08-01-2023 প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "অব্যক্ত বাপদাদা" রিভাইসঃ 23-04-93 মধুবন


"নিশ্চয়বুদ্ধি ভব, অমর ভব"


আজ বাপদাদা অতি স্নেহী আত্মাদের সাথে মিলন উদযাপন করতে এসেছেন, যারা আদি থেকে যজ্ঞ স্থাপনের সহযোগী হয়েছে, বিভিন্ন রকমে আসা বিভিন্ন সমস্যার পেপারে নিশ্চয়বুদ্ধি বিজয়ী হয়ে সেসব পার করেছে এবং আদি থেকে যারা স্নেহী, সহযোগী, অটল, অনড় থেকেছে। নিশ্চয়ের সাবজেক্টে পাস করে অগ্রচালিত হওয়া বাচ্চাদের কাছে এসেছেন। এই নিশ্চয় পুরানো এই জীবনে এবং ভবিষ্যৎ জীবনেও সদাসর্বদা বিজয়ের অনুভব করাতে থাকবে। 'নিশ্চয়'-এর এবং 'অমর ভব'-র বরদান সদা তোমাদের সাথে থাকে। যারা বহুকালের অনুভাবী অভিজ্ঞ আত্মা, তাদের স্মরণ আর স্নেহের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে, আজ বিশেষভাবে বাবা এসেছেন। নিশ্চয়ের জন্য অভিনন্দন!

একদিকে যজ্ঞ অর্থাৎ পাণ্ডবদের দুর্গের যে ভিত অর্থাৎ ফাউন্ডেশন আত্মারা আছে তারাও সবাই সামনে রয়েছে এবং অপরদিকে, তোমরা অনুভাবী আদি আত্মারা পাণ্ডবদের এই দুর্গ-প্রাচীরের প্রথম প্রস্তর (ইঁট)। ফাউন্ডেশনও সামনে আর আদি প্রস্তর, যাদের আধারে এই কেল্লা মজবুত হয়ে বিশ্বের ছত্রছায়া হয়েছে, তারাও সামনে আছে। সুতরাং বাবা যেমন বাচ্চাদের স্নেহে "জী হুজুর, হাজির" হয়ে দেখিয়েছেন, সেভাবেই সদা বাপদাদা আর নিমিত্ত আত্মাদের শ্রীমৎ বা ডিরেকশনে সদা 'জী হাজির' করতে থাকো। কখনও ব্যর্থ মনমত বা পরমত মিলিয়ে দিও না। হাজির হুজুরকে জেনে শ্রীমৎ অনুসারে উড়ে চলো। বুঝেছ? আচ্ছা!

মধুবন নিবাসীদের সেবার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বাপদাদা বলেন -

আচ্ছা, বিশেষ মধুবন নিবাসীদের অনেক অনেক অভিনন্দন। সারা সীজন নিজের মধুরতা আর অক্লান্ত সেবার দ্বারা সকলের সেবার নিমিত্ত হয়েছ। সুতরাং সবার আগে পুরো সিজনে নিমিত্ত সেবাধারী বিশেষ মধুবন নিবাসীদের অনেক অনেক অভিনন্দন। মধুবন তো মধুই অর্থাৎ মধুরতা। তাইতো মধুরতা সবাইকে বাবার স্নেহে নিয়ে আসে, সেইজন্য তারা হলে বসে থাক বা চলে যাক কিন্তু সবাইকে বিশেষভাবে একেকটা ডিপার্টমেন্টকে তাদের সেবার জন্য বাপদাদা বিশেষ অভিনন্দন জানাচ্ছেন "সদা অক্লান্ত ভব, মধুর ভব"-র বরদানের সাথে অগ্রচালিত হয়ে উড়ে চলো।

"অব্যক্ত বাপদাদার পার্সোনাল সাক্ষাৎ" ―

১) অসতর্কতা দুর্বলতা নিয়ে আসে, সেইজন্য অ্যালার্ট থাকো

সবাই তোমরা সঙ্গমযুগী শ্রেষ্ঠ আত্মা তো না! সঙ্গমযুগের বিশেষত্ব কী যা কোনও যুগে নেই? সঙ্গমযুগের বিশেষত্ব হলো এক তো প্রত্যক্ষ ফল প্রাপ্ত হয়, আর একের পদম্ গুন প্রাপ্তির অনুভব এই জন্মেই হয়। প্রত্যক্ষ ফলের প্রাপ্তি হয় তো না। যদি এক সেকেন্ডও সাহস রাখো তো কত সময় পর্যন্ত প্রাপ্ত হয়! যদি তোমরা একেজনেরও সেবা করো তাহলে কত খুশির প্রাপ্তি হয়! সুতরাং একের পদ্মগুণ প্রাপ্তি অর্থাৎ প্রত্যক্ষফল এই সঙ্গমে লাভ হয়। তাহলে তাজা ফ্রুট খাওয়া ভালো লাগে, তাই না। সুতরাং তোমরা সবাই প্রত্যক্ষ ফল অর্থাৎ তাজা ফল খাও, তাইতো তোমরা শক্তিশালী। দুর্বল নও তো না। সবাই পাওয়ারফুল। দুর্বলতা আসতে দিও না। যখন সুস্থ থাকো, তখন দুর্বলতা আপনা থেকেই শেষ হয়ে যায়। সর্বশক্তিমান বাবা দ্বারা সদা শক্তি প্রাপ্ত হতে থাকে, তাহলে দুর্বল কীভাবে হবে! দুর্বলতা আসতে পারে? ভুল করে কখনো এসে যায় কী? যখন কুম্ভকর্ণের নিদ্রায় নিষ্ক্রিয় হয়ে ঘুমিয়ে থাকো তখন আসতে পারে, নয়তো আসতে পারে না। তোমরা অ্যালার্ট তো না। নিষ্ক্রিয় থাকো কী? সবাই অ্যালার্ট? সদা অ্যালার্ট আছ? সঙ্গমযুগে তোমরা বাবাকে খুঁজে পেয়েছ তো তোমাদের সবকিছু পাওয়া হয়ে গেছে। সুতরাং অ্যালার্টই থাকবে, থাকবে তো না? যার অনেক প্রাপ্তি হতে থাকে সে কত অ্যালার্ট থাকে! ধারাবাহিক ভাবে যখন বিজনেসম্যানের বিজনেসে প্রাপ্তি হতে থাকে তখন অসাবধান হবে নাকি অ্যালার্ট হবে? তো এক সেকেন্ডে তোমাদের কত লাভ হয়! সুতরাং নিষ্ক্রিয় কীভাবে হবে? বাবা সর্বশক্তি দিয়ে দিয়েছেন। যখন সর্বশক্তি সাথে আছে তখন নিষ্ক্রিয়তা আসতে পারে না। সদা হুঁশিয়ার, সদা সাবধান থাকো!

ইউ. কে.-র আগতদের বাপদাদা তো বলেনই, ও.কে.। সুতরাং যারা ও.কে. (সম্পূর্ণভাবে ঠিক) হবে তারা যখন অ্যালার্ট হবে তখন তো ও.কে. হবে, তাই না! ফাউন্ডেশন পাওয়ারফুল, সেইজন্য যে ডালপালাই বের হয়েছে তারাও শক্তিশালী। বাপদাদা, ব্রহ্মা বাবা বিশেষভাবে তাঁদের অন্তর থেকে লন্ডনের প্রথম ফাউন্ডেশন স্থাপন করেন। ব্রহ্মা বাবার বিশেষ প্রিয়। সুতরাং তোমরা প্রত্যক্ষ ফলের সদা অধিকারী আত্মা। কর্ম করার আগে ফল তৈরিই আছে। সেরকমই লাগে তো না। নাকি পরিশ্রম লাগে? নাচতে নাচতে, গাইতে গাইতে ফল খেতে থাকো। ডবল বিদেশিদের ফল ভালো লাগে তো, তাই না। বাপদাদাও ইউ. কে. অর্থাৎ সদা ও. কে. থাকা বাচ্চাদের দেখে আনন্দিত হন। নিজেদের এই টাইটেল সদা স্মরণে রাখো, ও. কে.। এটা কত সুন্দর টাইটেল! সদা সবাই ও.কে. থাকে আর অন্যদেরও নিজের মুখের দ্বারা, বাণী দ্বারা, বৃত্তি দ্বারা ও.কে. বানায়। এই সেবা করতে হবে, হবে তো না! এটা ভালো, সেবার জন্য তোমাদের বেশ আগ্রহ আছে। যে যেখান থেকেই এসেছ তোমরা কিন্তু সবাই তীব্র পুরুষার্থী এবং উড়তি কলার। সবচাইতে বেশি খুশি কে থাকে? নেশার সাথে বলো, আমি! খুশি ব্যতীত আর আছেই বা কী! 'খুশি' ব্রাহ্মণ জীবনের পৌষ্টিক আহার। বিনা পুষ্টিতে কীভাবে চলবে! তোমরা এগিয়ে চলেছ, কিন্তু পৌষ্টিক আহার আছে, তবেই তো এগিয়ে যাচ্ছ, তাই না। স্থানও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেখ, আগে 'তিন পা পৃথ্বী' (তিন পা মাপের সমতুল্য জমি) পাওয়াও বড় ব্যাপার ছিল আর এখন কী মনে হয়? সহজ মনে হয়, তাই না। লন্ডন চমৎকার করেছে, করেছে তো না। (এখন ৫০ একর জমি পাওয়া গেছে) যারা অন্যদের সাহস দেয় তারাও ভালো, যারা সাহস রাখে তারাও ভালো। তোমাদের সবার অঙ্গুলি যদি না থাকত তাহলে কীভাবে হতো! সুতরাং ইউ.কে. থেকে যারা, তোমরা প্রত্যেকে লাকি এবং অঙ্গুলি দেওয়ায় বাহাদুর।

২) "নিজের সব দায়িত্ব বাবাকে দিয়ে নিশ্চিন্ত বাদশাহ হও"

সদা নিজেদের নিশ্চিন্ত বাদশাহ অনুভব করো? নাকি কিছু কিছু চিন্তা আছে? কারণ বাবা যখন তোমাদের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন, তাহলে দায়িত্বের চিন্তা কেন? এখন শুধু রেস্পন্সিবিলিটি রয়েছে বাবার সাথে সাথে চলতে থাকার। তারাও বাবার সাথে সাথে আছে, একলা নয়। সুতরাং দুশ্চিন্তা কী আছে? কাল কী হবে সেই দুশ্চিন্তা আছে? জব-এর চিন্তা আছে? দুনিয়ায় কী হবে সেই চিন্তা আছে? কেননা, তোমরা জানো যে, আমাদের জন্য যা হবে ভালো হবে। নিশ্চয় আছে তো না?

দৃঢ় নিশ্চয় আছে নাকি কখনো দোলাচলও হয়? যেখানে দৃঢ় নিশ্চয় আছে, সেখানে নিশ্চয়ের সাথে বিজয়ও নিশ্চিত। এই নিশ্চয়ও আছে তো না যে, বিজয় হয়েই আছে। নাকি কখনো ভাবো যে, জানি না হবে কি হবে না? কারণ, কল্প কল্পের বিজয়ী তোমরা আর সদা থাকবে, এই স্মারক পূর্ব কল্পের; এখন আবারও দেখছ। এত নিশ্চয় আছে তো না যে, তোমরা কল্প-কল্পের বিজয়ী? এত নিশ্চয় আছে তোমাদের? পূর্ব কল্পেও তোমরাই ছিলে নাকি অন্যরা কেউ ছিল? অতএব, সদা এটাই স্মরণে রাখো, আমরা নিশ্চয়বুদ্ধি বিজয়ী রত্ন। এমন রত্ন যে রত্নদের বাপদাদাও স্মরণ করেন। এই খুশি আছে তো না? পরমানন্দে থাকো, তাই না। এই অলৌকিক দিব্য শ্রেষ্ঠ জন্মের এবং মধুবন-গৃহে পৌঁছানোর অভিনন্দন।

৩) বাবা আর আমি ― এমনভাবে কম্বাইন্ড থাকো যাতে কখনো কেউ আলাদা না করতে পারে

সবাই নিজেকে বাবা আর আমি কম্বাইন্ড - এই রকম অনুভব করো? যে কম্বাইন্ড হয় তাকে কখনো কেউই আলাদা করতে পারে না। তোমরা অনেকবার কম্বাইন্ড থেকেছ, এখনও আছ আর ভবিষ্যতেও সদা থাকবে। কারও শক্তি নেই যে, অনেকবারের কম্বাইন্ড স্বরূপকে আলাদা করতে পারে। সুতরাং ভালোবাসার নিদর্শন কী? (কম্বাইন্ড থাকা) কেননা, শারীরিকভাবে তো অনেক সময় বাধ্য হয়েই কোথাও কোথাও

আলাদা থাকতে হয়। ভালোবাসা থাকলেও কিন্তু পরিস্থিতি অনুযায়ী কোথাও আলাদা থাকতে হয়, কিন্তু এখানে তো শরীরের বিষয়ই নেই। এক সেকেন্ডে কোথা থেকে কোথায় পৌঁছাতে পারো! আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সাথ আছে। পরমাত্মা তো যে কোনো কোথাও তাঁর সাথের দায়িত্ব পূরণ করেন এবং প্রত্যেকের সাথে কম্বাইন্ড রূপে প্রীতির ধারা অব্যাহত রাখেন। প্রত্যেকে তোমরা কী বলবে? আমার বাবা। নাকি বলবে তোমার বাবা! তো আমার কেন বলো? অধিকার আছে তবেই তো বলো। ভালোবাসাও আছে আর অধিকারও আছে। যেখানে ভালোবাসা থাকে সেখানে অধিকারও থাকে। অধিকারের নেশা আছে তো না? কত বড় অধিকার প্রাপ্ত হয়েছে! এত বড় অধিকার সত্যযুগেও প্রাপ্ত হবে না। কোনও জন্মে পরমাত্ম-অধিকার প্রাপ্ত হয় না। প্রাপ্তি এখানে। সত্যযুগে প্রালব্ধ থাকে আর প্রাপ্তির সময় এখন। সুতরাং যে সময় প্রাপ্তি হয় সেই সময় কত খুশি হয়! প্রাপ্ত হয়ে গেলে তারপরে তো কমন ব্যাপার হয়ে যায়। কিন্তু যখন প্রাপ্ত হচ্ছে, সেই সময়ের নেশা আর খুশি অলৌকিক হয়! তো কত খুশি আর নেশা থাকে! কারণ যিঁনি দিচ্ছেন তিনিও অসীম। সুতরাং দাতাও অসীম আর প্রাপ্তিও অসীম। তো মালিক কা'র সীমাবদ্ধ দুনিয়ার নাকি অসীম জগতের? তিন লোক তোমরা নিজেদের বানিয়ে দিয়েছ। মূলবতন, সূক্ষ্মবতন আমাদের বাসগৃহ আর স্থূলবতনে তো আমাদের রাজ্য সমাগত প্রায়। তিন লোকের অধিকারী হয়ে গেছ! সুতরাং কী বলা হবে - অধিকারী আত্মা। অপ্রাপ্তি কিছু আছে? তো কী গীত গাও? (যা পাওয়ার ছিল তা' পেয়ে গেছি ), পাওয়ার ছিল যা' পেয়ে গেছি, এখন কিছু পাওয়ার নেই। এই গীত গাও তো তোমরা? নাকি কোনো অপ্রাপ্তি আছে, অর্থ চাই, বাড়ী চাই! নেতার গদি চাই? কিছু চাই না তোমাদের, কারণ কোনো পদের গদি যদি হয়ও এক জন্মেরও ভরসা নেই আর তোমাদের কত গ্যারান্টি থাকে? ২১জন্মের গ্যারান্টি! গ্যারান্টি-কার্ড মায়া চুরি করে নেয় না তো? সে লুকোচুরি করে। তখন তোমরা কী করো? অতএব, এমন শক্তিশালী হও যাতে মায়ার সাহস না হয়।

৪) সব কর্ম ত্রিকালদর্শী হয়ে করো -

সবাই নিজেকে তখ্তাসীন আত্মা অনুভব করো? সিংহাসন এখন প্রাপ্ত হয়েছে নাকি ভবিষ্যতে প্রাপ্ত হবে, কী বলবে? সবাই সিংহাসনে বসবে? (হৃদয়-সিংহাসন অনেক বড়) হৃদয়-সিহাসন তো বড় কিন্তু সত্যযুগের সিংহাসনে এক সময়ে কতসংখ্যক বসবে? সিংহাসনে অন্য কেউ যদি বসেও কিন্তু তুমি সিংহাসন অধিকারী রয়্যাল ফ্যামিলিতে আসবে তো না। সিংহাসনে একসাথে তো বসতে পারবে না! এই সময় সবাই তখতাসীন সেইজন্য এই জন্মের মহত্ত্ব আছে। যতসংখ্যক চায়, যে চায় তখতাসীন হতে পারে। এই সময় আর কোনো সিংহাসন আছে? কোনটা আছে? (অকাল-তখ্ত) তোমরা সব অবিনাশী আত্মার সিংহাসন এই ভ্রুকুটি। তাইতো তোমরা ভ্রুকুটির সিংহাসনাসীনও আর হৃদয়-সিংহাসনাসীনও। ডবল সিংহাসন, তাই তো না! নেশা থাকে কি যে আমি আত্মা ভ্রুকুটির অকাল-তখ্তাসীন! তখতাসীন আত্মার স্ব-এর উপরে রাজত্ব, সেইজন্য স্বরাজ্য অধিকারী। আমি স্বরাজ্য অধিকারী এই স্মৃতি সহজেই বাবা দ্বারা সর্বপ্রাপ্তির অনুভব করাবে। তো তিন সিংহাসনেরই নলেজ আছে তোমাদের। তোমরা তো নলেজফুল, তাই না! পাওয়ারফুলও তোমরা, নাকি শুধু নলেজফুল? যতটা নলেজফুল, ততটাই পাওয়ারফুল, নাকি নলেজফুল অধিক, পাওয়ারফুল কম? নলেজে তোমরা বেশি চতুর! তোমরা নলেজফুল আর পাওয়ারফুল দুইই একসাথে। সুতরাং তিন তখ্তের স্মৃতি যেন সদা থাকে।

জ্ঞানে তিনের মহত্ত্ব রয়েছে। তোমরা ত্রিকালদর্শীও, তিনকাল সম্বন্ধে তোমরা জানো। নাকি শুধু বর্তমানকে জানো? কোনও কর্ম যখন করো ত্রিকালদর্শী হয়ে কর্ম করো নাকি শুধু একদর্শী হয়ে কর্ম করো? কে তোমরা, একদর্শী নাকি ত্রিকালদর্শী? তাহলে কাল কী হবে তা' তোমরা জানো? বলো, আমরা এটা জানি যে, কাল যা হবে তা' খুব ভালো হবে। এটা জানো তো না! তাহলে তো ত্রিকালদর্শী হলে, তাই না। যা কিছু হয়ে গেছে সেটাও ভালো, যা হচ্ছে সেটা আরো ভালো আর যা কিছু হবে তা' আরও বেশি ভালো! এই নিশ্চয় আছে তো না যে, ভালোর থেকে আরও ভালো হবে, খারাপ কিছু হতে পারে না। কেন? ভালোর থেকেও ভালো বাবা পেয়েছ তোমরা, ভালো থেকে আরো ভালো হয়েছ, ভালো থেকে আরো ভালো কর্ম করছ। তাহলে সবই তো ভালো, তাই না। নাকি অল্প খারাপ, অল্প ভালো? যখন জেনে গেছ যে আমি শ্রেষ্ঠ আত্মা, তো শ্রেষ্ঠ আত্মার সঙ্কল্প, বোল, কর্ম ভালো হবে, হবে তো না! সুতরাং এই স্মৃতি সদা বজায় রাখ যে, কল্যাণকারী বাবাকে পেয়েছি তো সদা কল্যাণই কল্যাণ। বাবাকে বলাই হয় বিশ্ব-কল্যাণকারী আর তোমরা মাস্টার বিশ্ব-কল্যাণকারী। সুতরাং যে বিশ্বের কল্যাণ করে থাকে তার অকল্যাণ হতেই পারে না, সেইজন্য এই নিশ্চয় রাখ যে, প্রতিটা মুহূর্ত প্রতিটা কার্য, প্রতিটা সঙ্কল্প কল্যাণকারী। সঙ্গমযুগকেও নাম দেওয়া হয় কল্যাণকারী যুগ। অতএব, অকল্যাণ হতে পারে না। সুতরাং কী স্মরণে রাখবে? যা কিছু হচ্ছে তা' ভালো আর যা কিছু হওয়ার আছে তা' খুব খুব ভালো। এই স্মৃতিই তখন অগ্রচালিত করবে। আচ্ছা, সব কোণে কোণে তোমরা বাবার ধ্বজা উড়িয়ে দিচ্ছ। সবাই খুব সাহস আর পুরুষার্থের সাথে এগিয়ে চলেছ আর সদা এগিয়ে চলবে। ফিউচার দেখতে পাও তো না। যখন কেউ তোমাদের জিজ্ঞাসা করে তোমাদের ভবিষ্যৎ কী? তখন বলো, আমরা জানি, খুব ভালো। আচ্ছা।

বরদান:-
নিজের ললাটভাগে শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের রেখা দেখতে দেখতে সব চিন্তা থেকে মুক্ত নিশ্চিন্ত বাদশাহ ভব

নিশ্চিন্ত হওয়ার বাদশাহী সব বাদশাহীর থেকে শ্রেষ্ঠ। যদি কেউ মুকুট পরে সিংহাসনে বসে আর দুশ্চিন্তা করতে থাকে তাহলে সেটা সিংহাসন হলো, নাকি চিন্তা? ভাগ্যবিধাতা ভগবান তোমাদের মস্তকে শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের রেখা টেনে দিয়েছেন, নিশ্চিন্ত বাদশাহ হয়ে গেছ। সুতরাং সদা নিজের ললাটভাগে শ্রেষ্ঠ ভাগ্যের রেখা দেখতে থাকো - বাঃ আমার শ্রেষ্ঠ ঈশ্বরীয় ভাগ্য, এই গৌরবে থাকো তবে সব চিন্তা সমাপ্ত হয়ে যাবে।

স্লোগান:-
একাগ্রতার শক্তির দ্বারা রূহদের (আত্মাদের) আহ্বান করে রূহানী সেবা করাই প্রকৃত সেবা।