরিত্র সংশোধন করতে হবে। মানুষকে দেবতায় পরিণত করার সেবা করতে হবে।

বরদান:-
সঙ্কল্প এবং বাণীর বিস্তারকে সারে আনয়নকারী অন্তর্মুখী ভব

ব্যাখা :- ব্যর্থ সঙ্কল্পের বিস্তারকে একত্রিত করে সার-রূপে স্থির হওয়া তথা মুখের ব্যর্থ বাণীকে গুছিয়ে নিয়ে সমর্থ করা অর্থাৎ সারাংশে নিয়ে আসা --- এটাই হলো অন্তর্মুখতা। এমন অন্তর্মুখী বাচ্চাই সাইলেন্সের শক্তি দ্বারা দিগ্বিদিক বিচরণকারী আত্মাদের সঠিক দিশা (ঠিকানা) দেখাতে পারে। এই সাইলেন্সের শক্তি অনেক রঙ্গীন জাদু দেখায়। সাইলেন্সের শক্তি দ্বারা প্রত্যেক আত্মার মনের আওয়াজ(কথা) এত নিকটে শোনা যায় যেন কেউ সম্মুখে কথা বলছে।

স্লোগান:-
স্বভাব, সংস্কার, সম্বন্ধ, সম্পর্কে হাল্কা থাকা অর্থাৎ ফরিস্তা হয়ে যাওয়া।