07.11.2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- বাবা এসেছেন তোমাদের আত্মিক কারিগরি শেখাতে, যে কারিগরি দ্বারা তোমরা সূর্য চন্দ্রকে পার করে শান্তিধামে যাও"

প্রশ্নঃ -
সায়েন্সের অহংকার এবং সাইলেন্সের অহংকার - এই দুইয়ের মধ্যে কি তফাৎ আছে ?

উত্তরঃ -
সায়েন্স অহংকারী হয়ে চাঁদ তারায় যাওয়ার জন্য কত অর্থ ব্যয় করে। দেহের জন্য বিপদের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রা করে। তাদের ভয় থাকে যাতে রকেট ফেল না হয়ে যায়। তোমরা বাচ্চারা সাইলেন্সের অহংকার নিয়ে একটি টাকাও খরচ না করে সূর্য চন্দ্রকে পার করে মূলবতনে পৌঁছে যাও। তোমাদের কোনও ভয় থাকে না, কারণ তোমরা শরীর এখানেই ছেড়ে চলে যাও ।

ওম্ শান্তি ।
আত্মিক পিতা বসে আত্মারূপী বাচ্চাদের বোঝাচ্ছেন। বাচ্চারা শোনে যে, সায়েন্টিস্টদের দল চাঁদে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা তো শুধুমাত্র চাঁদ পর্যন্ত যাওয়ার চেষ্টা করছে, কত টাকা খরচ করছে। খুব ভয় থাকে উপরে যাত্রা করার। এখন তোমরা নিজেদের নিয়ে বিচার করো, তোমরা কোথাকার বাসিন্দা ? তারা তো চন্দ্রমার দিকে যাচ্ছে। তোমরা তো সূর্য-চন্দ্র পার করে চলে যাও একেবারে মূলবতনে। তারা তো উপরে গেলে অনেক টাকা পায়। উপরে ভ্রমণ করে এলে লক্ষ লক্ষ উপহার পায়। শরীরের জন্য বিপদের ঝুঁকি নিয়ে যায়। তারা হল সায়েন্স নিয়ে অহংকারী। তোমাদের কাছে আছে সাইলেন্সের অহংকার। তোমরা জানো আমরা আত্মা নিজের শান্তিধাম ব্রহ্মাণ্ডে যাই। আত্মা-ই সবকিছু করে। তাদের আত্মাও শরীর সহ উপরে যাত্রা করে। খুবই ভয়ংকর। ভয়ও পায়, উপর থেকে নীচে পড়লে জীবন শেষ হয়ে যাবে। সেসবই হল দৈহিক জগতের কারিগরি। বাবা তোমাদের আত্মিক কারিগরি শেখান। এই কারিগরি শিখলে তোমাদের বিশাল পুরস্কার প্রাপ্ত হয়। ২১ জন্মের পুরস্কার, নম্বর অনুযায়ী পুরুষার্থ অনুসারে। আজকাল গভর্নমেন্ট লটারিও বের করে, তাইনা। এই বাবা তোমাদের পুরস্কার দেন। আর কি শেখান ? তোমাদের একেবারে উপরে নিয়ে যান, যেখানে তোমাদের আসল ঠিকানা আছে। এখন তোমাদের মনে পড়েছে তাইনা যে, আমাদের ঠিকানা কোথায় এবং যে রাজধানী হারিয়েছে, সেটাই বা কোথায় । রাবণ কেড়ে নিয়েছে। এখন আমরা আবার নিজের প্রকৃত আসল ঠিকানায় পৌঁছে যাই এবং রাজত্বও প্রাপ্ত করি। মুক্তিধাম আমাদের ঠিকানা - সে কথা তো কেউ জানে না। এখন বাচ্চারা তোমাদের শেখানোর জন্য দেখো বাবা কোথা থেকে আসেন, কত দূর থেকে আসেন। আত্মাও হল রকেট। তারা দেখার চেষ্টা করে উপরে গিয়ে যে চাঁদে কি আছে, তারায় কি আছে ? তোমরা বাচ্চারা জানো সেসব হল মহাকাশের আলো। যেমন কোনও স্থান বিশেষে বিদ্যুতের আলো ব্যবহার করা হয়। মিউজিয়ামেও তোমরা আলোক সজ্জার ব্যবস্থা করো, তাইনা। আর এ হল অসীম জগতের। এখানে এই সূর্য, চাঁদ, তারা হল আলো প্রদানকারী। মানুষ ভাবে সূর্য-চন্দ্রমা হল দেবতা। কিন্তু তারা দেবতা নয়। এখন তোমরা বুঝেছ বাবা কীভাবে এসে আমাদের মানুষ থেকে দেবতায় পরিণত করেন। এরা হল জ্ঞান সূর্য, জ্ঞান চন্দ্রমা, জ্ঞান লাকি তারা। জ্ঞানের দ্বারা-ই বাচ্চারা তোমাদের সদগতি হচ্ছে। তোমরা কত দূর পর্যন্ত যাও। বাবা -ই ঘরে ফেরার পথ বলে দিয়েছেন। বাবা ব্যতীত কেউ নিজের ঘরে ফিরে যেতে পারে না। বাবা যখন এসে শিক্ষা প্রদান করেন , তখন তোমরা জানো। এই কথাও বুঝতে পারো আমরা আত্মারা পবিত্র হব তবেই নিজের ঘর পরমধাম যেতে পারব। এবার যোগবলের দ্বারা হোক বা দন্ড ভোগের বল দ্বারা ই হোক পবিত্র হতে হবে। বাবা তো বোঝাতে থাকেন যত বেশি বাবাকে স্মরণ করবে ততই তোমরা পবিত্র হবে। স্মরণ না করলে পতিত থেকে যাবে তারপর অনেক সাজা ভোগ করতে হবে এবং পদ ভ্রষ্ট হয়ে যাবে অর্থাৎ পদ মর্যাদাও কম হয়ে যাবে। বাবা নিজে বসে তোমাদের বোঝান। তোমরা এই ভাবে ঘরে ফিরতে পারবে। ব্রহ্মান্ড কি, সূক্ষ্ম বতন কি , কিছুই জানেনা। স্টুডেন্ট প্রথমে কি জানে নাকি, যখন পড়া শুরু করে তখন নলেজ প্রাপ্ত করে। নলেজও হয় কোনোটা ছোট, কোনোটা বড়। আই. সী. এস এর পরীক্ষা দিলে তো বলা হবে নলেজফুল। এর চেয়ে বড় নলেজ কিছু হয় না। এখন তোমরাও কত উঁচু মানের নলেজ শিখছ। বাবা তোমাদের পবিত্র হওয়ার যুক্তি বলে দিচ্ছেন যে বাচ্চারা মামেকম্ স্মরণ করো তাহলে তোমরা পতিত থেকে পবিত্র হবে। আসলে তোমরা আত্মারা পবিত্র ছিলে। উপরে নিজের ঘরে অর্থাৎ পরমধামের বাসিন্দা ছিলে, যখন তোমরা সত্যযুগে জীবনমুক্তিতে থাকো তখন অন্যরা সবাই মুক্তিধামে থাকে। মুক্তি এবং জীবনমুক্তি দুটিকে আমরা শিবালয় বলতে পারি। মুক্তিতে শিববাবাও থাকেন, আমরা আত্মা রূপী বাচ্চারাও থাকি। এই হল রূহানী হাইয়েস্ট নলেজ অর্থাৎ আধ্যাত্মিক উচ্চতম জ্ঞান। তারা বলে আমরা চাঁদের উপরে গিয়ে থাকব। কত মাথা ঘামায়। বীর বাহাদুরি দেখায়। এতখানি মাল্টি মিলিয়ন মাইল বা কোটি কোটি মাইল দূরে উপরে যাত্রা করে, কিন্তু তাদের আশা পূর্ণ হয় না আর তোমাদের আশা পূর্ণ হয়। তাদের হল মিথ্যা দৈহিক অহংকার। তোমাদের হল আত্মিক অহংকার। তারা মায়ার বাহাদুরি দেখায় কতরকমের। মানুষ কত হাততালি দেয়, অভিনন্দন জানায়। প্রাপ্তিও হয় অনেক। ৫-১০ কোটি প্রাপ্ত করে। বাচ্চারা তোমাদের এই জ্ঞান আছে যে তারা যে ধন প্রাপ্ত করে, সেসব শেষ হয়ে যাবে। ভেবে নাও আর বাকি কিছু দিন আছে । আজ কি আছে, কাল কি হবে ! আজ তোমরা হলে নরক বাসী, কাল স্বর্গ বাসী হয়ে যাবে। সময় বেশি লাগে না, সুতরাং তাদের হল দৈহিক শক্তি এবং তোমাদের হল আত্মিক শক্তি। যে কথা শুধু তোমরাই জানো। তারা দৈহিক শক্তি দিয়ে কত দূর যাবে। চাঁদ, তারা পর্যন্ত যাবে আর যুদ্ধ শুরু হয়ে যাবে। তারপর সব শেষ হবে। তাদের কারিগরি এই পর্যন্তই শেষ হয়ে যাবে। সে সব হল দৈহিক জগতের উচ্চতম কারিগরি, তোমাদের হল আত্মিক জগতের উচ্চতম কারিগরি। তোমরা শান্তিধাম যাও। তার নাম-ই হল সুইট হোম। তারা কত উপরে যায় আর তোমরা নিজেদের হিসেব করো - তোমরা কত মাইল উপরে যাও ? তোমরা কে ? আত্মা। বাবা বলেন আমি কত কত মাইল উপরে থাকি। গুনতে পারবে ? তাদের কাছে তো গণনা আছে, তারা বলে এত মাইল উপরে গিয়ে ফিরে এসেছি। খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, এমন ভাবে নামব এমন করব, অনেক শোরগোল হয়। তোমাদের কি আওয়াজ হবে ? তোমরা কোথায় যাও তারপরে কীভাবে আসো, কেউ জানেনা। তোমরা কি প্রাইজ পাও, সে কথাও তোমরাই জানো। সবই ওয়ান্ডারফুল। সব বাবার কামাল, কেউ জানেনা। তোমরা তো বলবে এতে নতুন কথা কি আছে। প্রতি ৫ হাজার বছর পরে তারা নিজের প্র্যাক্টিস করতে থাকবে। তোমরা এই সৃষ্টি রূপী ড্রামার আদি, মধ্য, অন্তের সময়াবধি ইত্যাদি ভালো ভাবেই জানো। সুতরাং তোমাদের মনে নেশা থাকা উচিত - বাবা আমাদের কি শেখান। খুব উঁচু মানের পুরুষার্থ করি আমরা এবং করতে থাকবো । এই সব কথা অন্য কেউ জানেনা। বাবা হলেন গুপ্ত। তোমাদের রোজ কত কথা বোঝান। তোমাদের কত নলেজ দেন। তাদের যাত্রা হল সীমিত। তোমরা যাও অসীমে। তারা চাঁদ পর্যন্ত যায়, এবারে সেসব তো হল বিশাল আলো, আর কিছু তো নয়। তাদের ধরাতল দেখতে খুব ছোট লাগে। সুতরাং তাদের জাগতিক জ্ঞান এবং তোমাদের জ্ঞানে অনেক তফাৎ আছে। তোমাদের আত্মা কতখানি সূক্ষ্ম। কিন্তু রকেট খুবই তীব্র। আত্মারা উপরে থাকে তারপরে আসে পার্ট প্লে করতে। তিনিও হলেন সুপ্রিম আত্মা। কিন্তু তাঁর পুজো হবে কীভাবে। ভক্তিও অবশ্যই হতে হবে।

বাবা বুঝিয়েছেন অর্ধকল্প হল জ্ঞান, অর্থাৎ দিন, অর্ধকল্প হল ভক্তি অর্থাৎ রাত। এখন সঙ্গম যুগে তোমরা জ্ঞান প্রাপ্ত করো। সত্যযুগে তো জ্ঞান থাকে না তাই পুরুষোত্তম সঙ্গমযুগ বলা হয়। সবাইকে পুরুষোত্তম বানানো হয়। তোমাদের আত্মা কত দূরে দূরে যাত্রা করে, তোমাদের খুব আনন্দ হয়, তাই না ! তারা কারিগরি দেখায় তো অনেক ধন লাভ হয়। যদিও তোমরা জানো, যতই ধন প্রাপ্ত হোক সঙ্গে কিছুই যাবে না। এই মরে কি সেই মরে। সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। এখন তোমরা কত মূল্যবান রত্ন প্রাপ্ত করো, সেসবের মূল্য গণনা করা যায় না। এক একটি বাক্য লক্ষ লক্ষ টাকার । কত সময় থেকে তোমরা শুনতেই থাকো। গীতায় কত মূল্যবান নলেজ আছে। এ হল প্রকৃত গীতা, যাকে মোস্ট ভ্যালুয়েবল বলা হয়। সর্বশাস্ত্রের শিরোমণি হল শ্রীমৎ ভগবৎ গীতা। তারা যদিও পড়ে, কিন্তু অর্থ কিছু বোঝে না। কেবল গীতা পড়লে কি হবে ! এখন বাবা বলেন আমাকে স্মরণ করো, তবেই তোমরা পবিত্র হবে। যদিও তারা গীতা পড়ে কিন্তু একজনেরও বাবার সঙ্গে যোগ নেই। বাবাকেই সর্বব্যাপী বলে দেয়। পবিত্রও হতে পারবে না। এবার এই লক্ষ্মী-নারায়ণের চিত্র তোমাদের সামনে আছে। তাঁদের দেবতা বলা হয়, কারণ দৈবীগুণ আছে। তোমরা হলে আত্মা, তোমাদের পবিত্র হয়ে সবাইকে নিজের প্রকৃত গৃহ পরমধামে ফিরতে হবে। নতুন দুনিয়ায় তো এত মানুষ থাকে না। বাকি সব আত্মাদের ফিরতে হবে নিজের ঘর পরমধামে। বাবা তোমাদের ওয়ান্ডারফুল নলেজ দেন, যার দ্বারা তোমরা মানুষ থেকে দেবতা স্বরূপে উচ্চ স্বরূপ ধারী হও। সুতরাং এমন পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ ততটাই চাই। বাবা এই কথা বোঝান, যে যেমন কল্প পূর্বে মনোনিবেশ করেছিল, সেরকমই করবে। বোঝা যায় সবই। বাবা সার্ভিস করার খবর শুনে খুশী হন। বাবাকে কখনও চিঠি না লিখলে বোঝেন তার বুদ্ধিযোগ কোথাও পাথরে নুড়িতে আটকে আছে। দেহ-অভিমান এসেছে, বাবাকে ভুলে গেছে। তা নাহলে ভেবে দেখো, লাভ ম্যারেজ করলে নিজেদের মধ্যে কতখানি ভালোবাসা থাকে। হ্যাঁ, যদিও কারো মন পরিবর্তন হয়ে গেলে স্ত্রীকে খুনও করে। এ হল তোমাদের তাঁর সঙ্গে লাভ ম্যারেজ। বাবা এসে তোমাদের নিজের পরিচয় দেন। তোমরা নিজেরা আপনা থেকেই পরিচয় প্রাপ্ত করো না। বাবাকে আসতে হয়। বাবা আসবেন তখন যখন দুনিয়া পুরানো হবে। পুরানো দুনিয়াকে নতুন করতে অবশ্যই সঙ্গমেই আসবেন। বাবার ডিউটি হল নতুন দুনিয়া স্থাপন করা। বাবা তোমাদের স্বর্গের মালিক বানিয়ে দেন, অতএব এমন বাবার সঙ্গে কতখানি ভালোবাসা থাকা উচিত ! তাহলে তোমরা কেন বলো যে, বাবা আমরা ভুলে যাই। বাবা হলেন কত উচ্চ থেকেও উচ্চ । তাঁর চেয়ে উচ্চ আর কেউ নেই। মানুষ মুক্তির জন্য কত মাথা ঘামায়, উপায় বের করে। কত মিথ্যা, ঠগবাজি চলছে। মহর্ষি ইত্যাদির কত নাম ডাক । গভর্নমেন্ট ১০ - ২০ একর জমি দান করে। এমন নয় যে গভর্নমেন্ট অধার্মিক। সেখানে কোনও মন্ত্রী ধার্মিক হয়, কেউ অধার্মিক, কেউ ধর্মকে বিশ্বাস করে না। বলা হয় রিলিজন ইজ মাইট অর্থাৎ ধর্ম-ই হল শক্তি। খ্রিস্টান ধর্মে শক্তি ছিল, তাইনা। সম্পূর্ণ ভারতকে গ্রাস করে গেছে। এখন ভারতে কোনও শক্তি নেই। কত ঝগড়া মারামারি লেগে আছে। সেই ভারত কি ছিল। বাবা কীভাবে, কোথায় আসেন, কেউ তা জানে না। তোমরা জানো বাবা আসেন অত্যন্ত অধঃপতিত অপবিত্র দেশে, যেখানে রয়েছে নক্র (বড় বড় কুমীর), কুমীর থাকে। মানুষ এমন যে সব কিছু খায়। সবচেয়ে বেশি বৈষ্ণব ভারতে ছিল। এ হল বৈষ্ণব রাজ্য, তাইনা। কোথায় এমন পবিত্র দেবতারা, আর কোথায় আজকাল দেখো কি-কি ভক্ষণ করে। মানুষখেকো হয়ে যায়। ভারতের কি অবস্থা হয়েছে। এখন তোমাদের সম্পূর্ণ রহস্য বোঝানো হচ্ছে। উপর থেকে নীচে পর্যন্ত পূর্ণ জ্ঞান প্রদান করা হচ্ছে। সর্ব প্রথম তোমরাই এই পৃথিবীতে থাকো, তারপরে মানুষ সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। এখন অল্প সময়ের মধ্যে হাহাকার হবে, তারপরে হায় হায় করতে থাকবে। স্বর্গে দেখো কত সুখ আছে। এই মুখ্য উদ্দেশ্যটি চিহ্ন রূপে দেখো। বাচ্চারা, এইসব তোমাদের ধারণও করতে হবে। কত বিশাল এই পড়াশোনা। বাবা কত ক্লিয়ার করে বোঝান। মালার রহস্যও বোঝান। উপরে ফুল আছে, রয়েছেন শিববাবা, তারপরে মেরু ....। এ হল প্রবৃত্তি মার্গ । নিবৃত্তি মার্গের মানুষদের মালা জপ করার হুকুম নেই। এ হল-ই দেবতাদের মালা, তাঁরা রাজ্য কীভাবে প্রাপ্ত করেন, তোমাদের মধ্যেও নম্বর অনুযায়ী আছে। কেউ কেউ এমনও আছো, যারা নির্ভীক ভাবে বোঝাতে পারো - এসো তো আমরা তোমাদের এমন কথা বলি যা অন্য কেউ বলতে পারে না। এক শিববাবা ব্যতীত সে কথা আর কেউ জানে না। তাদের এই রাজযোগ কে শিখিয়েছে। খুব নরম করে বসিয়ে বোঝানো উচিত। এই ৮৪ জন্ম কিভাবে হয়, দেবতা, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র .... । বাবা কত সহজ জ্ঞান বলে দেন এবং তার সাথে পবিত্রও হতে হবে, তবেই উঁচু পদ প্রাপ্ত হবে। সম্পূর্ণ বিশ্বে শান্তি স্থাপনকারী হলে তোমরা। বাবা তোমাদের রাজ্য ভাগ্য প্রদান করেন। তিনি হলেন দাতা, তাইনা। তিনি কিছু নেন না। তোমাদের পড়াশোনার এই হল পুরস্কার। এমন পুরস্কার অন্য কেউ দিতে পারে না। অতএব এমন বাবাকে ভালোবেসে কেন স্মরণ করো না । লৌকিক পিতাকে তো সারা জীবন স্মরণ করো। পারলৌকিক পিতাকে কেন স্মরণ করো না। বাবা বলেছেন, এ হল যুদ্ধের ময়দান, সময় লাগে পবিত্র হতে। এতটাই সময় লাগে যতক্ষণ লড়াই পূর্ণ হয়। এমন নয় যারা প্রথমে এসেছে তারা সম্পূর্ণ পবিত্র হবে। বাবা বলেন, মায়ার লড়াই খুব জোরে চলে। ভালো ভালোদেরও মায়া পরাজিত করে। এতই শক্তিশালী মায়া। যাদের পতন হয় তারা আর মুরলী কোথায় শোনে। সেন্টারে তো আসেই না তো তারা জানবে কীভাবে। মায়া একদম ওয়ার্থ নট এ পেনি করে দেয় অর্থাৎ কোনো কাজের নয় এমন করে দেয়। যখন মুরলী পড়বে তখন তো সজাগ হবে। নোংরা কাজ করে। কোনো সেন্সিবল বাচ্চা তাদের এই ভাবে বোঝাতে পারো - তুমি মায়ার কাছে পরাজিত হলে কীভাবে। বাবা তোমাদের কি কথা শোনান, তোমরা তবুও কোথায় যাচ্ছ, একবার ভেবে দেখো। মায়া এদের নষ্ট করছে দেখে তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করা উচিত। মায়া যাতে সম্পূর্ণ নষ্ট না করতে পারে, যাতে পুনরায় সজাগ হতে পারে। তা নাহলে উঁচু পদ প্রাপ্ত হবে না। সদ্গুরুর নিন্দা করাবে। আচ্ছা !

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন স্নেহ আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) বাবার কাছে সাইলেন্সের কারিগরি শিখে এই দৈহিক জগৎ থেকে অসীম জগতে যেতে হবে। যেন নেশা থাকে বাবা আমাদের কত ওয়ান্ডারফুল জ্ঞান দিয়ে, বিশাল পুরস্কার প্রদান করেন।

২ ) নির্ভীক চিত্তে খুব মনোরম ভাবে সেবা করতে হবে। মায়ার যুদ্ধে বলশালী হয়ে বিজয়ী হতে হবে। মুরলী শুনে সজাগ থাকতে হবে এবং সবাইকে সজাগ করতে হবে।

বরদান:-
স্বরাজ্যের সংস্কার দ্বারা ভবিষ্যতের রাজ্য অধিকার প্রাপ্তকারী সৌভাগ্যবান আত্মা ভব

ব্যাখা: অনেক কালের রাজ্য অধিকারী হওয়ার সংস্কার অনেক কালের ভবিষ্যতের রাজ্য অধিকারী বানাবে। যদি বার-বার বশীভূত হও, অধিকারী হওয়ার সংস্কার নেই, তবে রাজ্য অধিকারীর রাজ্যে থাকবে কিন্তু রাজ্য - ভাগ্য প্রাপ্ত হবে না। অতএব জ্ঞানের দর্পণে নিজের ভাগ্যের চেহারা দেখো। অনেক কালের অভ্যাস দ্বারা নিজের বিশেষ সহযোগী কর্মচারী বা রাজ্য কারবারে নিযুক্ত সাথীদের নিজের অধিকারে পরিচালনা করো । রাজা হও, তবেই বলা হবে সৌভাগ্যবান আত্মা।

স্লোগান:-
সকাশ প্রদান করার সেবা করার জন্য অসীম জগতের বৈরাগ্য বৃত্তি ইমার্জ (জাগ্রত) করো ।