08.02.2021 প্রাত: মুরলী ওম শান্তি "বাপদাদা" মধুবন


মিষ্টি বাচ্চারা - এখন বিশেষতঃ ভারত এবং সমগ্র বিশ্বে বৃহস্পতির দশা বসবে, তোমাদের মতো বাচ্চাদের দ্বারা বাবা ভারতকে সুখধাম বানাচ্ছেন"

প্রশ্নঃ -
১৬ কলা সম্পূর্ণ হওয়ার জন্য বাচ্চারা, তোমরা কোন্ পুরুষার্থ করছো ?

উত্তরঃ -
যোগবল জমা করার। যোগবলের দ্বারা তোমরা ১৬ কলা সম্পূর্ণ হচ্ছ। এই কারণে বাবা বলেন, দান করো আর গ্রহণ মুক্ত হও। কাম বিকার অধঃপতনে নিয়ে যায়, এই বিকার দান করলেই তোমরা ১৬ কলা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। ২ - দেহ-অভিমানকে ত্যাগ করে দেহী-অভিমানী হও। শরীরের ভান ত্যাগ করো।

গীতঃ-
তুমিই মাতা পিতা...

ওম্ শান্তি ।
মিষ্টি মিষ্টি রুহানী (আত্মা রূপী) বাচ্চারা নিজের রুহানী বাবার মহিমা শুনলো। তারা কেবল গান গায় আর তোমরা প্র্যাকটিক্যালে বাবার অবিনাশী উত্তরাধিকার নিচ্ছো। তোমরা জানো যে, বাবা আমাদের দ্বারাই ভারতকে সুখধাম বানাচ্ছেন। যাদের দ্বারা বানাচ্ছেন, নিশ্চয়ই তারাই সুখধামের মালিক হবে। বাচ্চাদের মধ্যে অসীম খুশি থাকা উচিত। বাবার অশেষ মহিমা। তাঁর কাছ থেকেই আমরা উত্তরাধিকার পাচ্ছি। বাচ্চারা, এখন তোমাদের ওপর, আদপে সারা দুনিয়ায় বৃহস্পতির অবিনাশী দশা লেগেছে। তোমরা ব্রাহ্মণরাই এখন জেনেছো যে এবার গোটা দুনিয়ায় বিশেষ করে ভারতে বৃহস্পতির দশা লাগবে, কারন তোমরা এখন ১৬ কলা সম্পূর্ণ হচ্ছো। বর্তমানে কোনো কলাই অবশিষ্ট নেই। বাচ্চাদের অনেক খুশি হওয়া উচিত। এমন যেন না হয় যে এখানে খুশি আছে আর বাইরে গেলেই তা উধাও হয়ে যাবে। যার গুণগান করা হয়, তিনি এখন তোমাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়েছেন। বাবা বোঝাচ্ছেন, ৫ হাজার বছর আগেও তোমাদেরকে রাজত্ব দিয়ে গেছিলাম। এখন তোমরা দেখতে পাবে যে ধীরে ধীরে সকলে আর্তনাদ করতে থাকবে। তোমাদের স্লোগান চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। যেমন ইন্দিরা গান্ধী বলত যে এক ধর্ম, এক ভাষা, এক রাজত্ব হোক। সেক্ষেত্রেও তো আত্মাই বলত। আত্মা জানো যে বরাবর ভারতে একটাই রাজধানী ছিল যেটা এখন অতি নিকটে। তোমরা জানো যে যেকোনো মুহূর্তে সবকিছুর বিনাশ হয়ে যেতে পারে। এটা কোনো নতুন ব্যাপার নয়। ভারত পুনরায় ১৬ কলা সম্পূর্ণ হবেই। তোমরা জানো যে আমরা এই যোগবলের দ্বারা-ই ১৬ কলা সম্পূর্ণ হচ্ছি। বলা হয় - দান করো আর গ্রহণ মুক্ত হও। বাবাও বলছেন, বিকার আর খারাপ গুণগুলো দান করো। এটা রাবণের রাজ্য। বাবা এসে এখান থেকে মুক্ত করেন। এদের মধ্যে আবার কাম বিকার সবথেকে ক্ষতিকর। তোমরা দেহ-অভিমানী হয়ে গেছ। এখন দেহী-অভিমানী হতে হবে। শরীরের ভান ত্যাগ করতে হবে। তোমরা বাচ্চারাই এইসব কথাগুলো বুঝতে পারো। দুনিয়ার মানুষ জানে না। যে ভারত আগে ১৬ কলা সম্পূর্ণ ছিল, দেবতাদের রাজ্য ছিল, সেই ভারতেই এখন গ্রহণ লেগেছে। এই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজত্ব ছিল। ভারত তখন স্বর্গ ছিল। এখন বিকারের গ্রহণ লেগেছে, তাই বাবা বলছেন - দান দাও, আর গ্রহণ মুক্ত হও। এই কাম বিকারই অধঃপতনে নিয়ে যায়। তাই বাবা বলেন - এটাকে দান করলেই তোমরা ১৬ কলা সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। যদি না দাও, তবে হতেও পারবে না। আত্মারা নিজ নিজ ভূমিকা পেয়েছে। এটাও তোমাদের বুদ্ধিতে রয়েছে। তোমাদের মতো আত্মাদের অনেক ভূমিকা আছে। তোমরা সমগ্র বিশ্বের রাজত্ব পেয়ে যাও। এটা একটা সীমাহীন নাটক। অনেক অভিনেতা রয়েছে। সবথেকে ফার্স্টক্লাস অভিনেতা হলো লক্ষ্মী-নারায়ণ। বিষ্ণুই ব্রহ্মা-সরস্বতী এবং ব্রহ্মা-সরস্বতীই বিষ্ণু হয়। কিভাবে এরা ৮৪ বার জন্ম নেয় ? পুরো চক্রটাই বুদ্ধিতে এসে যায়। শাস্ত্র পড়ে কেউই কিছু বুঝতে পারে না। ওখানে তো কল্পের আয়ুকেই লক্ষ বছর বলে দিয়েছে। তাহলে তো স্বস্তিকা চিহ্নও আঁকা যাবে না। ব্যবসায়ীরা হিসাবের খাতায় স্বস্তিকা চিহ্ন এঁকে রাখে। গণেশের আরাধনা করে। এটা তো অসীম জগতের হিসাব। স্বস্তিকায় চারটে ভাগ থাকে। জগন্নাথের মন্দিরেও হাঁড়িতে ভাত রান্না করা হয়ে গেলে, সেটাকে চার ভাগ করে। ওখানে কেবল চালের ভোগই হয়, কারন ওদিকে প্রচুর ভাত খায়। শ্রীনাথের মন্দিরে ভাত হয় না। ওখানে খাঁটি ঘিয়ের সুস্বাদু ভোগ তৈরি হয়। ভোগ রান্নার সময়ে সবাই পরিচ্ছন্ন হয়ে মুখ বন্ধ রেখে রান্না করে। খুব শ্রদ্ধা-ভক্তির সঙ্গে সেই ভোগ নিয়ে যায়। তারপর ভোগ নিবেদন হয়ে গেলে সকল পান্ডারা সেই প্রসাদ পায়। দোকানে নিয়ে গিয়ে রাখে। সেখানে অনেক ভিড় হয়। বাবা এইসব দেখেছেন। বাচ্চারা, তোমাদেরকে এখন কে পড়াচ্ছেন ? প্রিয়তম বাবা নিজে এসে তোমাদের সেবক হয়েছেন, তোমাদের সেবা করছেন। এতোটা নেশা হয় কি ? আমাদের মতো আত্মাদেরকে স্বয়ং বাবা এসে শিক্ষা দিচ্ছেন। আত্মাই সবকিছু করছে। কিন্তু মানুষ সেই আত্মাকেই নির্লেপ বলে দেয়। তোমরা জানো যে, আত্মার মধ্যেই ৮৪ জন্মের অবিনাশী ভূমিকা ভরা আছে। সেই আত্মাকেই নির্লেপ বলে দেওয়া মানে রাত-দিনের পার্থক্য হয়ে যায়। যদি কেউ দেড় মাস ধরে বসে বসে এগুলো বোঝার চেষ্টা করে, তাহলেই এইসব পয়েন্ট বুঝতে পারবে। দিনে দিনে অনেক পয়েন্ট বেরিয়ে আসছে। এটা অনেকটা কস্তুরীর মতো। যখন বাচ্চারা পাকাপাকি ভাবে নিশ্চিত হয়, তখন তারা বুঝতে পারে যে বরাবরের মতো স্বয়ং পরমপিতা পরমাত্মাই এসে দুর্গতি থেকে সদগতি প্রদান করছেন।

বাবা বলছেন, তোমাদের ওপর এখন বৃহস্পতির দশা বসেছে। আমি তোমাদের স্বর্গের মালিক বানিয়েছিলাম, তারপর রাবণ রাহুর দশা বসিয়েছে। এখন পুনরায় বাবা স্বর্গের মালিক বানাতে এসেছেন। তাই নিজের ক্ষতি করা উচিত নয়। ব্যবসায়ীরা সর্বদা নিজের হিসাব ঠিক রাখে। যদি কেউ নিজের ক্ষতি করে, তবে তাকে আনাড়ি বা অপটু বলা হয়। খুব কম সংখ্যক ব্যবসায়ী এই ব্যবসা করতে পারে। এটাই অবিনাশী ব্যবসা। বাকি সমস্ত ব্যবসা তো ধুলিস্মাৎ হয়ে যাবে। এখন তোমরা সত্যিকারের ব্যবসা করছো। বাবা হলেন জ্ঞানের সাগর, সওদাগর, রত্নাকর। তোমরা দেখো যে প্রদর্শনীতে অনেকেই আসে। কিন্তু তাদের মধ্যে খুব কমজনই সেন্টারে আসে। ভারত অতি বিশাল। সব জায়গায় তোমাদেরকে যেতে হবে। প্রায় সমগ্র ভারতেই তো জলের গঙ্গা প্রবাহিত হয়েছে। এটাও তোমাদেরকে বোঝাতে হবে। ওই জলের গঙ্গা মোটেও পতিতপাবনী নয়। তোমাদের মতো জ্ঞান-গঙ্গাদের গিয়ে গিয়ে বোঝাতে হবে। চতুর্দিকে মেলা, প্রদর্শনী হতেই থাকে। দিনে দিনে আরো ছবি বানানো হয়। ছবি এতো সুন্দর হবে যাতে দেখলেই মজা হয়, মানুষ ভাবে যে এরা তো ঠিক কথাই বলছে - এখন সত্যই লক্ষ্মী-নারায়ণের রাজধানী স্থাপন হচ্ছে। সিঁড়ির ছবিও খুবই ভালো। এখন ব্রাহ্মণ ধর্ম স্থাপন হচ্ছে। এই ব্রাহ্মণরাই এরপর দেবতা হবে। তোমরা এখন পুরুষার্থ করছো। নিজের অন্তরকে জিজ্ঞেস করো যে আমার মধ্যে কোনো ছোট কিংবা বড় কাঁটা নেই তো ? কাম বিকারের কাঁটা নেই তো ? ক্রোধের কাঁটা সূক্ষ্ম হলেও ক্ষতিকারক। দেবতারা ক্রোধ করে না। দেখানো হয়েছে যে শঙ্কর নয়ন খুললেই বিনাশ হয়ে যায়। এটাও এক ধরনের কালিমা লিপ্ত করা। বিনাশ তো অবশ্যই হবে। সূক্ষ্মবতনে শঙ্করের গলায় সাপ থাকা সম্ভব নয়। সূক্ষ্মবতন আর মূলবতনে বাগান কিংবা সাপ কিছুই থাকতে পারে না। এগুলো সব এখানেই থাকে। স্বর্গ এখানেই হয়। এখন মানুষ কাঁটার মতো হয়ে গেছে। তাই এই দুনিয়াকে কাঁটার জঙ্গল বলা হয়। সত্যযুগ হলো ফুলের বাগান। তোমরা দেখছো যে বাবা কতো সুন্দর বাগান বানাচ্ছেন। সবথেকে সুন্দর বাগান বানাচ্ছেন। সবাইকে সুন্দর বানিয়ে দেন। তিনি নিজে সদাসুন্দর। তাই তাঁর সজনী অথবা বাচ্চাদেরকেও সুন্দর বানাচ্ছেন। কিন্তু রাবণ তো একেবারে কালো করে দিয়েছে। বাচ্চারা, তোমাদের এখন খুশি হওয়া উচিত যে এখন আমাদের ওপর বৃহস্পতির দশা বসেছে। যদি সুখ এবং দুঃখ অর্ধেক অর্ধেক হয়, তবে তাতে লাভ আছে কি ? না, ৩/৪ ভাগ সুখ আর ১/৪ ভাগ দুঃখ থাকে। এইভাবেই এই ড্রামা বানানো আছে। অনেকেই জিজ্ঞেস করে, এই ড্রামা এইভাবেই কেন বানানো আছে ? কিন্তু এটা তো অনাদি। কেন তৈরি করা হয়েছে - এই প্রশ্ন উঠতেই পারে না। এইভাবেই এই অনাদি, অবিনাশী ড্রামা বানানো আছে। যেভাবে বানানো আছে, পুনরায় সেভাবেই তৈরি হচ্ছে। কেউই মোক্ষলাভ করতে পারে না। এই সৃষ্টি তো অনাদিকাল থেকে চলে আসছে, আর চলতেই থাকবে। কখনোই প্রলয় হয় না।

বাবা এসে নতুন দুনিয়া বানাচ্ছেন, কিন্তু এতে কতো সূক্ষ্ম মার্জিন রয়েছে। মানুষ যখন পতিত হয়ে যায়, তখনই তাঁকে আহ্বান করে। বাবা এসে সকলের কায়া কল্পতরু করে দেন যাতে অর্ধেক কল্প কখনোই তোমাদের অকালে মৃত্যু হয় না। তোমরা মৃত্যুঞ্জয় হয়ে যাও। তাই বাচ্চাদেরকে অনেক পুরুষার্থ করতে হবে। যত ভালো পদমর্যাদা পাবে, ততই কল্যাণ। বেশি উপার্জনের জন্য সবাইকেই পুরুষার্থ করতে হয়। যে কাঠ কুড়োয়, সেও চায় বেশি উপার্জন করতে। কেউ কেউ লোক ঠকিয়ে উপার্জন করে। টাকা পয়সা নিয়েই যত ঝামেলা। ওখানে কেউ তোমাদের সম্পত্তি লুঠ করতে পারবে না। দেখছো তো, দুনিয়ায় কি কি ঘটনা ঘটছে। ওখানে এইরকম কোনো দুঃখের ঘটনা ঘটবে না। এখন তোমরা বাবার কাছ থেকে অনেক উত্তরাধিকার নিয়ে নাও। নিজেকে চেক করতে হবে যে আমি কি স্বর্গে যাওয়ার যোগ্য ? (নারদের মতো) মানুষ অনেক তীর্থযাত্রা করলেও কোনো লাভ হয় না। গানেও বলা হয়েছে - চতুর্দিকে ভ্রমণ করলাম, কিন্তু সর্বদা দূরেই থাকলাম। বাবা এখন তোমাদেরকে কতো ভালো যাত্রা শেখাচ্ছেন। এতে কোনো পরিশ্রম করতে হয় না। বাবা শুধু এটাই বলছেন যে মামেকং (কেবল আমাকে) স্মরণ করলেই বিকর্মের বিনাশ হবে। খুব ভালো ভালো উপায় বলে দিই। বাচ্চারাই শুনছে। এটা আমার লোন নেওয়া শরীর। এই বাবা তো খুবই খুশি হন। আমি স্বয়ং বাবাকে এই শরীর লোন দিয়েছি। বাবা আমাকে বিশ্বের মালিক বানাচ্ছেন। ভাগীরথ নাম তো আছেই। তোমরা বাচ্চারা এখন রামরাজ্যে যাওয়ার জন্য পুরুষার্থ করছ। তাই সম্পূর্ণ পুরুষার্থ করতে হবে। কাঁটা হওয়া উচিত নয়।

তোমরা হলে ব্রাহ্মণ-ব্রাহ্মণী। সকলের মূল আধার হলো মুরলী। মুরলী না পড়লে তোমরা শ্রীমৎ পাবে কোথা থেকে ? এমন তো নয় যে কেবল একজন ব্রাহ্মণীই প্রতিদিন মুরলী শোনাবে। যেকেউ মুরলী পড়ে শোনাতে পারে। বলতে হবে যে আজকে আপনি শোনান। আজকাল বোঝানোর জন্য প্রদর্শনীর ছবিগুলোও কত সুন্দরভাবে বানানো হয়েছে। এই প্ৰধান ছবিটা নিজের দোকানে নিয়ে গিয়ে রাখো। অনেকের কল্যাণ হবে। মানুষকে বলো যে আপনি যদি আসেন, তবে আপনাকে বুঝিয়ে বলব যে কিভাবে এই সৃষ্টিচক্র আবর্তিত হয়। কারোর কল্যাণের জন্য যদি কিছু সময় যায়, তবে কোনো সমস্যা নেই। ওই লেনদেন করার সাথে সাথে এভাবেও মানুষকে লাভবান করতে পারো। এটা বাবার অবিনাশী জ্ঞান রত্নের দোকান। সবথেকে ভালো ছবি হলো সিঁড়ির ছবি আর গীতার ভগবানের ছবি। ভারতেই ভগবান শিব এসেছিলেন। তাই তাঁর জন্মদিন পালন করা হয়। এখন সেই বাবা পুনরায় এসেছেন। যজ্ঞ রচিত হয়েছে। তোমাদের মতো বাচ্চাদেরকে রাজযোগের শিক্ষা দিচ্ছেন। বাবা এসে রাজাদের রাজা বানিয়ে দেন। বাবা বলেন, আমি তোমাদেরকে সূর্য বংশের রাজা-রানী বানিয়ে দিই, যাদেরকে বিকারগ্রস্থ রাজারা প্রণাম করে। তাই স্বর্গের মহারাজা, মহারানী হওয়ার জন্য সম্পূর্ণ পুরুষার্থ করতে হবে। বাবা কাউকে বাড়ি বানাতে না বলেন না। বানাতে চাইলে বানাও। টাকা পয়সা তো মাটিতে মিশে যাবে। তাহলে কেন এগুলো দিয়ে বাড়ি বানিয়ে আরাম করে থাকব না ? প্রয়োজনের কাজে অর্থ ব্যবহার করতে হবে। বাড়িও বানাও, খাওয়ার জন্যও রাখো। অনেকে দানপূণ্যও করে। যেমন কাশ্মীরের রাজা তার নিজের যত ব্যক্তিগত সম্পত্তি ছিল, সব আর্য সমাজকে দিয়ে দিয়েছিল। প্রত্যেকেই নিজের জাতি বা ধর্মের জন্য কিছু করে। এখানে ঐরকম কোনো ব্যাপার নেই। সবাই সন্তান। কোনো জাতিভেদ নেই। ওগুলো তো শারীরিক জাতিভেদ। আমি তোমাদের মতো মাতাদেরকে পবিত্র করে বিশ্বের রাজত্ব দিয়ে দিই। ড্রামা অনুসারে ভারতবাসীরাই রাজ্য ভাগ্য নেবে। তোমরা বাচ্চারা এখন জেনেছো যে আমাদের ওপর বৃহস্পতির দশা বসেছে। শ্রীমতে কেবল এটাই আছে যে মামেকং স্মরণ করো। ভক্তিমার্গে ব্যবসায়ীরা ধার্মিক উদ্দেশ্যে দান করার জন্য কিছু পরিমাণ অর্থ অবশ্যই আলাদা করে রাখে। পরের জন্মে ক্ষণিকের জন্য হলেও তার ফল পাওয়া যায়। এখন তো আমি ডাইরেক্ট এসেছি। তাই তোমরা ওগুলো এই কাজেই সার্থক করো। আমি তো কিছুই চাই না। শিববাবাকে কি নিজের জন্য কোনো বাড়ি বানানোর দরকার আছে ? এইসব তোমাদের মতো ব্রাহ্মণদের। গরিব, বড়লোক সকলে একসাথেই থাকে। কেউ কেউ অসন্তোষ প্রকাশ করে - ভগবানের কাছেও কি সমান দৃষ্টি নেই ? কাউকে মহলে রাখা হয়, কাউকে ঝুপড়িতে রাখা হয়। কিন্তু এইরকম কথা বললে শিববাবাকেই ভুলে যায়। শিববাবা স্মৃতিতে থাকলে কখনোই এই ধরনের কথাবার্তা বলবে না। সবাইকে জিজ্ঞেস করা হয়। যদি দেখা যায় যে কোনো ব্যক্তি বাড়িতে এইরকম আরামে থাকে, তবে এখানেও সেইরকম বন্দোবস্ত করা হয়। সেইজন্যই সবাইকে খাতির করতে বলা হয়। যদি কিছু না থাকে, তবে সেটা দিয়ে দেওয়া হবে। বাচ্চাদের প্রতি বাবার ভালোবাসা আছে। অন্য কেউ এতটা ভালোবাসতে পারবে না। বাচ্চাদেরকে কতো করে বোঝান - পুরুষার্থ করো আর অন্যদের বোঝানোর জন্য যুক্তি রচনা করো। এর জন্য কেবল তিন পা জায়গা হলেই চলবে যেখানে কন্যারা বোঝাতে পারবে। যদি কোনো ধনী ব্যক্তির হলঘর পাওয়া যায়, তবে সেখানে আমরা ছবি টাঙিয়ে দেব। সকালে আর সন্ধ্যায় এক ঘন্টা করে ক্লাস করিয়ে চলে আসব। সব খরচ আমরা করব, আর নাম হবে আপনার। অনেক মানুষ এসে কড়িতুল্য থেকে হীরেতুল্য হয়ে যাবে। আচ্ছা !

মিষ্টি-মিষ্টি হারানিধি বাচ্চাদের প্রতি মাতা-পিতা বাপদাদার স্নেহ-সুমন স্মরণ-ভালবাসা আর সুপ্রভাত। আত্মাদের পিতা ওঁনার আত্মা রূপী সন্তানদের জানাচ্ছেন নমস্কার।

ধারণার জন্য মুখ্য সার :-
১ ) অন্তরে যত কাঁটা আছে, সেগুলো ভালো করে চেক করে বের করতে হবে। রামরাজ্যে যাওয়ার পুরুষার্থ করতে হবে।

২ ) অবিনাশী জ্ঞানরত্নের ব্যবসা করে কারোর কল্যাণের জন্য সময় দিতে হবে। নিজে সুন্দর হয়ে অন্যকেও সুন্দর বানাতে হবে।

বরদান:-
ফুলস্টপ (পূর্ণচ্ছেদ) দিয়ে শ্রেষ্ঠ মানসিক অবস্থার মেডেল প্রাপ্ত করতে সক্ষম মহাবীর ভব

অনাদিকাল ধরে চলে আসা এই নাটকের আধ্যাত্মিক সেনাদেরকে অন্য কেউ মেডেল দেয় না, কিন্তু ড্রামা অনুসারে তারা নিজেরাই শ্রেষ্ঠ মানসিক অবস্থার মেডেল পেয়ে যায়। এই মেডেল তারাই পায়, যারা প্রত্যেক আত্মার ভূমিকাকে সাক্ষী হয়ে দেখে এবং অতি সহজেই পূর্ণচ্ছেদ দিয়ে দেয়। এইরকম আত্মাদের ফাউন্ডেশন (ভিত্তি) অনুভবের আধারে গঠিত হয়, তাই কোনোরকম সমস্যা রূপী দেওয়াল তাদেরকে আটকাতে পারে না।

স্লোগান:-
প্রত্যেকটা সমস্যা রূপী পাহাড়কে অতিক্রম করে আপন লক্ষ্যে উপনীত হওয়ার জন্য উড়ন্ত বিহঙ্গ হও।