০৮-০২-১৯ প্রাতঃ মুরলি ওম্ শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


"মিষ্টি বাচ্চারা - আমি সর্বদা বাণীর উর্দ্ধে থাকি, আমি আসি তোমাদেরও বাণীর ঊর্ধ্বে (উপরাম বানাতে) নিয়ে যেতে। এখন তোমাদের সবার বাণপ্রস্থ অবস্থা, এখন তোমাদের বাণীর উর্দ্ধে নিজ নিকেতনে যেতে হবে"

প্রশ্ন:-

ভালো পুরুষার্থী স্টুডেন্ট কাদের বলা হবে ? তাদের প্রধান লক্ষণ কি হবে ?

উত্তর:-

ভালো পুরুষার্থী স্টুডেন্ট সে-ই, যে নিজের সাথে নিজে কথা বলতে জানে, সূক্ষ্ম স্টাডি করে। পুরুষার্থী স্টুডেন্ট সর্বদা নিজের চেকিং নিজে করতে থাকে যে আমার মধ্যে কোনো আসুরী স্বভাব নেই তো ? দৈবী গুণ কতটা ধারণ করেছি ? তারা নিজেদের রেজিস্টার রাখে যে, ভাই- ভাই এর দৃষ্টিই সর্বদা রয়েছে তো ? কোনো ক্রিমিনাল ধর্মী ভাবনা মনে চলছে না তো ?

ওম্ শান্তি ।

আত্মারূপী (রুহানী) বাচ্চাদের প্রতি বাবা বোঝাচ্ছেন, যারাই বাণীর উর্ধ্বে যাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছে, তারা যেন নিজ নিকেতনে যাওয়ার জন্যই পুরুষার্থ করছে। সেটা সব আত্মাদেরই ঘর। তোমরা মনে কর এখন আমাদের এই শরীর ছেড়ে দিয়ে নিজ গৃহে ফিরে যেতে হবে। বাবা বলেন আমি এসেছি তোমাদের গৃহে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে, সেইজন্য এই দেহ আর দেহের সম্বন্ধের ঊর্ধ্বে যেতে (উপরাম) হবে। এটা তো হল ছিঃ ছিঃ দুনিয়া। আত্মারা এটাও জানে যে এখন আমাদের যেতে হবে। বাবা এসেছেন পবিত্র করে তুলতে। আবার আমাদের পবিত্র দুনিয়াতে যেতে হবে। মনের মধ্যে এরূপ বিচার সাগর মন্থন হতে হবে। তোমরা ছাড়া আর কারো এই রূপ চিন্তন আসবে না। তোমরাই এমন ভাবতে পার যে আমরা খুশী মনে এই শরীর ত্যাগ করে নিজ গৃহে ফিরে গিয়ে আবার নতুন পবিত্র সম্বন্ধে, নতুন দুনিয়ায় আসব। এই স্মৃতি খুব কম জনেরই থাকে। বাবা বলেন ছোট, বড়, বুড়ো ইত্যাদি সবাইকেই ফিরে যেতে হবে। আবার নতুন দুনিয়ার পবিত্র সম্বন্ধের মধ্যে আসতে হবে। বারংবার বুদ্ধিতে আসা চাই যে আমরা এখন গৃহে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছি। যে তৈরী হবে সে-ই সাথে যাবে। যারা এখন ঈশ্বরের নিমিত্তে করে তারাই পরে নতুন দুনিয়াতে গিয়ে লক্ষ কোটি গুণিতক ধনের মালিক (পদমা পদমপতি) হয়। এই জগতের লোকেরা এই পুরানো দুনিয়ার জন্য পরোক্ষ ভাবে(ইনডায়রেক্ট) করে। ভাবে ঈশ্বর এর ফল দেবেন। এখন বাবা বোঝান, তাতে তোমাদের অল্প সময়ের জন্য-ক্ষণ ভঙ্গুর প্রাপ্ত হয়। এখন আমি এসেছি, তোমাদের রায় দিচ্ছি - এখন যা দেবে সেটাই তোমাদের ২১ জন্মের জন্য লক্ষ কোটি গুণ(পদম গুণ) হয়ে প্রাপ্ত হবে। তোমরা মনে কর বড় ঘরে গিয়ে জন্ম নেবে। আমরা তো নারায়ণ অথবা লক্ষ্মী হব। তাইতো আবার এত পরিশ্রম করতে হবে। আমরা এই পুরোনো খারাপ দুনিয়ার থেকে যাওয়ার জন্য তৈরী হচ্ছি। এই পুরানো দুনিয়া, পুরানো শরীর ছাড়তে হবে। *এরকম তৈরী হতে হবে যেন শেষ সময় কোনো কিছুই স্মরণে না আসে*। যদি পুরানো দুনিয়া বা মিত্র, আত্মীয় পরিজন ইত্যাদি স্মরণে আসে তো কি গতি হবে ? তোমরা বল না অনন্তকালে যারা স্ত্রীকে স্মরণ করবে .... সেইজন্য বাবাকে অনুসরণ (ফলো) করতে হবে। এমন নয় যে বাবা বুড়ো হয়ে বুঝেছেন যে এই শরীর ছাড়তেই হবে। আর না তোমরা সবাই বুড়ো হয়েছ। এখন সকলেরই বাণপ্রস্থ অবস্থা, সবাইকে ফিরে যেতে হবে। সেইজন্য বাবা বলেন এই পুরানো দুনিয়ার থেকে বুদ্ধি যোগ ছিন্ন কর। এখন তো যেতে হবে নিজ গৃহে। সেখানে আবার যত কাল এক একজনের থাকার, তত কালই সেখানে থাকবে। যার যত পরে ভূমিকা থাকবে সে তত পরে শরীর ধারণ করে ভূমিকা পালন করবে। কেউবা ৫ হাজার বছর থেকে ১০০ বছর কমও শান্তিধামে থাকবে। পরবর্তী কালে আসবে। যেমন কাশী কলবট খেত(কাশীতে ‌একটি সাপ ভর্তি কুঁয়োতে ঝাঁপ দিত), যাতে সব পাপ নিমেষে শেষ হয়ে যায়। পরে আসে যারা তাদের আর কত পাপ হবে! এল আর গেল। বাকী মোক্ষ তো তাদের কেউ পাবে না। সেখানে থেকে কি করবে। ভূমিকা তো অবশ্যই পালন করতে হবে। তোমাদের ভূমিকা হল শুরুতে আসার। তাই বাবা বলেন -- বাচ্চারা, এই পুরানো দুনিয়াকে ভুলতে থাক। এখন তো যেতে হবে, ৮৪ র ভূমিকা সম্পন্ন হয়েছে। তোমরা পতিত হয়ে গেছ। এখন আবার নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ কর। দৈবী গুণও ধারণ করো।



বাবা বোঝান - বাচ্চারা, নিজের চেকিং নিজে করতে থাক -আমার মধ্যে কোনো আসুরী স্বভাব নেই তো? তোমাদের দৈবী স্বভাব হওয়া চাই। তার জন্য চার্ট রাখলে পরিপক্ক হতে থাকবে। কিন্তু মায়া এমন যে চার্ট রাখতে দেয় না। দু-চারদিন রেখে আবার ছেড়ে দেয়, কারণ ভাগ্যে নেই। ভাগ্যে থাকলে খুব ভালো ভাবে রেজিস্টার রাখবে। স্কুলে অবশ্যই রেজিস্টার রাখে। এখানেও সব সেন্টারে সবার চার্ট, রেজিস্টার রাখতে হবে। আবার দেখতে হবে আমরা কি রোজ যাই ? দৈবী গুণ ধারণ করছি ? ভাই-বোনের সম্বন্ধের থেকেও উঁচুতে যেতে হবে। শুধুই ভাই-ভাই এর আত্মিক দৃষ্টি চাই। আমরা হলাম আত্মা। আমাদের কারোরই ক্রিমিনাল দৃষ্টি নেই। ভাই-বোনের সম্বন্ধও সেই জন্য, কেননা তোমরা হলে ব্রহ্মা কুমার-কুমারী। এক বাবার বাচ্চা। এই সঙ্গমযুগেই ভাই-বোনের সম্বন্ধতে থাকো। তাই বিকারী দৃষ্টি বন্ধ হয়ে যায়। এক বাবাকেই স্মরণ করতে হবে। বাণীর উর্ধ্বেও যেতে হবে। এইরকম ভাবে নিজের সাথে নিজে কথা বলা এটাই হল সূক্ষ্ম স্টাডি, এতে আওয়াজ করার কোনো দরকার নেই। এখানে তো বাচ্চাদের বোঝানোর জন্য আওয়াজের মধ্যে আসতে হয়। বাণীর উর্ধ্বে যাওয়ার জন্যও বোঝাতে হয়। এখন ফিরে যেতে হবে। বাবাকে ডাকে যে এসো, আমাদের সাথে নিয়ে যাও। আমরা পতিত, ফিরে যেতে পারছি না। পতিত দুনিয়াতে এখন পবিত্র কে করবে! সাধু-সন্ত ইত্যাদি কেউ পবিত্র করতে পারে না। নিজেরাই পবিত্র হওয়ার জন্য গঙ্গা স্নান করে। বাবাকে জানে না। যারা পূর্ব কল্পে জেনে ছিল, তারাই এখন পুরুষার্থ করছে। এই পুরুষার্থও বাবা ব্যাতীত আর কেউ করাতে পারে না। বাবা-ই হলেন সবথেকে উঁচু। এরকম বাবাকে নুড়ি পাথরে বলে দেওয়াতে মানুষের কি অবস্থা হয়ে গেছে। সিঁড়ি দিয়ে নেমেই এসেছে। কোথায় সেই সম্পূর্ণ নির্বিকারী ! কোথায় এই সম্পূর্ণ বিকারী। এই কথাটিও সে-ই মেনে নেবে, যে কল্প পূর্বে মেনেছিল। তোমাদের দায়িত্ব হল যে-ই আসুক তাকে বাবার নির্দেশ জানান। সিঁড়ির চিত্রের দ্বারা বোঝাও। সবার এখন বাণপ্রস্থ অবস্থা। সবাই শান্তিধাম আর সুখধামে যাবে। সুখধামে সে-ই যাবে যে আত্মার বুদ্ধি যোগবল দ্বারা সম্পূর্ণ পবিত্র করে তুলবে। ভারতের প্রাচীন যোগেরও খ্যাতি আছে। আত্মার এখন মনে পড়ে বরাবর আমরা সর্বপ্রথম এসেছি। এখন আবার ফিরে যেতে হবে। তোমাদের নিজেদের ভূমিকা স্মরণে আসে। যারা এই কূলে আসার নয় তাদের স্মৃতিতেও আসবে না যে আমাদের পবিত্র হতে হবে। পবিত্র হওয়ার জন্যই পরিশ্রম করতে হয়। বাবা বলেন নিজেকে আত্মা মনে করে আমাকে স্মরণ করলে বিকর্মাজীত হবে এবং বোন-ভাই মনে করো তো দৃষ্টি পরিবর্তিত হয়ে যাবে। সত্যযুগে দৃষ্টি খারাপ হয় না। বাবা তো বোঝাতে থাকেন, বাচ্চারা নিজেদের জিজ্ঞাসা করো-- আমরা সত্যযুগী দেবতা না কলিযুগী মানুষ ? বাচ্চারা, তোমাদের খুব ভালো ভালো চিত্র, শ্লোগান ইত্যাদি তৈরী করতে হবে। একজন বলবে সত্যযুগী নাকি কলিযুগী তুমি ? দ্বিতীয় জন আবার দ্বিতীয় প্রশ্ন করবে, এরকম করে সাড়া ফেলে দিতে হবে।



বাবা তো শ্রীমত দেন পতিতকে পবিত্র করার জন্য। বাকী ব্যাবসা ইত্যাদির আমরা কি জানি। বাবাকে ডাকাই হয় যে এসে মানুষ থেকে দেবতা হওয়ার রাস্তা বলো, সেটা আমি এসে বলে দিই। কত সহজ কথা। ইশারাটাই যে খুব সহজ - "মনমনাভব" । নিজেকে আত্মা মনে করে বাবাকে স্মরণ কর। অর্থ না বোঝার কারণে গঙ্গাকে পতিত-পাবনী মনে করে নিয়েছে। পতিত-পাবন তো হলেন বাবা। এখন সবারই শেষ হিসাব মেটানোর সময় । হিসাব-নিকাশ মিটিয়ে নিয়ে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। বাবা বোঝান বলে বোঝেও, কিন্তু ভাগ্যে নেই বলে নীচে পড়ে যায়। বাবা বলেন ভাই-বোন মনে কর, কখনো খারাপ দৃষ্টি যেন না যায়। কারও কামনার ভূত, লোভের ভূত এসে যায়, কখনো ভালো খাওয়ার (ভোজন) দেখলে আসক্তি হয়। চানাওয়ালা দেখলে, মন চাইবে খাওয়ার জন্য। আবার খেয়ে নিলে তো পরিপক্ক না হয়ে ওঠার কারণে শীঘ্রই প্রভাবে পড়ে যায়। বুদ্ধি নষ্ট হয়ে যায়। মাতা-পিতা বা অনন্য বাচ্চারা যাদের সার্টিফিকেট দেন তাদের অনুসরণ করা উচিত । যজ্ঞের যা পাওয়া যাবে সেটা মিষ্টি মনে করে খেতে হবে। জিভ-কে নিয়ন্ত্রণে রাখা কর্তব্য । যোগও চাই। যোগ না হলে মন এটা ওটা খেতে চাইবে, তাতে অসুস্থ হয়ে পড়বে । বুদ্ধিতে থাকা দরকার আমরা এসেছি দেবতা হওয়ার জন্য। এখন আমাদের গৃহে ফিরে যেতে হবে। আবার বাচ্চা হয়ে মায়ের কোলে আসব। মায়ের যেমন খাওয়া দাওয়া করে, তার প্রভাব বাচ্চার উপরও পড়ে। ওখানে (সত্যযুগে) এসব কোনো ব্যাপার নেই। সেখানে সব কিছু ফার্স্ট ক্লাস হবে। আমাদের জন্য মা খাদ্য ইত্যাদিও ফার্স্ট ক্লাস খাবে, যা আমাদের পেটে আসবে। ওখানে তো হয়ই ফার্স্টক্লাস। জন্ম নেওয়া মাত্রই খাদ্য-পানীয় সব শুদ্ধ হয়। তাই ঐরকম স্বর্গে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে হবে। বাবাকে স্মরণ করতে হবে।



বাবা এসে পুনরুজ্জীবিত (রিজুবিনেট) করেন। এই জগতে তো বাঁদরের গ্ল্যান্ড মানুষের মধ্যে বসিয়ে দিয়ে ভাবে, আমরা জোয়ান হয়ে যাব। যেমন হার্ট প্রতিস্থাপন করে থাকে । বাবা কোনো নতুন হার্ট ভরে দেন না। বাবা তো এসে হৃদয় পরিবর্তন করেন। বাকী এই সব হল সাইন্স। বোম্বস্ ইত্যাদি তৈরী করে। এ সব তো হন দুনিয়াকেই ধ্বংস করে দেওয়ার জিনিস । এটা তমোপ্রধান বুদ্ধি হল না ! কিন্তু তারা তো তাই নিয়েই খুশীতে থাকে, এও ভবিতব্য । বোম্বস্ অবশ্যই তৈরী হবেই। শাস্ত্রে আবার লেখা আছে পেট থেকে মুষল বেরোলে, তারপর এসব হল। এখন বাবা বুঝিয়েছেন এই সব হল ভক্তি মার্গের কথা। রাজযোগ তো আমিই শিখিয়ে ছিলাম। সেটা তো এক কাহিনী হয়ে গেছে, যা শুনতে শুনতে এই হাল হয়ে গেছে। এখন বাবা সত্যিকারের নারায়ণের কথা, তিজরির (তৃতীয় নেত্র লাভের কথা) কথা, অমরনাথের কথা শোনাচ্ছেন। এই পঠনপাঠন থেকে তোমরা এই পদ প্রাপ্ত করো। এছাড়া কৃষ্ণ ইত্যাদি তো নেই, যে দেখিয়েছে স্বদর্শন চক্র দ্বারা সবাইকে মেরেছে। আমি তো শুধু রাজযোগ শিখিয়ে নিয়ে পবিত্র করি। আমি তোমাদের স্বদর্শন চক্রধারী করে তুলি। ওরা আবার কৃষ্ণের চক্র ইত্যাদি দেখিয়েছে। স্বদর্শন চক্র ঘোরাবে কিভাবে ? এ তো আর জাদু নয়। এই সব তো গ্লানি। তাও এসব অর্ধ-কল্প চলে। ড্রামাও কেমন ওয়ান্ডারফুল ! এখন ছোট বড় সবার বাণপ্রস্থ অবস্থা। এখন আমাদের যেতে হবে, সেইজন্য বাবাকে স্মরণ করতে হবে। দ্বিতীয় আর কিছুই যেন স্মরণে না আসে। এরকম অবস্থা হলে তবেই উচ্চ পদ প্রাপ্ত করতে পারবে। নিজের মনকে জিজ্ঞাসা করতে হবে- আমাদের রেজিস্টার কতটা ঠিক আছে? রেজিস্টার থেকে চাল-চলন জানা যাবে- নিয়মিত পঠনপাঠন করে কি করে না ? কেউ তো মিথ্যেও বলে দেয়। বাবা বলেন সব বলো, না বললে তোমাদেরই রেজিস্টার খারাপ হয়ে যাবে। ভগবানের কাছে পবিত্র হওয়ার প্রতিজ্ঞা করে যদি ভঙ্গ কর, তবে তোমাদের কি দশা হবে ! বিকারে পড়ে গেলে তো খেলা শেষ। প্রথম নম্বর শত্রু হল দেহ-অভিমান, তারপর কাম, ক্রোধ। দেহ- অভিমান আসলেই বৃত্তি খারাপ হয়। সেইজন্য বাবা বলেন- দেহী-অভিমানী ভব। অর্জুনও তো ইনিই (ব্রহ্মা বাবা) ! কৃষ্ণেরই আত্মা তিনি । অর্জুন নাম কি আর ছিল ! নাম তো চেঞ্জ হয়, যার মধ্যে প্রবেশ করে। মানুষ তো বলে দেয় কল্পবৃক্ষ ইত্যাদি তোমাদের কল্পনা। মানুষ যা কল্পনা করে সেটাই বাস্তবে হয়।



তোমাদের, অর্থাৎ বাচ্চাদের অত্যন্ত খুশী হওয়া উচিত - এখন আমরা গিয়ে স্বর্গে ছোট বাচ্চা হব। তারপর নাম, রূপ, দেশ, কাল সব কিছু নতুন হবে। এ হল অসীমের নাটক। যা বানানো হয়েই আছে, সেটাই আবার হচ্ছে। সেটাই হবে, তবে আমরা চিন্তা কেন করব ? ড্রামার রহস্য এখন বাচ্চারা, তোমাদের বুদ্ধিতে আছে। আর কেউ জানে না, তোমরা ব্রাহ্মণরা ছাড়া। দুনিয়াতে এই সময় সবাই হল পূজারী। যেখানে পূজারী আছে সেখানে পূজ্য একজনও হতে পারে না। পূজ্য হয়ই সত্য - ত্রেতা যুগে । কলিযুগে হল পূজারী, আবার তোমরা নিজেদেরকে পূজ্য কিভাবে বলতে পার ? পূজ্য তো দেবী-দেবতারাই হয়। পূজারী হল মানুষ। মূল কথা বাবা বোঝান- পবিত্র হতে চাও তো একমাত্র আমাকে (মামেকম্) স্মরণ কর। ড্রামা অনুসারে যে যত পুরুষার্থ করেছিল ততটাই করবে। আচ্ছা !



মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ, ভালবাসা ও সুপ্রভাত ! ঈশ্বরীয় পিতা ওঁনার ঈশ্বরীয় সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার ।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-

১. নিজের পঠন-পাঠনের রেজিস্টার রাখতে হবে। নিজের চার্ট দেখতে হবে যে আমাদের ভাই-ভাই এর দৃষ্টি কতটা থাকে ? আমাদের দৈবী স্বভাব হয়েছে ?

২. নিজেদের জিহ্বার উপর খুব কন্ট্রোল রাখতে হবে। বুদ্ধিতে থাকবে যে আমরা দেবতা হতে চলেছি, সেইজন্য খাদ্য-পানীয়ের বিষয়ে খুব সচেতন থাকতে হবে। রসনার দিকে মন যেন প্রভাবিত না হয়। মাতা-পিতাকে অনুসরণ (ফলো) করতে হবে।

বরদান:-

প্রত্যেক মুহূর্তকে অন্তিম মুহূর্ত মনে করে সর্বদা এভাররেডি (প্রস্তুত) থাকা তীব্র পুরুষার্থী ভব |

নিজের অন্তিম মুহূর্তের কোনো ভরসা নেই, সেইজন্য প্রতি মূহূর্তকে অন্তিম মূহূর্ত মনে করে সদা প্রস্তুত (এভাররেডি) থাক। এভাররেডি অর্থাৎ তীব্র পুরুষার্থী। এরকম ভেব না যে এখন তো বিনাশ হতে কিছু সময় লাগবে তখন তৈরী হয়ে যাব। না। প্রতি মূহূর্ত হল অন্তিম মূহূর্ত। সেইজন্য সর্বদা নির্মোহী, নির্বিকল্প, নির-ব্যর্থ.... ব্যর্থও নয়। তবে বলা হবে সদা-প্রস্তুত (এভাররেডি)। যে কোনো কাজই থাকুক না কেন, নিজের স্থিতি যেন সব কিছুর ঊর্ধ্বে থাকে (উপরাম হবে), যা হবে সেটা ভালোই হবে।

স্লোগান:-

নিজের হাতে আইন (ল') তুলে নেওয়াও ক্রোধের অংশ*।