07.12.2019 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা -- পবিত্র হওয়ার এই পড়াশোনা সব পড়াশোনার থেকে সহজ, এই পড়া শিশু, যুবক, বৃদ্ধ সবাই পড়তে পারে, কেবল ৮৪ জন্মের কথা জানতে হবে"

প্রশ্নঃ -
প্রত্যেককে সে ছোট হোক বা বড়, কোন্ একটি প্র্যাক্টিস অবশ্যই করা উচিত ?

উত্তরঃ -
প্রত্যেককে মুরলী ক্লাস চালানোর প্র্যাক্টিস অবশ্যই করা উচিত, কারণ তোমরা হলে মুরলীধরের সন্তান। যদি মুরলী না পড়তে পারো, তাহলে উঁচু পদের অধিকারী হতে পারবে না। কাউকে শোনালে মুখ খুলে যাবে অর্থাৎ শোনাতে সক্ষম হবে। তোমাদের প্রত্যেককে বাবার মতন টিচার অবশ্যই হতে হবে। যা পড়ো সেসব পড়াতে হবে। ছোট বাচ্চাদেরও এই পড়াশোনা করার অধিকার আছে। তারাও হল অসীম জগতের পিতার উত্তরাধিকার প্রাপ্ত করার অধিকারী ।

ওম্ শান্তি ।
খন আসে শিববাবার জয়ন্তী। সেই বিষয়ে কীভাবে বোঝানো উচিত ? বাবা তোমাদের বুঝিয়েছেন, সেইভাবে তোমাদেরও অন্যদেরকে বোঝাতে হবে। এমন তো নয়, বাবা যেরকম তোমাদের পড়ান, তেমনি বাবাকেই সবাইকে পড়াতে হবে। শিববাবা তোমাদের পড়িয়েছেন, জানো তোমরা এই শরীর দ্বারা পড়িয়েছেন। যথাযথ ভাবে আমরা শিববাবার জয়ন্তী পালন করি। আমরা শিবের নামও জপ করি, তিনি তো হলেন -ই নিরাকার। তাঁকে শিব বলা হয়। তারা বলে - শিব হলেন জন্ম-মরণ হীন। তাঁর আবার জয়ন্তী পালন হবে কীভাবে ? এই কথা তো তোমরা জানো কীভাবে নম্বর অনুসারে পালন হয়ে এসেছে। পালন হতেই থাকবে। তাই তাদেরকেও বোঝাতে হবে। বাবা এসে এই দেহের (ব্রহ্মা দেহের) আধার নেন। মুখ তো অবশ্যই লাগবে, তাই গৌ-মুখের মহিমা আছে। এই রহস্যটি একটু জটিল। শিববাবার অক্যুপেশন বা কর্তব্যটি বুঝতে হবে। আমাদের অসীম জগতের পিতা এসেছেন, তাঁর কাছেই আমাদের অসীম জগতের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হয়। যথাযথভাবে ভারতের কাছে অসীম উত্তরাধিকার ছিল, অন্য কারো ছিল না। ভারতকেই সত্য খন্ড বলা হয় এবং বাবাকেও সত্য বলা হয়। অতএব এইসব কথা বোঝাতে হয়, তারপরে কেউ আবার তাড়াতাড়ি বুঝতে পারে না। কেউ চট করে বুঝে নেয়। এই যোগ আর পড়াশোনা দুটিই বিস্মৃতিতে চলে যায় । তাতেও যোগ হল খুব বেশি স্মৃতির বাইরে চলে যায়। নলেজ তো তবুও বুদ্ধিতে থাকে কিন্তু স্মরণ ক্ষণে ক্ষণে বিস্মৃত হয়। নলেজ তো তোমাদের বুদ্ধিতে আছেই যে আমরা কীভাবে ৮৪ জন্ম গ্রহণ করি, যাদের এই নলেজ আছে, তারা-ই বুদ্ধি দ্বারা বুঝতে পারে যে, যে সর্বপ্রথম নম্বরে আসে সে-ই ৮৪ জন্ম নেবে। সবচেয়ে প্রথমে উঁচু থেকে উঁচুতে লক্ষ্মী-নারায়ণকে বলা হবে। নর থেকে নারায়ণ হওয়ার কথাও খুব নামী বিখ্যাত। পূর্ণিমায় অনেক স্থানে সত্যনারায়ণের পূজা করা হয়। এখন তোমরা জানো, আমরা সত্য সত্যই বাবা দ্বারা নর থেকে নারায়ণ হওয়ার পড়া পড়ি। এ হল পবিত্র হওয়ার পড়া, অন্য সব পড়া থেকে খুব সহজ এই পড়া। ৮৪ জন্মের চক্রের বিষয়ে জানতে হবে এবং এই পড়া সবার জন্য একই। বৃদ্ধ, যুবক, শিশু যে হোক না কেন সবার জন্য একই পড়া। ছোট শিশুদেরও অধিকার আছে। যদি মা বাবা তাদের একটু একটু করে শেখায় তাহলে সময় তো অনেক আছে। বাচ্চাদেরও শেখানো হয় শিববাবাকে স্মরণ করো। আত্মা ও শরীর দুইয়ের পিতা হল আলাদা-আলাদা। আত্মা রূপী সন্তানও হল নিরাকারী, তো পিতাও হলেন নিরাকারী। এই কথাও বাচ্চারা তোমাদের বুদ্ধিতে আছে, তিনি নিরাকার শিববাবা, হলেন আমাদের পিতা, অতি সূক্ষ্ম। এই কথাটি ভালো ভাবে স্মরণে রাখতে হবে। ভুলে যাওয়া উচিত নয়। আমরা আত্মারাও বিন্দু স্বরূপ, অতি সূক্ষ্ম। এমন নয়, উপরে গেলে বড় মাপের দেখা যাবে, নীচে ছোট সাইজ থাকবে। না, সে তো বিন্দু স্বরূপ। উপরে গেলে তোমরা দেখতেও পাবে না। বিন্দু রূপ কিনা। বিন্দুকে দেখা যায় কি। এইসব কথায় বাচ্চাদের ভালো ভাবে চিন্তন করতে হবে। আমরা আত্মারা উপর থেকে এসেছি, শরীর দ্বারা পার্ট প্লে করতে। আত্মা ছোট-বড় হয় না। কর্মেন্দ্রিয় প্রথমে ছোট থাকে, পরে বড় হয়।

এখন তোমরা যেরকম বুঝেছ তেমনই অন্যদের বোঝাতে হবে। এই কথা তো নিশ্চিত যে নম্বর অনুসারে যে যত খানি পড়া পড়েছে ততখানি পড়াবে, সবাইকে টিচার তো অবশ্যই হতে হবে, শেখানোর জন্য। বাবার তো নলেজ আছে, তিনি হলেন অতি সূক্ষ্ম পরম আত্মা, সর্বদা পরমধামে বাস করেন। এখানে একবার-ই আসেন সঙ্গমে। বাবাকে স্মরণ করাও হয় তখন যখন অতি দুঃখ হয়। বলে এসে আমাদের সুখী করো। বাচ্চারা এখন জানে আমরা আহ্বান করি - বাবা, এসে আমাদের পতিত দুনিয়া থেকে নতুন সত্যযুগী সুখী পবিত্র দুনিয়ায় নিয়ে চলো অথবা সেখানে যাওয়ার পথ বলে দাও । সেও তিনি যখন নিজে আসবেন তখন তো পথ বলে দেবেন। তিনি আসবেন তখন যখন দুনিয়ার পরিবর্তন করতে হবে। এই গুলি খুব সিম্পল কথা, নোট করতে হবে। বাবা আজ এই কথা বুঝিয়েছেন, আমরাও এভাবেই বোঝাই। এমন করে প্র্যাক্টিস করতে থাকলে মুখে কথা বলা আরম্ভ হয়ে যাবে। তোমরা হলে মুরলিধরের সন্তান, তোমাদের মুরলিধর হতেই হবে। যখন অন্যের কল্যাণ করবে তখন তো নতুন দুনিয়ায় উঁচু পদের অধিকারী হবে। দৈহিক জগতের ওই পড়াশোনা তো হল এখানকার জন্য। এই পড়াশোনা হল ভবিষ্যতের নতুন দুনিয়ার জন্য। সেখানে তো সর্বদা সুখ ই সুখ থাকে। সেখানে ৫- টি বিকার থাকে না বিরক্ত করার জন্য। এখানে আমরা পরের রাজ্যে অর্থাৎ রাবণের রাজ্যে আছি। তোমরা প্রথমে নিজের রাজ্যে ছিলে। তোমরা বলবে নতুন দুনিয়া, তারপরে ভারতকে ই বলা হয় পুরানো দুনিয়া। গায়নও আছে নতুন দুনিয়ায় ভারত .... এমন বলা হবে না যে নতুন দুনিয়ায় ইসলাম, বৌদ্ধ । তা নয় । এখন তোমাদের বুদ্ধিতে জ্ঞান আছে যে বাবা এসে আমাদের জাগিয়ে তোলেন। ড্রামায় তাঁর এমনই পার্ট রয়েছে। তিনি এসে ভারতকেই স্বর্গে পরিণত করেন। ভারত হল প্রথম দেশ। ভারত দেশকেই সর্বপ্রথম স্বর্গ বলা হয়। ভারতের আয়ুও লিমিটেড (সীমিত) । লক্ষ বছর বলে দিলে আনলিমিটেড (অসীম) হয়ে যায়। লক্ষ বছরের কোনো কথা স্মৃতিতে আসতে পারে না। নতুন ভারত ছিল, এখন পুরানো ভারত বলা হবে। ভারত-ই নতুন দুনিয়া হবে। তোমরা জানো আমরা এখন নতুন দুনিয়ার মালিক হচ্ছি। বাবা পরামর্শ দেন আমাকে স্মরণ করো তো তোমাদের আত্মা নতুন পবিত্র হয়ে যাবে তখন শরীরও নতুন প্রাপ্ত হবে। আত্মা ও শরীর দুই ই সতোপ্রধান হয়। তোমাদের রাজত্ব প্রাপ্ত হয় সুখের জন্য। এও অনাদি ড্রামা পূর্ব নির্দিষ্ট আছে। নতুন দুনিয়ায় সুখ ও শান্তি আছে। সেখানে কোনো ঝড় ইত্যাদি হয় না। অসীমের শান্তিতে সব শান্ত হয়ে যায়। এখানে অশান্তি আছে তাই সবই অশান্ত। সত্যযুগে সব শান্ত হয়। ওয়ান্ডারফুল কথা তাইনা। এই হল অনাদি পূর্ব নির্দিষ্ট খেলা। এই হল অসীমের কথা। তারা দৈহিক জগতের ব্যারিস্টারি, ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদির পড়াশোনা করে। এখন তোমাদের বুদ্ধিতে অসীমের নলেজ আছে। একবারই বাবা এসে অসীম ড্রামার রহস্য বুঝিয়ে দেন। এর আগে তো নামই শুনে ছিলে না যে, অসীমের ড্রামা কীভাবে চলে। এখন বুঝেছ সত্যযুগ - ত্রেতা অবশ্যই অতীত হয়ে গেছে, সেখানে এদের রাজত্ব ছিল। ত্রেতায় রামরাজ্য ছিল, পরে অন্য অন্য ধর্ম এসেছে। ইসলাম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান .... সব ধর্মের বিষয়ে সম্পূর্ণ জ্ঞান আছে। এই সব ২৫০০ বছরের অবধির মধ্যেই এসেছে। তাতে ১২৫০ বছর হল কলিযুগ। সবই হিসাব তাইনা। এমন নয় যে, সৃষ্টির আয়ুই হল ২৫০০ বছর। আচ্ছা, তাহলে আর কে ছিল, সেটাই বিচার করে দেখতে হবে । যথাযথভাবে এদের আগে ছিল দেবী-দেবতা .... তারাও তো ছিল মানুষ। কিন্তু দিব্য গুণধারী। সূর্যবংশী - চন্দ্রবংশী ২৫০০ বছরে। বাকি অর্ধেকে তারা সব ছিল। এর চেয়ে বেশি তো কেউ হিসেব করতে পারে না। পূর্ণ, পৌনে, অর্ধেক, সোয়া বা চারভাগ । চারটি ভাগ আছে। সঠিকভাবে খন্ড খন্ড করবে, তাইনা। অর্ধেকে তো এইটাই আছে। বলাও হয় সত্যযুগে সূর্য বংশী রাজ্য, ত্রেতায় চন্দ্র বংশী রামরাজ্য - এই সব তোমরা প্রমাণ করে বলো। সুতরাং সবচেয়ে বেশি আয়ু অবশ্যই তাদের হবে, যারা সর্বপ্রথমে সত্যযুগে আসে। কল্পটি হল ৫ হাজার বছরের। তারা ৮৪ লক্ষ যোনি বলে দেয় অর্থাৎ কল্পের আয়ুও লক্ষ বছর বলে দেয়। কেউ মানবে না। এত বিশাল দুনিয়া হতে পারে না। তাই বাবা বসে বোঝান - সেসব হল অজ্ঞান এবং এ হল জ্ঞান। জ্ঞান কোথা থেকে এসেছে - এই কথাও কেউ জানে না। জ্ঞান সাগর তো হলেন একমাত্র বাবা, তিনিই জ্ঞান প্রদান করেন মুখ দ্বারা। বলা হয় গৌ মুখ। এই গৌ মাতা (ব্রহ্মা বাবা) তোমাদের সবাইকে অ্যাডপ্ট করেন। এইটুকু কথা বোঝানো খুব সহজ। একদিন বুঝিয়ে ছেড়ে দিলে বুদ্ধি অন্য অন্য কথায় ব্যস্ত হয়ে যাবে। স্কুলে একদিন পড়তে হয় নাকি রেগুলার পড়তে হয় ! নলেজ একদিনে বোঝা কঠিন। অসীম জগতের পিতা আমাদের পড়ান, তো নিশ্চয়ই অসীমের পড়াশোনা হবে । অসীমের রাজ্য প্রদান করেন। ভারতে অসীমের রাজ্য ছিল তাইনা। এই লক্ষ্মী-নারায়ণ অসীমের রাজ্যে রাজত্ব করতেন। এইসব কথা কারো স্বপ্নেও নেই , যে জিজ্ঞাসা করবে তাঁরা রাজ্য কীভাবে প্রাপ্ত করেছিল ? তাঁদের পবিত্রতা বেশি ছিল, তাঁরা হলেন যোগী তাই আয়ুও বেশি হয়। আমরা-ই যোগী ছিলাম। তারপরে ৮৪ জন্ম নিয়ে ভোগী স্বরূপেও অবশ্যই পরিণত হতে হবে। মানুষ জানে না লক্ষ্মী-নারায়ণ নিশ্চয়ই পুনর্জন্ম নিয়েছে। তাদের ভগবান-ভগবতী বলা হবে না। তাদের পূর্বে কেউ এমন নেই যারা ৮৪ জন্ম নিয়েছে। সর্ব প্রথমে সত্যযুগে যারা রাজত্ব করেছে তারা-ই ৮৪ জন্ম নিয়ে নম্বর অনুসারে নীচে নেমেছে। আমরা আত্মা, আমরা-ই সেই দেবতা হব তারপরে আমরা ক্ষত্রিয় ... ডিগ্রি কম হবে। গায়নও আছে যে পূজ্য সে-ই পূজারী। সতোপ্রধান থেকে তমোপ্রধান হয়। এইভাবে পুনর্জন্ম নিয়ে নীচে চলে যাবে। কতখানি সহজ এই কথা। কিন্তু মায়া এমন যে সব কথা ভুলিয়ে দেয়। এইসব পয়েন্টস একত্র করে বই ইত্যাদি লেখা যায়, কিন্তু সেসব কিছুই তো থাকবে না। এইসব হল টেম্পোরারি। বাবা কোনও গীতা শোনান নি। বাবা তো যেমন এখন বোঝাচ্ছেন, তেমনই বুঝিয়ে ছিলেন। এই বেদ-শাস্ত্র ইত্যাদি সবই পরবর্তীকালে তৈরি হয়েছে। এইসব হোল-লট অর্থাৎ সম্পূর্ণ শাস্ত্র ইত্যাদি যা আছে, বিনাশ হলে সব ভস্ম হয়ে যাবে। সত্যযুগ-ত্রেতায় কোনো বই পত্র থাকে না সবই ভক্তি মার্গে তৈরি হয়। কত কিছু তৈরি হয়। রাবণও তৈরি করা হয় কিন্তু অবুঝের মতন। তার বিষয়ে কিছুই বলতে পারে না। বাবা বোঝান, প্রতি বছর তৈরি করে দাহ করা হয়, নিশ্চয়ই কোনো বড় শত্রু, তাইনা। কিন্তু কীভাবে শত্রু হয়, তা কেউ জানে না। তারা ভাবে সীতা হরণ করেছে, তাই বোধহয় শত্রু। রামের সীতা কে হরণ করেছে, সুতরাং কোনো বড় ডাকাত হবে, তাই না ! কখন চুরি করেছে ! ত্রেতায় ? নাকি ত্রেতার শেষ সময়ে। এইসব কথায় বিচার করা হয়। কখনো চুরি হয়েছে তাহলে। কোন রামের সীতা হরণ হয়েছে ! রাম-সীতার রাজধানী ছিল কি ? একমাত্র যুগল রাম-সীতা ছিল কি ? এইসব তো শাস্ত্রে কাহিনী রূপে লেখা আছে। এখন ভাবতে হবে - কোন্ সীতা ? ১২ জন রাম-সীতা রাম সীতার মধ্যে (ত্রেতাতে ১২ জন্ম) ? তাহলে কোন সীতাকে হরণ করা হয়েছে ? নিশ্চয়ই পরবর্তী সময়ের হবে। এরা যে বলে রামের সীতা হরণ হয়েছে। এবারে রামের রাজ্যে সদাকাল একজনের রাজত্ব তো ছিল না নিশ্চয়ই। অবশ্যই রাজবংশ হবে । তাহলে কোন্ নম্বরের সীতা হরণ হয়েছিল ? এইসব হল বুঝবার বিষয়। তোমরা বাচ্চারা খুব ঠান্ডা মাথায় কাউকে এইসব রহস্য বোঝাতে পারো।

বাবা বোঝান, ভক্তি মার্গে মানুষ কত ধাক্কা খেয়ে দুঃখী হয়েছে। যখন দুঃখের সীমার অতি হয় তখন চিৎকার করে কাঁদে - বাবা এই দুঃখ থেকে মুক্ত করো। রাবণ তো কোনো বস্তু নয়, তাইনা। যদি হয় তবে নিজেদের রাজাকে প্রতি বছর দাহ করে কেন! রাবণের স্ত্রী-ও আছে নিশ্চয়ই। মন্দোদরীকে দেখানো হয়। মন্দোদরীর কাঠামো বানিয়ে দাহ করা হচ্ছে, এমন তো দেখা যায়নি। অতএব বাবা বসে বোঝাচ্ছেন এই হল মিথ্যা মায়া, মিথ্যা কায়া...এখন তোমরা মিথ্যা মানুষ থেকে সত্য দেবতায় পরিণত হতে বসেছ। তফাৎ হল কিনা ! সেখানে তো সর্বদা সত্য বলবে। সেই স্থান হল সত্যখন্ড। এটা হল মিথ্যা খন্ড। তাই মিথ্যা বলতেই থাকে। আচ্ছা !

মিষ্টি মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা পিতা, বাপদাদার স্মরণের স্নেহ-সুমন আর সুপ্রভাত । আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী বাচ্চাদেরকে জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) জ্ঞান সাগর পিতা রোজ অসীম জগতের যে পাঠ পড়ান, সেই বিষয়ে বিচার সাগর মন্থন করতে হবে। যা পড়েছ সেসব অন্যদের নিশ্চয়ই পড়াতে হবে।

২ ) এই অসীমের ড্রামা কিরকম ভাবে চলছে, এ হল অনাদি পূর্ব রচিত ওয়ান্ডারফুল ড্রামা, এই রহস্যটি ভালো ভাবে বুঝে তারপরে বোঝাতে হবে।

বরদান:-
নিজের সূক্ষ্ম শক্তির উপরে বিজয়ী হতে সক্ষম রাজ ঋষি, স্বরাজ্য অধিকারী আত্মা ভব

ব্যাখা: কর্মেন্দ্রিয় জিৎ হওয়া তো সহজ কিন্তু মন-বুদ্ধি-সংস্কার - এই সূক্ষ্ম শক্তির উপরে বিজয়ী হওয়া - এ হল সূক্ষ্ম অভ্যাস। যখন যে সঙ্কল্প, যে সংস্কার ইমার্জ করতে চাও সেই সঙ্কল্প, সেই সংস্কার সহজ ভাবে যেন ধারণ করতে পারো - একেই বলে সূক্ষ্ম শক্তির উপরে বিজয় অর্থাৎ রাজ ঋষি স্থিতি। যদি সঙ্কল্প শক্তিকে অর্ডার করো যে, এখনই একাগ্র চিত্ত হয়ে যাও, তো রাজার অর্ডার সেই মুহূর্তে সেইরূপে পালন করা এই হল - রাজ্য অধিকারীর প্রমাণ চিহ্ন। এই অভ্যাস দ্বারা-ই অন্তিম পেপারে পাস করবে।
 

স্লোগান:-
সেবা দ্বারা যে আশীর্বাদ বা দুয়া প্রাপ্ত হয়, সেটাই হল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ।